অবশেষে মুক্তি পেলেন আরমান

অবশেষে মুক্তি পেলেন আরমান

পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পের সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক মাদক ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন বিহারি হিসেবে মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিনা অপরাধে পাঁচ বছর কারাগারে আটক থাকা রাজধানীর পল্লবীর বেনারসী কারিগর মো. আরমান অবশেষে মুক্তি পেলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কাশিমপুর-২ নং কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয় তাকে। কারা তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল জলিল জানান, পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি নিয়ে গেছেন।

পল্লবীর বিহারি ক্যাম্পের সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক মাদক ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন বিহারি হিসেবে মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তারের এ ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি।

এর আগে ২০১২ সালের ১ অক্টোবর শাহাবুদ্দিন ও তার দুই সহযোগীর প্রত্যেককে ১০ বছরের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় দিয়েছিল জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী ঢাকার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল। তখন জামিন নিয়ে পলাতক শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

শাহাবুদ্দিন হিসেবে গ্রেপ্তার আরমান তখন থেকেই কারাগারে সাজা খাটছিলেন। এ নিয়ে আইনজীবী হুমায়ূন কবির পল্লবের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আরমানকে মুক্তি দেয়াসহ তাকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতি নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে বক্তব্য প্রত্যাহার মোজাম্মেলের

সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে বক্তব্য প্রত্যাহার মোজাম্মেলের

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ফাইল ছবি

‘আমরা কালকে একটা কথা বলেছিলাম যে আগামী ১১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি টিকা ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা করেন তারা আইনের আওতায় আসবেন। আমরা সেটা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে সেটা বাস্তবসম্মত নয়। সেজন্য আমরা আমাদের, আমি যে কথা বলেছিলাম সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

১১ আগস্টের মধ্যে ১৮ ঊর্ধ্ব সকল নাগরিককে করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা সম্ভব নয় বলে সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায়, নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের আরোপ করা শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া কঠোর বিধিনিষেধ শেষে টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা বাইরে আসতে পারবেন না বলে দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় এ কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মন্ত্রী।

আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, ‘আমরা কালকে একটা কথা বলেছিলাম যে আগামী ১১ তারিখ থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি যদি টিকা ছাড়া রাস্তায় চলাফেরা করেন তারা আইনের আওতায় আসবেন। আমরা সেটা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে সেটা বাস্তবসম্মত নয়। সেজন্য আমরা আমাদের, আমি যে কথা বলেছিলাম সেটা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেহেতু ১১ তারিখে সমস্ত লোককে টিকা দেয়া সম্ভব নয়। কাজেই টিকা না দিয়ে আসতে পারবে না, সেই ইয়েটাও ইমপোজ করা যায় না। সে কারণেই আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের ওই অংশটুকু, ১১ তারিখের পর থেকে কেউ আসলে আইনের আওতায় আসবে, ওই অংশটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার এ দেশের সকল নাগরিকদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়ার জন্য আমরা বলেছি যে ১৪ হাজার টিকা কেন্দ্র স্থাপন করে আগামী ৭ তারিখ থেকে কার্যক্রম চলবে। ১৮ বছরের সকল নাগরিকদেরকে টিকা দেয়ার জন্য আমাদের সরকার বদ্ধ পরিকর।’

নিজের বক্তব্য শেষ করেই তড়িঘড়ি করে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে যান মন্ত্রী।

যদিও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন মঙ্গলবারে অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভায় এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ওই বৈঠকে তিনি অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নয়।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে আসলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি যে (টিকা ছাড়া) ১৮ বছরের বেশি বয়সের কেউ বের হলে অপরাধ হবে। সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এমন বক্তব্য সরকারের সমন্বয়হীনতা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাহ, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সেখানে হয়নি। আমাদের সচিবও সেই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু এই ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।’

মাস্ক পরার ওপর জোর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মানে সেটির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’

পুলিশের হাতে শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাস্ক না পরলে পরে যাতে ইন্সট্যান্টলি শাস্তি দেয়া যায়, সেজন্য পুলিশের কাছে এ ধরনের... অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা নয়, পুলিশ যেমন অবৈধ যানবাহনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে, ট্রাফিক পুলিশ ভায়োলেট করলে সেখান থেকে জরিমানা আদায় করে, সুতরাং সেই ধরনের ইনস্টিটিউট দ্বারা ভ্যালিডেটেড অবশ্যই হতে হবে সেটি আইন আনুযায়ী।’

বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘পুলিশ যাতে জরিমানা করতে পারে, সেটি আইনের মধ্যে থেকে কীভাবে করা যায়, সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেটা করা প্রয়োজন বলেও সবাই অভিমত ব্যক্ত করেছে।’

৭ আগস্ট থেকে সরকার ব্যাপক টিকা কার্যক্রমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১ সপ্তাহে ১৪ হাজার কেন্দ্র থেকে ১ কোটি দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

‘তখন কেউ কেউ, আমার ঠিক মনে নেই, এ ধরনের আলোচনা করেছে। টিকা ছাড়া বের হলে... এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।’

অ্যার্টর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনায় ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়েছে। আগেরদিন এ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার জানান, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ৪৬ নম্বর আদেশ)-এর অনুচ্ছেদ (৮)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৫ সদস্যের সমন্বয়ে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করেছে।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।’

কমিটিতে আরও আছেন- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আব্দুল বাসেত মজুমদার, সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোখলেছুর রহমান বাদল, এইচ এ এম জহিরুল ইসলাম খান (জেড আই খান পান্না), শাহ মো. খসরুজ্জামান ও মো. কামরুল ইসলাম।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির কাজী নজীবুল্লাহ হিরু, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির মুজিবুল হক, সিলেট আইনজীবী সমিতির এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু, ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির কবির উদ্দিন ভূঞা, খুলনা আইনজীবী সমিতির পারভেজ ইসলাম খান, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির মো. ইয়াহিয়া এবং সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির মো. আব্দুর রহমানকে রাখা হয়েছে এই অ্যাডহক কমিটিতে।

এই কমিটি ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। আগামী বছরের ৩১ মে বা তার আগে বার কাউন্সিলের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে কমিটিকে। আর নির্বাচিত কমিটিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে ২০২২ সালের ১ জুলাই।

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুকে সাজা, মুক্তি দিতে বলল হাইকোর্ট

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুকে সাজা, মুক্তি দিতে বলল হাইকোর্ট

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুক্তিতে উদ্যোগ নেয় আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড দেয়া দুই শিশুকে মুক্তির ব্যবস্থা নিতে ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমানকে নেত্রকোণার ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির দুই শিশুর মুক্তি চেয়ে বিচারপতিকে চিঠি দেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুক্তিতে উদ্যোগ নেয় আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের আদেশের পর আমি নেত্রকোণার ডিসিকে টেলিফোনে আদালতের আদেশের বিষয়টি অবগত করি। তিনি জানান, শিশু দুটিকে ইতোমধ্যে আপিল শুনানি করে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আইনজীবী শিশির মনির ই-মেইলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে চিঠিটি পাঠান।

এতে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট আইনবহির্ভূতভাবে দুই শিশুকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনে বলা আছে, শিশু আইনের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার অর্থ হলো শিশু আদালতে তাদের বিচার হবে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট সেটা না করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সাজা দিয়েছেন, যা আইনসম্মত হয়নি।

আইনজীবী শিশির মনির চিঠিতে যা লিখেছিলেন

আজ ৪ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে জানতে পারি, নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের সাজা দিয়েছেন। এই রিপোর্ট পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশু আইনের অধীন মোবাইল কোর্টের কোনো এখতিয়ার নেই। ফলে অত্র সাজা এখতিয়ারবহির্ভূত।

চিঠি পাঠানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমি অত্র আদালতের একজন অফিসার। আমার মনে আছে, ফতোয়ার মামলায় পত্রিকার রিপোর্ট দরখাস্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। ছাত্রজীবনে পড়েছি, একটি টেলিফোন কল নাকি এফআইআর হিসেবে গণ্য হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রধান বিচারপতি বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন এক সন্তানহারা মা নীলাবতি বেহারা। সেই চিঠির ভিত্তিতে তিনি ক্ষতিপূরণও পেয়েছিলেন।

‘স্বচক্ষে দেখেছি, পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনেক স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি হয়েছে। বিচারও হয়েছে। জেল থেকে পাঠানো চিঠিগুলো জেল আপিল হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব উদারহণ দেখে কিছুটা অতি উৎসাহী হয়ে এই পত্র লিখলাম। আশা করি, আমার এই পত্র বৃথা যাবে না।’

পত্রিকার প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে এক মাসের দণ্ডাদেশ দিয়েছেন নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া।

গত রোববার রাতে জেলার আটপাড়ায় সুলতানা রাজিয়া তার নিজ কার্যালয়ে ওই দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে শিশু দুটিকে গাজীপুরে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিশু দুটি গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নেত্রকোণা জেলা কারাগারে ছিল।

শিশু দুটির বাড়ি আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটির বয়স ১৫ বছর (জেএসসির নিবন্ধন কার্ড অনুযায়ী)। ছেলেটিও সমবয়সী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তারা দুজন লেখাপড়ার পাশাপাশি ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। এ সময় উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি মেয়েটি ছেলেটিকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। ছেলেটি তা প্রত্যাখ্যান করে।

গত ঈদুল আজহায় তারা গামের বাড়িতে আসে। এরপর বিয়ের দাবিতে মেয়েটি গত বুধবার রাত থেকে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়। নিরুপায় হয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় উভয় পরিবার তাদের বিয়ের আয়োজন করে। বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া সেখানে পুলিশ পাঠান। এরপর দুজনকে তার কার্যালয়ে এনে রাত ৮টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী দুজনকেই এক মাসের জন্য আটকাদেশ দিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বলা হয়, তাদের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর ৭(২) ধারায় এ আটকাদেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

মিয়ানমারের আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজভূমে ফেরত যাওয়া বা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আপাতত দেখছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষমতায় আসার পর এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আর এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা সংস্থা ও রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে রাখার কথা বিবেচনায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর নানা রকম চাপ প্রয়োগের চেষ্টাও আছে। যদিও শুরু থেকে এ ধরনের চাপ নাকচ করে আসছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কিন্তু হাল ছেড়ে বসে নেই। আমরা সেখানে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চীন মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিল। তাদের উদ্যোগেই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়।

‘সম্প্রতি তাসখন্দ সফরেও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই ইয়ির সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। বৈঠকে আমরা আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হই। কিন্তু সমস্যাটা হলো মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারির পর থেকে তাদের দেশে যে পরিমাণ বিক্ষোভ-সংঘর্ষ চলছে, তাতে প্রকৃত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগটা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন।’

মোমেন বলেন, তাসখন্দে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আপনারা বলছেন, মিয়ানমারের বিষয়ে অ্যাফ্রেড। আপনারা বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটা দ্বিপক্ষীয় হোক। তৃতীয় পক্ষ এলে অনিশ্চয়তা বাড়বে। আপনি বলেছিলেন, মিডেল-ইস্টে দেখো। সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনে তৃতীয় পক্ষ আসায় কোনো লাভ হয়নি। আপনাদের কথামতো আমরা দ্বিপক্ষীয় অনেক মিটিং করলাম। কোনো লাভই তো হয়নি। অনেক চেষ্টাই তো করলাম। একজন লোকও ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। আমরা তো ত্রিপক্ষীয় আলোচনাও করলাম।’

মোমেন বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, আমি চাই আপনি এই ট্রাইলেটারাল উদ্যোগে অংশ নিন এবং রোহিঙ্গা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন। আপনার সঙ্গে তাদের এত ভালো সম্পর্ক! এই সেদিন ওদের (মিয়ানমার) মিলিটারি চিফ আসল। আপনারা তাদের জিনিসপত্র দিচ্ছেন! আপনারা বললে ওরা শুনবে।

‘জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বললেন, “আমরা তো বলছি। আবারও বলব।” কিন্তু ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে আমি যেটা বলছি, সেটায় তিনি রাজি হননি। কারণ হিসেবে উনি বললেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আমি বললাম, আচ্ছা সময় নেন। প্রয়োজনে চীনের সঙ্গেও কথা বলেন। কেননা আপনি ও চীনই তো মিয়ানমারকে শক্ত অবস্থানে রাখছেন। উনি এতে সাদামাটা কোনো জবাব দেননি। কেবল বলেছেন, এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে।’

এদিকে ২৬ জুলাই ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের অন্যতম মিত্র জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পথ খুঁজছেন তারা। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান এই পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইতো নাওকি বলেন, জাপান দ্রুত প্রত্যাবাসনে সক্রিয় পরিবেশ তৈরিতে যথাযথ চেষ্টা করবে। তবে ‘উপযুক্ত সময়’ এলেই মিয়ানমারের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অবস্থান

এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’-এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে প্রস্তাবটিকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা নিয়ে বিদেশি চাপ

বিশ্বব্যাংক তাদের প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের অধিকার দাবি করেছে, যাতে তারা দেশের সর্বত্র কাজ করতে পারে অন্য সকল বাংলাদেশির মতো। তাদের আইনি অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে। তাদের চলাচলের স্বাধীনতা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি বলা হয়েছে, তাদের জমিজমা কেনার ও ব্যবসা করতে ক্ষমতা দেয়ার কথাও। বলা হয়েছে, তারা যাতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে দেশের নাগরিকদের মতো।

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রথমে আমাদের সংজ্ঞায় রোহিঙ্গারা রিফিউজি না। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না। দে শুড গো ব্যাক। দে আর ট্যাম্পোরারি পিপল, নট রিফিউজিস। আর আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারও কখনও বলেনি তারা ফেরত নেবে না।

‘আমরা কোনো শরণার্থী আশ্রয় দিইনি। আমরা বিপদগ্রস্ত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ তাদের মাতৃভূমিতে আছে। তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাই তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। আমরা বলেছি, না আমরা এটা গ্রহণ করতে পারছি না। রোহিঙ্গা সমস্যা সাময়িক। এ নিয়ে ট্যাম্পোরারি কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। আমরা আমাদের এই কথা তাদের জানিয়ে দিয়েছি।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ায় সুর বদলেছে বিশ্বব্যাংক। তারা মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলছে, শরণার্থী বিষয়ে বাংলাদেশসহ কোনো দেশকেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি তারা। যতদিন রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফেরত না যাচ্ছে, ততদিন সহায়তা অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেছে বৈশ্বিক এই দাতা সংস্থা।

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

অজি বধে টাইগার বন্দনা

অজি বধে টাইগার বন্দনা

বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি অস্ট্রেলিয়া। ছবি: এএফপি

অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের সমন্বয়ক আমীর হোসন আমু, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে, দলটির বিরুদ্ধে প্রথম জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছে সবাই।

টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আশা করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ১৪ দলের সমন্বয়ক আমীর হোসন আমু, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

পাঁচ ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে অজিরা বাংলাদেশে এসেছে কিছুটা খর্বশক্তির দল নিয়ে। তবে বাংলাদেশও পুরো শক্তিতে নেই। দলের স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাসকে ছাড়া এই দলটি যে অজিদেরকে বধ্ করে দেবে, ম্যাচের অর্ধেকটা যাওয়ার পরেও এ বিষয়ে কোনো উচ্চাশা ছিল না।

তবে ১১ রানে সফরকারীদের তিন উইকেট ফেলে দেয়ার পরই নড়েচড়ে বসে গোটা জাতি। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সামনে ছোট লক্ষ্যের পরেও কিছু একটা হতে পারে, ধারণা জন্মে।

এরপর যত সময় গেছে ১৩২ রানের লক্ষ্য তত বড় হয়েছে অজিদের জন্য। শেষ পর্যন্ত বেশ বড় ব্যবধানেই হার মানতে হয়েছে তাদের।

মুস্কাফিজুর রহমান তার বিখ্যাত কাটারে শেষ অজি ব্যাটসম্যান মিশেল স্টার্কের উইকেট ভেঙে দেয়ার পর পরই শুরু হয় উল্লাস। একের পর এক আসতে থাকে অভিনন্দন বার্তা।

ক্রিকেট দলকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি আশা করেন, ‘টুর্নামেন্টের সামনের ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশ জয়লাভ করবে।’

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভোল পাল্টাল বিশ্বব্যাংক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভোল পাল্টাল বিশ্বব্যাংক

সীমান্ত খুলে ২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরকে অবাধে দেশে ঢুকার সুযোগ দিয়েছিল। সংস্থাটি জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য দেয়া সম্পূর্ণ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার হলো অনুদান। এটি কোনো ঋণ নয়। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা চ্যাপ্টারের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি অনেকটা নমনীয় অবস্থান দেখানো হয়। রোহিঙ্গাদের জন্য ৫৯০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা, অনুদান না ঋণ? এমন প্রশ্নে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় সম্পূর্ণ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার হলো অনুদান। এটি কোনো ঋণ নয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়দাতা হিসেবে ঢাকাকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা চ্যাপ্টারের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি অনেকটা নমনীয় অবস্থান দেখানো হয়।

একদিন আগে, বিশ্বব্যাংক আবদার জানিয়েছিল বাংলাদেশি নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকেও তার সব সুবিধা দিতে হবে ঢাকাকে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির প্রস্তাব বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জমি কেনার সুযোগ দেয়া হোক, তাদের স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে দেয়া হোক, তাদের নিজেদের মধ্যে নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হোক।

বাংলাদেশ এই প্রস্তাব মানলে বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা। তবে বাংলাদেশ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা বা স্থায়ীভাবে রেখে দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবকে অবাস্তব বা কল্পনাপ্রসূত অভিহিত করে তা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

সোমবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক জরুরি প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে ঢাকা রাজি নয়। আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, রোহিঙ্গারা তাদের বাসভূমে ফিরে যাবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক একটা রিপোর্ট তৈরি করেছে, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ১৬টা দেশের জন্য। যেসব দেশে রিফিউজি আছে, সেখানে তাদের হোস্ট কান্ট্রিতে ইন্টিগ্রেট করার বিষয়ে। যেহেতু রোহিঙ্গারা রিফিউজি না, আমরা এটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি।

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান কী, এমন প্রশ্নে সংস্থাটি বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে ও তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয়দাতা হিসেবে ঢাকাকে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর রোহিঙ্গাদের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তা করছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে কতটুকু সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, সহ মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কক্সবাজারের চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন ধরে রাখতে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করছে বলে দাবি করে বিশ্বব্যাংক।

৫৯০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা, অনুদান না ঋণ? এমন প্রশ্নে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় সম্পূর্ণ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার হলো অনুদান। এটি কোনো ঋণ নয়।

শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা করে রোহিঙ্গা জনসংখ্যার বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে? এমন প্রশ্নে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে কোনো দেশের জন্য নির্দিষ্ট সুপারিশ চাপিয়ে দেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন

‘ফিরে এসে চেনা মুখগুলো আর পাইনি’

‘ফিরে এসে চেনা মুখগুলো আর পাইনি’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই। বেঁচে গিয়েছিলাম কিন্তু দেশে আসতে পারিনি। তখনকার মিলিটারি ডিক্টেটর আমাকে আসতে দেয়নি। আমার অবর্তমানে আমার দল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার দল, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, তাদেরই আহ্বানে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি।’

১৯৭৫ সালের জুলাইয়ের শেষে জার্মানি যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানালেও ফিরে এসে তাদের না পাওয়ার স্মৃতি এখনও পোড়ায় বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণা করেন সরকারপ্রধান।

স্মৃতিকাতর শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যখন আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাধীনতাবিরোধী, পরাজিত শক্তির দোসর এবং কিছু বেইমান মুনাফেকের চক্রান্তে ১৫ আগস্ট তাকে (বঙ্গবন্ধু) হত্যা করা হয়। আর সেই থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সব আদর্শকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়।’

‘আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই। বেঁচে গিয়েছিলাম কিন্তু দেশে আসতে পারিনি। তখনকার মিলিটারি ডিক্টেটর আমাকে আসতে দেয়নি। আমার অবর্তমানে আমার দল আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার দল, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ, তাদেরই আহ্বানে আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি।’

তবে ফিরে আসার পথ মসৃণ ছিল না বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ মিলিটারি ডিক্টেটর যিনি তখন ছিলেন অনেকভাবে বাধা দেয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেদিন আমি দেখেছিলাম হাজার হাজার মানুষ।’

‘আমি যখন বাংলাদেশ থেকে যাই, তখন বিমানবন্দরে আমার ভাইবোন ওরাই ছিল। কিন্তু যখন ফিরে আসি তখন হাজার মানুষ পেয়েছি। কিন্তু সেই চেনা মুখগুলো আর পাইনি। পেয়েছি আমার দলের লোকেরা, সমর্থকরা এবং অগণিত সাধারণ মানুষ।’

জাতির পিতার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণকেই নিজের পাথেয় হিসেবে নেয়ার কথা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তাদের বলেছিলাম জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।

‘তাই আমরা যখন ২১ বছর পর প্রথম সরকার গঠন করি, আমাদের একটাই চিন্তা তৃণমূলে পড়ে থাকা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা, তাদের একটু সুস্থ জীবন দেয়া, উন্নত জীবন দেয়া। যে মৌলিক চাহিদাগুলোর কথা আমাদের সংবিধানে দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করা। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বিনাদোষে সাজাখাটা আরমানের ক্ষতিপূরণ আদেশ স্থগিত
মুক্তি পাচ্ছেন সেই আরমান, ক্ষতিপূরণ দেবে পুলিশ
আরমান যেন আরেক জাহালম

শেয়ার করুন