নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় গোলের দেখা না মেলায় টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে কলম্বিয়াকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। দক্ষিণ আমেরিকান দেশটিকে ৪-৩ ব্যবধানে বিদায় করে শেষ আটের টিকিট পেল সুইসরা। শ্বাসরুদ্ধকর এই পেনাল্টি শুটআউটে কলম্বিয়া দুটি শটে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়, অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড এক শটে গোল না পেলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে।
দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছাল সুইজারল্যান্ড। এর আগে ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত আসরে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল, তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। ৭২ বছর পর শেষ আটে ওঠা সুইসদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আর্জেন্টিনা।
পেনাল্টি শুটআউটে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কুচো হার্নান্দেজের শটটি রুখে দেন। দলের পক্ষে রুবেন ভার্গাস জয়সূচক পেনাল্টি গোলটি করেন। যদিও এর আগে সুইজারল্যান্ডের আকাঞ্জি বল জালের বাইরে পাঠিয়েছিলেন এবং কলম্বিয়ার ডেভিনসন সানচেজও গোল করতে ব্যর্থ হন, তবুও শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত হয় ইউরোপীয় দলটির।
ভ্যাঙ্কুভারে হাজার হাজার আবেগপ্রবণ সমর্থকের উপস্থিতিতে কলম্বিয়া লড়াই শুরু করলেও সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের ২১তম মিনিটে গুস্তাভো পুয়ের্তার একটি চমৎকার বাঁকানো শট কোবেল রুখে দিলে প্রথম গোলবঞ্চিত হয় কলম্বিয়া। অন্যদিকে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসও ফাবিয়ান রিডার এবং ড্যান এনডোয়ের আক্রমণ প্রতিহত করে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখেন।
ম্যাচের দ্বিতীয় অংশে দুই দলের কোচ একাধিক পরিবর্তন আনলেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কলম্বিয়ার প্রধান তারকা লুইস দিয়াজকে পুরো ম্যাচে বোতলবন্দি করে রাখে সুইস ডিফেন্ডাররা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কলম্বিয়ার জন লুকুমির একটি হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে মোড় নেয়। আগামী পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড, যারা মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ রাতে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও প্রথমবারের মতো শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়া মোহামেদ সালাহর মিশর। একদিকে রেকর্ড আর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইতিহাস গড়া ‘ফারাও’ খ্যাত মিশরীয়রা। লড়াই শুরুর আগে মাঠের বাইরের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে ফুটবল বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা ‘অপটা’-র সুপার কম্পিউটার। তাদের বিশ্লেষণে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে প্রায় ২৫ হাজার বার কৃত্রিম সিমুলেশন চালিয়ে সুপার কম্পিউটার জানিয়েছে, এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তাদের হিসেবে আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা ৬৯.১ শতাংশ, যা দলটিকে এই ম্যাচের নিরঙ্কুশ ফেভারিটে পরিণত করেছে। বিপরীতে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের স্বাদ নেওয়া মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১২.৩ শতাংশ। বাকি ১৮.৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের পাতায় মিশরের চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে মেসিরা।
কাগজে-কলমে মিশর অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও দলটির তুরুপের তাস হতে পারেন মোহামেদ সালাহ। ফুটবল বিশ্ব অতীতে অনেক বড় বড় অঘটন দেখেছে, তাই সালাহর নেতৃত্বে মিশরীয়রা নতুন কোনো রূপকথা লিখবে কি না, সেই আশায় বুক বাঁধছে ভক্তরা। তবে এই ম্যাচের ফলাফলে পরিসংখ্যানের বাইরেও বড় একটি নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে ফুটবলারদের ক্লান্তি। নকআউট পর্বের আগের ম্যাচে দুই দলকেই ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াই চালিয়ে আসতে হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সেই শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য দুই দলই সবচেয়ে কম বিরতি পেয়েছে।
তীব্র ক্লান্তি আর চোটের আশঙ্কা এই ম্যাচের কৌশল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। ফিটনেস সমস্যার কারণে অনেক সময় ফেভারিট দলগুলো ছন্দ হারিয়ে ফেলে, আর সেই সুযোগটিই নিতে চাইবে সালাহবাহিনী। সব মিলিয়ে আজকের রাতটি হতে যাচ্ছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের। আর্জেন্টিনা কি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবে, নাকি সুপার কম্পিউটারের হিসাব উল্টে দিয়ে ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখাবে মিশর, এখন সেই রোমাঞ্চের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সারা বিশ্বের কোটি ফুটবল ভক্ত।
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিধাতা হয়তো স্ক্রিপ্টটা এভাবেই লিখে রেখেছিলেন। একদিকে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বাঁধভাঙা উল্লাস, অন্যদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিষাদমাখা প্রস্থানের করুণ দৃশ্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যোগ করা সময়ের নাটকীয় গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর এই হারের সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বর্ণাঢ্য এক মহাকাব্যের অবসান ঘটল—বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরবিদায় নিলেন ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ডালাস স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখনই মঞ্চে আবির্ভূত হন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১ মিনিট) পর্তুগিজ রক্ষণের ক্ষণিক অসতর্কতার সুযোগ নেন ফেরান তোরেস। তার বাড়ানো নিখুঁত থ্রু পাস ধরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন মেরিনো। নিচু এবং নিখুঁত এক শটে পর্তুগিজ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। পুরো স্টেডিয়ামে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার, আর পর্তুগিজ শিবিরে নেমে আসে শ্মশানের নীরবতা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিবন্ধী দল ছিল আক্রমণাত্মক। অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত স্পেন, তবে মিকেল ওইয়ারজাবালের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় পর্তুগাল। এর কিছুক্ষণ পরেই রোনালদোর একটি বুলেট গতির শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো উনাই সিমন। ৩৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের হেড এবং ফিরতি বলে রোনালদোর প্রচেষ্টাও নস্যাৎ করে দেন সিমন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নুনো মেন্ডিসের শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে পোস্টে আঘাত হানলে কপাল পোড়ে পর্তুগিজদের।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই কোচই কৌশলে পরিবর্তন আনেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ৭১ মিনিটে রাফায়েল লেয়াও এবং ডিয়োগো দালোটকে নামিয়ে আক্রমণ শানান। অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পর্তুগালকে চাপে রাখে। লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন পর্তুগিজ কিপার ডিয়োগো কস্তা। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। মেরিনোর সেই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
২০০৬ সালে যে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে ডালাসের ঘাসে তার সমাপ্তি ঘটল। ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে বেশ লড়াই করতে দেখা গেছে, তবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় তিনি ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ১২ বার। মেরিনোর গোলের পর পর্তুগাল মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠলেও বার্নার্দো সিলভার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সব আশা শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সান্ত্বনা ছাপিয়ে ডুকরে কেঁদে ওঠেন রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি থাকলেও, সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না তার। ডালাসের গ্যালারি তখন দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছিল এই কিংবদন্তিকে, যিনি অশ্রুসিক্ত চোখে একাই মাঠ ছাড়েন।
পর্তুগালকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা স্পেনের রক্ষণভাগ এই বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল হজম করেনি। শেষ আটে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।রোনালদোর বিদায়ে একটি যুগের অবসান ঘটল ঠিকই, তবে ডালাসের এই রাতটি ফুটবল ভক্তদের মনে থেকে যাবে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক লড়াই এবং এক কিংবদন্তির বিদায়ের করুণ সাক্ষী হিসেবে।
ছবি: সংগৃহীত
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া নারী দল। লর্ডসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই একক আধিপত্য বিস্তার করে অজিরা। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫০ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই ১৫১ রানের জয়ের লক্ষ্যে অনায়াসে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দলীয় স্কোরে খুব বেশি রান ওঠার আগেই ৬ রানে অ্যামি জোনস এবং ৮ রানে ড্যানি ওয়াট সাজঘরে ফিরে যান। এরপর তৃতীয় উইকেটে ন্যাট স্কিভার ব্রান্ট ও অ্যালিস ক্যাপসি মিলে শুরুর চাপ কিছুটা সামলে নেন। ক্যাপসি ২৩ এবং হেথার নাইট মাত্র ২ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত দারুণ ব্যাটিং করে দলকে টেনে তোলেন স্কিভার ব্রান্ট ও ফ্রেইয়া ক্যাম্প। ব্রান্টের অপরাজিত ৫৮ এবং ক্যাম্পের অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে সম্মানজনক স্কোর পায় ইংলিশরা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারজন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেও কিছুটা ধাক্কা লাগে। দলীয় স্কোরে প্রভাব ফেলার আগেই মাত্র ৯ রান করে বিদায় নেন জর্জিয়া ভোল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে বেথ মুনি ও ফোবে লিচফিল্ডের ১০০ রানের বিশাল জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত পুরোপুরি মজবুত হয়ে যায়। লিচফিল্ড ৪৮ রান করে আউট হন এবং মুনি ৬৪ রানের একটি চমৎকার ব্যক্তিগত ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর এলিস পেরি ও অ্যাশলে গার্ডনার মিলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। পেরি ১৩ এবং গার্ডনার ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০টি আসরের মধ্যে আটটিতেই ফাইনাল খেলেছে তারা, যার মধ্যে সাতবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এছাড়া কেবল ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের একবার করে শিরোপা জেতার রেকর্ড রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তার গতির ঝড়ে মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। এর মাধ্যমে তিনি সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও পেসার রুবেল হোসেনের দীর্ঘদিনের পুরোনো রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন।
ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকেই নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে। ৩৬ ওভার ৪ বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় তারা। স্বাগতিক দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে নিউম্যান নিয়ামুরির ব্যাট থেকে। বাকি ব্যাটাররা কেউই বাংলাদেশি বোলারদের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
বাংলাদেশের জার্সিতে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরান ২২ বছর বয়সী এই পেসার। তিনি মাত্র ২১ রান খরচায় তুলে নেন জিম্বাবুয়ের ৬টি উইকেট, যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে এই রেকর্ডটি যৌথভাবে মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং রুবেল হোসেনের দখলে ছিল। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে মাশরাফি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেল দুজনেই ২৬ রানের বিনিময়ে ৬টি করে উইকেট শিকার করে এই রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন।
নিজের সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেই এমন অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন নাহিদ রানা। মাত্র ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেট বা ফাইফার শিকারের ঘটনা। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ফাইফার নেওয়ার তালিকায় এখন তার ওপরে কেবল বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার হতাশায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইশমা তানজিম। আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে বিকেএসপিতে আয়োজিত ক্যাম্পের দ্বিতীয় ধাপে জায়গা না পেয়ে তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গত রোববার তার জ্ঞান ফেরে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ওই রাতেই তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে এই ক্রিকেটার নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দলের ক্যাম্পের প্রথম ধাপে ২৭ জন ক্রিকেটারের তালিকায় ইশমা থাকলেও, দ্বিতীয় ধাপের ২১ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। বাদ পড়ার কারণ হিসেবে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে গোড়ালির ইনজুরি এবং ফিটনেস সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তবে ইশমার দাবি, তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ ফিট আছেন এবং কেবল ইনজুরির অজুহাত দেখিয়েই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কথাও তিনি ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।
ক্রিকেটের প্রতি অসীম ভালোবাসার কারণেই এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন এই ২৯ বয়সী অলরাউন্ডার। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জানান, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, বরং ভালোবেসেই তিনি ক্রিকেটকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচের কোনো ছবি নিজের কাছে না থাকার তীব্র আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। চরম হতাশা থেকেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং শারীরিকভাবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি বলে জানিয়েছেন ইশমা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এই আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তবে বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মূলত ফিটনেস ঘাটতির কারণেই তাকে ক্যাম্পে রাখা হয়নি। উল্লেখ্য, ২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ওয়ানডে এবং চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। হারারেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টস জিতে প্রতিপক্ষকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
এই ম্যাচে তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
স্পিন আক্রমণে আছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রয়োজনে পার্ট-টাইম বোলিং করতে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন।
উইকেটকিপিং দায়িত্ব পালন করছেন নুরুল হাসান সোহান। চোটের কারণে বাংলাদেশের একাদশে নেই লিটন দাস। লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাডান্ডে, ওয়েসলি মাধেভেরে, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরি, সিকান্দার রাজা।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্ন আবারও চূর্ণ হলো। সেই সঙ্গে যবনিকা পড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন নেইমার জুনিয়র। কাকতালীয়ভাবে, ১৬ বছর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা, আর সেই একই মাঠেই আজ শেষ হলো এক বর্ণিল অধ্যায়।
অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের গ্লোভো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। তিনি বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই অনেক চেষ্টা করেছি। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।” সরাসরি অবসরের কথা না বললেও তাঁর এই মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া ‘ব্রেকিং নিউজ’ নিশ্চিত করছে যে, সেলেসাওদের জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই জাদুকরকে।
ব্যর্থতার বৃত্তে ব্রাজিল
১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ায় সেলেসাওদের শিরোপা খরা আরও দীর্ঘ হলো। ১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের দীর্ঘতম শিরোপাহীন সময়—২০৩০ বিশ্বকাপ নাগাদ যা ২৮ বছরে দাঁড়াবে। গ্রুপ পর্বে অনিয়মিত থাকলেও বিদায়ী ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়েছিলেন নেইমার (২-১), কিন্তু তা দলের পরাজয় এড়াতে যথেষ্ট ছিল না।
একটি সোনালী ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান
২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। এরপর ১৬ বছরে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১৩০টি ম্যাচ। ৮০টি গোল করে তিনি দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, যা পেলের করা রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৫৮টি অ্যাসিস্ট। নেইমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রাপ্তি ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয়। তবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখা হলো না তাঁর। থিয়াগো সিলভার পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও শিরোপাহীন থেকে বিদায় নিতে হলো তাঁকে।
নেইমারের এই বিদায়ের খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে যে চঞ্চল তরুণ একদিন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলেন, ৩৪ বছর বয়সে সেই মাঠ থেকেই বিদায় নিলেন এক বুক হতাশা আর অপ্রাপ্তি নিয়ে। ফ্যাব্রিজিও রোমানো তাঁর পোস্টে নেইমারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, “সবকিছু এখন শেষ।”
নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ আর কিংবদন্তি নেইমারের বিদায়—সব মিলিয়ে এই পরাজয় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য