২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স। প্রথমার্ধে ফরাসিদের কিছুটা ছন্দহীন দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ডময় পারফরম্যান্সে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। এই ম্যাচের মাধ্যমে একই জাতীয় দলকে টানা চারটি বিশ্বকাপে কোচিং করানোর ইতিহাসে বিশ্বের মাত্র ষষ্ঠ কোচ হিসেবে অনন্য কীর্তি গড়লেন ফরাসি মাস্টারমাইন্ড দেশম।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট তারকাখচিত ফ্রান্স দলের জন্য বেশ হতাশাজনক ছিল। এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের বোঝাপড়ার ঘাটতি স্পষ্ট থাকায় প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি ফরাসিরা। অন্যদিকে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল প্রথমার্ধে অপেক্ষাকৃত বেশ সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে। খেলার ২৫তম মিনিটে সেনেগালের নিকোলাস জ্যাকসনের জোরালো শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় ফ্রান্স। এছাড়া প্রথমার্ধের অন্তিম সময়ে ইসমাইলা সারও গোল করার একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করলে গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বক্সে এমবাপ্পেকে সাদিও মানে ট্যাকল করলে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে ফ্রান্স, তবে ভিএআর (VAR) যাচাইয়ের পর তা নাকচ হয়। তবে বেশিক্ষণ গোলখরা কাটাতে হয়নি ফরাসিদের; ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ৭৯তম মিনিটে দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৮২তম মিনিটে আদ্রিয়াঁ রাবিওর লম্বা থ্রু-পাস ধরে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা।
খেলার অতিরিক্ত সময়ে যোগ করা ৫ম মিনিটে (৯৫ মিনিট) সেনেগালের হয়ে এক গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ইব্রাহিমা এমবায়ে। তবে তার ঠিক এক মিনিট পরেই যোগ করা ৬ষ্ঠ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক অবিশ্বাস্য ও জাদুকরি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। এই ঐতিহাসিক জোড়া গোলের সুবাদে সাবেক তারকা অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের কীর্তি টপকে মোট ৫৮ গোল নিয়ে এখন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিলেন এমবাপ্পে। একই সাথে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই ফরাসি তারকা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেবারিট এবং ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে তারা। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এই দেশটি নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বড় এক প্রত্যাবর্তনের অধ্যায় লিখেছে। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবং একের পর এক ধারালো আক্রমণ চালিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণব্যুহ ও তাদের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অদম্য প্রাচীর ভেদ করতে পারেনি স্প্যানিশরা।
ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্পেনের আক্রমণগুলোতে তেমন কোনো ধার ছিল না, প্রথমার্ধের প্রথম ভাগে তাদের অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র একটি। তবে বিরতির ঠিক পূর্বে চড়াও হতে শুরু করে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়েনরা। ফেরান তোরেসের একটি জোরালো শট গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। এরপর ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল এক চমৎকার হেড নিলেও তা অসামান্য দক্ষতায় লুফে নেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তোরেস ও ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি নিশ্চিত গোলের আক্রমণ রুখে দিয়ে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হন ভোজিনিয়া, যিনি ম্যাচজুড়ে মোট ৭টি অসামান্য সেভ করেছেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের গোলের বন্ধ্যাত্ব না কাটায় ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হলেও গোলের খোঁজে এই তরুণ বিস্ময়বালকের ওপর ভরসা রাখতে বাধ্য হন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে ইয়ামালের এই মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এক বিরল ও কালজয়ী রেকর্ডের সৃষ্টি হয়। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার বয়স ছিল ৪০ বছর ২২ দিন এবং ইয়ামালের সাথে তাঁর বয়সের ব্যবধান ছিল ২১ বছর ৪৫ দিন। ফিফা বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধানের নতুন রেকর্ড।
ইয়ামালকে নামানোর পরও স্প্যানিশ আক্রমণের সমস্ত ঢেউ কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ ডিফেন্সের সামনে এসে আছড়ে পড়ে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গোলশূন্য ড্রয়ের আনন্দে মেতে ওঠে কেপ ভার্দের পুরো শিবির। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে পাওয়া এই ১ পয়েন্ট তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, একচেটিয়া আধিপত্যের পরও গোল করতে না পারার এই ব্যর্থতা ও পয়েন্ট হারানো টুর্নামেন্টের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য স্পেনের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয়রথ শুরুতে হোঁচট খাওয়ার পর এবার দলটির প্রধান তারকা নেইমারকে নিয়ে চরম দুঃসংবাদ পেল ফুটবল বিশ্ব। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর জানা গেছে, কাফ মাংসপেশির চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় নেইমার গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতেও সেলেসাওদের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত ১৭ মে তার বর্তমান ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলার সময় গ্রেড-২ ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে সুযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত তিনি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। সোমবারও দলের নিয়মিত মহড়ায় তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। ব্রাজিলের মেডিকেল বিভাগের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে যে, গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দুটিতে নেইমারকে ছাড়াই লড়াই করতে হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।
চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য এখন নেইমারকে নকআউট পর্বের আগে পুরোপুরি ফিট করে তোলা। এ প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা চাই সে পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরুক। তার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব তরুণদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
নেইমারের এই অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে হোঁচট খাওয়ার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এখন ব্রাজিলের জন্য অপরিহার্য। সমর্থকদের এখন একটাই প্রার্থনা—দল নকআউট রাউন্ডে পৌঁছাক এবং সেখানে যেন তাদের প্রিয় ‘নাম্বার টেন’ মহাতারকা পুনরায় মাঠে ফিরে হেক্সা মিশনের নেতৃত্ব দিতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নজিরবিহীন ভ্রমণ জটিলতার মধ্য দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে বাসে করে এসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ খেলে আবার রাতেই ফিরে যাওয়ার মতো অমানবিক নিয়মের মাঝেও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিফা ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ঘাঁটি গেড়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। এই বৈরী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেছিলেন, তারা কোনো স্বাভাবিক উৎসবমুখর আমেজ অনুভব করতে পারছেন না।
মাঠের লড়াইয়েও শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইরান। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজাহ জাস্ট চমৎকার এক ভলিতে কিউইদের এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে জেগে ওঠে ইরান এবং ৩২তম মিনিটে রেজাইয়ানের এক শৈল্পিক চিপ শটে সমতায় ফেরে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৫৪ মিনিটে আবারও ক্রিস উডের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে লিড এনে দেন এলিজাহ জাস্ট। এবারও ইরানের সমতায় ফিরতে সময় লেগেছে মাত্র ১২ মিনিট; রেজাইয়ানের লম্বা পাস থেকে নিখুঁত এক হেডে গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন মোহেবি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গেলেও অভিজ্ঞতার অভাবে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা কিউইদের জন্য এই ড্রও বড় এক অর্জন। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ ও জার্সি বদলের দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা ইরানি কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং মাঠে হাজার হাজার প্রবাসী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পতাকা হাতে খেলোয়াড়দের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—সব মিলিয়ে ইরানের এই ড্র ফুটবলের চেয়েও যেন বড় এক লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকল।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারল না মিশর। দারুণ লড়াই করা আফ্রিকার দলটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে অনেকটা সময় এগিয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলের কারণে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মিশর। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ সালাহ। তার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বেলজিয়াম। অন্যদিকে শুরুতে মাঠে ছিলেন না রোমেলু লুকাকু।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় মিশর। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে বেলজিয়ামের জালে বল জড়ান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ এগিয়ে থাকা।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি বেলজিয়াম। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। তার নেওয়া ফ্রি-কিক গিয়ে লাগে পোস্টে। অল্পের জন্য সমতা ফেরানো হয়নি ইউরোপের দলটির।
তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বদলি হিসেবে মাঠে নামা লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও এক ভুলে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও বড় দলকে আটকে দিয়ে আলোচনায় সৌদি আরব। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে সমতা করেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। দারুণ লড়াইয়ে পাওয়া এই এক পয়েন্টে পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে সৌদিদের।
ম্যাচের আগে শক্তির বিচারে এগিয়ে ছিল উরুগুয়ে। তবে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে সৌদি আরব। গোছানো আক্রমণ আর শক্ত রক্ষণে চাপে পড়ে উরুগুয়ে।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে প্রথমে হেড করেন হাসান আল তামবাকতি। কিন্তু বল ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে এলে সুযোগ কাজে লাগান আবদুলেলাহ আল-আমরি। কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির পর সমতায় ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় উরুগুয়ে। ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোদের একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় সৌদি রক্ষণকে। তবে দীর্ঘ সময় দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে রাখে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
৭০ মিনিট পার হওয়ার পরও পিছিয়ে ছিল উরুগুয়ে। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আরও একটি বড় অঘটনের জন্ম দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব।
তবে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে সক্ষম হয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে গোল করেন মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে পাওয়া সেই গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
শেষ সময়ে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে সৌদি আরব।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডস নারী দলের বিপক্ষে ৬ উইকেটের চমৎকার এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। গতকাল অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রানের এক ঝোড়ো ও ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি দলের জয় সহজ করে দেন। ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে এই টাইগ্রেস ওপেনার তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের রহস্য এবং বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।
নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নিয়ে জয়িতা বলেন, “আমরা যেহেতু প্রথমে বোলিং করেছি এবং লক্ষ্যটা যখন ১৪০ রান দেখলাম, তখনই মনে হয়েছিল আমাদের খুব ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে হবে। তাই আমি শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। একজন ওপেনার হিসেবে পাওয়ারপ্লের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মূল লক্ষ্যই ছিল প্রথম ছয় ওভারে যত বেশি সম্ভব রান তুলে নেওয়া এবং উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়া।”
ডাচদের বিপক্ষে এই ইনিংসটি ছিল জয়িতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তবে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পেলেও নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এই ব্যাটার, কারণ ফিফটি করার ঠিক পরপরই তিনি সাজঘরে ফিরে যান। ম্যাচে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দ্রুত বিদায়ের পর মাঠে তৈরি হওয়া সাময়িক চাপ প্রসঙ্গে জয়িতা বলেন, “জ্যোতি আপু ক্রিজে এসে দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা চাপ অনুভব করেছিলাম, কারণ তিনি আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তবে আমাদের দলের বাকি ব্যাটিং লাইনআপের ওপর আমার গভীর বিশ্বাস ছিল এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে কেউ না কেউ দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবে।”
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিজের প্রথম ম্যাচের অনুভূতি প্রকাশ করে এই তরুণ ওপেনার বলেন, এটি তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ায় দলের জন্য বিশেষ কিছু করার তীব্র তাগিদ অনুভব করছিলেন। তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত। সামনে কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় তাঁর মূল দায়িত্ব হবে পাওয়ারপ্লের ভালো ব্যবহার করা। বড় দলগুলোর বিপক্ষেও একই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে দেশের হয়ে বড় ইনিংস খেলার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান জুয়াইরিয়া জয়িতা।
মন্তব্য