জাপানি মিনোরিতে আবার জাগবে এমারেল্ডের স্পন্দন

জাপানি মিনোরিতে আবার জাগবে এমারেল্ডের স্পন্দন

এমারেল্ড অয়েলের ধানের কুঁড়ার তেল স্পন্দন বছর পাঁচেক আগে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।

২০১৬ সালের ২৭ জুন বন্ধ হয়ে যাওয়া এমারেল্ড অয়েল কোম্পানিতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই বছর আগেই কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার কিনেছে তারা। আগে থেকেই বাংলাদেশে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানটি এখানে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের এমারেল্ড অয়েলের ব্যবস্থাপনায় জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

জাপানের মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৯ সালে কোম্পানিটির ৮ শতাংশ শেয়ার কিনেছিল। প্রায় পাঁচ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটিকে তাদের মাধ্যমেই আবার চালু করার স্বপ্ন দেখছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

তবে কোম্পানিটির ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ সুদে আসলে বেড়ে ১০০ কোটি টাকার মতো হয়ে গেছে। এখন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সুদ মওকুফের চেষ্টা চলছে। সেটি হয়ে গেলেই কোম্পানিটিকে উৎপাদনে আনার চেষ্টা হবে বলে জানিয়েছেন এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম খুবই আশাবাদী কোম্পানিটিকে নিয়ে। তারা যেসব বোর্ড পুনর্গঠন করেছিলেন, তার মধ্যে রিং সাইনও আলহাজ্ব টেক্সটাইল এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে।

শিবলী রুবাইয়াত নিউজবাংলাকে সেই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘রিং সাইন প্রোডাকশনের চলে আসছে। এমারেল্ড অয়েলও প্রোডাকশনে চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

বন্ধ ও মালিক লাপাত্তা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির বোর্ড পুনর্গঠন করে বিএসইসি চেষ্টা করছে সেগুলোকে চালু করার।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩ মার্চ সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হককে চেয়ারম্যান করে নতুন বোর্ড করা হয়। পর্ষদের অন্যান্য স্বাধীন পরিচালকরা হচ্ছেন বিআইবিএমের প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম সারওয়ার, সজিব হোসেইন ও সন্তোষ কুমার দেব।

কোম্পানি চালুর বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে গোলাম সারওয়ার মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিএসইসির একজন নির্বাহী পরিচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাপানি কোম্পানিটি এরই মধ্যে ৮ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। আরও ২৫ শতাংশ নেয়ার চেষ্টায় আছে তারা।’

কোম্পানিটি ২০১৪ সালে ১০ টাকা করে অভিহিত মূল্যে দুই কোটি শেয়ার বিক্রি করে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে পুঁজিবাজার থেকে।

দুই বছর পর রাষ্ট্রায়াত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার কারণে ২০১৬ সালের ২৭ জুন থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এমারেল্ড অয়েলের।

শেরপুরে কোম্পানিটির কারখানা রয়েছে। তারা স্পন্দন নামে ধানের কুঁড়ার তেল উৎপাদন করত। দেশের বাজারে এই কোম্পানিটি বেশ সাড়া ফেলেছিল। তবে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে মালিকদের নাম আসার পর তারা কারখানা বন্ধ রেখে উধাও হয়ে যান।

কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার ছিল উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পুঁজি হারানোর অনিশ্চয়তায় পড়ে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এমারেল্ড অয়েল কোম্পানি চালু করার বিষয়ে মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি জাপানি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আগ্রহী। দেখা যাক, কীভাবে কী করা যায়।’

মিনোরি বাংলাদেশ কী বলছে

মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক আশরাফ হোসেনের সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার। তিনি জানান, ২০১৯ সালে তারা কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার কিনেছিলেন। বোর্ড পুনর্গঠনের পর বিএসইসির সঙ্গে আলোচনায় হয় তাদের। তারা ৫০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করতে চান।

বন্ধ কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নতুন করে একটি কোম্পানি রিফর্ম করা খুবই জটিল। এছাড়া সেটিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসাও দীর্ঘ সময়ের বিষয়। এজন্য আমরা এই কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ আগ্রহী হয়েছি।’

উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়ায় আসতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দুটি ব্যাংক ও দুটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোম্পানিটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ আছে। এখন নতুন যে বোর্ড আছে, তারা যদি ঋণের বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করে বা এটি কীভাবে মওকুফ হবে সেটির বিষয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে কোম্পানিটি চালাতে আমাদের সহজ হবে।’

এমারেল্ড অয়েলকে আবার চালু করতে কী পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোম্পানিটির দুটি ইউনিট আছে। এগুলোর জন্য প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে আমরা হিসাব করেছি।’

বাংলাদেশে এই কোম্পানিটির বিনিয়োগ আছে আগে থেকেই। সাতক্ষীরায় চিংড়ি ও সাদা মাছ নিয়ে তাদের ব্যবসা আছে, যাতে অর্থ লগ্নি হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

আশরাফ হোসেন জানান, সাতক্ষীরায় প্রায় দুই হাজার হেক্টরের চিংড়ি ঘের আছে তাদের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক

ব্যাংক ছাড়া চাঙা সব খাত, ১০ বছর আগের অবস্থান ছাড়িয়ে সূচক

শাটডাউনের মধ্যে পুঁজিবাজার আরও একটি ভালো দিন দেখল। প্রায় সব খাতের উত্থানে হেসেছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সূচকের অবস্থান এখন ২০১১ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৬২৭ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩১ পয়েন্ট কমে শেষ হয়েছে আজকের লেনদেন। সূচক ৬০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। প্রায় দুই মাস পর লেনদেন আবার ছাড়াল আড়াই হাজার কোটি টাকার ঘর। এর আগে গত ১০ জুন ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা আর তার আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই লেনদেন ছিল ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ।

ব্যাংক খাতে দাম বৃদ্ধির পর দিনই পতনের ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারল না চাঙা পুঁজিবাজারও। বস্ত্র খাতে। তালিকাভুক্ত ৩৬ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে প্রথমটির লভ্যাংশ চমৎকৃত করলেও এই খাতেও দরপতনে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।

তবে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে দরপতনেও লভ্যাংশের অপেক্ষায় থাকা প্রধান প্রধান খাত বস্ত্র, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিকের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির চাঙাভাবে টানা পঞ্চম দিনের মতো বাড়ল পুঁজিবাজার।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বিমা খাতের শেয়ারধারীদেরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। টানা প্রায় দুই মাস ধরে সংশোধনের মধ্যে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সূচকের অবস্থান এখন ২০১১ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৬২৭ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩১ পয়েন্ট কমে শেষ হয়েছে আজকের লেনদেন।

তখন অবশ্য ডিএসইএক্স সূচক ছিল না, সে সময় সূচকের নাম ছিল ডিএসই সূচক। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয় ডিএসইএক্স সূচক।

এই ডিএসই ও ডিএসইএক্স সূচকের তুলনা করলে দেখা যায়, চালুর দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৫৫। তবে সেদিন ডিএসই সূচকের মানদণ্ডে তা ছিল ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্ট।

সূচক ৬০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। প্রায় দুই মাস পর লেনদেন আবার ছাড়াল আড়াই হাজার কোটি টাকার ঘর। এর আগে গত ১০ জুন ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা আর তার আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই লেনদেন ছিল ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ।

আগের কর্মদিবস মঙ্গলবার ব্যাংক খাতের উত্থান আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। ২০২০ সালে অর্থবছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ, চলতি বছর আরও বেশি মুনাফা করে আলোচনায় থাকা এই খাতটির ঝিমিয়ে থাকার মধ্যে সেদিন ৩১টি কোম্পানির সবগুলোর দাম বৃদ্ধি ঘটে।

পুঁজিবাজারের চাঙাভাবের মধ্যে এই খাতটির শেয়ার দর অবমূল্যায়িত বলেই ধারণা করা হয়। এর আগে গত ২৭ মেও একই দিন সব কটি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখেছিল পুঁজিবাজার। সেদিনও এই খাতের বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেন যে, খাতটি হয়ত ভালো করবে। কিন্তু পরের দিনেই দাম কমে যায় আর ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টির দামই এখন সেই ২৭ মের দামের চেয়ে কমে।

ব্যাংক খাতে কোনো একদিন দাম বৃদ্ধি পেলেও পরে তা ধরে রাখতে না পারার এই বিষয়টি ঘটল আবার। এদিন ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে আটটির দাম বেড়েছে নগণ্য পরিমাণে। এর বিপরীতে কমেছে ১৭টির দর। শতকরা হিসেবে দাম খুব বেশি কমেছে এমন নয়, তার পরেও দ্বিগুণ সংখ্যক শেয়ারের দাম হারানো নিশ্চিতভাবেই হতাশ করেছে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের। বাকি ৬টি ব্যাংক দাম ধরে রাখতে পেরেছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই খাতের প্রথম কোম্পানি হিসেবে এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছরের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই লভ্যাংশ পুঁজিবাজারের অন্য খাতের কোম্পানির এর চেয়ে কিছুটা বেশি হারে লভ্যাংশের চেয়ে ভালো। কারণ, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশের জন্য কর দিতে হয় না বিনিয়োগকারীদের, যেখানে অন্য খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হয়।

এই খাতের ৩০টি ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে আরেও ১৩টির ঘোষণা।

ফান্ডগুলো চাঙা পুঁজিবাজারে গত এক বছরে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে। আর এখন লভ্যাংশ সব বিতরণ করতে হয় নগদে ফলে বেশ ভালো লভ্যাংশের আশা করা হচ্ছে।

এনএলআই দেখিয়েছে এবার লভ্যাংশ কেমন হতে পারে, কী নীতিমালায় হবে। তারা চমৎকৃত করার পর লেনদেনের শুরুতে এই খাতটি চাঙা হয়েছিল বটে, কিন্তু শেষ বেলায় দর হারিয়ে বসে বেশিরভাগ ফান্ড।

দিন শেষে ১১টি ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে মূল্য হারায় ১৩টি। দর ধরে রাখে বাকি ১২টি। এর মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনএলআই এর দাম কমেছে ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা।

আরও আসছে...

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই

এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি

ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৪ পয়সা মুনাফা করে ইউনিটধারীদেরকে ১ টাকা ৭৫ পয়সা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড। গত বছর ইউনিটপ্রতি ৭৬ পয়সা লোকসান দিয়েছিল তারা। আগের লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে ১ টাকা ৮৬ পয়সার বিপরীতে ৯৪.০৯ শতাংশই বিতরণ করবে তারা।

জুনে অর্থবছর শেষ হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড। প্রত্যাশা মতোই তারা রেকর্ড পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছ।

২০১২ সালে তালিকাভুক্ত ফান্ডটি তার ইউনিটধারীদেরকে ১৭.৫ শতাংশ, অর্থাৎ ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা।

বুধবার ফান্ডটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় এই বিষয়টি অনুমোদন হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ফান্ডটি গত জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৪ পয়সা মুনাফা করেছে। গত বছর ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ৭৬ পয়সা।

৩০ জুন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য ছিল ১৫ টাকা ৩২ পয়সা। আর বর্তমান দাম ১৮ টাকা ৫০ পয়সা।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধসের পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো প্রত্যাশিত মুনাফা দিতে না পারলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গত এক বছরে পুঁজিবাজার চাঙা থাকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ব্যাপক মুনাফা করেছে। আর এ কারণে এবার ভালো লভ্যাংশ পাওয়ার আশা করছেন ইউনিটধারীরা।

এরই মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো যে হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করছে, তা চমকে দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বেশিরভাগ ফান্ডে বিনিয়োগ করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারের চেয়ে বেশি হারে লভ্যাংশ পাওয়া গেছে।

এই অবস্থায় পুঁজিবাজারের ফান্ডগুলো কী লভ্যাংশ দেয়, সে দিকে দৃষ্টি ছিল। প্রথমে লভ্যাংশ ঘোষণা করা এই ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির এই ফান্ডটির সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বিনিয়োগকারীদেরকে আরও আশাবাদী করবে।

ফান্ডটি যে এবার ভালো লভ্যাংশ দেবে, সেটি স্পষ্ট ছিল আগেই। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে তাদের আয় ছিল ২ টাকা ৯৬ পয়সা। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে সূচক ৮৮০ পয়েন্ট বাড়লেও এই ফান্ডটি এই তিন মাসে তারা আয় করেছে ৩৬ পয়সা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী যত আয় হয়, তার ৭০ শতাংশ এখন নগদে বিতরণ করতে হবে। তবে গ্রোথ ফান্ডের ক্ষেত্রে দেয়া যাবে ৫০ শতাংশ।

অবশ্য আগের বছর বাজারে ধসের কারণে বড় অংকের লোকসান দেয়ার কারণে তার বিরপীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে লভ্যাংশ কিছুটা কম হচ্ছে।

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই
ফান্ডটির ইউনিটের বেশিরভাগ এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে

এই ফান্ডটি গত বছর লোকসান না দিলে তাদের ৩ টাকা ১৪ পয়সা আয় থেকে ২ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ পেতে পারতেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু আগের লোকসানের কারণে ১ টাকা ২৮ পয়সার বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করার কারণে বাকি ১ টাকা ৮৬ পয়সার বিপরীতে লভ্যাংশ পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আর চূড়ান্ত এই আয়ের ৯৪.০৯ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে।

লভ্যাংশ নিতে রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে আগামী ২৯ আগস্ট। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে ইউনিটটি থাকবে, তারাই লভ্যাংশ পাবেন।

এক সপ্তাহে আসছে ৫টির ঘোষণা, কেমন হতে পারে লভ্যাংশ

পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৩৭টি ফান্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় লেনদেন আছে ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে ৩৬টি ফান্ডের অর্থবছর শেষ হয়েছে জুনে।

এই ফান্ডগুলোর সিংহভাগই গত বছর লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবে এবার সেগুলো ব্যাপক মুনাফা করেছে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে। আর চতুর্থ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৮৮০ পয়েন্ট। এর সুফলও ফান্ডগুলো পাবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল পরিচালিত গ্রিন ডেল্টা ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ড সভা হবে বৃহস্পতিবার।

গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম তিন প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি আয় করেছে প্রায় ৯৭.৯৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তাদের ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইউনিটপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৯৯.৮৭ পয়সা।

অর্থাৎ এই দুটি ফান্ডকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকের মুনাফা কত হয়, তার ওপর নির্ভর করতে পারে লভ্যাংশ।

কারণ, আগের বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকছে। আর তিন প্রান্তিক শেষে দুটি ফান্ডের আয়ই আগের বছরের লোকসানের সমান।

পুঁজিবাজারের ফান্ড: এবার লভ্যাংশ কেমন হবে নমুনা দেখাল এনএলআই
ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি পুঁজিবাজারে মোট দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করে। মেয়াদহীন আরও দুটি ফান্ড আছে তাদের

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড আগামী ৮ আগস্ট বেলা দেড়টায় লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভা ডেকেছে।

এই ফান্ডটি গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮১ পয়সা মুনাফা করেছে। এই ফান্ডটি গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। সেই লোকসানের পুরোটা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করলেও এখনও হাতে থাকে ৬৮ পয়সা। সঙ্গে চতুর্থ প্রান্তিকের আয় হবে। আর সেটির ঘোষণা হবে লভ্যাংশ।

৯ আগস্ট ট্রাস্টি সভা করবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালিত এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড চলতি বছর তিন প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা। এর পুরোটা সঞ্চিসি সংরক্ষণ করলেও হাতে থাকে এক টাকা ৭ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে চতুর্থ প্রান্তিকে আয়। আর সেটার ৭০ শতাংশ পেতে পারেন ইউনিটধারীরা।

এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড জুলাই থেকে মার্চ সময়ে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি কোনো লোকসান দেয়নি। ফলে কোনো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে না। তবে তারা গ্রোথ ফান্ড বলে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ আরও এক কারণে লাভজনক। অন্য যেকোনো লভ্যাংশের ওপর শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে সরকার। কিন্তু মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

পুঁজিবাজারের বাইরের ফান্ডগুলোর অভাবনীয় লভ্যাংশ

এখন পর্যন্ত অতালিকাভুক্ত যেসব ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ- আইসিবি পরিচালিত ইউনিট ফান্ড। এটি ইউনিটপ্রতি ৪২ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। ফান্ডটির সবশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬১ টাকা।

তবে ফান্ডটি চাইলেই কেনা যায় না। আইসিবিতে গিয়ে আবেদন করে রাখতে হয়। কেউ বিক্রি করতে চাইলেই পাওয়া যায়, তবে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। আর একবারে কিনতে হয় ৫০ লাখ টাকার ফান্ড।

ব্যাপক লভ্যাংশ দিয়েছে এএএমএল ইউনিট ফান্ডও। তারা ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৪৩ টাকা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফান্ডটির বর্তমান দাম ১৬ টাকা ৩ পয়সা।

এই হিসাবে দামের ১৫.৫৯ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে পেয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছর ইউনিটের দাম ছিল আরও কম। যারা কমে কিনেছেন, তাদের ইউনিট মূল্যের তুলনায় লভ্যাংশ শতকরা হারে আরও বেশি হয়েছে।

শান্তার ফান্ড

শান্তা ফার্স্ট ইনকাম প্রোপার্টি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৮৮ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির সবশেষ মূল্য ১৪ টাকা ৬৭ পয়সা। কেউ যদি এই দামেও ফান্ডটি কিনে থাকেন, তার পরেও তার লভ্যাংশ এসেছে ইউনিটমূল্যের ১৩.৯৭ শতাংশ।

আইডিএলসির ফান্ড

আইডিএলসি ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

ফান্ডটি গত বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে লভ্যাংশ কম দিয়েছে।

ক্যাপিটেকের ফান্ড

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ক্যাপিটেক পরিচালিত মেয়াদহীন দুটি ফান্ডের মধ্যে ক্যাপিটেক পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এই ফান্ডটির সবশেষ ইউনিটমূল্য ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।

পদ্মা প্রভিডেন্ট ফান্ডের শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড ৭ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ৫৪ পয়সা। কেউ যদি এই দামে ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি মুনাফা অবশ্য কম পেয়েছেন; ৬.৬৪ শতাংশ। তবে এটিও বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিমের সুদ হারের চেয়ে বেশি।

পেনিনসুলার তিন ফান্ড

পেনিনসুলা ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ১৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৭০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় হয় ২ টাকা ৩৯ পয়সা। গত বছর এই আয় ছিল ১৫ পয়সা।

পেনিনসুলা এএমসিএল বিডিবিএল ফান্ড ইউনিটপ্রতি আরও বেশি আয় কমে কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই ফান্ডটির আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৩ পয়সা। তবে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৫০ পয়সা।

এই ফান্ডটি আগের বছর ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। আর সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে এবার তারা লভ্যাংশ দিয়েছে মূলত বাকি ২ টাকা ৭৬ পয়সার ওপর। এই হিসাবেই ঘোষণা করা হয়েছে লভ্যাংশ।

পেনিনসুলা সাধারণ বিমা করপোরেশন ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ১২ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেবে।

এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি হয় ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। তবে গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান দেয়ার কারণে সেটি লোকসান সমন্বয় করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ফান্ড

আইবিবিএল ইসলামী ইউনিট ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ৯০ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ২৯ পয়সা, যেটি এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৬ টাকা ৯২ পয়সাতেও কেনা গেছে।

গত বছর ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা লোকসান দেয়া ফান্ডটি এবার ইউনিটপ্রতি মুনাফা করেছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আর আগের বছরের লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর ইউনিটপ্রতি চূড়ান্ত আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা।

শেয়ার করুন

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা

এক বছরে সূচক বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, লেনদেন বেড়েছে চার গুণের বেশি, আর প্রতিদিনই এখন সূচক আর বাজার মূলধনের রেকর্ড হচ্ছে। এর মধ্যেও ব্যাংকের শেয়ারের দর তলানিতে থাকা নিয়ে আলোচনা চলছেই। লভ্যাংশের ইতিহাস, আগামীতে আরও ভালো লভ্যাংশের সম্ভাবনাসহ নানা ইতিবাচকতার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা সেভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে কথা হচ্ছে। শেয়ার প্রতি আয়, সম্পদের বিবেচনায় এই শেয়ারগুলোর সিংহভাগই অবমূল্যায়িত এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে।

পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম বাড়েনি এমন নয়। তবে কোম্পানিগুলো যে লভ্যাংশ দিয়েছে এবং চলতি বছর যে হারে তারা আয় করেছে, শেয়ার প্রতি যে সম্পদ মূল্য আছে, এসবের বিবেচনায় শেয়ার দর অবমূল্যায়িত বলেই মত দিয়ে থাকেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

মাঝেমধ্যে ব্যাংকগুলোর শেয়ার দর দল বেঁধে বাড়ে, কিন্তু তা ধরে রাখা যায় না। যেসব গত ২৭ মে এক দিনে সবগুলো ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়ে যে অবস্থানে পৌঁছে, সেখান থেকে কমে লেনদেন হচ্ছে ২০টি ব্যাংকের দর। আর বেড়েছে ১০টির। একটির দর অপরিবর্তিত।

অবশ্য এই সময়ে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে। এবার শেয়ার দরের তুলনায় অভাবনীয় নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন বেশিরভাগ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা। সঙ্গে আবার বোনাস শেয়ারও দিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক।

বোনাস হিসেবে পাওয়া শেয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ার দরও কমে। তবে নগদ লভ্যাংশ সমন্বয় হয় না। তার পরেও বিশেষ করে ব্যাংক ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে দর সমন্বয় হতে দেখা যায়।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারে উল্লম্ফনের প্রভাব কম ব্যাংক খাতে

বাজারে প্রথমে বিমা খাত, পরে বস্ত্র খাত ব্যাপকভাবে চাঙা হয়েছে। শেয়ার দর দ্বিগুণ, তিনগুণ, চার গুণ, ছয় গুণ এমনকি কোনো কোনো কোম্পানির ১০ গুণ হয়েছে এই সময়ে।

মাত্রাতিরিক্ত দর বাড়ারে পেছনে গুজব, আরও দাম বাড়বে আশায় ক্রমাগত কিনতে থাকা এসব দায়ী বলে ধারণা করা হয়। তার পরেও সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দরই অবমূল্যায়িত ছিল বছরের পর বছর আর এই দাম বাড়াটা বিনিয়োগকারীদের জন্য তো বটেই, দেশের আর্থিক খাতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

চাঙা বা স্থিতিশীল পুঁজিবাজার একটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ২০১০ সালের মহাধসের পর এই বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

২০১২ সালের দিকে একবার আর ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের দিকে দ্বিতীয় বার কিছুদিন বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও কিছু দুর্বল কোম্পানি আইপিওতে এসে টাকা তুলে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের শুরু পর্যন্ত আবার দেখা দেয় মন্দাভাব।

এরপর ২০২০ সালের মার্চে আসে করোনার আঘাত। শুরু হয় আতঙ্ক। শেয়ার দরে নামে আবার ধস। এর মধ্যে সাধারণ ছুটিতে বাজার বন্ধ রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
সবচেয়ে বেশি শেয়ার সংখ্যা যেসব ব্যাংকের, বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ শেয়ারের জন্যেই দাম ধরে রাখতে পারে না কোম্পানিগুলো

আর সরকারও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আনে নতুন মুখ। নতুন রক্তে পুঁজিবাজারেও তৈরি হয় আস্থা। জুলাইয়ে পুঁজিবাজার আবার চালু হওয়ার পর বন্ধ কোম্পানিতে উৎপাদন চালুর চেষ্টা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগসহ নানা কারণে আবার বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে।

এর ফল দেখা যাচ্ছে বাজার মূলধন, সূচক আর লেনদেনে। এই এক বছরে সূচক বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি, লেনদেন বেড়েছে চার গুণের বেশি, আর প্রতিদিনই এখন সূচক আর বাজার মূলধনের রেকর্ড হচ্ছে।

এর মধ্যেও ব্যাংকের শেয়ারদর নিয়ে আলোচনা চলছেই। লভ্যাংশের ইতিহাস, আগামীতে আরও ভালো লভ্যাংশের সম্ভাবনাসহ নানা ইতিবাচকতার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা সেভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে কথা হচ্ছে।

এখানে একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক আছে। সেটা হলো শেয়ার দর আদৌ ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে নাকি প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরাই এর নিয়ন্ত্রক।

বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত মূলধন ও কোটি কোটি শেয়ার বিভক্ত ব্যাংকের দাম যখনই কিছুটা বাড়ে, দেখা দেয় বিক্রয় চাপ। অর্থাৎ দাম বাড়লেও সেটা ধরে রাখা যাবে না, এ বিষয়ে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক-দুই বিনিয়োগকারীদের মধ্যেই সংশয় থাকে। সে কারণেই অল্প মুনাফায় তারা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

২০১০ সালের মহাধসের বহু বছর পর গত ২৭ মে ব্যাংক খাতের শেয়ারে একটি দারুণ দিন আসে। সেদিন সাতটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায়। আরও চারটির দর এই সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে কিছুটা কমেছে। আরও তিনটির দর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি গিয়ে কিছুটা কমে।

সেদিনের পর ধারণা করা হচ্ছিল, এই খাতটি চাঙা হবে কি না। কিন্তু হয়নি।

পরদিনও লেনদেনের শুরুতেই ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়তে থাকে। কিন্তু দিনের শেষ ভাগে আবার কমতে থাকে। কমতে কমতে যতটুকু দাম বেড়েছিল দুই দিনে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার চেয়ে নিচে নেমে আসে। অবশ্য হাতে গোনা দুই একটি ব্যাংকের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

যেমন নতুন তালিকাভুক্ত এনআরবিসির দাম গত চার মাসে প্রায় চারগুণ পর্যন্ত হয়েছে। পরে অবশ্য কমেছে। আর দুই মাসে ডাচ বাংলার শেয়ার দরও ৫০ শতাংশের মতো বেড়েছে। প্রায় কাছাকাছি বা কিছুটা বেশিও বেশ বেড়েছে প্রাইম, আইএফআইসি, যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর।

কিন্তু ভালো লভ্যাংশ দেয়া এবং চলতি বছর গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা করা আরও অন্যান্য ব্যাংকের শেয়ার দর বৃদ্ধির হার খুব একটা বেশি নয়।

মাঝেমধ্যে অবশ্য দাম বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হতে দেখা গেছে, কিন্তু পরক্ষণেই ক্রয়চাপে তা স্থায়ী হয়নি।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
১০০ কোটির বেশি শেয়ার আরও যেসব ব্যাংকে

মঙ্গলবারও গেছে এমন একটি দিন।

যেমন এবি ব্যাংকের শেয়ার দর ১৪ টাকা ৭০ পয়সায় উঠেও শেষ পর্যন্ত তা ক্লোজ হয় ১৪ টাকা ২০ পয়সায়।

ডাচ বাংলার শেয়ার দর ৮৭ টাকা ৭০ পয়সা উঠেও লেনদেন শেষ করে ৮৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠে দিন শেষে ৭০ পয়সা কমে ১৫ টাকা ৮০ পয়সায় শেষ হয় লেনদেন।

এনআরবিসির দর ৩০ টাকায় উঠেও দিন শেষ করে ২৯ টাকা ২০ পয়সায়।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর ১৪ টাকায় উঠেও তা দিন শেষ করে ১৩ টাকা ৫০ পয়সায়।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর ২৩ টাকা ২০ পয়সায় উঠেও দিন শেষ করে ২২ টাকা ৭০ পয়সায়।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা উঠেও দিন শেষ করে ৩২ টাকা ৬০ পয়সায়।

তরে বাড়তি দাম ধরে রাখতে পেরেছে আইএফআইসি ব্যাংক। ১৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত উঠে সেখান থেকে ২০ পয়সা কমে শেষ করেছে লেনদেন।

বাকি ব্যাংকগুলোর দাম বৃদ্ধির হার খুব একটা বেশি ছিল না।

২৭ মের দরের নিচে এখনও যেসব ব্যাংক

বহু বছর পর ব্যাংক খাতে ঝলমলে দিকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর যতটা উঠেছিল, এখনও সেই পর্যায়ে উঠতে পারেনি।

যেমন এবি ব্যাংকের শেয়ার দর সেদিন উঠেছিল ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এখন তা ১৪ টাকা ২০ পয়সা।

আল আরাফাহ ব্যাংকের শেয়ার দর সেদিন ছিল ২৫ টাকা। এখন তা ২৩ টাকা।

এই ব্যাংকটি থেকে বিনিয়োগকারীরা দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন।

সেদিন ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা, এখন তা ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার দর সেদিন ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, এখন তা ১৪ টাকা ৬০ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংকের সেদিন শেয়ার দর ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা, এখন তা ১২ টাকা ১০ পয়সা।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
গত তিন বছর ধরে ব্যাংকে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে শেয়ার বৃদ্ধির হার কিছুটা হলেও কমছে

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সেদিন দাম ছিল ১২ টাকা ৩০ পয়সা, এখন দাম ১০ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩০ টাকা ১০ পয়সা, এখন দাম ২৮ টাকা ৯০ পয়সা।

সেদিন এমটিবির শেয়ার দর ছিল ২৩ টাকা ৯০ পয়সা, এখন দাম ২১ টাকা।

সেদিন এনবিএলের শেয়ার দর ছিল ৮ টাকা ৬০ পয়সা, এখন ৮ টাকা ১০ পয়সা।

সেদিন এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৮ টাকা ৫০ পয়সা, এখন দাম ১৫ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন এনআরবিসির শেয়ার দর ছিল ৩৬ টাকা ৩০ পয়সা, এখন দাম ২৯ টাকা ২০ পয়সা।

সেদিন ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা, এখন দাম ১৩ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৬ টাকা ১০ পয়সা, এখন দাম ২২ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৫ টাকা ৮০ পয়সা, এখন দাম ২৫ টাকা ২০ পয়সা।

সেদিন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২১ টাকা ৪০ পয়সা, এখন দাম ২০ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন এসআইবিএলের শেয়ার দর ছিল ১৫ টাকা, এখন দাম ১৩ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১০ টাকা ৪০ পয়সা, এখন দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন ইউসিবির শেয়ার দর ছিল ১৮ টাকা ৯০ পয়সা, এখন দাম ১৬ টাকা ৫০ পয়সা।

সেদিন উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৪ টাকা, এখন তা ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

২৭ মের তুলনায় দর বেশি যেসব ব্যাংকের

তবে বেশ কিছু ব্যাংকের শেয়ার দর এখন সেই ২৭ মের তুলনায় বেড়েছে।

যেমন, সেদিন ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা, এখন দাম ২০ টাকা।

সেদিন সিটি ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২৭ টাকা ৩০ পয়সা, এখন তা ২৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডাচ-বাংলার শেয়ার দর। সেদিন ব্যাংকটির দর ছিল ৬৩ টাকা। তা বেড়ে এখন হয়েছে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা।

ইবিএলের শেয়ার দর সেদিন ছিল ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর সেদিন ছিল ৪ টাকা ১০ পয়সা। বর্তমান দাম ৫ টাকা ১০ পয়সা।

সেদিন আইএফআইসির শেয়ার দর ছিল ১৩ টাকা ৬০ পয়সা। বর্তমান দর ১৪ টাকা ৬০ পয়সা।

সেদিন যমুনা ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ২১ টাকা ৩০ পয়সা। বর্তমান দর ২১ টাকা ৭০ পয়সা।

সেদিন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা, এখন তা ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

সেদিন রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩১ টাকা ৪০ পয়সা, এখন তা ৩২ টাকা ৬০ পয়সা।

সেদিন সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৭ টাকা, এখন তা ১৭ টাকা ১০ পয়সা।

সেদিন ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা, এখন তা ৩৫ টাকা ২০ পয়সা।

সেদিন প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা, এখনও একই দামে আছে।

কেন দর ধরে রাখা যায় না

ব্যাংকের শেয়ারের এই মন্থর গতির বিষয়েও বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম নিউজবাংলার সঙ্গে এক আলোচনায় বলেছিলেন, বিমা বা অন্য খাতের শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে সেসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম। বিনিয়োগকারীরা অংশ বিনিয়োগ করলেই শেয়ার দর বেড়ে যায়। কিন্ত ব্যাংকের শেয়ারের শেয়ার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক লেনদেনে দর বৃদ্ধির পরিমাণ নজরে আসে না।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
২০২০ সালে ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ হিসেবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদে বিতরণ করেছে। তার পরেও ব্যাংকের শেয়ারে আগ্রহ কম

পুঁজিবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শেয়ার আছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩০৬ কোটি ৬৪ লাখ, যা পুঁজিবাজারের একক কোনো খাতের সব শেয়ার মিলিয়ে হবে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্কর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের শেয়ারের দর বৃদ্ধি না পাওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে এ খাতের শেয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি। যদি কোনো দিন ঢালাওভাবে শুধু ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয় তাতেও এ খাতের বড় কোনো উত্থান দেখা প্রায় অসম্ভব।’

তিনি বলেন, `ব্যাংকগুলো ২০১০ সালের পর বোনাস শেয়ার দিয়ে যেভাবে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করেছে তার সবশেষ ফলাফল হচ্ছে এটি। যার কারণে এখন পুঁজিবাজারের সবচেয়ে মৌল বা ফান্ডামেন্টাল খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না বিনিয়োগকারীরা।’

দেবব্রত বলেন, ‘মূলত বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের সময় বিনিয়োগ আগ্রহী হয়ে থাকেন। বাকি সময়টিতে ডে ট্রেডিং বেশি হয়ে থাকে ব্যাংকে। ফলে শেয়ার দর অল্প কিছু বাড়লেই বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। অন্যান্য খাতের মতো এক মাস বা দুই মাসের জন্য শেয়ার ধরে রাখলে অনেকটাই পরিবর্তন হতো ব্যাংকের শেয়ার দরের।’

যে তিনটি ব্যাংকের শেয়ার সবচেয়ে বেশি

সবচেয়ে বেশি শেয়ার সংখ্যা ন্যাশনাল ব্যাংকের, ৩০৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৯টি। এর ৫ শতাংশ হিসেবে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৯৩১টি শেয়ার যোগ হবে এই ব্যাংকে

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার আছে আইএফআইসি ব্যাংকের ১৭০ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬১টি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যা ইসলামী ব্যাংকের। এই ব্যাংকটি মোট ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ারে বিভক্ত।

দাম বাড়লেও ধরে রাখতে পারে না ব্যাংকের শেয়ার
শেয়ার সংখ্যা সবচেয়ে কম যেসব ব্যাংকের

শত কোটির বেশি শেয়ার আরও যেসব ব্যাংকে

এক্সিম ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৫টি।

ব্র্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১৩৯ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯৯টি

ইউনাইটেড কমর্শিয়াল বা ইউসিবির শেয়ার সংখ্যা ১২১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার ৯০৫টি। এর সঙ্গে ঘোষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ হিসেবে যোগ হবে ৬ কোটি ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৪৫টি।

সাউথ ইস্ট ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১১৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২২টি।

ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার সংখ্যা ১১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৮৬০টি।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১১৩ কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭ঠি

সিটি ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৭২ লাখ ৪ হাজার ৯৯৪টি।

আল আরাফাহ ইসলাম ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৪৯ লাখ ২ হাজার ১৮৫টি।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৭২৭টি

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ৩২ লাখ ১৭ হাজার ২৮টি।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার ৫৫৮টি।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০২ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২টি।

পূবালী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ১০২ কোটি ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ২১৯টি।

শত কোটির কাছাকাছি শেয়ার যেসব ব্যাংকের

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৯৯ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ২১১টি।

স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪টি। এর সঙ্গে ২০২০ সালের জন্য লভ্যাংশ হিসেবে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪২টি শেয়ার যুক্ত হবে।

ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৯৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৮টি।

ঢাকা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৪টি।

এনসিসি ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৮১টি। এই ব্যাংকটির সাড়ে সাত শতাংশ বোনাস হিসেবে যোগ হবে ৭ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৬টি।

ওয়ান ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৪৫৬টি।

তুলনামূলক কম শেয়ার যেসব ব্যাংকের

এবি ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৮৩ কোটি ৫৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭১টি।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা ৮১ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬০টি

যমুনা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০টি।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক বা এনআরবিসির শেয়ার সংখ্যা ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৮টি।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৬ কোটি ৪৭ লাখ ২ হাজার ৩০০টি।

ট্রাস্ট ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৪ কোটি ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৯টি। এই শেয়ারের সঙ্গে লভ্যাংশ হিসেবে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭টি শেয়ার যুক্ত হবে।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৬৩ কোটি ২৫ লাখ।

উত্তরা ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৯টি।

রূপালী ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ৪১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩৩টি। এই শেয়ারের সঙ্গে ১০ শতাংশ হিসেবে আরও ৪ কোটি ১৪ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩টি যোগ হবে। কারণ, ব্যাংকটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই শেয়ার এখনও যোগ হয়নি।

শেয়ার করুন

এবার পেনিনসুলার তিন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশে চমক

এবার পেনিনসুলার তিন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশে চমক

পেনিসসুলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি মোট তিনটি বেমেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করে।

পেনিনসুলা ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৩৯ পয়সা। গত বছর ফান্ডটির কোনো লোকসান না থাকায় সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়নি। আয়ের পুরোটার ওপর ৭০ শতাংশ হিসেবে ১ টাকা ৭০ পয়সা বিতরণ করবে তারা। পেনিনসুলা এএমসিএল বিডিবিএল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা ৮৩ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিল দেড় টাকা। কারণ, গত বছর ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭ পয়সা লোকসান সমন্বয় করতে হয়েছে এবারের মুনাফা থেকে। পেনিনসুলা সাধারণ বিমা করপোরেশন ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৮৩ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান দিয়েছিল।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকাকালে তালিকাভুক্ত নয়, এমন আরও তিনটি ফান্ড আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

এর মধ্যে একটি ফান্ড গত বছর ইউনিটপ্রতি দুই টাকার বেশি লোকসান দিয়েছিল, একটি লোকসান দিয়েছিল ১ টাকা ৩০ পয়সা আর একটি ফান্ডলো নগণ্য পরিমাণে মুনাফা করেছিল। তবে চাঙা পুঁজিবাজারের কারণে চলতি বছর ব্যাপক মুনাফা করেছে তারা।

পেনিনসুলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি পরিচালিত দুটি ফান্ডের একটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা এবং একটি ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

তবে গত ৩০ জুন যাদের হাতে ইউনিট ছিল, তাই কেবল বে-মেয়াদি ‍দুটি ফান্ডের লভ্যাংশ পাবেন।

পেনিনসুলা ব্যালেন্সড ফান্ড

ফান্ডটি ইউনিটধারীদেরকে ১৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৭০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেয়ার কথা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার ফান্ডের ট্রাস্টি কমিটির সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন হয়।

সভা শেষে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় হয় ২ টাকা ৩৯ পয়সা। গত বছর এই আয় ছিল ১৫ পয়সা।

ফান্ডের নীতিমালা অনুযায়ী আয়ের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নগদে বিতরণের কথা। এই হিসাবেই ঘোষণা করা হয়েছে লভ্যাংশ।

৩০ জুনের আগে এই ফান্ডটি কেনা গেছে ১৪ টাকা ২ পয়সায়। যারা এই টাকায় কিনেছেন, তারা তাদের ইউনিটমূল্যের ১২.০৩ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে পেয়ে যাবেন।

পেনিনসুলা এএমসিএল বিডিবিএল ফান্ড

ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি আরও বেশি আয় কমে কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই ফান্ডটির আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৩ পয়সা। তবে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৫০ পয়সা।

এই ফান্ডটি আগের বছর ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। আর সেই লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে এবার তারা লভ্যাংশ দিয়েছে মূলত বাকি ২ টাকা ৭৬ পয়সার ওপর। এই হিসাবেই ঘোষণা করা হয়েছে লভ্যাংশ।

এই ফান্ডটি ৩০ জুলাইয়ের আগে কেনা গেছে ১৩ টাকা ৬৩ পয়সায়। যারা এই দামেও সেটি কিনেছেন তারা তাদের ক্রয়মূল্যের ১১ শতাংশ পাবেন লভ্যাংশ হিসেবে।

পেনিনসুলা সাধারণ বিমা করপোরেশন ফান্ড

এই ফান্ডটি ইউনিটধারীদেরকে ১২ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দেবে।

এই ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি হয় ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। তবে গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লোকসান দেয়ার কারণে সেটি লোকসান সমন্বয় করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

তবে গত বছরের লোকসান সমন্বয়ের পরও যে মুনাফা বাতিল থাকে, তার তুলনায় লভ্যাংশ কিছুটা কম হয়েছে।

এই ফান্ডটি ৩০ জুনের আগে কেনা গেছে ১১ টাকা ৩৭ পয়সা করে। যারা এই দামে কিনেছেন, তারা ইউনিট মূল্যের ১০.৫৫ শতাংশ পাবেন লভ্যাংশ হিসেবে।

এর আগে এসেছে যেসব ফান্ডের লভ্যাংশ

এখন পর্যন্ত অতালিকাভুক্ত যেসব ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ- আইসিবি পরিচালিত ইউনিট ফান্ড। এটি ইউনিটপ্রতি ৪২ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। ফান্ডটির সবশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬১ টাকা।

তবে ফান্ডটি চাইলেই কেনা যায় না। আইসিবিতে গিয়ে আবেদন করে রাখতে হয়। কেউ বিক্রি করতে চাইলেই পাওয়া যায়, তবে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। আর একবারে কিনতে হয় ৫০ লাখ টাকার ফান্ড।

ব্যাপক লভ্যাংশ দিয়েছে এএএমএল ইউনিট ফান্ডও। তারা ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৪৩ টাকা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফান্ডটির বর্তমান দাম ১৬ টাকা ৩ পয়সা।

এই হিসাবে দামের ১৫.৫৯ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে পেয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছর ইউনিটের দাম ছিল আরও কম। যারা কমে কিনেছেন, তাদের ইউনিট মূল্যের তুলনায় লভ্যাংশ শতকরা হারে আরও বেশি হয়েছে।

এর আগে শান্তা ফার্স্ট ইনকাম প্রোপার্টি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৮৮ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির সবশেষ মূল্য ১৪ টাকা ৬৭ পয়সা। কেউ যদি এই দামেও ফান্ডটি কিনে থাকেন, তার পরেও তার লভ্যাংশ এসেছে ইউনিটমূল্যের ১৩.৯৭ শতাংশ।

আর আইডিএলসি ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটপ্রতি সম্পদ ও মূল্য ১০ টাকা ৪৭ পয়সা। এই দামেও যদি কেউ কিনে থাকে, তার পরেও ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হিসেবে পেয়েছেন।

দুটি ফান্ডই গত বছর লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আর আইডিএলসির ফান্ডটি গত বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে লভ্যাংশ কমিয়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ক্যাপিটেক পরিচালিত মেয়াদহীন এই ফান্ড দুটির মধ্যে ক্যাপিটেক পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এই ফান্ডটির সবশেষ ইউনিটমূল্য ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।

এই দামেও যদি কেউ ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি লভ্যাংশ পেয়েছেন ‍মূল্যের ১২.৯৯ শতাংশ।

অন্যদিকে পদ্মা প্রভিডেন্ট ফান্ডের শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড ৭ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ৫৪ পয়সা। কেউ যদি এই দামে ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি মুনাফা অবশ্য কম পেয়েছেন; ৬.৬৪ শতাংশ। তবে এটিও বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিমের সুদ হারের চেয়ে বেশি।

ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত আইবিবিএল ইসলামী ইউনিট ফান্ড ইউনিটধারীদেরকে ৯০ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ২৯ পয়সা, যেটি এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৬ টাকা ৯২ পয়সাতেও কেনা গেছে।

গত বছর ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা লোকসান দেয়া ফান্ডটি এবার ইউনিটপ্রতি মুনাফা করেছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আর আগের বছরের লোকসানের সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর ইউনিটপ্রতি চূড়ান্ত আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ আরও এক কারণে লাভজনক। অন্য যেকোনো লভ্যাংশের ওপর শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে সরকার। কিন্তু মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

এবার আসছে পুঁজিবাজারেরগুলোর লভ্যাংশ কেমন হবে

পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৩৭টি ফান্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় লেনদেন আছে ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে ৩৬টি ফান্ডের অর্থবছর শেষ হয়েছে জুনে।

এই ফান্ডগুলোর সিংহভাগই গত বছর লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবে এবার সেগুলো ব্যাপক মুনাফা করেছে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে। আর চতুর্থ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৮৮০ পয়েন্ট। এর সুফলও ফান্ডগুলো পাবে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী এগুলো তাদের আয়ের ৭০ শতাংশ নগদে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করবে। তবে গ্রোথ ফান্ডগুলো দেবে অন্তত ৫০ শতাংশ।

তবে আগের বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকছে। ফলে এখন পর্যন্ত যতটা আয় হয়েছে, তার বিপরীতে লভ্যাংশ কত হবে, তার পূর্বানুমান করা কঠিন।

তবে ডিসেম্বর, মার্চ ও সেপ্টেম্বরে অর্থবছর শেষ হয় এমন ছয়টি ফান্ড যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলো এর আগে কখনও এত বেশি আয় করতে পারেনি।

জুন ক্লোজিং ফান্ডগুলোর মধ্যে সবার আগে লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত বৈঠক ডেকেছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল পরিচালিত গ্রিন ডেল্টা ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ড।

আগামী বৃহস্পতিবার এই সভা হবে।

গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম তিন প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি আয় করেছে প্রায় ৯৭.৯৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তাদের ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইউনিটপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৯৯.৮৭ পয়সা।

অর্থাৎ এই দুটি ফান্ডকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকের মুনাফার ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ দিতে হবে।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড আগামী ৮ আগস্ট বেলা দেড়টায় লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভা ডেকেছে।

এই ফান্ডটি গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮১ পয়সা মুনাফা করেছে। এই ফান্ডটি গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। সেই লোকসানের পুরোটা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করলেও এখনও হাতে থাকে ৬৮ পয়সা। সঙ্গে চতুর্থ প্রান্তিকের আয় হবে। আর সেটির ঘোষণা হবে লভ্যাংশ।

৯ আগস্ট ট্রাস্টি সভা করবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালিত এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড চলতি বছর তিন প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা। এর পুরোটা সঞ্চিসি সংরক্ষণ করলেও হাতে থাকে এক টাকা ৭ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে চতুর্থ প্রান্তিকে আয়। আর সেটার ৭০ শতাংশ পেতে পারেন ইউনিটধারীরা।

এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড জুলাই থেকে মার্চ সময়ে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা। গত বছর ফান্ডটি কোনো লোকসান দেয়নি। ফলে কোনো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে না। তবে তারা গ্রোথ ফান্ড বলে মোট আয়ের ৫০ শতাংশ বিতরণ করতে পারবে।

শেয়ার করুন

কেনার নির্দেশনার মধ্যে গ্রিনডেল্টা পরিচালকের সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা

কেনার নির্দেশনার মধ্যে গ্রিনডেল্টা পরিচালকের সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা

গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া ছবি

গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা মোজাম্মেল হক তার কাছে থাকা কোম্পানির ৬ লাখ ৯ হাজার ৮৭৮ টি শেয়ারের সবগুলো পাবলিক মার্কেটে বিক্রি করবেন। পরিচালক খুরশিদা চৌধুরী ব্লক মার্কেট থেকে কিনবেন ৫৭ হাজার ৪৬৯ টি শেয়ার। তখন কোম্পানির ৩২.৭৮ শতাংশ শেয়ার থাকবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। তখন আইডিআরএর নির্দেশনা পূরণে উদ্যোক্তা-পরিচালকদেরকে কিনতে হবে শেয়ারের ২৭.২২ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৭২ লাখ ৭১ হাজার ২২৬টি।

বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনে নিজেদের হিস্যা বাড়ানোর নির্দেশনার মধ্যে একটি বিমা কোম্পানির পরিচালক তার হাতে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-আইডিআরএর একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেছেন, এই সময়ে কোনো পরিচালকের সব শেয়ার বিক্রির সুযোগ নেই। তাদের কাছে এর আগে কয়েকজন পরিচালক শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এই ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা তারা খতিয়ে দেখবেন।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদে জানানো হয়, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা মোজাম্মেল হক তার কাছে থাকা কোম্পানির ৬ লাখ ৯ হাজার ৮৭৮ টি শেয়ারের সবগুলো পাবলিক মার্কেটে বিক্রি করবেন। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তিনি এই শেয়ার বিক্রি করে দিতে চান।

কোম্পানির একজন পরিচালক শেয়ার কেনার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। তবে তিনি কিনতে চেয়েছেন মোজাম্মেলের বিক্রি করার ঘোষণার দশ ভাগের এক ভাগেরও কম। আর তিনি পাবলিক মার্কেট থেকেও শেয়ার কিনবেন না।

পরিচালক খুরশিদা চৌধুরী ব্লক মার্কেট থেকে কিনবেন ৫৭ হাজার ৪৬৯ টি শেয়ার।

এই ঘোষণাটি এমন সময় এসেছে যখন আইডিআরএ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদেরকে শেয়ারের ৬০ শতাংশ ধারণ করতে বলছে।

বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে এমন সিদ্ধান্ত ২০১০ সালের। কিন্ত ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ নতুন করে সবকটি বিমা কোম্পানির কাছে এটি পাঠালে এ নিয়ে শুরু হয় হুলস্থল।

কেনার নির্দেশনার মধ্যে গ্রিনডেল্টা পরিচালকের সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ উদ্যোক্তা পরিচালকদেরকে কোম্পানির ৬০ শতাংশ শেয়ার কেনার নির্দেশনা দিয়েছে

গত ২০ জুন আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম মোশাররফ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে বলেন, ‘তাদের (উদ্যোক্তা-পরিচালকরা) পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনতে হবে। এজন্য হঠাৎ করে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। তবে যেহেতু এটি আইনগত বিষয়, তাই জটিলতা থাকলেও আইগনত বিষয়টিকেই আমরা গুরুত্ব দেবো।’

তবে বিধান করার ১০ বছরেও উদ্যোক্তা পরিচালকদের এই শেয়ার কিনতে বাধ্য করা হয়নি। আর শেয়ার না কিনলে বোর্ড পুনর্গঠন বিয়ে কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। অথচ গত এক বছরে বিমার শেয়ারে ঊর্ধ্বগতির যেসব কারণ আছে বলে ধারণা করা হয়, তার মধ্যে এই বিষয়টিও আছে বলে ধারণা করা হয়।

১০০ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে আছে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

অর্থাৎ ১০ কোটি ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৪টি শেয়ারের মধ্যে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ৭৪৩টি শেয়ার বর্তমানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে আছে।

মোজাম্মেল হক তার মালিকানায় থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে দিলে মালিকদের হাতে শেয়ার থাকবে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৫টি। আর খুরশিদা চৌধুরী শেয়ার কিনলে সেই সংখ্যা দিয়ে দাঁড়াবে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৩৪টি।

তখন মোট শেয়ারের ৩২.৭৮ শতাংশ থাকবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে।

অর্থাৎ আইডিআরএর নির্দেশনা পূরণে তখন উদ্যোক্তা-পরিচালকদেরকে কিনতে হবে শেয়ারের ২৭.২২ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৭২ লাখ ৭১ হাজার ২২৬টি।

যখন শেয়ার বাড়ানোর কথা, তখন উল্টো কমিয়ে বিষয়ে গ্রিনডেল্টার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোম্পানিটির সচিব সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে আইডিআরএ নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র এস এম শাকিল আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে নূন্যতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। একেবারে সব বিক্রি করে দেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে জেনে জানাতে হবে।’

সম্প্রতি শাকিল নিউজবাংলাকে জানান, কর্তৃপক্ষের অন্য একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক মাসে বিমা কোম্পানির বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা পরিচালক শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের একজন পরিচালককে ৮ লাখ ১০ হাজার শেয়ার ব্লক মার্কেটে বিক্রি করার অনুমতি দেয়া হয়েছে

আইডিআরএ যে বিমা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদেরকে ৬০ শতাংশ শেয়ার কিনতে বলছে, সেটি বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সময় দেয়ার কথাও সেদিন জানান তিনি।

কেনার নির্দেশনার মধ্যে গ্রিনডেল্টা পরিচালকের সব শেয়ার বিক্রির ঘোষণা
আইডিআরএর শর্ত পূরণে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ৮ পরিচালক বাজার থেকে ৬০ লাখেরও বেশি শেয়ার কিনেছেন

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের আট জন পরিচালক ৬০ শতাংশ শেয়ারের শর্ত পূরণ করতে বাজার থেকে ৬০ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৯টি শেয়ার কিনেছেন।

এর ফলে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশের শেয়ার প্রায় ১৩.৯৫ শতাংশ বেড়ে যায়। আর বর্তমানে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬৫ শতাংশ এখন উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে।

উদ্যোক্তা পরিচালকরা পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কেনার পর এক অভিনব ঘটনা ঘটেছে। গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দর সংশোধনে যাওয়া বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর কোনো কোনোটি এই সময়ে ৩০ শতাংশেরও বেশি দর হারিয়েছে। তবে এর বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ডের দর বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।

শেয়ার করুন

মিউচ্যুয়াল ফান্ড: ৩.১৫ টাকা লোকসান থেকে ৪.০৪ টাকা মুনাফা

মিউচ্যুয়াল ফান্ড: ৩.১৫ টাকা লোকসান থেকে ৪.০৪ টাকা মুনাফা

ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির আইবিবিএল ইসলামী ইউনিট ফান্ড গত বছর ব্যাপক লোকসান দিলেও এবার মুনাফা করেছে আকর্ষণীয়

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন আরও একটি ফান্ড তার আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করেছে। গত বছর পুঁজিবাজারে ধসের কারণে যারা গত জুলাইয়ে ফান্ডটি কিনে ধরে রেখেছেন, তারা বিনিয়োগের ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফায় আছেন। এর মধ্যে ৯০ পয়সা লভ্যাংশ, আর ৩ টাকা ৩৭ পয়সা ক্যাপিটাল গেইন।

ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ইউনিট বিক্রি করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে, এমন আরও একটি ফান্ড চলতি বছর অভাবনীয় মুনাফা করেছে। গত বছর ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৫ পয়সা লোকসান দেয়ার কারণে এই ফান্ডটি অবশ্য চলতি বছর যে মুনাফা করেছে, সেটি বিতরণ না করে গত বছরের লোকসান সমন্বয় করেছে।

তার পরেও ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ৯০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে। ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ২৯ পয়সা, যেটি এক বছর আগে সর্বনিম্ন ৬ টাকা ৯২ পয়সাতেও কেনা গেছে।

এই ফান্ডটি অবশ্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, তবে যে কেউ চাইলে যেকোনো সময় সম্পদমূল্যের সমান অর্থ দিয়ে ইউনিট কিনতে পারেন।

ন্যাশনাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত আইবিবিএল ইসলামী ইউনিট ফান্ড এটি। গত বছর সম্পদমূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকসান দেয়া ফান্ডটি এবার ইউনিটপ্রতি মুনাফা করেছে ৪ টাকা ৪ পয়সা।

আগের বছরের লোকসানে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে এবার ইউনিটপ্রতি চূড়ান্ত আয় বা ইপিইউ হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা। এখান থেকে ৩৮ পয়সা রেখে লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে ৯০ পয়সা।

যাদের হাতে গত ৩০ জুলাই ইউনিট ছিল তারাই এই লভ্যাংশ পাবে।

এই ফান্ডগুলো যত আয় করে, তার থেকে ৭০ শতাংশ নগদে বিতরণের কথা। সেই হিসাবেই এই লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে।

গত বছর পুঁজিবাজারে ধসের কারণে ফান্ডটির সম্পদমূল্য নেমে আসায় জুলাইয়ে ইউনিটের দাম একপর্যায়ে ৬ টাকা ৯২ পয়সায় নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য আর ইউনিটের দাম ১০ টাকা ২৯ পয়সা।

এই হিসাবে যারা ৬ টাকা ৯২ পয়সায় ইউনিট কিনে ধরে রেখেছেন তারা লভ্যাংশের ৯০ পয়সার পাশাপাশি ক্যাপিটাল গেইন পেয়েছেন ৩ টাকা ৩৭ পয়সা। সব মিলিয়ে তাদের মুনাফা ৪ টাকা ২৭ পয়সা। তবে ইউনিট বিক্রি করার ক্ষেত্রে ২০ পয়সা কমে বিক্রি করতে হয়। এই হিসাবে মুনাফা দাঁড়ায় ৪ টাকা ৭ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছর ধরে রেখে একেকজন মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগের প্রায় ৫৯ শতাংশ।

পুঁজিবাজারে গত এক বছরের চাঙাভাবের কারণে কেবল এই ফান্ডটিই নয়, এখন পর্যন্ত অতালিকাভুক্ত যেসব ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার সব কটিতে ব্যাপক মুনাফা করতে পেরেছেন ইউনিটধারীরা।

জুন মাসে অর্থবছর শেষ হয়েছে, এমন ৩০টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৫টি এরই মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ জানিয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যেই এগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করবে।

অতালিকাভুক্ত অন্য ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ কত?

এখন পর্যন্ত অতালিকাভুক্ত যেসব ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ- আইসিবি পরিচালিত ইউনিট ফান্ড। এটি ইউনিটপ্রতি ৪২ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে। ফান্ডটির সবশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬১ টাকা।

তবে ফান্ডটি চাইলেই কেনা যায় না। আইসিবিতে গিয়ে আবেদন করে রাখতে হয়। কেউ বিক্রি করতে চাইলেই পাওয়া যায়, তবে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম। আর একবারে কিনতে হয় ৫০ লাখ টাকার ফান্ড।

ব্যাপক লভ্যাংশ দিয়েছে এএএমএল ইউনিট ফান্ডও। তারা ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৪৩ টাকা আয় করে আড়াই টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফান্ডটির বর্তমান দাম ১৬ টাকা ৩ পয়সা।

এই হিসাবে দামের ১৫.৫৯ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে পেয়ে গেছেন বিনিয়োগকারীরা। গত বছর ইউনিটের দাম ছিল আরও কম। যারা কমে কিনেছেন, তাদের ইউনিট মূল্যের তুলনায় লভ্যাংশ শতকরা হারে আরও বেশি হয়েছে।

এর আগে শান্তা ফার্স্ট ইনকাম প্রোপার্টি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৮৮ পয়সা আয় করে ২ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির সবশেষ মূল্য ১৪ টাকা ৬৭ পয়সা। কেউ যদি এই দামেও ফান্ডটি কিনে থাকেন, তার পরেও তার লভ্যাংশ এসেছে ইউনিটমূল্যের ১৩.৯৭ শতাংশ।

আর আইডিএলসি ব্যালেন্সড ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়েছে।

এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটপ্রতি সম্পদ ও মূল্য ১০ টাকা ৪৭ পয়সা। এই দামেও যদি কেউ কিনে থাকে, তার পরেও ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হিসেবে পেয়েছেন।

দুটি ফান্ডই গত বছর লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আর আইডিএলসির ফান্ডটি গত বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে গিয়ে লভ্যাংশ কমিয়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ক্যাপিটেক পরিচালিত মেয়াদহীন এই ফান্ড দুটির মধ্যে ক্যাপিটেক পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এই ফান্ডটির সবশেষ ইউনিটমূল্য ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।

এই দামেও যদি কেউ ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি লভ্যাংশ পেয়েছেন ‍মূল্যের ১২.৯৯ শতাংশ।

পদ্মা প্রভিডেন্ট ফান্ডের শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড ৭ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটমূল্য ১০ টাকা ৫৪ পয়সা। কেউ যদি এই দামে ইউনিট কিনে থাকেন, তাহলে তিনি মুনাফা অবশ্য কম পেয়েছেন; ৬.৬৪ শতাংশ। তবে এটিও বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিমের সুদ হারের চেয়ে বেশি।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ আরও এক কারণে লাভজনক। অন্য যেকোনো লভ্যাংশের ওপর শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে সরকার। কিন্তু মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

এবার আসছে পুঁজিবাজারেরগুলোর লভ্যাংশ

পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৩৭টি ফান্ড তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় লেনদেন আছে ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে ৩৬টি ফান্ডের অর্থবছর শেষ হয়েছে জুনে।

এই ফান্ডগুলোর সিংহভাগই গত বছর লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবে এবার সেগুলো ব্যাপক মুনাফা করেছে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে। আর চতুর্থ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে ৮৮০ পয়েন্ট। এর সুফলও ফান্ডগুলো পাবে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুযায়ী এগুলো তাদের আয়ের ৭০ শতাংশ নগদে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করবে। তবে গ্রোথ ফান্ডগুলো দেবে অন্তত ৫০ শতাংশ।

তবে আগের বছরের লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকছে। ফলে এখন পর্যন্ত যতটা আয় হয়েছে, তার বিপরীতে লভ্যাংশ কত হবে, তার পূর্বানুমান করা কঠিন।

তবে ডিসেম্বর, মার্চ ও সেপ্টেম্বরে অর্থবছর শেষ হয় এমন ছয়টি ফান্ড যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলো এর আগে কখনও এত বেশি আয় করতে পারেনি।

জুন ক্লোজিং ফান্ডগুলোর মধ্যে সবার আগে লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত বৈঠক ডেকেছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল পরিচালিত গ্রিন ডেল্টা ফান্ড ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ড।

আগামী বৃহস্পতিবার এই সভা হবে।

গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রথম তিন প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি আয় করেছে প্রায় ৯৭.৯৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তাদের ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

ডিবিএইচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই সময়ে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ১০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইউনিটপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৯৯.৮৭ পয়সা।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড আগামী ৮ আগস্ট বেলা দেড়টায় লভ্যাংশ ঘোষণাসংক্রান্ত সভা ডেকেছে।

এই ফান্ডটি গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮১ পয়সা মুনাফা করেছে।

৯ আগস্ট ট্রাস্টি সভা করবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পরিচালিত এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড।

এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড চলতি বছর তিন প্রান্তিক শেষে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ২ টাকা ১৪ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা।

এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড জুলাই থেকে মার্চ সময়ে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ইউনিটপ্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ১ টাকা ৫৮ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৭ পয়সা।

শেয়ার করুন

ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

কয়েক মাস পর পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে ভালো দিন দেখে উৎফুল্ল হয়েছে এই খাতের বিনিয়োগকারীরা। ছবিছ নিউজবাংলা

মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এমন ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৫টিই এই ধরনের কোম্পানি, যার একটির কখনও লভ্যাংশ দেয়ার রেকর্ড নেই আর একটি সবশেষ লভ্যাংশ দিয়েছিল ২০১৫ সালে। আর ব্যাংকের ওপর ভর করে পুঁজিবাজারে আরও একটি ভালো দিন গেল। সূচক বেড়েছে ৫০ পয়েন্টের বেশি। আর এর মধ্য দিয়ে ২০১১ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে। সবেচেয় বড় বাজার মূলধনের খাতটিতে বেড়েছে সবগুলোর দর।

পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যেও ব্যাংক খাতের ঝিমিয়ে থাকার আলোচনার মধ্যে অবশেষে এলো একটি ভালো দিন। প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বেড়েছে লেনদেনও।

তবে মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহের মধ্যেও স্বল্প মুলধনী, দুর্বল, লোকসানি কোম্পানিতে আগ্রহে ভাটা পড়েনি এতটুকু।

মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এমন ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৫টিই এই ধরনের কোম্পানি, যার একটির কখনও লভ্যাংশ দেয়ার রেকর্ড নেই আর একটি সবশেষ লভ্যাংশ দিয়েছিল ২০১৫ সালে।

ব্যাংকের ওপর ভর করে পুঁজিবাজারে আরও একটি ভালো দিন গেল। সূচক বেড়েছে ৫০ পয়েন্টের বেশি। আর এর মধ্য দিয়ে ২০১১ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে। ওই দিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৫৮৭ পয়েন্ট। এর চেয়ে ৫২ পয়েন্ট কমে শেষ হয় দিনের লেনদেন।

লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। গত ১০ জুনের পর সবচেয়ে বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিন লেনদেন হলো দুই হাজার কোটি টাকার ঘরে। আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে ১২৭ কোটি টাকা।

খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকে বেড়েছে সবগুলোর দর। ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতও টানা দ্বিতীয় দিন ছিল চাঙা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও ছয়টি ছাড়া বেড়েছে সবগুলোর দর।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও যতগুলোর দর কমেছে, বেড়েছে তার চেয়ে বেশি।

ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা।

আগের দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া বস্ত্র খাত দর হারিয়েছে। আর দর পতনের বৃত্তে থাকা বিমা খাতের বিনিয়োগকারীদের পকেট আরও ফাঁকা হয়েছে। সিংহভাগ কোম্পানির দর কমল পর পর দ্বিতীয় দিন।

সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়লেও পরে তা কমে আগের দিনের সমান অবস্থানে চলে যায়। তখনও ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোতে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় দেখা যায় স্থবিরতা। কোনো কোম্পানির দাম বাড়ে ১০ পয়সা, তো অন্য একটি কোম্পানির কমে ১০ পয়সা।

বেলা ১১টার পর থেকে ব্যাংক খাতে ঝুঁকতে শুরু করে বিনিয়োগকারীরা। আর মুহূর্তেই সূচকে ঘরে উত্থান। বেলা ১টা ৬ মিনিটে তা ৬ হাজার ৫৪৭ পয়েন্ট উঠে। এরপর কিছুটা কমলেও দুইটায় লেনদেন শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে তা উঠে ৬ হাজার ৫৪৯ পয়েন্টে। তবে শেষ মুহূর্তে সমন্বয়ের কারণে সেখান থেকে ১৪ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

অবশেষে ব্যাংকে আগ্রহ

২০২০ সালে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ, চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকে বিস্ময়কর আয়ে আগামীতে লভ্যাংশ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশার মধ্যেও এই খাত নিয়ে ছিল হতাশাই।

গত ২৭ মে এক দিনে সব খাতের দর বৃদ্ধি, দিনের সর্বোচ্চ দরে সাতটি ব্যাংকের লেনদেন, আরও সাতটির কিছুটা কম দামে লেনদেন শেষ করার পর এই খাতটিও চাঙা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে সেই আশা পূরণ হয়নি। সেখান থেকে দাম খুব একটি না কমলেও এরপর বিমা, বস্ত্র, প্রকৌশল এমনকি মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকলেও ব্যাংক কেন ঝিমিয়ে, তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হাজির হতে থাকে।

দিনের শুরুটাও ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। তবে এক পর্যায়ে সব ব্যাংকের দামই অনেকটাই বেড়ে যায়। যদিও পরে বিক্রয়ের চাপে দাম কিছুটা কমে আসে। তার পরেও দিন শেষে একটিও ব্যাংকের দাম না কমার চিত্র ২৭ মের পর ঘটেছে হাতে গোনা দুই এক দিন। তার এর আগে এমটি যেদিন ঘটেছে, সেদিন দাম বাড়ার হার খুব একটা বেশি ছিল না।

ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

তবে এমন ভালো দিনেও সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে কেবল একটি ছিল ব্যাংকের। আর এই খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম বাড়া কোম্পানিটির অবস্থান সামগ্রিক তালিকায় ৩২ নম্বরে।

আইএফআইসি ব্যাংকের দাম বেড়েছে ৮.১৪ শতাংশ, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের বেড়েছে ৪.০৮ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রিমিয়ারের ৩.৬৭, এবির ৩.৬৫, রূপালীর ৩.৪৯, ডাচ-বাংলার ৩.৩৬, মার্কেন্টাইলের ৩.২৬, ইউসিবির ৩.১২, ব্যাংক এশিয়ার ৩.০৯, ওয়ান ব্যাংকের ৩.০৫ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ২৪৬.২৩ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ১০২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

ব্যাংকের মতো আর্থিক খাতেও পর পর দ্বিতীয় দিন দেখা গেছে চাঙাভাব। এই খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত দীর্ঘদিন ধরেই। বাকিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১টির, কমেছে ৬টির আর পাল্টায়নি ৩টির দর।

ব্যাংকের মতো এই খাতের কোম্পানিতেও বিনিয়োগ বেড়েছে। আজ হাতবদল হয়েছে ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৯০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

আগ্রহ ধরে রাখল জ্বালানি খাত

ব্যাংকের মতোই জ্বালানি খাতের ঝিমিয়ে থাকা নিয়েও আলোচনা ছিল ব্যাপক। অথচ করোনাকালে এই খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসা খারাপ হয়নি। চলে এসেছে লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ও।

এর মধ্যে আগের দিন এই খাতটিরে গা ঝাড়া দেয়ার বিষয়টি শেয়ারধারীদেরকে কিছুটা হলেও আশাবাদী করেছিল। পর পর দ্বিতীয় দিন এই চিত্রে সেই আশা আরও বড় হয়েছে।

এই খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম কমেছে ৬টির, বেড়েছে বাকি ১৭টিরই।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে এমন দ্বিতীয় কোম্পানিটি এই খাতের। সিভিও পেট্রোক্যামিকেলের কম বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ। তবে কোম্পানিটি লোকসানে আর লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে কি না, এ নিয়ে আছে সংশয়।
এ ছাড়া ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের ৬.২০ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৩.৫৩, পদ্মা ও যমুনা অয়েলের ২.৩৬ শতাংশ করে আর এমজেএল বিডির দর বেড়েছে ১.৯৩ শতাংশ।

এই খাতেও লেনদেন বেড়েছে। সব মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ১৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৩৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাড়ল

তালিকাভুক্ত ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় ৩০টি। এর মধ্যে ৫টি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ জানিয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন ফান্ডগুলো এবার যে হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করছে, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়নি। এ কারণে পুঁজিবাজারের ফান্ডগুলোতেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

এই ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, কমেছে ৯টির, আর অপরিবর্তিত ১৪টির দর।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ৯ আগস্ট লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ দেয়া এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। আগের দিনের দরের সঙ্গে যোগ হয়েছে ৪.৮০ শতাংশ।

একই দিন লভ্যাংশ ঘোষণার জন্য ট্রাস্টি বৈঠক ডাকা এইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দাম বেড়েছে ৪.৭৬ শতাংশ।

এ ছাড়া ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিনান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ৪.৬৭ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ২.৯৬ শতাংশ, এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২.৭৮ শতাংশ, ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের দাম বেড়েছে ২.৭৫ শতাংশ দাম বেড়েছে।

এই খাতেও লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। হাতবদল হয়েছে ১০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। আগের দিন লেনদেন ছিল ৯৩ কোটি ১ লাখ টাকা।

দুর্বল কোম্পানিতে আগ্রহ কমছে না

চাঙা পুঁজিবাজারে বন্ধ, লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর ক্রমাগত বাড়তে থাকা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে গত কয়েক মাস ধরেই। বলাবলি হচ্ছিল, মৌলভিত্তিক কোম্পানিতে আগ্রহ না থাকায় এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে মৌলভিত্তির ব্যাংকের দর ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

দিনের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া সিভিও পেট্রো ক্যামিকেল লোকসানের কারণে গত বছর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তবে এবার লোকসান বেড়েছে আরও। গত বছর শেয়ার প্রতি ৫১ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটি এবার তিন প্রান্তিকেই লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৯৭ পয়সা।

এই কোম্পানিটি ফ্লোর প্রাইস ১১৫ টাকা ৪০ পয়সাতে বিক্রি হতো না খুব একটা। ফ্লোর তুলে দেয়ার পর টাকা ১৩ কর্মদিবস কমে ৮৩ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছিল।

সেই কোম্পানিটিই গত কয়েকদিন ধরে দাম বাড়তে বাড়তে এখন দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা। আজ বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ।

লোকসানের কারণে কখনও লভ্যাংশ দিতে না পারা সাভার রিফ্রাকটরিজের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ২৮ পয়সা সম্পদমূল্যের কোম্পানিটির দর এক দিনে ১৮ টাকা বেড়ে এক পর্যায়ে উঠে যায় ২২৭ টাকা। যদিও এই দাম বেড়েছে দিনের শেষ বেলায়, যে কারণে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ের কারণে দাম দাঁড়ায় ২১৩ টাকা।

এ ছাড়া লোকসানে থাকা আজিজ পাইপের দাম বেড়েছে ৮.৭ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিক শেষে শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ২৩ পয়সা লোকসান দেয়া জেমিসি সি ফুডের দাম বেড়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা, তিন প্রান্তিক শেষে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ১১ পয়সা লোকসান দেয়া অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দাম কমেছে ৮ শতাংশ।

বিমার আরও একটি খারাপ দিন, দর হারাল বস্ত্র খাতও

জুনের মাঝামাঝি সময়ে সংশোধনে যাওয়া বিমা খাত মহামারির বছরে প্রথম ৬ মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

তার পরেও পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না এই খাতটি। এই খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে কেবল ১১টির। অন্যদিকে দর হারিয়েছে ৩৯টি কোম্পানি। পাল্টায়নি বাকি একটির দাম।

ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর

এই খাতে লেনদেনও কমেছে। আজ হাতবদল হয়েছে ১৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ২০১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

পোশাক খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার অর্ডার পাওয়ার খবরে আগের দিন ব্যাপকভাবে চাঙা থাকা বস্ত্র খাদের দর হারানো ছিল কিছুটা অবাক করার মতো। আগের দিন এই খাতের ৫৪টি কোম্পানির মধ্যে যেখানে দর বেড়েছিল ৫৪টির, সেখানে আজ এই খাতে দর বেড়েছে ১৫টির, কমেছে ৪০টির, পাল্টায়নি বাকি ৩টির দর।

লেনদেনও কমেছে। আজ হাতবদল হয়েছে ২৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ২৯৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

অন্যান্য খাতে কী চিত্র

টানা তিন কর্মদিবস লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে প্রকৌশল খাতই। তবে আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে তা।

আজ এই খাতে হাতবদল হয়েছে ৩১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২০টির, কমেছেও সমান সংখ্যক কোম্পানির। আর দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪টির, কমেছে ১৬টির। লেনদেন হয়েছে মোট ২৩৭ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩০৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক থাকে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১২টির, কমেছে ৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল একটির।

হাতবদল হয়েছে মোট ১০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বেক্সিমকোর সর্বাধিক লেনদেন হওয়ার তালিকায় শীর্ষে ফেরার সুবাদে ব্যাপকভাবে লেনদেন বেড়েছে বিবিধ খাতে। এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোটি ১৭৮ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১১৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

এই লেনদেনের মধ্যে কেবল বেক্সিমকোর শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১০৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এই খাতের ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭টির, কমেছে বাকিগুলোর।

সূচক ও লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৫৩৫ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে নিয়ে তৈরি হওয়া শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪২৪ পয়েন্ট।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে।

ব্যাংকে উত্থানের দিনও দুর্বল কোম্পানির কদর
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের এই অবস্থান ২০১১ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ

ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ১৭০টির এবং পাল্টায়নি ২৭টি কোম্পানির দর।

লেনদেন হয়েছে মোট ২ হাজার ৩১৪ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা আগের দিন ছিল ২ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে সূচকটি ১৯ হাজার ২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮০ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের দিন এটি ছিল ৭৩ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন