ডিএসই ওয়েবসাইটে ফের কারিগরি জটিলতা

ডিএসই ওয়েবসাইটে ফের কারিগরি জটিলতা

বিষয়টি স্বীকার করে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে। কারিগরি জটিলতার কারণে এটি হয়েছে। দ্রুতই সমাধান হবে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে কারিগরি জটিলতা দেখা গেছে। লেনদেন শুরু হওয়ার পর বলা ১১টা ৯ মিনিটের পর থেকে জটিলতা দেখা দেয়।

এ সময়ের পর পুঁজিবাজারের লেনদেনের কোনো আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। ১১টা ৫২ মিনিটে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আপডেট বন্ধ ছিল পুঁজিবাজারে।

বিষয়টি স্বীকার করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে। কারিগরি জটিলতার কারণে এটি হয়েছে। দ্রুতই সমাধান হবে।

রেজাউল করিম বলেন, এ সমস্যার কারণে ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে লেনদেন সঠিকভাবেই হয়েছে। ওয়েবসাইটে লেনদেনের যে তথ্য প্রদর্শন করা হয়, সেখানে সমস্যা হয়েছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারিতে ওয়েবসাইটের কারিগরি জটিলতার কারণে বন্ধ থাকে লেনদেন। ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর আপডেট পাওয়া যায় লেনদেনের। এরপর ১৮ মার্চেও একই সমস্যার কারণে ৪০ মিনিট আপডেট বন্ধ ছিল ডিএসই ওয়েবসাইট।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল মোট ছয়টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করে, যার মধ্যে ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হয়েছে দুটির।

২০১০ সালে তালিকাভুক্ত দুটি ফান্ড এর আগে কখনও এত বেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর আগে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে, ৯ শতাংশ করে। অন্যদিকে ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৮ সালে।

এবার আকর্ষণীয় মুনাফা ঘোষণা করল সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল পরিচালিত দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, যেগুলো বিপুল পরিমাণ লোকসানের জন্য গত বছর কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি।

ফান্ড দুটি হলো ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড। দুটি ফান্ডই ইউনিট প্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা অর্থাৎ ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে এবার।

২০১০ সালে তালিকাভুক্ত দুটি ফান্ড এর আগে কখনও এত বেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর আগে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে, ৯ শতাংশ করে।

অন্যদিকে ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ২০১৮ সালে।

লভ্যাংশ ঘোষণার দিন বৃহস্পতিবার ডিবিএইচের ফান্ডের ইউনিটপ্রতি মূল্য ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা, আর গ্রিন ডেল্টার দাম ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা।

বৃহস্পতিবার ফান্ড দুটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় এই বিষয়টি অনুমোদন হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন এল আর গ্লোবালের লিগ্যাল ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মনোয়ার হোসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২০ সালে ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৮ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। আর গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড লোকসান দিয়েছিল ৯৯ পয়সা।

এলআর গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী দুটি ফান্ডেরই এবার ইউনিটপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৩ পয়সা করে।

গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ডিবিএইচের আয় ছিল ১ টাকা ১১ পয়সার মতো, আর গ্রিন ডেল্টার ৯৮ পয়সা। অর্থাৎ চতুর্থ প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ডিবিএইচের আয় হয়েছে ১ টাকা ২ পয়সার মতো, আর গ্রিন ডেল্টার ১ টাকা ২৫ পয়সা।

এই প্রান্তিকে সূচক বেড়েছে মোট ৮৮০ পয়েন্ট।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী তাদের আয়ের ৭০ শতাংশ নগদে বিতরণ করতে হবে। তবে আগের বছর বিনিয়োগে লোকসান হলে তার বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা যাবে। আর এই সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে ২০২০ সালে লোকসান দেয়া ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ কিছুটা কম আসছে।

চলতি বছর চাঙা পুঁজিবাজারের সুবিধা নিয়ে মেয়াদহীন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো একের পর এক চমকপ্রদ লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। এর মধ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারের মিউচ্যুয়াল ফান্ড হিসেবে লভ্যাংশ দেয় এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, যেটি ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ
ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি

এই ফান্ডটিও গত বছর লোকসানে ছিল। সে বছর ইউনিটপ্রতি তাদের লোকসান ছিল ৭৬ পয়সা। চলতি বছর আয় হয়েছে ৩ টাকা ১৪ পয়সা। আর আগের বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে চূড়ান্ত আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৬ পয়সা।

আগামী সপ্তাহে আরও ১১ ফান্ডের লভ্যাংশ

আগামী ৮ আগস্ট এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড আগামী ৮ আগস্ট বেলা দেড়টায় লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভা ডেকেছে।

এই ফান্ডটি গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮১ পয়সা মুনাফা করেছে। এই ফান্ডটি গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। সেই লোকসানের পুরোটা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করলেও এখনও হাতে থাকে ৬৮ পয়সা। সঙ্গে চতুর্থ প্রান্তিকের আয় হবে। আর সেটির ঘোষণা হবে লভ্যাংশ।

৯ আগস্ট ট্রাস্টি সভা করবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালিত এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড চলতি বছর তিন প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা। এর পুরোটা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করলেও হাতে থাকে এক টাকা ৭ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে চতুর্থ প্রান্তিকে আয়। আর সেটার ৭০ শতাংশ পেতে পারেন ইউনিটধারীরা।

এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড জুলাই থেকে মার্চ সময়ে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি কোনো লোকসান দেয়নি। ফলে কোনো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে না। তবে তারা গ্রোথ ফান্ড বলে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে।

আইসিবির আটটি ফান্ডের ঘোষণা একই দিনে

১১ আগস্ট ঘোষণা হবে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি পরিচালিত আটটি ফান্ডের লভ্যাংশ।

এগুলোর মধ্যে আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা আয় করেছে। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৪ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ৩৪ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি ৪১ পয়সা আয় করেছিল। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪০ পয়সা। আর অর্থবছর শেষে ৪১ পয়সা আয় করে ফান্ডটি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ৩১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২৫ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ২৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২০ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ২৪ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ৩০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২৬ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইএফআইএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিট প্রতি ১১ পয়সা আয় করেছে। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৭ পয়সা। আর বছর শেষে ২২ পয়সা আয় করে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ৪১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২৪ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ
গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি

ফিনিক্স ফিন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ২৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২২ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ২৫ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ আরও এক কারণে লাভজনক। অন্য যেকোনো লভ্যাংশের ওপর শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে সরকার। কিন্তু মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

পুঁজিবাজারের বাইরের ফান্ডগুলোর অভাবনীয় লভ্যাংশ

এখন পর্যন্ত অতালিকাভুক্ত যেসব ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ- আইসিবি পরিচালিত ইউনিট ফান্ড। এটি ইউনিটপ্রতি ৪২ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। ফান্ডটির সবশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬১ টাকা।

তবে ফান্ডটি চাইলেই কেনা যায় না। আইসিবিতে গিয়ে আবেদন করে রাখতে হয়। কেউ বিক্রি করতে চাইলেই পাওয়া যায়, তবে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। আর একবারে কিনতে হয় ৫০ লাখ টাকার ফান্ড।

ব্যাপক লভ্যাংশ দিয়েছে এএএমএল ইউনিট ফান্ডও। তারা ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৪৩ টাকা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফান্ডটির বর্তমান দাম ১৬ টাকা ৩ পয়সা।

এই হিসাবে দামের ১৫.৫৯ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে পেয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছর ইউনিটের দাম ছিল আরও কম। যারা কমে কিনেছেন, তাদের ইউনিট মূল্যের তুলনায় লভ্যাংশ শতকরা হারে আরও বেশি হয়েছে।

শান্তার ফান্ড

শান্তা ফার্স্ট ইনকাম প্রোপার্টি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৮৮ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির সবশেষ মূল্য ১৪ টাকা ৬৭ পয়সা। কেউ যদি এই দামেও ফান্ডটি কিনে থাকেন, তার পরেও তার লভ্যাংশ এসেছে ইউনিটমূল্যের ১৩.৯৭ শতাংশ।

আইডিএলসির ফান্ড

আইডিএলসি ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

ফান্ডটি গত বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে লভ্যাংশ কম দিয়েছে।

ক্যাপিটেকের ফান্ড

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ক্যাপিটেক পরিচালিত মেয়াদহীন দুটি ফান্ডের মধ্যে ক্যাপিটেক পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এই ফান্ডটির সবশেষ ইউনিটমূল্য ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ
এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয়ের হিসাব

পদ্মা প্রভিডেন্ট ফান্ডের শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড ৭ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ৫৪ পয়সা। কেউ যদি এই দামে ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি মুনাফা অবশ্য কম পেয়েছেন; ৬.৬৪ শতাংশ। তবে এটিও বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিমের সুদ হারের চেয়ে বেশি।

পেনিনসুলার তিন ফান্ড

পেনিনসুলা ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ১৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৭০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় হয় ২ টাকা ৩৯ পয়সা। গত বছর এই আয় ছিল ১৫ পয়সা।

পেনিনসুলা এএমসিএল বিডিবিএল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আরও বেশি আয় কমে কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই ফান্ডটির আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৩ পয়সা। তবে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৫০ পয়সা।

এই ফান্ডটি আগের বছর ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। আর সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে এবার তারা লভ্যাংশ দিয়েছে মূলত বাকি ২ টাকা ৭৬ পয়সার ওপর। এই হিসাবেই ঘোষণা করা হয়েছে লভ্যাংশ।

পেনিনসুলা সাধারণ বিমা করপোরেশন ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ১২ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেবে।

এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি হয় ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। তবে গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান দেয়ার কারণে সেটি লোকসান সমন্বয় করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড

আইবিবিএল ইসলামী ইউনিট ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ৯০ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ২৯ পয়সা, যেটি এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৬ টাকা ৯২ পয়সাতেও কেনা গেছে।

গত বছর ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা লোকসান দেয়া ফান্ডটি এবার ইউনিটপ্রতি মুনাফা করেছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আর আগের বছরের লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর ইউনিটপ্রতি চূড়ান্ত আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত

পুঁজিবাজার: সোমবার থেকে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত

পুঁজিবাজারে লেনদেন সোমবার থেকে আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলবে। ফাইল ছবি

চলতি সপ্তাহের মতো আগামী সপ্তাহে রোববারও বন্ধ থাকবে পুঁজিবাজারের লেনদেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেন সময়সীমা বর্তমান সময়ের চেয়ে আধা ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারের লেনদেনও এই সময়ে আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান শাটডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে আগামী রোববারও ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফলে চলতি সপ্তাহের মতো আগামী সপ্তাহে রোববারও বন্ধ থাকবে পুঁজিবাজারের লেনদেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেন সময়সীমা বর্তমান সময়ের চেয়ে আধা ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারের লেনদেনও এই সময়ে আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চলবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে তা ১০ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রথম দফায় ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের শাটডাউন ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এরপর লকডাউনের সময়সীমা আরও ৫ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট করা হয়েছে, যা ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

তবে সরকার যদি লকডাউনের সময়সীমা আর না বাড়ায়, তাহলে আগামী সোমবার থেকেই পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে আড়াইটা পর্যন্ত।

গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণের পর ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে ব্যাংক খোলা থাকলেও লেনদেন বন্ধ ছিল পুঁজিবাজারে। তবে বর্তমান বিএসইসি লেনদেন বন্ধ রাখার বিপক্ষে। তারা একাধিকবার জানিয়েছে, ব্যাংকে লেনদেন চলছে, পুঁজিবাজারও চালু থাকবে।

গত সপ্তাহে পাঁচ দিন লেনদেন চললেও ব্যাংকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা চলে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত। কারণ, ব্যাংক খোলা ছিল দেড়টা পর্যন্ত।

গত ৫ এপ্রিল লকডাউন আর ১ জুলাই শাটডাউন শুরু হলেও ব্যাংকের মতো লেনদেন বন্ধ থাকেনি পুঁজিবাজারে। শাটডাউনে প্রথম দুই রোববার ব্যাংক বন্ধ থাকায় পুঁজিবাজারেও লেনদেন চলে সপ্তাহে চার দিন।

ঈদের আগের সপ্তাহে রোববার খোলা আর ব্যাংকে লেনদেন সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলায় পুঁজিবাজারেও লেনদেন চলে পুরোটা সময় সকাল ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত।

তবে ২৩ জুলাই থেকে ব্যাংকে লেনদেনের সময় কমিয়ে আনার পর পুঁজিবাজারেও লেনদেনের সময় কমায় বিএসইসি। এবার ব্যাংকে ছুটি দুই দিন বাড়িয়ে লেনদেন এক ঘণ্টা বাড়ানোয় পুঁজিবাজারেও লেনদেনের সময় আধা ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলো।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

বুধবার আসছে আট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ

বুধবার আসছে আট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ

মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা।

বুধবার লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর রেকর্ড পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ কেমন হতে পারে, তার নমুনা দেখা গেছে। গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ৭৬ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর মুনাফা করেছে ৩ টাকা ১৪ পয়সা। লভ্যাংশ দিয়েছে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আটটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভা ডাকা হয়েছে একই দিনে। এই ফান্ডগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি পরিচালনা করে।

আগামী বুধবার ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি সভা হবে বলে বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া ঘোষণায় জানানো হয়। এ নিয়ে জুনে অর্থবছর শেষ হওয়া ৩০টি ফান্ডের মধ্যে ১৪টির লভ্যাংশ ঘোষণার বৈঠকের খবর এল।

গত জুলাই থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে দুই হাজার পয়েন্টের বেশি। আর এই এক বছরের চাঙা বাজারের সুবিধা পাওয়া ফান্ডগুলোর মধ্যে একটি এরই মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ বৈঠক আছে আরও দুটি ফান্ডের।

বুধবার লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর রেকর্ড পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ কেমন হতে পারে, তার নমুনা দেখা গেছে।

গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ৭৬ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর মুনাফা করেছ ৩ টাকা ১৪ পয়সা। আগের বছরের লোকসানের কারণে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করার কারণে চূড়ান্ত মুনাফা হয় ১ টাকা ৮৬ পয়সা।

মুনাফার কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নগদে বিতরণের কথা থাকলেও ফান্ডটি বিতরণ করেছে ৯৪.০৯ শতাংশ।

অন্য ফান্ডগুলোও এবার রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে বলেই তৃতীয় প্রান্তিক শেষে প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে। ফলে এক দশকের হতাশা কাটিয়ে ফান্ডগুলো এবার ভালো লভ্যাংশ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অবশ্য কিছু ফান্ড গত বছর বেশ বড় অঙ্কের লোকসান দেয়ার কারণে তার বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে পারবে, এ কারণে পুরো মুনাফার ওপর লভ্যাংশ পাবেন না ইউনিটধারীরা। তবে সঞ্চিতি সংরক্ষণ হয়ে গেলে আর পুঁজিবাজার স্থিতিশীল থাকলে আগামী বছর আরও ভালো লভ্যাংশ পাবেন তারা।

তবে আইসিবির যে আটটি ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার কোনোটিই গত বছর লোকসান দেয়নি। আর এ কারণে তারা চলতি বছরের পুরো আয়ের ওপরই লভ্যাংশ দিতে পারবে। ফলে এগুলো বেশ ভালো লভ্যাংশ দেবে বলে আশা করছেন ইউনিটধারীরা।

ফান্ডগুলোর হিসাব-নিকাশ

আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা আয় করেছে। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৪ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ৩৪ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি ৪১ পয়সা আয় করেছিল। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪০ পয়সা। আর অর্থবছর শেষে ৪১ পয়সা আয় করে ফান্ডটি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ৩১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২৫ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ২৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২০ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ২৪ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ৩০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২৬ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আইএফআইএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিট প্রতি ১১ পয়সা আয় করেছে। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৭ পয়সা। আর বছর শেষে ২২ পয়সা আয় করে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ৪১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২৪ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ফিনিক্স ফিন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছ ২৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ২২ পয়সা। আর বছর শেষে তারা ইউনিটপ্রতি ২৫ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

রবি ছাড়লেন মাহতাব

রবি ছাড়লেন মাহতাব

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

রবিতে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর শেষ হবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি ছুটিতে গেছেন। তার দায়িত্বে না থাকার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে ৫ বছর দায়িত্ব পালন শেষে এ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

রবিতে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর শেষ হবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি ছুটিতে গেছেন। তার দায়িত্বে না থাকার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

বৃহস্পতিবার রবি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রবির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও), এম রিয়াজ রশিদ কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে এ সময়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে। রবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান থায়াপারান সাঙ্গারাপিল্লাই বলেন, ‘দেশের শীর্ষ ডিজিটাল কোম্পানি হিসেবে রবিকে প্রতিষ্ঠায় মাহতাবের দৃঢ় ভূমিকার জন্য পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ হতে তাকে আমি অভিনন্দন জানাই।’

৪-জি সেবায় রবিকে শীর্ষ স্থানে নেয়া, বাংলাদেশের কোম্পানি ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রবি-এয়ারটেল মার্জার সম্পন্নকরণ, পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আইপিওর মাধ্যমে রবির তালিকাভুক্তি, ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ সফলভাবে সম্পূর্ণ করেছিলেন রবির প্রথম বাংলাদেশি সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক

শাটডাউনের মধ্যে পুঁজিবাজার আরও একটি ভালো দিন দেখল। প্রায় সব খাতের উত্থানে হেসেছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সূচকের অবস্থান এখন ২০১১ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৬২৭ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩১ পয়েন্ট কমে শেষ হয়েছে আজকের লেনদেন। সূচক ৬০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। প্রায় দুই মাস পর লেনদেন আবার ছাড়াল আড়াই হাজার কোটি টাকার ঘর। এর আগে গত ১০ জুন ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা আর তার আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই লেনদেন ছিল ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ।

ব্যাংক খাতে দাম বৃদ্ধির পর দিনই পতনের ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারল না চাঙা পুঁজিবাজারও। বস্ত্র খাতে। তালিকাভুক্ত ৩৬ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে প্রথমটির লভ্যাংশ চমৎকৃত করলেও এই খাতেও দরপতনে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।

তবে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে দরপতনেও লভ্যাংশের অপেক্ষায় থাকা প্রধান প্রধান খাত বস্ত্র, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিকের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির চাঙাভাবে টানা পঞ্চম দিনের মতো বাড়ল পুঁজিবাজার।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বিমা খাতের শেয়ারধারীদেরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। টানা প্রায় দুই মাস ধরে সংশোধনের মধ্যে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সূচকের অবস্থান এখন ২০১১ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৬২৭ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩১ পয়েন্ট কমে শেষ হয়েছে আজকের লেনদেন।

তখন অবশ্য ডিএসইএক্স সূচক ছিল না, সে সময় সূচকের নাম ছিল ডিএসই সূচক। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয় ডিএসইএক্স সূচক।

এই ডিএসই ও ডিএসইএক্স সূচকের তুলনা করলে দেখা যায়, চালুর দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৫৫। তবে সেদিন ডিএসই সূচকের মানদণ্ডে তা ছিল ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্ট।

সূচক ৬০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। প্রায় দুই মাস পর লেনদেন আবার ছাড়াল আড়াই হাজার কোটি টাকার ঘর। এর আগে গত ১০ জুন ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা আর তার আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই লেনদেন ছিল ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ।

আগের কর্মদিবস মঙ্গলবার ব্যাংক খাতের উত্থান আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। ২০২০ সালে অর্থবছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ, চলতি বছর আরও বেশি মুনাফা করে আলোচনায় থাকা এই খাতটির ঝিমিয়ে থাকার মধ্যে সেদিন ৩১টি কোম্পানির সবগুলোর দাম বৃদ্ধি ঘটে।

পুঁজিবাজারের চাঙাভাবের মধ্যে এই খাতটির শেয়ার দর অবমূল্যায়িত বলেই ধারণা করা হয়। এর আগে গত ২৭ মেও একই দিন সব কটি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখেছিল পুঁজিবাজার। সেদিনও এই খাতের বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেন যে, খাতটি হয়ত ভালো করবে। কিন্তু পরের দিনেই দাম কমে যায় আর ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টির দামই এখন সেই ২৭ মের দামের চেয়ে কমে।

ব্যাংক খাতে কোনো একদিন দাম বৃদ্ধি পেলেও পরে তা ধরে রাখতে না পারার এই বিষয়টি ঘটল আবার। এদিন ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে আটটির দাম বেড়েছে নগণ্য পরিমাণে। এর বিপরীতে কমেছে ১৭টির দর। শতকরা হিসেবে দাম খুব বেশি কমেছে এমন নয়, তার পরেও দ্বিগুণ সংখ্যক শেয়ারের দাম হারানো নিশ্চিতভাবেই হতাশ করেছে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের। বাকি ৬টি ব্যাংক দাম ধরে রাখতে পেরেছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই খাতের প্রথম কোম্পানি হিসেবে এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছরের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই লভ্যাংশ পুঁজিবাজারের অন্য খাতের কোম্পানির এর চেয়ে কিছুটা বেশি হারে লভ্যাংশের চেয়ে ভালো। কারণ, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশের জন্য কর দিতে হয় না বিনিয়োগকারীদের, যেখানে অন্য খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হয়।

এই খাতের ৩০টি ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে আরেও ১৩টির ঘোষণা।

ফান্ডগুলো চাঙা পুঁজিবাজারে গত এক বছরে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে। আর এখন লভ্যাংশ সব বিতরণ করতে হয় নগদে ফলে বেশ ভালো লভ্যাংশের আশা করা হচ্ছে।

এনএলআই দেখিয়েছে এবার লভ্যাংশ কেমন হতে পারে, কী নীতিমালায় হবে। তারা চমৎকৃত করার পর লেনদেনের শুরুতে এই খাতটি চাঙা হয়েছিল বটে, কিন্তু শেষ বেলায় দর হারিয়ে বসে বেশিরভাগ ফান্ড।

দিন শেষে ১১টি ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে মূল্য হারায় ১৩টি। দর ধরে রাখে বাকি ১২টি। এর মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনএলআই এর দাম কমেছে ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা।

টিকল না ব্যাংকের বাড়তি দর

আগের দিন সব কটি ব্যাংকের দাম বাড়ার কারণে এই খাতটি নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তাতে ধাক্কা লাগল দ্বিতীয় দিনই। বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি লেনদেনও অর্ধেক হয়ে গেছে।

যদিও দাম বৃদ্ধি ও কমার হার খুব একটা বেশি না। সবচেয়ে বেশি কমা এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৩৯ শতাংশ। শেয়ার দর ২৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৮ টাকা ৫০ পয়সা।

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে লেনদেনের ৪০ শতাংশের বেশি ছিল বস্ত্র, প্রকৌশল এবং ওষুধ ও প্রকৌশল খাতে

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ৩২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২.১৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৩১ টাকা ৯০ পয়সা।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ২ শতাংশ কমে ৫ টাকার শেয়ার দিন শেষে হয়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা।

ইউসিবি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১.৮১ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬ টাকা ২০ পয়সা।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর ৮৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১.৭৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৪ টাকা ৪০ পয়সা।

ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর কমেছে দেড় শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।

এ তালিকায় আছে ওয়ান ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক।

এদিন দর বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকের তালিকায় ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে দশমিক ৪০ শতাংশ। উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দরও বেড়েছে একই হারে। ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে দশমিক ৮৫ শতাংশ। ব্যাংকটির শেয়ার দর ৩৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ১১৮.৭০ কোটি টাকা যা আগের দিন ছিল ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে ১২৮ কোটি টাকার মতো।

আগ্রহের কেন্দ্রে তিন খাত

এদিন যত লেনদেন হয়েছে তার ৪৩.৮২ শতাংশই হয়েছে তিনটি খাতে। এগুলো হলো বস্ত্র, প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন।

এই তিনটি খাতের ১১৪টি কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়েছে। যদিও একটি অংশের কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ বা লোকসানে আছে, তার পরেও এসব কোম্পানিকে ঘিরে আগ্রহের শেষ নেই। কারণ, এগুলোর বোর্ড পুনর্গঠন করে আবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবার যেগুলো মুনাফায় আছে, সেগুলোর বেশিরভাগ করোনার মধ্যেও বেশ ভালো মুনাফা করেছে।

এই তিন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে ৩৯৮ কোটি ২০ টাকা। আগের দিন এই খাতে হাতবদল হয়েছিল ২৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক দিনেই লেনদেন বেড়েছে ১২২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির অর্ডার পাওয়ার পর গত সোমবার এই খাতে উত্থান দেখা দিলেও মঙ্গলবার ঘটে দর পতন। বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় পুঁজিবাজারে লেনদেন ছিল বন্ধ। আর এই বিরতির শেষে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ এই খাতেই।

দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি ছিল বস্ত্র খাতের ঢাকা ডাইং, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১০ শতাংশ, দাম ২৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ টাকা ৪০ পয়সা।

অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৮৭ শতাংশ বেড়ে শেয়ার দর ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৮১ শতাংশ বেড়ে ২১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা।

মালেক স্পিনিং মিলসের দর ৩০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯.৭০ শতাংশ থেকে হয়েছে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা।

৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টির দর কমেছে, পাল্টায়নি চারটির, বেড়েছে বাকি ৫৮টির।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে ৩৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে যা ছিল ৩১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বন্ধ কোম্পানি অ্যাপোলো ইস্পাতের। ৯.১৭ শতাংশ বেড়ে ১০ টাকা ৯০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ১১ টাকা ৯০ পয়সা।

জিপিএইচ ইস্পাতের দর ৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ৪৯.৪ টাকা থেকে হয়েছে ৫৩.৬ টাকা।

নাহি অ্যালুমিনিয়ামের দর ৬.৭৫ শতাংশ, কপারটেকের ৬.৩১, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৬ শতাংশ।

সব মিলিয়ে এই খাতে বেড়েছে ৩২টি শেয়ারের দর, কমেছে ১০টির। যেগুলোর দর কমেছে, সেগুলোর দাম কমার হার খুবই কম।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ৩২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ২৩৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। এই খাতে লেনদেন কমলে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর।

এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত বহুদিন ধরে। বাকিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২২টির আর কমেছে ৭টির দর।

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
চাঙা পুঁজিবাজারে ব্যাংক গা ঝাড়া দেয়ার পর দিন আবার মূল্য পতন দেখল, দাম কমেছে আর্থিক খাতেরও

এই ৩০টি কোম্পানির সিংগভাগই মুনাফায় আছে, আর এগুলোর অর্থবছরও শেষ হয়েছে ৩০ জুন। যে কোনো দিন আসবে বোর্ড সভার খবর। আর সেই সভা শেষে ঘোষণা হবে লভ্যাংশ।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সেন্ট্রাল ফার্মার। ৯.৫৭ শতাংশ বেড়ে ১৮ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ২০ টাকা ৬০ পয়সা।

৮.৫৭ শতাংশ বেড়ে ফার কেমিক্যালের দাম ১৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।

৭.৪৮ শতাংশ বেড়েছে লিব্রা ইনফিউশনের দর। ৬৬০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে শেয়ার দর হয়েছে ৭০৯ টাকা ৮০ পয়সা।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দাম বেড়েছে ৭.১৬ শতাংশ। ৭২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে শেয়ার দর হয়েছে ৭৭ টাকা ৮০ পয়সা।

একই গ্রুপের ওরিয়ন ফার্মার দাম বেড়েছে ৬.৮৯ শতাংশ। ৬৩ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার বেড়ে হয়েছে ৬৮ টাকা ২০ পয়সা।

হারানো দর কিছুটা হলেও ফিরে পেল বিমা খাত

লেনদেনের শুরুতে বিমা খাতের শেয়ারের দর পতন হলেও দিন শেষে বেড়েছে সিংহভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দর।

দিন শেষে এই খাতের ১০টি কোম্পানির দর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৩৩টির। লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

আগের কর্মদিবসে এই খাতের ১১টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছিল ৩৯টির। লেনদেন হয়েছিল ১৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৫.৮৯ শতাংশ। এছাড়া ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৭২ শতাংশ। ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ৫.১১ শতাংশ, প্রগতি লাইফের ৪.৮৮ শতাংশ, এছাড়া সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.৬৫ শতাংশ।

সিটি, গ্লোবাল, প্রাইম ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দর বেড়েছে ৬টির, কমেছে ১৩টির। লেনদেন হয়েছে ১০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে এই খাতে ১১টির দর বাড়ার বিপরীতে কমেছিল ৬টির আর লেনদেন ছিল ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৬টির, কমেছে বাকি চারটির। লেনদেন হয়েছে ১১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে ১২টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছিল ৭টির, লেনদেন ছিল ১০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৮টির, কমেছে ৫টির। লেনদেন হয়েছে ১৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে আছে এই খাতের সিভিও পেট্রোক্যামেকেল যার দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।

আগের কর্মদিবসেও এই খাতে ১৭টি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছিল ৬টির লেনদেন ছিল ১৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র। সূচকের এই অবস্থান ২০১১ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ

একটি ফান্ডের চমকপ্রদ লভ্যাংশ ঘোষণার দিনও বেশিরভাগ ফান্ডের দর হারানোর দিন মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন অবশ্য বেড়েছে। ১১টির দর বৃদ্ধি, ১৩টির হ্রাস আর ১২টির দর অপরিবর্তিত থাকার দিন হাতবদল হয়েছে ১৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

আগের কর্মদিবসে দিন এই খাতে ১৩টির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছিল ৯টির, লেনদেন হয়েছিল ১০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

বিবিধ খাতে এদিনও বেশ ভালো লেনদেন হয়েছে। ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০টির, কমেছে ৩টির। হাতবদল হয়েছে মোট ১৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

আগের কর্মদিবসে ৭টি করে কোম্পানির দর বৃদ্ধি ও কমার দিন লেনদেন ছিল ১৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এদিন আগ্রহের নতুন মোড় দেখা গেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতে। ১১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০টিরই। কমেছে অন্যটির। হাতবদল হয়েছে মোট ৭৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৬ দশমিক ০৭ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৯ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে।

ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ১৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৮১ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই

এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি

ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৪ পয়সা মুনাফা করে ইউনিটধারীদেরকে ১ টাকা ৭৫ পয়সা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড। গত বছর ইউনিটপ্রতি ৭৬ পয়সা লোকসান দিয়েছিল তারা। আগের লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে ১ টাকা ৮৬ পয়সার বিপরীতে ৯৪.০৯ শতাংশই বিতরণ করবে তারা।

জুনে অর্থবছর শেষ হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড। প্রত্যাশা মতোই তারা রেকর্ড পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছ।

২০১২ সালে তালিকাভুক্ত ফান্ডটি তার ইউনিটধারীদেরকে ১৭.৫ শতাংশ, অর্থাৎ ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা।

বুধবার ফান্ডটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় এই বিষয়টি অনুমোদন হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ফান্ডটি গত জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৪ পয়সা মুনাফা করেছে। গত বছর ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ৭৬ পয়সা।

৩০ জুন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য ছিল ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। আর বর্তমান দাম ১৮ টাকা ৫০ পয়সা।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধসের পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো প্রত্যাশিত মুনাফা দিতে না পারলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গত এক বছরে পুঁজিবাজার চাঙা থাকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ব্যাপক মুনাফা করেছে। আর এ কারণে এবার ভালো লভ্যাংশ পাওয়ার আশা করছেন ইউনিটধারীরা।

এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো যে হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করছে, তা চমকে দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বেশিরভাগ ফান্ডে বিনিয়োগ করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারের চেয়ে বেশি হারে লভ্যাংশ পাওয়া গেছে।

এই অবস্থায় পুঁজিবাজারের ফান্ডগুলো কী লভ্যাংশ দেয়, সে দিকে দৃষ্টি ছিল। প্রথমে লভ্যাংশ ঘোষণা করা এই ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির এই ফান্ডটির সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীদেরকে আরও আশাবাদী করবে।

ফান্ডটি যে এবার ভালো লভ্যাংশ দেবে, সেটি স্পষ্ট ছিল আগেই। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে তাদের আয় ছিল ২ টাকা ৯৬ পয়সা। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে সূচক ৮৮০ পয়েন্ট বাড়লেও এই ফান্ডটি এই তিন মাসে তারা আয় করেছে ৩৬ পয়সা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী যত আয় হয়, তার ৭০ শতাংশ এখন নগদে বিতরণ করতে হবে। তবে গ্রোথ ফান্ডের ক্ষেত্রে দেয়া যাবে ৫০ শতাংশ।

অবশ্য আগের বছর বাজারে ধসের কারণে বড় অংকের লোকসান দেয়ার কারণে তার বিরপীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে লভ্যাংশ কিছুটা কম হচ্ছে।

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই
ফান্ডটির ইউনিটের বেশিরভাগ এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে

এই ফান্ডটি গত বছর লোকসান না দিলে তাদের ৩ টাকা ১৪ পয়সা আয় থেকে ২ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ পেতে পারতেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু আগের লোকসানের কারণে ১ টাকা ২৮ পয়সার বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করার কারণে বাকি ১ টাকা ৮৬ পয়সার বিপরীতে লভ্যাংশ পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আর চূড়ান্ত এই আয়ের ৯৪.০৯ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে।

লভ্যাংশ নিতে রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে আগামী ২৯ আগস্ট। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে ইউনিটটি থাকবে, তারাই লভ্যাংশ পাবেন।

এক সপ্তাহে আসছে ৫টির ঘোষণা, কেমন হতে পারে লভ্যাংশ

পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৩৭টি ফান্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় লেনদেন আছে ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে ৩৬টি ফান্ডের অর্থবছর শেষ হয়েছে জুনে।

এই ফান্ডগুলোর সিংহভাগই গত বছর লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবে এবার সেগুলো ব্যাপক মুনাফা করেছে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে। আর চতুর্থ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৮৮০ পয়েন্ট। এর সুফলও ফান্ডগুলো পাবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল পরিচালিত গ্রিন ডেল্টা ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ড সভা হবে বৃহস্পতিবার।

গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম তিন প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি আয় করেছে প্রায় ৯৭.৯৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তাদের ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইউনিটপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৯৯.৮৭ পয়সা।

অর্থাৎ এই দুটি ফান্ডকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকের মুনাফা কত হয়, তার ওপর নির্ভর করতে পারে লভ্যাংশ।

কারণ, আগের বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকছে। আর তিন প্রান্তিক শেষে দুটি ফান্ডের আয়ই আগের বছরের লোকসানের সমান।

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই
ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি পুঁজিবাজারে মোট দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করে। মেয়াদহীন আরও দুটি ফান্ড আছে তাদের

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড আগামী ৮ আগস্ট বেলা দেড়টায় লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভা ডেকেছে।

এই ফান্ডটি গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮১ পয়সা মুনাফা করেছে। এই ফান্ডটি গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। সেই লোকসানের পুরোটা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করলেও এখনও হাতে থাকে ৬৮ পয়সা। সঙ্গে চতুর্থ প্রান্তিকের আয় হবে। আর সেটির ঘোষণা হবে লভ্যাংশ।

৯ আগস্ট ট্রাস্টি সভা করবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালিত এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড চলতি বছর তিন প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা। এর পুরোটা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করলেও হাতে থাকে এক টাকা ৭ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে চতুর্থ প্রান্তিকে আয়। আর সেটার ৭০ শতাংশ পেতে পারেন ইউনিটধারীরা।

এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড জুলাই থেকে মার্চ সময়ে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি কোনো লোকসান দেয়নি। ফলে কোনো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে না। তবে তারা গ্রোথ ফান্ড বলে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ আরও এক কারণে লাভজনক। অন্য যেকোনো লভ্যাংশের ওপর শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে সরকার। কিন্তু মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

পুঁজিবাজারের বাইরের ফান্ডগুলোর অভাবনীয় লভ্যাংশ

এখন পর্যন্ত অতালিকাভুক্ত যেসব ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ- আইসিবি পরিচালিত ইউনিট ফান্ড। এটি ইউনিটপ্রতি ৪২ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। ফান্ডটির সবশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬১ টাকা।

তবে ফান্ডটি চাইলেই কেনা যায় না। আইসিবিতে গিয়ে আবেদন করে রাখতে হয়। কেউ বিক্রি করতে চাইলেই পাওয়া যায়, তবে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। আর একবারে কিনতে হয় ৫০ লাখ টাকার ফান্ড।

ব্যাপক লভ্যাংশ দিয়েছে এএএমএল ইউনিট ফান্ডও। তারা ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৪৩ টাকা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফান্ডটির বর্তমান দাম ১৬ টাকা ৩ পয়সা।

এই হিসাবে দামের ১৫.৫৯ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে পেয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছর ইউনিটের দাম ছিল আরও কম। যারা কমে কিনেছেন, তাদের ইউনিট মূল্যের তুলনায় লভ্যাংশ শতকরা হারে আরও বেশি হয়েছে।

শান্তার ফান্ড

শান্তা ফার্স্ট ইনকাম প্রোপার্টি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৮৮ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির সবশেষ মূল্য ১৪ টাকা ৬৭ পয়সা। কেউ যদি এই দামেও ফান্ডটি কিনে থাকেন, তার পরেও তার লভ্যাংশ এসেছে ইউনিটমূল্যের ১৩.৯৭ শতাংশ।

আইডিএলসির ফান্ড

আইডিএলসি ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

ফান্ডটি গত বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে লভ্যাংশ কম দিয়েছে।

ক্যাপিটেকের ফান্ড

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ক্যাপিটেক পরিচালিত মেয়াদহীন দুটি ফান্ডের মধ্যে ক্যাপিটেক পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এই ফান্ডটির সবশেষ ইউনিটমূল্য ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।

পদ্মা প্রভিডেন্ট ফান্ডের শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড ৭ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ৫৪ পয়সা। কেউ যদি এই দামে ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি মুনাফা অবশ্য কম পেয়েছেন; ৬.৬৪ শতাংশ। তবে এটিও বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিমের সুদ হারের চেয়ে বেশি।

পেনিনসুলার তিন ফান্ড

পেনিনসুলা ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ১৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৭০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় হয় ২ টাকা ৩৯ পয়সা। গত বছর এই আয় ছিল ১৫ পয়সা।

পেনিনসুলা এএমসিএল বিডিবিএল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আরও বেশি আয় কমে কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই ফান্ডটির আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৩ পয়সা। তবে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৫০ পয়সা।

এই ফান্ডটি আগের বছর ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। আর সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে এবার তারা লভ্যাংশ দিয়েছে মূলত বাকি ২ টাকা ৭৬ পয়সার ওপর। এই হিসাবেই ঘোষণা করা হয়েছে লভ্যাংশ।

পেনিনসুলা সাধারণ বিমা করপোরেশন ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ১২ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেবে।

এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি হয় ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। তবে গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান দেয়ার কারণে সেটি লোকসান সমন্বয় করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড

আইবিবিএল ইসলামী ইউনিট ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ৯০ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ২৯ পয়সা, যেটি এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৬ টাকা ৯২ পয়সাতেও কেনা গেছে।

গত বছর ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা লোকসান দেয়া ফান্ডটি এবার ইউনিটপ্রতি মুনাফা করেছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আর আগের বছরের লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর ইউনিটপ্রতি চূড়ান্ত আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা

এক বছরে সূচক বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, লেনদেন বেড়েছে চার গুণের বেশি, আর প্রতিদিনই এখন সূচক আর বাজার মূলধনের রেকর্ড হচ্ছে। এর মধ্যেও ব্যাংকের শেয়ারের দর তলানিতে থাকা নিয়ে আলোচনা চলছেই। লভ্যাংশের ইতিহাস, আগামীতে আরও ভালো লভ্যাংশের সম্ভাবনাসহ নানা ইতিবাচকতার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা সেভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে কথা হচ্ছে। শেয়ার প্রতি আয়, সম্পদের বিবেচনায় এই শেয়ারগুলোর সিংহভাগই অবমূল্যায়িত এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে।

পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম বাড়েনি এমন নয়। তবে কোম্পানিগুলো যে লভ্যাংশ দিয়েছে এবং চলতি বছর যে হারে তারা আয় করেছে, শেয়ার প্রতি যে সম্পদ মূল্য আছে, এসবের বিবেচনায় শেয়ার দর অবমূল্যায়িত বলেই মত দিয়ে থাকেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

মাঝেমধ্যে ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর দল বেঁধে বাড়ে, কিন্তু তা ধরে রাখা যায় না। যেসব গত ২৭ মে এক দিনে সবগুলো ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়ে যে অবস্থানে পৌঁছে, সেখান থেকে কমে লেনদেন হচ্ছে ২০টি ব্যাংকের দর। আর বেড়েছে ১০টির। একটির দর অপরিবর্তিত।

অবশ্য এই সময়ে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে। এবার শেয়ার দরের তুলনায় অভাবনীয় নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন বেশিরভাগ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা। সঙ্গে আবার বোনাস শেয়ারও দিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক।

বোনাস হিসেবে পাওয়া শেয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ার দরও কমে। তবে নগদ লভ্যাংশ সমন্বয় হয় না। তার পরেও বিশেষ করে ব্যাংক ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে দর সমন্বয় হতে দেখা যায়।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারে উল্লম্ফনের প্রভাব কম ব্যাংক খাতে

বাজারে প্রথমে বিমা খাত, পরে বস্ত্র খাত ব্যাপকভাবে চাঙা হয়েছে। শেয়ার দর দ্বিগুণ, তিনগুণ, চার গুণ, ছয় গুণ এমনকি কোনো কোনো কোম্পানির ১০ গুণ হয়েছে এই সময়ে।

মাত্রাতিরিক্ত দর বাড়ারে পেছনে গুজব, আরও দাম বাড়বে আশায় ক্রমাগত কিনতে থাকা এসব দায়ী বলে ধারণা করা হয়। তার পরেও সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দরই অবমূল্যায়িত ছিল বছরের পর বছর আর এই দাম বাড়াটা বিনিয়োগকারীদের জন্য তো বটেই, দেশের আর্থিক খাতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

চাঙা বা স্থিতিশীল পুঁজিবাজার একটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ২০১০ সালের মহাধসের পর এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

২০১২ সালের দিকে একবার আর ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের দিকে দ্বিতীয় বার কিছুদিন বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও কিছু দুর্বল কোম্পানি আইপিওতে এসে টাকা তুলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত আবার দেখা দেয় মন্দাভাব।

এরপর ২০২০ সালের মার্চে আসে করোনার আঘাত। শুরু হয় আতঙ্ক। শেয়ার দরে নামে আবার ধস। এর মধ্যে সাধারণ ছুটিতে বাজার বন্ধ রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
সবচেয়ে বেশি শেয়ার সংখ্যা যেসব ব্যাংকের, বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ শেয়ারের জন্যেই দাম ধরে রাখতে পারে না কোম্পানিগুলো

আর সরকারও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আনে নতুন মুখ। নতুন রক্তে পুঁজিবাজারেও তৈরি হয় আস্থা। জুলাইয়ে পুঁজিবাজার আবার চালু হওয়ার পর বন্ধ কোম্পানিতে উৎপাদন চালুর চেষ্টা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগসহ নানা কারণে আবার বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে।

এর ফল দেখা যাচ্ছে বাজার মূলধন, সূচক আর লেনদেনে। এই এক বছরে সূচক বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, লেনদেন বেড়েছে চার গুণের বেশি, আর প্রতিদিনই এখন সূচক আর বাজার মূলধনের রেকর্ড হচ্ছে।

এর মধ্যেও ব্যাংকের শেয়ারদর নিয়ে আলোচনা চলছেই। লভ্যাংশের ইতিহাস, আগামীতে আরও ভালো লভ্যাংশের সম্ভাবনাসহ নানা ইতিবাচকতার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা সেভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে কথা হচ্ছে।

এখানে একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক আছে। সেটা হলো শেয়ার দর আদৌ ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে নাকি প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরাই এর নিয়ন্ত্রক।

বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত মূলধন ও কোটি কোটি শেয়ার বিভক্ত ব্যাংকের দাম যখনই কিছুটা বাড়ে, দেখা দেয় বিক্রয় চাপ। অর্থাৎ দাম বাড়লেও সেটা ধরে রাখা যাবে না, এ বিষয়ে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক-দুই বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই সংশয় থাকে। সে কারণেই অল্প মুনাফায় তারা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

২০১০ সালের মহাধসের বহু বছর পর গত ২৭ মে ব্যাংক খাতের শেয়ারে একটি দারুণ দিন আসে। সেদিন সাতটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায়। আরও চারটির দর এই সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে কিছুটা কমেছে। আরও তিনটির দর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি গিয়ে কিছুটা কমে।

সেদিনের পর ধারণা করা হচ্ছিল, এই খাতটি চাঙা হবে কি না। কিন্তু হয়নি।

পরদিনও লেনদেনের শুরুতেই ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। কিন্তু দিনের শেষ ভাগে আবার কমতে থাকে। কমতে কমতে যতটুকু দাম বেড়েছিল দুই দিনে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার চেয়ে নিচে নেমে আসে। অবশ্য হাতে গোনা দুই একটি ব্যাংকের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

যেমন নতুন তালিকাভুক্ত এনআরবিসির দাম গত চার মাসে প্রায় চারগুণ পর্যন্ত হয়েছে। পরে অবশ্য কমেছে। আর দুই মাসে ডাচ বাংলার শেয়ার দরও ৫০ শতাংশের মতো বেড়েছে। প্রায় কাছাকাছি বা কিছুটা বেশিও বেশ বেড়েছে প্রাইম, আইএফআইসি, যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর।

কিন্তু ভালো লভ্যাংশ দেয়া এবং চলতি বছর গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা করা আরও অন্যান্য ব্যাংকের শেয়ার দর বৃদ্ধির হার খুব একটা বেশি নয়।

মাঝেমধ্যে অবশ্য দাম বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হতে দেখা গেছে, কিন্তু পরক্ষণেই ক্রয়চাপে তা স্থায়ী হয়নি।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
১০০ কোটির বেশি শেয়ার আরও যেসব ব্যাংকে

মঙ্গলবারও গেছে এমন একটি দিন।

যেমন এবি ব্যাংকের শেয়ার দর ১৪ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেও শেষ পর্যন্ত তা ক্লোজ হয় ১৪ টাকা ২০ পয়সায়।

ডাচ বাংলার শেয়ার দর ৮৭ টাকা ৭০ পয়সা উঠেও লেনদেন শেষ করে ৮৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠে দিন শেষে ৭০ পয়সা কমে ১৫ টাকা ৮০ পয়সায় শেষ হয় লেনদেন।

এনআরবিসির দর ৩০ টাকায় উঠেও দিন শেষ করে ২৯ টাকা ২০ পয়সায়।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর ১৪ টাকায় উঠেও তা দিন শেষ করে ১৩ টাকা ৫০ পয়সায়।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর ২৩ টাকা ২০ পয়সায় উঠেও দিন শেষ করে ২২ টাকা ৭০ পয়সায়।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা উঠেও দিন শেষ করে ৩২ টাকা ৬০ পয়সায়।

তরে বাড়তি দাম ধরে রাখতে পেরেছে আইএফআইসি ব্যাংক। ১৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত উঠে সেখান থেকে ২০ পয়সা কমে শেষ করেছে লেনদেন।

বাকি ব্যাংকগুলোর দাম বৃদ্ধির হার খুব একটা বেশি ছিল না।

২৭ মের দরের নিচে এখনও যেসব ব্যাংক

বহু বছর পর ব্যাংক খাতে ঝলমলে দিকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর যতটা উঠেছিল, এখনও সেই পর্যায়ে উঠতে পারেনি।

যেমন এবি ব্যাংকের শেয়ার দর সেদিন উঠেছিল ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এখন তা ১৪ টাকা ২০ পয়সা।

আল আরাফাহ ব্যাংকের শেয়ার দর সেদিন ছিল ২৫ টাকা। এখন তা ২৩ টাকা।

এই ব্যাংকটি থেকে বিনিয়োগকারীরা দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন।

সেদিন ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা, এখন তা ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার দর সেদিন ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, এখন তা ১৪ টাকা ৬০ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংকের সেদিন শেয়ার দর ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা, এখন তা ১২ টাকা ১০ পয়সা।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
গত তিন বছর ধরে ব্যাংকে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে শেয়ার বৃদ্ধির হার কিছুটা হলেও কমছে

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সেদিন দাম ছিল ১২ টাকা ৩০ পয়সা, এখন দাম ১০ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩০ টাকা ১০ পয়সা, এখন দাম ২৮ টাকা ৯০ পয়সা।

সেদিন এমটিবির শেয়ার দর ছিল ২৩ টাকা ৯০ পয়সা, এখন দাম ২১ টাকা।

সেদিন এনবিএলের শেয়ার দর ছিল ৮ টাকা ৬০ পয়সা, এখন ৮ টাকা ১০ পয়সা।

সেদিন এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৮ টাকা ৫০ পয়সা, এখন দাম ১৫ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন এনআরবিসির শেয়ার দর ছিল ৩৬ টাকা ৩০ পয়সা, এখন দাম ২৯ টাকা ২০ পয়সা।

সেদিন ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা, এখন দাম ১৩ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৬ টাকা ১০ পয়সা, এখন দাম ২২ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৫ টাকা ৮০ পয়সা, এখন দাম ২৫ টাকা ২০ পয়সা।

সেদিন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২১ টাকা ৪০ পয়সা, এখন দাম ২০ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন এসআইবিএলের শেয়ার দর ছিল ১৫ টাকা, এখন দাম ১৩ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১০ টাকা ৪০ পয়সা, এখন দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন ইউসিবির শেয়ার দর ছিল ১৮ টাকা ৯০ পয়সা, এখন দাম ১৬ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা, এখন তা ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

২৭ মের তুলনায় দর বেশি যেসব ব্যাংকের

তবে বেশ কিছু ব্যাংকের শেয়ার দর এখন সেই ২৭ মের তুলনায় বেড়েছে।

যেমন, সেদিন ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা, এখন দাম ২০ টাকা।

সেদিন সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৭ টাকা ৩০ পয়সা, এখন তা ২৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডাচ-বাংলার শেয়ার দর। সেদিন ব্যাংকটির দর ছিল ৬৩ টাকা। তা বেড়ে এখন হয়েছে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা।

ইবিএলের শেয়ার দর সেদিন ছিল ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর সেদিন ছিল ৪ টাকা ১০ পয়সা। বর্তমান দাম ৫ টাকা ১০ পয়সা।

সেদিন আইএফআইসির শেয়ার দর ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমান দর ১৪ টাকা ৬০ পয়সা।

সেদিন যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২১ টাকা ৩০ পয়সা। বর্তমান দর ২১ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা, এখন তা ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

সেদিন রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩১ টাকা ৪০ পয়সা, এখন তা ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।

সেদিন সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৭ টাকা, এখন তা ১৭ টাকা ১০ পয়সা।

সেদিন ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা, এখন তা ৩৫ টাকা ২০ পয়সা।

সেদিন প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা, এখনও একই দামে আছে।

কেন দর ধরে রাখা যায় না

ব্যাংকের শেয়ারের এই মন্থর গতির বিষয়েও বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম নিউজবাংলার সঙ্গে এক আলোচনায় বলেছিলেন, বিমা বা অন্য খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে সেসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম। বিনিয়োগকারীরা অংশ বিনিয়োগ করলেই শেয়ার দর বেড়ে যায়। কিন্ত ব্যাংকের শেয়ারের শেয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক লেনদেনে দর বৃদ্ধির পরিমাণ নজরে আসে না।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
২০২০ সালে ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ হিসেবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদে বিতরণ করেছে। তার পরেও ব্যাংকের শেয়ারে আগ্রহ কম

পুঁজিবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শেয়ার আছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩০৬ কোটি ৬৪ লাখ, যা পুঁজিবাজারের একক কোনো খাতের সব শেয়ার মিলিয়ে হবে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্কর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের শেয়ারের দর বৃদ্ধি না পাওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে এ খাতের শেয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি। যদি কোনো দিন ঢালাওভাবে শুধু ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয় তাতেও এ খাতের বড় কোনো উত্থান দেখা প্রায় অসম্ভব।’

তিনি বলেন, `ব্যাংকগুলো ২০১০ সালের পর বোনাস শেয়ার দিয়ে যেভাবে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করেছে তার সবশেষ ফলাফল হচ্ছে এটি। যার কারণে এখন পুঁজিবাজারের সবচেয়ে মৌল বা ফান্ডামেন্টাল খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না বিনিয়োগকারীরা।’

দেবব্রত বলেন, ‘মূলত বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের সময় বিনিয়োগ আগ্রহী হয়ে থাকেন। বাকি সময়টিতে ডে ট্রেডিং বেশি হয়ে থাকে ব্যাংকে। ফলে শেয়ার দর অল্প কিছু বাড়লেই বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। অন্যান্য খাতের মতো এক মাস বা দুই মাসের জন্য শেয়ার ধরে রাখলে অনেকটাই পরিবর্তন হতো ব্যাংকের শেয়ার দরের।’

যে তিনটি ব্যাংকের শেয়ার সবচেয়ে বেশি

সবচেয়ে বেশি শেয়ার সংখ্যা ন্যাশনাল ব্যাংকের, ৩০৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৯টি। এর ৫ শতাংশ হিসেবে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩১টি শেয়ার যোগ হবে এই ব্যাংকে

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার আছে আইএফআইসি ব্যাংকের ১৭০ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬১টি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যা ইসলামী ব্যাংকের। এই ব্যাংকটি মোট ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ারে বিভক্ত।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
শেয়ার সংখ্যা সবচেয়ে কম যেসব ব্যাংকের

শত কোটির বেশি শেয়ার আরও যেসব ব্যাংকে

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৫টি।

ব্র্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১৩৯ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯৯টি

ইউনাইটেড কমর্শিয়াল বা ইউসিবির শেয়ার সংখ্যা ১২১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার ৯০৫টি। এর সঙ্গে ঘোষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ হিসেবে যোগ হবে ৬ কোটি ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৫টি।

সাউথ ইস্ট ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১১৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২২টি।

ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৮৬০টি।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১১৩ কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭ঠি

সিটি ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৭২ লাখ ৪ হাজার ৯৯৪টি।

আল আরাফাহ ইসলাম ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৪৯ লাখ ২ হাজার ১৮৫টি।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৭২৭টি

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ৩২ লাখ ১৭ হাজার ২৮টি।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার ৫৫৮টি।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০২ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২টি।

পূবালী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০২ কোটি ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ২১৯টি।

শত কোটির কাছাকাছি শেয়ার যেসব ব্যাংকের

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৯৯ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ২১১টি।

স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪টি। এর সঙ্গে ২০২০ সালের জন্য লভ্যাংশ হিসেবে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪২টি শেয়ার যুক্ত হবে।

ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৯৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৮টি।

ঢাকা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৪টি।

এনসিসি ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৮১টি। এই ব্যাংকটির সাড়ে সাত শতাংশ বোনাস হিসেবে যোগ হবে ৭ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৬টি।

ওয়ান ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৪৫৬টি।

তুলনামূলক কম শেয়ার যেসব ব্যাংকের

এবি ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৮৩ কোটি ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭১টি।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৮১ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬০টি

যমুনা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০টি।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক বা এনআরবিসির শেয়ার সংখ্যা ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৮টি।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৬ কোটি ৪৭ লাখ ২ হাজার ৩০০টি।

ট্রাস্ট ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৪ কোটি ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৯টি। এই শেয়ারের সঙ্গে লভ্যাংশ হিসেবে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭টি শেয়ার যুক্ত হবে।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৩ কোটি ২৫ লাখ।

উত্তরা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৯টি।

রূপালী ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৪১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩৩টি। এই শেয়ারের সঙ্গে ১০ শতাংশ হিসেবে আরও ৪ কোটি ১৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩টি যোগ হবে। কারণ, ব্যাংকটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই শেয়ার এখনও যোগ হয়নি।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনী কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব
পুঁজিবাজার: পুরো সময় ব্যবহার করা যাবে অ্যাপ
পুঁজিবাজারে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন
সিসিবিএল পরিচালক রকিবুরের নিয়োগ নিয়ে ডিএসইর ব্যাখ্যা
এপিআই ইউএটি চুক্তি করল ডিএসইর আরও দুই ট্রেকহোল্ডার

শেয়ার করুন