আরমানের জেল খাটার দায় সাত পুলিশের

আরমানের জেল খাটার দায় সাত পুলিশের

মো. আরমান। ফাইল ছবি

ভুল পরিচয়ে মিরপুরের পল্লবী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর পাঁচ বছর জেল খাটতে হয় তাকে। পিবিআই তদন্ত করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ রকম ভুল এড়াতে চার দফা সুপারিশ করেছে।

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর পল্লবী থেকে নিরাপরাধ মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ সাত পুলিশ সদস্যকে দায়ী করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এই তদন্ত প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনে পল্লবী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম, আরেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. দাদন ফকির, মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) সিরাজুল ইসলাম খান, আরমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনাকারী টিম প্রধান এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মো. রাসেল, এএসআই (বর্তমানে এসআই) হযরত আলী, ডিউটি অফিসার এসআই (বর্তমানে পরিদর্শক) মনিয়ারা আক্তার এবং এএসআই (বর্তমানে অবসরে) খান ইমদাদুল হককে দায়ী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আরমান যেন আরেক জাহালম

এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম দফায় বলা হয়েছে, আসামির নামের সঙ্গে তার পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে লিখতে হবে। দ্বিতীয় সুপারিশে আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার ছবি ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে, আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান স্লিপের (ই/এস) সঙ্গে আসামির ছবি সংযুক্ত করতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত অনুসন্ধান স্লিপের পরিবর্তে তদন্ত কমিটির প্রস্তাবিত ফরম ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য ওই ফরম ছাপিয়ে সব থানায় সরবরাহ করতে হবে।

চার নম্বর সুপারিশে আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট (যদি থাকে), ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে) এবং জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আরমানকে বেআইনিভাবে আটকের ঘটনায় দায় নিরূপণে পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পিবিআইয়ের উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) গত বছর ৩১ ডিসেম্বর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের আলোকে পিবিআই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে। কমিটির প্রতিবেদন সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে ২০১৯ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রথমে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন একটি রিট আবেদন করে।

কিন্তু সেই আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয় আদালত। পরবর্তীতে এ নিয়ে আরমানের মা বানু পৃথক একটি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে শুনানি নিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দীন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৮ নম্বর লেনের ৭ নম্বর ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ শাহাবুদ্দিন এবং তার দুই সহযোগী সোহেল মোল্লা ও মামুন ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এরপর তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় দুই বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান শাহাবুদ্দিন।

আরও পড়ুন: অবশেষে মুক্তি পেলেন আরমান

মামলায় বিচার শেষে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর রায় দেয় ঢাকার একটি আদালত। রায়ে শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের দিন শাহাবুদ্দিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পুলিশ বেনারসি কারিগর মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে। সেই থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

মামলার মূল আসামি শাহাবুদ্দিনের পিতার নাম ইয়াসিন ওরফে মহিউদ্দিন। আর আরমানের পিতার নামও ইয়াসিন। উভয় ইয়াসিনই ছিলেন মৃত।

পিতার নামের এমন মিলের কারণে শাহাবুদ্দিন বিহারি হিসেবে মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

ডেঙ্গু বিস্তার রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা। ছবি: কবিরুল বাশার

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, খোলা জায়গা, মাঠ, ফুলের টব, পানির পাম্প বা পানি জমে এমন পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার ট্রে, পানির ট্যাপের আশেপাশের জায়গা, বাথরুম, বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, নির্মাণাধীন ভবন, লিফট, সিঁড়ি, পরিত্যাক্ত বস্তু যেসবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে বা দুই দিনের বেশি পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা অফিস ও এর আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করাসহ চার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ জন্য ৪ দফা নির্দেশনা আদেশ জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও আশেপাশের খোলা জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২. শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, খোলা জায়গা, মাঠ, ফুলের টব, পানির পাম্প বা পানি জমে এমন পাত্র, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার ট্রে, পানির ট্যাপের আশেপাশের জায়গা, বাথরুম, বাথরুমের কমোড, গ্যারেজ, নির্মাণাধীন ভবন, লিফট, সিঁড়ি, পরিত্যাক্ত বস্তু যেসবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে বা দুই দিনের বেশি পানি জমতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. শিক্ষকদের অনলাইন ও ভার্চুয়াল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনা ও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানাতে হবে।

৪. শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় সরকর প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই দেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে।

এখন প্রতিদিনই ঢাকায় অন্তত ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

জুলাইয়ে দুই হাজার ২৮৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭২। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতাল সুনির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে আক্রান্ত হয় ১ লাখের বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে মারা যায় ১৭৯ জন। গত বছর সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কম থাকলেও এ বছর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর এই বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এডিস মশা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ভবনে অভিযান চালিয়ে এডিস বিস্তারের পরিবেশ থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে চলছে প্রচারণা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে। আর অন্য মশার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশার পার্থক্য আছে। মূলত এই মশাগুলোর জন্ম হয় আবদ্ধ পরিবেশে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারপরও ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যান।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

মডেল পিয়াসার সহযোগীসহ দুজন গ্রেপ্তার

মডেল পিয়াসার সহযোগীসহ দুজন গ্রেপ্তার

পুলিশ হেফাজতে মডেল পিয়াসা। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে মডেল পিয়াসার সহযোগী মিশুসহ দুজনকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ

রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: শনাক্তের পর পরিবারের কাছে ২৪ লাশ

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে মৃতদের লাশ হস্তান্তরের সময় স্বজনের ছবি নিয়ে এক নারীর আহাজারি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ‘আজ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা ২৪ শ্রমিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। বাকি লাশ শনিবার হস্তান্তর করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডের সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে মারা যাওয়া ২৪ মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২১ মরদেহ শনিবার তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

৪৮ জনের মধ্যে যে তিনজনের ডিএনএ শনাক্ত করা যায়নি সেগুলো আবার পরীক্ষা করা হবে। তারপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে বুধবার দুপুরে ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মামলার অনেক অগ্রগতি আছে। আগুন কীভাবে লেগেছে তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা। খুব শিগগির চার্জশিট দেব। বিদ্যুতের তার থেকে আগুন লেগেছে। নারায়ণগঞ্জের এডিসি এস এম মাহফুজুর রহমান ইতিমধ্যে নিহতদের পরিবারকে দাফন ও সৎকার বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। পরে আরও দেয়া হবে।’

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ‘আজ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা ২৪ শ্রমিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। বাকি লাশ শনিবার হস্তান্তর করা হবে।’

গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জের হাসেম ফুড কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। তিন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তখনই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

বাকি লাশগুলো শনাক্ত করার উপায় ছিল না। পরে লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়। এরপর স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। নমুনায় যাদের মিল পাওয়া গেছে সেসব মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে।

যে ২৪ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে তারা আলাদা আলাদা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

শ্রমিকদের মারামারি, চাল বিতরণ না করেই মেয়রের সভা ত্যাগ

শ্রমিকদের মারামারি, চাল বিতরণ না করেই মেয়রের সভা ত্যাগ

পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে গেলেও বিশৃঙ্খলার কারণে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র ফলজে নূর তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে বুধবার বেলা ১১টায় চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি থেকে মেয়র তাপসের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা ছিল। শ্রমিকরা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র।

কঠোর লকডাউনে কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও বিশৃঙ্খলা দেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে বুধবার বেলা ১১টায় চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি থেকে মেয়র তাপসের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা ছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান।

বেলা ১১টায় চাল বিতরণ করার আগেই দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হতে থাকেন পরিবহন শ্রমিকরা। অল্প সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থল শ্রমিক সমাগমে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

সেখানে চাল বিতরণের অনুষ্ঠানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই ছিল না। মাস্কহীন পরিবহন শ্রমিকদের জনসমাগম ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।

শাহজাহান খান ও পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ শ্রমিকদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বান জানালেও শৃঙ্খলা ফেরে না।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন মেয়র তাপস। তার আগেই এক দফা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেন শ্রমিকেরা। তখন শাহজাহান খান নিজে শ্রমিকদের কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান বিশৃঙ্খলা না করতে।

শ্রমিকদের মারামারি, চাল বিতরণ না করেই মেয়রের সভা ত্যাগ
পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র তাপস গিয়ে চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। এ সময় শ্রমিকরা একে অন্যের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছিলেন।

এমন পরিস্থিতি দেখে পুলিশ এগিয়ে যায় শ্রমিকদের দিকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার মধ্যেই পাঁচ মিনিট অবস্থান করে চাল বিতরণ না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মেয়র তাপস।

মেয়র ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শাহজাহান খান। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, যারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে তাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনা হবে।

শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরণ শুরুর পাঁচ মিনিট পরে তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন করলে শাহজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সব ফাঁকা করেই চেয়ার দিয়েছিলাম। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সেভাবে কাজ করেছিল, কিন্তু সেটা মানা হয়নি।’

শ্রমিকদের এমন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব চক্রান্ত করা হয়েছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করে খুঁজে বের করব।’

শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা অনেকেই চাল বিতরণের স্লিপ পাননি। ফলে চাল বিতরণ হলেও তারা পাবেন না।

গত বৃহস্পতিবার পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় ডিএসসিসি। এ ছাড়া কোভিড-১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়-দুস্থ, কর্মহীন পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ঢাকার ৯ জন সংসদ সদস্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

র‍্যাবের হাতে আটকের পর কয়েকটি মামলা হয়েছে ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

শুনানিতে হেলেনার আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হেলেনা জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

পল্লবী থানার দুই মামলায় আট দিনের রিমান্ডের পর এবার আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার দুই মামলায় তিন দিন করে আরও ছয় দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে চার মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড দেয়া হলো হেলেনাকে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর।

এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ শাহানুর রহমান হেলেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দশ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা আরেক মামলায় হেলেনাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ।

বিচারক ওই আবেদন গ্রহণ করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার গুলশান থানায় পুলিশের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেলেনাকে বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

রোববার গুলশান থানায় ওই মামলাটি করা হয়। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনটি আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। একারণে রিমান্ড থেকে ফেরার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফের দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আসামি পক্ষে আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘সাজানো ঘটনায় আসামিকে বারবার হয়রানির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি একজন অসুস্থ মানুষ। তার ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২৪ এ দাঁড়িয়েছে। তাই তার রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আদেশ প্রার্থনা করছি। রিমান্ডের কোনো কারণ নাই ২৫, ২৯, ৩১ ধারা জামিনযোগ্য। যে মামলা করেছে তার মানহানি হয় নাই। এটা সুনির্দিষ্ট করে কোথাও বলা নাই।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই তিনটি ধারার কোনোটি রিমান্ডযোগ্য নয়। এর পরিষ্কার রেফারেন্স আছে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায়। রিমান্ড হবে না এ মামলায়, আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড বাতিল চাই।’

মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক লাইসেন্স থাকলে রাখা যায়।’

তখন বিচারক বলেন, ‘মদের লাইসেন্সটি কি আপনার কাছে আছে?’

আইনজীবী বলেন, ‘লাইসেন্সটি সঙ্গে নাই। তিনি একটি মহলের প্রতিহিংসার শিকার। তিনি একজন ভিভিআইপি ও সিআইপি। বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন প্রার্থনা করছি। এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে পর্যাপ্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নাই।

‘তিনি একজন ব্যবসায়ী। দেশের প্রতি উনার অনেক অবদান আছে। তাই তার অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করছি এবং রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। হেলেনা জাহাঙ্গীর কোনো মাদক সেবন বা বিক্রি করেন না। তিনি একজন সিআইপি ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকেও পুরস্কারপ্রাপ্ত। তাই দয়া করে রিমান্ড বাতিলপূর্বক যে কোনো শর্তে তার জামিন দেয়া হোক।’

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী আরও বলেন, ‘তিনি জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল রিমান্ডের আবেদন ও জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, আসামির নিকট থেকে অনেক কিছু বিষয় জানার আছে। তিনি রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। অনেক নেতা, মন্ত্রী, এমপিকে তিনি হেয় প্রতিপন্ন করে ফেসবুক লাইভে এসে আপত্তিকর ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। তার এই উদ্দেশ্যের বিষয়ে, ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানা প্রয়োজন, তাই তাকে পুনারায় দশ দিনের রিমান্ড দেয়া হোক।

এসময় গুলশান থানার মাদক মামলায়ও হেলেনার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

শুক্রবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

অভিযান শেষে সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। তার বাসা থেকে আমরা বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, চাকু ও হরিণের চামড়া জব্দ করেছি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলেনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এছাড়া হেলেনার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনসহ চারটি ধারায় আরেকটি মামলা হয়েছে।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগের এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জাম ৪৫৬টি চিপস। পরবর্তী সময়ে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

বস্তি থেকে ১৪ তলা ফ্ল্যাটে

বস্তি থেকে ১৪ তলা ফ্ল্যাটে

বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়। ফাইল ছবি

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তির বাসিন্দা উজ্জ্বল কুমার ফ্ল্যাট বুঝে নিয়ে বললেন, ‘এখানে ভাড়া বস্তির চেয়ে কম। আগে বস্তিতে থাকতাম এক রুম নিয়ে। এখন পরিবার নিয়ে কম ভাড়ায় ভালোভাবে থাকতে পারব।’

মিরপুরের বস্তিতে থাকেন পারুল আক্তার। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তার হাতে আধুনিক সেবাসম্পন্ন ফ্ল্যাটের চাবি যখন তুলে দেয়া হয়, তার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।

বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফ্ল্যাট পাওয়া বস্তিবাসী পারুল আক্তার বলেন, ‘আগেও টাকা দিয়ে বস্তিতে থাকতে হইত, কিন্তু কম টাকায় এখন ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ পাইছি। এ জন্য আমরা খুশি।’

ফ্ল্যাট পাওয়া বস্তিবাসী জানান, বস্তিতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা খুবই সীমিত। ঝড়বৃষ্টিতে কষ্টের সীমা থাকে না, অথচ ভাড়া দিতে হয় বেশি। সেদিক দিয়ে স্বচ্ছন্দ জীবন হবে তাদের জন্য বরাদ্দ ফ্ল্যাটগুলোতে।

তবে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়া অনেকেই জানান, ভাড়া আরও কম হলে ভালো হতো।

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তিতে থাকেন উজ্জ্বল কুমার। ফ্ল্যাট বুঝে পেয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানে ভাড়া বস্তির চেয়ে কম।

আগে বস্তিতে থাকতাম এক রুম নিয়ে। এখন পরিবার নিয়ে কম ভাড়ায় ভালোভাবে থাকতে পারব।’

উজ্জ্বল কুমার বলেন, ‘২২ বছর ধরে ওই বস্তিতে আছি। সরকার আমাদের জন্য এই যে প্রজেক্ট নিছে, তাতে আমরা খুশি। সরকার আমাদের মতো গরিবদের জন্য যে কাজ করতেছে, এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। তয় সরকার যদি আমাদের নামে এই ফ্ল্যাটগুলো দিয়ে দেয়, তাহলে ভালো হয়। আর ভাড়া আরেকটু কম করলে ভালো হইত।’

২০ বছর ধরে মিরপুরের কলাবাগান বস্তিতে থাকেন লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘স্বামী নাই। তিন মেয়েরে নিয়া থাকি। তাদের নিয়া ভালোভাবে থাকতে পারব।’

লিপি বলেন, ‘ফ্ল্যাটে আমাদের ভাড়া দিতে হবে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। আমি আগে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতাম দুইটা রুম নিয়া। তাতে আমাগো ১০ হাজার টাকা চইলা যাইত।’

বস্তি থেকে ১৪ তলা ফ্ল্যাটে
ফ্ল্যাটের কাজগপত্র পেয়ে উৎফুল্ল বস্তিবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিং ভবন আবাসিক ভবন এলাকায়। দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক- এই চার ক্যাটাগরিতে বস্তিবাসী ভাড়া দিতে পারবেন। দৈনিক ১৫০ টাকা, সাপ্তাহিক ১ হাজার ৫০ টাকা, পাক্ষিক ২ হাজার ২৫০ টাকা ও মাসিক ৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দেয়া যাবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যোগ দেন। এর আগে বাসে করে প্রাপকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে প্রায় ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ফ্ল্যাটের প্রকল্প নেয়া হয় ২০১৮ সালে। ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাটের মধ্যে ৩০০ ফ্ল্যাট মঙ্গলবার বস্তিবাসীর হাতে তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হয়ে বস্তিবাসীর হাতে ফ্ল্যাটের কাগজপত্র হস্তান্তর করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্রে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভাড়াগ্রহীতা ফ্ল্যাটে বসবাস করতে না চাইলে ন্যূনতম ১৫ দিন আগে লিখিতভাবে অবহিত করবেন এবং ফ্ল্যাটের দখল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে দায়মুক্তি গ্রহণ করবেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছে নগদে অথবা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে মানি রসিদ/চালানের মাধ্যমে অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। ফ্ল্যাটের ভাড়াসহ প্রযোজ্য সার্ভিস চার্জ ও ইউটিলিটি বিল প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ঝুমন দাশের মুক্তি দাও, মুশতাক হত্যার বিচার চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো, জান ও জবানের স্বাধীনতা চাইসহ আরও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন৷

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি ঝুমন দাশের জামিন আবেদন নাকচের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন। এসময় তারা ঝুমন দাশসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার সবার মুক্তির দাবি জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ঝুমন দাশের মুক্তি দাও, মুশতাক হত্যার বিচার চাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করো, জান ও জবানের স্বাধীনতা চাইসহ আরও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন৷

মানববন্ধনে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সাইদুল হক নিশান বলেন, এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তাদের কিন্তু আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারপর গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সংবিধান বিরোধী। আমার শত্রুর বিরুদ্ধেও যদি এই আইনে মামলা হয় আমি সেটির বিরোধীতা করবো৷ কারণ এই আইন জনগণের মতামতকে ক্ষুণ্ণ করার আইন। এসময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এ আইনে গ্রেপ্তার ঝুমন দাশসহ সকলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রচার সম্পাদক রাকিব জামান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বানিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে আছে। এ আইন শেখ হাসিনার গদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে৷ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এটা ভুল কথা। একদিকে এরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে আর অন্যদিকে সবচেয়ে জগন্যভাবে মৌলবাদী শক্তিকে তোষণ করে।

ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসু বলেন, ঝুমন দাশ লিখেছিলেন মামুনুল হক এমন একজন লোক যিনি হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কথা যদি অপরাধ হয় তাহলে অনেক মন্ত্রী এমপিদের আজ কারাগারে থাকার কথা। জনগনের ঐক্যকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করছে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে জনগণকে বিভক্ত করে আমাদের লুটেপুটে খাওয়ার রাজনীতি চলছে। সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত আওয়াজ তুলতে হবে।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক মার্জিয়া প্রভা মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার বক্তব্য রাখেন।

সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাশের এক ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই গত ১৭ মার্চ শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে হামলা চালায় হেফাজতে ইসলামের অনুসারীরা। এ সময় গ্রামের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। অন্তত ৯০টি বাড়িতে হামলা করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, ঝুমন দাশ হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। এরপর ঝুমন দাশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:
আরমানিটোলায় আগুন: ভবন মালিকের জামিন
আরমানিটোলায় আগুন: কারাগারে দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী
আরমানিটোলায় আগুন: স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী লাইফ সাপোর্টে
আরমানিটোলায় আগুন: দুই কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রিমান্ডে
মুসা ম্যানসনে রাসায়নিক মজুদ পাঁচ বছর ধরে: র‌্যাব

শেয়ার করুন