পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ব্যাংকের বিশেষ তহবিল

পুঁজিবাজারে লেনদেন করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। এর পুরোটা এখনও বিনিয়োগ করা হয়নি। শেয়ার কেনা হয়েছে ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার। তবে তহবিল ও বিনিয়োগ বাড়ছে বাজার স্থিতিশীল হয়ে ওঠার ইঙ্গিত পেয়ে। এপ্রিল থেকে তহবিল বেড়েছে ৭৮৫ কোটি টাকা, আর বিনিয়োগ বেড়েছে ৭০০ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে ওঠার পাশাপাশি স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মেলায় ব্যাংকগুলো তাদের বিশেষ তহবিল থেকে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

শুরুর দিকে ব্যাংকগুলো শেয়ার কিনতে আগ্রহ কম দেখালেও বাজার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিতে শুরু করলে তারাও শেয়ার কেনা বাড়িয়ে দেয়।

২০২০ সালের ‍শুরুতে পুঁজিবাজারে যখন মন্দাভাব, তখন বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়াতে প্রতিটি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠনসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এই বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো নিজস্ব বিনিয়োগের বাইরে। ব্যাংকগুলো তার মোট ইক্যুইটির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ এমনিতেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। তার মধ্যে কত শতাংশ তারা বিনিয়োগ করেছে, সেই হিসাব অবশ্য পাওয়া যায়নি।

তবে বিশেষ তহবিল গঠন করে বিনিয়োগের যে সুযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়েছে, তাতে এটা বোঝা যায়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংক অনেকটাই সতর্ক। প্রায় অর্ধেক ব্যাংক এই তহবিল গঠনই করেনি। আর বেশির ভাগ ব্যাংক যত টাকা দিতে পারত, দিয়েছে তার অর্ধেক বা তার চেয়ে কম। আবার যে তহবিল গঠন হয়েছে, তারও অর্ধেকের কম টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তহবিল ও বিনিয়োগ বাড়ছে ধীরে ধীরে

ব্যাংকগুলোর সব যদি এই পরিমাণ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করত, তাহলে ৬২ ব্যাংকের তহবিল হতে পারত ১২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু তহবিল এত বড় হয়নি।

৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে ৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। একেকটি ব্যাংক গড়ে ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি দিয়েছে।

এর পুরোটা এখনও বিনিয়োগ করা হয়নি। এর মধ্যে শেয়ার কেনা হয়েছে ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার। হাতে আছে এখনও ১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ব্যাংকগুলোতে যে পরিমাণের তহবিল গঠন হয়েছে, তার ৪৭ শতাংশ বিনিয়োগে এসেছে।

তবে এই তহবিল আর বিনিয়োগ বাজার চাঙা হতে হতে বাড়ছে।

গত মার্চ পর্যন্ত ২৬টি ব্যাংক ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করে। সে সময় বিনিয়োগ ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এপ্রিল থেকে তহবিল বেড়েছে ৭৮৫ কোটি টাকা আর বিনিয়োগ বেড়েছে ৭০০ কোটি টাকা।

গত ২০ মে পর্যন্ত ২৭টি ব্যাংক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ করেছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ গত আড়াই মাসে এ তহবিল থেকে বিনিয়োগ ৩৩৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

গত ৭ মাসের এই বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকগুলো বেশ লাভবান হয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কারণ মার্চ শেষে ১ এপ্রিল বাজারে সূচক ছিল ৫ হাজার ২৭০ পয়েন্ট। আর গত বৃহস্পতিবার বাজার শেষ হয়েছে ৬ হাজার ৭৭১ পয়েন্টে। অর্থাৎ বেড়েছে ১ হাজার ৫০ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজার ইদানীং বেশ চাঙা হয়ে উঠছে। ২০১০ সালের মহাধসের পর থেকে টানা ১০ বছর ছিল অস্থিতিশীল। এর মধ্যে ব্যাংক যে বিনিয়োগ করেছে, বছর শেষে মুনাফা হয়েছে কমই। এ কারণে লোকসানের বিপরীতে তাদের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

তবে চাঙা বাজারের কারণে এবার মুনাফা যে বেশ ভালো হচ্ছে, তা ব্যাংকগুলোর অর্ধবার্ষিক প্রকাশিত হিসাবে স্পষ্ট।

ইদানীং পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি একটি সার্কুলার দিয়ে পুঁজিবাজার এবং অন্য খাতে ব্যাংক ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের তথ্য প্রতিদিন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংকগুলো বলছে, প্রতিদিনের তথ্য দেয়া কঠিন। তারা দিতে চায় মাসের হিসাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে এ কারণে যে করোনায় বিনিয়োগ স্থবির হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো হয়তো তাদের অলস অর্থ পুঁজিবাজারে নিয়ে আসবে। এতে অতিরিক্ত তারল্যের কারণে বুদ্বু‌দ তৈরি হলে পরে বাজারে ধস নামবে।

তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সমিতি মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, পুঁজিবাজার কোনোভাবেই অতি মূল্যায়িত নয়, বরং অবমূল্যায়িত। প্রতিবেশী ভারতসহ উন্নয়নশীল আরও অনেক দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে তুলনা করে তারা দেখিয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের মূল্য আয় অনুপাত (শেয়ার মূল্যের সঙ্গে শেয়ার প্রতি আয়ের অনুপাত) কম।

বাংলাদেশে গড় অনুপাত ১৫-এর মতো। অর্থাৎ একেকটি শেয়ারের যে দাম, সেটির সমান আয় উঠে আসবে ১৫ বছরে। এই অনুপাত দেশের ব্যাংকিংব্যবস্থার সুদের গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি। সুদহার এখন ৪ শতাংশের কিছুটা বেশি, যেটি টেনে বাড়াতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামও বিশ্বাস করেন, পুঁজিবাজার কোনোভাবেই অতি মূল্যায়িত নয়, বরং বাজার আরও অনেক দূর যাবে।

বিশেষ তহবিল নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা বলছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পরও সব ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার তহবিল না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তারা কোনো ব্যাংককে বাধ্য করতে পারেন না। এ জন্য ব্যাংকগুলোর বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তারা। তবে পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে। এ অবস্থা স্থায়ী হলে ব্যাংকগুলো নিজেরাই শেয়ার কিনবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি সাপোর্ট আছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারও রয়েছে। কোনো ব্যাংক আমাদের কাছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অনুমতি চাইলে আমরা অনুমতি দিই। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতেই হবে, বিষয়টি এমন নয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সব পলিসি মেনেই তারা বিনিয়োগ করেছে এবং করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেয়া হয়নি। ব্যাংকগুলোকে একটা সুবিধা দেয়া হয়েছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য। এটা ব্যাংক ইচ্ছামতো করতে পারবে।’

ব্যাংকাররা যা বলছেন

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফান আলী বলেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান পুঁজিবাজার স্থিতিশীল। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ মুহূর্তে আর্থিক খাতের বেশির ভাগ অর্থ সরবরাহ করে ব্যাংক খাত। ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।‘

তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগ শিক্ষা জরুরি জানিয়ে এই বিষয়টিতে জোর দেন তিনি। বলেন, ‘মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার একে অপরের পরিপূরক। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। তবে এসব ঝুঁকি নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে।’

ব্র্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘পুঁজিবাজার এখন চাঙা আছে। আগের তুলনায় যথেষ্ট শক্তিশালীও। ব্যাংকগুলোও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেছে। ফলে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত আছে।’

বিশেষ তহবিল কবে

২০২০ সালের শুরুতে পুঁজিবাজারের টানা দরপতন সামাল দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্ব উৎস থেকেও এমন তহবিল গঠন করতে পারে।

ওই বিশেষ তহবিলের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ব্যবহার করতে পারবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠন করা বিশেষ তহবিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে ব্যাংক, যা পুঁজিবাজারে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বর্ণিত বিনিয়োগ গণনার বাইরে থাকবে।

ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির নিজস্ব নতুন পোর্টফোলিও গঠনের জন্য ঋণ হিসেবে তহবিলের ২০ শতাংশ দেয়া যাবে।

অন্য ব্যাংকের বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসের নিজস্ব নতুন পোর্টফোলিওর জন্য ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের নিজস্ব নতুন পোর্টফোলিও গঠনের জন্য তহবিলের ১০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয়া যাবে।

এই বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে কিছু শর্তও দেয়া হয়েছে। রুগণ ও ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনা ঠেকাতে কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। যেসব কোম্পানির ৭০ শতাংশ ফ্লোটিং শেয়ার আছে এবং অন্তত তিন বছর ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে তাদের শেয়ার কেনা যাবে।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওটিসি মার্কেট বাতিল

ওটিসি মার্কেট বাতিল

বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। বলা হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এসএমই বোর্ডে যাওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার ইলেকট্রনিক (ডিমেট) করতে হবে।

পুঁজিবাজারের বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানি নিয়ে গঠন করা ওভার দ্য কাউন্টারের (ওটিসি) কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

ওটিসিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩টি যাবে এসএমই বোর্ডে। এর মধ্যে ৭টি উৎপাদনে আছে, বন্ধ আছে ১৬টির উৎপাদন। অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে যাচ্ছে ১৮টি এবং ২৯টি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। বলা হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এসএমই বোর্ডে যাওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার ইলেকট্রনিক (ডিমেট) করতে হবে।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে কোম্পানিগুলোর কিভাবে লেনদেন হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হবে। এ ছাড়া ওটিসি থেকে দুই বোর্ডে যাওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার আগামী এক মাসের মধ্যে ডিমেট বা ইলেক্ট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর করতে হবে।’

উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগজের শেয়ার রাখা, নিয়ম অনুযায়ী বিএসইসিতে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান ও সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন না করা ৬৫টির বেশি কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওটিসি মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে এই মার্কেট গঠন করা হয়।

ওটিসিতে পাঠানোর পর কোম্পানিকে মুনাফায় ফিরিয়ে লভ্যাংশ বিতরণ করে মূল মার্কেটে ফিরেছে ইউসিবিএল ব্যাংক, ওয়াটা ক্যামিকেল, সোনালি পেপার, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।

সর্বশেষ চারটি কোম্পানিকে মূল মার্কেটে নিয়ে আসা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ মনস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি লিমিটেড, পেপার প্রসেসিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড এবং মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি থাকতে চায় না, সেগুলোকে তালিকাচ্যুত করা হবে। ডিএসই ও সিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ওটিসি থেকে এসএমই বোর্ডে যাচ্ছে যেগুলো

এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, বাংলাদেশ হোটেল লিমিটেড, বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেড, গচিহাটা এগ্রিকালচারাল, হিমাদ্রী লিমেটড, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়স, ইউসুফ ফ্লোর মিলস। বলা হয়েছে, এ কোম্পানিগুলোর উৎপাদন চালু আছে।

উৎপাদনে না থাকা ১৬ কোম্পানির মধ্যে আছে আল আমীন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিস, আলফা ট্যোবাকো, আমান সী ফুড, আশরাফ টেক্সটাইল মিলস, বাংলাদেশ ইলেক্টনিক্স মিটার কোম্পানি, বাংলাদেশ লিফ ট্যোবাকো কোম্পানি, বেঙ্গল ফাইন সিরামিক, বায়োনিক সী ফুড এক্সপোর্ট, ঢাকা ফিশারিজ, লেক্সকো লিমিটেড, মেঘনা শিম্প কালচার লিমিটেড, রাসপিড ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেলিকম লিমিটেড, রাঙ্গামাটি ফুড, থ্যারাপিউটিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও জাগো কর্পোরেশন লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

শেয়ার অনিয়ম: এনআরবি ব্যাংককে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

শেয়ার অনিয়ম: এনআরবি ব্যাংককে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মাত্র এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়ে হয়েছিল সাড়ে সাত গুণ। অস্বাভাবিক এ দর বৃদ্ধিতে বেসরকারি একটি ব্যাংক জড়িত ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর তদন্ত শুরু হলে এনআরবি ব্যাংক বিমা কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করে। এতে দরপতন শুরু হয় কোম্পানিটির শেয়ারে।

বিমা খাতের কোম্পানি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে বেসরকারি ব্যাংক এনআরবিকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠানো হয়। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মাত্র এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৯ টাকা থেকে গত ১৪ জুন ২১৫ টাকায় ওঠে। অর্থাৎ এক বছরে এর শেয়ারের দর বেড়ে হয়েছিল সাড়ে সাত গুণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অস্বাভাবিক এ দর বৃদ্ধিতে বেসরকারি একটি ব্যাংক জড়িত ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পর তদন্ত শুরু হলে এনআরবি ব্যাংক বিমা কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করে। এতে দরপতন শুরু হয় কোম্পানিটির শেয়ারে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগ কার্যক্রম তদারক করতে গিয়ে এ তথ্য পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তার ভিত্তিতে এনআরবি ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(ক) ধারায় এনআরবি ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ধারার উপধারা (১)-এ একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংক বা কোম্পানির কী পরিমাণ শেয়ার ধারণ করতে পারবে তা বলা আছে। তবে এনআরবি ব্যাংক তা লঙ্ঘন করে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে বিনিয়োগ করে।

এনআরবি ব্যাংক বিধি ভঙ্গ করে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সে বিনিয়োগ করার কারণে ২৬(ক)(৩) ধারার আওতায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা জরিামানা করা হয়েছে।

এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক কোম্পানি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করলে ওই ব্যাংককে অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। উক্ত লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর থেকে প্রত্যেক দিনের জন্য অতিরিক্ত অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপিত হবে।

এর আগে আইন লঙ্ঘন করে শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করায় গত সপ্তাহে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

সূচক বাড়লেও স্বস্তির ঘাটতি পুঁজিবাজারে

সূচক বাড়লেও স্বস্তির ঘাটতি পুঁজিবাজারে

ফাইল ছবি

বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, কেপিসিএল, স্কয়ার ফার্মা গ্রামীণ ফোনের মতো বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকে পয়েন্ট যোগ হয়েছে বটে৷ কিন্তু ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে টাকা কমে যাওয়ার বিষয়টা উঠে আসছে তাদের বয়ানে।

সূচক বেড়েছে ৩১ পয়েন্ট, কিন্তু কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দর। কোনো একক খাত নয়; প্রায় সব খাতের শেয়ারধারীরাই হতাশ।

বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, কেপিসিএল, স্কয়ার ফার্মা গ্রামীণ ফোনের মতো বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকে পয়েন্ট যোগ হয়েছে বটে৷ কিন্তু ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে টাকা কমে যাওয়ার বিষয়টা উঠে আসছে তাদের বয়ানে।

১২৭টি কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার দিন দুই শতাধিক কোম্পানির দরপতনই এর কারণ।

স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে কমিটি গঠন, এরপর পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল নিয়ে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে টানাপোড়েনের প্রভাব এখনও যে বিনিয়োগকারীদের মনে রয়ে গেছে সেটাও স্পষ্ট।

জুনে অর্থবছর শেষ করা কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ সচরাচর ডিসেম্বরে অর্থবছর শেষ করা কোম্পানিগুলোর তুলনায় কম থাকে। তার ওপর গত কয়েক মাসে লোকসানি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ব্যাপক হারে। যদিও তারা লভ্যাংশ দিতে পারবে কি না, এ নিয়ে আছে প্রশ্ন।

সব মিলিয়ে টানা তিন দিন পতনের পর টানা দুই দিন সূচক সামান্য বাড়ল।

তবে দিন শেষে অনেক কোম্পানির দর কমে, কোনোটির দর বৃদ্ধির হার কমে৷ কোনোটির দর পতনের হার বাড়ে।

উত্থান থেকে দর পতনে ব্যাংক

চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দর পতনের খাতায় নাম লিখিয়েছে ব্যাংক খাতের শেয়ার। এদিন লেনদেনে ছয়টি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে। দর হারিয়েছে ২১টির। লেনদেন হয়েছে মোট ১৫৪ কোটি ২১ লাখ টাকা।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দর বেড়ছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ১.১৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা।

তারপরেই আছে সিটি ব্যাংক, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১.০২ শতাংশ। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে দশমিক ৯৭ শতাংশ।

দর হারিয়েছে সবচেয়ে বেশি রূপালী ব্যাংক, ২.৭২ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ৪০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা। এরপরই আছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, যার শেয়ার প্রতি দর কমেছে ২.৬৭ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.২৬ শতাংশ। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১.৪৯ শতাংশ।

বিমায় বেড়েছে শেয়ার দর

বিমা খাতের শেয়ার দর বেড়েছে বৃহস্পতিবার। লেনদেনে ১৬টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। ৩২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে প্রভাতি ইন্স্যুরেন্সের ৫.৭৭ শতাংশ। শেয়ার দর ১৭০ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা ৩০ পয়সা।

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৮৫ শতাংশ। শেয়ার দর ৭৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮২ টাকা ১০ পয়সা।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৫৫ শতাংশ। মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৩.৮৭ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ২৪টির, বেড়েছে ৭টির দর। হাতবদল হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৪টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, কমেছে ৯টির। লেনদেন হয়েছে ১৫৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬টির, কমেছে ১৪টির। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বিবিধ খাতের ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ৭টির, বেড়েছে ৭৮টির। হাতবদল হয়েছে ১৯২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪টি। ৬টির দর বেড়েছে। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ৫টির, দর হারিয়েছে ১০টির।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩১ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২২৮ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৮ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৪ পয়েন্টে।

লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৯৭ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৩৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৪১ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

স্থিতিশীলতা তহবিলের সঙ্গে আমানতের সম্পর্ক নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান

স্থিতিশীলতা তহবিলের সঙ্গে আমানতের সম্পর্ক নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের সঙ্গে পুঁজিবাজার তহবিলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক করে এলোমেলো করে ফেলেছে। একটি হলো আমানত, একটি হলো লভ্যাংশ।’

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত লভ্যাংশ স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে আপত্তি দিয়েছে, তাকে ‘না বুঝে গুলিয়ে ফেলা’ বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে আমানতের কথা, কিন্তু তহবিলের সঙ্গে ব্যাংকের আমানতের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং ব্যাংকের কাছে লভ্যাংশ হিসেবে যে অবণ্টিত লভ্যাংশ আছে সেটি চাওয়া হয়েছে তহবিলে। এটি নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

১০ মাসের প্রস্তুতি শেষে স্থিতিশীলতা ফান্ড যখন পুঁজিবাজারে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি শেষ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানের কারণে এই তহবিলের আকার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এই তহবিলের মধ্যে একটি বড় অংশ আসার কথা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি এই অর্থ না আসে, তাহলে আরও ছোট হতে পারে।

সোমবার বিএসইসি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ কয়েকটি সংস্থার মধ্যে যে ভার্চুয়াল আলোচনা হয়, তাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অবণ্টিত লভ্যাংশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত লভ্যাংশ পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে স্থানান্তর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, ব্যাংকের টাকা পুঁজিবাজার তহবিলে দেয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা আছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে বলা আছে, কেউ ১০ বছর লভ্যাংশ না নিলে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পরে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এই তহবিল নিয়ে দুই সংস্থার টানাটানিতে মঙ্গলবার পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটে। তবে সেদিনই অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের একটি বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিড় ধরা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএসইসির সিদ্ধান্তই সরকারের সিদ্ধান্ত।’

বুধবার সূচকের আবার উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যাংক কোম্পানির আইনের সঙ্গে পুঁজিবাজার তহবিলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক করে এলোমেলো করে ফেলেছে। একটি হলো আমানত, একটি হলো লভ্যাংশ।’

দুই সংস্থার মধ্যে টানাটানিতে পুঁজিবাজারে সূচকের যে পতন হয়েছে, তাতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও মনে করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘উত্থানের পর পতন হলেই পুঁজিবাজারের জন্য ভালো। আর যে পরিমাণ সূচক কমছে বা লেনদেন কমেছে, সেটি স্বাভাবিক। এখানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো, লসে শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার মতো কোনো বিষয় নেই।’

লেনদেন খানিকটা কমলেও সেটি নিয়েও দুর্ভাবনার কারণ নেই বলে মনে করেন শিবলী রুবাইয়াত।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল। তবে গত দুই দিনে দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি লেনদেন হয়েছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘লেনদেন যে পরিমাণ কমেছে, সেটাকে বেশি বলেন কীভাবে। এটুকু তো কমতেই পারে। বাজার আবার ঊর্ধ্বগতিতে ফিরলেই লেনদেন বেড়ে যাবে।’

গত বছরের শেষে এই তহবিল গঠনের আলোচনা ওঠে। আর ২৭ জুন প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে এই তহবিল গঠন নিশ্চিত হয়। কিন্তু এত দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তির খবর আসেনি।

পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এককভাবে নেয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক তার ব্যাংকগুলোকে সুপারভাইজ করবে। এগুলো প্রেস-পাবলিক না করে ভেতরে ভেতরে নিজেরা মনিটর, সুপারভিশন করা ভালো হয়। না হলে পুঁজিবাজারের জন্য খুব ক্ষতি হয়। নেগেটিভ নিউজগুলো আসলে পাবলিকের মধ্যে একটি পেনিক (আতঙ্ক) তৈরি করে। আমরা আশা করব, ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।’

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

ছয় বছরের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা মেঘনা লাইফের

ছয় বছরের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা মেঘনা লাইফের

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ার প্রতি দেড় টাকা ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস শেয়ার দেবে কোম্পানিটি। এই লভ্যাংশ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছিল, যার মধ্যে ৫ শতাংশ করে ছিল বোনাস। আর ২০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২ টাকা করে দেয় হয় নগদ। এর পরের তিন বছর শেয়ার প্রতি ২০ শতাংশ, অর্থাৎ দুই টাকা করে নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়।

অর্থবছর শেষ হওয়ার পর নবম মাসে এসে ২০২০ সালের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারধারীদেরকে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ আর ১৫ শতাংশ বোনাস। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি দেড় টাকা নগদ আর প্রতি ১০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস শেয়ার পাবেন।

বুধবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সুপারিশ করা হয়।

এই লভ্যাংশ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছিল, যার মধ্যে ৫ শতাংশ করে ছিল বোনাস। আর ২০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২ টাকা করে দেয় হয় নগদ।

এর পরের তিন বছর শেয়ার প্রতি ২০ শতাংশ, অর্থাৎ দুই টাকা করে নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় কত, তা প্রকাশ করা হয়নি। আইন অনুযায়ী প্রতিটি কোম্পানির এই বিষয়টি প্রকাশ করা জরুরি হলেও জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে এর বাধ্যবাধকতা নেই। এ কারণে এসব কোম্পানির হিসাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুষ্পষ্ট ধারণাও থাকে না।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা এই লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে ৫ অক্টোবর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ অক্টোবর।

আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ১১ টায় কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে এই লভ্যাংশ অনুমোদন করা হবে বিনিয়োগকারীদের মতামত নিয়ে।

লভ্যাংশ প্রকাশের দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১১৩ টাকা ৫০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব: ৩১ ফেসবুক পেজ বন্ধ

পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব: ৩১ ফেসবুক পেজ বন্ধ

পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে এভাবে নানা সময় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়।

বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর কারণে ৩১টি আইডি বাতিল করা হয়েছে। অনেকগুলো বাতিল হওয়ার প্রক্রিয়াধীন। পর্যায়ক্রমে অন্য আইডিগুলোকেও বাতিল করা হবে।’

পুঁজিবাজারে শেয়ার দর প্রভাবিত করতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ৩১টি ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় এ তথ্য জানানো হয়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই আলোচনার বিষয় ছিল ‘সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে করে শেয়ারবাজারে গুজব সৃষ্টি প্রতিরোধ’।

বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর কারণে ৩১টি আইডি বাতিল করা হয়েছে। অনেকগুলো বাতিল হওয়ার প্রক্রিয়াধীন। পর্যায়ক্রমে অন্য আইডিগুলোও বাতিল করা হবে।’

সভায় বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম, বিএসইসির পরিচালক রাজিব আহমেদ, বিটিআরসির মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ, ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির পরিচালক (সিএ অপারেশন ও নিরাপত্তা) তারেক এম বরকতউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

বিটিআরসির সঙ্গে প্রতি তিন মাসে একটি করে সমন্বয় সভা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ধরনের কাজে পরিচালক রাজিব আহমেদ বিএসইসির ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক তৌসিফ শাহরিয়ারকে বিটিআরসির মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

পুঁজিবাজার নিয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে যেসব গ্রুপ গুজব ছড়াচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে গত ২৪ মে বিএসইসির পরিচালক রাজিব আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটির দেয়া ৮৬টি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ চিহ্নিত হলেও বিটিআরসি যাচাই-বাছাই শেষে ৩১টি আইডি বন্ধ করেছে।

এর আগেও গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ‘শেয়ারবাজারে সবার আগে সর্বশেষ সংবাদ’ নামে একটি গ্রুপ বন্ধে বিটিআরসি চিঠি দেয়া হয়েছিল। গ্রুপটির সদস্যসংখ্যা ৩২ হাজারের বেশি।

এ রকম শত শত গ্রুপ ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের কেউ কেউ নিজেদের শেয়ারবাজার অ্যানালিস্ট বা বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দেন।

কিন্তু সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, বিএসইসির সনদ ছাড়া কেউ নিজেকে বাজার বিশ্লেষক দাবি করতে পারবে না। আইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন

ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য কর্মকর্তাকে অপসারণ

ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য কর্মকর্তাকে অপসারণ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহ

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের এক আদেশে বলা হয়েছে, কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম, বিমা পলিসি গ্রাহক, বিমাকারীর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর ও পরিপন্থি কর্মকাণ্ড কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

নানা অনিয়মের অভিযোগে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে অপসারণ করেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

আইডিআরএ-এর পরিচালক (উপ সচিব) শাহ আলম স্বাক্ষরিত বুধবার এক আদেশে হেমায়েত উল্লাহকে বৃহস্পতিবার থেকে অপসারণের কথা বলা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম, বিমা পলিসি গ্রাহক, বিমাকারীর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর ও পরিপন্থি কর্মকাণ্ড কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ ছাড়া, হেমায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগদখলে রাখা এবং মিথ্যা তথ্য সম্বলিত সম্পদ বিবরণী দাখিলের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে তার বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য রয়েছে।

এ পরিপেক্ষিতে বিমা আইন ২০১০ এর ৫০ ধারা মোতাবেক বিমা পলিসি গ্রাহকের স্বার্থ নিশ্চিত করতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে অপসারণ করা হয়।

আদেশে বলা হয়, ‘তবে শর্ত থাকে যে, এই অপসারণ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহর কোম্পানি পরিচালনায় আর্থিক অনিয়ম ও অন্যান্য অনিয়মের দায় থেকে অব্যহতি প্রদান করবে না। এছাড়াও ভবিষ্যতে হেমায়েত উল্লাহর দায়িত্বপালনকালে সংঘটিত কোনো ধরনের অনিয়ম উদঘাটিত হলে তার সম্পূর্ণ দায় তার ওপর বর্তাবে।’

সেই সঙ্গে আদেশে কোম্পানির জরুরি ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিমা আইন ২০১০ এর ধারা ৮০ (৪) মোতাবেক ৩ মাসের মধ্যে একজন যোগ্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই তিন মাস কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীর অব্যবহিত পরের পদের ব্যক্তিকে মুখ্য নির্বাহীর পদে চলতি দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দরপতনেও পুঁজিবাজারে ‘স্বস্তি’
সম্পদ ব্যবস্থাপকের লাইসেন্স পেল সন্ধানী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট
ব্যাংক-বিমার ঝলমলে দিন
কোম্পানি তবে বন্ধ-লোকসানি হলেই শেয়ারধারীর মুনাফা?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলারের শঙ্কা কাটিয়ে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ লেনদেন

শেয়ার করুন