বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবেই জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, এটা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই। সরকারের শক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হেফাজতে ইসলামকে পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
হেফাজতে ইসলামীর হুমকির বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘ভাস্কর্যবিরোধীরা জঙ্গিবাদের ভাষায় কথা বলছেন। কিন্তু উগ্রবাদী কথা জনগণ সমর্থন করে না।’
শনিবার রাজধানীতে ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।
আরেকটি শাপলা চত্বর করার বিষয়ে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের হুমকির বিষয়ে হানিফ সেই রাতের কথা স্মরণ করিয়ে বলেছেন, ‘সরকারের শক্তি সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকা উচিত।’
ধোলাইপাড়ে এই বেদিতে হবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। এটি নির্মাণ হলে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছে হেফাজত
ঢাকার ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে মাঠে নেমেছে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল। এর মধ্যে শুক্রবার চট্টগ্রামে এক মাহফিলে হেফাজতের নতুন আমির জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, যে সরকারই ভাস্কর্য বানাক, তারা হেনে হিঁচড়ে ফেলে দেবেন।
এর আগে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ভাস্কর্য হলে আরেকটি শাপলা চত্বরে পরিস্থিতি তৈরি করা হবে।
জবাবে হানিফ বলেন, ‘যারা আবার শাপলা চত্বরের হুমকি দেয়, তাদের লজ্জা থাকা উচিত। লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল তারা, কোনো হুমকি কাজে আসবে না। সরকারের শক্তি সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকা উচিত।’
১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়ার পর সরকার ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল হেফাজত। তবে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর পালিয়ে যায় সবাই।
এরপর হেফাজতের পক্ষ থেকে অভিযানে ব্যাপক হত্যার অভিযোগ আনা হয়, যদিও পরে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। হেফাজত যাদেরকে হত্যার দাবি করেছিল, তাদের বহুজন পরে ঘরে ফিরেছেন।
হানিফ বলেন, ‘এটা স্বাধীন রাষ্ট্র, এখানে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বা রাজাকারদের হুমকি শোনার জন্য ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়নি। এটা স্বাধীন দেশ, এখানে সরকার আছে, জনগণ আছে। আপনাদের উগ্রবাদী কথা জনগণ মানে না।’
ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রতিরোধের ঘোষণার পর শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাহফিলে যোগ দেননি হেফাজত নেতা মামুনুল হক
হানিফ বলেন, ‘ইসলাম শান্তির কথা বলে। আপনারা যে ভাষায় কথা বলছেন মহানবীর সময়ে এমন করে কেউ বললে ইসলাম গ্রহণ করতো না।’
মুসলিম বিভিন্ন দেশে ভাস্কর্য রয়েছে উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘সেখানে ভাস্কর্য নিয়ে কেউ কথা বলে না। মক্কা নগরীর মানুষও ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলে না।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।