× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
Black magic in England Ghana match
google_news print-icon

ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচে ‘কালো জাদু’

ইংল্যান্ড-ঘানা-ম্যাচে-কালো-জাদু-

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে এক অদ্ভুত ও রসাত্মক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। খাতায়-কলমে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ইংলিশরা এই ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে হারাতে পারেনি, এমনকি দলের প্রধান তারকা হ্যারি কেইনও ছিলেন সম্পূর্ণ গোলহীন। থ্রি লায়ন্সদের এমন নিষ্ক্রিয়তার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ক্রীড়া মহলে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী কালো জাদু বা ‘জুজু’ চর্চা নিয়ে তুমুল আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে ম্যাচ শুরুর আগে দেওয়া ঘানার এক তান্ত্রিক ওঝা নানা কিয়াঙ্কু বোন্সামের একটি অদ্ভুত দাবি। তিনি ম্যাচ শুরুর আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর তিনি এমন এক বিশেষ কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার প্রভাবে কেইন এই ম্যাচে কোনোভাবেই গোলের দেখা পাবেন না। পরবর্তীতে ম্যাচের মাঠে হ্যারি কেইনের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার ঘটনা এই দাবিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল করে তোলে।

ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ করলেও ঘানার জমাট রক্ষণভাগের কারণে গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের শেষভাগে নিকো ও’রেইলির একটি নিশ্চিত হেড গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হওয়ার পর সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে একদম শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে। হ্যারি কেইন গোলপোস্টের একদম সামনে অত্যন্ত সহজ ও ফাঁকা এক সুযোগ পেয়েও বল অবিশ্বাস্যভাবে পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে মারেন। কেইনের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের এমন সহজ মিসের পর গ্যালারিতে ঘানার সমর্থকদের সাদা পাউডার ছিটিয়ে প্রার্থনা করার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।

ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিমের বন্যা বয়ে যায় এবং সমর্থকরা রসিকতা করে বলতে থাকেন যে ঘানার ওঝার কালো জাদু সত্যিই কাজ করেছে। ম্যাচ শেষে এই অতিপ্রাকৃতিক ও অদ্ভুত আবহকে অবশ্য হাসিমুখে এবং রসিকতার ছলেই মেনে নিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলাররা। দলের তারকা মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমরা শট, হেডার, সেট-পিস—সব কিছু দিয়েই চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনোটিই আজ জালে জড়ায়নি। কে জানে, হয়তো ঘানার কালো জাদুই আজ মাঠে কাজ করছিল!”

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
Ronaldo at the new peak of history in the royal comeback

রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে ইতিহাসের নতুন চূড়ায় রোনালদো

রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে ইতিহাসের নতুন চূড়ায় রোনালদো ছবি: সংগৃহীত

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য বয়স যে শুধুই একটি সাধারণ সংখ্যা, তার প্রমাণ তিনি আবারও দিলেন টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায়। যখন বিশ্বজুড়ে সমালোচকরা তাঁর অবসরের প্রহর গুনছিলেন, ঠিক তখনই ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা ভস্ম থেকে জেগে উঠলেন এক অপরাজেয় ফিনিক্সের মতো। মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের বিশাল জয়ের রাতে রোনালদো কেবল গোলই করেননি, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় খোদাই করেছেন নতুন এক রাজকীয় অধ্যায়।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ব্রডকাস্টিং ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই পর্তুগিজ মহাতারকা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের উদ্দেশে স্বভাবসুলভ দম্ভ আর দাপটের সঙ্গে বললেন, “আমি ফিরে এসেছি, আমি ফিরে এসেছি।” তাঁর এই ঘোষণায় যেন মিশে ছিল চারদিক থেকে ধেয়ে আসা সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব। উল্লেখ্য যে, চলতি বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ছন্দহীন পারফরম্যান্সের কারণে ফুটবল মহলে তাঁকে ‘দলের বোঝা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি শুরুর একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়া নিয়েও কড়া প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে হিউস্টনে রোনালদো যেন অপেক্ষায় ছিলেন সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য।

ম্যাচের মাত্র ৬ষ্ঠ মিনিটে সমালোচনার সব জাল ছিন্ন করে উৎসবের সূচনা করেন সিআরসেভেন। হোয়াও কানসেলোর নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার এক ভলিতে গোল করে তিনি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এই অনন্য রেকর্ড গড়ার পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে, যিনি ৫টি বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯ গোল) ছাড়িয়ে যান তিনি। বিশ্বকাপে এখন রোনালদোর মোট গোল ১০টি।

রোনালদোর এই প্রত্যাবর্তন ছিল হার না মানা এক মানসিকতার প্রতিফলন। ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে এই জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোলের বিশ্বরেকর্ডটিও নিজের করে নিলেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩৮ বছর বয়সে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসি যে রেকর্ড গড়েছিলেন, পর্তুগিজ মহাতারকা তা মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে দিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৪৫টি গোলের মালিক এই কিংবদন্তি এখন ক্যারিয়ারের ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ২৫ কদম দূরে দাঁড়িয়ে।

পর্তুগালের বড় জয়ের পর তৃপ্ত রোনালদো বলেন, “এটা খুব আনন্দের, তবে সবচেয়ে বড় কথা সমালোচনা পেছনে ফেলে দল জিতেছে এবং আমরা সঠিক কক্ষপথে আছি। আমাদের লক্ষ্য এখন অনেক দূরে।” বর্তমানে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে পর্তুগাল। তাঁর এই অসামান্য পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন প্রশংসার জোয়ার বইছে। মানুষের মানবিক সামর্থ্য যেখানে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, সেখান থেকেই যেন রোনালদোর জয়যাত্রা শুরু হয়—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাফল্যের জন্য যাঁর আজীবনের তৃষ্ণা, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অনন্য এক নক্ষত্র।

মন্তব্য

খেলা
Messis new spring in the world record crown

ফুটবল জাদুকরের ৩৯তম জন্মদিন আজ

ফুটবল জাদুকরের ৩৯তম জন্মদিন আজ ছবি: সংগৃহীত

২৪ জুন—বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক বিস্ময় বালক, যার জাদুকরী বাঁ পা পরবর্তীতে ফুটবল খেলার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। তিনি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আজ তিনি জীবনের ৩৯তম বসন্তে পা দিলেন। বয়সের ভারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আজও তিনি কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার যেন এক রূপকথার মহাকাব্য। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা জয় করে বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রা আজ ইন্টার মায়ামির মাঠেও একইভাবে উজ্জ্বল। বার্সেলোনার জার্সিতে সম্ভাব্য সকল ক্লাব শিরোপা জয় এবং রেকর্ডসংখ্যক আটটি ব্যালন ডি’অর জিতে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। তাঁকে বলা হয় ‘রেকর্ডের বরপুত্র’, কারণ মাঠে নামলেই কোনো না কোনো নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরে তিনি কেবল আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপই মেটাননি, বরং সর্বকালের সেরা নিয়ে সকল বিতর্কের চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে জন্মদিনের ঠিক দুদিন আগে বিশ্বকাপে নিজের ১৮তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

সাধারণত ফুটবলারদের ক্যারিয়ার যখন ৩০-এর কোঠায় ফুরিয়ে আসে, তখন ৩৯ বছর বয়সেও মেসি নিজেকে আরও ক্ষুরধার প্রমাণ করছেন। বর্তমান ও গত বিশ্বকাপে তিনি যেভাবে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা তরুণ ফুটবলারদের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত। চলতি আসরে আর্জেন্টিনার প্রথম পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে তাঁর পা থেকে, যা তাঁর অতুলনীয় প্রভাবকে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর কেবল সেই ক্লাবই নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের চেহারাই বদলে দিয়েছেন এই কিংবদন্তি।

বারবার ফাইনালে হেরেও হাল না ছেড়ে ফিরে আসার অদম্য মানসিকতা মেসিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। তাঁর ৩৯তম জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের প্রার্থনা ফুটবলের এই জাদুকর যেন আরও কিছুদিন তাঁর পায়ের কারিশমা দিয়ে দর্শকদের মোহিত রাখেন। পেলে ও ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর নাম। শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি—ফুটবল প্রেমীদের প্রতিটি মুহূর্ত রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য এক বুক কৃতজ্ঞতা। চল্লিশের প্রাক্কালেও ফুটবল বিশ্ব আপনার জাদুর ছোঁয়া উপভোগ করতে চায়।

মন্তব্য

খেলা
England failed to break Ghanas defense and scored a goalless draw

ঘানার রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড, গোলশূন্য ড্র

ঘানার রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড, গোলশূন্য ড্র ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলশূন্য ড্র করার এক অনন্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল ইংল্যান্ড। বোস্টনের সর্বশেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের ১৩তম গোলশূন্য ড্র সম্পন্ন করল থ্রি-লায়ন্সরা। ফুটবল বিশ্বের আর কোনো দলের ন্যূনতম ১০টি ম্যাচও গোলশূন্য ড্র হওয়ার নজির নেই। এই তালিকায় ৯টি গোলশূন্য ড্র নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। উরুগুয়ে ৮ বার এবং জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন সমান ৭ বার করে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে।

ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কিছুটা হতাশ কণ্ঠে সংবাদকর্মীদের জানান, গোল না পাওয়ার কারণটি যেন তারা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে জিজ্ঞেস করেন। টুখেলের মতে, ইংল্যান্ড গোল করার মতো বেশ কিছু পরিষ্কার সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নিয়েও মাত্র ৩টি লক্ষ্যবস্তুতে রাখতে পেরেছে ইংল্যান্ডের তারকাখচিত আক্রমণভাগ। গত ২৪ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ যেখানে ১৯টি বা তার বেশি শট নিয়েও তারা জালের দেখা পায়নি। ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা এবং হ্যারি কেইন কয়েকবার ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারের কঠিন পরীক্ষা নিলেও সফলতা আসেনি।

অন্যদিকে, আফ্রিকান দল ঘানাও ছেড়ে কথা বলেনি। প্রতি-আক্রমণ থেকে তারাও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ সতর্ক থাকায় বিপদ ঘটেনি। ঘানার গোলরক্ষক তিনটি চমৎকার সেভ করে নিজের দলকে রক্ষা করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ইংল্যান্ডকে এ ম্যাচে সেই চিরচেনা ছন্দে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ১৯টি শটের বিপরীতে মাত্র ৩টি অন-টার্গেট শট ইংল্যান্ডের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম গোলশূন্য ড্র। সেই ধারায় আজ ইংল্যান্ড ১৩তম বারের মতো ইতিহাস গড়ল। বর্তমানে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। তবে ঘানার বিপক্ষে আজ জয় পেলেই তাদের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যেত। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ঘানা রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে লড়াইয়ের মাধ্যমেই এখন পরের রাউন্ডের ভাগ্য নির্ধারিত হবে টুখেল বাহিনীর।

মন্তব্য

খেলা
Portugal thrashed Uzbekistan 5 0 on Ronaldo double and record night

রোনালদোর জোড়া গোল ও রেকর্ডের রাতে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে ওড়াল পর্তুগাল

রোনালদোর জোড়া গোল ও রেকর্ডের রাতে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে ওড়াল পর্তুগাল

প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাঁর রেকর্ড গড়া জোড়া গোলের ওপর ভর করে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা এই ম্যাচেই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন। এই বড় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ওঠার পথে বিশাল এক ধাপ ফেলল সাবেক ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেক রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে পর্তুগাল। ২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের আক্রমণ প্রতিহত হওয়ার পর ৫ম মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেন রোনালদো। তবে ঠিক পরের মিনিটেই (৬ষ্ঠ মিনিটে) জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো নিচু ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেন সিআরসেভেন (CR7)। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত নিচু শটে গোল করে পর্তুগালের ব্যবধান ২-০ করেন ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস।

প্রথমার্ধের মাঝপথে উজবেকিস্তান বক্সের বাইরে থেকে গাভিয়েনের এক অবিশ্বাস্য শটে গোল করলেও, বিল্ডআপের সময় কানসেলো ফাউলের শিকার হওয়ায় ভিএআর (VAR) যাচাই করে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করেন। এরপর ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে ডান পায়ের চমৎকার আড়াআড়ি শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের পক্ষে সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার নতুন রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। ইনজুরি টাইমে রোনালদোর একটি চিপ গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন উজবেক ডিফেন্ডার খুশানোভ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫২ ও ৫৪ মিনিটে ফায়জুল্লায়েভ ও শুকুশভের দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ দারুণভাবে নস্যাৎ করে দেয় পর্তুগিজ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ডিওগো কোস্তা। এরপর ৬০তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে জোয়াও ফেলিক্সের চমৎকার ব্যাক-হিল ড্রপ খেয়ে গোললাইনে থাকা খুসানভের গায়ে লেগে প্রতিহত হতে গেলে, দুর্ভাগ্যবশত উজবেক গোলকিপার আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়িয়ে যায়। এর ফলে পর্তুগাল ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর রোনালদো আরও দুইবার হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছালেও উজবেক কিপারের চমৎকার সেভে তা আলোর মুখ দেখেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে আক্রমণভাগ আরও গতিময় করেন রাফা লেয়াও। ৮৭তম মিনিটে নেলসন সেমেদোর একটি কাটব্যাক রোনালদোর উদ্দেশ্যে এলেও তা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে লেয়াওয়ের সামনে চলে আসে। সুযোগ হাতছাড়া না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালের ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের ধাক্কা সামলে এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল রবার্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা।

খেলা
Mbappes pursuit of the unstoppable Messi

অপ্রতিরোধ্য মেসিকে এমবাপ্পের তাড়া

অপ্রতিরোধ্য মেসিকে এমবাপ্পের তাড়া ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও একবার দাপুটে পারফরম্যান্স লিওনেল মেসির। জোড়া গোলে গড়েছেন ইতিহাস। সাবেক জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন লিওনেল মেসি।

চূড়ার সেই আসনে অবশ্য নির্বিঘ্নে থাকতে পারছেন না আর্জেন্টাইন তারকা। তাকে তাড়া করে ফিরছেন ফ্রান্স তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সর্বোচ্চ গোলের এই রেকর্ডে মেসিকে রীতিমতো চোখ রাঙানি দিচ্ছেন এমবাপ্পে।

মেসির উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরই ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। ঝড়-বৃষ্টিতে পরিবেশ খারাপ হলেও নিজের পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে ছিলেন উজ্জ্বল। তিনিও জোড়া গোল করেছেন ইরাকের বিপক্ষে। এতে রেকর্ড গড়েছেন ফরাসি তারকাও।

বিশ্বকাপে ১৪টি গোল নিয়ে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোল করে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেন ১৫-তে।

ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ইরাকের ভুল কাজে লাগিয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৬তম গোল। এই গোলেই নাম যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লোসার পাশে বসেন এমবাপ্পে।

শুধু ক্লোসার পাশেই নয় লিওনেল মেসিকেও তাড়া করছেন এমবাপ্পে। দুজনের গোলের পার্থক্য এখন দুটি। ফ্রান্সও ইতোমধ্যে নকআউট পর্বে কোয়ালিফাই করেছে। তাই এমবাপ্পের সামনে সুযোগ থাকছে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলার। অবশ্য নকআউটে কোয়ালিফাই করা মেসির সামনেও সুযোগ আছে ব্যবধান আরও বাড়ানোর।

ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মেসিকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন এমবাপ্পে। তখনই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। 'লিও সবসময় গোল করে, সে সবসময়ই করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, লিও কী করছে সেদিকে যদি আমি মনোযোগ দিই, তাহলে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।’

এরপর আরও স্পষ্ট করে এমবাপ্পে বলেন, 'আমি সে কী করছে, সেদিকে একদমই তাকাই না। আমি শুধু আমার দলকে সাহায্য করার কথাই ভাবি।’

বর্তমানে ৫ গোল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি (আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩টি ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২টি)।

অন্যদিকে ৪টি করে গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এমবাপ্পে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে দুটি করে মোট চার গোল করেছেন (ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে)।

শীর্ষ দুই মহাতারকার পেছনে ৩টি করে গোল নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন জার্মানির ডেনিজ উন্দাভ এবং কানাডার জোনাথন ডেভিড। এছাড়া ব্রাজিলের মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ আরও ১৬ জন খেলোয়াড় ২টি করে গোল নিয়ে এই তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতার তালিকা:

  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৫ গোল
  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৪ গোল
  • আরলিং হালান্ড (নরওয়ে): ৪ গোল
  • জোনাথন ডেভিড (কানাডা): ৩ গোল
  • ডেনিজ উন্দাভ (জার্মানি): ৩ গোল

সংক্ষেপে মেসির বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান

  • অংশগ্রহণ: ৬টি বিশ্বকাপ (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)।
  • মোট ম্যাচ: ২৮টি (বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ)।
  • মোট গোল: ১৮টি (আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ)।
  • অ্যাসিস্ট: ৮টি।
  • শিরোপা: ১টি (২০২২)।
  • গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): ২ বার (২০১৪, ২০২২)।
  • ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: ১১বার (বিশ্ব রেকর্ড)।
  • মাঠে কাটানো সময়: ২,৪৮৪ মিনিট (বিশ্ব রেকর্ড)।

সংক্ষেপে এমবাপ্পের বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান:

  • মোট বিশ্বকাপ: ৩টি (২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
  • মোট ম্যাচ: ১৬টি
  • মোট গোল: ১৬টি
  • অ্যাসিস্ট: ৩টি
  • শিরোপা: ১টি (২০১৮)
  • গোল্ডেন বুট: ১টি (২০২২)
  • ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:৮বার
  • মাঠে কাটানো সময়:১৩১০ মিনিট

মন্তব্য

খেলা
Neymar in full training relieved in Brazil camp ahead of Scotland match

পুরোদমে অনুশীলনে নেইমার, স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি

পুরোদমে অনুশীলনে নেইমার, স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি

দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। দলের প্রধান ট্যাকটিক্যাল সেশনেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। সতীর্থ গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি জানিয়েছেন, নেইমার বর্তমানে খুব ভালো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় আছেন। ফলে চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচেই এই অভিজ্ঞ তারকার মাঠে নামার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সেলেসাও ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বর্তমানে দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর থেকে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি আর গায়ে জড়াতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নেইমারের সাম্প্রতিক সময়টা বেশ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। সৌদি আরবের ক্লাব প্রো লিগ ঘুরে ব্রাজিলে ফিরেও চোটের কারণে তাকে ধুঁকতে হয়েছে। তবে গত বছর নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ক্যারিয়ারে গতি ফেরাতে সচেষ্ট হন তিনি। চলতি বছর সান্তোসের হয়ে ১৫ ম্যাচে ৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কখনই টানা চারটি ম্যাচ খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই সাবেক মহাতারকা।

নানা আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও নেইমারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অবশ্য টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে (মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়) মাঠের বাইরে বেঞ্চে বসেই দলের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। সোমবার স্কটল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে হওয়া ট্যাকটিক্যাল সেশনে নেইমারের তীব্রতা ও দারুণ পারফরম্যান্স দেখে সতীর্থ মার্তিনেল্লি বলেন, “সে খুবই উঁচু পর্যায়ের পারফরম্যান্স করেছে। আমাদের সাথে থাকার জন্য সে কতটা আগ্রহী, তা আপনারা দেখছেন। তবে সে মূল একাদশে খেলবে কিনা, এই সিদ্ধান্ত কোচের; কিন্তু আমি মনে করি সে এখন দারুণ অবস্থায় আছে।”

মন্তব্য

খেলা
Haalands double goal topped Senegal in the next round of Norway

হাল্যান্ডের জোড়া গোলে সেনেগালকে টপকে পরের রাউন্ডে নরওয়ে

হাল্যান্ডের জোড়া গোলে সেনেগালকে টপকে পরের রাউন্ডে নরওয়ে

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে সেনেগালকে টপকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। মাঠের তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে বিজয়ী দলের হয়ে বিশ্বখ্যাত স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড এবং পরাজিত সেনেগালের হয়ে ইসমাইলা সার প্রত্যেকেই জোড়া গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠলেও প্রথম গোলের দেখা মেলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪৩তম মিনিটে সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মার্কাস পেডারসেন। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (এডেড টাইম) আর্লিং হাল্যান্ডের একটি জোরালো শট গোলপোস্টে আঘাত করলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ভাইকিংসদের। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচটি আরও বেশি গতিময় ও উত্তেজনায় রূপ নেয়। ৪৮তম মিনিটে দলের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের একটি নিখুঁত থ্রু বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আর্লিং হাল্যান্ড। তবে এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই (৫৩ মিনিটে) সাদিও মানের রক্ষণচেরা পাস থেকে গোল করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরান ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার। কিন্তু সেনেগালের এই আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল খুবই অল্প সময়। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে নরওয়েকে ৩-১ ব্যবধানে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন হাল্যান্ড।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া এড়াতে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে সেনেগাল। নরওয়ের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (এডেড টাইম) আবারও গোল পায় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। ব্যবধান ৩-২ হওয়ার পর সমতা ফেরাতে সেনেগাল সব শক্তি দিয়ে আক্রমণ চালালেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা সফলভাবে প্রতিহত করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

মন্তব্য

p
উপরে