মধুর সুমধুর ব্যবহার

মধুর সুমধুর ব্যবহার

রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে মধু। এতে আছে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। ফলে যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তারা মধু পান করলে উপকার পাবেন।

মধুর গুণের কথা হাজার বছর আগেও মানুষ জানত। সে কারণেই হয়তো মিসরে মমির পাশে মধু রেখে দিতেন তাদের সঙ্গীরা। উদ্ধার করা সেই মধু এখনো খাবার উপযোগী।

মধুতে ৪৫-এর বেশি খাদ্য উপাদান থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয়, এতে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশ মন্টোজ পাবেন।

আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ শতাংশ অ্যানকাইম।

এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধু পান করলে আপনি ২৮৮ ক্যালরি পাবেন।

এ ছাড়া মধুর রয়েছে আরও অনেক উপকারী গুণ। মধুতে যে শর্করা থাকে, তা আমাদের শরীর সহজেই হজম করতে পারে।

এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে দ্রুত কাজ শুরু করে। ফলে শরীর দুর্বল থাকলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়। বাইরে থেকে ফিরে এক গ্লাস পানির সঙ্গে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারলে সারা দিনের হারানো শক্তি ফিরে পাবেন।

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মধুর জুড়ি নেই। এতে আছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এক চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য গায়েব হতে বাধ্য।

রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে মধু। এতে আছে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ। ফলে যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তারা মধু পান করলে উপকার পাবেন।

যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন তারা রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। ঘুমের সমস্যা কেটে যাবে।

পুরুষের যৌন দুর্বলতায় মধু দারুণ কাজ করে। এক বাটি কাঁচা ছোলার মধ্যে দুই চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সঙ্গে একটু লেবুর রস দিতে পারেন। নিয়মিত খেলে খাবারটি দুর্বলতার বিরুদ্ধে কাজ করবে।

খাবার হজম করতে পাকস্থলীকে সাহায্য করে মধু। নিয়মিত খেলে পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিডের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে যারা অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা রোগে ভুগছেন তারা এসব থেকে মুক্তি পাবেন।

ডায়রিয়া হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এই সমস্যা কাটাতে মধুর সাহায্য নিতে পারেন। এক গ্লাস পানিতে এক চা-চামচ মধু ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে নিন। স্যালাইনের পাশাপাশি এই মধুপানি পান করলে সমস্যা এড়াতে পারবেন।

এবার আসা যাক সৌন্দর্যচর্চায় মধুর ব্যবহার প্রসঙ্গে।

মধুতে চর্বি নেই সেটা আগেই জেনেছেন। তাই সুইটেনার হিসেবে মধু ব্যবহার করলে আপনি মোটা হবেন না। তাই নিশ্চিন্তে চিনি ছেড়ে মধু পান করতে পারেন।

মধু দিয়ে ফেসমাস্ক বানিয়ে নারীরা অনেক আগে থেকেই ব্যবহার করছেন। এটা মুখের ত্বকের মসৃণতা ও ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রাথমিক চিকিৎসা
বর্ষায় বাইরে যাবার আগে জেনে নিন কিছু বিষয়
লকডাউনের বিকেলে নাশতা
লকডাউনে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয় করবেন যেভাবে
ব্যবহার করা টি ব্যাগের ব্যবহার

শেয়ার করুন

মন্তব্য