পুঁজিবাজারের জন্য আরেক সুখবর

পুঁজিবাজারের জন্য আরেক সুখবর

সংকটকালেও পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গঠন করেছে স্থিতিশীলতা তহবিল। এ তহবিলের জন্য গঠন করা হয়েছে ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

২০১০ সালের মহাধসের পর এক দশকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছিল না। তবে গত বছরের মে মাসে শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আসার পর থেকে বাজারে আস্থার সংকট কাটতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে অবণ্টিত মুনাফা দিয়ে গঠন করা হয় পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল। এই তহবিল পরিচালনায় পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীদের চিড় ধরা মনোবলকে চাঙা করবে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হয়ে ওঠার ইঙ্গিতের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির গঠন করা স্থিতিশীলতা তহবিলের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে দীর্ঘদিন দাবিহীন পড়ে থাকা লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যবহার করে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।

১০ সদস্যের পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) রোববার এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।

২০১০ সালের মহাধসের পর এক দশকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছিল না। তবে গত বছরের মে মাসে শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিবর্তন আসার পর থেকে বাজারে আস্থার সংকট কাটতে শুরু করে।

এই কমিশন বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার পাশাপাশি সংকটকালে বাজারকে কীভাবে সাপোর্ট দেয়া যায়, সে চিন্তাভাবনাও করে। এর অংশ হিসেবে অবণ্টিত লভ্যাংশ ব্যবহার করে একটি তহবিল গঠনের চিন্তা করে।

ছয় মাসের বেশি সময় পর এই তহবিল পরিচালনায় কমিটি গঠন করা নিঃসন্দেহে বিনিয়াগকারীদের চিড় ধরা মনোবলকে আরেকটু চাঙা করবে।

তহবিল পরিচালনায় যে পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, তাতে সদস্যরা হলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স বিভাগের অধ্যাপক তানজিলা দিপ্তী, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভুঁইয়া, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ফজল বুলবুল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সিসিবিএলের স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ তারেক এবং এ কে এম দেলোয়ার হোসেন এফসিএমএ।

চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যের মেয়াদ হবে ৩ বছর। তবে বিএসইসি যেকোনো সময় কাউকে বাদ দেয়া বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

বোর্ডের বৈঠকের কার্যবিবরণী পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিএসইসির কাছে পাঠাতে হবে। এই বোর্ড আলোচিত ফান্ড পরিচালনার সব দায়দায়িত্ব বহন করবে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বিএসইসি আলোচিত ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২১ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি নোটিশিকেশন জারি করে বিএসইসি। ৩ মে বিএসইসির ৭৭২তম নিয়মিত কমিশন সভায় ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ নামে ওই তহবিল গঠন ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিধিমালা অনুমোদন করা হয়। ২৭ জুন এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।

এরপর ৬ জুলাই বিএসইসি এক নির্দেশনায় সব তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্রোকার হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের কাছে থাকা (যদি থেকে থাকে) অদাবিকৃত লভ্যাংশ, অবণ্টিত লভ্যাংশ, আইপিওর রিফান্ড ইত্যাদি পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে জমা দিতে বলে।

বিএসইসির নির্দেশনায় টাকা জমা দেয়ার জন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। তবে পরে কোম্পানিগুলো আরও এক মাস সময় চেয়ে নেয়।

বিএসইসির অনুমান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অবণ্টিত ও অদাবিকৃত লভ্যাংশ ও রিফান্ডের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

তালিকাভুক্ত সিংহভাগ কোম্পানির কাছেই এ রকম অবণ্টিত ও দাবিহীন লভ্যাংশ রয়ে গেছে।

পুঁজিবাজারের জন্য আরেক সুখবর
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ভবন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বছরের পর বছর ধরে অবণ্টিত ও দাবিহীন এসব লভ্যাংশ কোম্পানিগুলোর কাছে পড়ে থাকলেও এতদিন এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

গত মে মাসে চেয়ারম্যান, কমিশনারসহ বিএসইসির শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসার পর বাজার স্থিতিশীল করতে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল গঠন সে পদক্ষেপেরই একটি ।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবণ্টিত ও দাবিহীন লভ্যাংশ সাত বছর পর্যন্ত সাসপেন্ডেড থাকতে পারে। এরপর সেটা চলে যায় বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলে। কিন্তু বাংলাদেশে এতদিন এ ধরনের কোনো তহবিল ছিল না।

তহবিল থেকে বাজারের মধ্যবর্তী প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কেনাবেচা করা তথা বিনিয়োগের জন্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়া হবে। শেয়ার কেনাবেচা করতে গিয়ে যাতে তহবিলের কোনো লোকসান না হয়, তার জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করা হবে, থাকবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অডিট কমিটি।

তহবিল কীভাবে ব্যবহৃত হবে?

২৭ জুন জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই তহবিলের ৪০ শতাংশ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারে। ৫০ শতাংশ অর্থে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দেয়া হবে। আর ১০ শতাংশ অর্থ অতালিকাভুক্ত কোম্পানি বা সরকারি সিকিউরিটিজ, স্থায়ী আমানত ও বেমেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম সে সময় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তারল্যসংকট কাটাতে এ তহবিল সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এই তহবিলের ব্যবস্থাপনায় থাকবে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ বা আইসিবি।

বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত কারা নেবে?

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তহবিল ব্যবস্থাপনায় একাধিক কমিটি করবে তহবিল পরিচালনায় ১১ সদস্যের বোর্ড। এর মধ্যে থাকবে পরিচালন ব্যবস্থাপনা কমিটি, নিরীক্ষা ও হিসাব ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি।

প্রয়োজন বোধ করলে আরও সাবকমিটিও করতে পারবে বোর্ড।

তহবিল পরিচালন ব্যবস্থাপনা কমিটিই শেয়া কেনাবেচা, বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে ঋণ বা অন্য কোনো কাজ করবে।

কেউ টাকা চাইলে?

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো শেয়ারধারী বা তার উত্তরাধিকার নগদ বা বোনাস লভ্যাংশ অথবা রাইট শেয়ার দাবি করলে তাকে ১৫ দিনের মধ্যে শেয়ার বা টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বিএসইসি মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘এ জন্য দাবিদারের নামে আলাদা একটি বিও হিসাবে যাচাই-বাছাই শেষ দাবি করা বোনাস শেয়ার প্রদান করা হবে। এতে জটিলতার কিছু নেই।’

যেভাবে এলো তহবিলের ভাবনা

নিয়মিত লেনদেন না করা বা দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের কারণে ব্যাংক হিসাব বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে যায়। এতে নগদ লভ্যাংশ ব্যাংক হিসাবে জমা হয় না। একই কারণে বিও হিসাব নবায়ন না করলে শেয়ার (স্টক) লভ্যাংশ জমা না হয়ে তা কোম্পানির কাছে ফেরত চলে যায়। কোম্পানি এগুলো সাসেপেন্ডেড হিসাবে জমা দেখিয়ে আর্থিক বিবরণী তৈরি করে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ২১ হাজার কোটি টাকার মতো অবণ্টিত লভ্যাংশ পড়ে থাকার খবর আসে। তখন এই অর্থ ব্যবহার করে কীভাবে পুঁজিবাজারকে উন্নত করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হয়।

তখনই এই তহবিল গঠনের আলোচনা ওঠে। আর ২৭ জুন প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে এই তহবিল গঠন নিশ্চিত হয়।

বিএসইসির ’ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবলাইজেশন ফান্ড’ খসড়া নীতিমালার ওপর মতামত জন্য উন্মুক্ত করে গত ৮ মার্চ। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নীতিমালার ওপর মতামত দেয়।

খসড়া নীতিমালার ওপর বিএসইসিতে লিখিত প্রস্তাব পাঠায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমিতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেট কোম্পানি-বিএপিএলসি। তাদের বেশ কিছু আপত্তি বিবেচনায় নেয়া হয়।

ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে নানা আলোচনার পর অবশেষে নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য পাঠানো হয় বিজি প্রেসে।

অবণ্টিত লভ্যাংশ কত

বিএসইসি দেখেছে, টাকার অঙ্কে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত বোনাস লভ্যাংশের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা ও নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ ৬৩৪ কোটি টাকা।

সিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অবণ্টিত বোনাস লভ্যাংশের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা ও নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ ৩২১ কোটি টাকা।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ৮০৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার অদাবিকৃত লভ্যাংশ রয়েছে তামাক খাতের বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড- বিএটিবিসির। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বোনাস লভ্যাংশ এবং ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নগদ লভ্যাংশ।

এটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব। এরপর ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানি, আর্থিক খাতের প্রায় সব কোম্পানি ও বেশ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফলে তহবিলের অঙ্কটা বড় হতে পারে।

তবে এই অবণ্টিত লভ্যাংশের মধ্যে নগদ অর্থ ব্যবহার করা যাবে যেকোনো সময়। তবে বোনাস শেয়ার নিয়ে কী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বল্প মূলধনির আরও পতনে সূচক বাড়াল ব্যাংক

স্বল্প মূলধনির আরও পতনে সূচক বাড়াল ব্যাংক

দর সংশোধনের তৃতীয় সপ্তাহে এসেও পোর্টফোলিওর হিসাব মেলাতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত অর্থবছরে দারুণ লভ্যাংশের পর চলতি বছর আরও ভালো করার আভাস দেয়া ব্যাংক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো দিনের লেনদেনের প্রধান ঘটনা হিসেবেই ধরা যায়। অস্বাভাবিক দর বাড়া স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দর পতন অব্যাহত আছে।

উত্থান পতনের পুঁজিবাজারে টানা দুই দিন বাড়ল সূচক। আগের দিন ১৪ পয়েন্টের পর এবার বাড়ল ৪৫ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি লেনদেন আবার দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

গত জুলাই থেকে সূচক এক হাজার ২৬০ পয়েন্টের বেশি উত্থানের পর চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যে দর সংশোধন শুরু হয়েছে, মঙ্গলবারের লেনদেন স্বস্তির আভাস দিল কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।

গত অর্থবছরে দারুণ লভ্যাংশের পর চলতি বছর আরও ভালো করার আভাস দেয়া ব্যাংক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো দিনের লেনদেনের প্রধান ঘটনা হিসেবেই ধরা যায়। বহুদিন পর দর বৃদ্ধির দিক থেকে শীর্ষ ১০ তালিকায় কোনো ব্যাংকের অবস্থান দেখা গেল।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর সিংহভাগের দর বৃদ্ধির মধ্যে বৃদ্ধির হারটাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির কারণ। ৩ থেকে ৪ শতাংশ দর বেড়েছে অনেকগুলো ব্যাংকের।

অস্বাভাবিক দর বাড়া স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দর পতন অব্যাহত আছে। সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৯টিই এই ধরনের কোম্পানি। যদিও দর পতনের হার শতকরা হিসেবে খুব একটা বেশি নয়।

সূচকে প্রায় ৫০ পয়েন্ট যোগ হলেও দরপতন হয়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের। ১৬৪টি শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৭২টির দর। আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির দর।

স্বল্প মূলধনির আরও পতনে সূচক বাড়াল ব্যাংক
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

আগের দিন লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে গেলেও তা আবার বেড়ে দুই হাজার একশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সূচক বাড়ার পেছনে যে ১০টি কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, সেগুলো হলো আইসিবি, লাফার্জ হোলসিম, ওয়ালটন, সাবমেরিন কোম্পানি, পাওয়ার গ্রিড, আইএফআইসি ব্যাংক, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক ও সামিট পাওয়ার।

এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ৩০.১৪ পয়েন্ট।

অন্যদিকে যে ১০টি কোম্পানির কারণ সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি, সেগুলো হলো গ্রামীণ ফোন, ইবিএল, বার্জার পেইন্টস, বেক্সিমকো ফার্মা, রবি, কোহিনূর, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, মুন্নু সিরামিকস, জেনারেশন নেক্সট ও কেয়া কসমেটিকস।

এই কোম্পানিগুলোর কারণে সূচক পড়েছে ৯.০৯ পয়েন্ট।

স্বল্প মূলধনির আরও পতনে সূচক বাড়াল ব্যাংকস্বল্প মূলধনির আরও পতনে সূচক বাড়াল ব্যাংক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের উত্থান ও পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি করে কোম্পানি

স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেশি পড়লেও সেগুলোর শেয়ার সংখ্যা কম থাকায় সূচকে প্রভাব পড়ে কম। আর জেড ক্যাটাগরির লোকসানি কোম্পানির শেয়ারদর যাই হোক না কেন, তার প্রভাব একেবারেই পড়ে না সূচকে।

খাতওয়ারি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোম্পানির দর বৃদ্ধির হিসাব করলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে বেশিরভাগের দাম বাড়লেও দাম বৃদ্ধির হার একেবারেই নগণ্য। মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে বিমা, বস্ত্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে।

আর লেনদেনের দিন থেকে আবারও এগিয়ে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় অবস্থানে প্রকৌশল খাত। যদিও এই দুটি খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি শেয়ারদর হারিয়েছে।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

ব্যাংকের বিশেষ তহবিলে কেনা যাবে বেক্সিমকোর সুকুক বন্ড

ব্যাংকের বিশেষ তহবিলে কেনা যাবে বেক্সিমকোর সুকুক বন্ড

পুঁজিবাজারে অনুমোদন পাওয়া প্রথম সুকুক বন্ডে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের আর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ করছে বেক্সিমকো লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার।

সৌর, বায়ু, জল, বায়োমাসের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগের উদ্দেশে বেসরকারি উদ্যোক্তার আনা গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকের যে বিশেষ তহবিল করা হয়, তার ৭০ শতাংশ দিয়ে চাইলে এই বন্ড কিনতে পারবে কোম্পানিগুলো।

ইসলামি সুকুক বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তুলতে বেক্সিমকো লিমিটেডের উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা এই বন্ড নিয়ে অনীহা দেখানোর পর এই বন্ডে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সহজ করে দেয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের ৭০ শতাংশ বেক্সিমকোর সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বেক্সিমকোর কথা উল্লেখ না থাকলেও এর সুবিধা এই কোম্পানিটি পাবে।

এতে জানানো হয়েছে, সৌর, বায়ু, জল, বায়োমাসের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগের উদ্দেশে বেসরকারি উদ্যোক্তার আনা গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেক্সিমকোকে বন্ড ছেড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছে। এই টাকায় দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কোম্পানিটি।

এই বন্ড বিনিয়োগকারীদেরকে আকর্ষণীয় মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বছরে ৯ শতাংশ ন্যূনতম মুনাফা দেয়ার পাশাপাশি আরও নানা শর্ত আছে, যে কারণে বছরে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মুনাফা পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

সেই শর্তের মধ্যে আছে বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি হবে, তার ১০ শতাংশ যোগ হবে সুকুকের লভ্যাংশে।

আবার প্রতিবছর বিনিয়োগকারীরা ২০ শতাংশ টাকা তুলে নিতে পারবেন অথবা তিনি চাইলে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার নিতে পারবেন।

এখানেই বাড়তি মুনাফার সুযোগ। কারণ, এই শেয়ার পাওয়া যাবে ২৫ শতাংশ কম দামে। রেকর্ড ডেটের আগের দুই সপ্তাহের ভরিত গড় হিসাব করে এই শেয়ার দেয়া হবে।

অর্থাৎ শেয়ার মূল্য ১০০ টাকা হলে বিনিয়োগকারী পাবেন ৭৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ২০০ হলে পাবেন ১৫০ টাকায়, আর শেয়ার মূল্য ৩০০ হলে পাবেন ২২৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ৪০০ টাকা হলে তিনি পাবেন ৩০০ টাকায়। এভাবে যে শেয়ার তিনি পাবেন, তাতে ৩৩ শতাংশ মুনাফা করার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে এক লাখ টাকায় ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা পাবেন তিনি।

আকর্ষণীয় মুনাফার পরেও পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ নেই সেভাবে। তাদের কাছ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করেছিল বেক্সিমকো। কিন্তু ৫৫ কোটি টাকার মতো বন্ডের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। দুই দফা সময় বাড়ানোর পর বিএসইসি বেক্সিমকোকে জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ৭৫০ কোটি টাকার এই বন্ড বিক্রি না হয়, তাহলে আইপিও বাতিল হয়ে যাবে।

এর তিন দিন আগে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

ব্যাংকের বিশেষ তহবিলে কেনা যাবে বেক্সিমকোর সুকুক বন্ড
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়

২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে মন্দাভাবের সময় তারল্য প্রবাহ বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক বিনিয়োগসীমার বাইরে।

এই তহবিল গঠন করার পর ৬২টি ব্যাংকের ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন হতে পারত। কিন্তু হয়েছে চার হাজার কোটি টাকারও কম। আর গত আগস্টের হিসাব অনুযায়ী এই তহবিলেরও অর্ধেকের মতো টাকা বিনিয়োগ হয়েছে পুঁজিবাজারে। ফলে আরও বিনিয়োগের সুযোগ আছে।

বিনিয়োগযোগ্য সুকুক ও তহবিল ব্যবহারের নিয়ম

বেসরকারি উদ্যোক্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত সুকুক-এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত প্রযোজ্য হবে। বিনিয়োগকৃত সুকুক-এর প্রকৃতি হবে ইস্তিনা সুকুক, সালাম সুকুক, ইজারা সুকুক ও উপর্যুক্ত একাধিক প্রকৃতির সুকুকের সমন্বয়ে গঠিত কোনো হাইব্রিড সুকুক।

সুকুকের তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম পরিপালন করা হবে। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিনে ঋণপত্র খুলতে হবে। পণ্য ১২০ দিনের মধ্যে জাহাজীকরণ বা সরবরাহ করার শর্ত থাকতে হবে। সমস্ত স্থানীয় ব্যয়, যদি থাকে, ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৮ মাস সময় বরাদ্দ থাকতে পারে।

এসব সময়সীমা সুকুক সাবস্ক্রিপশন ক্লোজিংয়ের (আবেদনের শেষ সময়) তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

অন্য যেসব শর্ত

সুকুক-এর তহবিল স্পেশাল পারপজ ভেহিকেলের (এসভিপি) নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ওই ব্যাংক হিসাব হতে সুকুক-এর জন্য নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট ব্যয় ব্যতীত অন্য কোনো খাতে খরচ বা কর্জ প্রদান করা যাবে না।

প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো কারণে বাংলাদেশ সিকিউটিরিটি অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুকুক-এর সাবস্ক্রিপশন সম্পূর্ণ না হলে বা সুকুক ইস্যুর বিষয়টি বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট এসভিপি কর্তৃক এক সপ্তাহের মধ্যে বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলোকে পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে।

এ বিষয়ে সুকুক-এর ট্রাস্টি, এসভিপি এবং বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে হবে।

সেকেন্ডারি মার্কেট বা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বা উভয় প্রকারে কোনো সুকুক-এর মোট ইস্যুর ১০ শতাংশের বেশি পরিমাণ কোনো ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারবে না।

কনভার্টেবল সুকুক-এর ক্ষেত্রে কনভার্সন-এর পর ইক্যুয়িটি ধারণ যেন ১০ শতাংশের বেশি না হয়, তা বিনিয়োগকারী ব্যাংককেই নিশ্চিত করতে হবে।

অতালিকাভুক্ত সুকুক-এ বিনিয়োগের পূর্বে সাবস্ক্রিপশন ক্লোজিংয়ের তারিখ হতে এক বছরের মধ্যে তালিকাভুক্তির বিষয়ে ট্রাস্টি, এসভিপি, ইস্যুয়ার এবং বিনিয়োগকারী ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে হবে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

শেয়ারে কারসাজি: মুন্নুকে দিতেই হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ারে কারসাজি: মুন্নুকে দিতেই হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা

২০১৯ সালে কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে মুন্নু সিরামিক ও মুন্নু স্টাফলারের শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি তদন্ত করে দেখতে পায় মুন্নু সিরামিকের শেয়ার কারসাজি করে ১১ গুণ বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছে ফাউন্ডেশন। পরে এই বর্ধিত দামে কোম্পানির ১৩১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনকে করা জরিমানার ১৫ কোটি পরিশোধ করতেই হচ্ছে।

২০১৯ সালে মুন্নু সিরামিক ও মুন্নু স্টাফলারের (বর্তমানে মুন্নু অ্যাগ্রো) শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই জরিমানা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে ফাউন্ডেশন। কিন্তু বিএসইসি সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু তদন্তের বিষয়ে ছিল সেহেতু এটি ইনফোর্জমেন্ট বিভাগের। সেখান থেকে সবকিছু করা হয়েছে। তাদের জরিমানা করাসহ, জরিমানা মওকুফ না হওয়ার বিষয়টিও সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মুন্নু সিরামিকের কোম্পানি সচিব নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।’

যে সময় কোম্পানিটিকে বিএসইসি জরিমানা করেছিল, সে সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, যেখানে মুন্নুর সিংহভাগ শেয়ার রয়েছে। সাত লাখ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে যে ২৮ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তার পুরোটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা যা করেছি বিএসইসিকে জানিয়ে করেছি।’

বিএসইসি জরিমানার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে মনে করেন মুন্নুর কোম্পানি সচিব। বলেন, ‘২৮ লাখ শেয়ার ব্লক মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখানে কারসাজি বা অন্যায়ের কী হয়েছে তা বোধগম্য নয়।’

যে কারণে জরিমানা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের পক্ষ থেকে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত থাকলে আগাম ঘোষণা থাকতে হয়। কিন্তু বিএসইসি ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পায়।

এ জন্য কোম্পানির করপোরেট উদ্যোক্তা মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন শেয়ার বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা করে মুন্নু সিরামিক, ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তারই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের ৭৬১তম কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

বিএসইসি তদন্ত করে দেখতে পায় মুন্নু সিরামিকের শেয়ার কারসাজি করে ১১ গুণ বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছে ফাউন্ডেশন। পরে এই বর্ধিত দামে কোম্পানির ১৩১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মুন্নু ওয়েলয়েফার ফাউন্ডেশন।

মোট ৩৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করা হয় সে সময় অভিহিত মূল্যে, যার দাম সাড়ে তিন কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির লাভ হয়েছে ১২৮ কোটি টাকার মতো।

দাম বাড়ানোর আগে যদিও প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৪০ টাকার মতো। কিন্তু সেই শেয়ার বিক্রি করা হয় ৪০০ টাকারও বেশি দামে। এই হিসাব করা হলে কোম্পানির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্তে বের হয়ে এসেছে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপনে ফাঁস করে, হিসাব বাড়িয়ে দেখিয়ে কারসাজি করে মুন্নুর দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো হয় সে সময়।

ওই বছরে ৪০ টাকার মুন্নু সিরামিকের দাম কারণ ছাড়াই বেড়ে হয় ৪৪১ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৫৯ টাকা ৯০ পয়সা।

দুই বছরের তদন্ত শেষে ফাউন্ডেশনকে ১০ কোটি টাকা আর মুন্নু সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সমস্ত পরিচালককে (স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে) ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করে বিএসইসি। অর্থাৎ মোট জরিমানা ১৫ কোটি টাকা।

বিএনপি নেত্রী আফরোজা খান রিতা এই কোম্পানিটির মালিক। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে।

সে সময় একই কোম্পানির মালিকানাধীন আরেক কোম্পানি মুন্নু স্টাফলার, যা পরিবর্তীতে হয় মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির দাম ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে সে সময় হয় পাঁচ হাজার ৮০০ টাকায়।

এই কোম্পানিটি পড়ে প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে তিনটি বোনাস শেয়ার দেয়। কিন্তু দর ধরে রাখতে পারেনি।

এখন শেয়ারটির দাম ৭৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।

যেভাবে শেয়ার বিক্রি

দাম সর্বোচ্চ পরিমাণে বাড়ার পর মুন্নু সিরামিকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

২০১৯ সালের ৪ মার্চ ঘোষণা আসে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের করপোরেট ডিরেক্টর মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন তাদের কাছে থাকা মুন্নু সিরামিকের এক কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩০টি শেয়ার থেকে সাত লাখ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বাজার দরে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রি করা হবে।

তার ৫ কার্যদিবসে বিক্রি হয়ে যায় ৭ লাখ শেয়ার।

এই সময়ে অর্থাৎ ৪ মার্চ কোম্পানির শেয়ারে সর্বোচ্চ দর ছিল ৪৪১ টাকা। এটাই মুন্নু সিরামিকের গত দুই বছরের সর্বোচ্চ দর। তার এক দিন পর ৫ মার্চ শেয়ার প্রতি দর ছিল ৪৩০ টাকা। ৬ তারিখে দর হয়ে ৪১৭ টাকা। আর ৭ মার্চ দর কমে হয় ৩৮৮ টাকা।

৮ ও ৯ মার্চ সরকারি ছুটি থাকায় লেনদেন হয়ে ১০ মার্চ। সেদিন ৪১০ টাকা ২০ পয়সা।

এ সময় কোম্পানিটির গড় দর ছিল ৪১৭ টাকা। এই হিসাবে সাত লাখ শেয়ার বিক্রি করা হয় ২৯ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকায়।

১১ মার্চ আবারও ঘোষণা করা হয় মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ২৮ লাখ শেয়ার বিক্রি করবে হাতে থাকা এক কোটি ৩৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৩০টি শেয়ারের মধ্যে।

সেদিন সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৬৯ টাকা ১০ পয়সা। এভাবে ২৮ লাখ শেয়ারের দাম আসে ১০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

অর্থাৎ মুন্নু সিরামিকের ৩৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করে ১৩১ কোটি টাকার মতো আয় করে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

লেনদেনের হিসাবেও দেখা গেছে, ৪ মার্চ মুন্নু সিরামিকের মোট লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৯টি।

আর ৫ মার্চ লেনদেন হয়েছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯১টি। ছয় মার্চ লেনদেন হয়েছে ৭ লাখ ৯২ হাজার ৬১৭টি।

এই কোম্পানির আহামরি কোনো লভ্যাংশ দেয়ার ইতিহাস নেই। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে ৩০ শতাংশ বোনাস আর ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে।

১০০ কোটি টাকা চোরামি করে ১৫ কোটি টাকা দিলে লস কী?

‘কম’ জরিমানা নিয়ে প্রশ্ন

কারসাজি করে শতাধিক কোটি টাকা মুনাফা করলেও সাত ভাগের এক ভাগ জরিমানা করা নিয়ে প্রশ্ন ‍ছিল আগে থেকেই।

এভাবে শাস্তি দিলে কোনো লাভ হবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএসইসি থেকে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী যতটুকু করা যায়, ততটুকুই শাস্তি দেয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবপ্রিয় সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের কারসাজিতে অবশ্যই আরও বেশি জরিমানা করা উচিত। কিন্তু আইনে যেহেতু সর্বোচ্চ এটাই বলা আছে, তাই এর চেয়ে বেশি জরিমানা করলে হয়তো আদালতে গিয়ে আটকে যেতে পারত।’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ তুলেছেন আরেক প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘যে কোম্পানির কিছুই নেই, বছরে ভালো লভ্যাংশ দিতে পারে না, সেই কোম্পানির শেয়ার কেন ৪০০ টাকায় কিনবে। এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ আরও এক দিন

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন

টানা তৃতীয় সপ্তাহ ধরে দর সংশোধন চলছে পুঁজিবাজারে। বিনিয়োগকারীদের আরও একটি দিন হতাশ করেছে লেনদেন।

লেনদেন আবার কমে ২ হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। আগের দিন সূচকের পতন হলেও ১২ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। হাতবদল হয় ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা করে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বড় উত্থানের পর সংশোধনের তৃতীয় সপ্তাহে এসেও গতি ফিরে পাচ্ছে না পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে পতনের পর দিন হারানো সূচক ফিরে পেলেও লেনদেন কমে গেছে আবার।

সূচক বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। ১৪১টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২০২টি শেয়ারের দর।

দর বৃদ্ধির তুলনায় পতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা দেড় গুণ হলেও সূচক বেড়েছে গ্রামীণফোন, আইসিবি, লাফার্জ হোলসিম ও ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির মতো বড় মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে।

এই চারটি কোম্পানির কারণেই সূচকে যোগ হয়েছে ১১.০৪ পয়েন্ট।

অন্যদিকে দরপতন বেশি হয়েছে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির। সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া সাতটি কোম্পানির সবগুলোই লোকসানি, স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। এর মধ্যে একটি ২০১৯ সালের পর হিসাবও দিচ্ছে না। গত কয়েক মাসে এসব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রবণতা শুরু হয়েছে। সূচক এক দিন বাড়লে পরদিন কমে- লেনদেনেও একই প্রবণতা।

টানা তিন সপ্তাহ রোববার সূচকের পতনে লেনদেন শুরু হলেও পরদিনই আবার বেড়েছে সূচক।

আগের দিন সূচক পড়েছিল ১৩ পয়েন্ট আর সোমবার বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের চিত্র

তবে লেনদেন আবার কমে ২ হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। আগের দিন সূচকের পতন হলেও ১২ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। হাতবদল হয় ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা করে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

পতন দিয়ে সপ্তাহ শুরুর পর দ্বিতীয় দিন সূচক বাড়ার ঘটনা আগের ‍দুই সপ্তাহেও হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর রোববার সূচক কমে ৫৬ পয়েন্ট, পরদিন বাড়ে ১৬ পয়েন্ট।

১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচক পড়ে ৩৭ পয়েন্ট, পরদিন বাড়ে ১৪ পয়েন্ট।

স্বল্প মূলধনির পতন

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই পতনের মধ্যে থাকা স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানিগুলো আরও খানিকটা দর হারিয়েছে।

বারবার সতর্কতার পরেও জুলাই ও আগস্ট মাসে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সংশোধনের তৃতীয় সপ্তাহে এসব কোম্পানির শেয়ারদরই বেশি কমছে।

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে দেশ গার্মেন্টস। ৭.৮১ শতাংশ কমেছে এই কোম্পানিটির শেয়ার।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিনসংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন

সোমবার সূচক বৃদ্ধি ও পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি করে কোম্পানি

এক দশকেও লভ্যাংশ দেয়ার ইতিহাস না থাকার পরেও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলা মেঘনা মিল্কের দর কমেছে ৬.৩৩ শতাংশ।

লোকসানি স্বল্প মূলধনি শ্যামপুর সুগারের দর কমেছে ৪.৯৯ শতাংশ। সংশোধন শুরু হওয়ার পর এই কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ২০ টাকার বেশি।

আগের দুই দিন বেড়ে যাওয়া ইভেন্স টেক্সটাইল দর হারিয়েছে ৪.৭৩ শতাংশ। ৪.২৬ শতাংশ কমেছে আরেক স্বল্প মূলধনি লিবরা ইনফিউশনের দর।

লোকসানি দুলামিয়া কটনের দর ৪.২৩ শতাংশ, বন্ধ থাকা মিথুন নিটিংয়ের দর ৩.৯২ শতাংশ, লোকসানি নর্দার্ন জুটের দর ৩.৭৩ শতাংশ, অ্যামবি ফার্মার দর ৩.৪৩ শতাংশ কমেছে।

লেনদেনে সেরা ওষুধ, দর বৃদ্ধিতে প্রকৌশল

সবচেয়ে বেশি লেনদেন আবার দেখা গেছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে। তবে তা আগের দিনের তুলনায় বেশ কম।

আগের দিন লেনদেন ৩৬৮ কোটি টাকা হলেও তা কমে হয়েছে ২৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি সেন্ট্রাল ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৭২ শতাংশ। তারপরেই আছে একটিভ ফাইন, যার দর বেড়েছে ৬.০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাডভেন্ট ফার্মার দর বেড়েছে ২.৬৭ শতাংশ।

এ খাতের মোট ১২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১৭টির, পাল্টায়নি একটির দর আর একটির লেনদেন ছিল অপরিবর্তিত।

দর পতনের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল লিব্রা ইনফিইশন লিমিটেড, যার শেয়ার দর ৯৭৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯৩২ টাকা ৪০ পয়সা।

তারপরেই আছে অ্যামবি ফার্মা, যার দর কমেছে ৩.৪৩ শতাংশ।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার এই পাঁচটি খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি

প্রকৌশল খাতে ১৩ টি কোম্পানির দর পতনের বিপরীতে বেড়েছে ২৮টির, অপরিবর্তিত ছিল একটির দর।

এই খাতে লেনদেনও বেড়েছে। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ২৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৪.৫৭ শতাংশ বেড়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৪.০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জিপিএইচ ইস্পাতের দর বেড়েছে ৩.৬৪ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বিএসআরএম স্টিলের দর বেড়েছে ৩.২৫ শতাংশ।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৩.০৯ শতাংশ দর হারিয়েছে দেশবন্ধু পলিমার। নাভানা সিএনজির দর কমেছে ২.২৯ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে এ খাতের।

আগের দিনের তুলনায় দর কমেছে। আগের দিন লেনদেন ছিল ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সেটি কমে হয়েছে ২২৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। বেড়েছে ১৬টির। চারটি কোম্পানির শেয়ার দর ছিল আগের মতোই।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি মতিন স্পিনিংয়ের দর বেড়েছে ৭.০১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ২.৬০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিএসএফ থ্রেডের দর ২.২৫ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ২.১৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হারানো ৭টি কোম্পানির মধ্যে চারটিই বস্ত্র খাতের।

ব্যাংক ও বিমার নিস্তার নেই

গত অর্থবছরে দারুণ লভ্যাংশ আর চলতি অর্থবছরের অর্ধবার্ষিকে আরও বেশি আয় করার পরেও ব্যাংক খাতের ঝিমিয়ে থাকা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই খাতের শেয়ারগুলো আরও দর হারিয়েছে।

তবে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। সোমবার এই খাতের লেনদেন হয়েছিল ৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ১০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এ খাতের ১৪টি কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। বিপরীতে দর বেড়েছে নয়টির, আর পাল্টায়নি নয়টির।

তবে দর বাড়া ও কমার হার শতকরা হিসেবে খুবই কম।

সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে ২.৮৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইবিএলের দর বেড়েছে ১.৫১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংক ১.১৬ শতাংশ ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা সাউথবাংলা ব্যাংকের দর বেড়েছে ০.৯৬ শতাংশ।

অন্যদিকে রূপালী ও মার্কন্টাইল ব্যাংকের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে ১.৮৮ শতাংশ করে, আইএফআইসি ব্যাংকের ১.২৭ শতাংশ ও এনবিএলের দর কমেছে ১.১৯ শতাংশ।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন কম হয়েছে সোমবার

বিমা খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ২১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এই খাতের ২০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, চারটির পাল্টায়নি কমেছে বাকি ২৭টির দর।

বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ৯.৯৮ শতাংশ বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়া বিএনআইসিএলের দর ২.৬৯ শতাংশ, তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়া রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ২.০৪ শতাংশ এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ ০.৯৭ শতাংশ বেড়েছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর।

আর সবচেয়ে বেশি ৩.২৯ শতাংশ দর হারিয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া প্রাইম লাইফের দর ৩.২৮ শতাংশ, গ্রোগ্রেসিভ লাইফের দর ২.৬০ শতাংশ, রূপালী লাইফের দর ২.৮৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দরপতনের সঙ্গে লেনদেন ও কমেছে।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে ১৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর কমেছে, ৮টির বেড়েছে আর একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

আর্থিক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৯৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এ খাতের আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দর।

বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ৮২ কোটি ৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই খাতে ১৪টি কোম্পানির মধ্যে আটটির দর বেড়েছে। ছয়টির দর কমেছে।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছেও সমপরিমাণ।

লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ইউনিটগুলোর মধ্যে ২৩টি ফান্ডের দর কমেছে। ৬টির দর বেড়েছে আর বাকি ৭টির দর আগের দিনের মতোই আছে।

হাতবদল হয়েছে কেবল ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার, আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৫১ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৬ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এক দিনে লেনদেন কমেছে ২৭৭ কোটি টাকা।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২১ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৪৮ দশমিক ৩০ পয়েন্টে।

৩২১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ১৬৫টির ও পাল্টায়নি ২৫টির।

লেনদেন হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৫ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট

কেপিসিএলের দুটিসহ মোট পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সামিট, কেপিসিএল, ওরিয়ন ও ডাচ্-বাংলা পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বৈঠকের পর এই প্রথম কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এল। সামিট জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে তাদের ১০২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে গত ৩১ মার্চ। এ কারণে সেখানে উৎপাদন বন্ধ আছে। মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রস্তাব ‘বিদ্যুৎ নেই-বিল নেই’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটিসহ মোট চারটি কোম্পানির পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য জানাল সামিট পাওয়ার।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারের সঙ্গে চার বিদ্যুৎ কোম্পানির বৈঠকের পর এই প্রথম কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এল।

সোমবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে এই অগ্রগতির তথ্য জানায় সামিট। সেটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।

যদিও সামিট কেবল তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে, তার পরও এই তথ্যটি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএল, ওরিয়ন ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনাঘাট এবং ডাচ্‌-বাংলা পাওয়ার অ্যাসোসিয়েটের সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বিশেষ করে কেপিসিএলের ৪০ ও ১১৫ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদর বৃদ্ধির বিষয়ে অগ্রগতি জানতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা মুখিয়ে আছেন।

সামিট জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে তাদের ১০২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে গত ৩১ মার্চ। এ কারণে সেখানে উৎপাদন বন্ধ আছে। মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রস্তাব ‘বিদ্যুৎ নেই-বিল নেই’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে।

গত মে মাসে কেন্দ্র দুটির মেয়াদ পেরিয়ে পাওয়ার পর সেগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়। শুরুতে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর অনুমোদন দেয়া হবে না। এ কারণে কেপিসিএলের শেয়ারধারীরা উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল।

এর কারণ, ডাচ্‌-বাংলার বিদ্যুৎকেন্দ্র পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। ফলে সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হিস্যা নেই। আর সামিট পাওয়ারের আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। সেখানে ১০২ মেগাওয়াটের একটি বন্ধ হয়ে গেলেও কোম্পানির আয়ে তেমন প্রভাব পড়ার কারণ নেই। আর ওরিয়ন ফার্মার মূল ব্যবসা ওষুধ, ফলে তাতেও বিনিয়োগকারীদের অতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না।

অন্যদিকে কেপিসিএলের দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন কেবল সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রার ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রের ৩৫ শতাংশের মালিকানার ওপর নির্ভর করতে হতো।

এই অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সরকারের কাছে কেপিসিএলের কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা তুলে ধরে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। সরকারপ্রধানও তাকে আশ্বাস দেন বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদনের।

এর মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে যে আইনে, সেই ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১০’ এর মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানো হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নে পেমেন্ট’ ভিত্তিতে পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিলে সায় দেন।

এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর চার কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ ১৪টি সংস্থার বৈঠক হয় চুক্তির শর্তের বিষয়ে।

সেই বৈঠকের বিষয়ে কোনোপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিতে’ কেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর সায় দেয়ার কথা জানানো হয়।

অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ কেনা হবে, ততটুকুর জন্য টাকা দেবে সরকার।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার জন্য গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে এই বিষয়ে আগে থেকে সিদ্ধান্ত না হলে তাদের পক্ষে কোম্পানি চালানো কঠিন।

আবার বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য বা ট্যারিফ হার নিয়েও আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকায় ট্যারিফ বেশি চেয়েছে কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ তা বর্তমান হারের চেয়ে কমাতে চেয়েছে। তাদের যুক্তি, আগের যে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাতে কেন্দ্র স্থাপনসহ নানা ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। এখন নতুন করে কেন্দ্র স্থাপনের খরচ থাকবে না। ফলে কোম্পানির উৎপাদন খরচ কম থাকবে।

পরে আরও বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয় বিষয়টি নিয়ে। সেই বৈঠক হবে হবে, সেই তারিখ অবশ্য জানানো হয়নি।

এই বৈঠকের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে গেলে একটি মিটিং যথেষ্ট নয়। আজকের বৈঠকে নানা দিক নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির আরেকটি বৈঠক হবে। সেখানে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এসব বিষয় ঠিক করতে একের অধিক, এমনকি ৩-৪ টি মিটিং হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

করোনায় দেশ ও মানুষের পাশে ছিল ওয়ালটন: গোলাম মুর্শেদ

করোনায় দেশ ও মানুষের পাশে ছিল ওয়ালটন: গোলাম মুর্শেদ

ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘করোনাকালে আমরা সেফটি গগলস, ফেস শিল্ডসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু করি। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখে দেশ ও মানুষের সুরক্ষায় পিপিই সংগ্রহ ও বিতরণ করি। করোনাকালে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্যটি পৌঁছে দেয়া ছিল আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’

জাতিসংঘের এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট খ্যাত ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে রোববার অনুষ্ঠিত ব্যবসা ও অর্থনীতি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। তবুও আমরা থেমে না থেকে দেশ ও মানুষের পাশে ছিলাম।’

গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘করোনাকালে আমরা সেফটি গগলস, ফেস শিল্ডসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু করি। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখে দেশ ও মানুষের সুরক্ষায় পিপিই সংগ্রহ ও বিতরণ করি। করোনাকালে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্যটি পৌঁছে দেয়া ছিল আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

‘দেশের মানুষের প্রয়োজনটাই আমাদের ফোকাস ছিল। করোনার সময়ে ওয়ালটনের নেয়া এসব উদ্যোগ ও কার্যক্রম বেসরকারি খাতে অন্যদের উৎসাহিত করে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আয়োজনে পঞ্চম বারের মতো অনুষ্ঠিত আন্তর্জতিক সম্মেলনের থিম ছিল ‘বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমি ইন দ্য নিউ-নরমাল ল্যান্ডস্কেপ’। এতে কোভিড-১৯ সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ট্রেজারার প্রফেসর মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ আব্দুল মঈন এবং একই অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড. এম সাদিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমদাদুল হক সরকার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহজাদা সেলিম এবং অ্যাডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। এই সময় কেবল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশ চালু থাকবে।

গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার টি-টোয়েন্টিফোর (আর-টেন) থেকে (আর-নাইনটিন) আপগ্রেডেশনের কারণে এটি হবে বলে রোববার ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ড গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন বা কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশও চালু থাকবে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম চৌধুরী গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের ফলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বাধুনিক ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

তৃতীয় প্রজন্মের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দেশব্যাপী ১৫০টি শাখা ও ১৯টি উপশাখা রয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি শাখায় সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকের ১৮৭টি এটিএম বুথ, ২০টি সিডিএম এবং ১২৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
তদন্ত: বিএসইসির ৯ কোম্পানি বাছাই নিয়েই প্রশ্ন
বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়ে বিএসইসির আদেশ
উদ্যোক্তা সহায়ক ফান্ডে সমর্থন বিএসইসি’র

শেয়ার করুন