× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
Brazils ordeal to stop Haaland who scored 26 goals in 14 matches
google_news print-icon

১৪ ম্যাচে ২৬ গোল করা হালান্ডকে থামানোর অগ্নিপরীক্ষা ব্রাজিলের

১৪-ম্যাচে-২৬-গোল-করা-হালান্ডকে-থামানোর-অগ্নিপরীক্ষা-ব্রাজিলের-
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দল নরওয়ে। তবে সেলেসাওদের জন্য শেষ ষোলোর এই বৈতরণী পার হতে হলে সবার আগে নিজেদের পুরোনো এক কালো ইতিহাস মুছে ফেলতে হবে, আর তা হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়েকে হারানোর স্বাদ পাওয়া। বিশ্ব ফুটবলে নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের নিজেদের ইতিহাসে কখনোই হারাতে পারেনি ব্রাজিল। দুই দলের আগের চারবারের দেখায় দুটিতে হেরেছে ব্রাজিল এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ব্রাজিলের নতুন হাইপ্রোফাইল কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য কেবল অতীতের এই নেতিবাচক পরিসংখ্যানই একমাত্র চিন্তার কারণ নয়। অতীতের এই অজেয় রেকর্ডের বাইরেও ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর নরওয়ে ফুটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ও প্রতিভাবান ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’-এর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা।

পরিসংখ্যানের খাতিরে বলা যায়, ব্রাজিলিয়ানদের ওপর অতীতের রেকর্ড খুব বেশি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলার কথা নয়। কারণ, দুই দলের প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩৮ বছর আগে এবং সর্বশেষ ২০০৬ সালের পর গত ২০ বছরে এই দুই দল আর কখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখিই হয়নি। তাই ব্রাজিল যে ধারাবাহিকভাবে নরওয়ের কাছে হেরেছে, বিষয়টি তেমন নয়। ব্রাজিলের জন্য আসল চিন্তার কারণ হলো, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ের কাছে শেষবার হারের পর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নর্ডিক দেশটির ফুটবলে যে নীরব বিপ্লব ঘটেছে, তা এখন দৃশ্যমান। নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এক ঝাঁক ফুটবলারকে একসাথে পেয়েছে, যার কারণে বর্তমান দলটি ব্রাজিলের সামনে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

ব্রাজিলিয়ান বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবো’-র বিশিষ্ট ফুটবল কলামিস্ট কার্লোস এদুয়ার্দোর মতে, ৯০-এর দশকের রক্ষণাত্মক নরওয়েজিয়ান দলের চেয়েও বর্তমানের আক্রমণাত্মক দল ফুটবলীয় সামর্থ্যে অনেক বেশি ক্ষিপ্র ও আধুনিক, যাদের অনায়াসে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজাত তালিকায় রাখা যায়। এর আগে দুই দেশের মধ্যকার চার ম্যাচের তিনটিই হয়েছিল ওসলোতে, নরওয়ের চেনা কন্ডিশনে। কিন্তু এবার আমেরিকার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ম্যাচের দিন তীব্র গরম ও উচ্চ তাপমাত্রা থাকবে, যা দুই দলের জন্যই বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ম্যাচটি হয়েছিল ফরাসি গ্রীষ্মের মনোরম রাতে।

ইতিহাসের পাতায় ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালের মাত্র ১৩ মাসের ব্যবধানে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নরওয়ে যে দুটি জয় পেয়েছিল, তা এসেছিল কিংবদন্তি কোচ এগিল ‘ড্রিলো’র নিখুঁত রণকৌশলে। তাঁর অধীনে নরওয়ে মূলত রক্ষণভাগ নিরেট রেখে ফরোয়ার্ডদের শারীরিক শক্তি ও গতিকে কাজে লাগিয়ে উইং ধরে কাউন্টার অ্যাটাক খেলত। মজার ব্যাপার হলো, ২০২৬ সালের বর্তমান দলটিও প্রায় একই কৌশলে খেলছে, তবে তাদের আক্রমণের ধার আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

প্রায় ৩০ বছর আগে নরওয়েজিয়ান আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন টোরে আন্দ্রে ফ্লো, যিনি ব্রাজিলের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৩টি গোল করেছিলেন। ১.৯৩ মিটার উচ্চতার ফ্লো গতি ও শারীরিক শক্তিতে অনন্য হলেও, বর্তমান সময়ের আর্লিং হালান্ডের মতো গোল করার অতিমানবীয় সহজাত প্রবৃত্তি তাঁর ছিল না। ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড নিজের শেষ ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই করেছেন অবিশ্বাস্য ২৬টি গোল! মাত্র ৫৩ ম্যাচে দ্রুততম ৬০ গোলের জাতীয় রেকর্ড গড়া এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও করেছেন ১৬ গোল। চলমান এই বিশ্বকাপেও ইতিমধ্যেই ৫টি গোল করে গোল্ডেন বুট পাওয়ার দৌড়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন তিনি।

নাম্বার নাইন পজিশনে থাকা হালান্ডের শক্তির পাশাপাশি নরওয়েজিয়ান দলের বর্তমান ধার বাড়াচ্ছেন মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, অ্যান্তনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো ইউরোপ কাঁপানো সব তারকা। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান এই আক্রমণভাগের ড্রিবলিং বা ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ছিটকে দেওয়ার দক্ষতা ৯০-এর দশকের দলটির চেয়ে আকাশচুম্বী, যা ওই সময় কল্পনাও করা যেত না। ফুটবল বিশ্লেষক মানসুরের মতে, বর্তমানে যেকোনো বিশ্বমানের ফুলব্যাককে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ড্রিবলিংয়ের অস্ত্র দিয়ে অনায়াসে সামলাতে পারছে নরওয়ে।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে বাছাইপর্বে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখানো এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার নকআউটের ম্যাচ জেতা নরওয়ে কেবল চার দশকের এক রেকর্ডের কারণে ব্রাজিলের জন্য বিপজ্জনক নয়। বরং ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা এক অবিশ্বাস্য ঝাঁক নর্ডিক যোদ্ধার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই মরণপণ লড়াইয়ে আনচেলত্তির সাম্বার জাদু নাকি হালান্ডের নর্ডিক ঝড়—কোনটি শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
Despite being on the verge of victory Senegal lost to Belgium in the last sixteen

জয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়েও হেরে বিদায় সেনেগাল, শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

জয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়েও হেরে বিদায় সেনেগাল, শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম ছবি: সংগৃহীত

এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এক সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় ইউরোপের রেড ডেভিলরা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে স্মরণীয় এক জয় এনে দেন ইউরি টিলেমান্স। নকআউট পর্বের পরবর্তী ম্যাচে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়া ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে সেনেগাল। ১৩তম মিনিটে ইসমাইলা সারের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বেলজিয়াম রক্ষা পেলেও ২৫তম মিনিটে সেনেগালের আক্রমণ আর ঠেকানো যায়নি। সাদিও মানের নিখুঁত ক্রসে হাবিব দিয়ারা গোল করে সেনেগালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। ৫১ মিনিটে মুসা নিয়াখাতের লম্ব থ্রু বল থেকে দুর্দান্ত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে বল জালে জড়ান তিনি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম যখন খাদের কিনারায়, তখনই শুরু হয় তাদের প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য।

ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল জয়ের সুবাস পাচ্ছিল। কিন্তু ৮৬ থেকে ৮৯—এই মাত্র তিন মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় আফ্রিকানদের রক্ষণভাগ। ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকু গোল করে ব্যবধান কমান এবং ৮৯ মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের দর্শনীয় হেডে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ২-২ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াবে, তখনই ১২০ মিনিটের মাথায় নাটকীয় মোড় নেয় খেলা।

অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে সেনেগালের ডিফেন্ডার লামিনে কামারা ডি-বক্সের ভেতরে বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সকে ফাউল করেন। রেফারি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ১২৫তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথার স্পট-কিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামের ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন টিলেমান্স। বেলজিয়ামের এই অবিশ্বাস্য জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প হিসেবে স্থান করে নিল। অন্যদিকে অসাধারণ খেলেও শেষ মুহূর্তের ভুলে বিদায় নিতে হলো সেনেগালকে।

মন্তব্য

খেলা
England in the last sixteen with Kanes double goal

কেইনের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড

কেইনের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর নাটকীয় এক লড়াইয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলের সুবাদে এক অবিস্মরণীয় জয় পায় থ্রি লায়ন্সরা। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ ৬০ বছর পর (১৯৬৬ সালের পর) বিশ্বকাপে প্রথম গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ল ইংলিশরা। আগামী ৬ জুলাই মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে তারা।

ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। মাত্র ৭ম মিনিটে অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার সহযোগিতায় ব্রায়ান সিপেঙ্গা দুর্দান্ত এক গোল করে আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে নেন। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া সিপেঙ্গার ডান পায়ের সেই শটে কঙ্গো ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায়। প্রথমার্ধে ইংলিশরা বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। তবে গোলের দেখা পেতে তাদের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান হ্যারি কেইন। সমতায় ফেরার পর ইংলিশদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ৪ মিনিট আগে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন কেইন। বক্সের বাইরে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে এক জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।

ম্যাচের শেষ দিকে কঙ্গো সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ইংলিশ রক্ষণভাগ কোনো ভুল করেনি। ২-১ ব্যবধানের এই জয়ে হ্যারি কেইন জাতীয় দলের জন্য আরও একবার নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে প্রমাণ করলেন। অন্যদিকে বীরোচিত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কঙ্গোকে। হ্যারি কেইনের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ইংলিশ সমর্থকদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের জন্য দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তুলেছে।

মন্তব্য

খেলা
United States beat Bosnia in last sixteen

বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল মার্কিনরা। প্রথমার্ধে ফোলারিন বালোগুনের গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে মালিক টিলম্যানের জাদুকরী ফ্রি-কিকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল। আগামী সোমবার সিয়াটলে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধে একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে গেলেও বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে স্বস্তি এনে দেন ফোলারিন বালোগুন। তাঁর লক্ষ্যভেদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মার্কিনিরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের মুখে পড়তে হয় তাদের। বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ার ডিফেন্ডারের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় গোলদাতা বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। রেফারির এই সিদ্ধান্তকে ধারাভাষ্যকার ও বিশেষজ্ঞরা ‘বিতর্কিত’ বলে অভিহিত করেছেন।

ম্যাচের শেষ ২৬ মিনিট ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বসনিয়া একের পর এক আক্রমণের ঝড় তোলে। কিন্তু স্বাগতিকদের জমাট রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হয় তারা। উল্টো ৮২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে মালিক টিলম্যানের এক নিখুঁত ও চোখধাঁধানো ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই গোলেই মূলত বসনিয়ার ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায় এবং ২-০ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয় মার্কিনিদের।

এই জয় যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে লাল কার্ডের কারণে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার বালোগুনকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে স্বাগতিকদের, যা দলটির আক্রমণভাগের জন্য বড় এক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। ১ জুলাই অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের মাঝে বাঁধভাঙা উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে।

মন্তব্য

খেলা
France is flying to victory

দাপুটে জয়ে উড়ছে ফ্রান্স

দাপুটে জয়ে উড়ছে ফ্রান্স ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর হাইভোল্টেজ ও একপেশে ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধূলিসাৎ করে দাপটের সাথে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ফ্রান্স। দলের পোস্টার বয় ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং তরুণ তুর্কি ব্র্যাডলি বারকোলার এক চমৎকার গোলের সুবাদে এই বিশাল জয় পায় ফরাসিরা। মাঠের লড়াইয়ে সুইডিশরা শুরুর দিকে কিছুটা প্রতিরোধের দেয়াল গড়ার চেষ্টা করলেও, ফ্রান্সের গতিময় ও ধারালো আক্রমণের সামনে ম্যাচের সময় বাড়ার সাথে সাথে তারা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে এবার দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে, যারা আগের ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক দেখিয়েছে।

ম্যাচের বাঁশি বাজার শুরু থেকেই সুইডেনের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ফ্রান্স। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে সুইডিশ ডিফেন্স ভেঙে জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করে দেন। প্রথমার্ধের সিংহভাগ সময় সুইডেনের গোলরক্ষক জেটারস্ট্রোমের অতিমানবীয় কিছু সেভ ও দৃঢ়তায় ফ্রান্স গোলবঞ্চিত থাকে। তবে বিরতির ঠিক আগে সুইডিশদের সেই রক্ষণব্যূহ আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ডি-বক্সে বল পেয়ে নিজের একক ড্রিবলিং নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে এক দর্শনীয় কার্ভ শটে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। এই মনস্তাত্ত্বিক লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ফরাসিরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে আক্রমণের তীব্রতা ও ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ফরাসি আক্রমণভাগ। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা দারুণ এক নিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২-০ করেন। ফ্রান্সের একের পর এক গতিময় আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়া সুইডেন পুরো ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই পায়নি। এরপর ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে সুইডেনের ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এমবাপ্পে। এই গোল উৎসবের পর শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান বিশ্ব রানার্সআপরা।

ফ্রান্সের এই ক্লিনশিট ও আধিপত্য বজায় রাখার পেছনে গোলরক্ষক মাইক মাইগনান, ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা এবং মাঝমাঠের চালিকাশক্তি অহেলিয়াঁ চুয়ামেনিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে সুইডেনের তারকা ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গোকেরেসরা প্রথমার্ধে দু-একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দেয়ালে ফাটল ধরাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। ফ্রান্সের এই বিশাল জয়ে এমবাপ্পের এমন বিধ্বংসী ও অতিমানবীয় ফর্ম প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পরবর্তী নকআউট ম্যাচের জন্য বিপক্ষ শিবিরে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল।

রোনালদো-লেওনিদাসকে টপকে চূড়ায় এমবাপ্পে

এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বিশ্বকাপের নকআউটেই ১০টি গোল করেছেন। নরওয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটির মাধ্যমে তিনি সর্বকালের তালিকায় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো ও লিওনিদাসকে (৮ গোল) ছাড়িয়ে গেছেন।

এমবাপ্পের একাধিক গোলের রেকর্ড

গ্রুপপর্বের পর নকআউটেও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন এমবাপ্পে। যা বিশ্বকাপের নকআউটে তার চতুর্থ একাধিক গোলের ঘটনা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় এই সংখ্যাটি দ্বিগুণ। এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের সাত ম্যাচে একাধিক গোলের রেকর্ড গড়লেন এমবাপ্পে।

এমবাপ্পের গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা

চলতি আসরে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেছেন এমবাপ্পে। তবে এই টুর্নামেন্টে তার ২টি অ্যাসিস্ট তাকে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে মেসির চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

এমবাপ্পে ও দেম্বেলে রেকর্ড

বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে যৌথভাবে ৬টি গোলে অবদান রেখেছেন (এমবাপ্পেকে দেম্বেলের ৪ অ্যাসিস্ট এবং দেম্বেলেকে এমবাপ্পের ২ অ্যাসিস্ট)। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটি অন্য যেকোনো জুটির চেয়ে বেশি।

সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড থেকে সামান্য দূরে এমবাপ্পে

সুইডেন ম্যাচে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) টপকে তিনি এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন এবং শীর্ষ গোলদাতা লিওনেল মেসির (১৯ গোল) চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।

মাইকেল ওলিসের রেকর্ড

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের পর এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপের এক আসরে (১৯৭০) সর্বোচ্চ ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনো ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে (১৯৬৬ আসর থেকে রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)।

কোচের রেকর্ড

ফ্রান্সের ম্যানেজার হিসেবে দিদিয়ের দেশম ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার নবম জয় পেয়েছেন, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যেকোনো কোচের চেয়ে বেশি।

গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রমের রেকর্ড

গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রম দুর্দান্ত ফর্মে না থাকলে সুইডেন হয়তো তিনটির বেশি গোল হজম করত। ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি নয়টি সেভ করেছেন; গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনো সুইডিশ গোলরক্ষকের বিশ্বকাপ ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভ (রনি হেলস্ট্রমের ১০টি সেভের পরেই তার অবস্থান, যা তিনি ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে করেছিলেন)।

ফ্রান্সের রেকর্ড

বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই ন্যূনতম ৩টি করে গোল করেছে ফ্রান্স। যা ফিফার এই মেগা ইভেন্টের ইতিহাসে টানা সর্বোচ্চ ম্যাচে কমপক্ষে তিন গোলের রেকর্ড।

‘ব্যাটম্যান’ এমবাপ্পের ‘রবিন’ ওলিসে

ফ্রান্সের মাঝমাঠ থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনে এমবাপ্পে ও ওলিসের অবাধ বিচরণ এবং নিখুঁত বোঝাপড়া দেখে যে কারোই ব্যাটম্যান-রবিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের কথা মনে পড়তে বাধ্য। গতি, টানটান রোমাঞ্চ, দুই পায়ের জাদুকরী অ্যাকশন আর দুটি নদীর জল এক মোহনায় মিশে যাওয়ার মতো ফুটবলীয় রসায়নে সমৃদ্ধ তাঁদের এই জুটি। ব্যাটম্যানের জন্য রবিন ঠিক যতটা নিঃস্বার্থ, ওলিসেও এমবাপ্পের জন্য মাঠের ভেতর ঠিক ততটাই উজাড় করে দেওয়া এক যোদ্ধা। সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের সর্বশেষ ৩-০ গোলের দাপুটে জয়েও এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ওই ম্যাচে এমবাপ্পের করা চোখ ধাঁধানো জোড়া গোলের একটির মূল উৎস ছিলেন ওলিসে, আর দলের অন্য গোলটিতেও অ্যাসিস্ট ছিল তার। গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যার চেয়েও মাঠে এই দুজনের ‘টেলিপ্যাথিক’ বোঝাপড়াটাই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে—পাস ঠিক কোন মুহূর্তে দিতে হবে, কে কোথায় ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন, বল ঠিক কতটা সুইং করালে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে সতীর্থের পায়ে পৌঁছাবে, তা যেন দুজনের মগজেই আগে থেকে প্রোগ্রাম করা!

বিশেষ করে ফ্রান্স যখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ করে আক্রমণে ওঠে, তখন মাঠের চিত্রটা চমৎকার ফুটে ওঠে। যেন কোনো এক গ্রামীণ চিরন্তন খেলায় মেতেছেন দুজনে, যেখানে প্রতিপক্ষের কোনো ডিফেন্ডার হাজার চেষ্টা করেও তাদের কাউকেই ছুঁতে বা থামাতে পারছে না। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬-এ পৌঁছে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে বসেছেন, যার মধ্যে ৩টি গোলের নিখুঁত উৎসই ছিলেন ওলিসে। ফরাসি আক্রমণভাগের এই জাদুকরী রূপের ট্রেলার বিশ্ববাসী প্রতি ম্যাচেই দেখছে—ওলিসের ডিফেন্সচেরা মাপা পাস আর এমবাপ্পের বিদ্যুৎগতির মুভমেন্ট; যেন দুষ্টের দমনে কমিক বইয়ের রবিন একের পর এক সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন আর ব্যাটম্যান এসে মোক্ষম আঘাত হানছেন।

ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ৪ ম্যাচে ইতিমধ্যেই ৫টি গোল করিয়েছেন ওলিসে। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ওলিসের আগে প্রথম ৪ ম্যাচে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছেন মাত্র দুজন—১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির লাজলো বুদাই (৬ অ্যাসিস্ট) এবং ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ইতালির আমাদিও বিয়াভাতি (৫ অ্যাসিস্ট)। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে একই দলের একজন খেলোয়াড় ন্যূনতম ৬টি গোল করেছেন এবং অন্যজন ন্যূনতম ৫টি গোল করিয়েছেন—এমন যুগলবন্দী বিশ্বমঞ্চে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল সুদূর ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে, পোল্যান্ডের কিংবদন্তি লাতো (৭ গোল) ও গাদোচা (৫ অ্যাসিস্ট) জুটির মধ্যে। এই তালিকায় এর আগে ১৯৫৮ আসরের ফন্তেইন-কোপা কিংবা ১৯৭০ আসরের পেলে-জেয়ার্জিনহোর মতো অমর জুটির নাম রয়েছে। ওলিসের প্রতিটি পাসের গোলদাতা এমবাপ্পে না হলেও, চলমান বিশ্বকাপে দুজনেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে বিশ্বসেরা। এমবাপ্পের চেয়ে যেমন বেশি গোল এই মুহূর্তে আর কারও নেই, তেমনি ওলিসের চেয়ে বেশি গোল বানানোর কারিগরও টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় কেউ নেই। মাঠে তাদের এই রসায়ন দেখে মনে হয়, শত শত নুড়ির বাধা টপকে কোত্থেকে যেন মাঠের বুকে গলগল করে বেরিয়ে আসছে খাঁটি তরল সোনার স্রোত!

মেসি-এমবাপ্পে সমানে সমান

বিশ্বকাপে গোলের ধারায় দারুণ ছন্দে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।

বিশ্বকাপের বর্তমান আসরে দুজনেই এখন ৬টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।

এমবাপ্পের এই ফর্ম কেবল চলতি বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বমঞ্চে সর্বকালের সেরা গোলদাতার সিংহাসন দখলের লড়াইয়েও তিনি এখন মেসির ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছেন।

গোল গড়ের হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল করা এমবাপ্পের গোল গড় ম্যাচপ্রতি ১টি।

২০১৮ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই চার গোল করে বিশ্বজয়ের সাক্ষী হয়েছিলেন এমবাপ্পে। ২০২২ আসরে আট গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। আর চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ছয় গোল করে আবারও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়ে এমবাপ্পে নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।

মন্তব্য

খেলা
An innings loss to Zimbabwe dropped Bangladesh to eight in the Test rankings

জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস হার, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে আটে নেমে গেল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস হার, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে আটে নেমে গেল বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক টেস্ট হোয়াইটওয়াশের মহাকাব্য লিখে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় এক লাফ দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে উঠে এসেছিল টাইগাররা। তবে নিজেদের ইতিহাসের সেই সর্বোচ্চ ও গৌরবময় অবস্থানটি এক মাসও ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ঘরের মাঠে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অবিশ্বাস্যভাবে ইনিংস ব্যবধানে হেরে র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। আর ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচ না খেলেই ভগ্যের জোরে এক ধাপ এগিয়ে আবারও সাতে উঠে এসেছে পাকিস্তান।

অথচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। আচমকা ব্যাটিং ধসের সেই বড় ক্ষত আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি শান্তর দল। পরে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ে ৪১০ রানের পাহাড় গড়লে বাংলাদেশের পরাজয় তখনই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও একই ব্যাটিং ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটায় বাংলাদেশ। টপঅর্ডার থেকে শুরু করে মিডলঅর্ডার—ব্যাট হাতে কেউই ক্রিজে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। উল্টো উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে যোগ দিতে ব্যাটারদের মধ্যে যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫ রানে সব উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৮৫ রানের এক চরম লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ।

নিজেদের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ এর আগে ইনিংস ব্যবধানে কম হারেনি। কিন্তু ক্রিকেটের পুঁচকে দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারার রেকর্ড এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে সবশেষ ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম দ্বিপাক্ষিক দেখায় ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে এমন শোচনীয় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। আর এই নজিরবিহীন পরাজয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের সুখের দিনটা এক ঝটকায় শেষ হয়ে গেল শান্তদের।

এর আগে গত মে মাসে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের ২-০ ব্যবধানে টেস্টে ধবলধোলাই করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল লাল-সবুজের দল। সেই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পুরস্কার হাতেনাতে পেয়ে আইসিসির হালনাগাদ টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে ৯ নম্বরে আটকে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক ধাক্কায় পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে দিয়েছিল।

কিন্তু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ হেরেই ৫ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছিল ৭৮। তবে জিম্বাবুয়ের কাছে ম্যাচটি হেরে বর্তমানে বাংলাদেশের ঝুলিতে রয়েছে ৭৩ পয়েন্ট, যার ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান এখন অষ্টম। অন্যদিকে, কোনো ম্যাচ না খেলেই লাভবান হওয়া পাকিস্তান ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পুনরায় সপ্তম স্থানে আরোহণ করেছে। জিম্বাবুয়ের কাছে এই অপ্রত্যাশিত পরাজয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।

মন্তব্য

খেলা
Ronaldos Portugal will win the World Cup the new prediction of Ghanas Tantric

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল, ঘানার তান্ত্রিকের নতুন ভবিষ্যদ্বাণী

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল, ঘানার তান্ত্রিকের নতুন ভবিষ্যদ্বাণী ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃতিক কাণ্ডকীর্তি নিয়েও আলোচনার শেষ নেই। বিশেষ করে, গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে ‘কালা জাদু’ করার দাবি জানিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন ঘানার বিতর্কিত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বোনসাম। এরপর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এক নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী করে ফুটবল ভক্তদের মাঝে তুমুল চর্চায় আসেন তিনি। বোনসামের দাবি ছিল, কেপ ভার্দের কাছে হেরে নাকি বিশ্বকাপ থেকে লজ্জাজনক বিদায় নেবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এবার সেই চর্চাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে পুরোপুরি কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো এক নতুন ও বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার এই স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর দাবি— এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঠতে যাচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং পর্তুগালের হাতে। আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই খবরটি বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই ঘানাইয়ান ওঝার মতে, ফুটবল মাঠে আসল লড়াই শুরু হওয়ার অনেক আগেই নাকি আধ্যাত্মিক জগতে এই টুর্নামেন্টের ভাগ্য সম্পূর্ণ নির্ধারিত হয়ে গেছে। বোনসামের জোরালো ভবিষ্যদ্বাণী— এবারের বিশ্বকাপটি কেবলই রোনালদো এবং পর্তুগালের; তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে। তিনি দাবি করেন, পর্তুগাল ইতোমধ্যে ‘আধ্যাত্মিক জগতে’ এই টুর্নামেন্টের ট্রফি জিতে নিয়েছে। তাই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ট্রফি জেতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, কারণ ফুটবল বিধাতা এবার ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে তাঁর জন্য ‘সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ’ আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। বোনসামের এমন অবিশ্বাস্য মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোড়ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে নিয়ে হুলস্থুল খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন বোনসাম। ইংল্যান্ড বনাম ঘানা ম্যাচের ঠিক আগে তিনি দাবি করেছিলেন, মাঠের ভেতর কেইনকে থামাতে তিনি এক বিশেষ ‘কালা জাদু’ বা অভিশাপ দিচ্ছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বেশ দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, "আমি অতীতে কী করতে পারি তা বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছি, তাই তাকে (কেইন) মাঠে থামাতে আমার কী করতে হবে তা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে।"

কাকতালীয়ভাবে, ঘানার বিরুদ্ধে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে শক্তিশালী ইংল্যান্ড গোলশূন্য (০-০) ড্র করে মাঠ ছাড়ে এবং হ্যারি কেইন গোল করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। এই ম্যাচের পরেই অন্ধবিশ্বাসী ভক্তদের মাঝে বোনসামের অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন ও শোরগোল শুরু হয়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর হ্যারি কেইনের প্রতি দেওয়া কথিত সেই ‘অভিশাপ’ দয়া করে তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দেন এই ঘানাইয়ান তান্ত্রিক। কেইনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হ্যারি কেইন আমার শত্রু নন। আমার খুব শীঘ্রই একটি সন্তান হতে যাচ্ছে, যার নাম আমি এই ইংলিশ অধিনায়কের নামানুসারে ‘হ্যারি কেইন’ রাখব।" এমনকি তিনি কেইনকে তাঁর আধ্যাত্মিক ‘বন্ধন’ থেকে চিরতরে মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানান, যাতে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কেইন স্বাভাবিকভাবে গোল করতে পারেন!

কে এই কোয়াকু বোনসাম?

ঘানার রাজধানী আক্রায় তিনটি নিজস্ব উপাসনালয় বা আধ্যাত্মিক আস্তানা পরিচালনা করা নানা কোয়াকু বোনসাম দেশটির অন্যতম শীর্ষ বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। নিজেকে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী পুরোহিত ও কবিরাজ দাবি করা বোনসাম মূলত সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পরামর্শ ও ভেষজ চিকিৎসা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ফুটবল ভক্তদের কাছে অবশ্য তাঁর এই বিচিত্র কর্মকাণ্ড নতুন কিছু নয়। এর আগে ১২ বছর আগে, ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তিনি ফুটবল বিশ্বে বড় ধরনের হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সেবার গ্রুপ পর্বে ঘানার মুখোমুখি হওয়ার আগে পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যে মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েছিলেন, তার পেছনে নিজের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ও কালো জাদুর হাত রয়েছে বলে জোর দাবি করেছিলেন এই বোনসাম।

বিচিত্র বিষয় হলো, ১২ বছর আগে যে বোনসাম রোনালদোকে ইনজুরিতে ফেলে বিশ্বকাপে আটকে দিতে চেয়েছিলেন, সেই বোনসামই এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সুর বদলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হাতেই দেখছেন বিশ্বজয়ের ট্রফি। তান্ত্রিকের এই ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত মাঠের ফুটবলে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছেন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি সিআরসেভেন সমর্থক।

মন্তব্য

খেলা
Brazil in the last 16 is the reality Haalands confession

‘শেষ ১৬-তে ব্রাজিলই বাস্তবতা’, হালান্ডের স্বীকারোক্তি

‘শেষ ১৬-তে ব্রাজিলই বাস্তবতা’, হালান্ডের স্বীকারোক্তি ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। তবে এই হাইভোল্টেজ মহালড়াইয়ের আগে মনস্তাত্ত্বিক চাপ এড়াতে ব্রাজিলকেই পরিষ্কার ফেভারিট মানছেন নরওয়ের পোস্টার বয় ও তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। আগামী ৬ জুলাইয়ের নকআউট ম্যাচে সেলেসাওদের ছিটকে দেওয়া নিয়ে এই মুহূর্তে খুব একটা বড় মুখ করে কথা বলতে বা আশাবাদী হতে রাজি নন তিনি।

অথচ দুই দলের ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান কিন্তু পুরোপুরি কথা বলছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ের পক্ষেই। অতীতে দুই দলের মোট চারবারের আন্তর্জাতিক দেখায় পরাক্রমশালী ব্রাজিল কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি। তবে অতীতের সেই অপ্রতিরোধ্য ধারা এবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বজায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে একদমই আত্মবিশ্বাসী নন হালান্ড। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের (রাউন্ড অব ৩২) ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জেতার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ম্যানচেস্টার সিটির এই বিধ্বংসী স্ট্রাইকার খুব সংক্ষিপ্ত ও সোজাসুজি উত্তর দেন— ‘সম্ভাবনা খুবই কম।’

এর আগে শেষ ষোলোর মঞ্চে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার পর নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হালান্ড বলেছিলেন, ‘শেষ ষোলোতে আমাদের ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে হবে, এটাই ফুটবলীয় বাস্তবতা।’

আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ষোলোর ঐতিহাসিক টিকিট নিশ্চিত করার পর টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে এক অভূতপূর্ব ও জাদুকরী উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন নরওয়ের ফুটবল সমর্থকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠের ভেতর খেলোয়াড়রাও গ্যালারির দর্শকদের সাথে একাত্ম হয়ে নিজেদের বিশ্ববিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন। মাঠে সবাই গোল হয়ে বসে দলের অধিনায়ক ও আর্সেনাল মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের ড্রামের তালের সাথে তাল মিলিয়ে বৈঠা বাইবার প্রতীকী ভঙ্গিতে এই অবিস্মরণীয় জয় উদ্‌যাপন করেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর দেশের ফুটবলে এমন মহোৎসব ও নিজ দেশের মানুষের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরে হালান্ড বলেন, ‘নরওয়ের সাধারণ মানুষ এখন ফুটবল নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। জাতীয় দলকে ঘিরে বর্তমানে পুরো দেশের মানুষের মাঝে এই যে অভূতপূর্ব ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা মাঠের ভেতর আমাদের পারফরম্যান্সেও প্রচণ্ড ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

তবে জাতীয় দলের এই জোয়ারের মাঝেও সামনে যে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছে, সতীর্থদের সেটিও শক্তভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন এই গোলমেশিন। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা এখন বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি দলই চরম শক্তিশালী এবং এখান থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া মোটেও সহজ হবে না। ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারব কি না, সেটাও আমি নিশ্চিত জানি না। তবে আমরা ম্যাচটির জন্য খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং সেই মানসিক প্রস্তুতি ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’

বর্তমান নরওয়েজিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় ও বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন আর্লিং হালান্ড। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের চেনা ছন্দে থেকে ইতিমধ্যে পাঁচটি চোখ ধাঁধানো গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন তিনি। মূলত ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে তাঁর করা একের পর এক অবিশ্বাস্য গোলের ওপর ভর করেই দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে নরওয়ে আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে, যেখানে তারা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই ব্রাজিলকেই ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর এবার নকআউটের ভিন্ন মঞ্চে সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন কি না হালান্ড, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

মন্তব্য

p
উপরে