বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। কিন্তু ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। লক্ষ্য শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করা নয়, এক বছর আগের সেই অপমানের জবাবও দেওয়া।
২০২৫ সালের অক্টোবরে টোকিওতে দুই দলের প্রীতি ম্যাচটি এখনও নিশ্চয়ই ভুলে যাননি ব্রাজিল সমর্থকরা। প্রথমার্ধে দাপট দেখিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মনে হচ্ছিল, সহজ জয় নিয়েই ফিরবে তারা। কিন্তু বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে হারানোর স্বাদ পায় ব্লু সামুরাইরা।
এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য ভিন্ন এক ব্রাজিলকে দেখা যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও এরপর টানা দুই জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে সেলেসাওরা। আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ইতোমধ্যে চার গোল করে দলের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ তিন বছর চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ফিরেছেন নেইমারও। তার অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা ব্রাজিলকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি।
তবু জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। গ্রুপ পর্বে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেই তারা জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুও জানেন, এবার আরও ক্ষুধার্ত এক ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তার দল। তাই ম্যাচের আগে সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা হবে মাঝমাঠে। ব্রাজিল চাইবে দ্রুত বলের দখল নিয়ে উইং দিয়ে আক্রমণ গড়তে। ভিনিসিয়াস, রায়ান কিংবা ব্রাজিলের গতিময় ফরোয়ার্ডরা ভয়ংকর। বিপরীতে জাপানের শক্তি তাদের সংগঠিত ডিফেন্স, দ্রুত প্রেসিং এবং মুহূর্তের মধ্যে রক্ষণ থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়ার ক্ষমতা।
কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে। তাদের ব্যক্তিগত প্রতিভা, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণের বৈচিত্র্য পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে জাপান যদি নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারে এবং ম্যাচটাকে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য রাখতে পারে, তাহলে অঘটনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আর বিশ্বকাপ মানেই তো চমক, একটা ভুলেই পা পিছলে যেতে পারে যে কারও!
জাপান বধের লক্ষ্যে হিউস্টনে পূর্ণ শক্তির ব্রাজিল দল
ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে প্রথম নকআউট রাউন্ড তথা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুত লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। আজ সোমবার রাত ১১টায় টেক্সাসের হিউস্টনে তাদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। গত শুক্রবারের অনুশীলনে নানা কারণে ৮ জন নিয়মিত ফুটবলার অনুপস্থিত থাকলেও, শনিবার সকালে পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে পুরোদমে ঘাম ঝরিয়েছে সেলেসাওরা।
জাপানের বিপক্ষে বেঞ্চেই বসতে হচ্ছে নেইমারকে?
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকি নিতে রাজি নন সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সবচেয়ে আলোচিত তারকা নেইমার জুনিয়র কি ব্রাজিলের শুরুর একাদশে ফিরবেন? তবে ব্রাজিলিয়ান টিম ম্যানেজমেন্ট ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ‘না’।
দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে দলে ফিরলেও নেইমারের ম্যাচ ফিটনেস এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে টানা ৯০ মিনিট খেলার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে কোচিং স্টাফকে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের প্রধান ফিটনেস ট্রেইনাররা। নকআউটের মতো কঠিন মঞ্চে পুরোপুরি ফিট না থাকা খেলোয়াড়কে শুরুর একাদশে নামিয়ে কোনো বড় বিপদে পড়তে চান না কোচ আনচেলত্তি। সেই কারণে জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে শুরুর একাদশে না রেখে মূলত ‘সুপার সাব’ বা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ব্যবহার করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্ট। ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্বিতীয়ার্ধের যেকোনো সময় তাকে মাঠে নামানো হতে পারে।
জাপান জিতলে অবাক হবো না- জিকো, ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার
বিশ্বকাপে আগের দুই আসরে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে জাপান ফুটবলে কতটা এগিয়েছে। জাপান এখন যে কোনো দলের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। গত কয়েক বছরে তারা ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
যে দলের বিপক্ষেই তাদের ম্যাচ হোক, তারা সত্যিকার অর্থেই তৈরি থাকবে। দলটি অবশ্যই টেকনিক্যালি অনেক উন্নতি করেছে। কিন্তু জাপানের জন্য সবসময়ই মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টিই বড় ইস্যু। কীভাবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে হয়, সেটা এখন খেলোয়াড়রা জানে এবং ম্যাচে পিছিয়ে পড়লে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে থাকে।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো জাপান ও ব্রাজিলের সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। ২০০৬ আসরে দল দুটি প্রথমবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল, যে ম্যাচে সেলেসাওরা ৪-১ গোলে জয় তুলে নিয়েছিল। ওই ম্যাচে আমি (জিকো) জাপান দলের কোচ ছিলাম। এটা অবশ্যই আবেগময় ম্যাচ ছিল।
আগেই আমি দলকে বলেছিলাম ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তে আমি ব্রাজিলের জাতীয় সংগীত গাইব, যেমনটি আমি স্কুল জীবনে গাইতাম। কিন্তু ম্যাচে বল মাঠে গড়ানো মাত্রই আমি জাপানের পক্ষে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছিলাম। তখন আমার দিদির (ওয়ালদিয়র পেরেইরা) কথা মনে পড়ছিল। যিনি ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন আবার ১৯৭০ বিশ্বকাপে পেরুর কোচ হিসেবে সেলেসাওদের বিপক্ষে ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন। এটা আসলেই কঠিন কাজ ছিল।
১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর আর কখনো আসর থেকে ছিটকে পড়েনি জাপান। দেশটি ফুটবলে অনেক এগিয়ে গেছে। ব্রাজিল বা লাতিন আমেরিকার ফুটবলারদের মতো জাপানের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে ডাক পাচ্ছে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ফেরার অপেক্ষায় ‘জাপানের মেসি’
ব্রাজিলের বিপক্ষে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় স্বস্তির খবর পেল জাপান। চোট থেকে সেরে উঠে অনুশীলনে ফিরেছেন দলের অন্যতম বড় তারকা তাকেফুসা কুবো। ‘জাপানের মেসি’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ডের ফিরে আসায় ব্লু সামুরাইদের শিবিরে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়ে হুইলচেয়ারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল কুবোকে। সেই ঘটনায় জাপানি সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। চোটের কারণে তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে দলের সঙ্গে যাননি তিনি। ন্যাশভিলের নিজস্ব ট্রেইনিং সেন্টারে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়েছেন।
সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র ম্যাচের পরদিনই অনুশীলনে ফেরেন কুবো। জাপানি সংবাদমাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে, আহত হাঁটুতে প্রটেক্টিভ ব্যান্ডেজ বেঁধে বল পায়ে অনুশীলন করছেন তিনি। চোটের পর এটাই প্রথমবার মাঠে বল নিয়ে অনুশীলন করতে দেখা গেল তাকে।
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ, দুই জায়গাতেই দক্ষতা দেখানো কুবোকে তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার মনে করা হয়। ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল ও মায়োর্কার মতো বড় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে খেলছেন।
তার ফিরে আসায় জাপানের সমর্থকরা এখন ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্য আরও আশাবাদী। ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ খ্যাত জাপান এখন কুবোকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী সেলেসাওদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
রাফিনিয়াকে ছাড়াই নকআউট অভিযান শুরু ব্রাজিলের
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। দলের অন্যতম ভরসার ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া চোটের কারণে জাপানের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে খেলতে পারছেন না।
আজ সোমবার হিউস্টনে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। তবে দলের সঙ্গে সেখানে যাচ্ছেন না রাফিনিয়া।
উরুর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তিনি নিউ জার্সিতে থেকে জাতীয় দলের ট্রেনিং সেন্টারে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চালিয়ে যাবেন।
জ্যোতিষ জানালো কার কাছে হেরে বিদায় নেবে ব্রাজিল
ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার দাবি করা এই গবেষক এবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে ব্রাজিল।
হিউস্টন স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় জাপানের বিপক্ষে খেলতে নামবে ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থাকায় নকআউটে হাজিমে মোরিয়াসুর দলকে পেয়েছে সেলেসাওরা। ক্লেমেন্টের মতে, নকআউটের ম্যাচটিতে জয় পাবে জাপান। ফলে প্রত্যাশার আগেই শেষ হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান।
এখন পর্যন্ত ক্লেমেন্টের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল থাকা সম্ভাব্য দুটি নকআউট ম্যাচ হলো ব্রাজিল-জাপান এবং নেদারল্যান্ডস-মরক্কো।
জাপান বাধা টপকালে শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে?
৪৮ দলের বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টের বিন্যাস অনুযায়ী, শেষ ৩২-এ ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল লড়বে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ জাপানের বিপক্ষে। এই ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি জায়গা করে নেবে শেষ ষোলোতে। ব্রাজিল যদি তাদের এই ম্যাচে জয় পায়, তবে শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে এবং আইভরিকোস্টের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল।
ব্রাজিল তাদের নকআউট যাত্রায় যদি নরওয়ের মুখোমুখি হয়, তবে সেটি হবে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ। গ্রুপ ‘আই’ থেকে রানার্স আপ হয়ে আসা নরওয়ের মূল শক্তি আর্লিং হালান্ড এবং অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। অন্যদিকে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমারের ছন্দ তাদের শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে।
এখন দেখার বিষয়, জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিল কি নকআউটের মূল মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে পারে কি না।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর মহানাটক। গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথটি ৩-৩ গোলের নাটকীয় সমতায় শেষ হয়েছে। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত ও যোগ করা সময়ে একের পর এক গোল এবং নাটকের কারণে কোনো দলই শেষ পর্যন্ত হার মানেনি। তবে এই দুই দলের রোমাঞ্চকর ড্রয়ের ফলে বড় ধরনের কপাল পুড়েছে ইরানের। সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়ে কোনো ম্যাচ না হেরেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার এই পরাশক্তিকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই শেষে এক পর্যায়ে ২-২ সমতায় ছিল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচ। খেলা যখন যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে, তখন মনে হচ্ছিল ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়বে দুই দল। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আলজেরিয়ার তারকা ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহারেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। মাহারেজের এই আকস্মিক গোল অস্ট্রিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। আলজেরিয়ার গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাচের শেষ আক্রমণে ঝাঁপায় অস্ট্রিয়া। ডি-বক্সে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডের সাহায্যে গোল করে অস্ট্রিয়াকে ৩-৩ সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার সাসা কালাইদজিচ। শেষ মুহূর্তের এই অতিমানবীয় গোলেই টিকে যায় অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ম্যাচে অস্ট্রিয়ার হয়ে বাকি দুটি গোল করেন অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে ১৯৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠল অস্ট্রিয়া, যেখানে শেষ বত্রিশে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের।
অন্যদিকে, আলজেরিয়ার পক্ষে অন্য গোলটি করেন রফিক বেলঘালি। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করলেও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে এই ম্যাচের নাটকীয় ফলের সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হয়েছে ইরানকে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর—তিন দলের বিপক্ষেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থাকা ইরানের আশা ছিল অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার যেকোনো এক দল জিতলে তারা পরের রাউন্ডে যাবে। কিন্তু কালাইদজিচের শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল ইরানের সেই শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করে দেয়।
গ্রুপ ‘কে’-এর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগাল ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত এই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলশূন্য ব্যবধানে ড্র হয়েছে। এই ড্রয়ের সুবাদে ৩ ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে সর্বোচ্চ 7 পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখল কলম্বিয়া। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। এই গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে কঙ্গোও পরের রাউন্ডে উঠেছে।
মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও পুরো সময় জুড়েই ছিল আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের রোমাঞ্চ। বলের দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচে ৫৫ শতাংশ বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি পর্তুগালের গোলপোস্টে ২৪টি শট নেয় কলম্বিয়ার স্ট্রাইকাররা, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পর্তুগালও বেশ কিছু কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করে মোট ১৩টি শট নেয়, যার ২টি ছিল অন-টার্গেট। গোল না হলেও দুই দলের গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল গ্যালারির দর্শকদের দারুণ বিনোদন জুগিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগালকে লিড এনে দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে কলম্বিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কামিলো ভারগাসের চমৎকার সেভে সে যাত্রা হতাশ হতে হয় পর্তুগিজদের। অন্যদিকে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও আজ পোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ৬টি দুর্দান্ত সেভ করেন, যা চলতি আসরে তার প্রথম দুই ম্যাচের মোট সেভের চেয়েও বেশি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিনসন সানচেজ বল জালে জড়িয়ে দলকে উল্লাসে মাতালেও পরবর্তীতে রেফারি অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন।
৪৮ দলের বর্ধিত এই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বের রোডম্যাপও এই ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। গ্রুপ ‘কে’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কলম্বিয়া শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ‘এল’ গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করা আফ্রিকার দেশ ঘানার বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায়। উল্লেখ্য, আফ্রিকান দেশটি নিজেদের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আসা পর্তুগালকে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় নকআউট পর্বের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শেষ ৩২-এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার। ইউরোপের এই দুই পরাশক্তির মহারণটি আগামী ৩ জুলাই ভোর ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। আসরে নিজেদের বাঁচা-মরার শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকান এই দেশটি। ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সময়ে উজবেকদের জালে আরও ৩টি গোল দেয় কঙ্গোর স্ট্রাইকাররা। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর এটিই বিশ্বমঞ্চে দলটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বলের দখল এবং আক্রমণ—সবদিক থেকেই শুরু থেকে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় কঙ্গো। তবে ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় কঙ্গোর রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে উজবেকিস্তানকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড এল্ডর সমুরোদোভ। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে কঙ্গো। তবে উজবেকিস্তানের জমাট রক্ষণভাগ প্রথমার্ধ ছাড়িয়ে ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত কঙ্গোর সব প্রচেষ্টা সফলভাবে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভের একটি মারাত্মক ভুলের কারণে পেনাল্টি পায় আফ্রিকান দেশটি। ডি-বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি কঙ্গোর উইঙ্গার ইয়োয়ানে উইসার পায়ে আঘাত করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে কঙ্গোকে ১-১ সমতায় ফেরান সেই ইওয়ান উইসা। এই গোলের ঠিক ১০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কঙ্গোর পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে লিড এনে দেন ফিস্তন মায়েলে। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে উইসা নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় কঙ্গোর।
এর আগে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসর খেলেছিল কঙ্গো, যেখানে তারা ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল এবং যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার মতো তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের। তবে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবারের আসরে ফিরে শুরু থেকেই ভিন্ন ইতিহাস লেখার ইঙ্গিত দিচ্ছিল দলটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়ার পর লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার বিপক্ষেও হারের ব্যবধানটা (১-০) বড় হতে দেয়নি তারা। আর আজ শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই দাপুটে জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে পা রাখল কঙ্গো।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। তবে শুরুর সেই বড় ধাক্কা দারুণভাবে সামলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ক্রোয়াটরা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মধ্য দিয়ে তারা চলতি বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে জয় পাওয়ায় গ্রুপ ‘এল’ থেকে রানারআপ হিসেবেই পরের রাউন্ডের টিকিট কাটলো জ্লাতকো দালিচের দল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে লড়তে থাকে দুই দল। তবে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পিটার সুচিচ। চমৎকার এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে তিনি ঘানার জালে জড়াতে ভুল করেননি। এর ঠিক পরের মিনিটে অর্থাৎ ৩১তম মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) চেকের মাধ্যমে রেফারি গোলটির চূড়ান্ত বৈধতা দিলে প্রথমার্ধের খেলা ১-০ ব্যবধানে শেষ হয়।
বিরতির পর দ্বিতীয়ান্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ঘানা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে অবশেষে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে তারা কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি পেয়ে যায়। দলের ফরোয়ার্ড আর্নেস্ট নুয়ামাহর নেওয়া একটি নিখুঁত ফ্রি কিক থেকে বক্সের ভেতর দূরের পোস্টে থাকা ডেরিক লুকাসেন চমৎকার ভলিতে বল জালে পাঠান। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললেও পরবর্তীতে দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার মাধ্যমে গোলের বৈধতা দেন মূল রেফারি।
ঘানার এই সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ক্রোয়েশিয়া। গোল হজম করার ঠিক ১০ মিনিট পরেই, অর্থাৎ ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে আবারও দুর্দান্তভাবে লিড নেয় ক্রোয়াটরা। দলের হয়ে ঘানার জাল কাঁপিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকোলা ভ্লাসিচ। ম্যাচের শেষ দিকে ঘানা আর কোনো আক্রমণ জমাতে না পারায় এবং কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।
বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফুটবলের বৈশ্বিক মহামঞ্চে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড, যা বিশ্বকাপের প্রায় শত বছরের ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলার করে দেখাতে পারেননি।
টানা দুই জয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় আজ জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি। পেশির হালকা টান থাকার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রামে রেখেছিলেন। তবে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ভক্তদের উল্লাসে মুখরিত করে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মাঠে নামার ঠিক ২০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ২৫ মিটার দূর থেকে নিজের সিগনেচার স্টাইলে এক চোখধাঁধানো ও নিখুঁত ফ্রি-কিক শটে জর্ডানের জাল কাঁপিয়ে দেন মেসি।
এই জাদুকরী গোলের ওপর ভর করেই বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এই নতুন বিশ্বরেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন লিওনেল মেসি। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ৪টি ম্যাচ (অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স) এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ৩টি ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন তিনি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোকে (১৯৭০) ছাড়িয়ে গেছেন, যারা এতদিন ধরে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার যৌথ রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন।
জর্ডানের বিপক্ষে করা এই গোলটি চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ষষ্ঠ গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। এই দুর্দান্ত ফর্মের সুবাদে বিশ্বকাপে নিজের সর্বমোট গোলসংখ্যাকে ১৯-এ নিয়ে গেলেন তিনি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো পুরুষ ফুটবলারের ক্ষেত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ। মেসির এই রেকর্ডব্রেকিং ফ্রি-কিক এবং জিওভানি লো চেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ভর করে ৩-১ ব্যবধানে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে সপ্তম বারের মতো শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় টিভি রিয়্যালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’। “বাংলায় জাগি ভরপুর” স্লোগানকে সামনে রেখে শুদ্ধ বাংলা চর্চা নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ে দেশের জনপ্রিয় চায়ের ব্র্যান্ড ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর’ ২০১৭ সাল থেকে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।
এ বছর ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ আরও আকর্ষনীয়ভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। আটটি বিভাগীয় শহর ও কুমিল্লায় অডিশনের মাধ্যমে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা স্টুডিও রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করবে। মোট ২১ পর্বের এ প্রতিযোগিতা চ্যানেল আই-এ সম্প্রচারিত হবে।
বিচারকমণ্ডলীতে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, ভাষাবিদ তারিক মনজুর, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার।
সপ্তম বর্ষের নিবন্ধন শুরু হয়েছে ২৭ জুন, ২০২৬ থেকে, যা চলবে ৩০ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত।চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী যথাক্রমে ১০ লক্ষ, ৩ লক্ষ ও ২ লক্ষ টাকার মেধাবৃত্তি পাবে। প্রথম দশজন প্রতিযোগী ল্যাপটপসহ বই ও বইয়ের আলমারি পাবে।
উক্ত উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জাহিদা ইস্পাহানি ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মনসুর মুসা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ফরিদুর রেজা সাগর ও ইস্পাহানি টি লিমিটেড এর মহাব্যবস্থাপক জনাব ওমর হান্নান। এ বছরের ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের জন্যে www.banglabid.com.bd ঠিকানায় যাবার জন্যে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কর্পোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। গাড়ি নির্মাতা ব্র্যান্ড চেরি ও এর বিভিন্ন অংশীদার (পার্টনার) এবং কর্পোরেট গ্রাহকদের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
চেরি ঢাকার সাতারকুলের মাদানি এভিনিউতে (১০০ ফিট) অবস্থিত ‘গ্রিনভিল ফুটসাল’ মাঠে আজ ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি আগামী ২৯ জুন ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে।
এশিয়ান হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, করপোরেট অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহেদ হোসেন এবং এজিএম সিরাজুল মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট গ্রাহকদের প্রতিনিধিরা টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
মন্তব্য