× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
England Argentina two arch rivals face each other in the fight for status
google_news print-icon

মর্যাদার লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা

মর্যাদার-লড়াইয়ে-মুখোমুখি-দুই-চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী-ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের মেগা মঞ্চে দীর্ঘ ২৪ বছর পর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আগামী বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই (রাত-১টায়) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ঐতিহ্যবাহী মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবলবিশ্বে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও ফুটবল বৈরিতার কারণে পুরো আটলান্টা শহরজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ মানেই কেবল ফুটবল নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, রাজনীতি আর আবেগের চরম বিস্ফোরণ। ১৯৮২ সালের রক্তক্ষয়ী ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’ (আর্জেন্টাইনদের কাছে যা মালভিনাস নামে পরিচিত) দুই দেশের সম্পর্কে যে সংবেদনশীল ক্ষত তৈরি করেছিল, তা ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’-এর মাধ্যমে ফুটবল মাঠে এক অন্যরকম রূপ নেয়। সেই থেকে এই দুই পরাশক্তির লড়াই মানেই মাঠ ও মাঠের বাইরে এক বারুদ ঠাসা আবহ।

বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডকে কোন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিল? এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যে ফুটবলীয় বৈরিতা চলে আসছে এ দুদেশের মধ্যে, সেই ঝাঁজালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবার দেখবে ফুটবলবিশ্ব। লিওনেল মেসি সমাপ্তিরেখায় পৌঁছে যাওয়া তার ক্যারিয়ারে এই প্রথম খেলবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর ইংল্যান্ড? দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে যে ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে তারা, তার প্রতিষেধক খোঁজার আশায় আটলান্টায় ঝাঁপাবে।

১৯৬২ বিশ্বকাপে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু। এরপর ইউরোপ ও লাতিন ফুটবলের দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখেছে সুন্দর নিষ্ঠুর ফুটবল, নান্দনিক গোল, লাল কার্ড এবং অতিঅবশ্যই ‘হ্যান্ড অব গড’। এই দ্বৈরথ শুধু সবুজ গালিচায় আটকে থাকেনি। দুদেশের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা, বিশেষ করে আশির দশকে ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা আজও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মানুষ ভুলতে পারেনি। ফুটবলেও সেই ভূরাজনীতি উত্তেজনা ছায়া ফেলে। ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৩-১ গোলে। ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে দেখা হচ্ছে ববি চার্লটন ও দিয়েগো ম্যারাডোনার দেশের।

ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের যত আলোচিত ঘটনা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম তীব্র এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং স্মরণীয় ঘটনা। এমন এক মহারণের আগে আর্জেন্টিনা হারিয়েছে তাদের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিনকে। কয়েক দিন আগেই ৮৯ বছর বয়সে না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আর তার বিদায়ের পরই বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সবশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে দুই দলের শেষ লড়াই হয়েছিল ২০০২ বিশ্বকাপে। প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দল দুটি। সেই উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক এই দ্বৈরথের পাঁচটি বহুল আলোচিত অধ্যায়।

হ্যান্ড অব গড-

১৯৬২ বিশ্বকাপে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু। এরপর ইউরোপ ও লাতিন ফুটবলের দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখেছে সুন্দর নিষ্ঠুর ফুটবল, নান্দনিক গোল, লাল কার্ড এবং অতিঅবশ্যই ‘হ্যান্ড অব গড’। এই দ্বৈরথ শুধু সবুজ গালিচায় আটকে থাকেনি। দুদেশের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা, বিশেষ করে আশির দশকে ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা আজও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মানুষ ভুলতে পারেনি। ফুটবলেও সেই ভূরাজনীতি উত্তেজনা ছায়া ফেলে। ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুদল। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতেছিল ৩-১ গোলে। ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে দেখা হচ্ছে ববি চার্লটন ও দিয়েগো ম্যারাডোনার দেশের।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দুই চিরবৈরী দেশের ফুটবল দ্বৈরথের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কখনো না-ভোলা সেই কোয়ার্টার ফাইনাল। যে ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে চিরসবুজ হয়ে রয়েছে ‘হ্যান্ড অব গড’ এর সৌজন্যে। ফকল্যান্ড যুদ্ধে দুদেশ শক্তি ক্ষয় করার চার বছর পর ’৮৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আরেক যুদ্ধে তাদের দেখা। ফুটবল মাঠেও বারুদের গন্ধ। রাজনৈতিক উত্তেজনা। যেন ১০ সপ্তাহের অঘোষিত ফকল্যান্ড যুদ্ধ ফিরে আসে ৯০ মিনিটের ফুটবলযুদ্ধে। মেক্সিকোর বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়াম তখন রণক্ষেত্র! সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের ছায়া পড়েছিল।

এরপর দুটি চিরস্মরণীয় মুহূর্ত। প্রথমটি, ম্যারাডোনার হাতে করা গোল। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে গোল করলেন। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটন বুঝতেই পারলেন না। রেফারিরও দৃষ্টি এড়িয়ে যায় অবিশ্বাস্যভাবে। পরে ম্যারাডোনার ক্লাসিক উক্তিও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বময়, যখন তিনি বলেন, ‘ওটা আমার হাত ছিল না। ছিল ঈশ্বরের হাত।’

সেটা যদি হয় ম্যারাডোনার ‘পাপ’, তাহলে তার দ্বিতীয় গোল ‘প্রায়শ্চিত্ত’। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সম্ভবত সেরা গোল উপহার দেন তিনি অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় এবং নান্দনিক সৌকর্যে। যে গোল ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছে তার অনুপম সৌন্দর্যের সৌজন্যে। প্রায় মাঝমাঠ থেকে ইংল্যান্ডের অর্ধেক দলকে ড্রিবল করে নাচিয়ে ছেড়ে ম্যারাডোনা শিলটনকে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠিয়ে তাক লাগিয়ে দেন ফুটবলবিশ্বকে। আর্জেন্টিনা লিড নেয় ২-০ গোলে। ওই ম্যাচ ২-১ গোলে হেরে ইংল্যান্ড বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে। সেজন্য তারা কোনোদিন ক্ষমা করতে পারেনি আর্জেন্টাইন ফুটবলের বরপুত্রকে। পরে ইংল্যান্ডের ক্ষতে লবণ দিয়ে আর্জেন্টিনা ’৮৬ বিশ্বকাপ জিতেছিল ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে।

২০০৫ সালে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করার জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন শিলটনের কাছে। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যারাডোনাকে ক্ষমা করেননি।

রাত্তিনকে মাঠ ছাড়াতে নেমেছিল পুলিশ-

১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রিটলিনের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক অ্যান্তোনিও রাত্তিন। ভাষাগত সমস্যার কারণে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে দোভাষী চাইলেও তা মেলেনি। মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ মাঠে নেমে তাকে বাইরে নিয়ে যায়।

তখনও ফুটবলে হলুদ বা লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে ফুটবলে কার্ড ব্যবস্থার সূচনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বার্তোনির ঘুষিতে ভেঙেছিল চেরির দাঁত-

১৯৭৭ সালে লা বোম্বোনেরায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচেও দুই দলের লড়াই উত্তপ্ত রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ট্রেভর চেরির কঠিন ট্যাকলের জবাবে আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি সরাসরি তার মুখে ঘুষি মারেন। এতে চেরির সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

পরে দুজনকেই লাল কার্ড দেখানো হয়। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে লাল কার্ড দেখেছিলেন ট্রেভর চেরি।

পচেত্তিনোর ফাউল, বেকহ্যামের গোল-

২০০২ বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়েও বিতর্কের জন্ম হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে আর্জেন্টিনার মরিসিও পচেত্তিনোর চ্যালেঞ্জে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সেই সুযোগ থেকে ডেভিড বেকহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

বহু বছর পর টটেনহ্যামের কোচ থাকাকালে পচেত্তিনো দাবি করেছিলেন, ওভেন আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন এবং তিনি তাকে স্পর্শই করেননি।

বেকহ্যামের লাল কার্ড-

১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই দলের আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহ্যাম।

১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে গেলেও সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই হার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।

সেমিতে অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ডের কী হাল

ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে কখনো হারেনি তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে প্রতিবারই জিতেছে তারা।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত মোট তিনবার সেমিফাইনালে উঠেছে। ১৯৬৬ সালের আগে মোট চারবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। এর মধ্যে দুইবার গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে তারা।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ- ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।

১৯৯০ বিশ্বকাপ- দীর্ঘ দুই যুগ পর সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড। কিন্তু পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নেই ইংল্যান্ড।

২০১৮ বিশ্বকাপ- দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

অতীতে তিনবার সেমিফাইনাল খেলে একবারই ফাইনালে উঠে শিরোপার জিতে নেয় ইংল্যান্ড। এবার ফের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আছে হ্যারি কেইনরা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
The king of pace vs the wizard of dribbling Mbappe Yamal face off in the semis

গতির রাজা বনাম ড্রিবলিংয়ের জাদুকর, সেমিতে মুখোমুখি এমবাপ্পে-ইয়ামাল

গতির রাজা বনাম ড্রিবলিংয়ের জাদুকর,
সেমিতে মুখোমুখি এমবাপ্পে-ইয়ামাল ছবি: সংগৃহীত

ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উত্তেজনা ও উন্মাদনা বিরাজ করছে। দুই দলের এই মহানাটকীয় লড়াই কেবল দলগত আধিপত্য বিস্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি পরিণত হতে যাচ্ছে এক অনন্য ফুটবলীয় সৌন্দর্যের প্রদর্শনীতে।

এই সেমিফাইনালের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দলের দুই মহাতারকার চমকপ্রদ এক ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। একদিকে রয়েছেন ফরাসিদের আক্রমণের মূল অস্ত্র এবং ‘গতির রাজা’ হিসেবে খ্যাত ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে স্প্যানিশদের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তরুণ ‘ড্রিবলিংয়ের জাদুকর’ লামিন ইয়ামাল। গতির সঙ্গে শৈল্পিক ফুটবলের এই অসাধারণ লড়াই দেখতে পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।

ম্যাচটিতে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে রয়েছে এক অনন্য ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়লাভ করতে পারলেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফুর পাশে নাম লেখাবেন তিনি। কাফুর পর ফুটবল ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে সরাসরি মাঠে নামার অবিস্মরণীয় এক রেকর্ড স্পর্শ করবেন এই ফরাসি সুপারস্টার, যা তাকে নিয়ে যাবে অন্য এক উচ্চতায়।

তবে এমবাপ্পের ইতিহাস গড়ার এই অভাবনীয় যাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন স্প্যানিশ বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। বয়সে তরুণ হলেও মাঠের খেলায় তার জাদুকরী ড্রিবলিং ও অসামান্য সৃজনশীলতা ইতোমধ্যে পুরো ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। তার পায়ের জাদুকরী স্কিল যেকোনো শক্তিশালী রক্ষণভাগকেই মুহূর্তের মধ্যে বোকা বানাতে পুরোপুরি সক্ষম, যা স্পেনের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নকে যেমন জোরালো করেছে, তেমনি ফরাসিদের জন্য তৈরি করেছে বড় এক দুশ্চিন্তা।

সেমিফাইনালের আগে আলোচনায় বেঞ্চে থাকা কান্তে

টানা ৩য় বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স। স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল কৌশল, একাদশ কিংবা প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা। কিন্তু এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম এনগোলো কান্তে, যিনি এখনও এই বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি।

ফরাসি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ক্লোজড-ডোর অনুশীলনে মাঝমাঠে দারুণ পারফর্ম করেছেন কান্তে। আর এতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমর্থকদের বড় একটি অংশের দাবি, স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে অন্তত সুযোগ দেওয়া উচিত।

নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হয়েও এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের ছয় ম্যাচের একটিতেও খেলার সুযোগ পাননি কান্তে। দিদিয়ে দেশম বরাবরের মতোই মাঝমাঠে ভরসা রেখেছেন কুয়াদিও কোনে ও আদ্রিয়েন রাবিওর ওপর। সেই জুটিকে নিয়েই ফরাসিরা অনায়াসে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে।

তবে অনেকের মতে, বড় ম্যাচের জন্য কান্তের মতো ফুটবলারের মূল্য আলাদা। বয়সের ভারে আগের মতো পুরো মাঠজুড়ে ছুটে বেড়াতে না পারলেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এখনো বিশ্বমানের।

বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে এই গুণগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বলের দখল ধরে রেখে দ্রুত পাসিং ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে স্প্যানিশদের জুড়ি নেই। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কান্তের ট্যাকল, বল পুনরুদ্ধার এবং ট্রানজিশন ফুটবল ফ্রান্সের জন্য বাড়তি অস্ত্র হতে পারে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, নকআউট পর্বের ম্যাচে কখনও কখনও একটি ট্যাকল, একটি ইন্টারসেপশন কিংবা একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। আর ঠিক সেই ধরনের মুহূর্ত তৈরির জন্য বেশ পরিচিত কান্তে।

বর্তমানে তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচেতে খেললেও তার অর্জনের তালিকা এখনো ঈর্ষণীয়। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ—ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফিই রয়েছে তার শোকেসে। ফলে অভিজ্ঞতার বিচারে বর্তমান ফরাসি দলে সেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জায়গা পেতেই পারেন কান্তে।

ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া- লামিন ইয়ামাল

১৬ বছর পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। তারা মুখোমুখি হচ্ছে গত দুই আসরে টানা দুটি ফাইনাল খেলা ফ্রান্সের। এই দলকে গত দুই বছরে ইউরো ও নেশনস লিগ সেমিফাইনালে হারিয়েছিল লা রোজারা। শেষ চার নিশ্চিত করে তাদের তারকা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল বলেছিলেন, ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া।

ইয়ামালের এই হুঙ্কারের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। তাদের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ফ্রান্স বিন্দুমাত্র ভীত নয়। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও তাদের প্রায় নিখুঁত রক্ষণভাগ সম্পর্কে তারা বেশ সচেতন।

ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালের রেফারি কে এই ইভান বার্টন?

টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথম ফাইনালে চোখ স্পেনের। ফুটবল বিশ্বের কোটি ভক্তের নজর কাড়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব কার ওপর পড়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ফিফা।

ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার এই ম্যাচটিতে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন এল সালভাদরের ৪৪ বছর বয়সি অভিজ্ঞ রেফারি ইভান বার্টন। কনকাকাফ অঞ্চলের নেশনস লিগ এবং গোল্ড কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম রেফারি হিসেবে অভিষেক হওয়া বার্টনের এটি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৩টি ম্যাচ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন তিনি। মঙ্গলবারের সেমিফাইনালটি হতে যাচ্ছে এই বিশ্বকাপে তার চতুর্থ অ্যাসাইনমেন্ট।

মন্তব্য

খেলা
Despite Shakibs skill Washington Freedom defeated New York

সাকিবের নৈপুণ্যের পরও নিউইয়র্ককে হারিয়ে দিল ওয়াশিংটন ফ্রিডম

সাকিবের নৈপুণ্যের পরও নিউইয়র্ককে হারিয়ে দিল ওয়াশিংটন ফ্রিডম ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) দীর্ঘদিন পর ব্যাটে-বলে নিজের চেনা ছন্দে ফিরেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে তার এই নৈপুণ্যের দিনে ওয়াশিংটন ফ্রিডমের কাছে হেরে গেছে তার দল এমআই নিউইয়র্ক। এই ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেলেও লিগ পর্বে নিজেদের ১০ ম্যাচে ৫টি জয় ও ৫টি হারের মাধ্যমে প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক।

এদিন এমআই নিউইয়র্কের হয়ে শেষদিকে দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখান সাকিব। ইনিংসের ১৭তম ওভারে ক্রিজে এসেই রাচিন রবীন্দ্রকে রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১৩ বল মোকাবিলা করে দুটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১৮ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পরবর্তীতে বোলিংয়ে এসেও শুরুতেই সাফল্য পান তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই অজি ব্যাটার মিচেল ওয়েনকে সাজঘরে ফেরান সাকিব। তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ওয়েন। সব মিলিয়ে ৩ ওভার বোলিং করে ২৪ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন এই তারকা।

এমআই নিউইয়র্কের দেওয়া ১৮৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়াশিংটন ফ্রিডম শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে রাচিন রবীন্দ্র ও আন্দ্রেস গুসের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৮ বলে ১১৬ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়েন এই দুজন। মাত্র ৩০ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন রাচিন। অন্যদিকে, ৫৪ বলে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৯৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন গুস। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৫ বল খেলে অপরাজিত ১২ রান করলে ৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়াশিংটন।

চলমান এই আসরে এটি ছিল সাকিব আল হাসানের তৃতীয় ম্যাচ। এর আগের দুই ম্যাচে সিয়াটল ওর্কাস ও সানফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছিল যথাক্রমে ১৫ ও ১ রান। এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে কেবল সিয়াটলের বিপক্ষেই প্রথম ও একমাত্র জয়ের দেখা পেয়েছিল সাকিবের দল এমআই নিউইয়র্ক।

মন্তব্য

খেলা
End of 18 year relationship Chennai coach quits

১৮ বছরের সম্পর্কের অবসান: চেন্নাইয়ের কোচের পদত্যাগ

১৮ বছরের সম্পর্কের অবসান: চেন্নাইয়ের কোচের পদত্যাগ ছবি: সংগৃহীত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অন্যতম সফল দল চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটালেন স্টিফেন ফ্লেমিং। দলটির প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নিউজিল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়ক। তার দীর্ঘ এই কোচিং মেয়াদে চেন্নাই সুপার কিংস পাঁচটি আইপিএল শিরোপা এবং দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি অন্যতম দীর্ঘ এবং সফল একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই মূলত ফ্লেমিংয়ের বিদায়ঘণ্টা বেজেছে। টানা তিন মৌসুম শিরোপা ছাড়াই শেষ করতে হয়েছে চেন্নাইকে। সবশেষ আইপিএলের আসরে দলটি অষ্টম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল এবং ঠিক তার আগের আসরে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লেমিং এবং সুপার কিংস কর্তৃপক্ষের মধ্যে হওয়া ধারাবাহিক, খোলামেলা ও সততাপূর্ণ আলোচনার ভিত্তিতে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

এই বিদায় প্রসঙ্গে চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের এই অবসান ঘটল। দলটির দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের পেছনে ফ্লেমিংয়ের যে অসামান্য অবদান রয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি সেটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে এবং বিদায়বেলায় তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।

নিজের পদত্যাগের বিষয়ে স্টিফেন ফ্লেমিংও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, খেলাধুলার জগতে আঠারো বছর একটি আজীবন সময়ের মতো এবং তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা নিয়ে এই বিদায় নিচ্ছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ও সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, একসঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় সব জয় উদযাপন করেছেন এবং অনেক কঠিন মুহূর্ত কাটিয়ে উঠেছেন। চেন্নাই সুপার কিংস সবসময় তার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে জানিয়ে আগামী দিনগুলোতেও দলটির জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি কোচ।

মন্তব্য

খেলা
World Cup Goal Miss Colombian Footballer Threatened To Kill

বিশ্বকাপে গোল মিস, কলম্বিয়ান ফুটবলারকে হত্যার হুমকি

বিশ্বকাপে গোল মিস, কলম্বিয়ান ফুটবলারকে হত্যার হুমকি ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা অনেক সময় মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সম্প্রতি কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাসের ঘটনাটি এর একটি নতুন উদাহরণ। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার পর থেকে এই ২৬ বছর বয়সী ফুটবলারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে আত্মগোপনে গেছেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কাম্পাস। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায় এবং সেখানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড, যার ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। মূলত এই একটি সুযোগ মিস করার কারণেই তাকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে, যদিও এবারের আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী নির্ধারিত বিমানে ওঠেননি কাম্পাস এবং এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে রহস্য তৈরি হয়। আত্মগোপনে যাওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কলম্বিয়ার জার্সি গায়ে জড়ানো, লাখো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বকাপে গোল করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সমর্থকদের কাঙ্ক্ষিত আনন্দ এনে দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতি তার নিবেদন ও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না এবং মাঠে তিনি তার সর্বোচ্চটাই দিয়েছেন।

কাম্পাসের এই ঘটনাটি কলম্বিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। সেবার বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে খুন হয়েছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। কাম্পাসের এমন হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন হুমকিদাতাদের কঠোর সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের সদস্যদের কখনোই এমন হুমকির মুখে পড়া উচিত নয়। পাশাপাশি তারা কাম্পাস ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।

মন্তব্য

খেলা
Sinar retained the Wimbledon title

উইম্বলডনের শিরোপা ধরে রাখলেন সিনার

উইম্বলডনের শিরোপা ধরে রাখলেন সিনার ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসের হতাশা পেছনে ফেলে উইম্বলডন জেতাকে যেন অভ্যাসে পরিণত করছেন টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনার। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ঘাসের কোর্টে রোববার অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে জার্মান তারকা আলেক্সান্দার জভেরেভকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উইম্বলডনের শিরোপা নিজের করে নিয়েছেন তিনি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে জভেরেভকে ৬-৭ (৭), ৭-৬ (২), ৬-৩, ৬-৪ গেমে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বর্তমান র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ এই খেলোয়াড়। ফ্রেঞ্চ ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর প্রথম টুর্নামেন্টেই কোর্টে ফিরে এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্লাম জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই তারকার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। প্রথম সেটে টাইব্রেকারে জভেরেভ জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরান সিনার। তবে ম্যাচের আসল চিত্র বদলে যায় তৃতীয় সেটে গিয়ে। কোর্টে হঠাৎ পা পিছলে গিয়ে হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত পান জভেরেভ। এরপর তিনি আর সেভাবে কোনো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। প্রতিপক্ষের এই চোটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিনার দাপটের সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ সেট জিতে নিয়ে নিজের শিরোপা নিশ্চিত করেন।

লন্ডনের উত্তপ্ত আবহাওয়ার প্রতিকূলতা জয় করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইয়ানিক সিনার। এই অর্জনকে নিজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্যারিসের পর উইম্বলডনের এই মঞ্চে ফেরাটা তার জন্য একটি কঠিন লড়াই ছিল। এমন একটি দারুণ জয়ে তিনি নিজের এবং তার দলের জন্য ভীষণ গর্বিত বলে জানান। কারণ, দলের সদস্যরাই তাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে ক্রমাগত সঠিক পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ জুগিয়েছেন।

অন্যদিকে, সদ্যই ফ্রেঞ্চ ওপেনে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতে আসা আলেক্সান্দার জভেরেভের জন্য এই হার ছিল বেশ হতাশাজনক। উইম্বলডনের মঞ্চে এতদিন তিনবার চতুর্থ রাউন্ডে ওঠাই ছিল এই জার্মান তারকার সেরা সাফল্য। এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে শিরোপার স্বাদ পাওয়া হলো না তার। সেই সঙ্গে এই জয়ের মধ্য দিয়ে জভেরেভের বিপক্ষে টানা দশম ম্যাচে জয় পাওয়ার অনন্য রেকর্ডও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ইয়ানিক সিনার।

মন্তব্য

খেলা
Uruguays interim coach is Diego Forlan

উরুগুয়ের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হলেন দিয়েগো ফোরলান

উরুগুয়ের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হলেন দিয়েগো ফোরলান ছবি: সংগৃহীত

চলতি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন মার্সেলো বিয়েলসা। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলটির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ফোরলান। উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এইউএফ) সভাপতি ইগনাসিও আলোনসো নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে ফোরলান এই দায়িত্ব পালন করবেন।

আগামী মার্চের পর উরুগুয়ের ডাগআউটে ফোরলানের ওপরেই আস্থা রাখা হবে, নাকি নতুন কোনো কোচের সন্ধান করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। মূলত চলতি বছরের শেষের দিকে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণেই ফেডারেশন এই মুহূর্তে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনায় না গিয়ে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে পরিচিত ও আস্থাশীল মুখ ফোরলানকে বেছে নিয়েছে।

ফোরলানের নিয়োগের বিষয়ে এইউএফ সভাপতি জানান, ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি দিয়েগো ফোরলানকেই এই পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করেছে। ২০২২ সালেও এই প্রকল্পের জন্য তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি এই দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত উৎসাহী। কোচিং পেশায় ফোরলান একেবারেই নতুন নন; এর আগে ২০২০ সালে উরুগুয়ের শীর্ষ ক্লাব পেনারোলে ১১টি ম্যাচ এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয় বিভাগের দল আতেনাস দে সান কার্লোসের হয়ে ১২টি ম্যাচে প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

৪৭ বছর বয়সী ফোরলান উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে একজন অন্যতম কিংবদন্তি খেলোয়াড়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ‘গোল্ডেন বল’ এনে দিয়েছিল। জাতীয় দলের হয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তিনি ছিলেন দারুণ সফল। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ এবং স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপা লিগ জয়ের মতো গৌরবময় অর্জন রয়েছে এই সাবেক ফরোয়ার্ডের ঝুলিতে।

মন্তব্য

খেলা
Argentina England face each other in the dream of revenge and finals

ইতিহাস, প্রতিশোধ আর ফাইনালের স্বপ্নে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড

ইতিহাস, প্রতিশোধ আর ফাইনালের স্বপ্নে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ও আবেগঘন লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। প্রায় চার দশক পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও দেখা হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। ফলে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

ইংল্যান্ড শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে ৩-২ এবং কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে কঠিন লড়াইয়ের পর মিসরকে হারিয়ে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর আবারও শেষ চারে খেলছে ইংল্যান্ড। সেবার ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে তাদের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছিল। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা।

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বিশ্বাস করেন, তার দল এখনো নিজেদের সেরা খেলাটি খেলতে পারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালের পর কোচ টমাস টুখেল প্রকাশ্যে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলটি ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে, অনেক টেকনিক্যাল ভুল করেছে এবং প্রত্যাশামতো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে কেইনের মতে, অনুশীলনে যে মানের ফুটবল তারা খেলছে, সেটি ম্যাচে পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারলে ইংল্যান্ড আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

চলতি বিশ্বকাপে ছয় গোল করে জুড বেলিংহামের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন কেইন। তিনি বলেন, "আমরা জানি আমাদের আরও ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো, আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি, অথচ এখনো উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।"

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: চিরন্তন এক দ্বৈরথ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার ষষ্ঠবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এর আগে পাঁচবারের লড়াইয়ে তিনবার জিতেছে ইংল্যান্ড, একবার জিতেছে আর্জেন্টিনা এবং একটি ম্যাচ টাইব্রেকারে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।

বিশ্বকাপে আগের পাঁচ সাক্ষাৎ

  • ১৯৬২ (গ্রুপ পর্ব): ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা
  • ১৯৬৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা
  • ১৯৮৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড
    • ম্যারাডোনার বিখ্যাত 'হ্যান্ড অব গড' এবং 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি'
  • ১৯৯৮ (শেষ ষোলো): ২-২, টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার ৪-৩ জয়
    • ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড ও মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল
  • ২০০২ (গ্রুপ পর্ব): ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা
    • ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে জয়

পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই ম্যাচে (১৯৮৬ ও ১৯৯৮) জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনাই।

ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে 'হ্যান্ড অব গড'

এই দ্বৈরথ শুধু ফুটবলীয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস ও রাজনীতির গভীর সম্পর্কও। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে প্রতীকী প্রতিশোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। একই ম্যাচে তার একক নৈপুণ্যে করা 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি।

প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসি

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দশকের ক্যারিয়ারে এই প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ২০০৫ সালে অভিষেকের পর কখনোই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হননি তিনি। অভিষেক ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে ওই বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচও খেলতে পারেননি। ফলে প্রায় ২১ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল।

দুই দলের সামনে ইতিহাস

ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এবং দ্বিতীয় শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো সেমিফাইনালে পরাজিত হয়নি। সেই দুর্দান্ত রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে চায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

ফুটবল ইতিহাস, রাজনৈতিক আবেগ, ম্যারাডোনার উত্তরাধিকার, মেসির প্রথম ইংল্যান্ড-পরীক্ষা এবং কেইনের শিরোপা স্বপ্ন, সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই সেমিফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতীক্ষিত এক মহারণ হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আটলান্টার এই সেমিফাইনালটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং এটি ফুটবল আভিজাত্য ও ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্বের এক বিশাল লড়াই হতে যাচ্ছে। লিওনেল মেসির সামনে যেমন রয়েছে ক্যারিয়ারের অপূর্ণতা ঘোচানোর সুযোগ, তেমনি হ্যারি কেইনদের সামনে রয়েছে ৬০ বছরের খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য

p
উপরে