এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এবার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মাতাবে সৌদি আরব

এক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের লক্ষ্য ১০০ ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি করা। ছবি; সৌদি গেজেট

বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।  

ধীরে ধীরে নিজেদের কক্ষপথ ছেড়ে বের হতে শুরু করেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটির পাঠ্য বইয়ে রামায়ণ, মহাভারত পাঠ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

এবার দেশটি জোর দিয়েছে নিজেদের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইন উন্নয়নে। এ জন্য ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামে একটি নতুন প্রোগ্রাম উন্মোচন করেছে দেশটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সৌদি গেজেট জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন চালু করা সংস্থা দ্য ফ্যাশন কমিশন ‘সৌদি ব্র্যান্ড ১০০’ নামের ওই প্রোগ্রাম ফ্যাশন ম্যাগাজিন ও ব্র্যান্ড ভোগ-এর সঙ্গে শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বৃহস্পতিবার।

এই প্রোগ্রাম হবে এক বছরের। বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ফ্যাশন ব্র্যান্ড উন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের এককভাবে বা গ্রুপ আকারে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, অনলাইন সেশন ও পরামর্শ দেয়া হবে।

সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামটি বৃহৎ আকারে করা হচ্ছে, যেখানে থাকছে ব্র্যান্ডিং, ধারণা, সেলস পারফরম্যান্স স্ট্র্যাটেজি, জনসংযোগ ও বিপণন, ক্লায়েন্ট নির্বাচন, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি এবং নেতৃত্ব দক্ষতার প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌদি ডিজাইনার ও ব্র্যান্ডকে কীভাবে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া যায় অংশগ্রহণকারীদের সেটিও শেখানো হবে। এ জন্য অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক দলের কাছ থেকে বিষয়গুলো জানতে ও শিখতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এই প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের কাজটি করবে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে থাকছে এলভিএমএইচ, কেরিং, ভ্যালেন্তিনো ফ্যাশন গ্রুপ, চানেল, বুলগারি অ্যান্ড স্করোভস্কি। সেই সঙ্গে শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ দেবে সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিনস, রয়েল কলেজ অফ আর্ট, ইয়েল অ্যান্ড পারসনস।

স্থানীয় বাজারে ক্রেতা বাড়াতে এবং সরাসরি বিক্রিকে উৎসাহিত করতে প্রোগ্রামটি প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ডিসেম্বরে রিয়াদে একটি সম্মেলন করবে। পাশাপাশি অনলাইনে ই-সেল, পাইকারি ও আন্তর্জাতিক বিক্রি বাড়াতে ২০২২ সালের প্রথমদিকে করা হবে একটি ক্যাম্পেইন।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাশন কমিশন ভোগের সঙ্গে সহযোগী হয়ে স্থানীয় ও আঞ্চলিক রিটেইল গড়ে তুলবে। ভোগ আরবিয়া শুধু মিডিয়ায় ব্র্যান্ডগুলোর প্রসারেই কাজ করবে এমন নয়, পাশাপাশি ফ্যাশন সম্পর্কিত সম্পাদকীয় ও সামাজিক মাধ্যমে এর প্রসারেও কাজ করবে।

আঞ্চলিক রিটেইলররা ভার্চুয়াল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেবে এবং ২০২২ সালের রমজান মাসকে সামনে রেখে বিক্রি পরিচালনাসহ রিটেইল স্টোর চালুর ব্যবস্থা করবে।

অবশ্য ‘সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড’ থেকে কিছু ব্র্যান্ড অধিগ্রহণের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রিতে সহায়তাও দেবে ভোগ আরবিয়া।

ফ্যাশন কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বুরাক চাকমাক বলেন, ‘সৌদি আরব ফ্যাশনসহ এখন সব খাতেই উন্নতি করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য ফ্যাশনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচরণের এটা খুব ভালো সুযোগ।

‘স্থানীয় সৃজনশীলতা, ডিজাইন স্টুডিও, বিপণন ও কমিউনিকেশন এজেন্সি, উৎপাদক ও পরিবেশকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ফ্যাশন ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০-এর মতো প্রোগ্রাম দিয়ে আমরা সৌদি ডিজাইনারদের নিয়ে শুধু স্থানীয় নয়, বিশ্বমঞ্চও কাঁপিয়ে দিতে চাই।’

ভোগ আরবিয়ার এডিটর ইন চিফ ম্যানুয়েল আরনাট বলেন, ‘ভোগ আরবিয়া স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তুলে আনার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সৌদি ব্র্যান্ড ১০০ প্রোগ্রামের সঙ্গে সহযোগী হওয়া তারই ধারাবাহিকতা। আমরা সৌদি ফ্যাশন কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। আমরা কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বরং বৈশ্বিকভাবেই উদ্ভাবনের এই যাত্রাকে দীর্ঘ করতে পারব।’

সৌদি ১০০ ব্র্যান্ড প্রোগ্রাম মূলত দেশটির ১০০ ডিজাইনরাকে এবং বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিতি করানো, ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোকে অন্যদেশের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া, ব্যবসায়িক সুবিধা দেয়া। সেই সঙ্গে ফ্যাশন কমিশনের এমন চেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগসহ অন্য সুবিধা দেয়ার কাজও করবে ভোগ।

এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে ব্র্যান্ডগুলোকে নিবন্ধনের (www.saudi100brands.com ) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারত-পাকিস্তানের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকছেই
সৌদিগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচ দেবে সরকার
সৌদি যাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে নিশ্চিত করতে হবে কোয়ারেন্টিন
ইকামার মেয়াদ বাড়াল সৌদি
টিকা ছাড়া সৌদি গেলে নিজ খরচে কোয়ারেন্টিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য