ব্যবসায়িক ভিডিও কনফারেন্সিং যত অ্যাপ

ব্যবসায়িক ভিডিও কনফারেন্সিং যত অ্যাপ

ভিডিও কনফারেন্স করতে কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ।

চলতি করোনা মহামারি সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়্যার হলো জুম। বিজনেস পারপাসে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার এটি।

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আমরা দূরে কারও সঙ্গে মিটিং করতে ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার ব্যবহার করি। ট্রাভেল করতে করতে গাড়িতে বসে, কখনো অফিসে, বাসায় বসেও মিটিং করি।

এসব কাজে সাধারণ ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করি।

চলুন দেখে নিই ব্যবসায়িক কাজে কোন ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যারগুলো বেশি ব্যবহার হচ্ছে।

জুম

চলতি করোনা মহামারি সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়্যার হলো জুম। বিজনেস পারপাসে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার এটি।

এর মাধ্যমে ওয়ান-টু-ওয়ান চ্যাট পরিচালনার পাশাপাশি গ্রুপ কল করতে পারবেন। পরিচালনা করতে পারবেন ট্রেনিং সেশন, অভ্যন্তরীণ ও বাইরের অনেকেই এতে যোগ দিতে পারবেন।

এমনকি একসঙ্গে এক হাজার জন যুক্ত হতে পারবেন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে। আর এক সঙ্গে স্ক্রিনে ৪৯টি এইচডি ভিডিও দেখা যাবে এতে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে মাসে সর্বনিম্ন ১৫ ডলার সাবস্ক্রিপশন ফি গুণতে হবে আপনাকে। (https://zoom.us/pricing) জুম ডটকম ইউএস ঠিকানা থেকে প্যাকেজটি কিনে ইনস্টল করা যাবে সফটওয়্যারটি।

ব্লুজিন্স মিটিং

অনলাইনে মিটিং প্লাটফর্মের জন্য আপনার পছন্দের আরেকটি সফটওয়্যার হতে পারে ব্লুজিন্স মিটিং। এটি একটি আধুনিক ভিডিও কনফারেন্সিং মিটিংয়ের সহজ প্লাটফর্ম। কাউকে খুব দ্রুত মিটিংয়ে সংযুক্ত করতে চাইলে ব্লুজিন্সের জুড়ি নেই।

স্মার্টফোন, ডেক্সটপ অ্যাপ এমনকি এটি ব্রাউজার থেকেও সহজে ব্যবহার করা যায়। ডলবি ভয়েজ, ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ক্যান্সেলিং ফিচারের সঙ্গে করা যাবে অন্যদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারিং।

ব্লুজিন্সে এক সঙ্গে ৫০ জন যুক্ত হয়ে মিটিং করা যাবে। সে জন্য অবশ্য এটির কয়েকটি সাবস্ক্রিপশন ফি রয়েছে। মাসিক ও বাৎসরিক প্যাকেজ, এমনকি প্রতিবার মিটিং ভিত্তিতেও প্যাকেজ রয়েছে। ব্লুজিন্স মিটিং সাবস্ক্রাইব করতে চাইলে ব্লুজিন্স ডটকমে (www.bluejeans.com/) গিয়ে প্যাকেজ কিনতে পারবেন। চাইলে স্বল্প সময়ের জন্য ফ্রি ট্রায়াল ভার্সনও ব্যবহার করা যাবে।

মাইক্রোসফট টিম

মাইক্রোসফট টিম কোম্পানিটির আরেক তুমুল জনপ্রিয় ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ যা স্কাইপের উত্তরসূরী। এটি মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫-এর একটি পণ্য। এতে যে কেউ ফ্রি ভার্সনে সাইন আপ করতে পারেন। অবশ্য এজন্য মাইক্রোসফটে অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

এক সঙ্গে ৩০০ জন যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি থাকছে গেস্ট অ্যাক্সেস, ওয়ান টু ওয়ান, গ্রুপ ভিডিও, স্ক্রিন শেয়ারিংসহ আরও অনেক সুবিধা।

মাইক্রোসফটের সেবাটি প্রোডাক্ট ডট অফিস ডটকমে (products.office.com) গিয়ে কিনতে পারবেন।

গো টু মিটিং

লগমিইন কয়েক বছর আগে টিয়ার অধিগ্রহণ করে। পরে তারা ২০১৬ সালে গো টু মিটিং ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যারটি নিয়ে আসে। অবশ্য এর একটি উন্নত এবং প্রধান আপডেট বাজারে ছাড়া হয় ২০১৯ সালে। সেখানে অনেক নতুন ফিচার দেওয়া হয়। এটি ওয়েব ব্রাউজার, মোবাইল ও ডেক্সটপ সংস্করণে ব্যবহার করা যাবে।

এটি প্রথম ১৪ দিন ট্রায়াল ভার্সন হিসেবে বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও এরপর সাবস্ক্রিপশন করতে হবে। এজন্য মাসিক ১২ ডলার থেকে এর শুরু করে কয়েকটি প্যাকেজ নিতে পারবেন গোটুমিটিং ডটকম (gotomeeting.com) থেকে।

জোহো মিটিং

প্রায় ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত জোহো এখন বিশ্বব্যাপী অন্তত ৫ কোটি মানুষ ব্যবহার করছে। এটি জোহো ওয়ানের একটি ফ্ল্যাগশিপ পণ্য। এটি ওয়েব নির্ভর হলেও এর মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। রয়েছে জোহো মিটিং ওয়েবিনার ট্রেনিং, অনলাইন মিটিং এবং প্ল্যান স্টার্টিং। zoho.com/meeting থেকে কেনা যাবে সফটওয়্যারটি।

এর জন্য অবশ্য প্রতি মাসে একটি মিটিংয়ে ১০ ডলার গুণতে হবে আপনাকে। একসঙ্গে ১০০ জন একটি মিটিং করতে পারবেন। অবশ্য তারা বার্ষিক ভিত্তিতেও ভিডিও কনফারেন্সিং প্যাকেজ অফার করে থাকে।

সিসকো ওয়েবএক্স

ওয়েবএক্স ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার জগতে খুবই পরিচিত নাম। এটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ২০০৭ সালে সিসকো এটি নিজেদের পকেটে পুরে। ওয়েবএক্সে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য অনেক ধরনের ফিচার রয়েছে। ফুল এইচডি ভিডিও, স্ক্রিন শেয়ারিং, ডেক্সটপ ও মোবাইলে এটি ব্যবহার করা যাবে।

নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিডিও রেকর্ড সুবিধাও পাওয়া যাবে। প্রতিটি মিটিংয়ে ৫০ জন অংশ নিতে পারবেন। এছাড়াও পেইড সংস্করণে মাসে ১৩ দশমিক ৫০ ডলার থেকে শুরু হয় এর প্যাকেজ। রয়েছে এন্টারপ্রাইজ প্ল্যান। কেনা যাবে webex.com ওয়েবসাইটে গিয়ে।

জয়েন ডটমি

এটি লগমিইন পরিবারের আরেকটি ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার। ফ্রিতে অডিও মিটিং, স্ক্রিন শেয়ারিং করা যাবে তিনজন পর্যন্ত। তবে পেইড সংস্করণে ২৫০ জন পর্যন্ত ভিডিও কলে যুক্ত হতে পারবেন। পেইড সংস্করণে মাসে সর্বিনম্ন ১০ ডলার থেকে গুণতে হতে পারে ৩০ ডলার পর্যন্ত। জয়েন ডট মি (join.me) ঠিকানায় গিয়ে যে কেউ কিনতে পারবেন সফটওয়্যারটি।

গুগল হ্যাংআউট মিট

গুগলের হ্যাংআউট মিট বিজনেস মিটিংয়ের জন্য উপযুক্ত একটি ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার। জি স্যুট সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এটি বিজনেস মিটিং কনফারেন্সিং সেবা দেয়। এখানে বাইরের যেকেউ অংশ নিতে পারেন।

গুগলের ক্রোম ব্রাউজারের জন্য ডিজাইন করা হলেও অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সংস্করণেও ব্যবহার করা যায় সফটওয়্যারটি। সাধারণ জি স্যুট ব্যবহারকারীরা ১০০ জন, বিজনেসে ১৫০ জন এবং এন্টারপ্রাইজ সংস্করণে এতে ২০০ জন পর্যন্ত একসঙ্গে মিটিং করতে পারেন। সাবস্ক্রাইব করতে আপনাকে যেতে হবে জিস্যুট ডট গুগল ডটকমে।

স্ল্যাক

আপনার প্রতিষ্ঠান যদি পেইড কোনো ভিডিও কনফারেন্স সফটওয়্যার ব্যবহার করতে না চায় তাহলে স্ল্যাক ব্যবহার করে দেখতে পারেন। slack.com ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে নামিয়ে নিতে পারবেন এটি। ভালো মানের ভিডিও কলিং, বেশ কছু ফিচারে অভিজ্ঞতা খারাপ হবে না। এতে অবশ্য শুধু ভিডিও কলের ক্ষেত্রে ডেক্সটপ সংস্করণ ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ব্যবহারে শুধু ভয়েস কল করতে পারবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দাগ দূর করার উপায়

দাগ দূর করার উপায়

সুতি কাপড়ে বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন। দাগটিতে ভালো করে ঘষুন। ব্যাগ অথবা জুতাটি শুকাতে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে এটি কয়েকবার করুন।

বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন, গাড়ি, সানগ্লাস, চামড়ার জুতায় দাগ পড়ে। অনেকেই ভাবেন, এই দাগগুলো ওঠানো যায় না।

চাইলে সহজ কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব দাগ তুলে ফেলতে পারেন।

গ্লাসের দাগ

মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ছাড়াও অন্য যেকোনো কাচের গ্লাসের ওপরে পড়া দাগ তুলতে এক টুকরা সুতি কাপড় অথবা তুলার বলে অল্প টুথপেস্ট লাগিয়ে গ্লাসের স্ক্রিনে ১০ সেকেন্ড ঘষুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মাইক্রোফাইবার ক্লথে সামান্য ভেজিটেবল অয়েল লাগিয়ে মোবাইল ফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড ঘষলেও উপকার পাওয়া যাবে। ভেজিটেবল অয়েল না থাকলে ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন।

বেকিং সোডা এবং পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সুতি কাপড়ে সেই পেস্ট নিয়ে মুছলেও দাগ ওঠে যাবে।

চামড়ার দাগ

সুতি কাপড়ে বেবি অয়েল লাগিয়ে নিন। দাগটিতে ভালো করে ঘষুন। ব্যাগ অথবা জুতাটি শুকাতে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। প্রয়োজনে এটি কয়েকবার করুন।

নেইল পলিশ দিয়েও চামড়ার ব্যাগের দাগ দূর করা যায়। চামড়ার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নেইল পলিশ নিন। এবার দাগের ওপরে নেইল পলিশ লাগিয়ে দাগ অদৃশ্য করে ফেলতে পারেন।

দাগ তুলতে ব্যবহার করতে পারেন মোমও। সামান্য পরিমাণ মোম আগুনের তাপে গলিয়ে নিন। গলানো মোম ব্যাগ অথবা জুতার দাগের ওপর লাগান। একটি ফ্লানেলের কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।

কাঠের দাগ

কাঠের দাগ দূর করতে ওয়ালনাট কার্নেল কার্যকরী। অর্ধেকটা ওয়ালনাট কার্নেল নিয়ে আঁচড়ের ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন। আঁচড়ের দাগ গাঢ় হয়ে এলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তারপর বার্নিশ করে নিন।

প্লাস্টিকের দাগ

প্লাস্টিকের দাগ দূর করতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করুন। দাগের ওপরে হেয়ার ড্রায়ার ধরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রয়োজন বুঝে তাপমাত্রা বাড়াতে পারেন। ড্রায়ার শেষে কাপড় দিয়ে পলিশ করে ফেলুন।

মেটালের দাগ

স্টেইনলেস স্টিল বা মেটালের দাগ দূর করতে নেইল বাফার ব্যবহার করতে পারেন। এটি দিয়ে দাগের ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন।

দাগ তুলতে সাদা টুথপেস্টও ব্যবহার করা যায়। দাগের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। তবে এই পদ্ধতিতে কেবল হালকা দাগ দূর করা সম্ভব।

শেয়ার করুন

আমেরিকার বিমানবন্দরে কেন মুসলিম বিদ্বেষ, করণীয় কী?

আমেরিকার বিমানবন্দরে কেন মুসলিম বিদ্বেষ, করণীয় কী?

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এক নারী যাত্রী। ছবি: এএফপি

টিএসএর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় দেখা যায়, যাত্রীদের প্রতি ভদ্র, কিন্তু সতর্ক আচরণ করতে বলা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে- এমন উঁচু গলার আওয়াজ বা শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শন না করার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হিজাব ও বোরকার মতো ঢিলেঢালা পোশাকে নিষিদ্ধ বস্তু লুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে ধর্মীয় কারণে যাত্রীদের এটা খুলে ফেলতে বাধ্য করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় প্রায়ই বিমানবন্দরে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন মুসলিম যাত্রীরা। এমন অভিজ্ঞতা, সংকটে করণীয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ভিত্তিক ওয়েবসাইট ভাইস। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য সেটি অনুবাদ করেছেন রুবাইদ ইফতেখার


নাইন-ইলেভেন হামলার জের ধরে ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিসিএ) প্রতিষ্ঠার পর অনেক মুসলিমের জন্য গত ২০ বছরে আমেরিকান বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর বিমানবন্দরে ইসলামোফোবিয়ার (ইসলাম বিদ্বেষ) শিকার হওয়া মানুষের কী করা উচিৎ সেটি নির্ধারণ করে দেয়া বেশ কঠিন।

সূক্ষ্ম ও স্থূল দুইভাবেই বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন অনেকে। টিএসএ প্রি-চেক করার পরেও স্বাভাবিক সময়ের দুই-তিন ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হন তাসমিহা খান। টিএসএর জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার তার বিমানে চড়তে দেরি হয়েছে। একটি ঘটনা বিশেষভাবে মনে আছে তাসমিহার; ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে স্বামী-সন্তান ও মাসহ তাকে চেকপয়েন্টে আটকানো হয়।

ইলিনয় রাজ্যের বাসিন্দা তাসমিহা বলেন, ‘(আমার ও আমার মার) দুজনের পরনেই হিজাব ছিল। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তারা শুধু আমাদের ডেকেছে।’

টিএসএর কর্মকর্তারা তাকে একটা বডি স্ক্যানারের মধ্যে দিয়ে যেতে বলেন। তাসমিহা অস্বস্তি প্রকাশ করলে তাকে জানানো হয়, স্ক্যানারে না গেলে শরীরে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হবে।

টিএসএর এই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার অস্বস্তি প্রতিবারই তাসমিহা অনুভব করেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই অপমানজনক। প্রতিবার ফ্লাইটে চড়তে আমি ভয় পাই, কারণ একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ফ্লাইট ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকলে সেভাবে আমি যেতাম। মুসলিম হওয়া দৃশ্যত আমাকে একটি টার্গেটে পরিণত করেছে।’

তাসমিহার অভিজ্ঞতা ইসলামবিদ্বেষের এমন একটি ধরন যেটি কঠোর কোনো পরিস্থিতি থেকে উদ্ভব হয়। মুসলিম যাত্রীদের টিএসএ চেকপয়েন্টে বিদ্বেষের শিকার হওয়ার বিষয়টি ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্টের (এফওআইএ) অধীনে করা অভিযোগগুলো দেখলেই বোঝা যায়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে পরের বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুসলিম যাত্রীদের প্রতি ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অফিসারদের (টিএসও) করা অপমানসূচক মন্তব্য, জোরপূর্বক তল্লাশি ও আটকসহ বিদ্বেষমূলক আচরণের অন্তত ৭৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এফআইওয়ের কাছ থেকে পাওয়া টিএসএর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় দেখা যায়, যাত্রীদের প্রতি ভদ্র, কিন্তু সতর্ক আচরণ করতে বলা হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে- এমন উঁচু গলার আওয়াজ বা শারীরিক ভঙ্গি প্রদর্শন না করার নির্দেশ রয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হিজাব ও বোরকার মতো ঢিলেঢালা পোশাকে নিষিদ্ধ বস্তু লুকিয়ে রাখা সম্ভব। তবে ধর্মীয় কারণে যাত্রীদের এটা খুলে ফেলতে বাধ্য করা যাবে না।

জমা পড়া অসংখ্য অভিযোগের মধ্যে আছে, চেকিংয়ের সময় সূক্ষ্ম ও স্থূল বিদ্বেষ ঘটনা এবং জোরপূর্বক তল্লাশির অনেক উদাহরণ। কিছু ক্ষেত্রে অহেতুক যাত্রীর শরীরে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে, সেই সঙ্গে ছিল ইসলাম বিদ্বেষী মন্তব্য (এক যাত্রী অভিযোগ করেন, টিএসও কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি হিজাব পছন্দ করি না’), জোর করে তল্লাশির সময় এক যাত্রীর স্তনে হাত দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

টিএসএর এক মুখপাত্র অবশ্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই নিরাপত্তা তল্লাশি যাত্রীর ‘জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম বা প্রতিবন্ধিতা’ নির্বিশেষে করা হয়। টিএসএর ওয়েবসাইটে তল্লাশি প্রক্রিয়া ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীলতার গাইডলাইন দেয়া আছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিদ্বেষমূলক আচরণের ঘটনা আদতে জানাই যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরের পাশাপাশি প্রাত্যহিক জীবনে ইসলাম বিদ্বেষ ও ঘৃণামূলক অপরাধ এখনও বিদ্যমান। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) ২০২১ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ছয় হাজারের বেশি অভিযোগ পেয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল বিদ্বেষ সংক্রান্ত।

ভ্রমণে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং টিএসএর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইসলাম বিদ্বেষের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করা যায় সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



বৈষম্যের শিকার হলে, ওই মুহূর্তের যতটা সম্ভব তথ্য সংরক্ষণের চেষ্টা করুন

বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হলে কী কী তথ্য যোগাড় করতে হবে সে বিষয়ে সিএআইআরের ‘নিজের অধিকার জানুন’ ফ্যাক্ট শিটে তথ্য দেয়া আছে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইডি নম্বর ও নাম লিখে রাখার পরামর্শ দেয়। এছাড়া আপনি টিএসও কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করতে পারেন, আপনাকে আলাদা করে ডাকা হয়েছে কিনা। সিএআইআরের গাইডলাইনে আরও বলা আছে, আশেপাশের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ফোন নম্বরও আপনি সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।

আইনি, শিক্ষামূলক ও নীতিগত সহয়তা দেয়া নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠান মুসলিম অ্যাডভোকেটের আইনজীবী সানা আনসারি বলেন, ‘আপনি অভিযোগ করতে চাইলে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত তথ্য দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যেমন এয়ারলাইনের নাম, ফ্লাইট নম্বর, নির্দিষ্ট সময়, প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট টিএসএ কর্মকর্তাদের নাম।’

তিনি বলেন, ‘এ রকম চাপের মুখে দ্রুত কোনো ঘটনা লিখে রাখা কঠিন, কিন্তু যতটুকু সম্ভব নিজের ফোনে, কোনো কাগজে বা দুই জায়গাতেই এগুলোর বিস্তারিত লিখে রাখার চেষ্টা করুন।’

অভিযোগ করবেন কোথায় সেটা ঠিক করুন

সানা আনসারি বলেন, বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার যাত্রীরা টিএসএ, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), ডিএইচএস অফিস ফর সিরভিল রাইটস অ্যান্ড সিভিল লিবার্টিসের যে কোনটিতে বা তিনটিতেই অভিযোগ করতে পারেন। টিএসএর কাছে অভিযোগ জানাতে চাইলে দ্রুত সেটি করতে হবে, কারণ টিএসএ ১৮০ দিনের মধ্যে অভিযোগ আমলে নেয়। তাছাড়া দ্রুত অভিযোগ করলে সে সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়গুলোও আপনার মনে থাকবে।

অভিযোগ করার ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে, এটি আপনার নাগরিকত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা। আপনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে থাকলে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে আপনাকে ব্যক্তিগত তথ্য টিএসর সামনে নিয়ে আসতে হবে। টিএসএ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ব্যবস্থার একটি অংশ। ফলে বাড়তি যাচাইয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আনসারি জানান, আপনি যদি সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান তাহলে মুসলিক অ্যাডভোকেসির মতো সংস্থাগুলো আইনিভাবে সহায়তা করবে বা আপনার প্রতিনিধিত্ব করবে।

দেশে প্রবেশের সময় কাস্টমস যে সব যাত্রীর ফোন নিয়ে গেছে, নো-ফ্লাই তালিকায় নাম থাকার কারণে যে সব যাত্রী ভিনদেশে আটকা পড়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়রানির কারণে যেসব ব্যক্তি দেশ ছেড়েছেন সিএআইআর তাদের ঘটনা শুনেছে ও প্রতিনিধিত্ব করেছে।

মামলা করার বিষয়টিতে কিছু চ্যলেঞ্জ রয়েছে। মুসলিম অ্যাডভোকেটসের সাবেক আইনজীবী ম্যাথিউ ক্যালাহান জানান, মামলার বিষয়টি সময় ও খরচ সাপেক্ষ। অনেকেই মামলার বিষয়ে সহায়তা চান, কিন্তু নিজেদের নাম প্রকাশ্যে আসা নিয়ে সংকোচবোধ করেন। নিজের অফিস ও সহকর্মীরা সন্দেহের চোখে দেখতে পারেন এমন ধারণা থেকেই এই সংকোচ।



আপনার অধিকার চর্চা ও পদক্ষেপ নেয়া আরেকজনকে সহায়তা করতে পারে



বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েও অনেকে অভিযোগ করেন না। এর কারণ হলো, তারা বিষয়টি স্বীকার করার দায়িত্ব নিতে চাযন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে সরকারকে জবাবদিহিতামুক্ত রাখে।

সানা আনসারি বলেন, ‘টিএসএ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার টার্গেট হওয়া ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনা অপমানজনক, হতাশাজনক ও ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা। তবে আমি অবাক হব না যদি এমন কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েও কেউ পুরো বিষয়টিকে ভুলে যেতে চান।’

আনসারি যোগ করেন, ‘যে সব মুসলিম মনে করেন, অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না; তাদেরকেও অভিযোগ জমা দিতে উৎসাহ দিচ্ছে মুসলিম অ্যাডভোকেটস।’

তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছরের একটি ইতিবাচক পরম্পরা হচ্ছে, আমেরিকান মুসলিমরা নিজেদের কথা জানাতে শুরু করেছেন। তারা সরকারি অফিসে যাচ্ছেন, আমেরিকান মুসলিম হওয়ার অভিজ্ঞতা অন্যদের বলছেন কিংবা বৈষম্যমূলক অভিযোগগুলো দাখিল করছেন। অভিযোগ করার মাধ্যমে অন্যায়কে আপনি প্রকাশ্যে আনছেন।

‘কেউ যদি টিএসএ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বৈষম্যমূলক আচরণ সম্বন্ধে কথা না বলেন, তাহলে মুসলিম অ্যাডভোকেটসের মতো সংস্থাগুলো সমস্যা অনুধাবন করতে পারবে না এবং আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে পারবে না।’

শেয়ার করুন

ঝালে আছে অনেক গুণ

ঝালে আছে অনেক গুণ

ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ক্যাপসেইসিনের ভূমিকা আছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি ভালো কাজ করে।

ঝালের মূল উপাদান হলো ক্যাপসেইসিন। এটি বিভিন্নভাবে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে।

হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মোটেও ঝাল খান না, তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ঝাল খান, তাদের হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস ও ক্যানসারজনিত রোগে মৃত্যুহার কম।

এমন নানা রকম উপকারিতা পাওয়া যাবে ঝাল থেকে। চলুন দেখে নিই সেগুলো।

১. মরিচের ক্যাপসেইসিন পরিপাকতন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সরিয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ও বিপাকক্রিয়ায় সাহায্য করে।

২. ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ক্যাপসেইসিনের ভূমিকা আছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি ভালো কাজ করে।

৩. ক্যাপসেইসিন একধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি রক্তনালিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়।

৪. হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির স্নায়ুগুলো ক্যাপসেইসিনে সংবেদনশীল। এই স্নায়ুগুলোর সুস্থতায় ভূমিকা রাখে এই উপাদান।

শুকনা মরিচ না কাঁচা মরিচ?

শুকনা বা গুঁড়া মরিচের তুলনায় কাঁচা মরিচে ক্যাপসেইসিনের পরিমাণ বেশি। তাছাড়া কাঁচা মরিচে ভিটামিন সির পরিমাণও বেশি। তাই রান্নায় বা সালাদে কাঁচা মরিচ থাকলে ভালো।

আবার দেখা গেছে, সবুজ কাঁচা মরিচের চেয়ে লাল রঙের তাজা কাঁচা মরিচ আরও ভালো। একই গুণ পাওয়া যাবে ক্যাপসিকামেও।

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু রোগীর খাবার

ডেঙ্গু রোগীর খাবার

ডেঙ্গু হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ডাবে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি পূরণের সব উপাদান। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি রোগীর খাবারের দিকেও মনোযোগী হতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর দ্রুত সেরে ওঠার জন্য ডাক্তাররা কিছু খাবার খেতে পরামর্শ দেন। চলুন দেখে নেই, সেই খাবারগুলো কী কী।

কমলা

কমলা ও কমলার রস ডেঙ্গু জ্বরে ভালো কাজ করে। এতে আছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই দুটি উপাদান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।

ডালিম

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল। যদি আপনি নিয়ম করে ডালিম খান, তাহলে বেড়ে যাবে প্লাটিলেটের সংখ্যা। এই উপকারি ফলটি খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতিও দূর হবে।

ডাবের পানি

ডেঙ্গু হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ডাবে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি পূরণের সব উপাদান। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

পেঁপে পাতার জুস

ডেঙ্গু হলে রোগীর শরীরে কমে যেতে পারে প্লাটিলেট। তাই এ সময় আপনার উপকার করতে পারে পেঁপে পাতা। পেঁপে পাতায় পাপাইন এবং কিমোপেইনের মতো এনজাইমসমৃদ্ধ, যা হজমে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করতে পারে প্লাটিলেটের পরিমাণও। সেজন্য আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ এমএল পেঁপে পাতার তৈরি জুস খেতে হবে।

হলুদ

ডেঙ্গু জ্বরে কাজে আসতে পারে হলুদও। এর জন্য আপনাকে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করতে হবে। এটি আপনাকে অতিদ্রুত সুস্থ করে তুলবে।

মেথি

ডেঙ্গু হলে কাজে আসবে মেথি। এটি অতিরিক্ত জ্বর কমিয়ে আনতে কাজ করে। তবে মেথি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ব্রুকলি

ব্রুকলি ভিটামিন কে এর উৎস। অন্যদিকে ভিটামিন কে রক্তের প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং খনিজ সমৃদ্ধ। যদি কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন; তাহলে অবশ্যই তাকে বেশি করে ব্রুকলি খেতে দিতে হবে।

পালংশাক

পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। এটি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এই শাকটি বেশি করে গ্রহণ করলে অতিদ্রুত প্লাটিলেট বৃদ্ধি পায়।

শেয়ার করুন

ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন

ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন

শক খাওয়া ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড চালুর চেষ্টা করুন। এ সময় রোগীর মুখ দিয়ে বাতাস প্রবেশ করিয়ে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

আমাদের সবার বাড়িতেই ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি আছে। এসব চালাতে গিয়ে অসাবধানতায় ইলেকট্রিক শক খাওয়ার ঘটনাও বেড়ে চলছে। তাই ইলেকট্রিক দুর্ঘটনার ব্যাপারে জানা থাকা খুব জরুরি। একটু সচেতনতা বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনকে।

চলুন আজ দেখে নেই, কেউ ইলেকট্রিক শক খেলে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে।

১. কেউ ইলেকট্রিক শক খেলে তাকে ধরা যাবে না। তেমন করলে আক্রান্তকে তো বাঁচাতে পারবেনই না, উল্টো আপনিও একই সঙ্গে শক খাবেন।

২. কেউ শক খেয়েছে বুঝতে পারলে প্রথমেই কারেন্টের সুইচ বন্ধ করুন। যদি সম্ভব না হয় তাহলে শুকনো খবরের কাগজ, উলের কাপড়, শুকনো কাঠের টুকরা অথবা পলিথিন ব্যাগে হাত মুড়িয়ে শক খাওয়া ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ইলেকট্রিক শকের উৎস থেকে আলাদা করে দিন। যদি কিছুতেই কাজ না হয়, তাহলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিন।

৩. শক খাওয়া ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়ার ব্যবস্থা করুন। সাধারণত বলা হয় যে ৩ মিনিটের ভেতর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা গেলে ১০ জনের ভেতর ৭ জনকে বাঁচানো সম্ভব। দেরি করলে বাঁচানোর সম্ভাবনা কমে আসে। এমন জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ওপর আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নির্ভর করে। একই সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থাও করুন।

৪. শক খাওয়া ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিয়ে হৃৎপিণ্ড চালুর চেষ্টা করুন। এসময় রোগীর মুখ দিয়ে বাতাস প্রবেশ করিয়ে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করুন।

৫. শক খাবার পরও শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে তবে খুব বেশি ভয়ের কিছু নেই। রোগীকে শুয়ে থাকতে বলুন। এ সময় একজন ডাক্তারকে খবর দিন অথবা হাসপাতালে নিয়ে যান।

শেয়ার করুন

রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণের লাইটের সংকেত দেখে নিন। লাল, হলুদ ও সবুজ বাতির সংকেত মেনে চলুন।

বিভিন্ন কারণে আমাদের রাস্তা পারাপার হতে হয়। এ সময় সতর্ক না হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আজ রাস্তা পার হবার কিছু নিয়ম জেনে নিন।

১. রাস্তা পার হবার জন্য ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করুন। সেটা না থাকলে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করুন। দুটির একটিও না থাকলে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হোন।

২. মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হবেন না। কারণ এ সময় ছুটে আসা যানবাহনের বদলে মনোযোগ থাকে ফোনে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

৩. রাস্তায় পার হওয়ার সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণের লাইটের সংকেত দেখে নিন। লাল, হলুদ ও সবুজ বাতির সংকেত মেনে চলুন।

৪. রাস্তা পারাপারের সময় সঙ্গে শিশু থাকলে তাকে কোলে তুলে নিন। সম্ভব না হলে শক্ত করে হাত ধরে রাখুন।

৫. রাস্তা পারাপারের সময় দৌড় দেয়া যাবে না। ডানে-বামে দেখে, স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে রাস্তা পার হোন।

৬. রাস্তা পার হওয়ার সময় অবশ্যই সেই চিরায়ত নিয়ম প্রথমে ডানে, তারপরে বাঁয়ে; তারপরে পেছনে, তারপরে সামনে, সব শেষে ডানে তাকিয়ে রাস্তা পার হোন।

৭. চৌরাস্তা দিয়ে রাস্তা পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এসব জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হবেন না।

৮. শিশু-কিশোরদের একা রাস্তা পার হওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করুন। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের সাহায্য নিতে শেখান। পুলিশ পাওয়া না গেলে কমপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক কারও সাহায্য নিয়ে রাস্তা পার হতে বলুন।

শেয়ার করুন

শ্যাম্পু করবেন যেভাবে

শ্যাম্পু করবেন যেভাবে

তেলটা যত ভালোভাবে মালিশ করবেন, তত বাড়বে রক্ত চলাচলের হার। গোড়া আলগা হয়ে যাওয়া চুল পড়ে যাবে, ভেতর থেকে উঠে আসবে নতুন চুল।

সপ্তাহে এক-দুইবার শ্যাম্পু আমরা সবাই করি। তবে এটা যেনতেনভাবে করলে চুলের কোনো লাভ হয় না। শ্যাম্পু করার আগে-পরে মানতে হয় কিছু সাধারণ নিয়ম। চলুন সেগুলো দেখে নেই।


শ্যাম্পুর আগে

শ্যাম্পু করার আগে আপনার পছন্দের তেল দিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করুন। তেলের মধ্যে যেন মিনারেল অয়েল এবং সুগন্ধি না থাকে, সেটা দেখে নিতে হবে। কোল্ড প্রেসড নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল অথবা কাঠবাদামের তেল লাগানো যায়। তেলটা যত ভালোভাবে মালিশ করবেন, তত বাড়বে রক্ত চলাচলের হার। গোড়া আলগা হয়ে যাওয়া চুল পড়ে যাবে, ভেতর থেকে উঠে আসবে নতুন চুল। সেই সঙ্গে আপনার চুল নরম, কোমল থাকবে।

শ্যাম্পু পাতলা করুন

শ্যাম্পু করার আগে সেটা পাতলা করে নিন। শ্যাম্পুর সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মেশালে সেটা ব্যবহার উপযোগী হবে। মাথার মাঝখান থেকে শ্যাম্পু লাগানো শুরু করুন, কপালের কাছ থেকে নয়। নইলে সামনের দিকের চুল রুক্ষ হয়ে যাবে।



কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

শ্যাম্পু করার পর ভালো করে কন্ডিশনার লাগান। তারপর একটা মোটা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এতে জট ছাড়বে এবং কন্ডিশনার চুলের সর্বত্র সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে। তিন মিনিট অপেক্ষার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে নিন। মাথার ত্বকে যেন কন্ডিশনার না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখুন।

পাতলা কাপড় দিয়ে চুল মুছুন

শ্যাম্পু করার পর নরম তোয়ালে দিয়ে চুল জড়িয়ে রাখুন। আলতো করে চেপে চেপে পানিটা শুষে নিন। খুব জোরে চুল থেকে পানি ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করবেন না। তাতে চুলের ক্ষতি হবে।



ভেজা চুল আঁচড়াবেন না

ভেজা চুল আঁচড়ানো এবং স্টাইলিং করা, দুটোই ক্ষতিকর। অর্ধেক শুকনো না হলে চিরুনি ব্যবহারেরও দরকারই নেই। চেষ্টা করুন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল না শুকিয়ে প্রাকৃতিকভাবেই শুকিয়ে নেওয়ার।

শেয়ার করুন