প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও, পরবর্তী টানা দুই ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়াকে। দলের এমন ভরাডুবির পর দেশটির রাষ্ট্রপতি লি-জি মিউং প্রকাশ্যেই কোচ হং মিউং-বোকে ‘অযোগ্য’ বলে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে দলের এই বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন তীব্র সমালোচনার ও চাপের মুখে পড়ার পরই দ্রুত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কোচ হং মিউং-বো।
গতকাল আর্জেন্টিনা-জর্ডান এবং আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দুটি শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পর্দা নামে। আর এই ম্যাচগুলোর সমীকরণ শেষে নিশ্চিত হয়ে যায় যে, ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবেও নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) জায়গা পাচ্ছেন না দক্ষিণ কোরিয়া। দলের এই আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর পরই গতকাল মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন কোচ হং মিউং-বো। সেখানে তিনি বলেন, “সবার আগে আমি কোরিয়ান ফুটবলকে গভীরভাবে ভালোবাসি। জাতীয় দলকে যাঁরা সব সময় নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে আসছেন—তাদের সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আজ আমি কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
বিগত ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন হং। এই দুই বছরে তাঁর অধীনে দল ২০টি ম্যাচে জয় পেলেও, ৯টি ম্যাচ ড্র করে এবং ১৬টি ম্যাচে হারের মুখ দেখে। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে হং বলেন, “জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য কখনোই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু যেদিন এই দায়িত্ব নিয়েছিলাম, সেদিন থেকেই কোনো অজুহাত বা অন্য কোনো কারণের কথা চিন্তা করিনি। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য। বিগত দুই বছর ধরে খেলোয়াড় নির্বাচন, অনুশীলনের প্রস্তুতি কিংবা ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি যে, এটি কোরিয়ান ফুটবলের জন্য সঠিক কি না। আমি বলছি না যে আমার নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, তবে আমি শতভাগ নিষ্ঠাবান ছিলাম।”
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে পরের দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের কাছে পরাস্ত হয়ে টানা ১-০ ব্যবধানে হেরে বসে দলটি। ফলে ‘এ’ গ্রুপে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। টুর্নামেন্টের বর্ধিত নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবে যে আটটি দেশ নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া সেই তালিকাতেও স্থান করে নিতে ব্যর্থ হয়। মূলত বিশ্বমঞ্চের এই চরম ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রপতির সরাসরি তোপের মুখেই দুই বছরের কোরিয়ান অধ্যায়ের ইতি টানতে বাধ্য হলেন হং মিউং-বো।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর মহানাটক। গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথটি ৩-৩ গোলের নাটকীয় সমতায় শেষ হয়েছে। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে অতিরিক্ত ও যোগ করা সময়ে একের পর এক গোল এবং নাটকের কারণে কোনো দলই শেষ পর্যন্ত হার মানেনি। তবে এই দুই দলের রোমাঞ্চকর ড্রয়ের ফলে বড় ধরনের কপাল পুড়েছে ইরানের। সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়ে কোনো ম্যাচ না হেরেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার এই পরাশক্তিকে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই শেষে এক পর্যায়ে ২-২ সমতায় ছিল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচ। খেলা যখন যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে, তখন মনে হচ্ছিল ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়বে দুই দল। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে আলজেরিয়ার তারকা ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহারেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। মাহারেজের এই আকস্মিক গোল অস্ট্রিয়াকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল। আলজেরিয়ার গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাচের শেষ আক্রমণে ঝাঁপায় অস্ট্রিয়া। ডি-বক্সে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডের সাহায্যে গোল করে অস্ট্রিয়াকে ৩-৩ সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার সাসা কালাইদজিচ। শেষ মুহূর্তের এই অতিমানবীয় গোলেই টিকে যায় অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ম্যাচে অস্ট্রিয়ার হয়ে বাকি দুটি গোল করেন অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে ১৯৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠল অস্ট্রিয়া, যেখানে শেষ বত্রিশে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের।
অন্যদিকে, আলজেরিয়ার পক্ষে অন্য গোলটি করেন রফিক বেলঘালি। ম্যাচটি ড্র হওয়ায় গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করলেও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে এই ম্যাচের নাটকীয় ফলের সবচেয়ে বড় মাশুল দিতে হয়েছে ইরানকে। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর—তিন দলের বিপক্ষেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থাকা ইরানের আশা ছিল অস্ট্রিয়া বা আলজেরিয়ার যেকোনো এক দল জিতলে তারা পরের রাউন্ডে যাবে। কিন্তু কালাইদজিচের শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল ইরানের সেই শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করে দেয়।
গ্রুপ ‘কে’-এর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগাল ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত এই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলশূন্য ব্যবধানে ড্র হয়েছে। এই ড্রয়ের সুবাদে ৩ ম্যাচে দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে সর্বোচ্চ 7 পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখল কলম্বিয়া। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। এই গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে কঙ্গোও পরের রাউন্ডে উঠেছে।
মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও পুরো সময় জুড়েই ছিল আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের রোমাঞ্চ। বলের দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। পুরো ম্যাচে ৫৫ শতাংশ বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি পর্তুগালের গোলপোস্টে ২৪টি শট নেয় কলম্বিয়ার স্ট্রাইকাররা, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পর্তুগালও বেশ কিছু কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করে মোট ১৩টি শট নেয়, যার ২টি ছিল অন-টার্গেট। গোল না হলেও দুই দলের গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল গ্যালারির দর্শকদের দারুণ বিনোদন জুগিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগালকে লিড এনে দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে কলম্বিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কামিলো ভারগাসের চমৎকার সেভে সে যাত্রা হতাশ হতে হয় পর্তুগিজদের। অন্যদিকে পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাও আজ পোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ৬টি দুর্দান্ত সেভ করেন, যা চলতি আসরে তার প্রথম দুই ম্যাচের মোট সেভের চেয়েও বেশি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিনসন সানচেজ বল জালে জড়িয়ে দলকে উল্লাসে মাতালেও পরবর্তীতে রেফারি অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন।
৪৮ দলের বর্ধিত এই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বের রোডম্যাপও এই ম্যাচের ফলাফলের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। গ্রুপ ‘কে’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কলম্বিয়া শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ‘এল’ গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করা আফ্রিকার দেশ ঘানার বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায়। উল্লেখ্য, আফ্রিকান দেশটি নিজেদের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আসা পর্তুগালকে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় নকআউট পর্বের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শেষ ৩২-এর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার। ইউরোপের এই দুই পরাশক্তির মহারণটি আগামী ৩ জুলাই ভোর ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। আসরে নিজেদের বাঁচা-মরার শেষ গ্রুপ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকান এই দেশটি। ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সময়ে উজবেকদের জালে আরও ৩টি গোল দেয় কঙ্গোর স্ট্রাইকাররা। ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার দীর্ঘ সময় পর এটিই বিশ্বমঞ্চে দলটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।
যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বলের দখল এবং আক্রমণ—সবদিক থেকেই শুরু থেকে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় কঙ্গো। তবে ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় কঙ্গোর রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে উজবেকিস্তানকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড এল্ডর সমুরোদোভ। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে কঙ্গো। তবে উজবেকিস্তানের জমাট রক্ষণভাগ প্রথমার্ধ ছাড়িয়ে ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত কঙ্গোর সব প্রচেষ্টা সফলভাবে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভের একটি মারাত্মক ভুলের কারণে পেনাল্টি পায় আফ্রিকান দেশটি। ডি-বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি কঙ্গোর উইঙ্গার ইয়োয়ানে উইসার পায়ে আঘাত করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে কঙ্গোকে ১-১ সমতায় ফেরান সেই ইওয়ান উইসা। এই গোলের ঠিক ১০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কঙ্গোর পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে লিড এনে দেন ফিস্তন মায়েলে। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে উইসা নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় কঙ্গোর।
এর আগে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসর খেলেছিল কঙ্গো, যেখানে তারা ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল এবং যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার মতো তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের। তবে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবারের আসরে ফিরে শুরু থেকেই ভিন্ন ইতিহাস লেখার ইঙ্গিত দিচ্ছিল দলটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দেওয়ার পর লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার বিপক্ষেও হারের ব্যবধানটা (১-০) বড় হতে দেয়নি তারা। আর আজ শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই দাপুটে জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে পা রাখল কঙ্গো।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া। তবে শুরুর সেই বড় ধাক্কা দারুণভাবে সামলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ক্রোয়াটরা। এই রোমাঞ্চকর জয়ের মধ্য দিয়ে তারা চলতি বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে জয় পাওয়ায় গ্রুপ ‘এল’ থেকে রানারআপ হিসেবেই পরের রাউন্ডের টিকিট কাটলো জ্লাতকো দালিচের দল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে লড়তে থাকে দুই দল। তবে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পিটার সুচিচ। চমৎকার এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে তিনি ঘানার জালে জড়াতে ভুল করেননি। এর ঠিক পরের মিনিটে অর্থাৎ ৩১তম মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) চেকের মাধ্যমে রেফারি গোলটির চূড়ান্ত বৈধতা দিলে প্রথমার্ধের খেলা ১-০ ব্যবধানে শেষ হয়।
বিরতির পর দ্বিতীয়ান্ধের শুরু থেকেই গোল পরিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ঘানা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে অবশেষে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে তারা কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি পেয়ে যায়। দলের ফরোয়ার্ড আর্নেস্ট নুয়ামাহর নেওয়া একটি নিখুঁত ফ্রি কিক থেকে বক্সের ভেতর দূরের পোস্টে থাকা ডেরিক লুকাসেন চমৎকার ভলিতে বল জালে পাঠান। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললেও পরবর্তীতে দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার মাধ্যমে গোলের বৈধতা দেন মূল রেফারি।
ঘানার এই সমতায় ফেরার আনন্দ অবশ্য খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ক্রোয়েশিয়া। গোল হজম করার ঠিক ১০ মিনিট পরেই, অর্থাৎ ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে আবারও দুর্দান্তভাবে লিড নেয় ক্রোয়াটরা। দলের হয়ে ঘানার জাল কাঁপিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকোলা ভ্লাসিচ। ম্যাচের শেষ দিকে ঘানা আর কোনো আক্রমণ জমাতে না পারায় এবং কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।
বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফুটবলের বৈশ্বিক মহামঞ্চে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড, যা বিশ্বকাপের প্রায় শত বছরের ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলার করে দেখাতে পারেননি।
টানা দুই জয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ায় আজ জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে ছিলেন না লিওনেল মেসি। পেশির হালকা টান থাকার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে বিশ্রামে রেখেছিলেন। তবে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ভক্তদের উল্লাসে মুখরিত করে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মাঠে নামার ঠিক ২০ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ২৫ মিটার দূর থেকে নিজের সিগনেচার স্টাইলে এক চোখধাঁধানো ও নিখুঁত ফ্রি-কিক শটে জর্ডানের জাল কাঁপিয়ে দেন মেসি।
এই জাদুকরী গোলের ওপর ভর করেই বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এই নতুন বিশ্বরেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন লিওনেল মেসি। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের শেষ ৪টি ম্যাচ (অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স) এবং চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ৩টি ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন তিনি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোকে (১৯৭০) ছাড়িয়ে গেছেন, যারা এতদিন ধরে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার যৌথ রেকর্ডের অংশীদার ছিলেন।
জর্ডানের বিপক্ষে করা এই গোলটি চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির ষষ্ঠ গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। এই দুর্দান্ত ফর্মের সুবাদে বিশ্বকাপে নিজের সর্বমোট গোলসংখ্যাকে ১৯-এ নিয়ে গেলেন তিনি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো পুরুষ ফুটবলারের ক্ষেত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ। মেসির এই রেকর্ডব্রেকিং ফ্রি-কিক এবং জিওভানি লো চেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ভর করে ৩-১ ব্যবধানে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে সপ্তম বারের মতো শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় টিভি রিয়্যালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’। “বাংলায় জাগি ভরপুর” স্লোগানকে সামনে রেখে শুদ্ধ বাংলা চর্চা নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ে দেশের জনপ্রিয় চায়ের ব্র্যান্ড ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর’ ২০১৭ সাল থেকে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।
এ বছর ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’ আরও আকর্ষনীয়ভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। আটটি বিভাগীয় শহর ও কুমিল্লায় অডিশনের মাধ্যমে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা স্টুডিও রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করবে। মোট ২১ পর্বের এ প্রতিযোগিতা চ্যানেল আই-এ সম্প্রচারিত হবে।
বিচারকমণ্ডলীতে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, ভাষাবিদ তারিক মনজুর, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার।
সপ্তম বর্ষের নিবন্ধন শুরু হয়েছে ২৭ জুন, ২০২৬ থেকে, যা চলবে ৩০ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত।চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী যথাক্রমে ১০ লক্ষ, ৩ লক্ষ ও ২ লক্ষ টাকার মেধাবৃত্তি পাবে। প্রথম দশজন প্রতিযোগী ল্যাপটপসহ বই ও বইয়ের আলমারি পাবে।
উক্ত উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জাহিদা ইস্পাহানি ও মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক মনসুর মুসা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ফরিদুর রেজা সাগর ও ইস্পাহানি টি লিমিটেড এর মহাব্যবস্থাপক জনাব ওমর হান্নান। এ বছরের ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের জন্যে www.banglabid.com.bd ঠিকানায় যাবার জন্যে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘এশিয়ান কর্পোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। গাড়ি নির্মাতা ব্র্যান্ড চেরি ও এর বিভিন্ন অংশীদার (পার্টনার) এবং কর্পোরেট গ্রাহকদের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
চেরি ঢাকার সাতারকুলের মাদানি এভিনিউতে (১০০ ফিট) অবস্থিত ‘গ্রিনভিল ফুটসাল’ মাঠে আজ ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি আগামী ২৯ জুন ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে।
এশিয়ান হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান সাজেদুর রহমান বলেন, করপোরেট অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দলগত চেতনা ও সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহেদ হোসেন এবং এজিএম সিরাজুল মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অংশীদার প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট গ্রাহকদের প্রতিনিধিরা টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
মন্তব্য