বসন্তের রঙে রঙিন শিল্পকলা

জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে বসন্ত উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বসন্তের রঙে রঙিন শিল্পকলা

বরেণ্য যুগল শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও ছিল সমবেত সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। ছিল স্পন্দন ব্যান্ডদল এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

ফাল্গুনের প্রথম দিনের সূর্য তখনও ডোবেনি। প্রকৃতি যেমন ডালে ডালে, ফুলে ফুলে সেজেছিল, তেমনি সেজেছিল জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণ।

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নানা বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুর পদচারণায় রোববার শেষ বিকেলে মুখর হয়ে উঠেছিল শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত বসন্ত উৎসব।

একই দিনে ভালোবাসা দিবস হওয়ায় দেখা গেছে প্রেমিক যুগলের ভিড়। অনেকেরই হাতে ছিল লাল গোলাপ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বসন্ত উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বসন্ত উৎসব এ দেশে ঘটা করে পালন শুরু হয়েছে বেশি দিন হয়নি। ঘরে ঘরে পহেলা বৈশাখ যেভাবে উদযাপন হয়, বসন্ত উৎসবও সেভাবে এদেশে উদযাপন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই উৎসব হবে আমাদের প্রাণের উৎসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে একটি বছর আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। এখন আমরা সীমিত আকারে শুরু করেছি। তবে আমাদের অসচেতন হওয়া চলবে না।’

জাতীয় সংগীতের পর সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই শিশু শিল্পী রিয়াদ ও মৌসুমি পরিবেশন করেন ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’ গানটি।

এরপর যুগল শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও ছিল সমবেত সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। ছিল স্পন্দন ব্যান্ডদল এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আয়োজন।

রাধা-রমনের গান এবং নৃত্যের পাশাপাশি ছিল রবীন্দ্র সংগীত, ঐতিহ্যবাহী আবহামান বাংলার গান ও আধুনিক বাংলা গান।

বসন্ত উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব নওশাদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালামের তোলা আলোকচিত্র।

পেশায় হেলিকপ্টার পাইলট মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম। আর পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা, মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

‘কোনো কিছু দেখে নিজের যে অনুভূতি হয়, চেষ্টা থাকে আমার তোলা ছবিতে সেই ফিলটা তুলে আনতে। আর ক্যামেরা একটা যন্ত্র হলেও, এটা আমার আবেগ কেড়ে নেয়ার বদলে বাড়িয়ে দেয়’- বলছিলেন আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম।

শখের আলোকচিত্রী তিনি। নিজেকে শিক্ষার্থী বলতেই বেশি ভালোবাসেন। ক্যামেরায় চোখ রাখছেন বেশিদিন হয়নি। ২০১৪ সালে নিকন ৩৩০০ নিয়ে ইচ্ছাপূরণের কাজ শুরু খালিদের। ছোটবেলায় ক্যানভাসে ছবি আঁকার ইচ্ছেটা বড়বেলায় ফ্রেম, কম্পোজিশন, এক্সপোজারে রুপান্তরিত হয়েছে।

শখের ফটোগ্রাফার, তাই ছবি তোলেন সময় পেলেই। অথচ সেই সময়টাই যেত হাতের মুঠোয় আসতে চায় না খালিদের।

তিনি বলেন, ‘আমি পেশায় একজন হেলিকপ্টার পাইলট। অফিস করতে হয় ৯টা টু ৫টা। ছবি তোলার জন্য যে আলোটা প্রয়োজন, সেই সময়টাতে আমার অফিস থাকে। তাই ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’

হেলিকপ্টারে যিনি আকাশে ওড়েন তার চোখে দৃশ্য ধরা দেয় অন্যরকমভাবে। এই কথায় সায় দিলেন খালিদ। বললেন, ‘উপর থেকে দৃশ্যগুলো অদ্ভুত সুন্দর। কিন্তু কাজে থাকার কারণে ক্যামেরা সঙ্গে নেয়া হয় না, ছবিও তোলা হয় না।’

খালিদের আলোকচিত্রে আলো-ছায়া ও আবেগের গল্প
আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

খালিদের পছন্দ ভ্রমণ করতে করতে ছবি তোলা। তাই তার ফ্রেমে ধরা পড়ে দেশ, নদী, প্রকৃতি। খালিদ বলেন, ‘এই ধরন ছাড়া আমার তেমন একটা উপায়ও নেই। কারণ কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি তুলতে গিয়ে বিচিত্র বিষয় পাওয়া আমার জন্য কঠিন।’

আর এভাবে শখের বসে ছবি তুলেই জমিয়ে ফেলেছেন তিন হাজারের মতো নান্দনিক শিল্প। খালিদ জানালেন, এসব থেকে দুইশ থেকে আড়াইশ ছবি তিনি আলাদা করে রেখেছেন প্রদর্শনীতে পাঠানোর জন্য।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ফিনিক্স ইন্টারন্যাশনাল ফোটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড (পিআইপি) ২০২০ প্রতিযগিতায় ৬২ দেশের ৬০০ আলোকচিত্রীর ৬৭৩২ ছবি জমা পড়ে। সেখানে খালিদ ভুটান ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গোল্ড মেডেল, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ফোটোগ্রাফি রিবনসহ নয়টি একসেপট্যান্স অর্জন করেছেন।

এছাড়া, নিউ ইয়র্ক ফটো স্যালন ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় এফআইএপি অনারেবল মেনশনসহ বেশ কিছু একসেপট্যান্স রয়েছে তার।

খালিদ এশিয়ান ফটোগ্রাফার্স ইউনিয়নের আজীবন সদস্য, এছাড়া তিনি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অফ আমেরিকা, গ্লোবাল ফটোগ্রাফিক ইউনিয়নসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফোটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের সদস্য। বাংলাদেশ ফিনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটির একজন কার্যনির্বাহী সদস্যও তিনি।

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

এত কিছুর মাধ্যমে খালিদ ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে চান। যেখানে সম্মান ও সুরক্ষা দুই-ই পাবেন একজন ফটোগ্রাফার। স্বপ্ন দেখেন নতুন নতুন কাজ করতে। এই মুহূর্তে খালিদের খুব ইচ্ছা মহামারি বিষয়ক ফটো আর্কাইভের মতো কিছু একটা করা।

মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কিছু কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার, কিন্তু পরিবারের জন্য করতে পারি না। কোভিডের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে থেকে কাজগুলো করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

আলোকচিত্রী মোহাম্মদ খালিদ বিন সালাম

তিন সন্তান, স্ত্রী নিয়ে মিরপুরে থাকছেন খালিদ। সন্তানদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয় ক্যামেরা আর ফটোগ্রাফি নিয়ে। তবে কিছু কমন সমস্যার কথাও বললেন হাসতে হাসতে।

‘ফটোগ্রাফারের পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রীরা সময় না দেয়ার অভিযোগ করেন। অনেক সময় বলে যে, ওই ছবিটা ভালো হয়েছে, কিন্তু তুমি আমার বা আমাদের ছবি ভালো করে তুলে দাও নাই।’

তবুও পরিবারের সমর্থন আর ত্যাগেই খালিদ এগিয়ে যাচ্ছেন তার স্বপ পূরণে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

ইসরায়েলে মাস্কের দিন শেষ

ইসরায়েলে মাস্কের দিন শেষ

ইসরায়েলে এক বছরের বিধিনিষেধের পর স্বাভাবিক হয়েছে জীবনযাত্রা।

প্রায় এক বছরের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পর ইসরায়েলিদের জীবনযাত্রা এখন প্রায় স্বাভাবিক।ঘরের বাইরে আর মাস্ক পরতে হবে না। সেই সঙ্গে সব শিক্ষার্থীও ফিরেছে ক্লাসে।

ইসারায়েলে ঘরের বাইরে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরোপুরি খুলে দেয়া হয়েছে স্কুল। দীর্ঘ এক বছরের বিধিনিষেধের পর রোববার প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছেন দেশটির নাগরিকেরা।

৯৩ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইসরায়েলে কোভিড ১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় জোরদার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ফাইজারের দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন ৫৪ শতাংশ নাগরিক, পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা অনেক কমে এসেছে দেশটিতে।

এমন অবস্থায় প্রায় এক বছরের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। তবে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইনডোর পাব্লিক প্লেসে এখনও সতর্কতা জারি থাকবে, এসব জায়গায় যাওয়ার সময় নাগরিকদের হাতে মাস্ক রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের শিক্ষার্থীরাও পুরোপুরি ক্লাসে ফিরেছে। দেশটিতে কয়েক মাস কেবল কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা ছিল, তবে রোববার থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেয়া হয়। করোনাভাইরাস মহামারির আগের স্বাভাবিক সময়ের মতোই এখন থেকে ক্লাস চলবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, খুলে দেয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে খোলামেলা পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

নগ্ন হয়ে জুম কলে, ক্ষমা চাইলেন এমপি

নগ্ন হয়ে জুম কলে, ক্ষমা চাইলেন  এমপি

কানাডার কুইবেকের সংসদ সদস্য উইলিয়াম আমোস। ছবি: সংগৃহীত

ভার্চুয়াল সেশন চলা অবস্থায় ল্যাপটপের ক্যামেরা চালু হওয়ার পর লিবারেল পার্টির এমপি উইলিয়াস আমোস নগ্ন অবস্থায় হাজির হন। এ সময় তার হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই পাশে ছিল কুইবেক ও কানাডার পতাকা।

কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের অনলাইন বৈঠকে নগ্ন হয়ে হাজির হয়েছেন এক সংসদ সদস্য (এমপি)।

অসাবধানতাবশত এমনটি হয়েছে জানিয়ে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভার্চুয়াল সেশন চলা অবস্থায় ল্যাপটপের ক্যামেরা চালু হওয়ার পর লিবারেল পার্টির এমপি উইলিয়াস আমোস নগ্ন অবস্থায় হাজির হন। এ সময় তার হাতে মোবাইল ফোন ছিল। দুই পাশে ছিল কুইবেক ও কানাডার পতাকা।

পরে বিষয়টি নিয়ে আমোস ক্ষমা চান সহকর্মীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বড় ভুল করে ফেলেছি; আমি বিব্রত।’

৪৬ বছর বয়সী আমোস এ ঘটনায় একটি টুইটও করেছেন। এতে তিনি বলেন, ‘আমি জগিং করে এসে অফিসের পোশাক পরার সময় ভুলক্রমে ক্যামেরা অন হয়ে যায়।

‘সহকর্মীদের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাই। এটা সত্যিই খুব বড় ভুল এবং এমন ভুল আর ভবিষ্যতে হবে না।’

কিন্তু কুইবেকের ওই এমপি কোন সেশন কিংবা কোন বিষয়ে ও কোন সময়ের মিটিংয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা জানা যায়নি।

দেশটিতে পোশাক পরার ‘বিধি ও ডেকোরামে’ সংসদ বা কোনো মিটিংয়ে বসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে সমসাময়িক পোশাককে উৎসাহিত করা হয়। এর মধ্যে বিজনেস জ্যাকেট, শার্ট ও টাই রয়েছে।

এদিকে এমপির নগ্ন হওয়ার বিষয়টি জানাজানি শুধু হাউস অব কমন্স সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিরোধী দলের হুইপ ক্লড ডিবেলেফিউল বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে মন্তব্য করেন, দুর্ঘটনাবশত এমন কর্মকাণ্ড হলেও নিজেকে আবৃত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো পোশাকে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পুরুষের ক্ষেত্রে যে পোশাকের কথা বলা আছে, শার্ট, প্যান্ট-স্যুট, তা-ই পরা উচিত। কোনোভাবেই বক্সার পরে আসা উচিত নয়। সেটা শোভনও নয়।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

বিবাহবার্ষিকীর পরদিন সানিয়াকে শুভেচ্ছা শোয়েবের

বিবাহবার্ষিকীর পরদিন সানিয়াকে শুভেচ্ছা শোয়েবের

পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিক ও ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা। ছবি: টুইটার

গত সোমবার ছিল সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিকের ১১তম বিবাহবার্ষিকী। দুজনের ছবি পোস্ট করে সানিয়াকে শুভেচ্ছা জানান শোয়েব মালিক।

টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা ও ক্রিকেটার শোয়েব মালিক দম্পতির ১১তম বিবাহবার্ষিকী ছিল সোমবার। সে উপলক্ষে দুজনের ছবি পোস্ট করে স্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শোয়েব। তবে পোস্টটি তিনি করেছেন পরের দিন মঙ্গলবার।

টুইট করে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে অবশ্য প্রথমেই নিজের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন শোয়েব। লিখেছেন, ‘অপস.. গালতি সে মিসটেক হোগায়া...’

তিনি আরও লেখেন, ‘সব সময়ই একদিন পর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, লাভ ইউ সানিয়া মির্জা মুন অ্যান্ড ব্যাক বেগম, বে-ঘুম।’

টুইটে লেখার সঙ্গে শোয়েব মালিক দিয়েছেন দুটি ইমোজি।

এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সানিয়া লিখেন, “‘মোটা” ও “পাতলা”, ভালো-মন্দে শুভ বিবাহবার্ষিকী। আরও অনেক বছর ধরে তোমাকে জ্বালাব ইনশা আল্লাহ। ১১ বছর।’

পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করেন ২০১০ সালে। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

ঘৃণার বিরুদ্ধে নাচ

ঘৃণার বিরুদ্ধে নাচ

কেরালার মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা নেচে ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ছবি: এনডিটিভি

রাজাক ও ওমকুমার বনি এম কাল্ট গান রাসপুতিনের সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের রিল ভিডিওটি তৈরি করেছেন। ভিডিও পোস্ট করার পর অসংখ্য ভালো কমেন্টের পাশাপাশি ঘৃণা ছড়ানোর মতো কমেন্টও এসেছে। অনেকেই একে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে টেনে নিচ্ছেন।

ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ভারতের কেরালার শিক্ষার্থীরা ইনস্টাগ্রামের রিল ভিডিও তৈরি করছেন।

রাজ্যটির মেডিক্যাল শিক্ষার্থী নাভিন কে রাজাক ও জানাকি এম ওমকুমার প্রথম একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিও পোস্টের পর ওই দুই শিক্ষার্থী পেয়েছেন অনেকের ভালোবাসা, শুভকামনা। সেই সঙ্গে এমন আন্দোলন শুরু করায় তাদের উৎসাহ দিয়েছেন অনেকে।

রাজাক ও ওমকুমার বনি এম কাল্ট গান রাসপুতিনের সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের রিল ভিডিওটি তৈরি করেছেন। ভিডিও পোস্ট করার পর অসংখ্য ভালো কমেন্টের পাশাপাশি ঘৃণা ছড়ানোর মতো কমেন্টও এসেছে। অনেকেই একে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে টেনে নিচ্ছেন।

সেসব কমেন্টের কোনো মৌখিক উত্তর দেননি রাজাক। তিনি ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিবাদে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নতুন আরকেটি ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করেন।

সেখানে ত্রিসুর মেডিক্যাল কলেজের নাচের দল ‘ভাইকিংসের’ কয়েকজনকে দেখা গেছে। তারা রাসপুতিন গানে একই মুভমেন্টে নেচে এটা বোঝাতে চেয়েছেন ‘ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্য’ আছে।

রিল ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লেখা হয়, ‘যদি মনে করেন ঘৃণা ছড়াবেন, তাহলে জেনে রাখুন আমরা তার প্রতিরোধ করব।’

হ্যাশট্যাগ দিয়ে রাসপুতিনচ্যালেঞ্জ নামের ওই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হলে ভারতের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও একই রকম ভিডিও তৈরি ও পোস্ট শুরু করে।

রাজাকদের দেখে ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে এমন ভিডিও তৈরি করেছে ইন্ডিয়ার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ), স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)।

কচি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিইউএসএটি) আবার হ্যাশট্যাগ দিয়ে স্টেপএগেইস্টকমিউনালিজম দিয়ে ভিডিও পোস্ট করেছে।

ভিডিওগুলো মজা করে তৈরি হলেও ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মেডিক্যাল স্টুডেন্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক বিষ্ণু গোপান বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি বার্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ বার্তাগুলো হলো চিকিৎসকদের নাচা উচিত নয় এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো।

‘এই দুই ধরনের বার্তার বিরুদ্ধে আমরা শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছি। আমরা এর প্রতিবাদে রাসপুতিনচ্যালেঞ্জ শুরু করেছি। মেডিক্যাল সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত নয় এমন অনেক মানুষের কাছ থেকেও সাড়া পেয়েছি।’

বিতর্ক থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এমনকি ভিডিও কেরালা সরকারের নজরেও এসেছে। এরপর সরকারের তরফ থেকে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নতুন ভিডিও বানানো হয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানুষজনকে টিকা নেয়ায় অনুপ্রেরণা দিতে। সে ভিডিওগুলোও শেয়ার ও ভাইরাল হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

ছেঁড়া-চাপা জিন্সের পক্ষে সরব ভারতীয় নারীরা

ছেঁড়া-চাপা জিন্সের পক্ষে সরব ভারতীয় নারীরা

ধর্ষণের জন্য মানসিকতাকে দায়ী করা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় ভারতীয় নারীরা। ছবি: এনডিটিভি

উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা তীর্থ সিং রাওয়াত সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ভারতীয় সমাজের অবক্ষয়ের মূল কারণ নারীদের হাঁটুর অংশে ছেঁড়া ও চাপা জিন্স পরা। এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ভারতের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা।

ভারতের উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা তীর্থ সিং রাওয়াত সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ভারতীয় সমাজের অবক্ষয়ের মূল কারণ নারীদের, বিশেষ করে তরুণীদের হাঁটুতে ছেঁড়া ও চাপা জিন্স পরা।

শিশুর অধিকার সুরক্ষা নিয়ে এক কর্মশালায় যোগ দিয়ে দুই সপ্তাহ আগে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিজেপি নেতার এ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা। তাদের অনেকে টুইটারে নিজেদের স্টাইলিশ ছেঁড়া ও চাপা জিন্স পরা ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিরোধী দল কংগ্রেস বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ সিংকে নারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার কয়েকজন সহযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) পোশাকে হাঁটু খোলা কয়েকটি ছবি শেয়ার করে প্রতিবাদ জানান।

দিল্লি কমিশন ফর উইমেনের কর্মকর্তা স্বাতী মালিওয়াল টুইট করে বলেন, এমন মন্তব্য রাওয়াতের ছোট মনের পরিচায়ক।

তিনি লেখেন, ‘ধর্ষণের জন্য পোশাক দায়ী নয়, বরং তীর্থ সিং রাওয়াতের মতো মানুষের নিচু মানসিকতাই দায়ী।’

হিন্দিতে পোস্ট করা টুইটে স্বাতীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যে কথাটি বলেছেন তার চেয়ে বেশি নেতিবাচক হচ্ছে, তিনি নারীদের ‘আগাগোড়া’ দেখার কথা বলেছেন।

কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সেই কর্মশালায় রাওয়াত একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময়ের উদাহরণ টানেন। এক নারীর নাম প্রকাশ না করে বিজেপি নেতা বলেন, তিনি ফ্লাইটে এক নারীকে দুই সন্তান নিয়ে ভ্রমণ করতে দেখেছেন। ওই নারী বুট, হাঁটুর অংশে ছেঁড়া ও চাপা জিন্স ও হাতে অসংখ্য ব্রেসলেট পরে ছিলেন।

রাওয়াতের প্রশ্ন, ‘আপনি একটা এনজিও চালাচ্ছেন। এতে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের সমাজে যেতে হচ্ছে, শিশুরাও আপনার সঙ্গে আছে। আপনি এসব পরে অন্যদের কী শিক্ষা দিচ্ছেন?’

উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী এরপর বলেন, এমন ছেঁড়া ও চাপা জিন্স সমাজকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সন্তান বিশেষ করে মেয়েদের এমন পোশাক পরতে দেয়ায় মা-বাবার সমালোচনাও করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী তীর্থ সিং ‘ভারতীয় সমাজ নগ্নতার’ দিকে যাচ্ছে জানিয়ে দাবি করেন, ‘যখন ভারতীয় নারীরা এমন ছেঁড়া জিন্স পরছেন, তখন অন্য দেশের নারীরা তাদের শরীর পোশাকে সঠিকভাবে আবৃত করে যোগ ব্যায়াম করছেন।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন

৭ মার্চ: মিউজিক ভিডিও বানাল কলকাতা উপ-হাইকমিশন

৭ মার্চ: মিউজিক ভিডিও বানাল কলকাতা উপ-হাইকমিশন

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণে কলকাতা উপহাইকমিশনের মিউজিক ভিডিও।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে যে অবিস্মরণীয় ভাষণ দিয়েছিলেন মূলত সেটিই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্মরণে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিউজিক ভিডিও বানিয়েছে ভারতের কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।

শনিবার ‘বজ্রকন্ঠের আহবান’ র্শীষক মিউজিক ভিডিওটি এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে যে অবিস্মরণীয় ভাষণ দিয়েছিলেন মূলত সেটিই ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।’

উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসানের তত্ত্বাবধানে উপ-হাইকমিশনের সকলে মিলে তৈরি করেছেন মিউজিক ভিডিওটি।

মিউজিক ভিডিও এর গীতিকার শুভদ্বীপ চক্রবর্তী এবং সুরকার ও কন্ঠশিল্পী চিরন্তন ব্যানার্জী।

মিউজিক ভিডিওর সার্বিক সমন্বয়, কোরিওগ্রাফি ও ভিডিও সম্পাদনা করেছেন প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) শামীমা ইয়াসমীন স্মৃতি।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে মুক্তিকামী জনগনকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ওই ভাষণ ছিল এক মহামন্ত্র।

একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।

ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর একে World’s Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাঙালি হিসাবে এটি একটি বড়ো অর্জন।

এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজউইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of Politics’ হিসেবে অভিহিত করে।

কলকাতার উপহাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল বাঙালির নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।’

গানটির ইউটিউব ভিডিও লিংক হলো https://youtu.be/XpSspYvOyKU

আরও পড়ুন:
রাজধানীতে বসন্ত এল নীরবে
নগরে বসন্ত কোথায়
খুলনায় জমজমাট নারী উদ্যোক্তাদের ফাগুন মেলা

শেয়ার করুন