‘নিলাম আতঙ্ক’ কাটিয়ে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন

‘নিলাম আতঙ্ক’ কাটিয়ে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া পাঁচটি কর্মদিবস

ব্যাংকগুলোতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত তারল্য আছে, যার মধ্যে ৬২ হাজার কোটি টাকা একেবারেই অলস। এই টাকা বসিয়ে রেখে এক পয়সাও আয় হচ্ছে না ব্যাংকগুলোর। এই অর্থ ব্যাংকগুলো ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ বিলে বিনিয়োগ করে আয় করতে পারবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুঝি বাণিজ্যিক ব্যাংকের টাকা নিয়ে নিচ্ছে।

ব্যাংকে থাকা অলস টাকা তুলে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে ব্যাংকগুলো লাভবান হলেও বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যায় পুঁজিবাজারে এই খাত নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতে কমেছে প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর।

তবে ব্যাংক, বিমা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে পতনের দিন পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ।

দিন শেষে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩৯ কোটি ৪৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

এর আগে সর্বোচ্চ লেনদেন হয় ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর ২ হাজার ৯৪৬ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আর তিনটি কর্মদিবসে।

২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর লেনদেন ছিল ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। পরের কর্মদিবসে ৫ ডিসেম্বর মহাধস শুরুর দিন লেনদেন ছিল ৩ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন।

২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর ৩ হাজার ২০৮ কোটি ৯০ লাখ ৮২ হাজার টাকা লেনদেন বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবার লেনদেনের শুরুতে পতন ছিল বেশি আর এ কারণে সূচকও এক পর্যায়ে পগে যায় ৭৩ পয়েন্ট। তবে পরে দাম কমার হার কমে আসা আর প্রধান প্রধান অন্য খাতগুলোর বেশিরভাগে দর বৃদ্ধির কারণে সূচক বেড়ে যায়।

দিন শেষে আগের দিনের চেয়ে সূচকে যোগ হয়েছে ৩২ পয়েন্ট। সূচকের অবস্থান এখন ২০১১ সালের ২৬ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

সেদিন ডিএসই সূচক ছিল ৬ হাজার ৬৪২ পয়েন্ট। এখন অবশ্য ডিএসইর প্রধান সূচকের না, ডিএসইএক্স সূচক আর মান অনুযায়ী আগের সূচক এখনকার চেয়ে কিছুটা বেশি থাকার কথা।

তবে ব্যাংক খাতের চেয়ে বেশি পতন হয়েছে দর সংশোধনে থাকা বিমা খাতে। পক্ষান্তরে দারুণ একটি দিন গেছে লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে। বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে বস্ত্র খাতেও।

দুর্দান্ত লভ্যাংশ দিয়ে আসা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দর পতনও অনেকটা বিস্ময়করই বলা যায়। অথচ এই দিন তিনটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার সংবাদ আসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ডে। এই তিনটি ফান্ডই গত বছর ব্যাপক লোকসান দেয়ার কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি, কিন্তু এবার বেশ ভালো মুনাফা করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দিয়েছে।

বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা অবশ্য এই উদ্বেগটিকে কাজে লাগিয়েছেন, যার প্রমাণ লেনদেনে। আগের কর্মদিবস বৃগস্পতিবার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন দেখেছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। সেটিও ছাড়িয়ে লেনদেন আজ ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ অবস্থান দেখা গেছে।

আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সেখান থেকে বেড়েছে আরও ৪২৩ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে দাম বেড়েছে ১৮১টি কোম্পানির, কমেছে ১৭৩টির, দাম বেড়েছে ২০টির।

ভিত্তিহীন উদ্বেগ

এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত তারল্য আছে, যার মধ্যে ৬২ হাজার কোটি টাকা একেবারেই অলস। এই টাকা বসিয়ে রেখে এক পয়সাও আয় হচ্ছে না ব্যাংকগুলোর।

এই অতিরিক্ত তারল্যের কারণে ব্যাংকগুলো মেয়াদি আমানতের সুদহার কমিয়ে দেড় থেকে দুই শতাংশে নামিয়ে এনেছে। আর এ কারণে ব্যাংকে টাকা রাখলে মূল্য আসলে কমে যায়। কারণ, মূল্যস্ফীতির হার এখন মসাড়ে ৫ শতাংশের বেশি।

অর্থাৎ এক বছর আগে ১০০ টাকার যে মূল্য, চলতি বছর সেটা ৯৪ টাকা ৫০ পয়সার আশেপাশে। কিন্তু সুদ হিসেবে পাওয়া গেছে দেড় থেকে দুই টাকা। ফলে টাকার প্রকৃত মান কমে গেছে।

এই অবস্থায় বাজারে টাকার প্রবাহ কমানো ব্যাংকগুলো যেন আবার আমানত সংগ্রহে আগ্রহী হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি ব্যবস্থা করেছে।

অলস টাকা ফেলে না রেখে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে’ বিনিয়োগের সুবিধা রেখে তারা মোট ৯টি নিলামের আয়োজন করেছে। ব্যাংকগুলো সেখানে বিনিয়োগ করবে এবং এর বিপরীতে সুদ পাবে।

কিন্তু গণমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে এসেছে, সেটি বিনিয়োগকারীদের অনেকের মধ্যেই অস্থিরতা ছড়িয়েছে। ব্যাংক থেকে অলস টাকা তুলে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক- এমন খবরের ব্যাখ্যায় বহুজন ভাবছে, টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনিতে নিয়ে নেবে। ফলে ব্যাংকের আয় ও সম্পদ কমবে।

তবে বিষয়টি উল্টো বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মিউচ্যুয়ালা ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে’ বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো আয় করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও বলেছেন, এটি ব্যাংকের জন্য একটি সুবিধা নিয়ে এসেছে। যে অর্থ থেকে তাদের আয় ছিল শূন্য, সেখান থেকে তারা কিছুটা হলেও আয় করতে পারবে।

‘নিলাম আতঙ্ক’ কাটিয়ে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে থাকা অলস টাকা ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে’ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে যে, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে তৈরি হয় আতঙ্ক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বরং ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে’ সুদহার কম রাখার ওপর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সুদহার বেশি হলে ব্যাংকগুলো অন্য জায়গায় বিনিয়োগ না করে এই খাতে বেশি টাকা ঢালবে।

দ্বিতীয় যে পদক্ষেপটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়েছে, সেটি হলো আমানতের সুদহার মূল্যস্ফীতির বেশি রাখা। রোববার এক সার্কুলারে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ব্যাংকগুলো ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীদেরকে যে সুদ দিয়ে থাকে, তা কোনোভাবেই মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হতে পারবে না।

এতে ব্যাংকগুলোর আমানতের খরচ কিছুটা বাড়বে। কিন্তু ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ থাকলেও এখন তা ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। ফলে আমানতের জন্য যে বাড়তি খরচ করতে হবে, বিতরণ করা ঋণ থেকে বাড়তি আয় করে তা পুষিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে।

ব্যাংক খাতে ৪টি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৯টির দর। অপরিবর্তিত ছিল বাকি আটটি।

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনায় থাকা আইএফআইসি ব্যাংক। আগের দিনের চেয়ে ৪.১৪ শতাংশ বেড়ে দর হারিয়েছে ১৫ টাকা ১০ পয়সা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাড়া আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে ৩ শতাংশ।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইবিএলের ২০ পয়সা আর ইউসিবির বেড়েছে ১০ পয়সা।

লেনদেন হয়েছে ১৯৪ কোটি ৩ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ব্যাংকের মতো পতন হয়েছে আর্থিক খাতেও। এই খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ২টির, কমেছে ১৭টির। লেনদেন হয়েছে ১০৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

আগের দিন লেনদেন ছিল ১০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

প্রকৌশল, ওষুধ, জ্বালানি, বস্ত্র, বিবিধের ‘দখলে’ বাজার

৩০ জুন অর্থবছর শেষ হওয়ায় লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা এই পাঁচটি খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

মোট লেনদেনের ৬৮.৪৬ শতাংশই হয়েছে এই পাঁচ খাতে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এই খাতের ৩২টি কোম্পানির মধ্যে ৯টির দর হারানোর বিপরীতে বেড়েছে ৩২টির দর। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ন্যাশনাল পলিমারের দর। আগের দিনের চেয়ে বেশি বেড়েছে ৯.৭০ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেড়েছে বিডিঅটোকারের ৯.৪৬ শতাংশ। তৃতীয় সর্বোচ্চ অ্যাপোলো ইস্পাতের বেড়েছে ৯.২৪ শতাংশ।

এ ছাড়া বেঙ্গল উইন্ডসরের দাম ৮.০১ শতাংশ, এস এস স্টিলের ৭.২৬ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউবের ৬.৪৭ শতাংশ, সুঋদের ৫.৩৮ শতাংশ, বিএসআরএম স্টিলের ৪.৬৯ শতাংশ, বিডি ল্যাপসের ৪.১৮ শতাংশ বেড়েছে।

‘নিলাম আতঙ্ক’ কাটিয়ে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন
১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের দিনে পাঁচ খাতেই হাতবদল হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ৪৭৭ কোটি ১০ টাকা। আগের কর্মদিবসে বৃহস্পতিবার এই খাতে লেনদেন ছিল ৩৭৭.২০ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে ৪৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এই খাতেও লেনদেন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ৩৯৮.২০ কোটি টাকা।

এই খাতে ১৯টি কোম্পানি দর হারানোর বিপরীতে বেড়েছে ৩৬টি। ৩টির দর ছিল অপরিবর্তিত।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল এই খাতের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ বেড়েছে ভিএসএফ থ্রেডের দর। এই কোম্পানির দরই আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

আগের কর্মদিবসে দর ছিল ২৭ টাকা আর আজ লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ৭০ পয়সায়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়া আলহাজ্ব টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৯.৯১ শতাংশ। নূরানী ডায়িং এর দর ৯.৮০ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিং এর ৯.৭৫ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের ৯.৭৫ শতাংশ, তসরিফার ৯.৬২ শতাংশ, মিথুন নিটিং ৯.৫২ শতাংশ দর বেড়েছে।

এই ছয়টি কোম্পানির শেয়ারদর এর চেয়ে বেশি বাড়া সম্ভব ছিল না।

একদিনে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দাম বাড়ার সুযোগ থাকলেও ১০ পয়সা ড্রিপের কারণে কখনও কখনও শতকরা হিসেবে দাম বাড়তে পারে কিছুটা কম।

আগ্রহের নতুন মোড় থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ৩৯৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২২টির, কমেছে আটটির।

আগের কর্মদিবসে এই খাতে লেনদেন ছিল ৩২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

‘নিলাম আতঙ্ক’ কাটিয়ে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন
বিমার পতন থামছে না, আকর্ষণীয় লভ্যাংশেও দর হারাচ্ছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯.৯৮ শতাংশ দাম বেড়েছে একমি ল্যাবরেটরিজের দর। সেন্ট্রাল ফার্মার বেড়েছে ৯.৭০ শতাংশ। কোম্পানি দুটির শেয়ার দর এর চেয়ে বেশি বাড়া সম্ভব ছিল না।

এ ছাড়া এমবি ফার্মার ৮.৭৩ শতাংশ, গত কয়েক দিনে তুমুল আগ্রহ তৈরি করা ওরিয়ন ফার্মার দাম বেড়েছে ৮.৩৫ শতাংশ। অন্যগুলোর মধ্যে ইমাম বাটনের ৭.৯৭ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশনের ৭.০৬ শতাংশ, কেয়া কসমেটিকসের ৬.৬৬ শতাংশ দাম বেড়েছে।

লেনদেনের চতুর্থ স্থানে উঠে আসা বিবিধ খাতে লেনদেন বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এই খাতের ১৪টি কোম্পানির ২৩১ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন বিনিয়োগকারীরা। যাদের একটির দর কমেছে, বেড়েছে বাকিগুলোর।

এই লেনদেনের সিংহভাহেরই হয়েছে বেক্সিমকো লিমিডেটের। একক কোম্পানি হিসেবে ১৫২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে এই কোম্পানির।

সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই খাতের মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ আছে, যার দর বেড়েছে ৯.৮৬ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২০টির, কমেছে বাকিগুলোর। লেনদেন হয়েছে ২২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ১৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

এই খাদে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমিয়ে থাকা খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার দরে হঠাৎ বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। শতকরা হিসেবে খুব বেশি না বাড়লেও শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা দর বৃদ্ধি পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

এই খাতের শেয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শাহজিবাজার পাওয়ারের ৮.৪২ শতাংশ।

লভ্যাংশে চমকের পরও দর হারাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

এদিন তিনটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। লোকসানের কারণে গত বছর লভ্যাংশ দিতে না পারা ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা করে লভ্যাংশ দেবে। ফান্ড দুটির দর ১০ টাকার নিচে। এই পরিমাণ বিনিয়োগ করে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়।

ডিবিএইচের দাম বেড়েছে ১০ পয়সা, আর গ্রিনডেল্টার ২০ পয়সা।

তাও এই দুটির দর বেড়েছে। কমেছে বাকি সবগুলোর। এমনকি অন্যদিকে ইউনিটপ্রতি এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড ইউনিটপ্রতি দর হারিয়েছে ৬০ পয়সা। ১২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে দাম কমে হয়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা।

‘নিলাম আতঙ্ক’ কাটিয়ে ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ লেনদেন
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির মধ্যে চারটিই ছিল এই খাতের। একের পর এক আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণার মধ্যেও এভাবে দর হারানো কিছুটা বিস্ময়ও তৈরি করেছে।

এর মধ্যে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড ৫.২৬ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৫.১৪ শতাংশ, এসএমইএল আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ৪.৭২ শতাংশ এবং এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড দর হারিয়েছে ৪.৬৮ শতাংশ।

এই খাতে লেনদেনও কমেছে। আজ হাতবদল হয়েছে ১৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বিমার পতন থামার নাম নেই

গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি, এরপর এপ্রিলের শুরু থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর অবিশ্বাস্য উত্থান ঘটা বিমা খাতে যে পতন শুরু হয়েছে, তা আর থামার নাম নেই।

এই খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৪টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৪৭টির। লেনদেন হয়েছে ১৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার এই খাতে লেনদেন ছিল ১৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সেদিন বেড়েছিল ৩৩টির দর কমেছিল ১০টির।

তবে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতও এদিন বেশ চমক দেখিয়েছে। ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৬টির। কমেছে বাকি চারটির। লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পার্বত্য অঞ্চল বোঝা হবে না: বীর বাহাদুর

পার্বত্য অঞ্চল বোঝা হবে না: বীর বাহাদুর

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির পাহাড়ঘেরা কাপ্তাই লেক। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চল দেশের জন্য বোঝা হবে না; পার্বত্য অঞ্চল হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদশালী। সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখেন, সেটি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য অঞ্চলের সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করবে।’

পার্বত্য অঞ্চল দেশের জন্য বোঝা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।

তিনি বলেছেন, এ অঞ্চল দেশের সম্পদ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চল দেশের জন্য বোঝা হবে না; পার্বত্য অঞ্চল হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদশালী। সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখেন, সেটি বাস্তবায়নের জন্য পার্বত্য অঞ্চলের সন্তানরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করবে।’

ওই সময় বীর বাহাদুর উশৈসিং জানান, পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে শিক্ষার হার ৫০ ভাগের কাছাকাছি।

তিনি বলেন, ‘আগে শিক্ষার হার অনেক কম ছিল। এখন ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। আমরা শিক্ষা খাতে এগিয়ে যাচ্ছি। সেখানে স্কুল-কলেজ ছিল না। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অনেক স্কুল-কলেজ করেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ করা হয়েছে, মেডিক্যাল কলেজও করা হয়েছে।

‘প্রায় উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ করা হয়েছে। এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। আগের শিক্ষার হারে সরকারগুলো গুরুত্ব দেয়নি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার হার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমাদের গ্রামগুলো অনেক দূরে পাহাড়ে পাহাড়ে। আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠা হলে তাদের কষ্ট কম হবে। এতে শিক্ষার হারও বাড়বে।’

ওই সময় পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘কারাগারে পরিণত করা হয়েছে’ বলে সন্তু লারমার এক বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘উনি উনার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতেই পারেন। সারা বিশ্বে এমন কোন জায়গা আছে যেখানে সমস্যা থাকে না?

‘সেখানে কোনো কারণে যদি কোনো ঘটনা ঘটেই যায়, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেটি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে সে এলাকার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবসময় তৎপর থাকে। কোনো ঘটনা ঘটলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার তৎপর।’

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির আগে এবং আজকের পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ পরিস্থিতি আকাশ-পাতাল তফাৎ। আজকে সেখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। যত দ্রুত আমরা সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারি, তত আমাদের জন্য কল্যাণকর। সবাইকে আহ্বান করব যারা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

‘সংঘর্ষ, সংঘাত বাদ দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরির যে আস্থা তৈরি করেছিলাম, সেটি আরও দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু 

শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু 

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে মনির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মনির হোসেন উপজেলার মধ্যম ছলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

তথ্য নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে মনির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তার মরদেহ চমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ের গরজে উঠুক আরেকবার’,  ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান ধরেন।

পুলিশের বাধা ঠেলে নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর আবার বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান করার কথা থাকলেও শুরুতে পুলিশের বাধায় তারা প্রথমে নামতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে ছাত্রদের সংখ্যা বাড়ে। পরে তারা দুপুর দেড়টার দিকে রাস্তায় নামেন। অবস্থান করেন ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত।

বিক্ষোভের এ সময় তারা নিরাপদ সড়ক চেয়ে শ্লোগান দেন। সবশেষে রাজধানীতে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ছাত্রের উদ্দেশে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রামপুরা ব্রিজের ওপর শুক্রবার সকাল ১০টায় আবারও জমায়েত হবেন বলে জানান ছাত্ররা।

শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ের গরজে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান ধরেন।

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ১২টার দিকে রামপুরা ব্রিজে এসে দাঁড়াতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদেরকে লাঞ্চনা করা হয়। পুলিশ কয়েকজনের ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা নিয়েছে বলেও জানান তারা।

খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী বলেন, ‘জেলখানা বড় করেন আমরা আসতেছি। পুলিশ আমাদের আজ আটকিয়েছে। তাদের কাছে বন্দুক আছে, কামান আছে, হাতিয়ার আছে। এক মাঘেই তো শীত চলে যায় না। আজকে আমাদের আটকিয়েছে। ছাত্ররা যখন দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। তখন কীভাবে আটকাবে? ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে যখন জনগণ রাস্তায় নামবে, তখন তাদের কিছু করার থাকবে না।’

আরেক শিক্ষার্থী মো. রাব্বি বলেন, ‘২০১৮ এর আন্দোলন থেমে গেছে কিন্তু ছাত্ররা হাল ছেড়ে দেয় নাই। তাই তারা আবার রাস্তায় নেমেছে। পুলিশ আমাদের সঙ্গে নয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছে। তারা আমাদের দাঁড়াতে দেয় নাই। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে দাঁড়াতে চেয়েছি। পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমাদের ফোন নম্বর বাসার ঠিকানা নিয়েছে। হয়তো আমাদের নামে মামলা নেবে।’

রাজধানীর খিলগাঁও জোনের এডিসি নুরুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে তাদের দাবি জানাতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা আগেই করে দিয়েছি। ছাত্রদের আন্দোলনে কিছু কুচক্রী আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। গতকাল থেকেই আমরা এটা খুব সুক্ষ্মভাবে ফলো করছি।

‘কারা কারা এই কাজ করছে এমন কিছু মানুষকে আমরা শনাক্ত করেছি। এই কুচক্রীরা ছাত্রদের আন্দোলনে যাতে ঢুকে পড়তে না পারে, আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত না করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। আমরা তাদের আন্দোলনকে শ্রদ্ধা করি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেহেতু মেনে নেয়া হয়েছে, সেখানে আন্দোলন করার কোন সু্যোগ নাই। রোগীসহ সাধারণ মানুষের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের যেন কোনো সমস্যা না হয় আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের উত্তরে এডিসি নুরুল আমীন বলেন, ‘ছাত্ররা যেন আমাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সে দিকে খেয়াল রাখছি। তাদের সেঙ্গে আমরা কোন খারাপ আচরণ করি নাই। তারা আমাদের ছোট ভাই-বোন। আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে যেন আমরা খারাপ আচরণ না করি।’

বাসভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মাঝে গত সোমবার রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এ ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাসভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। বুধবার থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হবে হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তজুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। হাফ পাস কার্যকর সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে কোনো হাফ পাস থাকবে না।

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারে একটি মেছো বিড়াল হত্যার মামুন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে আদালত।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিড়াল হত্যার এক বছর পর মামুনকে সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইফুর রহমান সোমবার মামুন মিয়াকে সাজা দেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় এই প্রথম বন আদালতে কাউকে সাজা দেয়া হলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাড়ির পুকুরের মাছ খাওয়ার সময় সহযোগীদের নিয়ে মেছো বিড়ালটি হত্যার অভিযোগ ওঠে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাজীরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজীরহাটে মেছো বিড়ালটি হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মো. আনিসুজ্জামান।

ঘটনার তদন্ত ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রাজনগর থানা।

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, ‘দেশে এই প্রথম মেছো বিড়াল হত্যায় শাস্তি হলো। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এসব অপরাধের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বিচার দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

অস্বস্তি নিয়ে শুরু হওয়া দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে স্বস্তির আভাস দিয়ে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে এ নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। এক পর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১ টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন বিজ্ঞপ্তিতে আতঙ্ক তৈরির পর বড় পতন দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর তা শেষ হয়েছে উত্থানে। দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান আর সর্বোচ্চ অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য পৌনে দুইশ পয়েন্টের বেশি।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মনের শঙ্কা, আতঙ্ক ও চিড় ধরা মনোবল অনেকটাই চাঙা করবে সন্দেহ নেই। সংশোধন কাটিয়ে বাজারে আবার চাঙাভাব ফিরবে, এমন আশার কথা বলাবলি হচ্ছে এরই মধ্যে।

টানা দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে বুধবার বড় উত্থান হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায়। আগের দিন বিকেলে সেই বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা এবং বন্ডের বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়টি রিভিও করার কথাও বলেন তিনি।

তবে দুই পক্ষ কেবল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আরও আলাপ আলোচনা হবে।

দুই পক্ষে আলোচনা হয়েছে আরও নানা ইস্যুতে। তবে এক্সপোজার ও বন্ড ইস্যুতে এক মাসের বেশি সময় ধরে টালমাটাল ছিল পুঁজিবাজার আর দুটি সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান বদলের আভাসে বুধবার শেয়ারদর ও সূচকে দেয় লাফ। এক দিনেই বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট।

তবে সেদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি এমনও বলা হয়, বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেটি সঠিক নয়।

এই বিজ্ঞপ্তির পর তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়, এই বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে। বিনিয়োগকারীদের একটি পক্ষ বলতে থাকে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য নয়, সেটি বানোয়াট। কারণ, সেটি তাদের অফিসিয়াল সাইটে নেই।

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সেটি প্রকাশ হওয়ার পর সেই বিতর্ক আর আগায়নি আর ছড়ায় উদ্বেগ।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
সকালে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতনের মধ্য দিয়ে। দিন শেষে ৮৯ পয়েন্ট উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মনে ফেরে স্বস্তি

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। এক পর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১ টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

এ নিয়ে দুই দিনেই সূচক বাড়ল ২৩২ পয়েন্ট।

দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ও বেলা শেষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ১৭৯ পয়েন্ট।

কেবল সূচক নয়, বেড়েছে লেনদেনও। গত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

সূচকের উত্থানে প্রধান ভূমিকায় যেসব কোম্পানি

দিন শেষে বেড়েছে ২০৮টি কোম্পানির দর। কমে ১১৮টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৮টির দর।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল খাতে গেছে ভালো দিন।

লেনদেনের সেরা ছিল ব্যাংক, এরপর বেক্সিমকো লিমিটেডের কারণে বিবিধ খাত। ওধুধ ও জ্বালানি খাতেও লেনদেন একশ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এদিন সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ারদর ৩.০৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ১১.০৯ পয়েন্ট।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
সূচকের উত্থানে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০ কোম্পানি

টানা পড়তে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারদর টানা দ্বিতীয়দিন বেড়েছে। শেয়ারদর ১২ টাকা বা ৪.৮২ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৭.৪২ পয়েন্ট।

এছাড়া আইসিবি, রেনাটা, গ্রামীণ ফোন, পাওয়ারগ্রিড, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার ও ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৫০.৯৯ পয়েন্ট।

উত্থানের দ্বিতীয় দিনে সূচক টেনে ধরেছে, এমন কোম্পানিগুলোর ভূমিকা ছিল কমই। ডেল্টা লাইফের দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি ০.৮৮ পয়েন্ট।

ফরচুন সুজ, আইএফআইসি ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, এনআরবিসি ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, ওয়ান ব্যাংক, সি পার্ল রহিম টেক্সটাইল ও গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সও সূচক নিচের দিকে টেনে ধরেছে।

এই ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে সূচক কমিয়েছে ২.৭১ পয়েন্ট।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
উত্থানের দিন সূচক কিছুটা হলেও টেনে ধরেছে এই ১০টি কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে সেরা ১০ কোম্পানি

আবার দর বৃদ্ধিতে সেবা নতুন তালিকাভুক্ত সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ার দর আবার বেড়েছে একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই।

টানা ২০ কর্মদিবস সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়ে ১০ টাকার শেয়ারদর এখন দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৪০ পয়সা। গত ৭ নভেম্বর লেনদেন শুরুর পর এই প্রথম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৪টি শেয়ার।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল নতুন তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি এমকি পেস্ট্রিসাইডস। আগের কর্মদিবস প্রথমবারের মতো দর হারানো কোম্পানিটি দিনের শুরুতে আবার দর হারায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৯.৮২ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনের শুরুতে দাম দাঁড়ায় ৩১ টাকা, আর লেনদেন শেষ করে ৩৬ টাকা ৯০ পয়সায়। হাতবদল হয়েছে ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৪৯টি শেয়ার।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
ব্যাংক খাতে আবার ছিল লেনদেনে সেরা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এমজেএল বাংলাদেশের দর বেড়েছে ৯.৬৪ শতাংশ। এদিন দিনের সর্বোচ্চ বা দশ শতাংশের কাছাকাছি শেয়ার দর বেড়েছে ছয়টি কোম্পানির। এরমধ্যে এমজেএল বাংলাদেশ ছিল তিন নম্বরে। হাতবদল হয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৯টি শেয়ার।

এদিন সবচয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় প্রাধান্য ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের। ১০টি কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল এই খাতের।

পাওয়ার গ্রিডের দর ৯.৬০ শতাংশ বেড়ে ৮৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে পৌঁছে যায় ৬১ টাকা ৬০ পয়সায়। হাতবদল হয়েছে ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৫টি শেয়ার।

একই খাতের আরেক কোম্পানি জিবিবি পাওয়ারের দর বেড়েছে ৯.২৯ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের মিথুন নিটিংয়ের দর বেড়েছে ৯.৪৮ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতের দুটি কোম্পানির অবস্থান ছিল এরপর। এর মধ্যে বিএসআরএম স্টিলের দর ৮.৫৪ শতাংশ আর একই গ্রুপের বিএসআরএম লিমিটেডের দর বেড়েছে ৮.৫২ শতাংশ।

সাত শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার দর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এরমধ্যে সোনালী পেপারের শেয়ার দর বেড়েছে ৭.৪৮ শতাংশ ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৭.০২ শতাংশ।

ছয় শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে চারটি কোম্পানির। পাঁচ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে তিনটি কোম্পানির। এগুলো হচ্ছে তিতাস গ্যাস, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি ও ইউনাইটড পাওয়ার গ্রেড কোম্পানি।

উত্তরা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বারাকা পাওয়ার, বিচ হ্যাচারিসহ নয়টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে চার শতাংশের বেশি।

দর পতনের দশ কোম্পানি

এদিন সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, যার ইউনিট প্রতি দর হারিয়েছে ৯.১৮ শতাংশ। ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল বুধবার। আর পরদিনই এই দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা।

সর্বোচ্চ দরপতনের দিনেও লেনদেন খুব বেশি হয়নি। যারা বিক্রয়ের আদেশ দিয়েছেন, তারা তারা বেচতে পারেননি ক্রেতা না থাকায়।

দর পতনের দিক দিয়ে তারপরই ছিল রহিম টেক্সটাইল, যার দর কমেছে ৪.৬৮ শতাংশ। কোম্পাটির মোট ২ লাখ ৪ হাজার টাকার ২২ হাজার ৮৯৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফার্স্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির দর কমেছে ৪.০৫ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকায লেনদেন হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৯৪টি শেয়ার।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের এমারেল্ড অয়েলের দর কমেছে ৩.৩৬ শতাংশ। ৮১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা লেনদেন হাতবদল হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭০টি শেয়ার।

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’
এই খাতগুলোর বেশিরভাগেই লেনদেন বেড়েছে

সাভার রিফ্যাক্টরিজের দর ১৬০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩.২৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১৫৫ টাকা। কোম্পানিটির ১ লাখ ৭২ হাজার টাকার ১ হাজার ১০২ টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.১১ শতাংশ, সাফকো স্পিনিংয়ের দর ২.৯৪ শতাংশ, জাহিন টেক্সের দর ২.৮৫ শতাংশ কমেছে।

এদিন দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ১০টি কোম্পানির।

লেনদেনে এগিয়ে থাকা দশ কোম্পানি

লেনদেনে এগিয়ে ছিল বিবিধ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেড। ১৫৬ কোটি ১১ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে ৯৩ কোটি ৪৮ লাখ ৮৪৭টি শেয়ার।

কোম্পানিটির দর ১৬৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৮ টাকা ২০ পয়সা।

ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭০টি শেয়ার। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কোম্পানিটির দর কমেছে ২০ পয়সা।

ব্যাংক খাতের আরেক কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ছিল লেনদেনে শীর্ষ দশের তিন নম্বরে। ব্যাংকটির ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫৮ হাজার ১৭১ টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৪ কোটি ৮১ লাখ টাকায়।

পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি ১১ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ৮৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭২৫টি শেয়ার।

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৪টি শেয়ার।

সোনালী পেপারের লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬০১টি শেয়ার।

বিমা খাতের সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের এদিন ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে মোট ৪৫ কোাটি ৫৫ লাখ ৯০৪টি শেয়ার।

আইএফআইসি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৯টি শেয়ার।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫৮টি শেয়ার।

লেনদেনে দশম অবস্থানে থাকা আইডিএলসি ফাইন্যান্সে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫২টি শেয়ার।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৫০১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সৃষ্টি হয় যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ শতাংশ কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।

সিলেবাস কমানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করে তারা।

কর্মসূচিতে আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আমিন ক্যাডেট একাডেমি, এমএ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও মাতাব্বর মুজিব স্কুলের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ শতাংশ কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তুলে দিলে প্রায় ৩০ মিনিট পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ৭ দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচী পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বদ্ধভূমিতে একদিন’ প্রদর্শিত হবে।

আরও পড়ুন:
তুমুল আগ্রহের রবি আর জ্বলেনি
স্কয়ার-বিকনের শেয়ারের সমান দাম কী বার্তা দেয়?
পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত
ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

শেয়ার করুন