চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আফ্রিকার পরাশক্তিরা যখন ফেভারিটদের বিদায়ের পথ তৈরি করছিল, তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত কামব্যাকে লিওনেল মেসিরা ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেন। ফলে মোহাম্মদ সালাহদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও এবারের বিশ্বকাপ অভিযানটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের দেখা পেয়েছে তারা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও লম্বা সময় মাঠের নিয়ন্ত্রণ রেখে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতার ছাপ রেখেছে দলটি।
মাঠের এই লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে মিশরীয়রা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো একক আসরে পাঁচটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না দলটির। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই খরা কাটার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে ৮ বার জালে বল পাঠিয়ে এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছে তারা।
ক্রীড়াক্ষেত্রের এই সফলতার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক প্রাপ্তিও নিশ্চিত করেছে মিশর। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) মোট ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২২৮ কোটি টাকা) প্রাইজমানি পেতে যাচ্ছে।
ফিফার নির্ধারিত আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি ফেডারেশনকে প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক খরচ বাবদ ২.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে কোয়ালিফাই করার জন্য নিশ্চিত হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। পরবর্তীতে আসরের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মিশরের ঝুলিতে জমা পড়েছে সর্বমোট ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার অপরাধে ডিফেন্ডার জ্যারেল কুয়ান্সাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ঘটনাটি ঘটেছিল আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার ৩-২ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের ৫৪তম মিনিটে। সে সময় মেক্সিকান খেলোয়াড় হেসুস গাইয়ার্দোর ওপর একটি বিপজ্জনক ফাউল করেন কুয়ান্সা। শুরুতে বিষয়টি রেফারির দৃষ্টিগোচর না হলেও পরবর্তী সময়ে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় ফাউলটি পর্যালোচনা করে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ফাউলটিকে ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচনা করায় স্বাভাবিক এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে আরও এক ম্যাচের অতিরিক্ত দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কুয়ান্সার শাস্তি কমানোর জন্য আপিল করার চিন্তা করেছিল। তবে টুর্নামেন্টের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। ফলে শনিবার মায়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে ২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে কোচ টমাস টুখেলকে। এমনকি ইংল্যান্ড যদি সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তবুও সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্ডারকে পাওয়া যাবে না, যা ইংলিশ শিবিরে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হতাশাজনক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কারণে সিরিজ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজিত হয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এর আগে সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচেও ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেতে হয়েছিল সফরকারী বাংলাদেশকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে দিয়েও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ৫০ রানেই ৭ উইকেট হারায় তারা এবং শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে ম্যাচ হারে। আজ সিরিজ বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে বেন কারানের অসাধারণ শতকের ওপর ভর করে ২৪৭ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১১ রান করেন বেন কারান এবং ব্রাড ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে ৫৮ রানের একটি আগ্রাসী ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট লাভ করেন।
জবাবে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এক পর্যায়ে ১৬৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ মজবুত অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। তবে এরপরই শুরু হয় নাটকীয় ব্যাটিং বিপর্যয়। মাত্র ৬৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা ২৩৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে তাওহীদ হৃদয় সর্বোচ্চ ৬০ এবং তানজিদ হাসান তামিম ৫৭ রান করলেও তা দলের পরাজয় ঠেকাতে যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া নুরুল হাসান সোহান ৩৮ রানের একটি ইনিংস খেলেন। এই পরাজয়ের ফলে সিরিজ খোয়ানোর পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে সফরে টানা ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আগামী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ল্যাটিন আমেরিকার এই জায়ান্টদের মোকাবিলা করতে হবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ আটের এই রণকৌশল সাজাতে গিয়ে দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি বরং আগের ম্যাচের মূল কাঠামোর ওপরই ভরসা রাখতে চাইছেন তিনি।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা: মিশরের বিপক্ষে এক সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ। স্কালোনি মনে করেন, পুরো ম্যাচে দল আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে গোলের সুযোগ নষ্ট করা এবং রক্ষণভাগের কিছু বিচ্যুতি নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন থাকলেও তিনি দলের মূল ফর্মেশন পরিবর্তন করতে আগ্রহী নন।
রক্ষণভাগের ডান প্রান্ত নিয়ে সংশয়: একাদশে বড় পরিবর্তন না থাকলেও রাইট-ব্যাক পজিশন নিয়ে এখনো কিছুটা দোটানায় আছেন কোচ। গত ম্যাচে নাহুয়েল মোলিনা প্রত্যাশানুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি, অন্যদিকে গঞ্জালো মন্টিয়েল বদলি হিসেবে নেমে রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। ফলে এই স্থানে কে শুরু করবেন, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
আক্রমণভাগে লাওতারো না কি আলভারেস: স্ট্রাইকার পজিশনটি এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। গত ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেস নিষ্প্রভ থাকলেও লাওতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দ্বিতীয় গোলে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জয়সূচক গোলে নিখুঁত অ্যাসিস্ট করে লাওতারো এখন শুরুর একাদশে ফেরার জোরালো দাবিদার।
অনুশীলন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আগামী কয়েক দিনের নিবিড় অনুশীলনে কোচ স্কালোনি বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সমন্বয় এবং ফর্ম যাচাই করবেন। মূলত অনুশীলনের পারফরম্যান্স দেখেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করা হবে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এক বা দুটির বেশি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক); নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেস/লাওতারো মার্তিনেজ।
আর্জেন্টিনা শিবির বর্তমানে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ধারা বজায় রেখে সেমিফাইনালে পা রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। লিওনেল মেসির জাদুকরী ফর্মের পাশাপাশি দলের তরুণ তুর্কিদের কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদী আলবিসেলেস্তেরা।
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলের গোলে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফুটবল বিশ্ব একগুচ্ছ নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে ফরাসিরা যেমন সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ও পরিসংখ্যানগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
ফরাসি দলের অনন্য অর্জন
মরক্কোকে হারিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনাল খেলার অনন্য গৌরব অর্জন করল ফ্রান্স। ফুটবল ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে এই নজির গড়ল দিদিয়ের দেশমের দল। এটি ফ্রান্সের সামগ্রিকভাবে অষ্টম সেমিফাইনাল, যা ব্রাজিলের সমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের সামনে রয়েছে কেবল জার্মানি (১২টি সেমিফাইনাল)।
রেকর্ডের বরপুত্র এমবাপ্পে
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং এই ম্যাচেই তিনি করেন ২০তম বিশ্বকাপ গোল। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে একটি করে গোল করার অবিশ্বাস্য গড় ধরে রেখেছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির (২১ গোল) পরেই তার অবস্থান। এমবাপ্পের এই গোলসংখ্যা কিংবদন্তি পেলের চেয়েও অনেক বেশি।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই আসরে দুই জন খেলোয়াড় ৮টি করে গোল করার রেকর্ড গড়লেন। বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পে উভয়েই ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তবে ৩টি অ্যাসিস্ট থাকার কারণে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির (১টি অ্যাসিস্ট) চেয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে।
১৯৬৬ সালের পর এমবাপ্পে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট) রেখেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে ১০টি গোলের পর ২০২৬ আসরে এখন পর্যন্ত তার সরাসরি অবদান ১১টি (৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট)। এটি ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের করা ১৩টি গোলের অবদানের পর এক আসরে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সাফল্য।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১০০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখা প্রথম ফুটবলার হলেন এমবাপ্পে। বর্তমানে তার মোট অবদান ১০১টি (৬৪টি গোল ও ৩৭টি অ্যাসিস্ট)। এছাড়াও বিশ্বকাপে এমবাপ্পে এ পর্যন্ত ৮টি 'উইনিং গোল' করেছেন, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ।
বিধ্বংসী জুটি ও ২০০২-এর ছায়া:
এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ৮টি এবং দেম্বেলে ৫টি গোল করেছেন। একই আসরে এক জোড়া সতীর্থের ৫ বা তদূর্ধ্ব গোল করার ঘটনা এটি গত অর্ধশতকে মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো (৮ গোল) ও রিভালদো (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন। এছাড়াও এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ী মিলে ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন, যা ২০০২-এর ব্রাজিলীয় ত্রয়ীর চেয়ে ৩টি বেশি।
পেনাল্টি সেভের বিশ্বরেকর্ড
ম্যাচের প্রথমার্ধে এমবাপ্পের পেনাল্টি শট রুখে দিয়ে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ১৯৬৬ সালের পর (টাইব্রেকারসহ) বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৪টি পেনাল্টি রক্ষার বিশ্বরেকর্ডে ইকার ক্যাসিয়াস ও ডোমিনিক লিভাকোভিচদের সঙ্গে ভাগ বসালেন বুনো। অন্যদিকে, ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফল করার পর এই প্রথমবার ব্যর্থ হলেন এমবাপ্পে।
এছাড়া মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে এই ম্যাচে মাঠে নামেন। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের (১৭ বছর ২৩৯ দিন) পর তিনি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হওয়ার মর্যাদা পেয়েছেন।
ফ্রান্সের জয়ের ধারা:
আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলেছে ফ্রান্স এবং সবকটিতেই তারা জয়লাভ করেছে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের রেফারিদের অধীনে এটি কোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড।
বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে ফ্রান্স এখন শিরোপার প্রধান দাবিদার। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ী দল। এই আসরে আধুনিক ফুটবলের যে গতি ও কৌশলের মিশেল দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের ৪ বা ৫ গোলে গোল্ডেন বুট জেতার ইতিহাসকে পুরোপুরি পাল্টে দিচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন এক রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলের ছয় মিনিটের বিধ্বংসী ঝড়ে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে দিদিয়ের দেশমের দল। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা তিন আসরে সেমিফাইনালে ওঠার বিরল কীর্তিও গড়েছে লে ব্লু।
শুরু থেকেই ফরাসি আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ফ্রান্স। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৫তম মিনিটে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর ২৮তম মিনিটে স্পট-কিক নেন এমবাপ্পে। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত দক্ষতায় শটটি প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্স শট নেয় ১৩টি, বিপরীতে মরক্কোর ছিল মাত্র একটি প্রচেষ্টা। তবে বুনুর অসাধারণ গোলকিপিংয়ের কারণে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা বজায় থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। অবশেষে ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে জট খুলে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওসমানে দেম্বেলে। এমবাপ্পের তৈরি করা আক্রমণ থেকে নিচু শটে জালে বল পাঠিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফরাসিরা।
মরক্কোর রূপকথার সমাপ্তি
আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন মরক্কো পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। ৮৩তম মিনিট পর্যন্ত তারা গোলমুখে কার্যকর কোনো শটই নিতে পারেনি। ম্যাচজুড়ে শটের হিসাবে ২১-৪ এবং অন-টার্গেট শটে ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। মরক্কোর সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন তিনি।
এমবাপ্পের নতুন ইতিহাস
এই ম্যাচে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত আটটি করে গোল করার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপের প্রায় শতবর্ষের ইতিহাসে মাত্র নয়জন ফুটবলার এক আসরে আট বা তার বেশি গোল করতে পেরেছেন। সেই বিরল তালিকায় এমবাপ্পে একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি এই কীর্তি টানা দুই আসরে দেখিয়েছেন। এছাড়া গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন তিনি। সমান আট গোল থাকলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন ফরাসি অধিনায়ক।
ওসমানে দেম্বেলে টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল করেন এই ম্যাচে। ফলে ২০০২ সালের ব্রাজিলের পর গত ৫০ বছরে একই বিশ্বকাপে অন্তত দুই খেলোয়াড়ের পাঁচ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়ল ফ্রান্স। ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো করেছিলেন ৮ গোল এবং রিভালদো করেছিলেন ৫ গোল।
টানা তিন বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স।
ফ্রান্সের এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের আধিপত্যের নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এমবাপ্পের চোট নিয়ে স্বস্তি
৭৭তম মিনিটে ডান গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তবে ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, চোট গুরুতর নয়। তিনি বলেন, "আমি ভালো আছি। গোড়ালিতে সামান্য চোট পেয়েছি। ভয়ের কিছু নেই।"
ফরাসি দলও নিশ্চিত করেছে যে সেমিফাইনালে তার খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, "আমরা যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, সেখানে পৌঁছেছি। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।"
অন্যদিকে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি বলেন, "আমরা শুধু মরক্কোর নয়, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের স্বপ্নও বহন করেছি। আজ হেরেছি, কিন্তু ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।" সাবেক ফ্রান্স মিডফিল্ডার প্যাট্রিক ভিয়েরা বর্তমান দলটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড ইয়ান রাইটের মতে, "ফ্রান্সই এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল। তাদের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।"
সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।
এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করেছে ফরাসিরা, হজম করেছে মাত্র ২টি। তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে তাদের প্রয়োজন আর মাত্র দুটি জয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক বিতর্ক এবার সুদূর বাংলাদেশেও এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচে চরম রেফারিং ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার সভাপতি, মূল ম্যাচ রেফারিসহ ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ক্ষুব্ধ তরুণ। একই সঙ্গে এই বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণে ফুটবল ভক্তদের যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তার বিপরীতে ফিফার কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী তরুণের নাম মো. রাকিব (২২), যিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে তিনি সুনির্দিষ্ট এই লিখিত অভিযোগটি নিয়ে সুধারাম মডেল থানায় হাজির হন।
তবে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রের এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তাদের আইনি এক্তিয়ারের বাইরে হওয়ায় অভিযোগটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগে রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় তিনি তাঁর প্রিয় দল মিসরের সমর্থনে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দেখছিলেন। ম্যাচ চলাকালে কর্তব্যরত রেফারি ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছেন, যার সরাসরি খেসারত হিসেবে তাঁর প্রিয় দল মিসর পরাজিত হতে বাধ্য হয়েছে।
অভিযোগে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ম্যাচের মূল দায়িত্ব পালনকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ম্যাচ পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। রাকিবের দাবি, পুরো ম্যাচ জুড়েই অন্যায্য পেনাল্টি প্রদান, মিসরের একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল বাতিল এবং মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নিজেদের মতো করে প্রভাবিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনি নিজে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মিসরের অসংখ্য অন্ধ সমর্থক চরমভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই মানসিক যন্ত্রণার জের ধরেই তিনি ফিফার কাছে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওই তরুণ রাতে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক একটি ক্রীড়া ও নীতিগত বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো ধরনের এক্তিয়ার বা সুযোগ নেই। এই আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তরুণকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং তিনি চাইলে ফিফার নিয়মানুযায়ী বা কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাকিব সাংবাদিকদের জানান, বিতর্কিত ওই ম্যাচটি দেখার পর থেকে তিনি এবং তাঁর সাথে থাকা অন্য সমর্থকেরা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে এই অন্যায়ের সুনির্দিষ্ট বিচার হওয়া উচিত। যেহেতু পুলিশ আইনি কারণে তাঁর অভিযোগটি গ্রহণ করেনি, তাই তিনি হার না মেনে একই অভিযোগ নিয়ে খুব দ্রুত স্থানীয় আদালতের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রয়োজনে এই অন্যায্য রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধনসহ নানামুখী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পাঁচজন অফিশিয়ালের সবাই আর্জেন্টিনার নাগরিক। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফরাসি সমর্থকরা এই প্যানেল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করে বলছেন, ম্যাচটিতে লিওনেল মেসিকেই প্রধান ‘রেফারি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
চলমান আসরে মূল রেফারি ও দুই লাইন্সম্যান একই দেশের হওয়ার ঘটনা বেশ কয়েকবার দেখা গেলেও, সাধারণত চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভার) অন্য দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। তবে টুর্নামেন্টের ৯৬টি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পর এবারই প্রথম মাঠ ও মাঠের বাইরের পাঁচজন রেফারিই একই দেশের, তথা আর্জেন্টিনার অন ডিউটি থাকছেন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
উল্লেখ্য, বিগত দুটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দিয়েছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে, গত আসরের ফাইনালে ফরাসিদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দুই দলের এমন চিরবৈরী ফুটবলীয় ইতিহাসের কারণে ফরাসি শিবিরের আশঙ্কা, আর্জেন্টিনার রেফারিরা তাদের দলের বিপক্ষে কোনো ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচটির মূল রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ফাকুন্দো তেলো। সহকারী হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চেদ। এছাড়া চতুর্থ রেফারি এবং রিজার্ভ রেফারি হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে দারিও হেরেরা এবং ক্রিশ্চিয়ান নাভারো।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত ফাকুন্দো তেলো মাঠে কড়া হাতে ম্যাচ পরিচালনার জন্য বেশ বিখ্যাত। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো বনাম পর্তুগাল ম্যাচে মরক্কোর ফুটবলার ওয়ালিদ চেদিরাকে লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। একই বছর আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে বোকা জুনিয়র্স ও রেসিং ক্লাবের মধ্যকার একটি ম্যাচে একাই ১০টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড রয়েছে তার। তবে ফ্রান্সের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তেলোর এবারই প্রথম।
কাকতালীয়ভাবে, এবারের আসরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ম্যাচে যিনি প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ার মূলত ফ্রান্সের নাগরিক। ওই ম্যাচে তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বা ‘টেনে’ খেলানোর পাল্টা অভিযোগ উঠেছিল।
তবে সেসব যুক্তিতে কান দিচ্ছেন না ফ্রান্সের গণমাধ্যম ও সমর্থকরা। দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ফিফার কোনো লজ্জা নেই’। পাশাপাশি এক ফরাসি ফুটবল ভক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফিফা এক কাজ করুক, মেসিকেই এই ম্যাচের রেফারি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দিক।’
মন্তব্য