বাংলাদেশে নেটগিয়ারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন

player
বাংলাদেশে নেটগিয়ারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন

নেটগিয়ারের অনলাইন প্লাটফর্ম উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সৌজন্যে

গত কয়েক বছর থেকেই বাংলাদেশের বাজারে নেটগিয়ার তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং মূল্যবান সব সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেটগিয়ার অফিশিয়ালি তাদের অনলাইন রিটেইল ফ্ল্যাগশিপ স্টোর নেটগিয়ারস্টোর ডটকম ডটবিডি উন্মোচন করছে, যেখানে গ্রাহকরা সরাসরি নেটগিয়ার থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি অর্ডার করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ নেটওয়ার্কিং, স্টোরেজ এবং সিকিউরিটি সল্যুশন নেটগিয়ার বাংলাদেশে তাদের ফ্ল্যাগশিপ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নেটগিয়ারস্টোর ডটকম ডটবিডি উন্মোচন করেছে।

শনিবার রাজধানীর এক পাঁচতারা হোটেলে ঘোষণাটি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

সেখানে জানানো হয়, গত কয়েক বছর থেকেই বাংলাদেশের বাজারে নেটগিয়ার তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং মূল্যবান সব সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেটগিয়ার অফিশিয়ালি তাদের অনলাইন রিটেইল ফ্ল্যাগশিপ স্টোর নেটগিয়ারস্টোর ডটকম ডটবিডি উন্মোচন করছে, যেখানে গ্রাহকরা সরাসরি নেটগিয়ার থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্যটি অর্ডার করতে পারবেন।

এই ওয়েবসাইট থেকে গ্রাহকরা সহজেই পণ্যের মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন। সে জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমে ঘরে বসেই পাওয়া যাবে পণ্য; থাকছে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ক্রেডিট কার্ডে ইএমআই সুবিধা।

স্থানীয় অর্ডার সরবরাহ করবে কম্পিউটার সিটি টেকনোলজি লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে নেটগিয়ার পণ্যের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কম্পিউটার সিটি টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মো. শহীদ-উল-মনির।

অনলাইনে টেলিকনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হয়ে ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটির উদ্বোধন করেন নেটগিয়ারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সেলস ভিপি সাইমন সাং।

কম্পিউটার সিটি টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম নেটগিয়ার ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, এটিই প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর, যা বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য আইসিটি ব্র্যান্ডের দ্বারা সরাসরি পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা আজ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে গর্বিত। এই অনলাইন ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি গ্রাহকদের নেটগিয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে।’

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শহীদ-উল-মুনীর মানসম্পন্ন সেবা প্রদান এবং ব্যবহারকারীদের মসৃণ সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটির মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন সেবা দেয়া সহজ হলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘করোনা আমাদের জীবনব্যবস্থাকে আরো ১০ বছর এগিয়ে দিয়েছে। আমি আশা করি যে উন্নত পরিষেবা এবং ব্যবহারকারীর ইন্টার-অ্যাকশনের মাধ্যমে অনলাইন শপিংয়ের প্রতি তাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে।’

নেটগিয়ারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সেলস ভিপি সাইমন সাং বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে নেটগিয়ার পণ্যের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে পারায় এবং একটি প্ল্যাটফর্ম করে দিতে পেরে আনন্দিত।

‘আমাদের ই-কমার্স ফ্ল্যাগশিপ নেটগিয়ার স্টোরের মাধ্যমে গ্রাহকের মনের প্রশান্তি নিশ্চিত করতে চাই এবং নেটগিয়ারের অরিজিনাল পণ্য ওয়ারেন্টিসহ গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে চাই।’

নেটগিয়ারের ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং সার্ক অঞ্চলের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্তেশ নগেন্দ্র বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি ক্রমবর্ধমান দেশে নেটগিয়ার তার গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা চালানোর দিকে মনোনিবেশ করতে পারছে।

‘নেটগিয়ার ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করায় আমাদের গ্রাহকদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে, তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে, বুঝতে এবং তাদের জন্য মূল্যবান পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হব আমরা।’

প্রিসেলস ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং সার্ক অঞ্চলের সিনিয়র ম্যানেজার মানব মল্লিক প্রত্যাশা করেন, এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের মাধ্যমে গ্রাহকরা আরও ভালো সাপোর্ট ও বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন।

তিনি বলেন, ‘ফ্ল্যাগশিপ নেটগিয়ার স্টোর চালু করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের গ্রাহকদের আরও বেশি সাপোর্ট দিতে ও বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে চাই। নেটগিয়ার পণ্যগুলো সম্পর্কে আরও বেশি করে বুঝতে ও পছন্দ করার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে। সবকিছু মিলিয়ে এটি গ্রাহকদের জন্য আরও বিক্রয়োত্তর সেবাকে সহজ করে তুলবে।’

সাউথ ইন্ডিয়া এবং সার্ক অঞ্চলের সিনিয়র ম্যানেজার আন্নামালাই এআর নেটগিয়ারের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উন্মোচনকে গেইম চেঞ্জার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নেটগিয়ারের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উন্মোচন মানে এই অঞ্চলে আমাদের ব্যবসার আরেকটি অগ্রণী পদক্ষেপ। গত কয়েক বছর থেকেই এখানে বাজার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য তাদের প্রয়োজন বুঝেই সরাসরি যোগাযোগ রাখতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি সেটি সক্ষম করে তুলবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরার ফাইভজি ফোন আনল ভিভো

৫০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরার ফাইভজি ফোন আনল ভিভো

ভিভোর নতুন ফোন উন্মোচনে অতিথিরা।

কালার চেঞ্জিং প্রযুক্তি থাকলেও সাধারণ অবস্থায় ভিভো ভি২৩ ৫জি মিলবে দুটি রঙে। স্টারডাস্ট ব্ল্যাক এবং সানসাইন গোল্ড। স্মার্টফোনটির দাম ৩৯ হাজার ৯৯০ টাকা।

সেলফিপ্রেমীদের জন্য বছরের শুরুতেই নতুন ফোন এনেছে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির নতুন ফোনটিতে সামনে দেয়া হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

বাজারে আনা ফাইভজি ডিভাইসটি ভিভো ভি২৩ ৫জি।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্মার্টফোনটির উদ্বোধন করে ভিভো। ক্রেতারা ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্মার্টফোনটির প্রি-বুকিং দিতে পারবেন; ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে পাওয়া যাবে ডিভাইসটি।

কালার চেঞ্জিং বডি ছাড়াও স্মার্টফোনটির বড় আকর্ষণ ৫০ মেগাপিক্সেল অটোফোকাস (এএফ) পোট্রেট সেলফি প্রযুক্তি।

ভিভো ভি২৩ ফাইভজি মডেলটিতে আছে ৮ জিবি র‌্যাম এবং ১২৮ জিবি রম। ৪২০০ এমএএইচ ব্যাটারির স্মার্টফোনটিতে আছে ৪৪ ওয়াটের ফ্ল্যাশ চার্জিং প্রযুক্তি।

ভিভো ভি২৩ ৫জি স্মার্টফোনের ফিচারে রয়েছে ফোর-কে সেলফি ভিডিওর সুবিধা। ফোনটির ৬৪ মেগাপিক্সেলের ট্রিপল ক্যামেরার সঙ্গে রয়েছে একটি ৮ মেগাপিক্সেল ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা এবং একটি ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো ক্যামেরা।

ফাস্ট অ্যাপ স্টার্টআপ, ইন্সটলেশন স্পিড এবং ডুয়াল মোড ফাইভজি স্ট্যান্ডবাইয়ের প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স দিতে ভি২৩ ফাইভজিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯২০ প্রসেসর।

ভিভো বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (পিআর) রিয়াসাত আহমেদ বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে যারা পছন্দ করে ভিভো সব সময়ই তাদের জন্য সেরা অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে। ভিভো ভি২৩ ৫জি স্মার্টফোনটি ওজনে হালকা ও মার্জিত ডিজাইনে তৈরি যা ফ্যাশনেবল। দুর্দান্ত সেলফির অভিজ্ঞতা ও পোর্ট্রেট শটের জন্য ভি২৩ ফাইভজি ফোনটি সেরা।’

কালার চেঞ্জিং প্রযুক্তি থাকলেও সাধারণ অবস্থায় ভিভো ভি২৩ ৫জি মিলবে দুটি রঙে। স্টারডাস্ট ব্ল্যাক ও সানসাইন গোল্ড। স্মার্টফোনটির দাম ৩৯ হাজার ৯৯০ টাকা।

শেয়ার করুন

বিটকয়েনের মতো কারেন্সি আনছে ওয়ালমার্ট

বিটকয়েনের মতো কারেন্সি আনছে ওয়ালমার্ট

বিটকয়েন ও ইথারিয়ামের মতো নিজস্ব ব্লকচেইনের ক্রিপ্টোকারেন্সি আনছে ওয়ালমার্ট। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু নিজেরাই ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আসছে, তার মানে এটি খুব সম্ভব যে ওয়ালমার্ট তার স্টোরগুলোতে কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিটকয়েন অনুমোদন দিতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা পণ্য বেচাকেনার প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট সম্ভবত ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ননফাঞ্জিবল টোকেনে (এনএফটি) প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কিছু ট্রেডমার্ক ডকুমেন্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ব্লকচেইনের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো টোকেন নিয়ে আসবে না। সরাসরি বিটকয়েন ও ইথারিয়ামের মতো নিজস্ব ব্লকচেইনের ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আসবে।

যদি সত্যিই ওয়ালমার্ট ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলন শুরু করে, তাহলে মূলধারার কোম্পানিগুলোতে ক্রিপ্টো এডোপটেশন অনেকটা চূড়া থেকেই শুরু হবে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ালমার্ট মোট ৭টি ট্রেডমার্ক নিয়েছে। এ ট্রেডমার্ক আবেদনপত্রগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে ক্রিপ্টোর পাশাপাশি খুব শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি ভার্চুয়াল পণ্য হিসেবে অনলাইনে ননফাঞ্জিবল টোকেন বেচাকেনা শুরু করবে। যা তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কিনতে হবে। এ ছাড়া ওয়ালমার্ট বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোনির্ভর ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসও চালু করতে যাচ্ছে। যেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল টোকেন লেনদেন করা যাবে।

শুধু ক্রিপ্টো নয়, মেটাভার্সের জগতেও প্রবেশ করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জন্য ফিটনেস অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আসছে।

যদিও এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছুই প্রকাশ করেনি ওয়ালমার্ট।

প্রতিষ্ঠানটি সব সময় নতুনত্বকে গ্রহণ করে আসছে। তাই বিকাশমান প্রযুক্তি হিসেবে ব্লকচেইনকে ব্যবহার করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু নিজেরাই ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আসছে, তার মানে এটি খুব সম্ভব যে ওয়ালমার্ট তার স্টোরগুলোতে কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিটকয়েন অনুমোদন দিতে পারে।

শুধু ক্রিপ্টো নয়, কোম্পানিটি মেটাভার্সের জগতেও প্রবেশ করছে। তারা অগমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জন্য একটি ফিটনেস অ্যাপ নিয়ে আসছে।

শেয়ার করুন

আইটি সেবা রপ্তানিতে নগদ সহায়তা সহজ হলো

আইটি সেবা রপ্তানিতে নগদ সহায়তা সহজ হলো

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদন হতে হবে এবং যথাযথ ডকুমেন্ট থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ হাজার ডলারের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা (আইটিইএস) রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে সহায়তা প্রাপ্তিতে টেলি ট্রান্সফার (টিটি) বার্তার ভাষ্যে আমদানিসংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রের প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্ত পরিপালন করতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদন হতে হবে এবং যথাযথ ডকুমেন্ট থাকতে হবে।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মার্কেট প্লেসের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক শাখাকে সংশ্লিষ্ট ওয়েব লিংক সরবরাহ করবে।

একই সঙ্গে ব্যাংক শাখাকে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে সফটওয়্যার ও আইটিইএস রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে ওয়েব লিংকসহ তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে।

রপ্তানি আয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থের সপক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুতকৃত ইনভয়েস কনফার্মেশনগুলোর প্রিন্ট আউট আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিলসহ ওই দলিলাদি যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অডিট ট্রেইলের ওয়েব লিংক আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে।

সার্কুলার জারির তারিখ থেকে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে।

শেয়ার করুন

১৭ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ পেল ‘টেন মিনিট স্কুল’

১৭ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ পেল ‘টেন মিনিট স্কুল’

এই টাকা দিয়ে কী করবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে আয়মান সাদিক বলেন, ‘বিনিয়োগ পাওয়ার পরপরই আমি একটা লিস্ট করে ফেলেছি। সে অনুযায়ীই এখন নতুন সাজে সাজাব আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটিকে। এতদিন থ্রিডি ভিডিও বানাতে পারিনি। এখন সব কঠিন টপিকের থ্রিডি ভিডিও বানাব। সার্ভারের খরচের ভয়ে আমাদের অ্যাপে লাইভ ক্লাস না নিয়ে সব সময় ফেসবুক আর ইউটিউবে নিয়েছি। এখন আমাদের নিজেদের অ্যাপে লাইভ ক্লাসগুলো নেব। যেন স্বল্প ব্যান্ডউইডথেও আমাদের শিক্ষার্থীরা সহজেই ক্লাস করতে পারে।’

দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুল ১৭ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক এ বিনিয়োগ পেয়েছে। ভারতের সেকোয়া ক্যাপিটাল এই বিনিয়োগ করেছে। এ বিনিয়োগের বিপরীতে সেকোয়া ক্যাপিটাল টেন মিনিট স্কুলের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হবে।

বিশ্বের শীর্ষ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির একটি ভারতের সেকোয়া ক্যাপিটাল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের 'সার্জ' প্রোগ্রামের মাধ্যমে অনলাইনে জনপ্রিয় শিক্ষা প্ল্যাটফর্মটিতে এই বিনিয়োগ নিয়ে এসেছে বলে রোববার টেন মিনিট স্কুলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতদিন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টেন মিনিট স্কুল প্রকল্পভিত্তিক স্পনসরশিপে পরিচালিত হয়ে আসছিল। আর শুরু থেকে এটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দুই উদ্যোক্তা আয়মান সাদিক ও আবদুল্লাহ আবইয়াদ।

টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক আয়মান সাদিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ৬-৭ বছরে টেন মিনিট স্কুল বাদে আর কিছু নিয়ে চিন্তা করিনি আমি। অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় করা হয়ে ওঠেনি, কারণ টাকা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক পরিকল্পনা অর্ধেক রাস্তায় গিয়ে থেমে যেত। সব সময় মনে হতো আর কিছু টাকা থাকলেই এসব করে ফেলা যেত। সেই অপূর্ণ ইচ্ছাগুলো মেটাতেই ফান্ডরেইজিংইয়ের পেছনে গত এক বছর সময় দেয়া। এই পুরো সময়টা আমি আসলে অনেক কিছু থেকেই একটু বিচ্ছিন্ন ছিলাম। অনেক জায়গায় সময় দিতে পারিনি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সবার সহযোগিতায় এখন যেহেতু টাকার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেছে, এখন সময় সেই অপূর্ণ স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপদান করার। আশা করছি সফল হব।’

এই টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে কীভাবে সাজাবেন- এ প্রশ্নের উত্তরে আয়মান সাদিক বলেন, ‘বিনিয়োগ পাওয়ার পরপরই আমি একটা লিস্ট করে ফেলেছি। সে অনুযায়ীই এখন নতুন সাজে সাজাব আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটিকে। এতদিন থ্রিডি ভিডিও বানাতে পারিনি। এখন সব কঠিন টপিকের থ্রিডি ভিডিও বানাব। সার্ভারের খরচের ভয়ে আমাদের অ্যাপে লাইভ ক্লাস না নিয়ে সব সময় ফেসবুক আর ইউটিউবে নিয়েছি। এখন আমাদের নিজেদের অ্যাপে লাইভ ক্লাসগুলো নেব। যেন স্বল্প ব্যান্ডউইডথেও আমাদের শিক্ষার্থীরা সহজেই ক্লাস করতে পারে।’

‘অনেক ট্যালেন্টেড আর এক্সপেরিয়েন্সড মানুষের সাথে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। এখন একটু সাহস করে টেন মিনিট স্কুলে জয়েন করার জন্য বলতে চাই। নিজেদের অনেকগুলো স্টুডিও তৈরির ইচ্ছা ছিল। ভিডিও কোয়ালিটি আরো অনেক ভালো করতে চাই। সায়েন্স ল্যাব করার ইচ্ছা ছিল, সেটা করব। যেখানে সব সময় এক্সপেরিমেন্টগুলোর ভিডিও করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাব বানাব। যেখানে সব সময় নতুন নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ চলতে থাকবে। কয়েক শ ট্যালেন্টেড টিচারের সাথে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের বেস্ট টিচারদের সারা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। কয়েক হাজার নতুন অনলাইন টিচারকে ট্রেইন করতে চাই, যেন তারা পরবর্তী প্রজন্মকে আরো ভালো কনটেন্ট উপহার দিতে পারে।’

১৭ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ পেল ‘টেন মিনিট স্কুল’

‘আমাদের ৩০০ জনের টিমকে ১ হাজার জনের টিম বানাতে চাই; যারা সার্বক্ষণিক নতুন কী কী কনটেন্ট বানানো যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকবে। প্রতিটা কোর্সের জন্যে আলাদা আলাদা সেট ডিজাইন করে একদম মুভি লেভেলের টিউটোরিয়াল বানাতে চাই।’

‘২-৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য বাংলায় সবকিছু শেখার একটি পরিপূর্ণ অ্যাপ বানাতে চাই। এমন আরও অনেক অনেক কিছু করতে চাই,’ বলেন আয়মান সাদিক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদায়ী বছরে প্ল্যাটফর্মটিতে আগের বছরের চেয়ে ১২ গুণ বেশি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেকোয়া ক্যাপিটালের এই বিনিয়োগ টেন মিনিট স্কুলের পণ্য, প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কার্যক্রমের বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন বছরে টেন মিনিট স্কুলের কার্যক্রম আরও বিকশিত হবে। মানসম্পন্ন কনটেন্ট তৈরিতে এই বিনিয়োগ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

আয়মান সাদিক ও আবদুল্লাহ আবইয়াদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান টেন মিনিট স্কুল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কার্যক্রম শুরু করে ২০১৫ সালে। শুরু থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনলাইন পড়াশোনাকে সহজ করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। টেন মিনিট স্কুল অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যেকোনো বিষয় অধ্যায়ভিত্তিক ভিডিও লেকচারের মাধ্যমে শিখতে পারছে। পাশাপাশি নিজেকে যাচাই করার জন্য রয়েছে কুইজ এবং অনুশীলনের ব্যবস্থা। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টেন মিনিট স্কুল অ্যাপ।

আয়মান সাদিক বলেন, ‘শুরুতে আমরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছিলাম। ২০১৬ সালে আমাদের এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয় টেলিকম অপারেটর রবি। এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে স্পনসর নিতাম। এখন এসে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে যুক্ত করলাম।’

দেশসেরা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তৈরি প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যেকোনো বিষয়ের ২৫ হাজারের বেশি অধ্যায়ভিত্তিক ভিডিও লেকচার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই লার্নিং অ্যাপ ব্যবহার করছে ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী।

২০২০ সালে ৯০ লাখ নতুন শিক্ষার্থী যুক্ত হয় প্ল্যাটফর্মটিতে। এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে টেন মিনিট স্কুল।

আয়মান সাদিক বলেন, ‘গত এক বছর আমাদের পুরো টিম এই ফান্ডরেইজিংয়ের জন্য দিনরাত কষ্ট করেছে। সত্যি বলতে এখন আর আমি না থাকলেও আমাদের টিম পুরোটা চালিয়ে নিতে পারবে। এমন একটা টিমের সাথে কাজ করতে পারা আসলে একটা বিশাল পাওয়া।’

‘আমাদের এই স্বপ্নের সাথে থাকার জন্য আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

পড়ার পাশাপাশি শোনাও যাবে নিউজবাংলার খবর

পড়ার পাশাপাশি শোনাও যাবে নিউজবাংলার খবর

পাঠকের জন্য ‘নিউজটি শুনতে’ নামের নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

পাঠক একটি সংবাদে ক্লিক করলে শিরোনামের নিচে ‘নিউজটি শুনতে’ বাটন পাবেন। এতে ক্লিক করে শোনা যাবে সংবাদ। স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন পাঠক সংবাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে শোনাবেন।

পাঠককে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম। এখন থেকে পাঠকরা অনলাইনে নিউজবাংলার প্রতিবেদন পড়ার পাশাপাশি শুনতেও পারবেন।

পরীক্ষামূলক ফিচারটি রোববার যুক্ত করা হয়েছে নিউজবাংলার ওয়েবসাইটে।

কীভাবে শুনবেন সংবাদ

পাঠক একটি সংবাদে ক্লিক করলে শিরোনামের নিচে ‘নিউজটি শুনতে’ বাটন পাবেন। এতে ক্লিক করে শোনা যাবে সংবাদ। স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন পাঠক সংবাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে শোনাবেন।

কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন— যেকোনো ডিভাইস থেকেই শোনা যাবে প্রতিটি সংবাদ।

ফিচারটি সম্পর্কে নিউজবাংলার হেড অফ আইটি প্রিন্স মাহমুদ অর্ণব বলেন, ‘আমরা পাঠকদের সাইটে এনগেজ করতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করছি। এরই ধারাবাহিকতায় টেক্সট টু ভয়েস ফিচারটি যুক্ত করা হয়েছে।

‘আমরা আশা করছি, এর মাধ্যমে পাঠক আরও সহজে নিউজবাংলার বিভিন্ন প্রতিবেদন জানতে পারবেন। এটি আমাদের পাঠকপ্রিয়তাকে আরও এগিয়ে নেবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

নিউজবাংলার হেড অফ নিউজ সঞ্জয় দে বলেন, ‘২০২০ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর থেকে পাঠকের প্রয়োজনে সময়োপযোগী ফিচার যুক্ত করছে নিউজবাংলা। টেক্সট টু ভয়েস এতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

‘বাংলাদেশে আমরাই প্রথম এ ফিচার এনেছি। আশা করি, পাঠক বিষয়টি উপভোগ করবেন।’

শেয়ার করুন

আটক হলো ভয়ংকর আরইভিল হ্যাকার গ্রুপ

আটক হলো ভয়ংকর আরইভিল হ্যাকার গ্রুপ

রাশিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এফএসবি জানিয়েছে, তারা গ্যাংটির কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ৪২ কোটি ৬০ লাখ রুবল (৪ মিলিয়ন পাউন্ড) উদ্ধার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে রাশিয়া সাইবার হ্যাকারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ এবার সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী র‍্যানসমওয়্যারভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ আরইভিলের সদস্যদের আটক করেছে।

রাশিয়ার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এফএসবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রুপটি এখন শুধুই ইতিহাস।

তবে গ্রুপের কোনো রাশিয়ান সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরইভিল ম্যালওয়্যার তৈরি করত। এইগুলো ব্যবহার করে তারা বিদেশিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরি করত। এ ছাড়া তারা র‍্যানসমওয়্যারের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করেও অর্থ আদায় করত।

ম্যালওয়্যার মূলত ক্ষতিকর কম্পিউটার সফটওয়্যার (ম্যালিশিয়াস সফটওয়্যার)। সাইবার অপরাধীরা অন্য কম্পিউটার সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে।

এই গ্যাংটির বিষয়ে তথ্য দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ থেকে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

এফএসবি জানিয়েছে, তারা গ্যাংটির কাছ থেকে ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ৪২ কোটি ৬০ লাখ রুবল (৪ মিলিয়ন পাউন্ড) উদ্ধার করেছে।

এ ছাড়া গ্রুপটির কাছ থেকে অনলাইনে প্রতারণা ও চুরির মাধ্যমে কেনা ২০টি বিলাসবহুল গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

রাশিয়ার এই ঘোষণা এমন সময় এলো যখন দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের স্থবিরতা চলছে।

আরইভিলের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান সাইবার অপরাধ ও সাইবার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নতুন যুগের শুরু হলো।

অনেক বছর ধরেই রাশিয়া অস্বীকার করে আসছিল যে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণকারীরা দেশটিতে নিরাপদে লুকিয়ে বিভিন্ন পশ্চিমা লক্ষ্যে আক্রমণ পরিচালনা করে থাকে।

গত গ্রীষ্মে জেনেভা সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট বাইডেন আলোচনা করেছিলেন, র‍্যানসমওয়্যারের মতো সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কিভাবে লড়াই করা যায়।

রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের আনাগোনার দিন শেষ। আরইভিলের মতো হাইপ্রোফাইল হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের আটক করার মাধ্যমে রাশিয়া বিশ্বের কাছে হয়তো এই বার্তাই দিয়েছে।

শেয়ার করুন

শাওমির ফোনে সেন্সরশিপের প্রমাণ নেই: জার্মান ওয়াচডগ

শাওমির ফোনে সেন্সরশিপের প্রমাণ নেই: জার্মান ওয়াচডগ

লিথুয়ানিয়ার অভিযোগের পর একটি স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানায় দেশটি। পরে জার্মান ফেডারেল অফিস ফর ইনফরমেশন সিকিউরিটি (বিএসআই) বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব নেয়।

চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি তাদের স্মার্টফোনে কোনো ধরনের সেন্সরশিপ আরোপ করে না বলে প্রমাণ পেয়েছে জার্মানির একটি ওয়াচডগ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে পূর্ব ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়া শাওমির ফোনে সেন্সরশিপ করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ করে।
অবশ্য অভিযোগ ওঠার সময়ই তা প্রত্যাখ্যান করে চীনা স্মার্টফোন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটি। তারা এক বিবৃতি দিয়ে বলে, শাওমি তাদের স্মার্টফোনে কোনো ধরনের সেন্সর আরোপ করে না।

লিথুয়ানিয়ার অভিযোগের পর একটি স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানায় দেশটি। পরে জার্মান ফেডারেল অফিস ফর ইনফরমেশন সিকিউরিটি (বিএসআই) বিষয়টি তদন্ত করার দায়িত্ব নেয়।

সংবাদমাধ্যম অ্যান্ড্রয়েড অথোরিটির খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার জার্মান ওয়াচডগটি তাদের অনুসন্ধানের ফল প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, শাওমি তাদের কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে পরিচালিত করছে। তারা সব সময় তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

রিপোর্টে আরো বলা হয়, গ্রাহকদের সুরক্ষার বিষয়টি চীনা প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

লিথুয়ানিয়া যে অভিযোগ এনেছে শাওমির বিরুদ্ধে তা ভিত্তিহীন। তাই জার্মান প্রতিষ্ঠানটি ওই মামলাটি বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করে।

এক বিবৃতিতে গ্রুপটি বলে, 'আমরা এমন কোনো ধরনের অসংগতি পাইনি, যার জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়।'
লিথুয়ানিয়া অভিযোগ করেছিল, শাওমি তাদের নির্দিষ্ট সফটওয়্যার দিয়ে বেশ কিছু বিষয় সে দেশে সেন্সর করে। যার মধ্যে ‘ফ্রি তিব্বত’, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা দীর্ঘজীবী হোক’, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ বিষয়গুলো ছিল।

এসব কি-ওয়ার্ডগুলো ধরে ধরে দেশটিতে সেন্সরশিপের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যা সত্যিই সেন্সরশিপ করা হয়নি বলে প্রতেবেদনে জানায় জার্মান ওয়াচডগটি।

শেয়ার করুন