× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

তারুণ্য
30 students in the third round of Seeds for the Future
hear-news
player
print-icon

সিডস ফর দ্য ফিউচারের তৃতীয় রাউন্ডে ৩০ শিক্ষার্থী

সিডস-ফর-দ্য-ফিউচারের-তৃতীয়-রাউন্ডে-৩০-শিক্ষার্থী
সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামটি ১৩৭টি দেশে চালু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিকভাবে প্রতিযোগিতায় এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেখান থেকে তৃতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত ৩০ জনের দক্ষতা, পরীক্ষা, প্রকল্প ও প্রেজেন্টেশেন দক্ষতা রপ্ত করার ওপর জোর দেয়া হবে।

বহুজাতিক নেটওয়ার্কিং ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানি হুয়াওয়ে আয়োজিত সিডস ফর দ্য ফিউচার বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার তৃতীয় রাউন্ডে অংশ নেবেন ৩০ শিক্ষার্থী।

সিজিপিএ, অ্যাকাডেমিক জ্ঞান, সৃজনশীলতা বা প্রকল্প আইডিয়া এবং ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তাদের এ রাউন্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

হুয়াওয়ের কর্মকর্তা, প্রজেক্ট ম্যানেজার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারক প্যানেল দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেয়া ২০০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে থেকে তৃতীয় রাউন্ডের জন্য এ ৩০ শিক্ষার্থীকে বেছে নেন।

প্রাথমিকভাবে এই প্রতিযোগিতায় এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেখান থেকে তৃতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত ৩০ জনের দক্ষতা, পরীক্ষা, প্রকল্প ও প্রেজেন্টেশেন দক্ষতা রপ্ত করার ওপর জোর দেয়া হবে।

‘মিট দ্য মেন্টর’ শীর্ষক প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। তৃতীয় রাউন্ডের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নয়জন সেরা শিক্ষার্থী থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় রিজিয়নাল রাউন্ডে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। রিজিয়নাল রাউন্ডের বিজয়ীরা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় ‘টেক ফর গুড অ্যাকসেলেরেটর’ ক্যাম্পে অংশ নেবেন।

এ নিয়ে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান ইউইং কার্ল বলেন, “নয় বছর আগে হুয়াওয়ে বাংলাদেশে ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ (এসএফটিএফ) প্রোগ্রামটি চালু করে। প্রতিবারই আমরা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি। এই বছর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা চমৎকার।

“আইসিটি খাত রূপান্তরের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এই স্বপ্নপূরণে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মেধাবী এসব তরুণদের মধ্যে যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে, তা দেখে আমি বেশ আশাবাদী। আমাদের এ প্রোগ্রামটি দেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ প্রোগ্রামটি দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এসএফটিএফের পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীরা অনেক কিছু শিখবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।”

৩০ শিক্ষার্থী কারা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তাকি ইয়াশির, এলিন রঞ্জন দাস ও গোলাম মাহমুদ সামদানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহাদ সারোয়ার, শাদমিন সুলতানা, মো. আশিকুজ্জামান কৌশিক ও নাফিসা আমিন হৃদি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সুনন্দা দাস ও মো. সাজেদুর রহমান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মনোয়ারা নাজনীন, ফারহানা আমিন, মাদিহা বিনতে জাকির, মেহেরীন তাবাসসুম ও মো. মাশরুর সাকিব, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির (আইইউটি) ওয়াসিফা রহমান রেশমি, আনিকা রেহনুমা, মো. সুমিত হাসান, ফাইরুজ শাইআরা ও মো. সাজিদ আলতাফ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মাফরুজা মাহরিন নেহা, সাদ মাহবুব চৌধুরী ও মারজিয়া তাবাসসুম প্রীতি, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এইউএসটি) আব্দুল্লাহ সালেহ ও আবু মো. ফুয়াদ, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুমাইয়া আবুল কালাম ও মোহাম্মদ ইফতেখার ইবনে জালাল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সায়েম সাদাত হোসাইন, লাজিব শারার শায়ক, মোহসীনা তাজ ও আংকিতা কুণ্ডু।

বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে সামগ্রিক আইসিটি ইকোসিস্টেম বিকাশে অবদান রাখতে চায় হুয়াওয়ে। তাদের ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ উদ্যোগটি বৈশ্বিকভাবে ২০০৮ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হয়।

এখন পর্যন্ত এ প্রোগ্রামটি ১৩৭টি দেশে চালু হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী ও ৫ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এ উদ্যোগের সুবিধা ভোগ করেছে।

আরও পড়ুন:
এশিয়া প্যাসিফিকে ভালো অবস্থানে হুয়াওয়ে ক্লাউড
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার
দেশে এলো হুয়াওয়ে নতুন মেটবুক
বাংলাদেশে উন্নত ক্লাউড সেবা দেবে হুয়াওয়ে
উন্নত কনফিগারেশনে হুয়াওয়ে মেটবুক এক্স প্রো

মন্তব্য

তারুণ্য
Mayor Atiq wants a radical change in traffic management

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন চান মেয়র আতিক

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন চান মেয়র আতিক ঢাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের কোন রাস্তা একমুখী হবে, কোনটি দ্বিমুখী হবে, তা গবেষণা করে ঠিক করতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা করতে পেরেছে। আমাদেরও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন চান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। এ জন্য তিনি বাস্তবসম্মত গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

রাজধানীতে শনিবার দুপুরে এক সেমিনারে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ ‘নগরে নিম্নবিত্তের আবাসন-বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন চান মেয়র আতিক
‘নগরে নিম্নবিত্তের আবাসন-বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান অতিথি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নত দেশের শহরগুলোর মতো ঢাকায় কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বাস্তবসম্মত গবেষণার এখনই সময়।

‘শহরের কোন রাস্তা একমুখী হবে, কোনটি দ্বিমুখী হবে, তা গবেষণা করে ঠিক করতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা করতে পেরেছে। আমাদেরও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘ঢাকায় নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০৫০ সালে দেশের ৭০ শতাংশ লোক শহরে চলে আসবে। এই বিপুল মানুষের পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়ন করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নিম্নবিত্তের আবাসনের জন্য যে ধরনের প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে, তা আমরা পাইলটিংয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব। প্রথমে আমরা বিহারি পল্লিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সব অভিবাসীর গন্তব্যস্থান হয়ে গেছে ঢাকা শহর। যুগ যুগ ধরে এই ঢাকা শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হাউজিং সোসাইটিগুলো তাদের আবাসন প্রকল্প সম্পন্ন করছে না। আমি রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে অনুরোধ করছি অপরিকল্পিতভাবে যেন আর আবাসন প্রকল্প গড়ে না ওঠে সেটি তদারক করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে যেন কোনো দালান নির্মাণ না করা হয়।’

ডিএনসিসি মেয়র বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের একটি ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রাসাদ মজুমদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল জাব্বার খান এবং পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব মামুন আল রশীদ। সেমিনারে আলোচনা করেন রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম এবং প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম।

আরও পড়ুন:
নববর্ষে মেয়র আতিকের উপহার পার্ক ও মাঠ
তীব্র যানজটের জন্য দায়ী সমন্বয়হীনতা: মেয়র আতিক
কল্যাণপুর বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫৭ পরিবারকে মেয়রের সহায়তা
ডিএনসিসির অভিযানে লাখ টাকা জরিমানা
ডিএনসিসিতে গাছ লাগাতে চায় আসিয়ানভুক্ত ৮ দেশ

মন্তব্য

তারুণ্য
Why are there so many security restrictions in the procession?

শোভাযাত্রায় এত ‘নিরাপত্তার কড়াকড়ি’ কেন

শোভাযাত্রায় এত ‘নিরাপত্তার কড়াকড়ি’ কেন মঙ্গল শোভাযাত্রার সামনে-পেছনে ও দুই পাশে ছিল পুলিশের উপস্থিতি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হুমকি ছিল। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছিল। এ ছাড়া পুলিশের নিজস্ব নজরদারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ধর্মীয় চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়।

সবার সামনে র‌্যাবের মোটরসাইকেলের বহর। তাদের পেছনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর পুলিশের সোয়াট টিম, তাদের পরের সারিতে ডিবি পুলিশের একটি দল। তাদের পেছনে পুলিশের আরেকটি দল। এরপর স্কাউট-বিএনসিসির একটি দল। তার পেছনে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রার শেষাংশেও পুলিশ ও গোয়েন্দাদের উপস্থিতি।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে যখন মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়, তখন শোভাযাত্রার মিছিলটি ছিল নিরাপত্তার বেষ্টনীময়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বেষ্টনীর মধ্যে মূল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া সাধারণ মানুষ প্রায় ঢাকা পড়ার জোগাড়।

কয়েক বছর ধরেই পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় এ রকম কড়া নিরাপত্তার আয়োজন চোখে পড়ছে। বিষয়টিকে অনেকে ‘দৃষ্টিকটূ’ ও ‘বাড়াবাড়ি’ বলে সমালোচনা করছেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পয়লা বৈশাখ রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রসরোবর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি জনবল নিযুক্ত ছিল।

সকালের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার সামনে-পেছনে ও দুই পাশে পুলিশের এই উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ে।

নিরাপত্তাকাজে পুলিশের উপস্থিতিকে ‘বাড়াবাড়ি’ বলে উল্লেখ করেছেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই এই বাড়াবাড়িটা চলছে। আপনি অনেক দূর থেকে চেক করে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। জায়গায় জায়গায় সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালাচ্ছেন, তার পরও শোভাযাত্রায় এত পুলিশ কেন? সামনে সারি সারি পুলিশ রেখেছে, কিন্তু পাশে ও পেছনে ফাঁকা। আর এভাবে নিরাপত্তার নামে বাড়াবাড়ির মধ্যে শোভাযাত্রা হয় না।’

তবে এতকিছুর মধ্যে শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন নিসার হোসেন। তিনি বলেন, ‘একে তো রমজান, তার মধ্যে এই নিরাপত্তার ইস্যু। এর মধ্যে যে এত মানুষ অংশ নেবে, এটা আমাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। এভাবে নয়।’

সরেজমিন দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্ষবরণের শোভাযাত্রায় যারা অংশ নিতে চেয়েছেন, সবাই তা পেরেছেন। শুধু যাত্রা শুরুর পর মাঝখান থেকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি, যা কয়েক বছর ধরেই করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হুমকি ছিল। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছিল। এ ছাড়া পুলিশের নিজস্ব নজরদারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ধর্মীয় চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে শুধু মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়, বর্ষবরণের পুরো আয়োজন ঘিরেই ছিল বাড়তি নিরাপত্তা।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অনুষ্ঠানস্থলগুলো ঘিরে মোতায়েন ছিল। মঙ্গল শোভাযাত্রাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু অন্যান্যবার শোভাযাত্রায় যেসংখ্যক জনসমাগম হয়, এবার রমজানের কারণে কম হয়েছে। এ কারণে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বেশি চোখে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কোনো ছাড় দিতে চাইনি। যে কারণে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ছিল।’

এবারের বর্ষবরণে স্থলপথের পাশাপাশি আকাশ ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক টহল রাখা হয়েছিল।

বর্ষবরণের অনুষ্ঠান ঘিরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে কেউ যেন নাশকতা চালাতে না পারে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়।

বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কারণ জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ১২ এপ্রিল এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ‘২০০১ সালকে মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হচ্ছে। রিসেন্টলি কিছু বন্ধুরাষ্ট্র জঙ্গিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ দিচ্ছে।

‘উপমহাদেশে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু রেডিক্যালাইজড সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করছি। সে কারণেই আমাদের বাড়তি নিরাপত্তা।’

আরও পড়ুন:
বুয়েটে বৈশাখী আল্পনায় মুগ্ধতা
যেসব দেশে পালিত হয় ‘নওরোজ’
মঙ্গল শোভাযাত্রায় ‘দেশাত্মবোধক গান’-এর পেছনে কী?
বর্ষবরণের উৎসবে ফিরেছে প্রাণের উচ্ছ্বাস
রবীন্দ্রসরোবরে বৈশাখী সরবতা

মন্তব্য

তারুণ্য
NSU students flash mob is the color of youth

এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মবে তারুণ্যের রং

এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মবে তারুণ্যের রং এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মব ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
৬ মিনিটের একটু বেশি দৈর্ঘ্যের ফ্ল্যাশ মবটির আয়োজন করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেমা অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব; সংক্ষেপে যাকে বলে এনএসইউসিডিসি। ২৫ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ক্লাবটি।

একদল তরুণ-তরুণীর নান্দনিক নাচের তালে মুগ্ধ ফেসবুক। শিল্পীদের ঘিরে থাকা হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্ছ্বাসও মন ছুঁয়ে গেছে সবার।

ফেসবুকে ভাইরাল ভিডিওটি মাত্র তিন দিনে দেখেছেন ১৭ লাখের বেশি মানুষ। সবার ভালোবাসা পাওয়া এই তরুণ-তরুণীর সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) শিক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার সচল হওয়ার দিনটি উদযাপনে তাদের আয়োজিত ফ্ল্যাশ মব অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে।

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৫ মার্চ পুরোদমে খুলে দেয়া হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্দিদশা থেকে মুক্তি উদযাপনে ওই দিনই মেতে ওঠে এনএসইউর তরুণ প্রাণ। ফ্ল্যাশ মবের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান সবাইকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়েছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে জানিয়েছেন ভালো লাগার কথা।

এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মবে তারুণ্যের রং

কীভাবে হলো এ আয়োজন- সে কথাই নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

৬ মিনিটের একটু বেশি দৈর্ঘ্যের ফ্ল্যাশ মবটির আয়োজন করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেমা অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব; সংক্ষেপে যাকে বলে এনএসইউসিডিসি। ২৫ বছর ধরে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ক্লাবটি।

ক্লাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমির হামযা। তিন মাস ধরে এ দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। আয়োজনটির পেছনের গল্পটি নিউজবাংলাকে বলেন তিনি।

আমির হামযা বলেন, ‘এনএসইউতে ২০টির ওপর ক্লাব আছে। সবাই তাদের ইভেন্ট করে ক্যাম্পাসে। আমাদের একটা আপকামিং ইভেন্টের প্রমোশনের জন্য ফ্ল্যাশ মব করার পরিকল্পনা করেছিলাম। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কথা বলি ক্লাবের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার প্রিয়াঙ্কা নাথ ম্যাডামের সঙ্গে।

‘তিনি আমাদের পরামর্শ দেন, ১৫ মার্চ যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে, ওই দিন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে আমরা যেন একটি আয়োজন করি। তখন ম্যাডামের পরামর্শে ফ্ল্যাশ মবটি আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতেই আয়োজনের পরিকল্পনা করি।’

এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মবে তারুণ্যের রং

আমির হামযা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামীর সঙ্গে বিষয়টির ব্যাপারে কথা বলে চূড়ান্ত অনুমতি নিয়ে কাজে লেগে পড়েন ক্লাবের সদস্যরা।

শুরু হয় রিহার্সেল পর্ব। আমির হামযা বলেন, ‘আমরা ৫ মার্চ থেকে রিহার্সেল শুরু করি। করোনার ডাবল ডোজ ভ্যাকসিনেটেড শিক্ষার্থীদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলত আমাদের রিহার্সেল।’

ক্লাবে সক্রিয় প্রায় ২০০ সদস্যের মধ্যে ফ্ল্যাশ মবটিতে পারফর্ম করেছেন ৫০ থেকে ৫৫ জন। এর পেছনে কাজ করেছেন আরও ২০-২২ জনের মতো।

আয়োজনটি সবার সামনে উপস্থাপন করা হয় ১৫ মার্চ দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে বেলা ১টার মধ্যে। কারণ এই সময়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস থাকে না। সব শিক্ষার্থী এ সময় ক্লাসের বাইরে থাকেন।

এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মবে তারুণ্যের রং

আয়োজন শুরু হয় দুই বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার একটি সংলাপ দিয়ে। এরপর ‘ইস্কুল খুইলাছেরে মওলা’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় ফ্ল্যাশ মব। ‘সুন্দরী কমলা নাচে’, ‘নাসেক নাসেক’ গানের পর ফ্ল্যাশ মব শেষ হয় ‘চলো সবাই’ গানটি দিয়ে।

গান নির্বাচনের ব্যাপারে আমির হামযা বলেন, ‘অনেকেরই ধারণা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছু জানে না এবং তারা এর চর্চাও করে না। এ ধারণাটি ভাঙতেই আমরা আমাদের আয়োজনে আধুনিক বাংলা গানের ব্যবহার রেখেছি।’

এনএসইউ শিক্ষার্থীদের ফ্ল্যাশ মবে তারুণ্যের রং

তিনি বলেন, “আমরা ‘নাসেক নাসেক’ গানটিও রেখেছি। এর কারণ হলো, গানটি তো হাজং ভাষার এবং এটি আমাদের একটি উপভাষা। এ ভাষাটিকে আমাদের আয়োজনের মাধ্যমে সম্মান জানাতেই এ প্রয়াস।”

শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি সিডিসিকে। হামযা জানান, চেক করার জন্য একটু সাউন্ড বাজতেই সবাই একত্রিত হয় পরিবেশন স্থলে।

আয়োজনটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. ইসমাইল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ বি এম রাশেদুল হাসান প্রশংসা করেছেন বলে জানান সিডিসির প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘কয়েকজনের নাম না বললেই না। আয়োজনের কোরিওগ্রাফি করেছেন হৃদি, রিয়াজ, রিফাত। অনুশীলন কক্ষে তদারকি করেছেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব মিত্র, সহ-সভাপতি শরিফ আরাফাত ও কোষাধ্যক্ষ উম্মে হাবিবা জেবিন। জনসংযোগের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক নাসিফ বিন হাসনাত।’

আরও পড়ুন:
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’র জয়া
ঢাকার রাস্তায় ‘ব্যালেরিনা’
আমাদের সেই সন্তান যেভাবে পেল প্রাণবন্ত জীবন
নাচের মুদ্রার স্রষ্টাদের জানান ভালোবাসা
রাজনীতি-অপরাজনীতি ও তারুণ্য

মন্তব্য

তারুণ্য
Obscene debates surrounding the Radhag festival dance in JU

জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক

জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক এই নাচটি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিতর্ক চলছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম আবর্তনের র‍্যাগ উপলক্ষে মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষার্থীর নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই নাচে অশালীনতার অভিযোগ তুলছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে আরেক অংশের দাবি, অশ্লীলতার অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক।   

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২তম আবর্তনে (ব্যাচ) র‌্যাগের আয়োজন নিয়ে চলছে তুমুল তর্কবিতর্ক। ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিতর্কে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের নৃত্যানুষ্ঠানে অশালীনতার অভিযোগ তুলছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাংস্কৃতিক মান’ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

তবে এর বিরোধিতা করে আরেকটি অংশ বলছে, বিতর্ক ছড়ানো হচ্ছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে। একটি সাধারণ নাচকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মানসিক সংকীর্ণতার পরিচয় দেয়া হচ্ছে বলেও তাদের অভিযোগ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম আবর্তনে র‌্যাগের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানে একটি হিন্দি গানের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মূল পরিবেশনাটি একটি হিন্দি গানের সঙ্গে হলেও পরে সেটি একটি বাংলা গানের সঙ্গে যুক্ত করেও প্রচার হচ্ছে।

ট্যাঙ্গো নাচের ভঙ্গিমায় এই নৃত্যায়োজনে নারী শিক্ষার্থীর পোশাক ও ধারণ করা ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। ভিডিওতে দেখা যায়, যুগল নাচে নারী শিক্ষার্থীর পরনে ছিল ফ্রক ও স্কিন কালার টাইটস।

জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক

এ ধরনের আয়োজনে চরম ক্ষুব্ধ ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মারুফ মল্লিক। ২৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মারুফ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে রুচিশীলতার চরম অধঃপতন ঘটছে। এটা শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবার জন্যই প্রযোজ্য। যে ভাষায় এখন শিক্ষার্থীরা কথা বলে, আনন্দ প্রকাশ করে বা শিক্ষকদের যেসব কীর্তির কথা শুনি তা স্পষ্টতই মানসিক বিকারগ্রস্ততার প্রমাণ।’

মারুফ মল্লিক বলেন, ‘অনলাইনে সরাসরি র‌্যাগ উৎসব দেখলাম। মান দেখে আমি খুবই আহত হইছি। আমরাও র‌্যাগ করছি। আমাদের সময় নানা ধরনের সংকট ছিল। কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মান বজায় রাখতে।’

‘গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন উপলক্ষে যা দেখছি তা খুবই হতাশাজনক। একটা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে জাবিয়ানদের কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। অশ্লীলতা, মানহীন কথোপকখন কখনই আনন্দ প্রকাশের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না।’

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মাজেদ সীমান্ত লিখেছেন, ‘র‍্যাগের প্রোগ্রামে অনেকগুলো সিঙ্গেল, কাপল, দলীয় নাচ হয়েছে। ভিডিওতে দেখলাম, বেশ সুন্দর হয়েছে। যে নাচটা নিয়ে কথা উঠেছে সব জায়গায় সেখানে নিশ্চয় সমস্যা হয়েছে বলেই কথা উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা হবে সেটাই স্বাভাবিক। ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে যেটা অপসংস্কৃতি/অশ্লীল সেটা আপনাদের ১০ জনের কাছে শ্লীল হইলেই হয়ে যাবে কি?’

৪৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আখলাক হোসেন লিখেছেন, ‘৭টা বছর ক্যাম্পাসে আছি, ১০ তারিখ রাতের মতো নোংরা আর সস্তা কন্টেন্টের প্রোগ্রাম দেখি নাই। ৪২ ব্যাচের বড় ভাই আপুরা সেরা, আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যাচ। কিন্তু যেই স্ট্যান্ডার্ডের প্রোগ্রাম তারা ডেলিভার করলেন, তা পরবর্তী প্রোগ্রামগুলোর জন্য হুমকিই বলবো। সেক্সুয়াল কন্টেন্ট আর্ট হতেই পারে। কিন্তু সেটা যদি সেভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় তবেই এ রকম একটা মঞ্চে মঞ্চস্থ হতে পারে। আপনারা যা করলেন ভাই, তা আর্ট ও হয় নাই, সেক্স ও হয় নাই। মানে কোনো দিক দিয়ে এটা মজারও ছিলো না আবার **** সুরসুরিও দেয় নাই।’

তবে ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের আয়োজনকে সমর্থন করেও ফেসবুকে ঝড় তুলেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ।

জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাজু নুরুল লিখেছেন, ‘ধরেন, জাহাঙ্গীরনগরের মুক্তমঞ্চে ওখানকার ছেলেমেয়েরা না, নাচছে ভারতের নোরা ফাতেহী। আবার এইটা বইলেন না যে, নোরা ফাতেহীকে চিনেন না! টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা। আজ সেই একই মুক্তমঞ্চে কি তিল ধারনের জায়গা থাকতো? বুকে হাত দিয়া বলেন তো? সিনিয়র থেকে জুনিয়র - পারলে কিডনি বেচে হলেও মুক্তমঞ্চের সিট বুকিং দিতে ঝাপাইয়া পড়তো না?

‘তাইলে কি দাঁড়াইলো ব্যাপারটা? নোরা ফাতেহী ভারত থেকে আইসা কয়েক কোটি টাকা সম্মানি নিয়ে, মোটামুটি প্রেসিডেন্ট লেভেলের নিরাপত্তা বেস্টনিতে থাইকা, প্রায় কিছু না পরে মুক্তমঞ্চে নাচতে পারবে, ওইটা আন্তর্জাতিক মানের হাই ক্লাস শিল্প, কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের রর‌্যাগে, ৪২ ব্যাচের ছাত্রী তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে স্কিন কালারের লেগিংস আর স্লিভলেস ফ্রক পইরা নাচতে পারবে না? সেই নাচ দেইখা আপনার নিচের দিকে ধুকুরপুকুর শুরু হয়ে যাবে? দেশের সংস্কৃতি রসাতলে চলে গেল বলে হায় হায় রব উঠে গেল? কামডা কি ঠিক হইলো বাবাজি?’

তিনি আরও লেখেন, ‘অথচ একই মঞ্চে কম পোশাক পরে একটা ছেলে যখন নাচছে, একটা ছেলে ঠিক না, অনেকগুলো ছেলে যখন নাচলো, ওদের মাসলড শরীরের উপরের দিকে প্রায় সামান্য পোশাক, ওইটা নিয়া আপনার কোনও আপত্তি নাই৷ তার মানে কি এইটা যে, সেক্স ব্যাপারটা শুধু ছেলেদের ডিপার্টমেন্ট? মেয়েরা সেক্সুয়ালি আপিলড হয় না? আর আপনি কিনা দাবি করছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন কিংবা পড়েছেন? স্যরি, নিতে পারলাম না ভাই। কারণ আপনার দাবিখানার সাথে মামুনুল হকদের দাবির যে সঙ্গতি খুঁজে পাচ্ছি আমি? ঠিক এইটাই ওনাদের দাবি না? বহুদিন ধইরা?’

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৩০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফারদীন ফেরদৌস লিখেছেন, ‘না দেখে বলতে পারছিলাম না। এখন দেখলাম। কোনো সমস্যা দেখছি না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ এর শিক্ষা সমাপনী উৎসব (র‌্যাগ) উপলক্ষে মুক্তমঞ্চে নাচ হয়েছে। নাচের মতোই নাচ হয়েছে। অবশ্যই নাচটি সমকালীন ও আনন্দকর হয়েছে। সংকীর্ণমনাদের কাছে কোনো নাচই ভালো ঠেকবে না।

‘কিন্তু তারা সবাই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ওই ড্যান্সটা দেখতেও থাকবে। ইউটিউব/ফেসবুকে সোরগোলও তুলবে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘৪২ এর ব্যাপারে আমাদের বাতুলতা খাটে না এইজন্য যে, ওরা ওদের জন্য শিল্পের পসরা সাজিয়েছিল। অন্যদের জন্য নয়। শিল্পের স্বরূপ লক্ষণ হলো আনন্দ। শিল্পবস্তু (কনটেন্ট) যাই হোক না কেন তা থেকে রস আহরণ করাই হল রসিকের কাজ-রসিকজনার বৃত্তি। আমরা যারা মুক্তমঞ্চের ড্যান্স থেকে অশান্তি কুড়াচ্ছি তারা রসিক তো নই-ই, শিল্পকর্মের রসোপলব্ধিতে সহৃদয় সামাজিক মানুষও নই।’

জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক

গণিত বিভাগের ৩৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী কৌশিক আজাদ প্রণয় লিখেছেন, ‘আশি বা নব্বই দশকের বাংলা মুভিকেও আমরা সুস্থ বিনোদন বলি। যদি একজন নায়ক ও নায়িকার নাচের দৃশ্যকে সহজভাবে নিতে পারি আর নন্দন সংস্কৃতির আধুনিকতা মানতে পারি, তাহলে এ রকম নন্দন শিল্পের প্রকাশকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নেতিবাচক ভাবে দেখার মানে কী?

‘৪২তম ব্যাচের র‍্যাগ উদযাপনে একটা নাচের দৃশ্য দেখলাম। যতদূর দেখলাম ছেলে মেয়ে দুজন তো খারাপ কোরিওগ্রাফি করেনি। আমি জানি না বাকি প্রোগ্রামের কী অবস্থা। যদি কোনো কথা বার্তা বা অন্য কিছুতে অশ্লীলতা থাকে তা সমর্থনযোগ্য নয়। তবে নাচের মূদ্রা বা পোশাককে এভাবে নেতিবাচকভাবে খুঁটিয়ে না দেখে ওদের নির্মাণশৈলীকে বাহবা দেয়া উচিত। আমাদের এই দুই চোখই কিন্তু একই গানে সেলুলয়েড স্ক্রিনে- স্যাটেলাইটে এইরকম কোরিওগ্রাফিকে নান্দনিকভাবেই গ্রহণ করে।’

যার ধারণ করা ভিডিও নিয়ে এত আলোচনা

মুক্তমঞ্চের নৃত্যানুষ্ঠানের আলোচিত ভিডিওটি ছড়িয়েছে একটি ফেসবুক লাইভ থেকে। লাইভটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম আবর্তনের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

জাহিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ৪২-এর অনেক বন্ধুরা চাকরি, দেশের বাইরে থাকার কারণে প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে পারেনি। তারা পুরো প্রোগ্রাম লাইভ করার জন্য রিকোয়েস্ট করেছিল। তাই আমি করেছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটি ভূঁইফোঁড় নিউজপোর্টাল উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার প্রোফাইল থেকে বিনা অনুমতিতে ভিডিওটির একটি অংশ কেটে নিয়ে সস্তা বি গ্রেডের বাংলা গান যুক্ত করে দেয়। সেই ভিডিওটি পরে ভাইরাল হয়।’

জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক

৪২তম আবর্তনের র‌্যাগ উৎসবের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক কমিটি ক্যাম্পাস ছাড়াও ক্যাম্পাসের বাইরের এবং দেশের বাইরের দর্শকদের কথা চিন্তা করে এমন আয়োজন করেছিল। আমাদের দর্শকরা মুক্তমঞ্চে পুরোটা সময়ই আগ্রহের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাদের প্রোগ্রামের নাচের একটি অংশ এডিট করে বিনা অনুমতিতে প্রচার করা হয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনিগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছি। তারা আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে।’

আলোচনার কেন্দ্রে থাকা শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ

যে নাচটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলছে তাতে অংশ নেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নিগার সুলতানা তৃষা ও চারুকলা বিভাগের আসিফ আল নূর রাতুল।

‘পেয়্যার কি ইয়ে কাহানি সুনো’ গানের সঙ্গে নাচে অংশ নেন তারা। এরপর ফেসবুকে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমালোচনা এবং অন্য গানের সঙ্গে ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনায় তৃষা বেশ ক্ষুব্ধ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রোগ্রাম নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে যারা ভিডিওটি ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

বিষয়টি নিয়ে ৪২ আবর্তনের ‘র‌্যাগ রাজা’ সিফাত আল রাব্বানি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নাচটি পরিবেশনের সময় এবং নাচ শেষ হওয়ার পর মুক্তমঞ্চের দর্শকরা কোনো ধরনের বাজে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এরপর ভিডিওটি যারা প্রকাশ করেছেন তারা ভিডিওটিতে কারসাজি করেছেন, এমনকি গানও পরিবর্তন করেছেন। এটি ক্যাম্পাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে একটি বাজে ভাইব তৈরি করেছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে এসবি সদস্য বরখাস্ত
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২৭ মার্চ থেকে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে যুবক কারাগারে
ফেসবুক থেকে আয় হারাল রুশ মিডিয়া
ফেসবুক-টুইটারকে দমাতে এলো ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’

মন্তব্য

p
উপরে