বিবাহবার্ষিকীর পরদিন সানিয়াকে শুভেচ্ছা শোয়েবের

পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিক ও ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। ছবি: টুইটার

বিবাহবার্ষিকীর পরদিন সানিয়াকে শুভেচ্ছা শোয়েবের

গত সোমবার ছিল সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিকের ১১তম বিবাহবার্ষিকী। দুজনের ছবি পোস্ট করে সানিয়াকে শুভেচ্ছা জানান শোয়েব মালিক।

টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা ও ক্রিকেটার শোয়েব মালিক দম্পতির ১১তম বিবাহবার্ষিকী ছিল সোমবার। সে উপলক্ষে দুজনের ছবি পোস্ট করে স্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শোয়েব। তবে পোস্টটি তিনি করেছেন পরের দিন মঙ্গলবার।

টুইট করে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে অবশ্য প্রথমেই নিজের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন শোয়েব। লিখেছেন, ‘অপস.. গালতি সে মিসটেক হোগায়া...’

তিনি আরও লেখেন, ‘সব সময়ই একদিন পর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, লাভ ইউ সানিয়া মির্জা মুন অ্যান্ড ব্যাক বেগম, বে-ঘুম।’

টুইটে লেখার সঙ্গে শোয়েব মালিক দিয়েছেন দুটি ইমোজি।

এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সানিয়া লিখেন, “‘মোটা” ও “পাতলা”, ভালো-মন্দে শুভ বিবাহবার্ষিকী। আরও অনেক বছর ধরে তোমাকে জ্বালাব ইনশা আল্লাহ। ১১ বছর।’

পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করেন ২০১০ সালে। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

মুখে মাস্কের ছবি এঁকে ধোঁকা: ফাঁসলেন রুশ তরুণী

ইন্দোনেশিয়ায় মাস্ক পরা নিয়ে প্র্যাংক করায় দুই বিদেশিকে দেশত্যাগের আদেশ

ছোঁয়াচে ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নির্দেশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় এই দুই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের পাসপোর্ট জব্দ করেছে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালিতে এক বিদেশি তরুণী মজার ছলে সুপারমার্কেটে প্রবেশ করেছিলেন মাস্কের আদলে মুখে রং মেখে। সঙ্গে থাকা তার বন্ধুর ধারণ করা মোবাইল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ওঠে সমালোচনার ঝড়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ।

ভাইস ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানিজ-আমেরিকান তরুণ জোস প্যালের লিন ও রুশ তরুণী লিয়া সি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেন।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, লিয়া সির মুখে শুরুতে কোনো মাস্ক ছিল না। এ কারণে তিনি একটি সুপারমার্কেটে ঢুকতে ব্যর্থ হন।

তবে এরপর সার্জিক্যাল মাস্কের আদলে নাক থেকে চিবুক পর্যন্ত হালকা নীল রঙ করে সুপারমার্কেটে ঢোকেন লিয়া সি। বিষয়টি কারও চোখে ধরা পড়ছে কিনা, মজা করে সেটাই যাচাই করতে চেয়েছিলেন তিনি ও তার বন্ধু।

সুপারশপে প্রবেশের পর তাদের ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁকা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ হাসাহাসি করছেন তারা।

ভিডিওতে লিন মজা করে হাঁটতে হাঁটতে বলেন, ‘তুমি কি খেয়াল করেছ যে তোমাকে কেউ আলাদাভাবে খেয়াল করছে না?’

উত্তরে সি বলেন, ‘একদম আসল মাস্কের মতো করেই মাস্ক এঁকেছি যে!’

প্রতিক্রিয়ায় লিন বলেন, ‘কেউ বোঝেনি যে এটা আসল মাস্ক নয়। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীরাও। অবিশ্বাস্য ঘটনা!’

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত, তখন স্বাভাবিকভাবেই এমন মজা ভালোভাবে নেননি বেশিরভাগ মানুষ।

তুমুল বিতর্কের মুখে ইউটিউব থেকে ভিডিও ক্লিপটি মুছে দিয়েছেন লিন ও সি। তবে এর পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাদের।

ছোঁয়াচে ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নির্দেশি স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করায় এই দুই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের পাসপোর্ট জব্দ করেছে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় বালির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিজ দেশের বা বিদেশি- কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেই এ ধরনের বেপরোয়া আচরণ প্রত্যাশিত নয়। জনস্বাস্থ্য ও অন্যদের সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যে কাউকে প্রয়োজনে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেবে কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের ব্যবস্থা আগেও নিয়েছি আমরা। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও নেব।’

বিষয়টি নিয়ে ছবি ও সংক্ষিপ্ত ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেছেন লিন ও সি। মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তারা দুজনেই ক্ষমা চেয়েছেন।

লিন জানান, তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে মানুষকে বিনোদন দেয়াই তার কাজ।

আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি যে বিষয়টি এতোটা নেতিবাচক মন্তব্য উস্কে দেবে। আমরা ক্ষমা চেয়েছি। প্রতিজ্ঞা করছি যে ভবিষ্যতে আর এমন করব না। বরং মাস্ক পরায় উৎসাহিত করছি।’

তবে এতেও নমনীয় হয়নি ইন্দোনেশীয় প্রশাসন। দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যাদের কাছে মজার বিষয়, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ লাখের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ৫২১ জনের।

শেয়ার করুন

এবার নাচল কেরালার পুলিশ

এবার নাচল কেরালার পুলিশ

কেরালা রাজ্যের পুলিশের নাচ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

জনপ্রিয় তামিল ‘এনজয় এনজামি’ গানে নেচেছেন ওই পুলিশ কর্তারা। যদিও গানটির কথা বদলে দিয়েছেন তারা। সেখানে তারা করোনার এই সময় সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন গানে।  

করোনা সংক্রমণের সময় রোগীদের চিকিৎসা দিতে নিজেদের মনোবল ধরে রাখতে বাংলাদেশে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের তিন চিকিৎসকের নাচ ভাইরালের পরই সামনে এসেছে কেরালা পুলিশের একটি নাচের ভিডিও।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পরায় লোকজনকে সচেতন করতে ভারতের কেরালা রাজ্যের পুলিশের সেই নাচও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

কয়েকদিন আগে নাচের ভিডিওটি আপলোড করলেও তা ভাইরাল হয়েছে পরে।

কয়েকদিন আগেই কেরালায় তিনজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর নাচের ছবি ভাইরাল হয়েছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে নেচে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, কেরালা পুলিশের মিডিয়া সেন্টার বিভাগের নয় কর্মকর্তা ইউনিফর্ম পরে কোভিড-১৯ ঠেকাতে সচেতনতার জন্য এমন নেচেছেন।

জনপ্রিয় তামিল ‘এনজয় এনজামি’ গানে নেচেছেন ওই পুলিশ কর্তারা। যদিও গানটির কথা বদলে দিয়েছেন তারা। সেখানে তারা করোনার এই সময় সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন গানে।

গত বছরও কেরালা পুলিশ হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি নাচ কাভার করেছিল। যা পরে ভাইরাল হয়।

সর্বশেষ ভিডিওটি গত বুধবার সামনে আসে যখন কেরালায় একদিনে ৩৫ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়।

ভারত এখন করোনা নিয়ে সংকটময় সময় পার করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৪৫২ জনের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস পাওয়া যায়। এই সময় সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ৩ হাজার ৪৯৮ জন।

যদিও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাসহ বেশকিছু প্রতষ্ঠানের দাবি, করোনায় ভারতে যে পরিমাণ মৃত্যুর তথ্য দেয়া হচ্ছে তার থেকে মৃত্যু অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালের বাইরে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের ধরা হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানায় সচেতন করতে কেরালা পুলিশের নাচ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়েই।

শেয়ার করুন

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন

বাঙ্গির পক্ষে-বিপক্ষে রীতিমতো দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে ফেসবুকে। ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুটি গ্রুপে সক্রিয় কয়েক হাজার সদস্য। বেলে দোআঁশ ও পলি মাটিতে জন্মানো গ্রীষ্মকালীন ফলটি নিয়ে তাদের মুখোমুখি অবস্থান। একটি পক্ষ বাঙ্গির গুণ বর্ণনায় মেতেছে, আর আরেক পক্ষ ফল হিসেবেই মানতে চাচ্ছে না।

দেশজুড়ে লকডাউনে রাজপথ যখন শান্ত, যুদ্ধ তখন জমে উঠেছে অনলাইনে। একটি দেশি ফল নিয়ে গত এক মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা।

বেলে দোআঁশ ও পলি মাটিতে জন্মানো গ্রীষ্মকালীন ফল বাঙ্গি নিয়েই এই মুখোমুখি অবস্থান। বিতর্কের আশু সুরাহার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

একটি পক্ষ বাঙ্গির নানান গুণ বর্ণনায় মেতেছে, আর আরেক পক্ষ ফল হিসেবেই মানতে চাচ্ছেন না। বাঙ্গির পক্ষে-বিপক্ষে রীতিমতো দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে ফেসবুকে। ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুটি গ্রুপে সক্রিয় কয়েক হাজার সদস্য।

বাঙ্গির গুণে মুগ্ধ যারা

বাঙ্গিকে অতি পছন্দ করেন, এমন কয়েক হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী যোগ দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতি- BABA JOSH’ নামের গ্রুপে। এই ফেসবুক গ্রুপের সদস্য এখন ৪ হাজার তিন শ। গ্রুপের সদস্যরা বাঙ্গিকে জনপ্রিয় ফল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন
বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতি- BABA JOSH’ নামের ফেসবুক গ্রুপে সদস্য ৪ হাজারের বেশি

গ্রুপটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগই বৈচিত্র্য পছন্দ করে না। হাতে গোনা কয়েকটা বিদেশী ফল চিনে। তা নিয়েই সন্তুষ্ট। মূলত বাঙ্গি একটি রূপক, আন্দোলনটা আসলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ফলগুলোকে লাইমলাইটে ফিরিয়ে আনা নিয়ে। তাছাড়া দেশীয় ফল ও কৃষিপণ্যের উপর চলমান কুৎসা রটনা নিবারণ, আত্মপরিচয় সংকট নিরসন ও হীনমন্যতা দূরীকরণও আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতির অ্যাডমিন অপু নজরুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাঙ্গি যদি জনপ্রিয়ই না হবে তাহলে বাজারের এত বাঙ্গি কোথায় যায়। আসলে গ্রুপটা খোলা হয়েছে রূপক অর্থে। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বেশিরভাগই বৈচিত্র্য পছন্দ করে না। হাতে গোনা কয়েকটা বিদেশি ফল চেনে। তা নিয়েই সন্তুষ্ট। মূলত বাঙ্গি একটি রূপক, আন্দোলনটা আসলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া দেশীয় ফলগুলোকে লাইমলাইটে ফিরিয়ে আনা নিয়ে।’

অপু নজরুল আক্ষেপ করে বলেন, ‘একটা প্রজন্ম বাঙ্গি না খেয়েও বাঙ্গি নিয়ে ট্রল করে। আসলে সেই জায়গা থেকেও তারা জানতে পারবে বাঙ্গি নিয়ে। আমার এই গ্রুপ খোলার পর আরেকটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানে ফলটি বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। এতে কিন্তু আমি অনেক বেশি খুশি হয়েছি। ওখানেও অনেকে যোগ দিচ্ছে। তারাও বাঙ্গির পক্ষে কথা বলছে। নেতিবাচিক কোনো কিছু থেকে যদি ভালো কিছু হয় তবে সেটাই ভালো।’

এই গ্রুপের একজন সদস্য মন্তব্য করেছেন, ‘বাবাজোসের রাজনৈতিক সংগঠনের নাম হতে পারে হেফাজতে বাঙ্গি! আর এর মূলনীতি হবে, “বাঙ্গি লাভার জনগণ, বাঙ্গি হেফাজতে সারাজীবন!” আরও কিছু হয় কিনা জানান’

আরেকজন কয়েক কৃষকের ছবি দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘যারা বাঙ্গি নিয়ে নেতিবাচক গ্রুপ বানিয়েছে তারা কৃষকের শত্রু, দেশের শত্রু। বাঙ্গি খান কৃষক বাঁচান’

একজন লিখেছেন, ‘বাঙ্গীর ভূবনে আমি প্রেম উদাসী, যতই খাই ১মবার বাঙ্গী খাওয়ার সাধ ২য় বার হয়নি আর হবে না।

ঠিক ১ম প্রেমের মত—’

বাঙ্গি বিলুপ্তির দাবিতেও শক্ত অবস্থান

বাংলাদেশ বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ সমিতির ঠিক বিপরীত অবস্থান নিয়ে বাঙ্গি বিলুপ্তির দাবি তুলেছেন আরেকটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা। ‘বাংলাদেশ বাঙ্গি বিলুপ্তকরণ সমিতি– বাবাবিস’ নামের এই গ্রুপের সদস্য ৪ হাজার সাত শ। গ্রুপের অ্যাবাউট অংশে বলা হয়েছে, ‘বাঙ্গি নামের অখাদ্য, ফলরূপী ইম্পোস্টর দুর্গন্ধবোমা থেকে মানবসমাজকে উদ্ধার করতে আমাদের এই উদ্যোগ।’

বাঙ্গি নিয়ে তুমুল যুদ্ধে উত্তপ্ত অনলাইন
'বাংলাদেশ বাঙ্গি বিলুপ্তকরণ সমিতি– বাবাবিস’ নামের ফেসবুক গ্রুপে সদস্য প্রায় ৫ হাজার

বাবাবিসের অ্যাডমিন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বাঙ্গি তার এক বন্ধুর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এই গ্রুপের জন্ম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমে বাঙ্গি জনপ্রিয়করণ গ্রুপটি করা হয়। সেটা দেখে আমাদের গ্রুপের আরেক এডিমিন ইসতিয়াক আকিবের ছোটবেলায় বাঙ্গি খাওয়ার কথা মনে পড়ে। বাঙ্গির যে গন্ধ তা নিয়ে বিরক্তি থেকেই আসলে এই গ্রুপের যাত্রা। তবে নেহাত মজা করার উদ্দেশ্যে এমন করা হয়েছে। এই যে একটা নেগেটিভ প্রচার চলছে তাতেও তো মানুষ বাঙ্গি কিনে দেখতে চাইছে এটা কেমন!’

বাঙ্গি বিরোধী গ্রুপ করেও বাঙ্গির ‘অত্যাচার’ থেকে মুক্তি পাননি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। সেই করুণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রুপ নিয়ে একটা পত্রিকায় প্রতিবেদন করা হয়েছিল, আর সেটা আমি বাবাকে জানানোর পর বাবা ওইদিন সন্ধ্যায় বাঙ্গি কিনে নিয়ে আসে।’

এই গ্রুপের এক সদস্য লিখেছেন, ‘বাসায় বাঙ্গি এনেছে।সবাই দোআ করবেন আমার জন্য। সেখানে একজন কমেন্ট করেছেন, না বাবা এত সহজে বাঙগি থেকে তোমাকে রেহাই দেয়া হবে না, খেতেই হবে।’

আরেক জন লিখেছেন, ‘আমি ছোট থেকে ভাবতাম, শুধু আমি ই বোধহয় বাঙ্গী পছন্দ করি না। এই গ্রুপে আইসা মনে হইতেছে, my whole life was a lie! বাংলাদেশ থেকে বাঙ্গি বিলুপ্তকরণের এই সমিতিতে যুক্ত হয়ে নিজেকে ধন্য বোধ করছি!প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত। আপনারা এগিয়ে চলুন।’

একজন লিখেছেন, ‘বাঙ্গি খাওয়ার জন্য বাসা থেকে অনেক চাপাচাপি করতেছে। প্লিজ হেল্প মি।’

সেখানে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘কল ৯১১’।

আরেকজন লিখেছেন, ‘ফালুদায় বাংগি দেওয়ার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড রেস্টুরেন্ট মালিকের।’

বাঙ্গি সম্পর্কে জরুরি তথ্য

সরকারের কৃষি বাতায়নে বাঙ্গির গুণাগুণ ও চাষের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বাঙ্গি এক রকমের শশা জাতীয় ফল যার অন্য নাম খরমুজ, কাঁকুড়, ফুটি। যার বৈজ্ঞানিক নাম Cucumis melo এবং ইংরেজি নাম Muskmelon. দেশের প্রায় সব এলাকাতেই গ্রীষ্মকালে বাঙ্গি জন্মে। তরমুজের পর এটিই অধিক প্রচলিত শসা গোত্রীয় ফল। বাঙ্গিগাছ দেখতে অনেকটা শসা গাছের মতো, লতানো।

কৃষি বাতায়নে বলা হয়েছে, ছোট এবং লম্বাটে জাতকে চিনাল বলা হয়। ফুটি বেশ বড় আকারের হয়, কাচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ রঙের হয় এবং ফেটে যায়। ফলের বাইরের দিকটা মিষ্টি কুমড়ার মতো হালকা ডোরা কাটা খাঁজযুক্ত। খেতে তেমন মিষ্টি নয়, অনেকটা বেলে বেলে ধরনের। এর ভেতরটা ফাঁপা থাকে। কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। বাঙ্গিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন।

বাঙ্গির বিভিন্ন জাত সম্পর্কে কৃষি বাতায়নে বলা হয়েছে, প্রধানত দুই জাতের বাঙ্গি দেখা যায়, বেলে ও এঁটেল বাঙ্গি। বেলে বাঙ্গির শাঁস নরম। খোসা খুব পাতলা, শাঁস খেতে বালি বালি লাগে, তেমন মিষ্টি নয়।

অন্যদিকে, এঁটেল বাঙ্গির শাঁস কচকচে, একটু শক্ত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি মিষ্টি। বাঙ্গি লম্বাটে সাধারণত লম্বাটে হলেও গোলাকার মিষ্টি কুমড়ার মতো বাঙ্গিও রয়েছে। এ প্রজাতির বাঙ্গির অপর নাম চীনা বাঙ্গি।

শেয়ার করুন

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালামের তোলা আলোকচিত্র।

পেশায় হেলিকপ্টার পাইলট মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম। আর পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা, মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

‘কোনো কিছু দেখে নিজের যে অনুভূতি হয়, চেষ্টা থাকে আমার তোলা ছবিতে সেই ফিলটা তুলে আনতে। আর ক্যামেরা একটা যন্ত্র হলেও, এটা আমার আবেগ কেড়ে নেয়ার বদলে বাড়িয়ে দেয়’- বলছিলেন আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম।

শখের আলোকচিত্রী তিনি। নিজেকে শিক্ষার্থী বলতেই বেশি ভালোবাসেন। ক্যামেরায় চোখ রাখছেন বেশিদিন হয়নি। ২০১৪ সালে নিকন ৩৩০০ নিয়ে ইচ্ছাপূরণের কাজ শুরু খালিদের। ছোটবেলায় ক্যানভাসে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা বড়বেলায় ফ্রেম, কম্পোজিশন, এক্সপোজারে রুপান্তরিত হয়েছে।

শখের ফটোগ্রাফার, তাই ছবি তোলেন সময় পেলেই। অথচ সেই সময়টাই যেত হাতের মুঠোয় আসতে চায় না খালিদের।

তিনি বলেন, ‘আমি পেশায় একজন হেলিকপ্টার পাইলট। অফিস করতে হয় ৯টা টু ৫টা। ছবি তোলার জন্য যে আলোটা প্রয়োজন, সেই সময়টাতে আমার অফিস থাকে। তাই ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’

হেলিকপ্টারে যিনি আকাশে ওড়েন তার চোখে দৃশ্য ধরা দেয় অন্যরকমভাবে। এই কথায় সায় দিলেন খালিদ। বললেন, ‘উপর থেকে দৃশ্যগুলো অদ্ভুত সুন্দর। কিন্তু কাজে থাকার কারণে ক্যামেরা সঙ্গে নেয়া হয় না, ছবিও তোলা হয় না।’

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প
আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

খালিদের পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তাই তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। খালিদ বলেন, ‘এই ধরন ছাড়া আমার তেমন একটা উপায়ও নেই। কারণ কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি তুলতে গিয়ে বিচিত্র বিষয় পাওয়া আমার জন্য কঠিন।’

আর এভাবে শখের বসে ছবি তুলেই জমিয়ে ফেলেছেন তিন হাজারের মতো নান্দনিক শিল্প। খালিদ জানালেন, এসব থেকে দুইশ থেকে আড়াইশ ছবি তিনি আলাদা করে রেখেছেন প্রদর্শনীতে পাঠানোর জন্য।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনাল ফোটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড (পিআইপি) ২০২০ প্রতিযগিতায় ৬২ দেশের ৬০০ আলোকচিত্রীর ৬৭৩২ ছবি জমা পড়ে। সেখানে খালিদ ভুটান ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গোল্ড মেডেল, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ফোটোগ্রাফি রিবনসহ নয়টি একসেপট্যান্স অর্জন করেছেন।

এছাড়া, নিউ ইয়র্ক ফটো স্যালন ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় এফআইএপি অনারেবল মেনশনসহ বেশ কিছু একসেপট্যান্স রয়েছে তার।

খালিদ এশিয়ান ফটোগ্রাফার্স ইউনিয়নের আজীবন সদস্য, এছাড়া তিনি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ আমেরিকা, গ্লোবাল ফটোগ্রাফিক ইউনিয়নসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের সদস্য। বাংলাদেশ ফিনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একজন কার্যনির্বাহী সদস্যও তিনি।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

এত কিছুর মাধ্যমে খালিদ ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে চান। যেখানে সম্মান ও সুরক্ষা দুই-ই পাবেন একজন ফটোগ্রাফার। স্বপ্ন দেখেন নতুন নতুন কাজ করতে। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কিছু কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার, কিন্তু পরিবারের জন্য করতে পারি না। কোভিডের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে থেকে কাজগুলো করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

তিন সন্তান, স্ত্রী নিয়ে মিরপুরে থাকছেন খালিদ। সন্তানদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয় ক্যামেরা আর ফটোগ্রাফি নিয়ে। তবে কিছু কমন সমস্যার কথাও বললেন হাসতে হাসতে।

‘ফটোগ্রাফারের পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রীরা সময় না দেয়ার অভিযোগ করেন। অনেক সময় বলে যে, ওই ছবিটা ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি আমার বা আমাদের ছবি ভালো করে তুলে দাও নাই।’

তবুও পরিবারের সমর্থন আর ত্যাগেই খালিদ এগিয়ে যাচ্ছেন তার স্বপ পূরণে।

শেয়ার করুন

ইসরায়েলে মাস্কের দিন শেষ

ইসরায়েলে মাস্কের দিন শেষ

ইসরায়েলে এক বছরের বিধিনিষেধের পর স্বাভাবিক হয়েছে জীবনযাত্রা।

প্রায় এক বছরের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পর ইসরায়েলিদের জীবনযাত্রা এখন প্রায় স্বাভাবিক।ঘরের বাইরে আর মাস্ক পরতে হবে না। সেই সঙ্গে সব শিক্ষার্থীও ফিরেছে ক্লাসে।

ইসারায়েলে ঘরের বাইরে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরোপুরি খুলে দেয়া হয়েছে স্কুল। দীর্ঘ এক বছরের বিধিনিষেধের পর রোববার প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছেন দেশটির নাগরিকেরা।

৯৩ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইসরায়েলে কোভিড ১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় জোরদার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ফাইজারের দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন ৫৪ শতাংশ নাগরিক, পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা অনেক কমে এসেছে দেশটিতে।

এমন অবস্থায় প্রায় এক বছরের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। তবে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইনডোর পাব্লিক প্লেসে এখনও সতর্কতা জারি থাকবে, এসব জায়গায় যাওয়ার সময় নাগরিকদের হাতে মাস্ক রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের শিক্ষার্থীরাও পুরোপুরি ক্লাসে ফিরেছে। দেশটিতে কয়েক মাস কেবল কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা ছিল, তবে রোববার থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেয়া হয়। করোনাভাইরাস মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের মতোই এখন থেকে ক্লাস চলবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, খুলে দেয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে খোলামেলা পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

শেয়ার করুন

নগ্ন হয়ে জুম কলে, ক্ষমা চাইলেন এমপি

নগ্ন হয়ে জুম কলে, ক্ষমা চাইলেন  এমপি

কানাডার কুইবেকের সংসদ সদস্য উইলিয়াম আমোস। ছবি: সংগৃহীত

ভার্চুয়াল সেশন চলা অবস্থায় ল্যাপটপের ক্যামেরা চালু হওয়ার পর লিবারেল পার্টির এমপি উইলিয়াস আমোস নগ্ন অবস্থায় হাজির হন। এ সময় তার হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই পাশে ছিল কুইবেক ও কানাডার পতাকা।

কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের অনলাইন বৈঠকে নগ্ন হয়ে হাজির হয়েছেন এক সংসদ সদস্য (এমপি)।

অসাবধানতাবশত এমনটি হয়েছে জানিয়ে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভার্চুয়াল সেশন চলা অবস্থায় ল্যাপটপের ক্যামেরা চালু হওয়ার পর লিবারেল পার্টির এমপি উইলিয়াস আমোস নগ্ন অবস্থায় হাজির হন। এ সময় তার হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই পাশে ছিল কুইবেক ও কানাডার পতাকা।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমোস ক্ষমা চান সহকর্মীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বড় ভুল করে ফেলেছি; আমি বিব্রত।’

৪৬ বছর বয়সী আমোস এ ঘটনায় একটি টুইটও করেছেন। এতে তিনি বলেন, ‘আমি জগিং করে এসে অফিসের পোশাক পরার সময় ভুলক্রমে ক্যামেরা অন হয়ে যায়।

‘সহকর্মীদের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাই। এটা সত্যিই খুব বড় ভুল এবং এমন ভুল আর ভবিষ্যতে হবে না।’

কিন্তু কুইবেকের ওই এমপি কোন সেশন কিংবা কোন বিষয়ে ও কোন সময়ের মিটিংয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা জানা যায়নি।

দেশটিতে পোশাক পরার ‘বিধি ও ডেকোরামে’ সংসদ বা কোনো মিটিংয়ে বসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে সমসাময়িক পোশাককে উৎসাহিত করা হয়। এর মধ্যে বিজনেস জ্যাকেট, শার্ট ও টাই রয়েছে।

এদিকে এমপির নগ্ন হওয়ার বিষয়টি জানাজানি শুধু হাউস অব কমন্স সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিরোধী দলের হুইপ ক্লড ডিবেলেফিউল বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে মন্তব্য করেন, দুর্ঘটনাবশত এমন কর্মকাণ্ড হলেও নিজেকে আবৃত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো পোশাকে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পুরুষের ক্ষেত্রে যে পোশাকের কথা বলা আছে, শার্ট, প্যান্ট-স্যুট, তা-ই পরা উচিত। কোনোভাবেই বক্সার পরে আসা উচিত নয়। সেটা শোভনও নয়।

শেয়ার করুন

ঘৃণার বিরুদ্ধে নাচ

ঘৃণার বিরুদ্ধে নাচ

কেরালার মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা নেচে ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ছবি: এনডিটিভি

রাজাক ও ওমকুমার বনি এম কাল্ট গান রাসপুতিনের সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের রিল ভিডিওটি তৈরি করেছেন। ভিডিও পোস্ট করার পর অসংখ্য ভালো কমেন্টের পাশাপাশি ঘৃণা ছড়ানোর মতো কমেন্টও এসেছে। অনেকেই একে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে টেনে নিচ্ছেন।

ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ভারতের কেরালার শিক্ষার্থীরা ইনস্টাগ্রামের রিল ভিডিও তৈরি করছেন।

রাজ্যটির মেডিক্যাল শিক্ষার্থী নাভিন কে রাজাক ও জানাকি এম ওমকুমার প্রথম একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিও পোস্টের পর ওই দুই শিক্ষার্থী পেয়েছেন অনেকের ভালোবাসা, শুভকামনা। সেই সঙ্গে এমন আন্দোলন শুরু করায় তাদের উৎসাহ দিয়েছেন অনেকে।

রাজাক ও ওমকুমার বনি এম কাল্ট গান রাসপুতিনের সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের রিল ভিডিওটি তৈরি করেছেন। ভিডিও পোস্ট করার পর অসংখ্য ভালো কমেন্টের পাশাপাশি ঘৃণা ছড়ানোর মতো কমেন্টও এসেছে। অনেকেই একে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে টেনে নিচ্ছেন।

সেসব কমেন্টের কোনো মৌখিক উত্তর দেননি রাজাক। তিনি ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিবাদে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নতুন আরকেটি ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেন।

সেখানে ত্রিসুর মেডিক্যাল কলেজের নাচের দল ‘ভাইকিংসের’ কয়েকজনকে দেখা গেছে। তারা রাসপুতিন গানে একই মুভমেন্টে নেচে এটা বোঝাতে চেয়েছেন ‘ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্য’ আছে।

রিল ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লেখা হয়, ‘যদি মনে করেন ঘৃণা ছড়াবেন, তাহলে জেনে রাখুন আমরা তার প্রতিরোধ করব।’

হ্যাশট্যাগ দিয়ে রাসপুতিনচ্যালেঞ্জ নামের ওই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হলে ভারতের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও একই রকম ভিডিও তৈরি ও পোস্ট শুরু করে।

রাজাকদের দেখে ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে এমন ভিডিও তৈরি করেছে ইন্ডিয়ার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ), স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)।

কচি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিইউএসএটি) আবার হ্যাশট্যাগ দিয়ে স্টেপএগেইস্টকমিউনালিজম দিয়ে ভিডিও পোস্ট করেছে।

ভিডিওগুলো মজা করে তৈরি হলেও ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মেডিক্যাল স্টুডেন্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক বিষ্ণু গোপান বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি বার্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ বার্তাগুলো হলো চিকিৎসকদের নাচা উচিত নয় এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো।

‘এই দুই ধরনের বার্তার বিরুদ্ধে আমরা শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছি। আমরা এর প্রতিবাদে রাসপুতিনচ্যালেঞ্জ শুরু করেছি। মেডিক্যাল সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত নয় এমন অনেক মানুষের কাছ থেকেও সাড়া পেয়েছি।’

বিতর্ক থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এমনকি ভিডিও কেরালা সরকারের নজরেও এসেছে। এরপর সরকারের তরফ থেকে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নতুন ভিডিও বানানো হয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষজনকে টিকা নেয়ায় অনুপ্রেরণা দিতে। সে ভিডিওগুলোও শেয়ার ও ভাইরাল হচ্ছে।

শেয়ার করুন