বিগত দুই ম্যাচ ধরে যার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করছে ব্রাজিল ফুটবল দল ও পুরো বিশ্বকাপ আসর, সেই নেইমারের মাঠে ফেরার সময় অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। ইনজুরি জয় করে ব্রাজিলের এই প্রাণভোমরা সবুজ গালিচায় ফিরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয়ের পর দলের প্রধান তারকা নেইমারের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানান ব্রাজিলীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেইমারকে একাদশে দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ইতালীয় মাস্টারমাইন্ড আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন শনিবার এককভাবে ঘাম ঝরাবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে মূল দলের সাথে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য নিজেকে ফিট করে তুলবেন। মূলত ডান পায়ের কাফ পেশির চোটের কারণে প্রায় মাসখানেক ফুটবলের বাইরে রয়েছেন এই ব্রাজিলীয় মহাতারকা। সান্তোসের জার্সি গায়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ঘরোয়া লিগের ম্যাচে তিনি এই ইনজুরিতে পড়েছিলেন। এরপর থেকেই নিবিড় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ কারণেই ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দলের সঙ্গী হতে পারেননি তিনি; বরং নিউ জার্সিতে দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করছিলেন।
হাইতির বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রাক্কালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের কঠোর অনুশীলনের কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল ও কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিজের ফিটনেস পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করছেন তিনি। ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস ও মিনো ফুলকোর তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার এই কসরত। তবে তার ফেরা নিয়ে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করেই তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা কোচের। বর্তমানে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে সেলেসাওরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করতে পারলেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হবে তাদের, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন নেইমার।
ছবি: সংগৃহীত
মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনায় পড়েছিল ব্রাজিল। তবে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই সমালোচনার জবাবই দিল সেলেসাওরা। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোল আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলের সুবাদে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। ২৩ মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ম্যাথিউস কুনহা। গুইমারেসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেওয়া শট হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। ফিরতি বলে সহজেই জালে বল পাঠান কুনহা।
এর ১৩ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনহা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের তালিকায় নাম লেখান ভিনিসিয়ুস নিজেও। পাকেতার বাড়ানো বল ধরে গতিতে বক্সে ঢুকে দারুণ প্লেসিং শটে হাইতির জালে বল জড়ান তিনি। তাতেই বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় জয়ের আশা জেগেছিল ব্রাজিল সমর্থকদের। তবে একাধিক সুযোগ নষ্ট, দুটি গোল বাতিল এবং পোস্টে বল লাগায় ব্যবধান আর বাড়েনি। তা সত্ত্বেও জয় পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি সেলেসাওদের। যদিও স্কোরলাইন একতরফা, দ্বিতীয়ার্ধে হাইতিও বেশ কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ তৈরি করে। ব্রাজিলের গোলরক্ষক কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ ঠেকিয়েছেন, একটি গোললাইন সেভও করতে হয়েছে দলটিকে।
দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের পয়েন্ট এখন ৪। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোলব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে তারা। মরক্কোও দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে, তবে গোলব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষও স্কটল্যান্ড, ফলে গ্রুপসেরার লড়াই জমে উঠছে আরও।
এই জয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তিও গড়েছে ব্রাজিল। হাইতির বিপক্ষে তিন গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে তারা। এখন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ২৪১, যা জার্মানির ২৩৯ গোলকে ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যা ১৫৫।
সমালোচনার জবাব, গ্রুপের শীর্ষস্থান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলের রেকর্ড পুনর্দখল, সব মিলিয়ে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ম্যাচ হয়ে থাকল।
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঘোষণা করেছেন যে, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ২০২৪ ইউরোর পর একবার অবসর নিলেও কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অনুরোধে দলে ফিরেছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই তারকা। তবে এবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুই বছর পর হতে যাওয়া পরবর্তী ইউরোতে খেলার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।
নয়্যার জানান, জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ আর নিতে চান না; বরং দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচগুলো তিনি স্রেফ উপভোগ করতে চান। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে বায়ার্ন মিউনিখের এই মহানায়কের এখন একমাত্র লক্ষ্য—দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে এক রাজকীয় বিদায় নেওয়া। সম্প্রতি জাতীয় দলে ফিরেই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন এই বিশ্বস্ত দেয়াল।
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড় তাড়া করতে গিয়ে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৯ রান তুলতে সক্ষম হয় তাওহিদ হৃদয়ের দল।
এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার ম্যাট রেনশর বিধ্বংসী এক ইনিংসের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে অজিরা। রেনশ ৫২ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এছাড়া মাঝপথে টিম ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তবে অন্য বোলাররা ছিলেন বেশ খরুচে, বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ ওভার থেকে ১৮ রান তুলে নেয় অজিরা।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফিরলে সাইফ ইনিংসের হাল ধরেন। তিনি ব্যক্তিগত ৪২ রান করে বিদায় নেওয়ার আগে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে জুটি গড়েন। পারভেজ ৩৬ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে আউট হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলগা হয়ে যায়। এর আগে সৌম্য সরকার ১৫ রান করে অ্যাডাম জাম্পার শিকার হন।
ম্যাচের শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৪ রান। উইকেটে ছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী। তবে ১৭তম ওভারে অজি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২ রান আসে এবং শামীম কোনো রান না করেই আউট হলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্তের লড়াই সত্ত্বেও ১৮৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। উল্লেখ্য, সিরিজে টিকে থাকার লক্ষ্যে এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে দুটি পরিবর্তন এনেছিল; শরীফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানের জায়গায় খেলানো হয়েছিল নাহিদ রানা ও নাসুম আহমেদকে। তবে এই পরিবর্তনগুলো শেষ পর্যন্ত হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ৪ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে মেক্সিকানরা শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিল।
স্তাদিও গোয়াডালাজামায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পরপরই কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় মেক্সিকো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে লুইস রোমো দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। তবে এই গোলের নেপথ্যে বড় দায় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিম সিউং জিও’র এক মারাত্মক ভুল। ডি-বক্সের ভেতর আসা একটি উচু বল লাফিয়ে ধরতে গিয়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে বলটি তার হাত থেকে ফসকে যায়। সামনে থাকা রোমো সুযোগটি লুফে নিয়ে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি।
পিছিয়ে পড়ার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে সন হিউং মিনদের দল। অন্তত দুবার তারা নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মেক্সিকোর ২৬ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক রাউল র্যাঞ্জেলের অসামান্য দৃঢ়তায় সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি। মেক্সিকোর রক্ষণভাগও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোরিয়ান আক্রমণভাগকে রুখে দিতে সক্ষম হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯টি আসরে অংশ নেওয়া মেক্সিকো গত কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। তবে এবার এক আসরের বিরতি দিয়ে আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল তারা। এর আগে টানা সাতটি আসরে নকআউট খেলার গৌরবময় রেকর্ড ছিল মেক্সিকোর। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সহ-স্বাগতিক কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কাতারের রক্ষণভাগকে এক প্রকার গুঁড়িয়ে দিয়ে ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় পায় কানাডিয়ানরা। জোনাথন ডেভিডের চমৎকার হ্যাটট্রিক এবং কাতারের দুই ফুটবলারের লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা ম্যাচটিকে একপেশে করে তোলে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে কানাডা। লারিনের গোলে লিড নেওয়ার পর জোনাথন ডেভিড ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। কাতারের জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে পড়ে যখন ৩০ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বিরতির ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডেভিড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৩ মিনিটে আসিম মাদিবো সরাসরি লাল কার্ড পেলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। এর পরপরই ৬৪ মিনিটে নাথান সালিবা ফ্রি-কিক থেকে জালের দেখা পান।
৭৫ মিনিটে কাতারের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে কানাডার ৬-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন জোনাথন ডেভিড। লিওনেল মেসির পর এবারের আসরে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে কানাডা নকআউট পর্বের দৌড়ে টিকে রইল, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে কাতারের বিশ্বকাপ মিশন এখন খাদের কিনারায়।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শুরুতে দুই দলের মধ্যে সমানতালে লড়াই হলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সুইসরা। এই জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা।
প্রথমার্ধে উভয় দলই কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা মেলেনি। বিরতির পর খেলার চিত্র বদলে যায়। সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং মিডফিল্ডে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার নেতৃত্ব ও বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর অবদান দলকে এগিয়ে নেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে সুইসদের লাগাতার আক্রমণের মুখে বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন লাল কার্ড দেখে একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় বসনিয়া। সংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক গোল করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
দাপুটে এই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল সুইসরা।
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টা স্টেডিয়ামে জয়ের খুব কাছে গিয়েও এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রকে। ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি ভাগ্যে নাটকীয় এক ড্র আদায় করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১-১ গোলের এই ড্রয়ে গ্রুপ ‘এ’-র সমীকরণ এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়ল। দুই ম্যাচ শেষে দুই দলেরই সংগ্রহ এখন ১ পয়েন্ট করে।
ম্যাচের শুরুটা ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য ইতিহাস গড়া। মিডফিল্ডার মিখাল সাদিলেক মাত্র ৫ মিনিট ৭ সেকেন্ডে গোল করে চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন। আলেকসান্দ্র সোইকার সঙ্গে চমৎকারএকবলআদান-প্রদানশেষেনিচুশটেলক্ষ্যভেদকরেনতিনি।শুরুতেইপিছিয়েপড়াদক্ষিণআফ্রিকাএরপরতাদেররক্ষণভাগসামলেওঠারচেষ্টাকরে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ফরোয়ার্ড থাপেলো মাসেকোর একটি শট বক্সে থাকা চেক খেলোয়াড় পাভেল শুলৎসের হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৮৩ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তেবোহো মোকোয়েনা। হারের মুখ থেকে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে টিকে রইল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ফুটবলীয় রোমাঞ্চের পাশাপাশি এই ম্যাচটি ইতিহাসের পাতায়ও জায়গা করে নিয়েছে। ছেলেদের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ম্যাচে মাঠের দায়িত্ব পালন করেছেন তিন নারী অফিশিয়াল। যুক্তরাষ্ট্রের টরি পেনসো, ব্রুক মায়ো ও ক্যাথরিন নেসবিট অত্যন্ত নিপুণভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি পরিচালনা করেন।
বর্তমানে গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের প্রথম দুই অবস্থানে রয়েছে। ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট পাওয়া চেক প্রজাতন্ত্র গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তিনে এবং সমান পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা চারে অবস্থান।
মন্তব্য