বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর হাইভোল্টেজ ও একপেশে ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধূলিসাৎ করে দাপটের সাথে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ফ্রান্স। দলের পোস্টার বয় ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং তরুণ তুর্কি ব্র্যাডলি বারকোলার এক চমৎকার গোলের সুবাদে এই বিশাল জয় পায় ফরাসিরা। মাঠের লড়াইয়ে সুইডিশরা শুরুর দিকে কিছুটা প্রতিরোধের দেয়াল গড়ার চেষ্টা করলেও, ফ্রান্সের গতিময় ও ধারালো আক্রমণের সামনে ম্যাচের সময় বাড়ার সাথে সাথে তারা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে এবার দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ে, যারা আগের ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক দেখিয়েছে।
ম্যাচের বাঁশি বাজার শুরু থেকেই সুইডেনের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ফ্রান্স। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে সুইডিশ ডিফেন্স ভেঙে জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করে দেন। প্রথমার্ধের সিংহভাগ সময় সুইডেনের গোলরক্ষক জেটারস্ট্রোমের অতিমানবীয় কিছু সেভ ও দৃঢ়তায় ফ্রান্স গোলবঞ্চিত থাকে। তবে বিরতির ঠিক আগে সুইডিশদের সেই রক্ষণব্যূহ আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) ডি-বক্সে বল পেয়ে নিজের একক ড্রিবলিং নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে এক দর্শনীয় কার্ভ শটে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে। এই মনস্তাত্ত্বিক লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ফরাসিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে আক্রমণের তীব্রতা ও ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ফরাসি আক্রমণভাগ। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা দারুণ এক নিয়ন্ত্রিত ও নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২-০ করেন। ফ্রান্সের একের পর এক গতিময় আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়া সুইডেন পুরো ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই পায়নি। এরপর ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে সুইডেনের ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এমবাপ্পে। এই গোল উৎসবের পর শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান বিশ্ব রানার্সআপরা।
ফ্রান্সের এই ক্লিনশিট ও আধিপত্য বজায় রাখার পেছনে গোলরক্ষক মাইক মাইগনান, ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা এবং মাঝমাঠের চালিকাশক্তি অহেলিয়াঁ চুয়ামেনিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে সুইডেনের তারকা ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গোকেরেসরা প্রথমার্ধে দু-একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে চেষ্টা করলেও ফরাসি রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দেয়ালে ফাটল ধরাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। ফ্রান্সের এই বিশাল জয়ে এমবাপ্পের এমন বিধ্বংসী ও অতিমানবীয় ফর্ম প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পরবর্তী নকআউট ম্যাচের জন্য বিপক্ষ শিবিরে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল।
রোনালদো-লেওনিদাসকে টপকে চূড়ায় এমবাপ্পে
এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বিশ্বকাপের নকআউটেই ১০টি গোল করেছেন। নরওয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটির মাধ্যমে তিনি সর্বকালের তালিকায় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো ও লিওনিদাসকে (৮ গোল) ছাড়িয়ে গেছেন।
এমবাপ্পের একাধিক গোলের রেকর্ড
গ্রুপপর্বের পর নকআউটেও সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করলেন এমবাপ্পে। যা বিশ্বকাপের নকআউটে তার চতুর্থ একাধিক গোলের ঘটনা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় এই সংখ্যাটি দ্বিগুণ। এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের সাত ম্যাচে একাধিক গোলের রেকর্ড গড়লেন এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসির সমান সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেছেন এমবাপ্পে। তবে এই টুর্নামেন্টে তার ২টি অ্যাসিস্ট তাকে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে মেসির চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
এমবাপ্পে ও দেম্বেলে রেকর্ড
বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে যৌথভাবে ৬টি গোলে অবদান রেখেছেন (এমবাপ্পেকে দেম্বেলের ৪ অ্যাসিস্ট এবং দেম্বেলেকে এমবাপ্পের ২ অ্যাসিস্ট)। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটি অন্য যেকোনো জুটির চেয়ে বেশি।
সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড থেকে সামান্য দূরে এমবাপ্পে
সুইডেন ম্যাচে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। পুরুষদের বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) টপকে তিনি এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন এবং শীর্ষ গোলদাতা লিওনেল মেসির (১৯ গোল) চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।
মাইকেল ওলিসের রেকর্ড
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের পর এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপের এক আসরে (১৯৭০) সর্বোচ্চ ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনো ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে (১৯৬৬ আসর থেকে রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)।
কোচের রেকর্ড
ফ্রান্সের ম্যানেজার হিসেবে দিদিয়ের দেশম ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার নবম জয় পেয়েছেন, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যেকোনো কোচের চেয়ে বেশি।
গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রমের রেকর্ড
গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রম দুর্দান্ত ফর্মে না থাকলে সুইডেন হয়তো তিনটির বেশি গোল হজম করত। ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি নয়টি সেভ করেছেন; গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনো সুইডিশ গোলরক্ষকের বিশ্বকাপ ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভ (রনি হেলস্ট্রমের ১০টি সেভের পরেই তার অবস্থান, যা তিনি ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে করেছিলেন)।
ফ্রান্সের রেকর্ড
বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই ন্যূনতম ৩টি করে গোল করেছে ফ্রান্স। যা ফিফার এই মেগা ইভেন্টের ইতিহাসে টানা সর্বোচ্চ ম্যাচে কমপক্ষে তিন গোলের রেকর্ড।
‘ব্যাটম্যান’ এমবাপ্পের ‘রবিন’ ওলিসে
ফ্রান্সের মাঝমাঠ থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনে এমবাপ্পে ও ওলিসের অবাধ বিচরণ এবং নিখুঁত বোঝাপড়া দেখে যে কারোই ব্যাটম্যান-রবিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের কথা মনে পড়তে বাধ্য। গতি, টানটান রোমাঞ্চ, দুই পায়ের জাদুকরী অ্যাকশন আর দুটি নদীর জল এক মোহনায় মিশে যাওয়ার মতো ফুটবলীয় রসায়নে সমৃদ্ধ তাঁদের এই জুটি। ব্যাটম্যানের জন্য রবিন ঠিক যতটা নিঃস্বার্থ, ওলিসেও এমবাপ্পের জন্য মাঠের ভেতর ঠিক ততটাই উজাড় করে দেওয়া এক যোদ্ধা। সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের সর্বশেষ ৩-০ গোলের দাপুটে জয়েও এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ওই ম্যাচে এমবাপ্পের করা চোখ ধাঁধানো জোড়া গোলের একটির মূল উৎস ছিলেন ওলিসে, আর দলের অন্য গোলটিতেও অ্যাসিস্ট ছিল তার। গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যার চেয়েও মাঠে এই দুজনের ‘টেলিপ্যাথিক’ বোঝাপড়াটাই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে—পাস ঠিক কোন মুহূর্তে দিতে হবে, কে কোথায় ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছেন, বল ঠিক কতটা সুইং করালে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে সতীর্থের পায়ে পৌঁছাবে, তা যেন দুজনের মগজেই আগে থেকে প্রোগ্রাম করা!
বিশেষ করে ফ্রান্স যখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চূর্ণ করে আক্রমণে ওঠে, তখন মাঠের চিত্রটা চমৎকার ফুটে ওঠে। যেন কোনো এক গ্রামীণ চিরন্তন খেলায় মেতেছেন দুজনে, যেখানে প্রতিপক্ষের কোনো ডিফেন্ডার হাজার চেষ্টা করেও তাদের কাউকেই ছুঁতে বা থামাতে পারছে না। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬-এ পৌঁছে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে বসেছেন, যার মধ্যে ৩টি গোলের নিখুঁত উৎসই ছিলেন ওলিসে। ফরাসি আক্রমণভাগের এই জাদুকরী রূপের ট্রেলার বিশ্ববাসী প্রতি ম্যাচেই দেখছে—ওলিসের ডিফেন্সচেরা মাপা পাস আর এমবাপ্পের বিদ্যুৎগতির মুভমেন্ট; যেন দুষ্টের দমনে কমিক বইয়ের রবিন একের পর এক সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন আর ব্যাটম্যান এসে মোক্ষম আঘাত হানছেন।
ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ৪ ম্যাচে ইতিমধ্যেই ৫টি গোল করিয়েছেন ওলিসে। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ওলিসের আগে প্রথম ৪ ম্যাচে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছেন মাত্র দুজন—১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির লাজলো বুদাই (৬ অ্যাসিস্ট) এবং ১৯৩৮ বিশ্বকাপে ইতালির আমাদিও বিয়াভাতি (৫ অ্যাসিস্ট)। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে একই দলের একজন খেলোয়াড় ন্যূনতম ৬টি গোল করেছেন এবং অন্যজন ন্যূনতম ৫টি গোল করিয়েছেন—এমন যুগলবন্দী বিশ্বমঞ্চে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল সুদূর ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে, পোল্যান্ডের কিংবদন্তি লাতো (৭ গোল) ও গাদোচা (৫ অ্যাসিস্ট) জুটির মধ্যে। এই তালিকায় এর আগে ১৯৫৮ আসরের ফন্তেইন-কোপা কিংবা ১৯৭০ আসরের পেলে-জেয়ার্জিনহোর মতো অমর জুটির নাম রয়েছে। ওলিসের প্রতিটি পাসের গোলদাতা এমবাপ্পে না হলেও, চলমান বিশ্বকাপে দুজনেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে বিশ্বসেরা। এমবাপ্পের চেয়ে যেমন বেশি গোল এই মুহূর্তে আর কারও নেই, তেমনি ওলিসের চেয়ে বেশি গোল বানানোর কারিগরও টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় কেউ নেই। মাঠে তাদের এই রসায়ন দেখে মনে হয়, শত শত নুড়ির বাধা টপকে কোত্থেকে যেন মাঠের বুকে গলগল করে বেরিয়ে আসছে খাঁটি তরল সোনার স্রোত!
মেসি-এমবাপ্পে সমানে সমান
বিশ্বকাপে গোলের ধারায় দারুণ ছন্দে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।
বিশ্বকাপের বর্তমান আসরে দুজনেই এখন ৬টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।
এমবাপ্পের এই ফর্ম কেবল চলতি বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বমঞ্চে সর্বকালের সেরা গোলদাতার সিংহাসন দখলের লড়াইয়েও তিনি এখন মেসির ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছেন।
গোল গড়ের হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচে ১৮ গোল করা এমবাপ্পের গোল গড় ম্যাচপ্রতি ১টি।
২০১৮ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই চার গোল করে বিশ্বজয়ের সাক্ষী হয়েছিলেন এমবাপ্পে। ২০২২ আসরে আট গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। আর চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে ছয় গোল করে আবারও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, মেসিকে ছাড়িয়ে গিয়ে এমবাপ্পে নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর মহানাটক। গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথটি ৩-৩ গোলের নাটকীয় সমতায় শেষ হয়েছে। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত ও যোগ করা সময়ে একের পর এক গোল এবং নাটকের কারণে কোনো দলই শেষ পর্যন্ত হার মানেনি। তবে এই দুই দলের রোমাঞ্চকর ড্রয়ের ফলে বড় ধরনের কপাল পুড়েছে ইরানের। সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়ে কোনো ম্যাচ না হেরেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার এই পরাশক্তিকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই শেষে এক পর্যায়ে ২-২ সমতায় ছিল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচ। খেলা যখন যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে, তখন মনে হচ্ছিল ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়বে দুই দল। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আলজেরিয়ার তারকা ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহারেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। মাহারেজের এই আকস্মিক গোল অস্ট্রিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। আলজেরিয়ার গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাচের শেষ আক্রমণে ঝাঁপায় অস্ট্রিয়া। ডি-বক্সে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডের সাহায্যে গোল করে অস্ট্রিয়াকে ৩-৩ সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার সাসা কালাইদজিচ। শেষ মুহূর্তের এই অতিমানবীয় গোলেই টিকে যায় অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ম্যাচে অস্ট্রিয়ার হয়ে বাকি দুটি গোল করেন অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে ১৯৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠল অস্ট্রিয়া, যেখানে শেষ বত্রিশে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের।
অন্যদিকে, আলজেরিয়ার পক্ষে অন্য গোলটি করেন রফিক বেলঘালি। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করলেও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে এই ম্যাচের নাটকীয় ফলের সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হয়েছে ইরানকে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর—তিন দলের বিপক্ষেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থাকা ইরানের আশা ছিল অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার যেকোনো এক দল জিতলে তারা পরের রাউন্ডে যাবে। কিন্তু কালাইদজিচের শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল ইরানের সেই শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করে দেয়।
গ্রুপ ‘কে’-এর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগাল ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত এই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলশূন্য ব্যবধানে ড্র হয়েছে। এই ড্রয়ের সুবাদে ৩ ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে সর্বোচ্চ 7 পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখল কলম্বিয়া। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। এই গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে কঙ্গোও পরের রাউন্ডে উঠেছে।
মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও পুরো সময় জুড়েই ছিল আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের রোমাঞ্চ। বলের দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচে ৫৫ শতাংশ বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি পর্তুগালের গোলপোস্টে ২৪টি শট নেয় কলম্বিয়ার স্ট্রাইকাররা, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পর্তুগালও বেশ কিছু কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করে মোট ১৩টি শট নেয়, যার ২টি ছিল অন-টার্গেট। গোল না হলেও দুই দলের গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল গ্যালারির দর্শকদের দারুণ বিনোদন জুগিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগালকে লিড এনে দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে কলম্বিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কামিলো ভারগাসের চমৎকার সেভে সে যাত্রা হতাশ হতে হয় পর্তুগিজদের। অন্যদিকে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও আজ পোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ৬টি দুর্দান্ত সেভ করেন, যা চলতি আসরে তার প্রথম দুই ম্যাচের মোট সেভের চেয়েও বেশি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিনসন সানচেজ বল জালে জড়িয়ে দলকে উল্লাসে মাতালেও পরবর্তীতে রেফারি অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন।
৪৮ দলের বর্ধিত এই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বের রোডম্যাপও এই ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। গ্রুপ ‘কে’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কলম্বিয়া শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ‘এল’ গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করা আফ্রিকার দেশ ঘানার বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায়। উল্লেখ্য, আফ্রিকান দেশটি নিজেদের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আসা পর্তুগালকে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় নকআউট পর্বের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শেষ ৩২-এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার। ইউরোপের এই দুই পরাশক্তির মহারণটি আগামী ৩ জুলাই ভোর ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। আসরে নিজেদের বাঁচা-মরার শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকান এই দেশটি। ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সময়ে উজবেকদের জালে আরও ৩টি গোল দেয় কঙ্গোর স্ট্রাইকাররা। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর এটিই বিশ্বমঞ্চে দলটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বলের দখল এবং আক্রমণ—সবদিক থেকেই শুরু থেকে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় কঙ্গো। তবে ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় কঙ্গোর রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে উজবেকিস্তানকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড এল্ডর সমুরোদোভ। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে কঙ্গো। তবে উজবেকিস্তানের জমাট রক্ষণভাগ প্রথমার্ধ ছাড়িয়ে ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত কঙ্গোর সব প্রচেষ্টা সফলভাবে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভের একটি মারাত্মক ভুলের কারণে পেনাল্টি পায় আফ্রিকান দেশটি। ডি-বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি কঙ্গোর উইঙ্গার ইয়োয়ানে উইসার পায়ে আঘাত করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে কঙ্গোকে ১-১ সমতায় ফেরান সেই ইওয়ান উইসা। এই গোলের ঠিক ১০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কঙ্গোর পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে লিড এনে দেন ফিস্তন মায়েলে। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে উইসা নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় কঙ্গোর।
এর আগে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসর খেলেছিল কঙ্গো, যেখানে তারা ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল এবং যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার মতো তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের। তবে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবারের আসরে ফিরে শুরু থেকেই ভিন্ন ইতিহাস লেখার ইঙ্গিত দিচ্ছিল দলটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়ার পর লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার বিপক্ষেও হারের ব্যবধানটা (১-০) বড় হতে দেয়নি তারা। আর আজ শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই দাপুটে জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে পা রাখল কঙ্গো।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। তবে শুরুর সেই বড় ধাক্কা দারুণভাবে সামলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ক্রোয়াটরা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মধ্য দিয়ে তারা চলতি বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে জয় পাওয়ায় গ্রুপ ‘এল’ থেকে রানারআপ হিসেবেই পরের রাউন্ডের টিকিট কাটলো জ্লাতকো দালিচের দল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে লড়তে থাকে দুই দল। তবে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পিটার সুচিচ। চমৎকার এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে তিনি ঘানার জালে জড়াতে ভুল করেননি। এর ঠিক পরের মিনিটে অর্থাৎ ৩১তম মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) চেকের মাধ্যমে রেফারি গোলটির চূড়ান্ত বৈধতা দিলে প্রথমার্ধের খেলা ১-০ ব্যবধানে শেষ হয়।
বিরতির পর দ্বিতীয়ান্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ঘানা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে অবশেষে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে তারা কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি পেয়ে যায়। দলের ফরোয়ার্ড আর্নেস্ট নুয়ামাহর নেওয়া একটি নিখুঁত ফ্রি কিক থেকে বক্সের ভেতর দূরের পোস্টে থাকা ডেরিক লুকাসেন চমৎকার ভলিতে বল জালে পাঠান। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললেও পরবর্তীতে দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার মাধ্যমে গোলের বৈধতা দেন মূল রেফারি।
ঘানার এই সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ক্রোয়েশিয়া। গোল হজম করার ঠিক ১০ মিনিট পরেই, অর্থাৎ ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে আবারও দুর্দান্তভাবে লিড নেয় ক্রোয়াটরা। দলের হয়ে ঘানার জাল কাঁপিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকোলা ভ্লাসিচ। ম্যাচের শেষ দিকে ঘানা আর কোনো আক্রমণ জমাতে না পারায় এবং কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।
বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফুটবলের বৈশ্বিক মহামঞ্চে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড, যা বিশ্বকাপের প্রায় শত বছরের ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলার করে দেখাতে পারেননি।
টানা দুই জয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় আজ জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি। পেশির হালকা টান থাকার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রামে রেখেছিলেন। তবে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ভক্তদের উল্লাসে মুখরিত করে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মাঠে নামার ঠিক ২০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ২৫ মিটার দূর থেকে নিজের সিগনেচার স্টাইলে এক চোখধাঁধানো ও নিখুঁত ফ্রি-কিক শটে জর্ডানের জাল কাঁপিয়ে দেন মেসি।
এই জাদুকরী গোলের ওপর ভর করেই বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এই নতুন বিশ্বরেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন লিওনেল মেসি। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ৪টি ম্যাচ (অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স) এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ৩টি ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন তিনি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোকে (১৯৭০) ছাড়িয়ে গেছেন, যারা এতদিন ধরে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার যৌথ রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন।
জর্ডানের বিপক্ষে করা এই গোলটি চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ষষ্ঠ গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। এই দুর্দান্ত ফর্মের সুবাদে বিশ্বকাপে নিজের সর্বমোট গোলসংখ্যাকে ১৯-এ নিয়ে গেলেন তিনি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো পুরুষ ফুটবলারের ক্ষেত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ। মেসির এই রেকর্ডব্রেকিং ফ্রি-কিক এবং জিওভানি লো চেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ভর করে ৩-১ ব্যবধানে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে সপ্তম বারের মতো শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় টিভি রিয়্যালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’। “বাংলায় জাগি ভরপুর” স্লোগানকে সামনে রেখে শুদ্ধ বাংলা চর্চা নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ে দেশের জনপ্রিয় চায়ের ব্র্যান্ড ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর’ ২০১৭ সাল থেকে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।
এ বছর ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ আরও আকর্ষনীয়ভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। আটটি বিভাগীয় শহর ও কুমিল্লায় অডিশনের মাধ্যমে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা স্টুডিও রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করবে। মোট ২১ পর্বের এ প্রতিযোগিতা চ্যানেল আই-এ সম্প্রচারিত হবে।
বিচারকমণ্ডলীতে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, ভাষাবিদ তারিক মনজুর, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার।
সপ্তম বর্ষের নিবন্ধন শুরু হয়েছে ২৭ জুন, ২০২৬ থেকে, যা চলবে ৩০ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত।চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী যথাক্রমে ১০ লক্ষ, ৩ লক্ষ ও ২ লক্ষ টাকার মেধাবৃত্তি পাবে। প্রথম দশজন প্রতিযোগী ল্যাপটপসহ বই ও বইয়ের আলমারি পাবে।
উক্ত উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জাহিদা ইস্পাহানি ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মনসুর মুসা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ফরিদুর রেজা সাগর ও ইস্পাহানি টি লিমিটেড এর মহাব্যবস্থাপক জনাব ওমর হান্নান। এ বছরের ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের জন্যে www.banglabid.com.bd ঠিকানায় যাবার জন্যে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কর্পোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। গাড়ি নির্মাতা ব্র্যান্ড চেরি ও এর বিভিন্ন অংশীদার (পার্টনার) এবং কর্পোরেট গ্রাহকদের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
চেরি ঢাকার সাতারকুলের মাদানি এভিনিউতে (১০০ ফিট) অবস্থিত ‘গ্রিনভিল ফুটসাল’ মাঠে আজ ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি আগামী ২৯ জুন ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে।
এশিয়ান হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, করপোরেট অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহেদ হোসেন এবং এজিএম সিরাজুল মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট গ্রাহকদের প্রতিনিধিরা টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
মন্তব্য