× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

তারুণ্য
Bagerhat Youth Development Department in crisis of skilled trainers and manpower
hear-news
player
print-icon

দক্ষ প্রশিক্ষক ও জনবল সংকটে বাগেরহাট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

দক্ষ-প্রশিক্ষক-ও-জনবল-সংকটে-বাগেরহাট-যুব-উন্নয়ন-অধিদপ্তর
প্রশিক্ষণ নেয়া অনেকেরই অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তারা ভালো প্রশিক্ষণ পাননি। গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় দক্ষতা। তারা আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

বেকার যুবকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নয়নের মূল ধারা যুক্ত করতে কাজ করছে বাগেরহাট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

তবে দক্ষ প্রশিক্ষক ও জনবল সংকটে ভুগতে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

প্রশিক্ষণ নেয়া অনেকেরই অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তারা ভালো প্রশিক্ষণ পাননি। গড়ে ওঠেনি প্রয়োজনীয় দক্ষতা। তারা আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বলছে, জনবল সংকট থাকলেও সাধ্য অনুযায়ী কাজ করছে সংস্থাটি।

শিক্ষার্থীদের দাবি ও অভিযোগ

বাগেরহাট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গত ২০২০-২১ অর্থবছর ও ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশিক্ষণ কর্মক্ষেত্রে তাদের কোনো কাজে আসছে না। তাদের মতে, প্রশিক্ষক দক্ষ ছিলেন না, যে কারণে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ তারা পাননি।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান বলেন, 'গত বছর আমি বাগেরহাট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটারের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। শুধু কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি। প্রতিযোগিতার এ যুগে এসে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ কম।
'যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। শুধু একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাবে যুব উন্নয়ন থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রশিক্ষণ পাচ্ছি না আমরা।'

বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের স্নিগ্ধা ফাতেমা বলেন, 'আমি এ বছরের জানুয়ারিতে যুব উন্নয়ন থেকে মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছি, যা আমার কোনো কাজেই আসেনি। তাদের যিনি প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি যথেষ্ট দক্ষ ছিলেন না। তিনি মুখে বলেই নাম মাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রাকটিক্যালভাবে শেখার কোনো সুযোগ ছিল না সেখানে।

'এ ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার প্রমাণ দেয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছে শুধু সার্টিফিকেট ও আর্থিক সুবিধার জন্য।'

একই ইউনিয়নের ইমরান শেখ বলেন, 'আমি যুব উন্নয়ন থেকে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমার কাছে এ প্রশিক্ষণ কম্পিউটার সম্পর্কে বেসিক ধারণা ছাড়া কিছুই মনে হয় না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমি যা পেয়েছি সেটা শুধু একটি সার্টিফিকেট। এর বাইরে যা শিখেছি, সেটা ইউটিউব দেখে শেখা যায়।'

করোনাকালে অনলাইনভিত্তিক কাজের সুযোগ বেড়েছে জানিয়ে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের তানজিম আহমেদ বলেন, 'আমাদের মতো যুবকদের কাছে পছন্দের পেশা হয়ে উঠছে আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং। ভালো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে আমাদের। এসব করতে হলে যুব উন্নয়নে দক্ষ প্রশিক্ষক দিয়ে আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মতো বিষয়গুলোর ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই প্রতিটি পরিবারে একজন করে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। '

যা বলছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর

চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ প্রশিক্ষক ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বাগেরহাট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুল হাসান মালিক জানান, সাধ্যানুযায়ী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন তারা।

তিনি বলেন, 'আমাদের অফিসসহ উপজেলা অফিসগুলোতেও জনবল সংকট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে রামপাল উপজেলায়। সেখানে ক্রেডিট সুপারভাইজার, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ক্যাশিয়ার, অফিস সহায়ক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ কর্মরত পদের ৭ জনের বিপরীতে ৫টি পদই শূন্য।

'এ ছাড়া শরণখোলা উপজেলায় কর্মরত পদের ৭ জনের বিপরীতে ৩টি, মোড়েলগঞ্জে ৪টি, মোল্লাহাটে ২টি, মোংলায় ২টি, সদরে ২টি ও ফকিরহাট, চিতলমারী ও কচুয়া উপজেলায় ১টি করে পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জেলা কার্যালয়েও একজন সহকারী পরিচালক ও একজন উচ্চমান সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'যে অভিযোগ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেগুলো অযৌক্তিক বা ভুল বলা যাবে না। এগুলো এখন সময়ের দাবি। তবে আমাদের যারা প্রশিক্ষক রয়েছেন তারা যে দক্ষ নয়, সেটাও বলা যায় না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তারা যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

'এখানে সমস্যা হচ্ছে বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এখানে যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষকদের দক্ষতার অভাব থাকলে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর যে প্রশিক্ষণের দাবি করছে তরুণরা, আমি নিজেও তাদের সঙ্গে সহমত। এটি এখন সময়ের দাবি।'

উপপরিচালক জানান, আগামী অর্থবছরে তিনি আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। বিষয়ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিক শিক্ষকদের ইংরেজি প্রশিক্ষণ
সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা
নারী উদ্যোক্তাদের দল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ
মোবাইলফোনে সাংবাদিকতার কর্মশালা
বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

তারুণ্য
9 winners of Seeds for the Future are going to Thailand

থাইল্যান্ড যাচ্ছেন সিডস ফর দ্য ফিউচার বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী

থাইল্যান্ড যাচ্ছেন সিডস ফর দ্য ফিউচার বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থী সিডস ফর ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজনের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
বিজয়ীরা হলেন বুয়েটের গোলাম মাহমুদ সামদানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাদমিন সুলতানা; রুয়েটের মাদিহা বিনতে জাকির ও মেহরিন তাবাসসুম, আইইউটির ওয়াসিফা রহমান রেশমি ও মো. সুমিত হাসান; চুয়েটের মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাজিব শারার শায়ক ও মোহসিনা তাজ।

সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২২ আয়োজনের বাংলাদেশের শীর্ষ ৯ শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে। আয়োজনের পরবর্তী রাউন্ডে অংশ নিতে আগামী মাসে বিজয়ীরা থাইল্যান্ড যাবেন। সেখানে তারা এশিয়ার অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে যোগ দেবেন।

চলতি বছর এই প্রোগ্রামে অংশ নেয়া ১ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে তৃতীয় রাউন্ড তথা বাংলাদেশের ফাইনাল রাউন্ডে শীর্ষ ৯ শিক্ষার্থীকে বাছাই করা হয়।

থাইল্যান্ডে এই প্রোগ্রামের পরের রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রজেক্ট আইডিয়া এবং সাবমিশনের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

থাইল্যান্ড রাউন্ডের বিজয়ীরা ‘টেক ফর গুড অ্যাকসেলারেটর ক্যাম্প’-এ অংশ নিতে সিঙ্গাপুর যাবেন। প্রোগ্রাম শেষে চ্যাম্পিয়নরা পাবেন হুয়াওয়ে মেটবুক ল্যাপটপ।

বিজয়ীরা হলেন বুয়েটের গোলাম মাহমুদ সামদানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাদমিন সুলতানা; রুয়েটের মাদিহা বিনতে জাকির ও মেহরিন তাবাসসুম, আইইউটির ওয়াসিফা রহমান রেশমি ও মো. সুমিত হাসান; চুয়েটের মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাজিব শারার শায়ক ও মোহসিনা তাজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর ইউ লিওয়েন, বাংলাদেশে ইউনেসকোর হেড অফ অফিস ও প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বোর্ড মেম্বার জেসন লি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে উন্নত ক্লাউড সেবা দেবে হুয়াওয়ে
উন্নত কনফিগারেশনে হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো
হুয়াওয়ের নতুন ৭ সুপার ডিভাইস
হুয়াওয়ে ফাইভজি কুইজ বিজয়ী যারা
সত্যিই কি নতুন স্মার্টফোন আনছে হুয়াওয়ে

মন্তব্য

তারুণ্য
The journey of the Automobile Reports Forum has begun

অটোমোবাইল রিপোর্টাস ফোরামের আত্মপ্রকাশ

অটোমোবাইল রিপোর্টাস ফোরামের আত্মপ্রকাশ
নবগঠিত কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়াজ ডটকম ডটবিডির মিজানুর রহমান এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনলাইন হেড আজাদ বেগ।

দেশের অটোমোবাইল খাতের উন্নয়নে সময়োপযোগী প্রতিবেদন ও গবেষণার মাধ্যমে অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়ে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্র ও অনলাইনের সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত হলো ‘অটোমোবাইল রিপোর্টাস ফোরাম (এআরএফ)’।

সংগঠনটি গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়াজ ডটকম ডটবিডির মিজানুর রহমান এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনলাইন হেড আজাদ বেগ।

এ ছাড়া সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সিনিয়র রিপোর্টার মাহফুজুল্লাহ বাবু এবং বিবার্তা২৪ ডটনেটের চিফ রিপোর্টার উজ্জ্বল এ গমেজ।

কমিটির অন্যরা হলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল আজাদ আলিফ (দৈনিক প্রথম আলো), সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ান ফয়েজ (এটিএন নিউজ), কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শান্ত (বিজটেক২৪ডটকম), তথ্য ও প্রচার সম্পাদক শাহজালাল রোহান (সারাদিন ডটনিউজ), দপ্তর সম্পাদক গাজী মনসুর আজিজ (দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ), সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি (মোহনা টিভি) এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক সাজেদুর রহমান (দৈনিক নতুন সময়)।

উপদেষ্টা প্যানেলে রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক সরকার (দৈনিক প্রথম আলো)।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, 'আমরা সাংবাদিকরা সবাই নিজ নিজ মিডিয়া হাউজে অটোমোবাইল নিয়ে নিউজ করে থাকি। অনেক দিন থেকেই একটা সর্বজনীন প্লাটফর্ম তৈরি করার কথা ভাবছিলাম, যেখানে সবাই একসাথে অটোমোবাইল সেক্টর নিয়ে কাজ করা যাবে। এই সেক্টর উন্নয়নে গবেষণামূলক লেখা-লেখিতে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সচতেনামূলক প্রোগ্রাম, প্রতিযোগিতা, সভা, সেমিনার, কর্মশালা করা যাবে।

'মিডিয়ার সহকর্মী ভাইদের স্বতস্ফূর্ত সাড়া, অংশগ্রহণ এবং আন্তরিক সহযোগিতায় আজ সেই ভাবনা একটা সাংগঠনিক রূপ লাভ করেছে। এর জন্য মিডিয়ার সহকর্মী ভাইদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি, সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় সংগঠনটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে।'

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আজাদ বেগ বলেন, 'একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত, সে দেশ ততো উন্নত। যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ হলো অটোমোবাইলস। তাই এই সেক্টরকে আরও সংগঠিতভাবে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কাজ করে যাবে এআরএফ।'

মন্তব্য

তারুণ্য
UGC wants to add moral education to the curriculum

পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি

পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি
অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘সম্প্রতি প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অভিভাবকতুল্য ও বন্ধুসুলভ। কিন্তু তার বিপরীত ভাব স্পষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ঘটনায়। শিক্ষার্থীরা কেন সহিংস আচরণ করছে, তাদের আচরণে বিচ্যুতি কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয় রুখতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি যোগ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিটিজেন চার্টার বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের অবহিতকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অভিভাবকতুল্য ও বন্ধুসুলভ। কিন্তু তার বিপরীত ভাব স্পষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ঘটনায়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি যোগ করা জরুরি।

‘শিক্ষার্থীরা কেন সহিংস আচরণ করছে, তাদের আচরণে বিচ্যুতি কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মনোবিজ্ঞানী বা ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিভাগের সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আচরণের বিভিন্ন দিক মূল্যায়নে কোর্স শিক্ষকরা নম্বর বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে পারেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাংস্কৃতিক চর্চা হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাকে পড়ালেখার ক্ষতি বলে মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা বিকাশের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষা ও পাঠদান কখন শুরু হবে, সেটি সুনির্দিষ্ট করা নেই। এ কারণে একজন শিক্ষার্থীকে এক থেকে দুই বছর মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ভর্তি ও পাঠদানের ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তারা গুণগত শিক্ষা পাচ্ছে কি না সেদিকে নজর দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান, কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ, উপপরিচালক, সিনিয়র সহকারী পরিচালকসহ ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন চার্টারের ফোকাল পয়েন্ট অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেবার তালিকা দৃশ্যমান করার নির্দেশ
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষায় ইউজিসির গাইডলাইন
উচ্চশিক্ষার পাঠক্রম উন্নয়নে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

তারুণ্য
Sing the joy of winning dreams

স্বপ্ন জয়ের আনন্দ গানে গানে

স্বপ্ন জয়ের আনন্দ গানে গানে আনন্দে মেতেছে পুরো দেশ। গানে গানে সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালিয়েছেন দেশসেরা কয়েকজন শিল্পী। ছবি: সংগৃহীত
গান নিয়ে ইমরান বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের সেতু। এতটা বছর আমরা অপেক্ষা করেছি সেতুটির জন্য, যাতে আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক সহজ হয়। সেই সময়টা চলে এসেছে, আমরা সবাই খুব খুশি।’

স্বপ্ন জয়ের আনন্দে পুরো দেশ। জলে ভাসতে থাকা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে পদ্মা সেতু হয়ে। শনিবার সেতুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের স্বপ্নই যে শুধু পূরণ হয়েছে তা নয়। পদ্মা সেতু দেশের সক্ষমতার প্রতীক।

তাই সেতু চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতেছে পুরো দেশ। গানে গানে সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস করেছেন দেশসেরা কয়েকজন শিল্পী।

পদ্মা সেতুর অফিশিয়াল থিম সংয়ের কথা এমন- ‘তুমি অবিচল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তুমি ধুমকেতু/বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন দেশ তুমি দিলে পদ্মা সেতু/পেরিয়ে সকল অপশক্তি শত সহস্র বাধা/পদ্মা সেতু মাথা উঁচু করা আত্মমর্যাদা/মাথা নোয়াবার নয় বাঙালি যেহেতু/বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন দেশ তুমি দিলে মর্যাদা পদ্মা সেতু’।

কবীর বকুলের কথায় গানটির সুর-সংগীত করেছেন কিশোর দাস। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, রফিকুল আলম, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, মমতাজ বেগম, দিলশাদ নাহার কনা, ইমরান মাহমুদুল, নিশিতা বড়ুয়া ও কিশোর দাশ।

গানটি নিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘স্রষ্টার কাছে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও কৃতজ্ঞ, আমাদের এমন একটি গৌরব ও মর্যাদা এনে দেয়ার জন্য।’

বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘স্বপ্নটাকে চোখের সামনে দেখে এক আনন্দ লাগল, কী বলব! এ এক বিস্ময়। আমরা সবাই খুব খুশি।’

কনা বলেন, ‘শুটিং করতে গিয়ে যখন সেতুটি কাছ থেকে দেখলাম, তখন মনটা ভরে গেছে। এর আগে টিভিতে বা অনেক দূর থেকে দেখেছি। খুবই ভালো লাগছে।’

গান নিয়ে ইমরান বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের সেতু। এতটা বছর আমরা অপেক্ষা করেছি সেতুটির জন্য, যাতে আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক সহজ হয়। সেই সময়টা চলে এসেছে, আমরা সবাই খুব খুশি।’

আরও পড়ুন:
হংকং সিঙ্গাপুরের মতো সম্ভাবনা শরীয়তপুরের সামনে
কেমন থাকবে পদ্মা সেতু এলাকায় উদ্বোধনী দিনের আবহাওয়া
পদ্মা সেতুর জন্য বিদ্যুৎ লাগবে কতটা?
স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে জড়িয়ে বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অসাধারণ অনন্য এক স্থাপনা

মন্তব্য

তারুণ্য
SSC examinees gave money for Eid clothes to the flood victims

ঈদের জামার টাকা বন্যার্তদের দিল এসএসসি পরীক্ষার্থী

ঈদের জামার টাকা বন্যার্তদের দিল এসএসসি পরীক্ষার্থী ডিসির হাতে বন্যার্তদের সহায়তার টাকার চেক তুলে দিচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহাজীব হাসান (বামে)। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে তাহাজীব বলেছে, ‘সিলেটে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে তা টিভি ও পত্রিকায় দেখে আমার মনে হয়েছে যে আমার ড্রেস কেনার চেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো বেশী জরুরি।’

সিলেটের বানভাসী মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে গোপালগঞ্জের এক কিশোরী। ঈদের পোশাক কেনার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়েছে সে।

মেয়েটির নাম তাহাজীব হাসান। সে এবার গোপালগঞ্জ সরকারি বীণাপাণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

ঈদের পোশাক না কিনে ১০ হাজার টাকা সে বুধবার দুপুরে তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হাতে।

নিউজবাংলাকে তাহাজীব বলেছে, ‘আমার ঈদের ড্রেস কেনার টাকা সিলেটের বন্যার্তদের জন্য দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। প্রতি বছর ঈদের সময় নতুন ড্রেস কিনে থাকি। কিন্তু এবার সিলেটে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে তা টিভি ও পত্রিকায় দেখে আমার মনে হয়েছে যে আমার ড্রেস কেনার চেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো বেশী জরুরি।’

তার এই চিন্তার প্রশংসা করেছেন ডিসি শাহিদা সুলতানা।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশী হয়েছি যে একজন শিক্ষার্থী তার আনন্দের টাকা সিলেটের বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দিয়েছে। আমি বিত্তবানসহ সবস্তরের মানুষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি যে আসুন আমার যার যার অবস্থান অনুযায়ী বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের বন্যার জন্য দায়ী কিশোরগঞ্জের সড়ক: বিএনপি
ডাকাতি ঠেকাতে কঠোর পুলিশ: সুনামগঞ্জে ডিআইজি
বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর তথ্য চায় মাউশি
হবিগঞ্জের নতুন এলাকা প্লাবিত
জামালপুরে পানিবন্দি ৭০ হাজার মানুষ

মন্তব্য

তারুণ্য
Rousseau 14 from MIT Harvard Stamford

১৪ বছরের রুশোর এমআইটি, হার্ভার্ড, স্টামফোর্ডের সনদ

১৪ বছরের রুশোর এমআইটি, হার্ভার্ড, স্টামফোর্ডের সনদ রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী মাহির আলী রুশো। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মনিপুর হাইস্কুলের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী রুশো। রুশোর এমন সব আগ্রহ দেখে উচ্ছ্বসিত তার বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষকরা। তারা চান, রুশোর প্রতিভার আরও বিকাশ হোক দেশ থেকে সারা বিশ্বে।

বয়স মাত্র ১৪। এই বয়সেই জটিল সব গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রুশো। সমাধান করছে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সব অঙ্ক ও বিজ্ঞানের নানা সূত্র। এই কিশোরের পুরো নাম মাহির আলি রুশো।

বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি কোর্স করে সনদ অর্জন করেছে রুশো। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ ও যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি অন্যতম।

রাজধানীর মনিপুর হাইস্কুলের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী রুশো। রুশোর এমন সব আগ্রহ দেখে উচ্ছ্বসিত তার বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষকরা। তারা চান, রুশোর প্রতিভার আরও বিকাশ হোক দেশ থেকে সারা বিশ্বে।

রুশোর বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক। ছেলের ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান আর গণিতের প্রতি ঝোঁক দেখে কিছুটা অবাক হয়েছেন। প্রথম দিকে নিজেরাও বিশ্বাস করতে চাননি। কিন্তু যখন দেখলেন, একের পর এক জটিল এবং উচ্চপর্যায়ের গাণিতিক সমস্যার সমাধান করছেন, তখন তারা ছেলের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে তার হাতে তুলে দিতে থাকেন বইপত্র। তারা চান, ছেলে যা করছে, সেটা করুক একদম জেনে-বুঝে, মানে জানাশোনায় যেন কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।

তার বাবা সেন্ট্রাল মেডিক্যাল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সে যখন ক্লাস ফাইভে পড়ে, তখন থেকেই তার বিজ্ঞানের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল। সে সময় আমার একটা ল্যাপটপ ছিল, সেটাও খুব বেশি ভালো ছিল না। কিন্তু একটা পর্যায়ে আমি খেয়াল করি, সে আমার ল্যাটপটে ভিডিও দেখছে। এসব ভিডিও ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথের ভিডিও। আর সবগুলোই তার চেয়ে অনেক আপার লেভেলের।’

তিনি বলেন, ‘এরপর আমি একদিন তাকে ডেকে নিয়ে বলি, বাবা তুমি যেসব ভিডিও দেখো সেসব কি তুমি বুঝো, নাকি শুধু দেখো? তার উত্তর ছিল- বাবা আমি এসবই বুঝি।

‘তারপর তার সঙ্গে কয়েকদিন আমি নিয়মিত কথা বলি। দেখলাম আসলেই সে বোঝে।’

সে সময় রুশো তার বাবা-মায়ের কাছে একটি আবদার করে বসে। সে প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা ইউটিউবে ভিডিও দেখতে চায়। প্রথমে বাবা-মা এতো সময় ভিডিও দেখায় কিছুটা আপত্তি করলেও পরে শর্ত দেয় যে, প্রতিদিনের পড়াটুকু ঠিকভাবে সেরে সকালে এক ঘণ্টা এবং রাতে এক ঘণ্টা করে ইউটিউব দেখতে পারবে।

তাতেই রাজি হয় রুশো। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘তার বয়স যখন ১১ বছর, তখন সে ক্যালকুলাস এবং জ্যামিতিক বিভিন্ন সমাধান রপ্ত করে ফেলে। ১২ বছর বয়সে কলেজ পর্যায়ের গণিত ও ফিজিক্স অনায়াসে করতে পারতো।’

এই জানাশোনার বিষয়টা আরও বেড়ে যায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় স্কুল বন্ধ হলে। তখন অনেক বেশি সময় রুশো বিজ্ঞানের এসব বিষয়ে জানতে ব্যয় করতে থাকে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে সে অনলাইনে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত, ক্যালকুলাস, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বিষয়ে অসংখ্য অনলাইন কোর্সে অংশ নেয়।

তার মধ্যেই অনলাইনে ‘সেন্ট জোসেফ ন্যাশনাল পাই অলিম্পিয়াড’ সম্পর্কে জানতে পেরে এতে অংশ নেয় রুশো এবং হয়ে যায় চ্যাম্পিয়ন।

পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনলাইন কোর্সে অংশ নিতে থাকে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করেছে রুশো। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ অন্যতম।

রুশোর মা চিকিৎসক রুমা আক্তার বলেন, ‘তাকে অনেক ছোটবেলা থেকেই দেখেছি পড়ালেখার প্রতি ভীষণ ঝোঁক। আমার জন্য যখন কোনো বই কিনেছি, তখন তার জন্যও আমি কিনেছি বই। আসলে সন্তানকে বুঝতে হবে। সে কি চায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় তার চাওয়ার থেকে আমাদের চাওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিই, যা তাদের বিকাশকে বাধা দেয়।’

কিশোর মাহির আলি রুশো তার অর্জনে গর্বিত। তার কাছে মনে হয়, সায়েন্স আসলে ভয়েস অফ গড, যার নেতৃত্বে থাকে ফিজিক্স। আর এর মূলে রয়েছে ম্যাথ। যা জানার কোনো বিকল্প নেই।

রুশো জানায়, সে আসলে কোনো কিছু কীভাবে, কেমন করে হচ্ছে সেটা জানতে চেয়েছে। আর এর জন্য অবশ্য পড়োশোনা করা এবং জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

রুশো বলে, ‘কেউ কাউকে শেখাতে পারে না। নিজে থেকে শিখতে হয়। আমাদের সবসময় অ্যাকাডেমিক বইয়ের বাইরে পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। কেননা আমরা নিজের বই তো পড়বোই, তার বাইরে সেটা কেন হচ্ছে সেটা জানতে অন্য বইও পড়ব। আমরা আসলে যা পড়ি সেটা খুব শর্টকাট। সেখানে গভীরভাবে কোনো কিছু দেখানো হয় না। তাই সেটা জানতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই।’

বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অর্জন

রুশো দেশ এবং দেশের বাইরের অসংখ্য প্রতিযোগিতা ও অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ওপেন কনটেস্ট অলিম্পিয়াডে রুশো প্রতিযোগিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারদের সঙ্গে।

বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্স অলিম্পিয়াড, বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড, জামাল নাল কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড চ্যাম্পিয়ন এবং জামাল নাক্রল জ্যোতির্বিদ্যা উৎসব, ন্যাশনাল সাইবার অলিম্পিয়াড, বাংলাদেশ জ্যোতির্বিদ্যা অলিম্পিয়াডসহ অসংখ্য প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিকভাবে বিজয়ী হয়েছে রুশো।

এ ছাড়া বাংলাদেশ আইকিউ অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন এবং ভারতের সিপিএস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান সংগঠন থেকে গুগল-আইটি অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন পদক পেয়েছে।

এ ছাড়াও রুশো জিতেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অলিপিয়াড ও প্রতিযোগিতা। রুশোর অর্জন সম্পর্কে জানা যাবে https://rusho.org/ এই ঠিকানায়।

আরও পড়ুন:
পশ্চিমে ইসলামফোবিয়ার পর এবার ‘রুশোফোবিয়া’

মন্তব্য

p
উপরে