ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে এক্সনহোস্টে ৭০% পর্যন্ত ছাড়

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে এক্সনহোস্টে ৭০% পর্যন্ত ছাড়

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশে ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদান করছে এক্সনহোস্ট । এরই মধ্যে সিপ্যানেল, লাইটস্পিডসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় হোস্টিং কোম্পানি এক্সনহোস্ট প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করেছে ব্ল্যাকফ্রাইডে সেল।

ব্ল্যাকফ্রাইডে হলো বিশ্বের শপিং দুনিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত মেগা সেলের দিন। যা পশ্চিমা বিশ্বে থ্যাংকস গিভিং ডের পরের দিন ব্ল্যাকফ্রাইডে হিসেবে পরিচিত। এদিন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় বিশেষ মূল্য ছাড় দেন।

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এক্সনহোস্ট হোস্টিং সার্ভিসে ২৫ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে। এক্সনহোস্টের ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই কুপন কোড ব্যবহার করে ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কাস্টমাররা বিকাশ, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই এক্সনহোস্ট থেকে ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার কিনতে পারবেন।

আইসিএনএন স্বীকৃত রেজিস্ট্রার কোম্পানি পার্পল আইটি লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এক্সনহোস্ট ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন সেবা দিয়ে থাকে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশে ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদান করছে এক্সনহোস্ট । এরই মধ্যে সিপ্যানেল, লাইটস্পিডসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে কর্পোরেট ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ভার্চুয়াল সার্ভার, ডেডিকেটেড সার্ভার ও ক্লাস্টার সার্ভার সলিউশন দিচ্ছে এক্সনহোস্ট।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাজধানীতে ভিভোর আরও দুই সার্ভিস সেন্টার

রাজধানীতে ভিভোর আরও দুই সার্ভিস সেন্টার

ভিভোর নতুন সার্ভিস সেন্টার। ছবি: সৌজন্যে

এত দিন সারা দেশে ২৩টি সার্ভিস সেন্টার থেকে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে এসেছে গ্লোবাল স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো। উত্তরা ও মিরপুরে যাত্রা শুরু হওয়ায় এখন তাদের সার্ভিস সেন্টার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।

রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে নতুন দুটি কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে ভিভো।

সার্ভিস সেন্টার দুটির অবস্থান উত্তরার পলওয়েল কারনেশন শপিং সেন্টার এবং মিরপুর-১-এর নিউ মার্কেটে।

এত দিন সারা দেশে ২৩টি সার্ভিস সেন্টার থেকে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে এসেছে গ্লোবাল স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভো। উত্তরা ও মিরপুরে যাত্রা শুরু হওয়ায় এখন তাদের সার্ভিস সেন্টারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে।

ভিভো জানায়, এই সার্ভিস সেন্টারগুলো গ্রাহকদের সঙ্গে ভিভোর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে, পাশাপাশি ব্র্যান্ডটিকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।

কেনার পর ভিভোর স্মার্টফোনে কোনো হার্ডওয়ারজনিত ত্রুটি থাকলে তা ১৫ দিনের মধ্যে বদলানোর সুবিধা দেয়া হয়।

এ ছাড়া এক বছর বিনা মূল্যে রক্ষণাবেক্ষণের সেবা, ব্যাটারি, ইয়ারফোন, চার্জার এবং ইউএসবি কেব্‌লের জন্য ৬ মাসের ওয়ারেন্টি দেয়া হয়। ফলে এসবে ত্রুটি থাকলে সহজেই বদলানো যায়।

অন্যান্য সার্ভিস সেন্টারগুলোর মতো নতুন দুটি সেন্টারেও ‘গেমিং’ ও ‘সার্ভিস ডে’ সুবিধা থাকছে।

ভিভো বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (পিআর) রিয়াসাত আহমেদ বলেন, ‘বিক্রয়-পরবর্তী গ্রাহকসেবা নিয়ে আমাদের উদ্যোগগুলো বেশ সাড়া পেয়েছে। বাংলাদেশে ভিভো ফোন ব্যবহারকারীরা যেন এই অভিজ্ঞতা আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে নতুন দুই সেন্টার চালু।’

শেয়ার করুন

পাবজি-ফ্রি ফায়ার বন্ধে ফের আইনি নোটিশ

পাবজি-ফ্রি ফায়ার বন্ধে ফের আইনি নোটিশ

রিটে বলা হয়, টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি এবং ফ্রি ফায়ার-এর মতো গেমগুলোতে বাংলাদেশের যুবসমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেমস যেন যুবসমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। এসব বন্ধ করা উচিত।

পাবজি ও ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকারক অনলাইন গেমস বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ পরিপূর্ণভাবে প্রতিপালন না করায় আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের এ নোটিশ পাঠান।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, গ্রামীণফোন কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়াসির আজমান, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের সিইও এবং চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এম রিয়াজ রশিদ, বাংলালিংকের সিইও এরিক অ্যাস ও টেলিটক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহাব উদ্দিনকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ‘পাবজি-ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকারক অনলাইন গেমসগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু এখনও এসব গেম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আদালতের আদেশ সঠিকভাবে প্রতিপালন না করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করা হয়েছে।’

তিনি জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে আইনজীবীকে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে নোটিশে। অন্যথায় আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

এর আগে গত ১৯ জুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম তথা লাইকির মতো সব ধরনের অনলাইন গেমস এবং অ্যাপস বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এ দুই আইনজীবী।

পরে হাইকোর্টে দায়ের এক রিটে বলা হয়, টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি এবং ফ্রি ফায়ার-এর মতো গেমগুলোতে বাংলাদেশের যুবসমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। এসব গেমস যেন যুবসমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। এসব বন্ধ করা উচিত।

এরপর হাইকোর্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, লাইকি, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেমসহ সব ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপস বন্ধের আদেশ দেয়। এ বিষয়ে বিটিআরসি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট।

তবে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও দেশে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেমসহ সব ধরনের ক্ষতিকর অ্যাপস। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা জানাচ্ছে বিটিআরসি।

শেয়ার করুন

সরকারি তথ্য নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ক্লাউড-প্ল্যাটফর্ম

সরকারি তথ্য নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ক্লাউড-প্ল্যাটফর্ম

একনেক সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘‌‘‌আজ মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তথ্য নিরাপদ রাখতে সরকারি সব বিভাগ ও সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত ‘ক্লাউড-কম্পিউটিং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’'

সরকারি তথ্য নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ক্লাউড-কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির পরিবেশ তৈরি করতে প্ল্যাটফর্মটি সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।

এ জন্য ‘ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ও অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণ’ নামের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন। একনেকের অন্য সদস্যরা শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে সভার অংশে ছিলেন।

একনেক সভার পরে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘‘‌আজ মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তথ্য নিরাপদ রাখতে সরকারি সব বিভাগ ও সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত ‘ক্লাউড-কম্পিউটিং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

‘‘‌প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ, ২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা জোগান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটির জন্য বাকি ৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দেয়া হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।’'

ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে ডেটা সংরক্ষণের একটি সুরক্ষিত অনলাইন সার্ভার ব্যবস্থা। এ প্রকল্পের আওতায় অনলাইন সার্ভারের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। এসব সার্ভারে অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা তাদের যেকোনো দলিল জমা রাখতে পারবেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বছরে প্রায় ২০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় হবে মনে করে আইসিটি বিভাগ।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। প্রকল্পের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে বিসিসি।

নিরাপদে ডেটা সংরক্ষণে নিজস্ব ক্লাউড কম্পিউটিং ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় নারীকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে একটি ডিজিটাল লিডারশিপ অ্যাকাডেমি স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের ডিজিটাইজেশন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ডিজিটাইজেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে বলেও জানানো হয়।

আইসিটি বিভাগের আরও একটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইসিটি অবকাঠামো মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প তৃতীয় দফায় সংশোধন করা হয়েছে। শুরুতে এর ব্যয় ছিল ৪৫ কোটি টাকা, এখন বেড়ে হয়েছে ৭০ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার কোটি ডলারের মামলা রোহিঙ্গাদের

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার কোটি ডলারের মামলা রোহিঙ্গাদের

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ফেসবুক একটা রোবটের মতো আচরণ করে যার একতাই মাত্র উদ্দেশ্য; বিস্তার লাভ করা।’ মামলায় আরও বলা হয় যে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভুল তথ্য ও মৌলবাদী চিন্তাধারাকে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে যা অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতার জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের অভিযোগ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও ভুল তথ্য ছড়ানো থামাতে পারেনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আদালতে এ মামলা করেছেন।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ফেসবুক একটা রোবটের মতো আচরণ করে যার একতাই মাত্র উদ্দেশ্য; বিস্তার লাভ করা।’

মামলায় আরও বলা হয় যে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ভুল তথ্য ও মৌলবাদী চিন্তাধারাকে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে যা অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতার জন্ম দেয়।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অনস্বীকার্য বাস্তবতা হচ্ছে যে ঘৃণা, বিভাজন ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে ফেসবুক যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তা হাজারো রোহিঙ্গার জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার কোটি ডলারের মামলা রোহিঙ্গাদের
ঘৃণা ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ না করার অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম প্রধান রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ব্যাপক বৈষম্যের সম্মুখীন হয়েছে। দেশটিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ওই বছর প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা মারা পড়েন সেনাবাহিনীর হাতে। অনেকেই এখনও মিয়ানমারে আছেন ও প্রতিনিয়ত সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য বিস্তার রোধে পর্যাপ্ত ভূমিকা নিতে না পারার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে এমনটা জানানোর পরও ফেসবুক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

আমেরিকান ডেটা ইঞ্জিনিয়ার ও হুইসলব্লোয়ার ফ্রান্সিস হাউগেন গত অক্টোবরে দেশটির কনগ্রেসকে বলেন, ‘কয়েকটি দেশে ফেসবুক জাতিগত সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে।’

আমেরিকার আইন অনুযায়ী ফেসবুক এর ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কন্টেন্টের দায় থেকে মুক্ত।

রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে যে মামলাটির যে সকল জায়গায় সম্ভব সেটিকে যেন মিয়ানমারের আইনের আলোকে আনা হয়। সেখানে এধরনের কোনো সুরক্ষা বা দায়মুক্তি আইন নেই।

মামলা নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফেসবুক। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস ও নির্বাচন সংক্রান্ত ভুল তথ্য বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নানা মহল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চাপের মুখে রয়েছে।

মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের স্রোত বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরবর্তী বেশ কয়েক দিনে ৫ লাখ ৮২ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্নভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রবেশ করে বলে ইএনএইচসিআরের এক হিসাবে বলা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ দফায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৭ সালেই বাংলাদেশে আসে ৮ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আসা আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ার বালুখালী ও টেকনাফের উনচিপ্রং ও শাপলাপুর ক্যাম্পে রয়েছে। কিছু রোহিঙ্গাকে সরকার নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করেছে।

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি করে বাংলাদেশ। কিন্তু গত চার বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার। দেশটি টালবাহানা করে প্রত্যাবাসন শুরুতে দেরি করছে।

শেয়ার করুন

দিনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের

দিনটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামায় গোটা বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রান্না করা যায়, তা নিয়ে নিমগ্ন গবেষণা করছিলেন এক প্রকৌশলী। তার নাম পার্সি স্পেন্সার। তারপর নানা গবেষণা পেরিয়ে, ১৯৬৭ সালে বাজারে ছাড়া হয় রান্নার উপযোগী ওভেন।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ তার শক্তি হারিয়ে রূপ নিয়েছে নিম্নচাপে। কিন্তু তার প্রভাব আছে প্রকৃতিতে। সারাদিন ধরে ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টিস্নাত এমন দিনে আলস্যকে পিছনে ফেলে অনিচ্ছাতেও কাজে গেছেন অনেকে।

কিন্তু কাজ শেষে অঘ্রাণের বৃষ্টি গায়ে মেখে যারা ঘরে ফিরবেন, তাদের অনেকের রান্নার ইচ্ছেটা তখন উবে যাবে। অগত্যা ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা খাবার গরম করে খেয়ে নেয়া ছাড়া আর উপায় কী! তখনই ভরসার নাম মাইক্রোওয়েভ ওভেন।

রান্নাঘরের প্রভাবশালী এই সরঞ্জামটি জীবনকে অনেক সহজ করেছে। আর তাই প্রতি বছরের ৬ ডিসেম্বরকে বেছে নেয়া হয়েছে মাইক্রোওয়েব ওভেন দিবস উদযাপন।

এই নাগরিক ব্যস্ত জীবনে ঠান্ডা খাবার গরম করে নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় মাইক্রোওয়েভ ওভেন। চকলেট কিংবা মাখন গলানো, পানি গরম করা, কেকসহ নানা উপাদেয় খাবার তৈরিতে এই যন্ত্রটির জুড়ি মেলা ভার।

প্রচলিত ওভেনের চেয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের চাহিদাটা বেশি। তার মূল কারণ, মাইক্রোওয়েভে শক্তি অপচয় হয় অনেক কম। যা কখনও কখনও ৮০ শতাংশ কম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামায় গোটা বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রান্না করা যায়, তা নিয়ে নিমগ্ন গবেষণা করছিলেন এক প্রকৌশলী। তার নাম পার্সি স্পেন্সার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার ছিল না। স্বশিক্ষিত প্রকৌশলীর তকমা তিনি ঠিকই পেয়েছেন।

১৯৪৫ সালে রেথিয়ন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন স্পেন্সার। অ্যাক্টিভ রাডার নিয়ে কাজ করার সময় হুট করে টের পেলেন পকেটে থাকা একটি ক্যান্ডিবার গলে যাচ্ছে।

ওই ঘটনা নতুন করে ভাবতে শেখাল তাকে। মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে পপকর্ন তৈরি করলেন তিনি। এরপর মাথায় এল ডিম রান্নার কথা। চেষ্টাও করলেন। কিন্তু পপকর্নে যতটা সাফল্য পেলেন, ডিমের ক্ষেত্রে ততটাই ব্যর্থ। ব্যর্থতাকে উপহাস করলেন তার সহকর্মীরা, তারা তাকালেন বাঁকা চোখে।

তুচ্ছ, তাচ্ছিল্যে দমবার পাত্র ছিলেন না স্পেন্সার। এক পর্যায়ে ধাতব বাক্সের মধ্যে ম্যাগনেট্রনের শক্তি উৎপন্ন করে, তা আটকে রাখতে সক্ষম হন তিনি। দেখলেন, ওই বক্সে রাখা খাবার দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে।

স্পেন্সারের সাফল্যের পর ১৯৪৫ সালের ৮ অক্টোবর মাইক্রোওয়েভ ওভেনের পেটেন্ট জমা দেয় রেথিয়ন। ১৯৪৭ সালে রাডারেঞ্জ মাইক্রোওয়েভ নিয়ে আসে তারা। যা প্রায় লম্বায় ছয় ফুট। মূল্য ধরা হয় পাঁচ হাজার ডলার।

১৯৫৫ সালে টাপ্পানের সঙ্গে নিজেদের পেটেন্ট আউটসোর্স করে রেথিয়ন। তারা এক হাজার ২৯৫ ডলারের মধ্যে একটি ওভেন তৈরি করে। তবে সেটা গার্হস্থ্য ব্যবহারের উপযোগী ছিল না।

তারপর নানা গবেষণা পেরিয়ে, ১৯৬৭ সালে ৪৯৫ ডলারে একটি কাউন্টারটপ মাইক্রোওয়েভ ছাড়ে রেথিয়ন। তার কিছুদিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান লিট-অন বাজারে আনে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। সেই ডিজাইনটি আসলে মানুষ গ্রহণ করেছে। আজকের আধুনিক সময়েও যেসব ওভেন দেখা যায়, তার সবকটা লিটঅনের ডিজাইন অনুযায়ী।

১৯৭১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ হাজার মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারকারী পাওয়া যায়। কিন্তু তার চার বছরের মধ্যে অর্থ্যাৎ ১৯৭৫ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ লাখে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেনকে শুধু কেক বানানো আর খাবার গরমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কিছু নেই। ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার ডটকম বলছে, ক্রিসপি ব্যাকন, চকোলেট গলানো, সবজি সিদ্ধ, বাদামী চিনি নরম করা, হার্বস শুকিয়ে নেয়া এবং কাঁচের বৈয়ামে সেঁটে দেয়া লেবেল উঠিয়ে নিতেও ওভেন খুব কাজের যন্ত্র।

তবে যাই করুন না কেন, ওভেন পরিষ্কার রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্যও আছে টোটকা। গরম সাবান জলে তোয়ালে ভিজিয়ে মুছে নিন ওভেন। তাতে বিভিন্ন স্থানে লেগে থাকা খাদ্য কণা বা ময়লা উঠে আসবে অনায়াসে। তারপর শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে আবার মুছে নিন।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার চালু করল টিকটক

বাংলাদেশে ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার চালু করল টিকটক

আপডেট করা সেন্টারটি মূলত এমন একটি জায়গা যেখানে টিকটকের বার্ষিক ও প্রতি প্রান্তিকের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে থাকবে সামনের দিনের ইন্টার‍্যাক্টিভ রিপোর্টগুলোও।

স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার জায়গা সবার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশে সোমবার উন্মোচন করেছে ডেডিকেটেড ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার।

আপডেট করা সেন্টারটি মূলত এমন একটি জায়গা, যেখানে টিকটকের বার্ষিক ও প্রতি প্রান্তিকের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে থাকবে সামনের দিনের ইন্টার‍্যাক্টিভ রিপোর্টগুলোও।

একই সঙ্গে টিকটক আজ উন্মোচন করেছে সবশেষ এইচ১ ২০২১ কনটেন্ট রিমুভ্যাল রিকোয়েস্ট রিপোর্ট। প্ল্যাটফর্মটিকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এর বিশ্বস্ততা রক্ষার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে টিকটক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিশ্বাস গড়ে তুলতে টিকটক ২০১৯ সাল থেকে তাদের এই রিপোর্ট প্রকাশ করতে শুরু করে। এরপর থেকে টিকটক বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবা, খাতটি নিয়ে প্রথম ডেটার প্রকাশ এবং এ নিয়ে জরিপ ও গবেষণা করে এর ফলাফল প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেয়ার পরিমাণ এবং টিকটকের স্ট্যান্ডার্ড না মানায় বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়ার পরিমাণ কত তা জানানো।

ট্রান্সপারেন্সির এই প্রচেষ্টায় টিকটক সুশীল সমাজের সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের ফিডব্যাক নেয় এই রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে। এখন অফিশিয়ালি ডাউনলোড উপযোগী এসব ডেটা পাওয়া যাচ্ছে মেশিন রিডেবল ফরম্যাটে।

এ ছাড়া রিপোর্টের আরেকটি লক্ষ্য যে তা যেন দেখতে আকর্ষণীয় হয়। তার জন্য নানা ধরনের ডেটার ইলাস্ট্রেশনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় গ্রাফ, চার্ট তৈরি করা হয়েছে। বৈশ্বিক দর্শকদের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাতে রিপোর্টটি ২৬ ভাষায় প্রকাশ করা হয়। এসব ভাষার মধ্যে রয়েছে বাংলা, জার্মান, ফ্রেঞ্চ, উর্দু, ইংরেজি, স্প্যানিশ, ট্রাডিশনাল চায়নিজ, রাশিয়ান এবং আরবিসহ অন্যান্য।

এই সেন্টারের মাধ্যমে টিকটকের লক্ষ্য হলো ট্রান্সপারেন্সি সেন্টারকে একটি ওয়ান-স্টপ শপ হিসেবে তৈরি করা, যাতে এটি কীভাবে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করে, কনটেন্ট রেকমেন্ড করে, পণ্য বিকাশ করে এবং মানুষের তথ্য রক্ষা করে তা সম্পর্কে সবাই জানতে পারে।

সর্বশেষ এইচ১ ২০২১ কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ রিপোর্ট আপডেটগুলো সে লক্ষ্যেরই ধারাবাহিকতা। এই সেন্টারে আগের রিপোর্টগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যা আছে ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে

  • কমিউনিটি গাইডলাইন ইনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট, যাতে প্রতি প্রান্তিকে নেয়া পদক্ষেপ কমিউনিটি গাইডলাইনস এবং পরিষেবার শর্ত যুক্ত করা আছে।
  • সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অনুরোধসম্পর্কিত দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন ও বিষয়টি সম্পর্কে নেয়া পদক্ষেপের প্রতিবেদন আছে এ সেন্টারে।
  • সরকারের এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া কনটেন্ট রিমুভ্যাল রিকোয়েস্ট এবং সেটি নিয়ে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও রয়েছে দ্বিবার্ষিক এক প্রতিবেদনে।
  • বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অপসারণের অনুরোধের প্রতিবেদন যা কপিরাইট এবং ট্রেডমার্কসামগ্রী সরিয়ে নেয়ার নোটিশ এবং রেসপন্সের ফলাফল দ্বিবার্ষিক হিসেবে প্রকাশ করে থাকে।
  • সব ধরনের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট পেতে ভিজিট করুন ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার।

শেয়ার করুন

কাব্য প্রতিভায় তাক লাগালো রোবট আই-দা

কাব্য প্রতিভায় তাক লাগালো রোবট আই-দা

আই-দা ও তার নির্মাতা আইদান মিলার। ছবি: সংগৃহিত

মিলার নিজেই তার বানানো রোবটের কাব্য রচনার দক্ষতায় মুগ্ধ। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এত দুর্দান্ত, আপনি যদি তার লেখা কবিতা পড়েন তবে বুঝতেই পারবেন না যে এটি কোনো মানুষের লেখা নয়।'

যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ আসে, তখন ‘দ্য টারমিনেটর’, ‘আই রোবট’, ‘ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড’, ‘ব্লেড রানার’ সিনেমা কিংবা টিভি সিরিজগুলোতে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা মনে পড়ে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক চরিত্র হিসেবে যেমন টার্মিনেটর ছিল আর ম্যাট্রিক্স সিনেমায় ছিল সেইন্টিনল।

এইচবিওর ‘ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড’ সিরিজে তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ভিকটিম হিসেবে দেখানো হয়।

এর পরেও সিনেমা ও বিনোদন জগতে শুরু থেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভালো প্রযুক্তি দেখানোর চেয়ে খারাপ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে সব সময়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে মানুষের ভীতি কাজ করে। তাই মানুষ কখনোই সেভাবে শিল্প, সাহিত্যের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রাসঙ্গিক ভাবেনি।

তবে আই-দা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হিউম্যানয়েড রোবট কিন্তু সবাইকে ভিন্নভাবে ভাবতে শেখাবে। কারণ আই-দাই প্রথম কোনো রোবট শিল্পী ও কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

মহান ইতালীয় কবি দান্তে আলিঘিয়েরির মৃত্যুর ৭০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে আই-দা তার লেখা কবিতা আবৃত্তি করে দর্শকদের শোনায়। সে দান্তের মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে তার নিজস্ব ডেটা ব্যাংক এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দান্তের বক্তৃতার প্যাটার্ন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বিখ্যাত মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’র প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাব্য রচনা করে।

আই-দা হলো অক্সফোর্ডের প্রকৌশলী আইদান মিলারের উদ্ভাবিত উচ্চ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট।

মিলার নিজেই তার বানানো রোবটের কাব্য রচনার দক্ষতায় মুগ্ধ। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘এত দুর্দান্ত, আপনি যদি তার লেখা কবিতা পড়েন তবে বুঝতেই পারবেন না যে এটি কোনো মানুষের লেখা নয়।'

শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন আই-দা তার কবিতা পড়ছিল তখন তিনি সিএনএনকে বলেন, ’তার সঙ্গে ভাব বিনিময় করলে আপনি ভুলেই যাবেন, আপনি একজন রোবটের সঙ্গে কথা বলছেন।'

‘আই-দা’ প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে মিলার ও তার দল খেয়াল করেন, আসলে মানুষ কতটা কৃত্রিম। আর রোবট কতটা মানবিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে মিলারের মানুষ সম্পর্কে চিন্তাভাবনাই বদলে যায়।

আই-দা শুধু কবিতাই পড়তে ও লিখতে জানে না, ছবিও আঁকতে জানে। গত অক্টোবরে মিসরে দান্তেকে উপজীব্য করে তার আঁকা চিত্রকর্মের একটি প্রদর্শনীও হয়ে গেছে। তবে সে সময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারি করা হবে, এমন সন্দেহে আই-দার চোখে লাগানো ক্যামেরা খুলে নেয়।

‘এতেই স্পষ্ট হয় মানুষ প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে কতটা ভীতির চোখে দেখে’, সিএনএনকে এমনটাই বলেছেন মিলার।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা। যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার অ্যালগরিদম কাজে লাগিয়ে যন্ত্র বা বিশেষায়িত কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রকাশ করার পদ্ধতি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

শেয়ার করুন