উপসচিবের গাড়িতে ধাক্কায় চিকিৎসক ‘হেনস্তা’

উপসচিবের গাড়িতে ধাক্কায় চিকিৎসক ‘হেনস্তা’

রাস্তায় হেনস্তা এবং প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসক রাইয়ান হাসার পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকে। আর তাকে আটকে রাখার পুরো দায় পুলিশকে দিচ্ছেন মোহাম্মদ গোলাম কবির। তবে পুলিশের দাবি, গোলাম কবিরের নির্দেশনাতেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ডা. রাইয়ানকে।

মোটরসাইকেলে চিকিৎসক, আর গাড়িতে যাচ্ছিলেন উপসচিব। পথে উপসচিবের সরকারি গাড়িতে ধাক্কা লাগা নিয়ে দুই পক্ষের বাদানুবাদ।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসে ট্রাফিক পুলিশ। উপসচিব তার ভিজিটিং কার্ড ট্রাফিকের সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ওই চিকিৎসককে ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও থানায় আটকে থাকতে হয় প্রায় দুই ঘণ্টা। এরপর থানা থেকে জানানো হয়, উপসচিবের কোনো অভিযোগ নেই, চিকিৎসক এবার যেতে পারেন।

রাস্তায় হেনস্তা এবং প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসক রাইয়ান হাসার পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকে। আর তাকে আটকে রাখার দায় পুলিশকে দিচ্ছেন মোহাম্মদ গোলাম কবির। তবে পুলিশের দাবি, গোলাম কবিরের নির্দেশনাতেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ডা. রাইয়ানকে।

কী হয়েছিল রাস্তায়

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে চিকিৎসক রাইয়ান হাসার ও উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবিরের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে গত রোববার বিকেলে। পরদিন বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের এই চিকিৎসক।

এই পোস্টে ডা. রাইয়ান দাবি করেন, রাস্তায় তার মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মোহাম্মদ গোলাম কবিরের সরকারি গাড়ির কোনো ক্ষতি না হলেও ঘটনাটির জন্য অযথা তাকে (ডা. রাইয়ান) দায়ী করা হয়।

ডা. রাইয়ান লেখেন, ‘অযাচিতভাবে তিনি গতকাল আমাকে হয়রানি করেছেন। আমি হোন্ডার হর্নেট বাইক চালাই। ল্যাবএইডের সামনের রাস্তায় সিগন্যাল দেয়। ওনার গাড়ি হঠাৎ থামার জন্য আমার বাইকের হ্যান্ডেল তার গাড়িতে আস্তে করে লাগে। আমি তাকিয়ে দেখি কিছু হয়নি। পরে সিগন্যাল ছেড়ে দিলে আমি পাশ দিয়ে বের হই।

‘হঠাৎ পেছন থেকে আমাকে ডাকলেন তিনি। আমি পেছনে আসলাম। উনি গাড়িতে একটা ছোট্ট টোপ দেখিয়ে বললেন এটা আমি করেছি। অথচ সিগন্যালে ৫-৬ মিনিট তার গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একবারের জন্যও বের হয়ে কথা বলেননি তিনি। আমি মাপ দিয়ে দেখালাম ওনার টোপ খাওয়া জায়গা আমার বাইকের হ্যান্ডেল থেকে ১০-১২ ইঞ্চি নিচে। উনি মানতে নারাজ। পরে আমি খুবই ভালোভাবে বললাম, আচ্ছা এটা ঠিক করতে ৪০০-৫০০ টাকা লাগবে। আমি দিয়ে দিচ্ছি। নেন। আর আমি দোষ করলে আপনার ডাকে পেছনে আসতাম না। সামনের রাস্তা ফাঁকা আছে। টান দিয়ে চলে যেতাম।’

উপসচিবের গাড়িতে ধাক্কায় চিকিৎসক ‘হেনস্তা’

এরপরেও হয়রানির অভিযোগ তুলে ডা. রাইয়ান লেখেন, ‘পরে তিনি বললেন আমি ম্যাজিস্ট্রেট। এর জন্য আমাকে পানিশমেন্ট পেতে হবে। কী করেন আপনি? আমি বললাম আমি চিকিৎসক। উনি আমার আইডি কার্ড চাইলে আমি দেখালাম। উনি ছবি তুললেন। আমি ওনারটা চাইলে উনি সামনের ট্রাফিক পুলিশের কাছে চলে গেলেন। কী যেন বলে আমার কাছে আসলেন। বললেন স্যরি তো বলতে পারতেন। আমি বললাম এটা আমার জন্য হয়নি। তারপরও আমি স্যরি। আর ওটা ঠিক করতে যা লাগে আমি দিয়ে দিচ্ছি। তারপর উনি কিছু না বলে ট্রাফিকের কাছে নিজের আইডি দিয়ে গাড়িতে করে চলে গেলেন। ট্রাফিক বলল ধানমন্ডি থানা থেকে পুলিশ আসবে। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

‘প্রায় ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে পুলিশ আসল। আমি তাদের সব বললাম। তারা বলল আপনাকে থানায় যেতে হবে। আমি বললাম কার অভিযোগের জন্য আমি থানায় যাব? তিনি কই? তাকে ডাকুন। পুলিশ বলল, আমাদের কিছু করার নেই। উনি ম্যাজিস্ট্রেট। আমি শেষে ধানমন্ডি থানায় গেলাম। সেখানেও ঘণ্টাখানেক বসে থাকতে হলো। আমি বললাম, এভাবে আমাকে বসায় রেখে হয়রানি কেন করা হচ্ছে? আমি তো চোর, ডাকাত নই। আমার বাইকের সব কাগজপত্র আছে। আমার আইডি কার্ড আছে। আমি ঐ ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। ট্রাফিক পুলিশ বা আপনাদের কারো সাথেও কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। এটা ঠিক হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন: মুখোমুখি চিকিৎসক-পুলিশ

এর পরের ঘটনা জানিয়ে ডা. রাইয়ান লেখেন, ‘পুলিশ কার সাথে যেন কথা বলে আমাকে এসে বলল আচ্ছা আমি ঐ ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন দিয়ে বলছি আপনি স্যরি বলেছেন। আমার তখন রাগ হলো। আমার ২ ঘণ্টা নষ্ট করেছেন তিনি। আর এখন বলব স্যরি? দোষ না করেও স্যরি বলেছি। ওনার ক্ষমতা আছে। আমাকে থানা পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। এখন তিনি কোন ধারায় কী মামলা করবেন, সেটা জিজ্ঞাসা করুন। আমি কোনো স্যরি বলব না। ওনাকে থানায় ডাকেন। কেন আমাকে থানায় আসতে বাধ্য করল সেই ব্যাখ্যা তাকে দিতে হবে।’

আটকে রাখার পুরোটা সময়ে পুলিশের আচরণ ভালো ছিল জানিয়ে এই চিকিৎসক লেখেন, ‘পুলিশ বলল আপনি ওনার সাথে একবার কথা বলে সব ঠিক করে নেন। আপনারা দুজনই সম্মানিত ব্যক্তি। …তারপর পুলিশ ওনার সাথে কী যেন কথা বলল বের হয়ে। তারপর এসে আমাকে বলল আপনি এখন আসতে পারেন।’

উপসচিব-পুলিশের পাল্টাপাল্টি দায়

ডা. রাইয়ান তার পোস্টে হয়রানির জন্য দায়ী করা সরকারি কর্মকর্তাকে ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পোস্টে তিনি ওই কর্মকর্তার ভিজিটিং কার্ডের যে ছবি দিয়েছেন তাতে দেখা যায়, সরকারি গাড়িতে থাকা কর্মকর্তা হলেন প্রধান তথ্য কমিশনারের একান্ত সচিব মোহাম্মদ গোলাম কবির।

উপসচিবের গাড়িতে ধাক্কায় চিকিৎসক ‘হেনস্তা’


নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোহাম্মদ গোলাম কবিরের ভিজিটিং কার্ডটি পুরোনো। তিনি এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোলাম কবির দাবি করছেন, সেদিন সামান্য তর্কতর্কির পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। চিকিৎসককে আটকে রাখার দায়দায়িত্ব পুরোপুরি পুলিশের।

উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি (ডা. রাইয়ান) মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। আমার গাড়িতে একটা ধাক্কা দিয়ে স্পট ফেলে দিয়েছেন। জ্যামের কারণে বেশি দূর যেতে পারেননি। তখন আমার ড্রাইভার ও আমি নেমে তাকে বললাম, ভাই আপনি এমন একটা ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছেন একবার সরিও বললেন না!’

গোলাম কবির বলেন, ‘তখন ওই চিকিৎসক বলেন যে, আমি করিনি আগে থাকেই আছে। আমি বললাম, আপনি ধাক্কা দিয়েছেন কি না। তিনি বললেন, হ্যাঁ লাগছে। তাহলে তো একটু সরি বলতে হয়।’

গোলাম কবির জানান, তাদের এই কথার সময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্য নিজে থেকেই এগিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার গাড়ি তো সরকারি, সেটা স্টিকার লাগানো আছে। ট্রাফিক আমাকে বলল স্যার কী হয়েছে? তখন আমি বললাম আমার গাড়িতে উনি ধাক্কা দিল, আবার তর্কও করছে। ট্রাফিক থেকে আমাকে বলল, স্যার আমি দেখতেছি আপনি যান। আমি বললাম ঠিক আছে দেখেন।

‘তখন ট্রাফিক পুলিশ তার মোটরসাইকেলের কাগজ দেখতে চাইল। এর মধ্যে ট্রাফিক ছেড়ে দিয়েছে। আমার পেছনে অ্যাম্বুলেন্স থাকায় ট্রাফিক পুলিশ আমাকে বলল, আপনি চলে যান, আর আপনার কোনো কন্টাক্ট নম্বর থাকলে দেন। তখন আমি আমার পুরোনো অফিসের কার্ড দিয়েছিলাম।’

গোলাম কবির বলেন, ‘এরপর ঘণ্টাখানেক পরে ধানমন্ডি থানা থেকে আমাকে আজমাইন নামে একজন উপপরিদর্শক কল দেন। আমার গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছে এই জন্য চিকিৎসককে আটকে রেখেছি, আপনি একটা লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নেব। উনি ডাক্তার। আমি বলেছি, উনি ডাক্তার মানুষ, উনাকে আটকে রেখেছেন। থাক বাদ দেন। আজমাইন আমাকে বলেন যে উনি সরি বলেছেন। তাই আমি বলেছি যে, ওনাকে ছেড়ে দেন।’

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে সেদিন ঘটনাস্থলে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তার দাবি, উপসচিবের নির্দেশেই ডা. রাইয়ানকে আটকে রাখা হয়েছিল।

রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি উপসচিবের কথামতো তাকে আটকে রেখেছি। আমি স্যারকে বলেছিলাম যে, স্যার উনাকে (চিকিৎসক) ধমক দিয়ে ছেড়ে দিব না ব্যবস্থা নিব। তখন স্যার বললেন থানায় পাঠাতে।’

ডা. রাইয়ানকে কতক্ষণ পুলিশ বক্সে আটকে রাখা হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, দশ-পনেরো মিনিট।

তবে এএসআই রফিকুল ইসলামের দাবি মানছেন না উপসচিব গোলাম কবির। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এমন কিছুই বলিনি। এটা বলার প্রশ্নই আসে না। আমি আমার কার্ড রেখে চলে এসেছি। এরপর আমাকে থানা থেকে ফোন করা হয়।’

পুলিশকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি যদি এমন বলেই থাকি ধরে নিলাম, তাহলেও আমার কথামতো কেন আটকে রাখা হবে। আমাকে তো অভিযোগ দিতে বলা হবে।’

অন্যদিকে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মো. আজমাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কাউকে আটকে রাখিনি। ওই দিন একটা ঘটনা ঘটলেও সেটা ওখানে মিউচুয়াল হয়ে গেছে। আমি ঘটনা শুনে সচিব স্যারকে ফোন দিলাম। উনি আমাকে বলে দিলেন, একটা ইয়ে হয়েছে আপনি ওনাকে ছেড়ে দেন।’

ডা. রাইয়ানকে কতক্ষণ থানায় রাখা হয়েছিল, জানতে চাইলে আজমাইন বলেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব ছেড়ে দিয়েছি। আমি তো উনাকে আটক করিনি। উনাকে জাস্ট উনার কাগজগুলো ঠিক আছে কিনা তা জানতে চেয়েছি।’

এসআই আজমাইন বলেন, ‘আমি উপসচিব স্যারকে ফোন দিলে স্যার ছেড়ে দিতে বলেন। তারপরও ডাক্তার সাহেব হঠাৎ করে কেন এটা করল আমি বুঝতে পারছি না। আমি ওসি স্যারের সঙ্গেও কথা বলেছি। সব পজিটিভ ছিল। উনি হয়তো পুলিশ বক্সে অনেকক্ষণ বসে ছিলেন। আমার কাছে দশ থেকে পনেরো মিনিট ছিলেন। এর বেশি আমার কাছে ছিল না। যত দ্রুত পেরেছি মিউচুয়াল করার চেষ্টা করেছি।’

এদিকে ফেসবুকে নামসহ স্ট্যাটাস দেয়াতে ডা. রাইয়ানের বিষয়ে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন গোলাম কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সাইবার ক্রাইমে এটি জানিয়েছি। তবে আমি কোনো ঝামেলা করতে চাই না। এটি খুবই সামান্য ব্যাপার। উনি (চিকিৎসক) যদি ওনার বক্তব্য প্রত্যাহার করেন, তবে আমিও কিছু করব না।’

এ বিষয়ে চিকিৎসক রাইয়ান হাসার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা আমি ফেসবুকে বলেছি। আমি কোনো অপরাধ করিনি। উনি (উপসচিব) যদি সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করেন, তবে সেটি তার ব্যাপার। আমার সঙ্গে যা হয়েছে সেটি আমি আমার সামাজিক মাধ্যমে বলতেই পারি।’

কতক্ষণ আটকে থাকতে হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে রাস্তায় মানে পুলিশ বক্সে প্রায় এক ঘণ্টা ও থানায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। আপনি চাইলে থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজারবাগ পিরের সম্পদ তদন্তের আদেশ স্থগিত করেনি চেম্বার

রাজারবাগ পিরের সম্পদ তদন্তের আদেশ স্থগিত করেনি চেম্বার

পিরের মুরিদদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে। পাশাপাশি রিটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয়রানিমূলক কি না, সেটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজারবাগ দরবার শরিফের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দেয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বার আদালত এ বিষয়ে নো অর্ডার দেয়। ফলে এ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

রোববার রাজারবাগ দরবারের পিরের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

একই সঙ্গে পিরের মুরিদদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে। পাশাপাশি রিটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয়রানিমূলক কি না, সেটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এসব তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আবেদন করেন পির।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান। অপর দিকে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।

গায়েবি মামলা দিয়ে অযথা মানুষকে হয়রানির অভিযোগে রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমান ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আট ভুক্তভোগী।

এর আগে অন্যের জায়গা-জমি দখলের জন্য রাজারবাগ দরবার শরিফের পিরের কাণ্ড নিয়ে বিস্ময় জানিয়েছিল হাইকোর্ট।

মুরিদদের দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দেয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট দেখে আদালত এ বিস্ময় জানায়।

শেয়ার করুন

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

গুলশানে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় রাজধানীর গুলশানের তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গুলশান-২ এলাকায় বৃহস্পতিবার র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযানের সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে জান্নাত ফার্মার ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন রিজবুকে ২ লাখ, ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-১-এর ম্যানেজার শাহাদাত আলমকে দেড় লাখ ও ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-২-এর ম্যানেজার আব্দুল হামিদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিন ফার্মেসি থেকে জব্দ করা ওষুধ ধ্বংস করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেয়ার করুন

তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি

তিন বিভাগের ৮৬ নেতাকে নিয়ে বৈঠকে বিএনপি

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ধাপে ধাপে চলছে বৈঠক।

ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন বিভাগের নেতাদের সঙ্গে ভাগে ভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী বিভাগের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে বিএনপির হাইকমান্ড।

বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছে বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, চেয়ারপারসনের একান্ত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার, নির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম মোল্লা, নাজিম উদ্দীন আলম, হাফিজ ইব্রাহিম, আবুল হোসেন, মেসবাহউদ্দিন ফরহাদ, আব্দুস সোবহান, গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, আলমগীর হোসেন, হাসন মামুন, রফিক ইসলাম মাহতাব, হায়দার আলী লেলিন, দুলাল হোসেন, গোলাম নবী আলমগীর, নাসের রহমতুল্লাহ, এলিজা জামান, কামরুল ইসলাম সজল, ডাক্তার শহীদ হাসান, আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, মাসুদ অরুণ, শহিদুল ইসলাম, রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, শহীদুজ্জামান বল্টু, আব্দুল ওয়াহাব, শাহানা রহমান রানী, টিএস আইয়ুব, আবুল হোসেন আজাদ, মতিউর রহমান ফরাজি, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, শেখ মজিবুর রহমান, অহিদুজ্জামান দীপু, সাহাবুজ্জামান মোর্তজা, শফিকুল আলম, মনা, মনিরুজ্জামান মনি, কাজী আলাউদ্দিন, ডাক্তার শহীদুল আলম, মীর রবিউল ইসলাম লাভলু, খান রবিউল ইসলাম রবি, সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাবরা নাজমুল মুন্নী, ফরিদা ইয়াসমিন, রাগিব রউফ চৌধুরী, আবু সাঈদ, আয়েশা সিদ্দিকা মনি, নার্গিস ইসলাম, এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, ইফতেখার আলী, হাফিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, মাহবুবুর রহমান হারিছ, লাভলী রহমান, আলী আজগর হেনা, শামসুল আলম প্রামাণিক, এ কে এম মতিউর রহমান মন্টু, এম আকবর আলী, এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সিরাজুল ইসলাম সরদার, আব্দুল মতিন, আবু বকর সিদ্দিক, জয়নাল আবেদীন চান, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, সীনকী ইমাম খান, জহুরুল ইসলাম বাবু এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, সাইদুর রহমান বাচ্চু, ফয়সাল আলীম, রমেশ দত্ত, দেবাশীষ মধু রায়, আনোয়ার হোসেন বু্লু, রোমানা মাহমুদ, শামসুল হকসহ মোট ৮৬ সদস্য উপস্থিত রয়েছেন।

শেয়ার করুন

মুগদায় জব্দ ৪০ হাজার ইয়াবা

মুগদায় জব্দ ৪০ হাজার ইয়াবা

বৃহস্পতিবার মুগদা থেকে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ পরিদর্শক আশীষ কুমার দেব বলেন, ‘কিছু মাদক ব্যবসায়ী উত্তর মাণ্ডা এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচা করছে এমন খবর পায় পুলিশ। এ তথ্যের ভিত্তিতে থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কামাল, রহিমা ও রাজিবকে আটক করা হয়।’

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে মুগদা উত্তর মাণ্ডা এলাকা থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. কামাল, মোছা. রহিমা কামাল ও মো. রাজিব।

মুগদা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আশীষ কুমার দেব বলেন, ‘কিছু মাদক ব্যবসায়ী উত্তর মাণ্ডা এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচা করছে এমন খবর পায় পুলিশ। এ তথ্যের ভিত্তিতে থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কামাল, রহিমা ও রাজিবকে আটক করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এসময় তাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারসহ মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।’

মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আ. আহাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে মুগদা থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

এক বছরের জামিন পেলেন মডেল মৌ

এক বছরের জামিন পেলেন মডেল মৌ

পুলিশ হেফাজতে মডেল মৌ। ফাইল ছবি

গত ১ আগস্ট রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মামলায় বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা, সিসাসহ মডেল মৌকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাদক মামলায় মডেল মরিয়ম আক্তার মৌকে এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারক মোস্তফা জামান ইসলাম ও কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার তাকে জামিন দেন।

জামিনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘একটি মামলায় মডেল মৌকে এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত।’

জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন।

গত ১ আগস্ট রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মামলায় বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা, সিসাসহ মডেল মৌকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট মৌকে তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে বুধবার তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

শেয়ার করুন

বাড়ির ফলস সিলিংয়ে ২ কেজি আইস

বাড়ির ফলস সিলিংয়ে ২ কেজি আইস

টেকনাফ উপজেলার মিঠাপানিছড়ার একটি বাড়ি থেকে জব্দ ২ কেজি আইস। ছবি: বিজিবি

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে আইস লুকানো আছে বলে জানতে পারে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন। টেকনাফ উপজেলার মিঠাপানিছড়া গ্রামের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তা ফলস সিলিংয়ের ওপর পাওয়া যায়।

টেকনাফ উপজেলার মিঠাপানিছড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ওই বাড়ির ফলস সিলিংয়ে এই মাদক লুকানো ছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান এ তথ্য জানান। বিজিবির দাবি, তাদের হাতে ধরা পড়া এখন পর্যন্ত এটাই আইসের সবচেয়ে বড় চালান।

ফয়সল হাসান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে আইস লুকানো আছে বলে জানতে পারে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন। টেকনাফ উপজেলার মিঠাপানিছড়া গ্রামের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের সময় সন্দেহভাজন একজন বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে বিজিবি টহল দল কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করে মুজিব নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।

তার দেয়া তথ্যে ওই বাড়ির ফলস সিলিংয়ের ওপরে অভিনব পদ্ধতিতে লুকানো অবস্থায় ২ কেজি আইস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

‘সবচেয়ে বড় চালান’ জব্দ করেছে মাদক অধিদপ্তর

রাজধানীতে ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দাবি করা হচ্ছে, এ পর্যন্ত ঢাকায় তাদের হাতে উদ্ধার হওয়া এটি আইসের সবচেয়ে বড় চালান।

আইসের পাশাপাশি ইয়াবাও উদ্ধার হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বলা হয়েছে, এই মাদকের রুট এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রেস কনফারেন্সে জানানো হবে।

ক্রিস্টাল মেথ বা আইস খুবই ভয়াবহ প্রকৃতির মাদক। এটি মানবদেহে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সাম্প্রতিক দেশে এই মাদকের ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে।

শেয়ার করুন

আনভীরের আগাম জামিন আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

আনভীরের আগাম জামিন আবেদন হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর

আবেদনটি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় দেখা যায়, তালিকার ১৪২৪ নম্বরে রয়েছে সায়েম সোবহানের আবেদনটি। এটি শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

রাজধানীর গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ করা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন।

আবেদনটি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বেঞ্চের কার্যতালিকায় দেখা যায়, তালিকার ১৪২৪ নম্বরে আছে সায়েম সোবহানের আবেদনটি। এটি শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন রাখা আছে।

জামিন আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ নামে একটি আবেদন তালিকায় আছে। আবেদনটি শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করা আছে।’

জামিন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে হাসান ইমামের নাম রয়েছে বলে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে তার বড় বোন ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ মামলা করেন। এতে আনভীর, তার বাবা, মা ও স্ত্রীসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ২৬ এপ্রিল রাতে কলেজপড়ুয়া তরুণীটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই দিনই আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন ওই তরুণীর বড় বোন।

এ মামলায় গত জুলাই মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গত ১৮ আগস্ট পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে। এতে অব্যাহতি পান আনভীর।

শেয়ার করুন