লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

সাভারের আমিনবাজার এলাকায় রহমতউল্লাহর সঙ্গে তার পোষা বিড়াল পিকো। ছবি: সাইফুল ইসলাম

পিকোকে নিয়ে বাড়ি যাবেন বলে এই খাঁচাটা বানিয়েছেন রহমত। পথে তার যেন কষ্ট না হয়, সে জন্য খাঁচাটি একটু বড়সড় করেই তৈরি করা হয়েছে। আর রোদ যেন না লাগে সে জন্য খাঁচার ওপরে দেয়া আছে কাপড়ের একটি ছাউনি। আর পিকোর বসার জন্য কয়েক স্তরে মখমলের কাপড়ের বিছানা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করতে চারপাশের চার জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার দিন নিজ জেলা মানিকগঞ্জ যেতে উদগ্রীব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রহমতউল্লাহ।

রহমত থাকেন পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে। সকালেই ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জমুখী বাস বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি চলে আসেন গাবতলীতে। আশায় ছিলেন, একটা না একটা গাড়ি পেয়েই যাবেন।

তবে ছিল না কোনো বাহন। পরে শুরু করেন হাঁটা। আমিনবাজার বা সাভারের দিকে এগিয়ে গেলে একটা না একটা উপায় হবে- এই বিশ্বাস মনে।

হাঁটছেন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে রহমতউল্লাহ দৃষ্টি কেড়ে নেন তার সঙ্গীর কারণে।

পিঠে ব্যাগ আর হাতে লোহার খাঁচায় রহমতের সঙ্গী পিকো।

পিকো একটি বিড়াল। রহমতের খুব আদরের।

৯ দিনের জন্য ঢাকাকে অবরুদ্ধ করে মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই কয়টা দিন বাড়িতেই কাটাতে চান রহমত। আর আদরের পোষা প্রাণীটিকে রেখে একা যেতে চাইছিলেন না তিনি। তাই তাকে নিয়েই ছুটে চলা।

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

পিকোকে নিয়ে বাড়ি যাবেন বলে এই খাঁচাটা বানিয়েছেন রহমত। পথে তার যেন কষ্ট না হয়, সে জন্য খাঁচাটি একটু বড়সড় করেই তৈরি করা হয়েছে। আর রোদ যেন না লাগে সে জন্য খাঁচার ওপরে দেয়া আছে কাপড়ের একটি ছাউনি। আর পিকোর বসার জন্য কয়েক স্তরে মখমলের কাপড়ের বিছানা।

বিড়ালের নাম কী- এমন প্রশ্ন শুনেই আপত্তি করেন রহমত।

বলেন, ‘এইডার নাম বিড়াল না, এইডা আমার পিকো। পিকোকে ঢাকায় কার কাছে রাইহা যাব? জন্মের পর আমার কাছে বড় হইছে। পিকোর মা কয়ডা দিন ছিল, পরে একদিন আর দেহা নাই।’

লকডাউনে পিকোর মানিকগঞ্জ যাত্রা

ছোটবেলায় প্রথমে গরুর দুধ, পরে পাউডারের দুধ খাইয়ে বড় করেছেন পিকোকে। বেশ যত্ন যে নেন, সেটি দেখলেই বোঝা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণীটির গলায় বেশ যত্ন করে একটি ঘণ্টা বেঁধে দিয়েছেন।

আরও বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল রহমতের কাছে। তবে তিনি হাঁটতে হাঁটতে আর কথা চালিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। এর মধ্যে আবার তার মোবাইল ফোনে আসে কল। আকাশেও মেঘের ঘনঘটা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও শুরু হয়। তাই কথা না বাড়িয়ে রহমতের চেষ্টা ছিল পিকোকে বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর।

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইজেএসওর জন্য ৬ তরুণের বাংলাদেশ দল

আইজেএসওর জন্য ৬ তরুণের বাংলাদেশ দল

৬ সদস্যের বাংলাদেশ দল লড়বে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে। ছবি: সংগৃহীত

৬ সদস্যের আইজেএসও বাংলাদেশ দলে আছে খুলনা জিলা স্কুলের এসএম আব্দুল ফাত্তাহ (৯ম), বরিশাল ক্যাডেট কলেজের মুহতাসিন আল ক্বাফি (এসএসসি-২১), ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অম্লান দে অভীক (এসএসসি -২১), আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবদুর রহমান (৯ম) এবং খুলনা জিলা স্কুলের কাজী নাদিদ হোসেন (৯ম) ও স্বাধীন রায় সানি (এসএসসি-২১)।

১৮তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (আইজেএসও) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে ৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।

আল আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক ৭ম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (বিডিজেএসও-২১) এর মাধ্যমে সারা দেশ থেকে এই ৬ জনকে বাছাই করা হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে দেশে নিয়মিত এই অলিম্পিয়াড আয়োজন হয়ে আসছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে জুলাই মাস থেকে অনলাইনে এই আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ প্রচারণা, অনলাইন আঞ্চলিক পর্ব, জাতীয় পর্ব ও ক্যাম্প আয়োজনের পর নির্বাচন করা হয়েছে দেশসেরা ৬ শিক্ষার্থীকে।

৬ সদস্যের আইজেএসও বাংলাদেশ দলে আছে খুলনা জিলা স্কুলের এসএম আব্দুল ফাত্তাহ (৯ম), বরিশাল ক্যাডেট কলেজের মুহতাসিন আল ক্বাফি (এসএসসি-২১), ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের অম্লান দে অভীক (এসএসসি -২১), আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবদুর রহমান (৯ম) এবং খুলনা জিলা স্কুলের কাজী নাদিদ হোসেন (৯ম) ও স্বাধীন রায় সানি (এসএসসি-২১)।

আইজেএসও বাংলাদেশ দলের দলপতি হিসেবে আছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্যবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সহকারী দলনেতা হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির স্বেচ্ছাসেবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান।

পর্যবেক্ষক হিসেবে আছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির অনুষ্ঠান সমন্বয়ক মাহমুদ মীম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গৌতম পাল। সুপারভাইজার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোরশেদা আক্তার মীম ও গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি আগামী ৩ মাস বাংলাদেশ আইজেএসও দলের প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু ক্যাম্প আয়োজন করবে। সেই সঙ্গে মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারে (ম্যাসল্যাব) ব্যবহারিক বিজ্ঞানের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবে।

এ বছর বিডিজেএসও-২০২১ এ অংশ নেয়ার জন্য তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ১৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে। দেশের ৬৪ জেলার ৪৩৭টি উপজেলার হতে শিক্ষার্থীরা এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। করোনায় এবারের অলিম্পিয়াড হয়েছে পুরোটাই অনলাইনে।

বিডিজেএসও-২০২১ যৌথভাবে আয়োজন করছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন।

আয়োজনটির টাইটেল স্পন্সর আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই সাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। সঙ্গে রাখেন আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম এবং মধু রাখার বালতি। সংগ্রহ করেন মধু। আর এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন তিনি।

এক মৌচাক ভাঙলে পাওয়া যায় ১৫-২০ কেজি মধু। শতভাগ খাঁটি ও বিশুদ্ধ মধু ক্রেতাকে পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দেন মামুন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের রতন বরিষ গ্রামে।

২০১৯ থেকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন মধু সংগ্রহের কাজ। তবে গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে নিজের বাড়ি চলে আসেন তিনি। পরে নিজের এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়েই আবার শুরু করেন মধু সংগ্রহ।

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

তবে মধুর ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন মামুন। তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাকের মধু সংগ্রহ করা গেলে এই মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। অনলাইনে মধু বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

মামুন জানান, মূলত মৌমাছিরা নিজেদের খাদ্য হিসেবেই মধু ফুল থেকে আহরণ করে। ফুলের মধ্যে নেক্টার নামের এক প্রকার মিষ্টি তরল পদার্থ থাকে। প্রথমে ফুল থেকে এই নেক্টার কর্মী মৌমাছিরা পান করে তাদের দেহের মধু থলিতে সংরক্ষণ করে মৌচাকে নিয়ে যায়। পরে মৌচাকে থাকা মৌমাছির মুখে দিয়ে দেয় কর্মী মৌমাছিরা। এরপর মৌচাকের মৌমাছিগুলো ফুলের রসের সঙ্গে তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত বেশ কয়েক ধরনের এনজাইম যোগ করে মৌচাকে সেগুলো জমা করে।

মধু শক্তি প্রদানকারী খাদ্যগুলোর মধ্যে একটি। দেহে তাপ ও শক্তি সঞ্চার করে শরীরকে সুস্থ রাখে। মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। প্রাকৃতিক মধুর অনেক চাহিদা রয়েছে।

মামুন বলেন, ‘মধু সংগ্রহের কাজে সহযোগী হিসেবে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন। আমরা সারা বছর গ্রামগঞ্জে সাইকেল চালিয়ে প্রাকৃতিক চাকের মধুর সন্ধান করি। কোথাও মধুর সন্ধান পেলে ছুটে যাই সেখানে। মধু সংগ্রহ করার সরঞ্জাম সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। এরপর চোখ খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে আমাদের একজন মৌচাক কাটি। সঙ্গে রাখা সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই আমরা মধু সংগ্রহ করি।’

এই উদ্যোক্তা জানান, শীতকালে প্রকৃতিতে ফুল বেশি ফোটে। অন্যান্য ঋতুর তুলনায় এই সময়েই মৌচাকগুলোতে মধুও বেশি পাওয়া যায়।

মধু চেনার সঠিক উপায়ও জানালেন মামুন। বলেন, ‘মানুষ মধু কিনতে গিয়ে ব্যাপক সংশয়ে পড়েন। মধু চেনার বেশ কিছু প্রচলিত উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও আছে। চুন দিয়ে পরীক্ষা, ফ্রিজে রেখে পরীক্ষা, পিঁপড়া দিয়ে পরীক্ষা-এগুলো আসলে সঠিক উপায় না।

‘আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা ক্রেতাদের ঠকানোর জন্য মধুতে আগুনে জ্বেলে ও পানি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখান। এগুলো মধু চেনার সঠিক উপায় নয়। একমাত্র ল্যাবটেস্টই আসল মধু চেনা যায়। তবে আসল মধুর নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ থাকে যেটি অনুধাবন করা যায়।’

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

তরুণদের নিয়ে আবার শুরু হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার

তরুণদের নিয়ে আবার শুরু হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার

দেশে অষ্টমবারের মতো শুরু হওয়া হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: সংগৃহীত

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামটির আমাদের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ উপযোগী তথ্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশেই নয়, পাশাপাশি এটি এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে যা ইন্ডাস্ট্রিতে এই খাতে দক্ষ ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) দক্ষ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে অষ্টমবারের মতো দেশে আবারও শুরু হয়েছে হুয়াওয়ের ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২১ বাংলাদেশ।’

এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সোমবার এই আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়।

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় যুক্ত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম শেখ, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য ড. মো. ফজলে ইলাহী এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জর্জ লিন।

সেখানে বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো. রুবাইয়াত তানভীর হোসেন।

বিশ্বব্যাপী এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশলবিদ্যা ও গণিত) এবং নন-এসটিইএম বিষয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ সিএসআর প্রোগ্রাম ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, জ্ঞান প্রদান এবং আইসিটি খাত সম্পর্কে আরও জানাশোনা ও আগ্রহ তৈরিতে কাজ করে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে চালু হওয়া প্রোগ্রামটি সারাবিশ্বে প্রায় দশ বছর ধরে মেধা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রোগ্রামটির আমাদের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ উপযোগী তথ্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশেই নয়, পাশাপাশি এটি এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে যা ইন্ডাস্ট্রিতে এই খাতে দক্ষ ব্যক্তিদের কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে।’

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জর্জ লিন বলেন, ‘তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। সামনের বছরগুলোতে, আইসিটি দক্ষতার ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি বিবেচনা করেই হুয়াওয়ে আইসিটি খাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশ করতে এই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে।

চলতি বছর প্রোগ্রামে দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। তাদের অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট, জ্ঞান, উদ্ভাবনী চিন্তার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ থেকে ১৮ জনকে বিজয়ী করা হবে। তারা সারা বিশ্বের অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে পরের পর্যায়ে অংশ নেবেন।

২০০৮ সালে থাইল্যান্ডে বৈশ্বিকভাবে চালু হওয়ার পর ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারা বিশ্বের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী এবং পাঁচ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত এই প্রোগ্রাম থেকে উপকৃত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

এক মার্কে মেডিক্যাল মিস, ডেন্টালে দেশসেরা

এক মার্কে মেডিক্যাল মিস, ডেন্টালে দেশসেরা

নাজমুস সাকিব রাহাত। ছবি: নিউজবাংলা

মাত্র এক নম্বরের জন্য মেডিক্যালে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ হয়নি পঞ্চগড়ের নাসমুস সাকিব রাহাতের। তবে দমে যাননি তিনি। নতুন উদ্যমে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। ফল পেলেন ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষায়।

সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় এবার জাতীয় মেধা তালিকায় দেশসেরা হয়েছেন পঞ্চগড়ের নাজমুস সাকিব রাহাত।

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া রাহাত ভর্তি পরীক্ষায় ১০০-এর মধ্যে ৯৫ পেয়েছেন। এভাবে তার সর্বমোট নম্বর দাঁড়িয়েছে ২৯৫। রোববার প্রকাশিত হয় পরীক্ষার ফল।

নাজমুস সাকিব রাহাতের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলারহাট ইউনিয়নের শিং রোড রতনী বাড়ি এলাকায়। তিনি ওই এলাকার সোলেমান আলীর ছোট ছেলে।

২০১৮ সালে পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে সেন্ট জোসেফ সেকেন্ডারি স্কুল থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত।

ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট পেয়েছি আমার বড় ভাই ইব্রাহিম খলিলের কাছ থেকে।’

তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই মানবতার সেবক হিসেবে নিজেকে দেখতে চেয়েছিলাম। স্বপ্ন ছিল একজন চিকিৎসক হয়ে সমাজের গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব। এবার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। মাত্র এক নম্বর কম থাকায় সেখানে ভর্তির সুযোগ পাইনি।’

ডেন্টালে দেশসেরা হতে পারলেও মেডিক্যালে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে রাহাত বলেন, ‘পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্যেরও একটা ব্যাপার থাকে।’

রাহাতের সাফল্য সম্পর্কে বড় ভাই মাদ্রাসাশিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী ছিল। ভদ্র ও বিনয়ী ছাত্র ছিল৷ আমি ভাই হলেও অন্য পরিচয়ে আমি তার শিক্ষক। পরিবার থেকে আমাদের স্বপ্ন ছিল রাহাতকে চিকিৎসক বানাব। সেভাবেই তাকে সহযোগিতা দিয়েছি। সবার দোয়া চাই, যেন বড় হয়ে অনেক বড় চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

মাঠে থেকে অনলাইনে ব্যবসায় সফল

মাঠে থেকে অনলাইনে ব্যবসায় সফল

ইউটিউবে দেখে রুটি তৈরির যন্ত্র বানিয়ে সফল হয়েছেন মাগুরার তৌহিদ। ছবি: নিউজবাংলা

তৌহিদ বলেন, ‘শহরে এক চায়ের দোকানে এক ছোট ভাই ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখায়, লোহা দিয়ে তৈরি রুটি তৈরির একটি যন্ত্র। আমি ভিডিও দেখে বাড়ি গিয়ে কাঠ দিয়ে বানানোর চেষ্টা করি এবং সফলতা পাই মাত্র চার দিনে। সেই থেকে এই ব্যবসার শুরু।’

মাগুরা পৌরসভার নালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ তৌহিদের বাড়ির চারপাশে পাট ও ধানক্ষেত। বাড়ির রাস্তা বলতে অন্যের জমির আইল ধরে আধা কিলোমিটার হেঁটে প্রথমে যেতে হয় গ্রামের পাকা সড়কে। সেখান থেকে গন্তব্যে।

বর্ষায় কর্দমাক্ত সেই মাঠ পাড়ি দিয়েই প্রতিদিন মাগুরা শহরে যান তৌহিদ। হাতে থাকে ‘রুটি মেকার’ নামে একটি যন্ত্র। অনলাইনে অর্ডার পেয়ে সেগুন কাঠের যন্ত্রটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সারা দেশে পাঠান তিনি।

এলাকায় তিনি পরিচিত তৌহিদ মিস্ত্রি নামে। বাপ-দাদার আমল থেকে তারা কাঠের আসবাবপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত। তৌহিদের শুরুও আসবাবপত্র বানানো দিয়ে। তবে পুঁজি কম থাকায় দুই বছর আগে এটি ছেড়ে দেন। এখন রুটি তৈরির কাঠের যন্ত্রটি বানান তিনি।

মাঠে থেকে অনলাইনে ব্যবসায় সফল

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কাঠের এই রুটি মেকার বেচে এখন স্বাবলম্বী তিনি। তার কারখানায় কাজ করেন আরও পাঁচজন। মাসে বিক্রি ৪-৬ লাখ টাকা।

তবে তৌহিদের শুরুটা এত সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এতদূর এসেছেন।

তৌহিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কাঠের আসবাবপত্র তৈরির জন্য ভালো পুঁজি লাগে। তাই আমার মতো হতদরিদ্র মানুষের কাজটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। এরপর শহরে এক চায়ের দোকানে এক ছোট ভাই ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখায়।

‘লোহা দিয়ে তৈরি রুটি তৈরির একটি যন্ত্র। আমি ভিডিও দেখে বাড়ি গিয়ে কাঠ দিয়ে বানানোর চেষ্টা করি এবং সফলতা পাই মাত্র চার দিনে। সেই থেকে এই ব্যবসার শুরু।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে মাগুরার বিভিন্ন প্রান্তে ফেরি করে বিক্রি করতাম। রোদের মধ্যে সারা দিন ছেলেকে নিয়ে বসে থাকতাম। খুব কষ্ট। বিক্রি হতো, তবে সন্তোষজনক না।

‘তবে করোনা যখন শুরু হলো, তখন আমার হাতে একটি নতুন সুযোগ এলো। এলাকার যুবক ছেলেরা আমার রুটি মেকার বিক্রি করতে একটা ফেসবুক পেজ খুলে দিল। সেখানে ছবিসহ ভিডিও দিলাম। এরপর অর্ডার পেতে থাকলাম। আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।’

এখন তার কারখানায় আরও পাঁচজন কাজ করেন জানিয়ে তৌহিদ বলেন, ‘সারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে অর্ডার পাচ্ছি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমার বাড়ি মাঠের মাঝে বলে নেটওয়ার্ক পেতে সমস্যা হয়। তবু আমি এসব বাধাকে মেনেই ব্যবসা করছি।’

মাঠে থেকে অনলাইনে ব্যবসায় সফল

এখন অর্ডারের পরিমাণ এত বেশি যে সময়মতো ডেলিভারি দেয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে বলে জানান তৌহিদ। তিনি বলেন, ‘মাল ডেলিভারি দিতে হিমশিম খাচ্ছি এখন। আমার মাল যারা নিয়েছে তারা আবার নিচ্ছে। কারণ আমি ভালো জিনিস তৈরি করি। এ কারণে আমার অনলাইন ব্যবসা এখন মাসে ৪-৬ লাখ টাকার বিক্রিতে পড়েছে।’

রুটি মেকারের বিষয়ে তৌহিদ জানান, সেগুন কাঠের তৈরি যন্ত্রটি তৈরিতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। তবে এটি ব্যবহার করা খুব সহজ। খামির গোল করে যন্ত্রটির মাঝে রেখে ওপর থেকে একটি পাটাতন হাতে ধরে চাপ দিলে বড় গোল আকারের রুটি তৈরি হয়।

তিনি আরও জানান, এই রুটি মেকার দিয়ে এক মিনিটে ১০টি রুটি তৈরি সম্ভব। এতে মানুষের শ্রম বাঁচে, সঙ্গে কষ্টও কমে; এ জন্য চাহিদা বেশি। গত দুই বছরে দেশের প্রায় সব জেলায় তিনি এটি পাঠিয়েছেন।

দামের বিষয়ে জানান, মানভেদে তিন ধরনের দাম রয়েছে তার রুটি মেকারের। ৭৫০, ৯০০ এবং ১ হাজার ১৫০ টাকায় একটি যন্ত্র বিক্রি করেন তিনি।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামান হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পড়ালেখা না জেনেও তৌহিদ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করছেন। এটা খুবই পজিটিভ একটা বিষয়। কত শিক্ষিত বেকার কত কিছুই জানে। তারাও অনেকে অনলাইনে ব্যবসা করছে, কিন্তু দুদিন পর লস গুনে হতাশ হচ্ছে।

‘অথচ তৌহিদ মিস্ত্রি কাদা মাঠে বসবাস করে। একটা পিসিও নেই। শুনেছি তার এক ভাস্তের (ভাইয়ের ছেলে) মোবাইল ব্যবহার করে সে লক্ষ টাকার ব্যবসা করছে। তার মাল সারা দেশের মানুষ কিনছে। ভাবতে ভালো লাগে যে আমার এলাকায় এ রকম একজন উদ্যোক্তা কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

গ্লোবাল পিস অ্যাওয়ার্ডে ২০ বাংলাদেশি

গ্লোবাল পিস অ্যাওয়ার্ডে ২০ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ থেকে ওয়ার্ল্ড পিস অ্যাওয়ার্ডে ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ক্রাউন প্লাজায় ৬ ক্যাটাগারিতে ১৮ জন সাহসী, সৃজনশীল উদ্যোক্তা, নেতা ও সংগঠনকে এই সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হবে।

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গ্লোবাল পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড ২০২১। এই আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ক্রাউন প্লাজায় ৬ ক্যাটাগারিতে ১৮ জন সাহসী, সৃজনশীল উদ্যোক্তা, নেতা ও সংগঠনকে এই সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হবে।

পুরস্কার আয়োজন করেছে ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন ফোরাম।

পুরস্কার পেতে বিশ্বের ৩১টি দেশ থেকে আবেদন করেন ১ হাজার ৬৭৫ জন। এদের মধ্য ২০ জন বাংলাদেশিসহ ৪৮ জন মনোনীত হন।

মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন ইকো নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আহমেদ মৃধা, সেভ সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা আয়ান মুমিনুল, শিক্ষাবিদ তন্ময় পাল চৌধুরী, ড্রিম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান শাফায়েত, সিজ দ্য ডে’র হেড অফ মার্কেটিং আকিদা বিনতে ইসলাম নুহা, ডা. রিফাত আল মাজিদ ভূঁইয়া, গিভ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ মিঠু, ডিবে অর্গানাইজার বিডির প্রেসিডেন্ট এইচ এম মারজান, প্রত্যুষ প্রতিষ্ঠাতা তানভির হাসান, নন্দিতা সুরক্ষা প্রতিষ্ঠাতা তাহিয়াতুল জান্নাত, হেল্প দ্য ফিউচার প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল্লাহ খালেদ এবং ওয়ান অফ ইউ প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল ইসলাম নিলয়।

বাংলাদেশে থেকে আরও নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার্স প্রতিষ্ঠাতা এ এস এম সাদমান সাকিব, ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব হুইলচেয়ার ক্রিকেটের সিইও মাহবুবুর রহমান, কলামিস্ট সাজিয়া আফরিন সুলতানা, বাংলাদেশ ইয়্যুথ মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা আইমান মাহমুদ, আর্শি কো-ফাউন্ডার সৈয়দা নাজনিন আহমেদ, পেনি ফর মানির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জেসান রেহমান এবং খন্দকার আবদুল্লাহ আল তাহমীদ, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ইয়ুথপ্রেনার নেটওয়ার্ক।

পাশাপাশি টিম ব্যর্থ ও ইয়্যুথ অ্যাকশন ফর বাংলাদেশ নামের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পায়।

আয়োজনের বিষয়ে বিডিএসআইএফ ও ডিএসআইএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলী আকবর বলেন, মূলত যাদের অনুকরণীয় প্রচেষ্টা অন্যদের জীবনকে উন্নত করেছে এবং শান্তি ও মানবিক সেবার সংস্কৃতিতে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখেছে তাদেরকেই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

ইন্টারফেইথ লিডারশিপ, লিডারশিপ ইন স্ট্রেনথেনিং ফ্যামেলিস, আউটস্টান্ডিং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড, গুড গভার্নেন্স অ্যাওয়ার্ড, ইনোভেটিভ স্কলারশিপ ফর পিস এবং গ্লোবাল পিস অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে এই মনোনয়ন দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন

প্রতিবন্ধী নাহিদুলের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোয় বাধা করোনা

প্রতিবন্ধী নাহিদুলের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোয় বাধা করোনা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নাহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনায় দুহাত হারিয়েও সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাহিদুল। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউড ও পঙ্গু হাসপাতালে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সংক্রমণ দেখা দেয়ায় পরে চিকিৎসক তার দুটি হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে ফেলেন।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাহাপাড়া গ্রামের নাহিদুল ইসলামের দুটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছিল দুর্ঘটনার পর। পাঁচ বছর আগের ওই দুর্ঘটনায় হাত দিয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারালেও মাথা নিচু করেননি তিনি।

নিজের চিকিৎসায় হওয়া ঋণের বোঝা নিয়েই উপজেলার সুরেশ্বর-কেদারপুর সড়কের পাশে একটি কনফেকশনারির দোকান দেন তিনি। সেই দোকানের আয়ে তার পাঁচ সদস্যের সংসার ভালোভাবেই চলছিল।

তবে করোনা পরিস্থিতিতে নাহিদুল পড়েছেন বিপাকে। আয় কমে যাওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার করছেন কষ্টের জীবন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়নের রাহাপাড়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল হামিদ চৌকিদারের ছেলে নাহিদুল। ২০১২ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব আসে তার কাঁধে। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে কাজ নেন নির্মাণ শ্রমিকের।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৫ সালে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় শাপলা হাউজিং সেন্টার নামের একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পে কাজ শুরু করেন নাহিদুল। ১৮ আগস্ট নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি।

এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সস্টিটিউট ও পঙ্গু হাসপাতালে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সংক্রমণ দেখা দেয়ায় পরে চিকিৎসকরা তার দুটি হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে ফেলেন।

নাহিদুলের চিকিৎসায় ওই সময় তার দরিদ্র পরিবারকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। অর্থ জোগাড় করতে ফসলি জমি ও বসতঘর বিক্রির পাশাপাশি ঋণও করতে হয়।

তারা আরও জানান, ঋণের বোঝা ও সংসারের দায়িত্ব মাথায় নিয়েই গ্রামে ফেরেন নাহিদুল। আশ্রয় নেন সুরেশ্বর গ্রামে শ্বশুর নান্নু মালতের বাড়িতে। কিছুদিন পর গ্রামের সড়কের পাশে ছোট একটি কনফেকশনারির দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

প্রতিবন্ধী নাহিদুলের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোয় বাধা করোনা

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেয়। দোকানের আয় ও ভাতার টাকা দিয়ে সংসার ও দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ চলছিল তার।

তবে করোনার কারণে তার দোকানের বিক্রি কমে গেছে। আয় কমে যাওয়ায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন।

নাহিদুলের স্ত্রী মুক্তা আক্তার জানান, নাহিদুল যখন দুর্ঘটনায় হাত হারান তখন তাদের পৃথিবী থেমে গিয়েছিল। তবে নাহিদুলের মনের শক্তিতে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। করোনা তাদের সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয় কমে যাওয়ায় দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ ও সংসারের খরচ জোগাতে এখন অনেক কষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে হাত পেতে নয়, আমরা পরিশ্রম করে বাঁচতে চাই। আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের সহায় হবেন।’

নাহিদুল বলেন, ‘আল্লাহ আমার হাত কেড়ে নিলেও মনের শক্তি ও সাহস বাড়িয়ে দিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে কয়েক লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে গ্রামে ফিরে আসি। কী করব ভাবতে পারছিলাম না।

‘দিশেহারা হয়ে স্বজনদের সহায়তা নিয়ে সড়কের পাশে দোকান খুলে বসি। তার আয় দিয়ে ভালোই চলছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি কম, আয় নেই। চরম বিপাকে পড়েছি। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে আবার ঋণ করতে শুরু করেছি।’

ঘড়িসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব খান বলেন, ‘নাহিদুলের দুটি হাত নেই, কিন্তু সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছে শক্তি তার।

‘হাত দিয়ে কিছু করতে পারে না, তারপরও তিনি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর দেয়া হয়েছে তাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তাকে সাহায্য করে থাকি।’

আরও পড়ুন:
‘তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই পুচি ফ্যামিলির ফ্যান’
পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী
বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ
‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসীর বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ
ফটিকছড়িতে মেছো বিড়াল উদ্ধার

শেয়ার করুন