বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক দুইদিন আগে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিবিরে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। পায়ের পেশির চোট কাটিয়ে দ্রুত সেরে উঠছেন সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) সোমবার (৮ জুন) রাতে নিশ্চিত করেছে, নেইমারের চোটের জায়গায় ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
গত মাসের শেষদিকে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পান ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গ্রেড-২ মাসল টিয়ার বা মাংসপেশি ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়লে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান তিনি।
চোটের কারণে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। তবে তাকে ছাড়াই ম্যাচ দু’টিতে যথাক্রমে ৬-২ ও ২-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল।
নেইমারের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সোমবার পুনরায় স্ক্যান করা হলে মেডিকেল টিম বেশ আশাবাদী রিপোর্ট হাতে পায়। সিবিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষায় নেইমারের চিকিৎসার ভালো অগ্রগতি দেখা গেছে, যা তাদের প্রত্যাশার ভেতরেই আছে।
মেডিকেল স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি পুনর্বাসন এবং শারীরিক ফিটনেস ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এসিএল চোটে পড়ার পর থেকে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ও পিএসজির এই সাবেক তারকা।
তবে নতুন এই রিপোর্টের পর ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দ্রুতই অনুশীলনে ফিরবেন এবং প্রথম ম্যাচের স্কোয়াডেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আগামী ১৩ই জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে ব্রাজিল।
‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার যদি মাঠে নামেন, তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরের পর এটি হবে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৩২ বছর পর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ পুনরায় ফিরছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর আগে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এটি আয়োজন করলেও এবার তাদের সঙ্গী হয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো। তবে কেবল আয়োজক দেশই নয়, গত তিন দশকে টুর্নামেন্টের আকার ও ধরনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ১৯৯৪ সালের আসরটি মাত্র ২৪টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো রেকর্ড ৪৮টি দেশ এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা ৫২ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং অত্যন্ত বিস্তৃত এক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৩২ বছরের এই ব্যবধানে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য ও তীব্রতা উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক দিক এবং টিকিটের দামে। ১৯৯৪ সালে প্রথম রাউন্ডের টিকিটের দাম ছিল মাত্র ২৫ থেকে ৭৫ ডলার এবং ফাইনালের সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য ছিল ৪৭৫ ডলার। অথচ ২০২৬ সালে এসে সেই চিত্র আকাশচুম্বী হয়েছে; প্রথম রাউন্ডের টিকিট মূল্য শুরু হয়েছে ১৪০ ডলার থেকে যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম বর্তমানে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি চালু হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মাঝে তীব্র সমালোচনা থাকলেও চাহিদার কোনো কমতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
মাঠের লড়াই এবং নিয়মের ক্ষেত্রেও ৩২ বছরের ব্যবধানে বৈপ্লবিক আধুনিকায়ন হয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মাত্র দুইজন বদলি খেলোয়াড় ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা বর্তমানে বাড়িয়ে পাঁচজন করা হয়েছে। এমনকি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ষষ্ঠ বদলি এবং মাথায় আঘাত পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ‘কনকাশন সাব’ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে পানি পানের বিরতিতে। ১৯৯৪ সালে তীব্র গরমের মধ্যে বিরতি ছাড়াই খেলা চললেও এবার প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের জন্য ‘কুলিং ব্রেক’ রাখা হয়েছে। জার্সি ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৪ আসর থেকেই প্রথম খেলোয়াড়দের নাম লেখার প্রথা চালু হয়েছিল, যা বর্তমানে ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।
আয়োজনের ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত বিস্তৃতি এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও বিলাসবহুল। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি ভেন্যুতে খেলা হলেও এবার তিন দেশ মিলিয়ে মোট ১৬টি স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ১১টি। মজার বিষয় হলো, ১৯৯৪ সালের আসরে থাকা ভেন্যুগুলোর কোনোটিই এবার মূল তালিকায় নেই। এবার ব্যবহৃত ১১টি মার্কিন ভেন্যুই মূলত ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম, যেখানে দর্শকদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত বিলাসবহুল স্যুট ও প্রিমিয়াম আসনের সুবিধা। মাঠের আয়তনও এবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা আগে কিছুটা নমনীয় ছিল। এছাড়া দর্শক উপস্থিতির ক্ষেত্রেও এবার ৬০ থেকে ৭০ লাখের এক নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছে ফিফা।
টুর্নামেন্ট পরিচালনার ধরনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় আয়োজক কমিটির অধীনে বিশ্বকাপ পরিচালিত হলেও এবার সরাসরি ফিফা কেন্দ্রীয়ভাবে সব নিয়ন্ত্রণ করছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবারের আয়োজনকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। স্থানীয় আয়োজক কমিটির পরিবর্তে ফিফার এমন সরাসরি তদারকি প্রমাণ করে যে ফুটবল এখন কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি বিশাল এক বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক শক্তি। ৩২ বছরের ব্যবধানে একটি টুর্নামেন্ট কীভাবে নিজের পরিধি এবং প্রভাব বিস্তার করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তারই এক জাজ্বল্যমান ইতিহাস।
বয়সটা ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে চলেছেন এই মহাতারকা। এবার তিনি আলবিসেলেস্তেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রায় সাত দশকের পুরনো একটি রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার অনন্য রেকর্ডটি এখন তার দখলে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে স্পট কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমেই ঐতিহাসিক এই রেকর্ডের পাতায় নাম লেখান মেসি।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৯৯তম ম্যাচ খেলতে এদিন অবশ্য শুরুর একাদশে ছিলেন না তিনি। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যখন তিনি মাঠে নামেন, গ্যালারিতে তখন করতালির রোল পড়ে যায়। মাঠে নামার ঠিক ৫৩ সেকেন্ডের মাথায় নিজের চেনা ফুটবল শৈলী দেখান এলএমটেন।
তার বাড়িয়ে দেওয়া এক চমৎকার থ্রু বল ধরে বক্সে শট নিতে গিয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান মেসি, যা দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেয়।
আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল জার্সিতে মেসির ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। আর এই গোলের মুহূর্তেই তিনি ভেঙে দেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার অ্যাঞ্জেল লাব্রুনার রেকর্ড। এর আগে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটি ছিল লাব্রুনার দখলে।
১৯৫৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে যখন তিনি গোল করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ভেঙে আজ নতুন ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঋতুপর্ণার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
দীর্ঘদিন ধরেই ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দুইবারের সাফজয়ী এই ফুটবলারের জন্য বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগের কথা আগেও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। তবে জমি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছিল। এবার জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ায় তার অপেক্ষা শেষ হওয়ার পথ তৈরি হলো।
ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে এসে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দেশের ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।
এর আগেও ঋতুপর্ণা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল বিএনপি। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তখনকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধিদল রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মগাছড়িতে ঋতুপর্ণার বাড়িতে যায়। সে সময় পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যে পার্বত্য অঞ্চলের ফুটবলারদের অবদান বিশেষভাবে আলোচিত। ঋতুপর্ণা সেই ধারার অন্যতম প্রতিনিধি। মাঠে দেশের জন্য অবদান রাখা এই ফুটবলারের পারিবারিক বাস্তবতা ও বাড়ি নির্মাণের দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়েও আগেই আলোচনা হয়েছে।
ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হরাল বাংলাদেশ। এ যেন টাইগারদের ‘ক্যাঙ্গারু-বধ’। ২১ বছর পর এ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট, টি-টোয়েন্টিতে জিতলেও ওয়ানডেতে জয় পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে মিরপুরে মঙ্গলবার দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষে নিজের মাঠে জয় পেল বাংলাদেশ।
তুলনামূলক খর্বশক্তির অজিদের বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পরশু মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ১৪ জুন হবে তৃতীয় ওয়ানডে।
২৮৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দারুণ এক ডেলিভারিতে অজি ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পর আঘাত হানলেন মোস্তাফিজুর রহমানও। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে মারনাস লাবুশেনের বিপক্ষে এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন মোস্তাফিজ করলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ রিভিউ নিয়ে লাবুশেনকে (১) আউট করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য ৬ রানেই হারাতে পারত তৃতীয় উইকেট। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে মোস্তাফিজকে কাট করতে যান কনোলি। এজ হওয়া বল প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ হাসান তামিমের হাত ফসকে চলে যায় বাউন্ডারিতে। কনোলির রান তখন কেবল ১।
তৃতীয় উইকেটে ৫৩ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন ইংলিস-কুপার কনোলি। অজিদের ইনিংসের পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ইংলিসকে ফেরান রানা। ১১তম ওভারের প্রথম বলে রানার ঘণ্টায় ১৪৭.৯ কিলোমিটার গতির ডেলিভারি কাট করতে যান অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় লিটনের হাতে। ইংলিসের সঙ্গে রানার ঝগড়া লাগার মতো যখন অবস্থা, তখন অধিনায়ক মিরাজসহ আরও অনেকেই এগিয়ে আসেন। ফলে ঝগড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
ইংলিসের বিদায়ের পর আরও একটি বড় জুটি গড়তে অবদান রাখেন কনোলি। চতুর্থ উইকেটে ৫৫ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি-কনোলি। ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে কনোলিকে (৩৫) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
কনোলি ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয়ে যায় ১৯.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৯১ রান। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অজিরা চোখে শর্ষেফুল দেখতে থাকে। বিশেষ করে রানার গতি ও বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭), লিয়াম স্কট (২) ও হ্যাভিয়ের বার্টলেট (১) ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। রানার উইকেটের ফাঁকে উইকেটের দেখা পেয়েছেন মোস্তাফিজ-সৈকতও। রেনশকে (২) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন সৈকত। নাথান এলিসকে (৮) ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ। ক্যাচ ধরেন সৈকত।
১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পা-ক্যামেরন গ্রিন খেলতে থাকেন হারের ব্যবধান কমাতে। দুজনে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পর বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ বন্ধ রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ পর নামে বৃষ্টি।
এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিার অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি একই সঙ্গে দলটির উইকেটরক্ষকও। আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ২৮৪ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এটা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসও। ৭০ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন।
ফিফটি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তও। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৪ রান। শান্ত করেছেন ৬৭ রান। অজি পেসার নাথান এলিস ১০ ওভারে ৩৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেন দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের স্কোর ২৮৪ রান হওয়ার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার পিচ্ছিল হাতেরও অবদান রয়েছে। ২৪ রানেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেট পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এলিসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হাতছাড়া করেন লাবুশেন। ৯ রানে বেঁচে যাওয়া শান্ত আউট হয়েছেন ৬৭ রানে।
দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর জাতীয় দলের ওয়ানডে একাদশে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেকে নতুন করে চেনার এবং দলে নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় তিনি কেবল উত্তীর্ণই হননি, বরং দীর্ঘ চার বছরের বিরতির কোনো ছাপও নিজের খেলায় পড়তে দেননি।
ব্যাট হাতে যখন বাংলাদেশ দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল, তখন অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক। শুরুতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে আগ্রাসী রূপ ধারণ করে তিনি ৮৬ রানের একটি অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি বাংলাদেশকে একটি লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দিতে প্রধান ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে স্লগ ওভারে লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে তিনি যেভাবে ইনিংসটি টেনে নিয়েছেন, তা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও সমান কার্যকর ছিলেন এই অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার। নিজের নির্ধারিত ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে তিনি শিকার করেন ২ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে রান আটকে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে তিনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে মোসাদ্দেক প্রমাণ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকলেও তাঁর ধার কমেনি।
উল্লেখ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলেও জাতীয় দলে ব্রাত্য ছিলেন মোসাদ্দেক। তাঁর দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নির্বাচক মহলে বেশ কিছু বিতর্ক ছিল। সাবেক নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপুর একটি মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যেখানে মোসাদ্দেককে অন্য অলরাউন্ডারদের ছায়া হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে হতাশা ও আক্ষেপকে দূরে সরিয়ে ডিপিএল ও বিসিএলে টানা পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজরে ফেরেন তিনি। আজকের এই অলরাউন্ড নৈপুণ্য মূলত তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর ধৈর্যরই সার্থক প্রতিফলন।
২০২২ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। চার বছরের ব্যবধানে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তিনি যখন পুনরায় লাল-সবুজ জার্সিতে নামলেন, তখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিলেন। দলের একজন সিনিয়র সদস্য হিসেবে কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তাঁকে পুনরায় বাংলাদেশের অপরিহার্য সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। তাঁর এই সফল প্রত্যাবর্তন আসন্ন সিরিজগুলোতে বাংলাদেশ দলের রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের হেক্সা মিশন বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বর্তমানে নিউ জার্সির বেস ক্যাম্পে অবস্থান করছে ব্রাজিল দল। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস তাঁর দলের প্রতি ফুটবল বিশ্বের 'প্রাপ্য সম্মান' দাবি করেছেন। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ সময় শিরোপা খরা থাকলেও তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অন্য কোনো দলের জার্সিতে পাঁচটি তারকা নেই। গিমারায়েসের মতে, বর্তমান ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহার মতো বিশ্বসেরা প্রতিভারা রয়েছেন যারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, তাই মাঠের লড়াই শুরুর আগে তাঁদের ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকা সেলেসাওরা অত্যন্ত দাপটের সাথে তাদের প্রস্তুতি পর্ব শেষ করেছে। রিও ডি জেনিরোতে পানামাকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করার পর ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় দলটির আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রেখেছে। মিসরের বিপক্ষে জয়সূচক প্রথম গোলটি করা গিমারায়েস জানান, দুটি প্রীতি ম্যাচেই জয় পাওয়া এবং দলের ছন্দ বজায় রাখা তাঁদের প্রস্তুতির ইতিবাচক দিক। যদিও বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে পঞ্চম স্থানে শেষ করায় অনেক সমালোচনা হয়েছিল, তবে মূল আসরে একটি জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে সব সমালোচনার জবাব দিতে মুখিয়ে আছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও আলোচিত তারকা নেইমারকে নিয়ে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন এবং ২০২৩ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেননি। কোচ আনচেলত্তি ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করলেও নেইমার বর্তমানে পায়ের পেশীর সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন, যার ফলে গ্রুপ পর্বের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে তাঁর খেলা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। নেইমারের এই ইনজুরি ব্রাজিল ভক্তদের মনে কিছুটা চিন্তার উদ্রেক করলেও দলের অন্যান্য সদস্যরা তা পুষিয়ে নিতে প্রস্তুত।
ইনজুরির কারণে ব্রাজিল ইতোমধ্যে তাদের মূল স্কোয়াডে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। ইতালিয়ান ক্লাব রোমার হয়ে খেলা ফুলব্যাক ওয়েসলি উরুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে ২৬ বছর বয়সী আটালান্টা মিডফিল্ডার এডারসনকে, যিনি বিশ্বকাপের পরপরই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। গ্রুপ 'সি'-তে থাকা ব্রাজিল আগামী শনিবার নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের মূল অভিযান শুরু করবে। এই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
ব্রুনো গিমারায়েসের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে দলের সামগ্রিক সংহতি ও লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ়তা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বকাপে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। ওয়েসলির বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি নতুন সদস্যদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই এখন তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে মাঠে নেমে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় প্রমাণ করাই এখন সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য। আনচেলত্তির রণকৌশল এবং তরুণ তুর্কিদের গতিশীল ফুটবল এবার ব্রাজিলকে হেক্সা জয়ের পথে কতটুকু নিয়ে যায়, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের দেখার বিষয়।
মন্তব্য