ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন, আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব

ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন, আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে অনেকেই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল। কিন্তু আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব। যা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্যই।’

আওয়ামী লীগ যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তখন অনেকেই বাঁকা কথা বলতেন জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, এখন এই বাংলাদেশের সুফলই পাচ্ছে সবাই।

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ সত্যিকারের ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। সরকার এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ করতে সক্ষম। এ অগ্রযাত্রায় প্রমাণিত হয়েছে আমাদের জনগোষ্ঠী অত্যন্ত মেধাবী, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে কাজ করতে সক্ষম।’

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তার ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন জনদুর্ভোগ হলেই ‘ডিজিটাল’ বলে বিদ্রুপ করত বিরোধী পক্ষ।

সেই কথার প্রতি ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে অনেকেই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল। কিন্তু আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব। যা সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্যই।’

রোববার দ্য ইনস্টিটিউট অফ চাটার্ড অ্যাকাউন্টসের (আইসিএবি) ডেভেলমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টটেশন অফ অডিট প্র্যাকটিস সফটওয়্যারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘করোনার এই সময়ে আমাদের জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ক্লাস করছে। যা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন।’

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে নিজের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখা যাবে না।’

প্রতিটি সূচকে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘হেনরি কিসিঞ্জার যে দেশটাকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল, সে দেশটা আজ বিশ্বে রোল মডেল।’

অনুষ্ঠানে আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার ডিজিটালাইজেশন অডিট প্র্যাকটিস ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ৬০-৭০টি সিএ ফার্মকে এ সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ সফটওয়্যার ব্যবহারে নিখুঁতভাবে অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। এ সফটওয়্যার ব্যবহারে অনেক কম সময়ে কাজ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু, কাউন্সিল মেম্বার মোহাম্মদ ফারুকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জানা যাবে ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ আগেই জানাবে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা। নানা ধরনের বিস্ময়কর কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে এআই।

তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাক লাগানো কাজে হাত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ঘটনা আগেই জানিয়ে দেবে এআই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরীক্ষামূলক এই কাজের নাম দেয়া হয়েছে গ্লোবাল ইনফরমেশন ডমিনেন্স এক্সপেরিমেন্টস (জিআইডিই)। বেশ কয়েকটি ধাপে এ পরীক্ষা চলবে।

স্যাটেলাইট ছবি, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সেন্সর, রাডার থেকে শুরু করে আরও অনেক সূত্র থেকে পাওয়া ডেটা ওই সব পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় ক্লাউড কম্পিউটিংও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা ডেটা দক্ষতার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে।

সামরিক কর্মকর্তা বা সংস্থা যাদের এসব ডেটার প্রয়োজন পড়বে, তারা তা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল গ্লেন ডি ভ্যানহার্ক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তথ্য ও ডেটা কীভাবে আমরা ব্যবহার করব, সে বিষয়ে জিআইডিই মৌলিক পরিবর্তন হাজির করেছে।

‘এর মাধ্যমে কৌশলগত পর্যায়ে নেতাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র বাড়বে। শুধু সামরিক নেতাই নন, বেসামরিক নেতারাও এতে উপকৃত হবেন।’

সায়েন্স এলার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের পদক্ষেপ সময়ের আগেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

এতে সংঘর্ষ বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শুরুর আগেই সতর্কতা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্দর ছাড়ার আগে সাবমেরিনের গতিপথ নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া থাকে। সাগরে ভাসার পর এটির চলাচল জানাই থাকে।

তবে এআই এ ক্ষেত্রে যা করবে তা হচ্ছে, সাবমেরিনসংক্রান্ত সব তথ্য একত্রিত করে আগেই অনেক দ্রুত জানাবে।

ভ্যানহার্ক বলেন, ‘আমরা ডেটাগুলো সহজলভ্য করে ক্লাউডে শেয়ার করছি। সেখানে মেশিন লার্নিং ও এআই ডেটাগুলো খতিয়ে দেখবে।

‘পরে এআই সেগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে পাঠাবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা অগ্রিম সতর্কবার্তা পাব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হব।’

এআইয়ের এই নতুন ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করবে বা সংগ্রহ করা তথ্য কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে, সেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তবে যা জানা গেছে তা হলো, দ্রুততম সময়ে এখন ডেটা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

জিআইডিইর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

রবি ছাড়লেন মাহতাব

রবি ছাড়লেন মাহতাব

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

রবিতে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর শেষ হবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি ছুটিতে গেছেন। তার দায়িত্বে না থাকার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন শেষে এ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

রবিতে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর শেষ হবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি ছুটিতে গেছেন। তার দায়িত্বে না থাকার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

বৃহস্পতিবার রবি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রবির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), এম রিয়াজ রশিদ কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে এ সময়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে। রবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থায়াপারান সাঙ্গারাপিল্লাই বলেন, ‘দেশের শীর্ষ ডিজিটাল কোম্পানি হিসেবে রবিকে প্রতিষ্ঠায় মাহতাবের দৃঢ় ভূমিকার জন্য পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ হতে তাকে আমি অভিনন্দন জানাই।’

৪-জি সেবায় রবিকে শীর্ষ স্থানে নেয়া, বাংলাদেশের কোম্পানি ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রবি-এয়ারটেল মার্জার সম্পন্নকরণ, পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আইপিওর মাধ্যমে রবির তালিকাভুক্তি, ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ সফলভাবে সম্পূর্ণ করেছিলেন রবির প্রথম বাংলাদেশি সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

৪ বছরে ছেড়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান, অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

৪ বছরে ছেড়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান, অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ছবি: সংগৃহীত

চার বছর আগে চালু করা যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি থেকে আইটি প্রতিষ্ঠান চলে যেতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরাও বিমুখ হচ্ছেন সুযোগ-সুবিধার অভাবে। এরই মধ্যে ২০ প্রতিষ্ঠান পার্ক ছেড়েছে।

যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধনের পর প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়ার। দক্ষিণাঞ্চলকে প্রযুক্তির হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনাও নেয়া হয়।

তবে চার বছর পূর্তির আগেই সফটওয়্যার পার্কটিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে পার্ক ছেড়ে গেছে ২০টি প্রতিষ্ঠান।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ইজারামূল্য নিয়ে বিরোধ, উচ্চগতির ইন্টারনেট না থাকা, বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে ভোগান্তির কারণে বাড়েনি ব্যবসার পরিধি।

আইটি পার্কটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।

এমন সংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সফটওয়্যার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেমিকোলন আইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা পারভেজ মাহমুদ হীরা।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা এগিয়ে যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের, সে ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল যে লক্ষ্যে, সে লক্ষ্য পূরণে যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল সেদিকে আগাচ্ছে না পার্কটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রথমে নিজে দায়িত্ব নেয়ার কথা থাকলেও পরে তা দেয়া হয়েছে একটি তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান টেক সিটির হাতে।

‘তারা সরকার নির্ধারিত প্রতি বর্গফুটে ১৪ টাকা ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও নিচ্ছে ১৮ থেকে ২২ টাকা।’

তার অভিযোগ, সেখানে বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি দেয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে নেয়া হচ্ছে ১৪ টাকা ইউনিট হিসাবে।

হীরা বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে সরকার যদি সফটওয়্যার ও বিভিন্ন আইটি সেবা নিত, তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভিত্তি পেত। যা করা হয়নি।’

আইটি পার্কটিতে বিনিয়োগ আনতে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে।

ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠন।

৪ বছরে ছেড়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান, অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

পার্কটির ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ভাড়া তুলনামূলক বেশি। একেক প্রতিষ্ঠানের থেকে একেক রকম ভাড়া আদায় করা হয়। বারবার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে সর্বোচ্চ রেটে আমরা বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি। এই বিদ্যুৎ বিল কমানোর বা বিলটা বিশেষ শিল্প জোনের আওতায় আনার জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে, যদিও সমস্যার সমাধান হয়নি।’

টেকসিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্নীতির

হাইটেক পার্কটি ইজারা নিয়েছে টেকসিটি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ বিল সরকার থেকে ৩৭ লাখ টাকা প্রণোদনা দেয়া হলেও টেকসিটি আমাদের কাছে আবার বিদ্যুৎ বিল নিয়েছে। সেই টাকার কোনো হিসাব টেকসিটি আমাদের দেয়নি। আমরা এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা হয়নি।’

যা বলছে টেকসিটি

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা টেকসিটির ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) এম ইউ সিকদার জানান, সারা দেশের ৩৯টি হাইটেক পার্কের মধ্যে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি রোল মডেল ও পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। তাদের ১৫ বছরের জন্য ট্যাক্স ফ্রি করে দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিশ্বমানের যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলোও ভর্তুকি মূল্যে দিচ্ছে। পাশাপাশি করোনার কারণে আইটি বিজনেসেও ধাক্কা লাগায় উদ্যোক্তাদের আট মাসের ভাড়া সরকার মওকুফ করেছে বলেও তার দাবি।

তিনি জানান, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটিতে ১৫ তলা ভবনে আড়াই লাখ বর্গফুট জায়গা ইজারাযোগ্য। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৯৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ইজারা দেয়া হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে ফেলে রেখেছে।

বর্তমানে পার্কটিতে ৫৫টি আইটি ও আইটিএস বিজনেস প্রতিষ্ঠান জায়গা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি কোম্পানি কাজ করছে।

এ ছাড়া ৯৮ হাজার বর্গফুটের ১২তলা আবাসিক ভবন (ডরমিটরি), ২৫ হাজার বর্গফুটের বেজমেন্ট ফ্লোরসহ তিনতলা মাল্টিপারপাস ভবন রয়েছে পার্কটিতে।

টেক সিটি জানায়, সেখানে ৫৫টি প্রতিষ্ঠান জায়গা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রমে রয়েছে ৩৮টি। অবশ্য সরেজমিনে গিয়ে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পাওয়া যায়।

টেক সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের অনেকে ভাড়া দিচ্ছেন না। তাদের কাছে ৬০-৭০ লাখ টাকা ভাড়া এখনও পাওনা।’

মূল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কম

হাইটেক পার্কে চালু ৩২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই কল সেন্টার পরিচালনা, ডিজিটাল বিপণন, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে।
পার্কে সফটওয়্যার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ছয়টি। সেগুলো হলো মাইক্রো ড্রিম আইটি, টেকনোসফট বাংলাদেশ, সফট এক্স টেকনোলজি, ডেসটিনি আইএনসি ডট, সেমিকোলন আইটি ও অংশ ইন্টারন্যাশনাল।

সেমিকোলন আইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা পারভেজ মাহমুদ হীরা বলেন, ‘এখানে সফটওয়্যার উৎপাদন করে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ কলসেন্টার। কলসেন্টারগুলো কি দেশের প্রযুক্তি খাতকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবে?

‘প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের কোনো প্রণোদনা নেই। এ জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বাড়ছে না।’

যশোর শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি উদ্বোধন করা হয়। ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হয় পার্কটি।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি

ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি

ফরচুন গ্লোবালের ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৮৪ ধাপ এগিয়েছে শাওমি। ছবি: সংগৃহীত

ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ইন্টারনেট ও রিটেইল ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির কোম্পানি হিসেবে এই অবস্থান দখল করেছে শাওমি। গত বছর শাওমির অবস্থান ছিল ৪২২তম।  

শাওমি তৃতীয় বছরের মতো ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। চলতি বছরের তালিকায় ২০২০ সালের চেয়ে ৮৪ ধাপ এগিয়ে শাওমির অবস্থান ৩৩৮তম।

ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ইন্টারনেট ও রিটেইল ক্যাটাগরিতে ২০২১ সালের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির কোম্পানি হিসেবে এই অবস্থান দখল করেছে শাওমি। গত বছর শাওমির অবস্থান ছিল ৪২২তম।

শাওমির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও সিইও লেই জুন বলেন, “আমাদের অতীতের অর্জনের থেকে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধিতেই আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ। শাওমি এখনও তরুণ কিন্তু উচ্চাভিলাষী একটি প্রতিষ্ঠান যা প্রেরণায় পরিপূর্ণ। আমি বিশ্বব্যাপী শাওমির ফ্যানদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই কেননা তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনই শাওমিকে করেছে প্রাণবন্ত ও উদ্যোমী।

‘আমি মনে করি, এটা শাওমির জন্য কোন সীমা নয় এবং আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতে আমরা আরো শক্তিশালী ও দুর্দান্ত শাওমিকে দেখতে পাবো। সামনের বছর ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় আমরা আরো অসামান্য রেকর্ড অর্জন করব।”

শাওমির আয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে শাওমি মোট আয় করেছে ২৪৫.৯ বিলিয়ন ইউয়ান, এটাই শাওমিকে ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ তালিকায় ৩৩৮তম স্থানে তুলে এনেছে। ২০২১ সালেও শাওমি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে, এ সময় কোম্পানিটি অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি করতে পেরেছে আয় ও মুনাফায়; যা প্রত্যাশিত আয়কে ছাড়িয়ে গেছে।

২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে শাওমি আয় করেছে ৭৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউয়ান (চীনা মুদ্রা), যা বার্ষিক হিসেবে বেড়েছে ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই সময়ে মুনাফা এসেছে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউয়ান, মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬৩ দমমিক ৮ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাজারে হাই-এন্ড ক্যাটাগরির স্মার্টফোন, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং কোম্পানির নতুন রিটেইল ব্যবসার উন্নয়ন।

১৭ জুলাই বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস শাওমিকে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় ঘোষণা করেছে, এ সময় শাওমির সরবরাহ করা স্মার্টফোনের হিসাবে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে, আর বাজার শেয়ার দখল করে ১৭ শতাংশ।

নতুন রিটেইলের ক্ষেত্রে ২০২০ সাল থেকে শাওমির ফিজিক্যাল স্টোরগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চীনে মি হোম স্টোরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০০ এর বেশি, এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ১ হাজারের বেশি শাওমি স্টোর রয়েছে।

শাওমি গবেষণা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিভায় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরঅ্যান্ডডি দলকে অনুপ্রাণিত করায় নিত্য নতুন প্রযুক্তি উপহার দিতে পারছে শাওমি গ্রাহকদের। আর একারণেই শাওমি স্মার্ট ফ্যাক্টরি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে পেরেছে।

পরবর্তী দশকে শাওমি উৎপাদন শিল্পে নতুন চালিকাশক্তি হবে বলে শাওমির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জানান সিইও লেই জুন।

শাওমি ডিভাইসের পাশাপাশি স্মার্ট ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে প্রবেশ করেছে। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাজারে প্রবেশের ঘোষণা দেয়।

খাতটিতে আগামী ১০ বছরে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা জানায় শাওমি।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত মোবাইল ডেটা ফেরতের নির্দেশ

মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত মোবাইল ডেটা ফেরতের নির্দেশ

মোবাইল অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকির জন্য ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কানাডা থেকে প্রযুক্তি কিনছে বিটিআরসি। প্রতিষ্ঠানটিকে চুক্তি সইয়ের ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ করতে হবে।

মেয়াদ শেষে অব্যবহৃত ইন্টারনেট ডেটা কেটে না নিয়ে পরবর্তীতে কেনা ডেটা প্যাকেজের সঙ্গে ফিরিয়ে দিতে মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি’র কার্যালয়ে সোমবার বেলা ৩টার দিকে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকমের সঙ্গে ওই চুক্তি হয় বিটিআরসির।

মনগড়া মেয়াদ দিয়ে যে মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজ করা হয় তা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মোস্তাফা জাব্বার বলেন, তারা যেন কল ড্রপের টাকা ফেরত দেয়। কারণ, এটা যুক্তিসঙ্গতভাবে ভোক্তার অধিকার। সেই অধিকার তাদের দিতে হবে। একচেটিয়াভাবে প্রফিট করার জন্য কাউকে লাইসেন্স দেয়া হয়নি।

মোবাইল অপারেটরগুলো আগে এই ডেটা ফেরত দিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও এই ডেটা ফেরত পেয়েছি। কিন্তু এখন তারা কেন দেয় না, তাদের কাছে এই প্রশ্নটা আমারও।’

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির পক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক গোলাম রাজ্জাক ও টিকেসি টেলিকমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির তালহামি চুক্তিতে সই করেন।

মোবাইল অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকির জন্য ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কানাডা থেকে এই প্রযুক্তি কিনছে বিটিআরসি। প্রতিষ্ঠানটিকে চুক্তি সইয়ের ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ করতে হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বলা হয়, টেলিকম মনিটরিং সিস্টেমের কাজ শেষ হলে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে।

অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান আরও সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে এবং গ্রাহকসেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

অপারেটররা যেসব ট্যারিফ বাস্তবায়ন করছে সেগুলো বিটিআরসির অনুমোদিত কি না অথবা গ্রাহকরা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কি না তা যাচাই করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এসব বিষয়ে আসা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

মোবাইল অপারেটরদের নজরদারিতে সিস্টেম কিনছে বিটিআরসি

মোবাইল অপারেটরদের নজরদারিতে সিস্টেম কিনছে বিটিআরসি

কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকম এবং বিটিআরসির মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সিস্টেমটি বাস্তবায়িত হলে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব তথ্য বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ভয়েস ও ডাটা ট্রাফিক,নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং মান সম্পর্কিত তথ্য সর্বোপরি বিটিআরসির প্রাপ্য রাজস্ব সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

মোবাইল অপারেটরদের ওপর নজরদারি চালাতে ও তাদের কার্যক্রম তদারকিতে কানাডা থেকে সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কিনছে বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।

এর জন্য কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকম এবং বিটিআরসির মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিটিআরসি।

এতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এতে সভাপতিত্ব করেন।

বিটিআরসির পক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক গোলাম রাজ্জাক ও টিকেসি টেলিকমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সামির তালহামি চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ করতে হবে।

এর আগে ৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম কেনার জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

সিস্টেমটি বাস্তবায়িত হলে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব তথ্য বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এতে ভয়েস ও ডাটা ট্রাফিক,নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং মান সম্পর্কিত তথ্য সর্বোপরি বিটিআরসির প্রাপ্য রাজস্ব সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

ফলে বিটিআরসির নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে এবং সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ ব্যবস্থা আরও দক্ষ এবং দ্রুত হবে।শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল, দ্বীপ, হাওড়-বাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও দূর্গম এলাকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এর প্রকৃত অবস্থা তাৎক্ষনিক যাচাই করা সম্ভব হবে।

এতে অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিং এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সেবার মান আরো সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে এবং গ্রাহক সেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অপারেটররা বাস্তবে যেসব ট্যারিফ বাস্তবায়ন করছে এবং এসব ট্যারিফ প্যাকেজ বিটিআরসি কর্তৃক অনুমোদিত কি না অথবা গ্রাহকরা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কি না তা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ক অভিযোগের নিষ্পত্তি কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

সিস্টেমটি স্থাপন হলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাবে। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নানাবিধ অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ও সেবার সঠিক মান উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন

ডিজিটালাইজ হচ্ছে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগার

ডিজিটালাইজ হচ্ছে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগার

লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল পদ্ধতি অনুযায়ী থরে থরে সাজানো থাকবে ই-বুক। থাকবে শিশু ও মুজিব কর্নার। প্রতিটি ই-লাইব্রেরি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকেও সহজেই ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারে ঢুকে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন।

জ্ঞানসমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গঠনে দেশের ৭৩টি গণগ্রন্থাগারকে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ৭১টি সরকারি ও দুটি বেসরকারি গ্রন্থাগারকে ডিজিলাইজ করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ কথা জানিয়েছে আইসিটি বিভাগ।

এতে বলা হয়, মানসম্পন্ন অনলাইন সেবাকে সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে গ্রন্থাগারগুলোকে পরিণত করা হবে ই-লাইব্রেরিতে।

এ বিষয়ে রোববার রাতে আইসিটি বিভাগ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনলাইনে এক পর্যালোচনা সভা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে এ সভায় যুক্ত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ ছাড়াও আরও যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) এনামুল কবিরসহ তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

সরকারের উদ্যোগটি বাস্তবায়নে রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সভায়।

এতে জানানো হয়, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল পদ্ধতি অনুযায়ী থরে থরে সাজানো থাকবে ই-বুক। থাকবে শিশু ও মুজিব কর্নার। প্রতিটি ই-লাইব্রেরি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকেও সহজেই ভার্চুয়াল গ্রন্থাগারে ঢুকে পছন্দের বইটি পড়তে পারবেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ল্যান নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে লাইব্রেরিগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরে তারহীন প্রযুক্তির ইন্টারনেট সংযোগ, আইপি ফোন, বিভাগীয় গ্রন্থাগারগুলোর জন্য আরএফআইডি প্রযুক্তির ব্যবস্থা করবে আইসিটি বিভাগ।

আরও পড়ুন:
মোবাইল সেট আমদানির প্রয়োজন নেই: মোস্তাফা জব্বার
১১০ বছর পর দ্বিতীয়বার স্থগিত জব্বারের বলি খেলা
বাংলায় এসএমএস চার্জ অর্ধেক: মোস্তাফা জব্বার

শেয়ার করুন