চলমান বিশ্বকাপে ম্যাচ অফিশিয়াল ও রেফারির মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। এই দাবিতে খোলা একটি অনলাইন পিটিশনে ইতিমধ্যে ৯৮ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। 'আর্জেন্টিনা আউট ডটকম' (argentinaout.com) নামক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই পিটিশনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফিফা এবং ম্যাচ পরিচালনাকারীরা টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করছেন। সেখানে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘বিজয়ী যদি আগেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলো কেন প্রতিযোগিতা করবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে সবাইকে সমান সুযোগ দিন।’ মূলত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটিকে কেন্দ্র করেই এই চরম অসন্তোষের সূত্রপাত হয়েছে। ওই ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিশরীয় শিবির। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভিএআর-এর মাধ্যমে মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হলেও আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের ঠিক আগে তাদের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া ফাউলটি ভিএআর-এ পর্যালোচনা করা হয়নি। মিশরের দাবি, আর্জেন্টিনার সেই গোলটি বাতিল করে উল্টো তাদেরকেই পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল। এ প্রসঙ্গে মিশরের কোচ হোসাম হাসান সরাসরি ফিফাকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘আমি পরিণতির কথা না ভেবেই বলছি—এটি সাজানো ম্যাচ। যদি আর্জেন্টিনাকেই জেতাতে হয়, তাহলে অন্য দলগুলো কেন বিশ্বকাপে আনার দরকার কী? ফিফা শুধু মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখতে চায়। তারা 'ফেয়ার প্লে'র কথা বলে, কিন্তু আমরা মাঠে তার কোনো প্রমাণ দেখিনি।‘
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি এসব অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই এবং এসব সমালোচনা স্রেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রটনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি যুক্তি দেন যে, বর্তমান ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তির উপস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া কার্যত অসম্ভব। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে স্কালোনি আরও মন্তব্য করেন যে, ১৯৮৬ সালেও যখন আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখনও এমন অভিযোগ উঠেছিল; তাই বর্তমান পরিস্থিতি তাঁদের জন্য নতুন কিছু নয়।
ছবি: সংগৃহীত
মাঠে ও মাঠের বাইরে সময়টা এখন মোটেও ভালো যাচ্ছে না পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগালের বিদায়ের পর তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে এটিই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের এই বড় হতাশার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বর্তমান ক্লাব সৌদি আরবের অন্যতম শীর্ষ দল আল নাসরকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন অস্থিরতা। সম্প্রতি তীব্র এক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে এই সৌদি জায়ান্ট ক্লাবটি। তারল্য সংকটের কারণে ক্লাবের প্রথম সারির খেলোয়াড়দের জুন মাসের পুরো বেতন পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে নতুন মৌসুমের আগে দলে নতুন খেলোয়াড় ভেড়ানোর সব ধরনের কার্যক্রমও আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে আল নাসর।
সৌদি আরবের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আল-রিয়াদিয়াহ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক নগদ অর্থের সংকট ক্লাবের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মূল দলের বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় তাঁদের জুন মাসের বেতনের মাত্র আংশিক অর্থ হাতে পেয়েছেন এবং বাকি বকেয়া দ্রুত পরিশোধের জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বর্তমানে পেশাদার ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন, যা বছরে প্রায় ২১ কোটি ডলারের বেশি। রোনালদোকে দলে ভেড়ানোর পর থেকে আল নাসর বিভিন্ন বিশ্বমানের খেলোয়াড় ক্রয় এবং ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। তবে এত বড় বড় বিনিয়োগের পরও হঠাৎ করে কেন এই তারল্য সংকটের সৃষ্টি হলো, তার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক সংকটের সবচেয়ে বড় ও সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্লাবের আসন্ন দলবদল কার্যক্রমে। নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে খেলোয়াড় কেনাবেচার সব ধরনের আলোচনা ও চুক্তি আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে দল ছেড়ে চলে গেছেন ক্লাবের ক্রোয়েশিয়ান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মার্সেলো ব্রোজোভিচ। তাঁর এই বিদায়ে দলের মাঝমাঠে যে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, অর্থাভাবের কারণে বিকল্প কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলোচনা বা চুক্তির প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগোতে পারছে না ক্লাবটি। ফলে নতুন মৌসুম শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে শক্তিশালী একটি দল গঠন করা আল নাসরের জন্য রীতিমতো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিক এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমে আল নাসরের দায়িত্ব নেওয়া নতুন কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলু শুরুতেই এক কঠিন ও অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। আগামী মৌসুমে আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগ, কিংস কাপ, সৌদি সুপার কাপ এবং এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটসহ মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। এমন ব্যস্ত ও কঠিন সূচির সামনে দাঁড়িয়ে দ্রুত আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে না পারলে এবং দলে প্রয়োজনীয় নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করতে ব্যর্থ হলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ঘাটতি নিয়েই মাঠে নামতে হবে দলকে। সব মিলিয়ে সৌদি চ্যাম্পিয়নদের নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে নিপতিত হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসরে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাঠের এই হতাশার চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ঘিরে সৃষ্ট নজিরবিহীন বিতর্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে ফিফা এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলেও, তা দলের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারেনি। বরং মাঠের বাইরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও চাপ খোদ যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল বলে এবার অকপটে স্বীকার করেছেন স্বয়ং বালোগান।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের ম্যাচে। ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে বাজেভাবে ট্যাকল করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফোলারিন বালোগান। ফুটবলের প্রচলিত ও কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখার কারণে পরের ম্যাচে তার জন্য এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল এবং সে অনুযায়ী বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার খেলার কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভাবনীয় হস্তক্ষেপে ফিফা তাদের ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বালোগানের সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে, যা পুরো ফুটবল বিশ্বেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
সম্প্রতি ‘সিবিএস মর্নিংস’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বালোগান। তিনি জানান, ফিফার এই সিদ্ধান্তের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলে ফিরতে পারার খবরে তিনি উচ্ছ্বসিত হলেও, পরে গভীরভাবে ভেবে বুঝতে পারেন যে এটি কত বড় বিতর্কের জন্ম দিতে যাচ্ছে। দলের ভেতরের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, লাল কার্ড দেখার পর নিয়ম অনুযায়ী দল তাকে ছাড়াই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিল এবং তিনি কেবল দলের মনোবল ধরে রাখার জন্য সতীর্থদের পাশে ছিলেন। হঠাৎ করে নিয়ম বদলে তার দলে অন্তর্ভুক্তি খেলোয়াড়দের কৌশলগত ও মানসিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়।
“আমি আমার সতীর্থদের মধ্যেও কিছুটা স্নায়ুচাপ দেখতে পাচ্ছিলাম। কারণ এমন ঘটনা খুবই ব্যতিক্রমী,” সিবিএস মর্নিংস-এ এভাবেই দলের ভেতরের চিত্র তুলে ধরেন বালোগান।
তিনি আরও জানান, ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছিল, তিনি ততটাই খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন; কিন্তু বাইরের এত আলোচনা ও প্রবল চাপ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা তাদের জন্য একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফার নিয়ম বদলে বালোগানকে দলে ফিরিয়েও কোনো লাভ হয়নি। মাঠের লড়াইয়ে বেলজিয়াম বা 'রেড ডেভিলস'-এর সামনে পাত্তাই পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মাঠের বাইরের এই প্রবল বিতর্ককে সঙ্গী করে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের এক তিক্ত ও বিধ্বস্ত হওয়ার স্মৃতি নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে স্বাগতিকদের।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা কেবল আর মাঠের সবুজ গালিচাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ইংলিশ সমর্থকদের মাঝে বিরাজমান এই তীব্র উন্মাদনার অভিনব বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবার খোদ একটি রেলস্টেশনের নামই সাময়িকভাবে বদলে ফেলা হয়েছে। ইংল্যান্ডের চেশায়ারে অবস্থিত ‘হোমস চ্যাপেল’ রেলস্টেশনের সাইনবোর্ডে এখন মূল নামের পরিবর্তে জ্বলজ্বল করছে—‘ইটস কামিং হোমস চ্যাপেল’। ইংল্যান্ড ফুটবল দলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আবেগের স্লোগান ‘ইটস কামিং হোম’-এর সঙ্গে দারুণভাবে মিল রেখে সাময়িকভাবে স্টেশনের এই চমকপ্রদ নামকরণ করা হয়েছে বলে দেশটির রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন রেল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
লাতিন পরাশক্তি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মহাগুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল মাঠে গড়ানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে এই বিশেষ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়। এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচের চূড়ান্ত ফলই নির্ধারণ করে দেবে, ফুটবল বিশ্বকাপের চলমান আসরের শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালে ইংল্যান্ড জায়গা করে নিতে পারবে কি না। দীর্ঘ ৬০ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় থাকা ইংলিশ সমর্থকদের স্বপ্ন ও আবেগকে আরও কিছুটা উসকে দিতেই মূলত রেল কর্তৃপক্ষের এই অভিনব আয়োজন, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ও ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্টেশনের নাম পরিবর্তনের এই অভিনব উদ্যোগ প্রসঙ্গে নর্দার্ন রেলের বাণিজ্যিক পরিচালক অ্যালেক্স হর্নবি গণমাধ্যমের কাছে তাদের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তারা মূলত চেয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমী যাত্রীরা যখন খেলা দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে যাত্রা করবেন, তখন যেন তারা পথে এমন কিছু দেখতে পান যা তাদের মুখে আনন্দের হাসি এনে দেয়। জাতীয় দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি নিজ দেশের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে আরও বলেন, ‘চলো ইংল্যান্ড। ইটস কামিং হোমস চ্যাপেল।’ মূলত দেশের সাধারণ নাগরিক ও ফুটবল সমর্থকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতেই বাণিজ্যিক এই প্রতিষ্ঠানটি এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে।
‘ইটস কামিং হোম’ মূলত ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্কৃতির অত্যন্ত সুপরিচিত ও আবেগময় একটি স্লোগান, যা ইংলিশ সমর্থকদের হৃদয়ের খুব কাছের। ১৯৯৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে প্রথমবার এই গান বা স্লোগানটি তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে তখন বোঝানো হয়েছিল যে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইংল্যান্ডে আবার বড় কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ফিরে এসেছে। তবে রেলওয়ে স্টেশনটির এই নাম পরিবর্তন সম্পূর্ণ সাময়িক একটি বিষয়। নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, চলমান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই স্টেশনের নতুন সাইনবোর্ডটি সরিয়ে আবারও তার আগের মূল রূপে ফিরিয়ে আনা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের মেগা ফাইনালকে আরও আকর্ষণীয় ও বর্ণাঢ্য করে তুলতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এক বিশেষ জমকালো আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন একঝাঁক বিশ্বখ্যাত তারকা। এই তারকাখচিত তালিকায় অন্যতম বড় চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের তুমুল জনপ্রিয় ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিড। ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) শুরু হলেও, এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা) আইশোস্পিডের পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে বর্ণিল এই অনুষ্ঠান শুরু হবে।
ফাইনালের এই জমকালো আয়োজনে আইশোস্পিড ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিনোদন জগতের আরও অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা টম ক্রুজ, প্রখ্যাত গায়িকা নিকোল শেরজিঙ্গার এবং ইতালীয় সংগীতশিল্পী লরা পাউসিনির মতো তারকাদের। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এবারের বিশাল এই বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর যাত্রাকে মহাসমারোহে উদ্যাপন করতেই মূলত ফিফার এই বিশেষ উদ্যোগ। এছাড়া মেগা ফাইনালের মূল লড়াই শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে স্টেডিয়ামের দর্শকদের মুগ্ধ করবেন তুমুল জনপ্রিয় গায়িকা জেনিফার হাডসন।
বিশ্বকাপের ফাইনালে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ঘরোয়া আসর সুপার বোলের আদলে ১১ মিনিটের একটি বিশেষ হাফটাইম শোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দেবে। এই হাফটাইম শোতে কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবারসহ আরও কয়েকজন বিশ্বখ্যাত শিল্পীর পারফর্ম করার কথা রয়েছে। ফাইনালের টিকিটধারী সৌভাগ্যবান দর্শকেরা মূল ম্যাচ শুরুর প্রায় চার ঘণ্টা আগে থেকেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘ এই সময়ে তাদের আনন্দ দিতে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত প্রাক্-ম্যাচ বিনোদনেরও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাঠের বাইরে এতসব জমকালো আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই মেগা ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে কারা মুখোমুখি হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ দিবাগত রাতে ফাইনালের প্রথম টিকিট নিশ্চিত করার মহারণে মাঠে নামবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। অন্যদিকে, আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একই রকম এক কঠিন লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লাতিন পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও শক্তিশালী ইংল্যান্ড। এই দুটি হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচ থেকে জয়ী হয়ে আসা দুটি দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের এই মহোৎসবে একে অপরের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে লড়বে।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪৩৩৩ দিন পর এজবাস্টনে ওয়ানডে ফরম্যাটে হারের তিক্ত স্বাদ পেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ২০১৫ সাল থেকে বার্মিংহামের এই ভেন্যুতে ওয়ানডেতে সম্পূর্ণ অপ্রতিরোধ্য থাকা ইংলিশরা এই মাঠে তাদের শেষ আটটি ম্যাচের মধ্যে প্রথম হারের মুখ দেখল। কাকতালীয়ভাবে, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই মাঠে তারা সর্বশেষ যাদের কাছে ওয়ানডে হেরেছিল, এত বছর পর সেই ভারতের বিপক্ষেই ওয়ানডেতে নিজেদের অপরাজেয় যাত্রার সমাপ্তি দেখল তারা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিকদের ৬ উইকেটে পরাজিত করে ভারত, যা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাদের টানা ষষ্ঠ জয়ের রেকর্ড এবং এটিই দলটির বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ টানা জয়ের কীর্তি।
টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও দ্রুতই তারা এক ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ওপেনার বেন ডাকেট ও জ্যাকব বেথেলের উদ্বোধীন জুটিতে ৬১ রান তোলার পর মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে স্বাগতিকরা। মাত্র ৮০ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন অভিজ্ঞ জো রুট ও লিয়াম ডওসন। এই দুজনের ১২১ রানের দুর্দান্ত জুটিতে ভর করে ইংল্যান্ড ৪৭.৫ ওভারে ২৫৮ রানে অলআউট হতে সক্ষম হয়। লিয়াম ডওসন ৮৩ বলে ৬৮ রান করে আউট হলেও, জো রুট ৭৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। বল হাতে ভারতের হয়ে অক্ষর প্যাটেল ৯.৫ ওভারে ৬২ রান দিয়ে একাই সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন।
২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ওপেনার শুভমান গিল ইতিবাচক শুরু এনে দিলেও অধিনায়ক রোহিত শর্মা দ্রুতই স্যাম কারানের শিকারে পরিণত হন এবং ঠিক পরের ওভারেই জোফরা আর্চারের বলে সাজঘরে ফেরেন তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি। এরপর গিল ও শ্রেয়াস আইয়ার দলের হাল ধরেন এবং ১০১ রানের একটি শক্ত জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। ব্যক্তিগত ৮০ রানে শুভমান গিল রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে এবং এরপর হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত থ্রোতে আইয়ার রান আউট ও জশ টাংয়ের বলে লোকেশ রাহুল বোল্ড হলে ম্যাচে ফেরার কিছুটা আভাস দেয় ইংল্যান্ড, যখন ভারতের জয়ের জন্য আরও ৯৯ রানের প্রয়োজন ছিল।
তবে চাপ সামলে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে দারুণ বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন ভারতের দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর প্যাটেল। আস্কিং রেট সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মিশেলে এক দারুণ অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। ৩৯ বলে অক্ষর প্যাটেল নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন এবং ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের ফিফটিও পূর্ণ করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তাদের এই দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৪৫.২ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান তুলে অনায়াসেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই দুর্দান্ত জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা, যার পরবর্তী দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১৬ জুলাই কার্ডিফে এবং ১৯ জুলাই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে।
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে মাঠের কৌশলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এল বাংলাদেশের নাম। লাল-সবুজের দেশের মানুষের নিঃস্বার্থ ও দীর্ঘদিনের সমর্থনের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্কালোনি।
বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে স্কালোনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবারই আমাদের নতুন করে বিস্মিত করে। আর্জেন্টিনা থেকে ভৌগোলিকভাবে এত দূরের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফুটবলকে ঘিরে আপনাদের এই ভালোবাসা সত্যিই অসাধারণ। আপনাদের দীর্ঘদিনের এই সমর্থন ও অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা লাখো সমর্থকের উন্মাদনা এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সেই প্রসঙ্গ টেনে আর্জেন্টাইন কোচ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষকে আমাদের জার্সি গায়ে ঘুরে বেড়াতে দেখাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং দারুণ এক অনুভূতি। আপনাদের এই আবেগ আমাদের নজর এড়ায়নি।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তাও দেন স্কালোনি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের ম্যাচে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষকে একটি জয় উপহার দিতে পারি।’
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে স্কালোনির এই মন্তব্য আবারও প্রমাণ করল, সীমানা ছাড়িয়ে ফুটবল কীভাবে দুই দেশের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রিয় কোচের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মাঠের লড়াইয়ে কতটা সফল হয় লিওনেল মেসির দল।
মন্তব্য