× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
Bangladesh finished the third day ahead
google_news print-icon

এগিয়ে থেকে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

এগিয়ে-থেকে-তৃতীয়-দিন-শেষ-করল-বাংলাদেশ
বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতার কারণে শুক্রবার তৃতীয় দিন ৩২ দশমিক ৩ ওভার খেলা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন মাঠেই নামতে পারেনি দু দলের খেলোয়াড়রা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৩০ রানে এগিয়ে স্বাগতিক বাংলাাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ২ উইকেটে ৩৮ রান করেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১৭২ রানের জবাবে ১৮০ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। খবর বাসসের

বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতার কারণে শুক্রবার তৃতীয় দিন ৩২ দশমিক ৩ ওভার খেলা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন মাঠেই নামতে পারেনি দু দলের খেলোয়াড়রা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনই অলআউট হয় বাংলাাদেশ। জবাবে দিন শেষে ৫ উইকেটে ৫৫ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ১১৭ রানে পিছিয়ে ছিল কিউইরা। ড্যারিল মিচেল ১২ গ্লেন ফিলিপস ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়। শুক্রবার তৃতীয় দিনের শুরুতে মাঠ ভেজা থাকায় দুপুর ১২টায় খেলা শুরু হয়।

মিচেলকে ১৮ রানে বিদায় করে বাংলাদেশকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন স্পিনার নাইম হাসান। পরের ওভারে স্যান্টনারকেও ব্যক্তিগত ১ রানে শিকার করেন নাইম। প্রথম স্লিপে স্যান্টনারের ক্যাচ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

৯৭ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর কাইল জেমিসনকে নিয়ে রানের চাকা সচল করেন ফিলিপস। মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিলিপস। এরপর জুটিতেও হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ফিলিপস-জেমিসন। জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি আসার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করেন পেসার শরিফুল ইসলাম।

ইনিংসের প্রথম ওভার বল করার পর ৩৩তম ওভারে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমনে এসেই তুলে উইকেট নেন শরিফুল। প্রথম স্লিপে শাহাদাতের দারুন ক্যাচে শরিফুলের শিকার হন ৩টি চারে ২০ রান করা জেমিসন। ফিলিপসের সাথে ৫৩ বলে ৫৫ রান যোগ করেন জেমিসন।

এরপর অধিনায়ক টিম সাউদিকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে লিড এনে দেন ফিলিপস। ৩৬তম ওভারে ফিলিপসকেও বিদায় করে নিউজিল্যান্ডকে বড় লিড নেওয়া সুযোগ নষ্ট করেন দেন শরিফুল। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭২ বলে ৮৭ রান করে আউট হন ফিলিপস।

দলীয় ১৮০ রানে নবম ব্যাটার হিসেবে ফিলিপস আউট হবার ৩ বল পর ১৮০ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। শেষ ব্যাটার হিসেবে সাউদিকে ১৪ রানে শিকার করেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ ৫৩ রানে ও তাইজুল ইসলাম ৬৪ রানে ৩টি করে এবং শরিফুল ইসলাম ১৫ রানে ও নাইম হাসান ২১ রানে ২টি করে উইকেট নেন।

প্রথম ইনিংসে ৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই স্পিনার দিয়ে শুরু করে সাফল্য পায় নিউজিল্যান্ড। স্পিনার আজাজ প্যাটেলের বলে স্লিপে মিচেলকে ক্যাচ দিয়ে ২ রানে বিদায় নেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।

প্রথম ওভারে জয়কে হারানোর পর দ্বিতীয় ওভারেই লিড নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার জাকির হাসানকে নিয়ে জুটি গড়ার পথে ছিলেন শান্ত। কিন্তু অষ্টম ওভারে সাউদির বলে ড্রাইভ দিয়ে মিড অফে কেন উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ২টি চারে ১৫ রান করা তিনি।

অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতন হয় বাংলাদেশের। ওই ওভারের শেষ বলের পর দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে আলো স্বল্পতায় বন্ধ হয় খেলা। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে দিনের নির্ধারিত সময়ের ৬৭ মিনিট আগেই শেষ হয় খেলা।

জাকির ১৬ ও মোমিনুল শূণ্য হাতে অপরাজিত আছেন। নিউজিল্যান্ডের প্যাটের ও সাউদি ১টি করে উইকেট নেন।

আরও পড়ুন:
বৃষ্টিতে পণ্ড দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন
পিএসএলের নিলামে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে সাকিব
মুশফিকের আউট নিয়ে কলকাতা পুলিশের হাস্যরস

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
The fierce battle will be in the final Maharatha

ফাটাফাটি লড়াই হবে ফাইনাল মহারথে

ফাটাফাটি লড়াই হবে ফাইনাল মহারথে
ফাইনালে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, ট্রফি উঠবে নতুন কোনো অধিনায়কের হাতেই, যারা এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয় করেননি।

বহু আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনাল মহারণ মাঠে গড়াবে আজ শুক্রবার। দেশের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের জ্বরে তাই কাঁপছে পুরো দেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও বইছে ভিন্ন আমেজ। ভিন্ন সাজে সাজছে হোম অব ক্রিকেট।

ফাইনালে পঞ্চম ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাফিসা কামালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্যদিকে এর আগে তিনবার ফাইনালে গেলেও ট্রফিখরা কাটেনি বরিশালের। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। তারকায় ভরপুর কুমিল্লা-বরিশাল দুই দলই। তাই লড়াইটাও হবে ধুন্ধুমার। যেটার আভাস দিয়েছেন ফাইনালের আগে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে আসা দুই দলের সহ-অধিনায়ক; মেহেদী হাসান মিরাজ আর জাকের আলি অনিক।

মজার বিষয় হলো, এই দুই দলই ফাইনালে এসেছে একটি দলকেই হারিয়ে। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরকে হারায় কুমিল্লা আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারায় বরিশাল। আর এই দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিল রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপ।

বিপিএলের নবম আসরেও ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফরচুন বরিশাল আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেবার বরিশালকে নেতৃত্ব দিয়েছিল সাকিব আল হাসান। পরিবর্তন ছিল বরিশালের বেশকিছু খেলোয়াড়েরও। আর কুমিল্লাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল ইমরুল কায়েস। ফাইনালের জমজমাট লড়াইয়ে ১ রানের হার পুড়িয়েছিল সাকিবের নেতৃত্বে খেলা বরিশালকে। এবার নিশ্চয়ই সেই প্রতিশোধ নিতে চাইবেন তামিম ইকবালরা।

এবার চলুন দুই দলের ফাইনালে খেলার পরিসংখ্যানে একটু নজর দেওয়া যাক। বিপিএলে ৬ বার অংশ নিয়ে ৪ বারই ফাইনাল খেলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং প্রতিবারই পেয়েছে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ। অর্থাৎ ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য কুমিল্লা। অন্যদিকে সব মিলিয়ে ৩ বার ফাইনাল খেলেছে বরিশাল। কিন্তু একবারও ছুঁয়ে দেখা হয়নি ট্রফি। তবে অন্যান্য আসরের তুলনায় এবার বেশ শক্তিশালী তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাদের নিয়ে গড়া বরিশাল।

দুই দলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকবে দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। তবে দুই দলেই এমন কিছু পারফর্মার রয়েছেন, যারা হতে পারেন এক্সফ্যাক্টর, ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচের মোড়। সে ক্ষেত্রে বরিশালের তালিকায় থাকবে কেইল মায়ার্স, ডেভিড মিলার, জেমস ফুলার আর সাইফুদ্দিনের নাম। গ্রুপ পর্ব এলিমিনেটর ম্যাচে ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন তারা। বিশেষ করে কেইল মায়ার্স আর সাইফুদ্দিন। দুজনই আছেন সেরা ছন্দে।

অন্যদিকে কুমিল্লার তালিকায় রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, মঈন আলি, আলিস ইসলাম, তৌহিদ হৃদয় কিংবা জাকের আলি। আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে খুব বেশি বলার কিছু নেই। তার শক্তিমত্তার কথা সবারই জানা। বিশেষ করে ২০১৯-২০২০ ফাইনালের কথা মনে থাকার কথা সবারই। সেবার পুরো টুর্নামেন্টে গড়পড়তা পারফরম্যান্স করা রাসেল জ্বলে উঠেছিলেন সেমিফাইনাল আর ফাইনালে। একাই জিতিয়েছিলেন রাজশাহীকে। তৌহিদ হৃদয় ব্যাটিং সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ইতোমধ্যেই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।

ফাইনালে কুমিল্লার বড় শক্তির জায়গা হবে তাদের অলরাউন্ডাররা। বিশেষ করে সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল আর মঈন আলি। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব মাতানো এই তারকারা যেমন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে, তেমনি ভয়ংকর বোলিংয়ে। আর মিরপুরের উইকেট তো সুনীল নারিনের জন্য স্বর্গরাজ্য। রাসেলের স্লোয়ারও বেশ কার্যকরী মিরপুরের পিচে।

তরুণ ক্রিকেটাররাও কুমিল্লার জন্য দারুণ কিছু করতে পারেন। সেখানে থাকবে শেষ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া অনূর্ধ্ব দলের খেলোয়াড় বর্ষণ, জাকের আলি অনিক, মুশফিক হাসানদের নাম।

অন্যদিকে বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তাদের ব্যাটিং লাইনআপ এবং অভিজ্ঞতা। সর্বশেষ ম্যাচে বরিশাল ৯ জনের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে খেলেছে। কুমিল্লার চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে বরিশালের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা। যে দলে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ডেভিড মিলারদের মতো খেলোয়াড়; সেখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার কোনো কথাই নেই। যেটা বড় ম্যাচে এগিয়ে রাখবে বরিশালকে।

ফাইনালে বাড়তি দায়িত্ব থাকবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুরর রহিমের। সেই প্রথম আসর থেকে বিপিএলে নিয়মিত এ দুই ক্রিকেটার। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে তারা। কিন্তু দলীয় সাফল্যের ঝুলি এখনো শূন্য তাদের। সবগুলো আসর খেলেও কেউই পাননি ট্রফির ছোঁয়া। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই মহীরুহ এবার খেলছেন একই দলে। একসঙ্গেই তাই দুজনের সামনে সুযোগ শিরোপার তিয়াস মেটানোর। সেটা করতে তাই নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেবেন তারা।

সবশেষে ফাইনালে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, ট্রফি উঠবে নতুন কোনো অধিনায়কের হাতেই, যারা এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয় করেননি।

মন্তব্য

খেলা
The Great Wall Mushfiqurs devastating batting led Barisal to the final

দ্য গ্রেট ওয়াল মুশফিকের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল

দ্য গ্রেট ওয়াল মুশফিকের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচের মাধ্যমেই শেষ হলো সাকিব-তামিম লড়াই। তবে শেষ দিনে সফল ছিলেন না দু’জনের কেউই। ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ১ রান। আর তামিম করেছেন ১০ রান। বল হাতেও উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। এমন মহারণের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শক মনে। এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল দুই দলের দুই তারকার জন্য। বরিশালের তামিম ইকবাল আর রংপুরের সাকিব আল হাসান।

এই ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কিন্তু রংপুরকে নিয়ে যে ভয়টা ছিল, ব্যাটিংয়ে নামার পর সেটারই যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি আঁকলেন। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১৮ রান তুলতেই রংপুর হারিয়েছে ৩ উইকেট। যে তালিকায় নাম ছিল ইনফর্ম সাকিব আল হাসানেরও। ব্যর্থদের তালিকায় নাম ছিল নিকোলাস পোরানেরও।

রংপুরের ব্যাটিং লাইনে বুধবারও আশা দেখিয়েছিলেন জিমি নিশাম। কিন্তু সেটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। ২২ বল থেকে ২৮ রান করেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। এরপর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। সবাই ছিলেন আসা-যাওয়ার মধ্যে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল রংপুরের শেষ দুই ম্যাচে।

তবে এ দিন বিশ্বস্ত সৈনিকের মতো রংপুরকে রক্ষা করেন শামীম পাটোয়ারী। তাণ্ডব চালাতে থাকেন বরিশালের বোলারদের ওপর। মাত্র ২০ বল থেকে তুলে নেন অর্ধশতক। যেটি এবারের আসরের যৌথভাবে দ্রুততম অর্ধশতক। ১৯তম ওভারে ২ চার আর ৩ ছক্কায় শামীম সংগ্রহ করেন ২৬ রান। অন্তত লড়াই করতে হলে যে ইনিংস খেলা প্রয়োজন ছিল কোনো একজনের, সেটি খেলেন শামীম।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বরিশালের যে দুজন বোলারের ওপর আশা ছিল, তারা উভয়েই সেটা পূরণ করেছেন। শুরুতেই কিপটে বোলিংয়ে চেপে ধরেন কেইল মায়ার্স। পরের ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সাকিব আর মাহেদীকে ফিরিয়ে শুরু করেন ধ্বংসলীলা। এরপর রনি তালুকদারকে ফিরিয়ে সেই ধ্বংসলীলায় যোগ দেন মায়ার্সও। এই দুইজন মিলেই ভেঙে দেন রংপুরের কোমর।

এরপর রংপুরের ঢেউয়ের সাগরে তুফান তোলেন জেমস ফুলার। শুরুটা করেন জিমি নিশামকে দিয়ে আর শেষ করেন রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে দিয়ে। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তার শিকার ৩ উইকেট। তবে বরিশালের সেই ডেথ ওভারের সমস্যা এদিনও ভুগিয়েছে তাদের। শেষ ৪ ওভারেই তারা খরচ করেছে ৬০ রান। বেশি খরুচে ছিলেন ওবেদ ম্যাককয়।

গত ২ ম্যাচে রান পাওয়া তামিমের ব্যাট ছিল এদিন নিশ্চুপ। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মিরাজও কিছুই করতে পারেননি। ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকারও। ছোট একটি ঝড় তুলে ফারুকীর বলে মাহেদী হাসান আর রনি তালুকদারের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে গেছেন কেইল মায়ার্স। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেট কামড়ে পড়ে ছিলেন তিনি। দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। তার ৪৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করেই রংপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বরিশাল দ্বিতীয় দল হিসেবে চলে গেল ফাইনালে।

মুশফিকুর রহিম ‘মি. ডিপেন্ডেবল’! কেন মুশফিককে এ নামে ডাকা হয়, সেটা তিনি প্রমাণ করলেন রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। মাঝারি রানের লক্ষ্য তাড়ায়ও খুব একটা ভালো শুরু করতে পারেনি বরিশাল। যখন দায়িত্ব নিতে পারেনি বাকিরা, তখন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে সে দায়িত্বটা নেয়ার প্রয়োজন ছিল মুশফিকুর রহিম অথবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সেটিই করেছেন মুশফিক। গুরুত্ব বুঝিয়েছেন অভিজ্ঞতার।

এই ম্যাচের মাধ্যমেই শেষ হলো সাকিব-তামিম লড়াই। তবে শেষ দিনে সফল ছিলেন না সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালের কেউই। ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ১ রান। আর তামিম করেছেন ১০ রান। বল হাতেও উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব। ছিলেন খরুচেও। ১ ওভার ৩ বলে দিয়েছেন ১৭ রান।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামকে উড়িয়ে কোয়ালিফায়ারে বরিশাল
তামিম যে ব্যাটিং সাম্রাজ্যের নেতা আবার প্রমাণ করলেন
খুলনার স্বপ্ন ভেঙে প্লে-অফে বরিশাল
প্লে-অফে যেতে বরিশালকে ১৪১ রানের লক্ষ্য দিল কুমিল্লা
অন্ধকারে ঢাকা-খুলনা, স্ববিক্রমে লড়াই করেছেন শরিফুল-বিজয়রা

মন্তব্য

খেলা
Collection of Rangpur 149 in Shamims last storm

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি শামীমের ঝড়ো ফিফটির কল্যাণে লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছে রংপুর। ছবি: বিসিবি
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাইফউদ্দিনের জোড়া উইকেটে শুরু হয় রংপুরের ব্যাটারদের ক্রিজে যাওয়া-আসা। শেষের দিকে শামীমের ঝড়ো ফিফটিতে ১৪৯ রানে থামে তাদের ইনিংস।

বিপিএলের চলতি আসরের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৪৯ রান করেছে রংপুর রাইডার্স। ফলে ফাইনালে উঠতে নির্ধারিত বিশ ওভারে এ লক্ষ্য টপকাতে হবে বরিশাল ভিক্টোরিয়ান্সকে।

বুধবার টস জিতে শুরুতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এদিন শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতনে একসময় মনে হচ্ছিল, ১০০ পেরোতে পারবে না রংপুর। তবে শেষ দিকে শামীম হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শ’র দ্বারপ্রান্তে গিয়ে থামে টিম রাইডার্স।

প্রথম ইনিংসে কাইল মেয়ার্সের প্রথম ওভারে ৭ রান নিলেও দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেটের দেখা পান সাইফউদ্দিন।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সাইফউদ্দিনের ফুলার লেংথ ডেলিভারিটি অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাট চালান রংপুরের ওপেনার শেখ মাহেদী। বলটি লেগ সাইড দিয়ে ক্লিন করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি। শুরুতে বলটি ধরার আগে মাটি ছুঁয়েছে বলে মনে হলেও রিপ্লেতে আউট হয়ে গেছেন দেখা যায়। ফলে পাঁচ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয় তরুণ এ বাংলাদেশি ব্যাটারকে।

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি
জোড়া উইকেট পেয়ে সাইফউদ্দিনের উল্লাস। ছবি: ফরচুন বরিশাল

ওভারের শেষ বলে আবারও উইকেটের দেখা পান সাইফউদ্দিন। এবার তার শিকার সাকিব আল হাসান। মাহেদীর মতো একইভাবে মুশফিকের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরতে হয় চার বলে এক রান করা সাকিবকে।

ইনিংসের পঞ্চম ও নিজের তৃতীয় ওভারে সাফল্যের দেখা পান কাইল মেয়ার্সও। ওভারের চতু্র্থ বলে আরেক ওপেনার রনি তালুকদারকে মাঠছাড়া করেন তিনি। চাপ কমাতে মেয়ার্সের মিডল লেংথ ডেলিভারিটি উড়িয়ে মেরেছিলেন রনি, কিন্তু মারে জোর না থাকায় ডিপ-মিড উইকেটে ডেভিড মিলারের তালুবন্দি হন তিনি। ফিরে যাওয়ার আগে ১২ বল মোকাবিলা করে ৮ রান করেন তিনি।

পাওয়ার প্লের আগেই মাত্র ১৮ রান তুলতে গিয়ে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। এখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন দুই বিদেশি রাইডার জিমি নিশাম ও নিকোলাস পুরান।

নিশাম রানের চাকা সচল রাখলেও ধীরে খেলে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন পুরান। তবে কিছুক্ষণ পরই ধৈর্যহারা হয়ে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। নবম ওভারের শেষ বলে ১২ বলে রান করা পুরানকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারের প্রথম বলেই টপ এজ হয়ে আউট হয়ে যান জিমি নিশাম। জেমস ফুলারের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে ক্রস ব্যাট চালিয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে যান নিশাম। ২২ বলে নিশাম চারটি চারের সাহায্যে ২৮ রান করে ফিরলে ৪৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় রংপুর।

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি
উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন নিকোলাস পুরান ও জিমি নিশাম। ছবি: ফরচুন বরিশাল

সেখান থেকে মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান উইকেটের রক্তক্ষরণ ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ১৫.২ ওভারে জেমস ফুলারের বাউন্সারে ব্যাট চালিয়ে টপ এজ হয়ে সাজঘরে ফেরেন নবী (১২)। দুই বল পরেই বোল্ড হয়ে যান সোহান (১৪)।

শেষের দিকে শামীম হোসেন ও আবু হায়দার রনি ইনিংস বড় করার চেষ্টা করলে ১৪৯ রান তুলতে সমর্থ হয় রংপুর। মাত্র ২৪ বলে পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় শামীমের ৫৯ রানের ইনিংসটিই লড়াকু সংগ্রহ দিয়েছে রংপুরকে। অন্যপ্রান্তে ৯ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন রনি।

বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন জেমস ফুলার। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি এবং কাইল মেয়ার্স ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি করে উইকেটের দেখা।

ফাইনালে পৌঁছাতে হলে কুমিল্লাকে করতে হবে ১৫০ রান।

মন্তব্য

খেলা
Shakib Tamims epic writing day

সাকিব-তামিমের মহাকাব্য রচনার দিন!

সাকিব-তামিমের মহাকাব্য রচনার দিন!
সবমিলিয়ে কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। দুই দলের শেষ লড়াইয়ের মতো দর্শকরাও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবে এই ম্যাচের দিকে সাকিব-তামিমের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখার জন্য।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে বুধবার। সেখানে মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। আরেকটু স্পষ্ট করলে তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে দশম আসরের ফাইনালের দ্বিতীয় দল।

যে জিতবে সে-ই ফাইনাল খেলবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে। হেরে যাওয়া দল বাড়ি যাবে বিদায়ের বিউগল শুনতে শুনতে। তাই দুই দলের জন্যই বিপিএলের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ এটি। অন্যদিকে এই ম্যাচে যে জিতবে, সাকিব-তামিম কথিত দ্বৈরথে সে-ই তো ‘চ্যাম্পিয়ন’!

গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা তামিম ইকবালকে আউট করলেন সাকিব। এরপরই হাত মুষ্টিবদ্ধ কনুই ঝাঁকি দিয়ে উদযাপন করলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা। ব্যাটিংয়ে নেমেই চড়াও হতে থাকেন সাকিব। মেহেদী মিরাজকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার প্রীতমের কাছে। এবার ক্যামেরা তামিম ইকবালের দিকে, সাকিবের সেই উদযাপন ফিরিয়ে দিলেন তিনি।

সে ম্যাচে শেষ ওভারের তৃতীয় বলে এক উইকেটের জয় পেয়েছিল রংপুর। জমজমাট সেই ম্যাচের আলোচনা ছাপিয়ে, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সাকিব-তামিমের উদযাপন।

বুধবার আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন সাকিব-তামিম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আরেকবার দেখা যাবে সাকিব-তামিমের এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

এখন প্রশ্ন হলো- শক্তির বিচারে কে কতটা এগিয়ে? এখানে অবশ্য একক আধিপত্য দেয়ার সুযোগ নেই কাউকে। কারণ দুই দলই নিজেদের সেরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে।

তবে শেষ দুই ম্যাচে হেরে কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকারই কথা রংপুর রাইডার্সের। রংপুরের আরেকটি চিন্তার কারণ হতে পারে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। শেষ দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিলেন রংপুরের অধিকাংশ ব্যাটার। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তো শঙ্কা জেগেছিল স্বল্প রানে অলআউট হওয়ার। জিমি নিশামের কল্যাণে সেটা হয়নি। তাই এই ম্যাচের আগে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে বেশ মনোযোগী হতে হবে।

অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়ে মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিতে আছে বরিশাল। বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তামিম ইকবালের বড় ইনিংস খেলা আর কেইল মায়ার্সের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। সাইফুদ্দিনের দুর্দান্ত বোলিং বাড়তি পাওয়া বরিশালের জন্য।

শেষ দুই ম্যাচেই তামিম ইকবাল দারুণ দুটি ইনিংস খেলেছেন। তুলে নিয়েছেন দুটি অর্ধশতক। বরিশালের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তামিমের ব্যাটের। মানে বেশ ইফেক্টিভ ছিল তামিমের ইনিংস দুটি। যেটি পুরো টুর্নামেন্টেই খুব একটা দেখা যায়নি। রংপুরের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চাইবে তামিম এবং বরিশাল।

অন্যদিকে বিপিএলের মাঝপথ থেকেই আগুনে ব্যাট করছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রত্যেক ম্যাচেই সাকিবের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫০-এর উপরে। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচেই হাসেনি সাকিবের ব্যাট। পায়নি রানের দেখা। তাই এ ম্যাচে সাকিবের ওপর থাকবে বাড়তি চাপ। তবে এমন চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা আছে সাকিবের।

সাকিব-তামিমের লড়াইয়ে অবশ্য বাড়তি চোখ থাকবে বরিশালের ডেভিড মিলার আর রংপুরের নিকোলাস পুরানের দিকে। একই তুলনায় নাম আসতে পারে রংপুরের জিমি নিশাম আর বরিশালের কেইল মায়ার্স। দেশিদের মধ্যে চোখ থাকবে বরিশালের মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাইফুদ্দিন, মেহেদী মিরাজ। আর রংপুরের শেখ মাহেদী আর নুরুল হাসান সোহানের দিকে।

সবমিলিয়ে কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। দুই দলের শেষ লড়াইয়ের মতো দর্শকরাও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবে এই ম্যাচের দিকে সাকিব-তামিমের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখার জন্য।

অবশ্য এই ম্যাচে মাঠে নামবে আরও দুই পাণ্ডব মাহমুউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুর রহিম। তাই দেশের ক্রিকেট এদিন বিভক্ত হয়ে যাবে দুই দলে। তবে ভালো খেলেই ফাইনালে যেতে হবে হয় সাকিবকে অথবা তামিমকে।

আরও পড়ুন:
খুলনার স্বপ্ন ভেঙে প্লে-অফে বরিশাল
প্লে-অফে যেতে বরিশালকে ১৪১ রানের লক্ষ্য দিল কুমিল্লা
অন্ধকারে ঢাকা-খুলনা, স্ববিক্রমে লড়াই করেছেন শরিফুল-বিজয়রা
আন্দ্রে রাসেলের রণহুঙ্কারে উড়ে গেল রংপুর
উত্তেজনার পারদে জ্বালানি ঢেলে শেষ ওভারে রংপুরের জয়

মন্তব্য

খেলা
Lyttons brilliant batting put the Victorians in the final

লিটনের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে ফাইনালে ভিক্টোরিয়ান্স

লিটনের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে ফাইনালে ভিক্টোরিয়ান্স
বিপিএলের শুরুর দিকে রান খরায় ভুগছিলেন লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয় দুইজনই। বেশ সমালোচনা হয়েছিল লিটনকে নিয়ে। কিন্তু শেষদিকে এসে এই দুইজনই ভরসা হয়ে উঠেছেন কুমিল্লার। দুজনই নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচে সোমবার মুখোমুখি হয়েছিল ফরচুন বরিশাল আর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই চট্টগ্রামের বিপক্ষে হেরেছিল তামিমের বরিশাল। এলিমিনেটর ম্যাচ জিতে সেই প্রতিশোধ নিল বরিশাল। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে অনেকটা একপেশেভাবেই এই জয় পেয়েছে তারা। পাঁচ ওভার এক বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বড় জয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছেন তামিম-মুশফিকরা।

খাতা-কলমে এগিয়ে থেকেই চট্টগ্রামের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল ফরচুন বরিশাল। সেটাকে তারা মাঠেও প্রমাণ করেছে। মূলত কেইল মায়ার্স, জেমস ফুলার, ডেভিড মিলার আর ওবেদ ম্যাককয় দলের সঙ্গে যোগ দেয়ায় বেড়েছে তাদের শক্তি। কারণ বরিশালের বোলিং ইনিংসে চট্টগ্রামকে চেপে ধরতে বড় ভূমিকা ছিল কেইল মায়ার্স, ওবেদ ম্যাককয় আর জেমস ফুলারের। এই তিনজনের শিকার ৫ উইকেট। চট্টগ্রাম যখনই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, তখনই প্রতিরোধ গড়েছে তারা।

বরিশালের এই জয়ে বড় অবদান ছিল কেইল মায়ার্সের। বল হাতে ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। ব্যাট হাতেও ঝড় তুলেছিলেন ২২ গজে। মাত্র ২৫ বলেই তুলে নিয়েছিলেন অর্ধশতক। শাসন করেছিলেন চট্টগ্রামের বোলারদের। মায়ার্সের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩ চার ৫ ছক্কায়। ইনিংসের শুরুতেই সৌম্য সরকার আউট হলেও তামিমের সঙ্গে গড়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। যেটি বরিশালকে জয়ের পথ দেখিয়েছে।

অধিনায়ক তামিম ইকবালের ইনিংসগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বরিশালের জন্য। শেষ দুই ম্যাচেই তামিম খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৪৩ বলে অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে। তামিম মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই। তামিমের ব্যাট আশা হয়ে উঠেছে বরিশালের জন্য। ইতোমধ্যে তামিমও অবস্থান করছেন রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার শীর্ষে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হারের অন্যতম কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। ওপেনার জস ব্রাউন আর অধিনায়ক শুভাগত হোম ব্যতীত রান পাননি কেউই। গত ম্যাচে একা হাতে চট্টগ্রামকে রক্ষা করেছিলেন তানজিদ তামিম। কিন্তু এ দিন তামিম ব্যর্থ হলে দলের হাল ধরতে পারেননি কেউই। যে কারণে হেরে বিদায় নিতে হলো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে।

প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মাঠে নেমেছিল রংপুর রাইডারস আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের শুরুটা ভালো হয়নি। ১০৪ রানেই হারিয়েছিল পাঁচ উইকেট। কিন্তু রংপুরকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন জিমি নিশাম একাই। মাত্র তিন রানের জন্য পূরণ করতে পারেননি বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। কুমিল্লার বোলারদের শাসন করেছেন চওড়া ব্যাটে। শেষ ৪ ওভারেই নিয়েছেন ৬৮ রান। যেখানে শেষ ওভার থেকেই করেছেন ২৮ রান।

জিমি নিশামের ঝড়ের জবাবটা ঠিকঠাক মতোই দিয়েছেন লিটন দাস আর তৌহিদ হৃদয়। এই দুজন মিলেই পঞ্চমবারের মতো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ফাইনালে তুলল।

ইনিংসের প্রথম বলেই সুনীল নারিন আউট হলেও ভেঙে পড়তে দেননি ব্যাটিং লাইনআপ। শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছেন এই দুই তারকা। দুজন মিলে গড়েন ১৪৩ রানের জুটি। পুরো সময়জুড়ে অপেক্ষা করেছেন খারাপ বলের। সুযোগ দেননি রংপুরকে। তৌহিদ হৃদয় খেলেন ৪৩ বল থেকে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। শুরুর দিকে ধীরগতির ব্যাটিং করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক হতে থাকেন লিটন দাসও। ৮৩ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।

মজার বিষয় হলো বিপিএলের শুরুর দিকে রান খরায় ভুগছিলেন লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয় দুইজনই। বেশ সমালোচনা হয়েছিল লিটনকে নিয়ে। কিন্তু শেষদিকে এসে এই দুইজনই ভরসা হয়ে উঠেছেন কুমিল্লার। দুজনই নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনে।

সোমবার তাদের ব্যাটিংয়ে ভর করেই রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেল কুমিল্লা। বিশেষ করে লিটন দাসের চোখ জুড়ানো ব্যাটিং। এই ইনিংসে লিটনের কাভার ড্রাইভগুলো ছিল দেখার মতো। লিটন-হৃদয়ের এমন ব্যাটিং কুমিল্লাকে আশা দেখাচ্ছে পঞ্চম শিরোপা জয়ের।

আরও পড়ুন:
প্লে-অফে যেতে বরিশালকে ১৪১ রানের লক্ষ্য দিল কুমিল্লা
অন্ধকারে ঢাকা-খুলনা, স্ববিক্রমে লড়াই করেছেন শরিফুল-বিজয়রা
আন্দ্রে রাসেলের রণহুঙ্কারে উড়ে গেল রংপুর
উত্তেজনার পারদে জ্বালানি ঢেলে শেষ ওভারে রংপুরের জয়
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার উষ্ণ স্পর্শ লক্ষ করছি

মন্তব্য

খেলা
Comilla in the final with the bat of Liton Hruday

লিটন-হৃদয়ের ব্যাটে ফাইনালে কুমিল্লা

লিটন-হৃদয়ের ব্যাটে ফাইনালে কুমিল্লা ছবি: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
কুমিল্লার হয়ে ব্যাট হাতে চারটি ছক্কা ও নয়টি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন লিটন দাস। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন কুমিল্লার অধিনায়ক।

জিমি নিশামের অপরাজিত ৯৭ রানের সুবাদে কুমিল্লাকে ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রংপুর রাইডার্স। তবে অধিনায়ক লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফলে বিপিএলের চলতি আসরের ফাইনালের প্রথম দল হিসেবে টিকিট কেটেছে তারা।

টস হেরে শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত বিশ ওভারে ছয় উইকেটে ১৮৫ রান করে রংপুর। জবাবে খেলতে নেমে ১৮.৩ ওভারে চার উইকেটে ১৮৬ রান করে কুমিল্লা। ফলে ৬ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

কুমিল্লার হয়ে ব্যাট হাতে চারটি ছক্কা ও নয়টি চারের সাহায্যে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন লিটন দাস। তৌহিদ হৃদয় করেন ৪৩ বলে ৬৪ রান। এ রান করতে চারটি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন তিনি।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস।

আরও পড়ুন: নিশাম তাণ্ডবে কুমিল্লাকে ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিল রংপুর

১৮৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় কুমিল্লা। ফজলহক ফারুকির আউটার লেংথের বলে টপ এজ হয়ে যায় সুনীল নারাইনের মোকাবিলা করা প্রথম বলটি। উইকেটের পেছনে বলটি সোহানের গ্লাভসবন্দি হলে গোল্ডেন ডাক মেরে প্যাভিলিয়নে ফেরেন নারাইন।

এরপর তৌহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান লিটন দাস। নিজে ধৈর্যসহকারে খেলে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করলেও স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে মনযোগী হন হৃদয়। পঞ্চম ওভারে হাসান মাহমুদকে প্রথম ওভারেই তুলোধুনা করেন তিনি। একটি ছক্কা ও চারটি চারে নেন ২২ রান।

পরের ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করেন লিটনও। একটি করে ছক্কা ও চারের মারের পর ওই ওভারে আসে ১৬ রান। ছয় ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৬১ রান তুলে টাইম আউটের বিরতিতে যায় কুমিল্লা।

ফিরে এসেও রানের গতি শ্লথ করেননি লিটন ও হৃদয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩১ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন হৃদয়। শেষপর্যন্ত ১৪৩ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন তিনি। ফেরার আগে খেলে যান ৪৩ বলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

এরপর জনসন চার্ল এসে এক ছক্কা ও এক চার মেরে পরের বলে আউট হয়ে গেলে ১৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় কুমিল্লা। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে দলীয় ১৭৩ রানে আউট হন লিটনও। ফাইনালে উঠতে কুমিল্লার তখন প্রয়োজন ১৩ বলে ১৩ রান।

তারপর বাকি কাজটুকু সারেন মঈন আলী (১২) ও আন্দ্রে রাসেল (২)। ১৮.৩তম ওভারে দলের মাত্র ৬ রান দরকার হলে বিশাল ছক্কা হাঁকান মঈন। ফলে ৯ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় কুমিল্লা। এ জয়ে টানা তিনবার বিপিএলের ফাইনালের উঠল দলটি।

হেরে গেলেও ফাইনালে উঠতে আরও একবার সুযোগ পাবে রংপুর। আগামী বুধবার বরিশালের মুখোমুখি হবে তারা।

আরও পড়ুন:
নিশাম তাণ্ডবে কুমিল্লাকে ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিল রংপুর
চট্টগ্রামকে উড়িয়ে কোয়ালিফায়ারে বরিশাল

মন্তব্য

খেলা
Rangpur gave Comilla a target of 190 runs in Nishams rampage

নিশাম তাণ্ডবে কুমিল্লাকে ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিল রংপুর

নিশাম তাণ্ডবে কুমিল্লাকে ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিল রংপুর ছবি: রংপুর রাইডার্স
সেঞ্চুরির আক্ষেপে পুড়লেও জিমি নিশামের অপরাজিত ৯৭ রানে ভর করেই লড়াকু পুঁজি পেয়েছে রংপুর।

বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নুরুল-সাকিবদের রংপুর রাইডার্স। ফলে সরাসরি ফাইনালে উঠতে বিশ ওভারে এ লক্ষ্য টপকাতে হবে লিটন-আন্দ্রে রাসেলদের কুমিল্লাকে।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক লিটন দাস। ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও জিমি নিশামের ৪৯ বলে অপরাজিত ৯৭ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮৫ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে রংপুর।

এদিন বিপিএলে কুমিল্লার হয়ে অভিষেক হয় সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপে দারুণ পারফর্ম করা রোহানাত দৌলা বর্ষণের।

ইনিংসের শুরু থেকেই অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতি সুবিচার করতে থাকেন কুমিল্লার বোলাররা।

দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই কুমিল্লাকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তানভীর ইসলাম। তানভীরের আউটসাইড অফ স্ট্যাম্পে করা বলটি বোলালের মাথার ওপর দিয়ে সজোরে উড়িয়ে মারেন রংপুরের ওপেনার শামীম হোসেন। বলটি ঠেকাতে গিয়ে তানভীরের হাতে লেগে আরও উপরে উঠে সীমানার দিকে এগোতে থাকে। বেশ খানিকটা দৌড়ে এসে ক্যাচটি লুফে নেন আন্দ্রে রাসেল। ফলে দুই বলে শূন্য রানে ফিরতে হয় শামীমকে।

বিপিএলে বোলিং ক্যারিয়ারের প্রথম ওভারে ১০ রান দেয়া বর্ষণ নিজের দ্বিতীয় ওভারেই পান উইকেটের দেখা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে বর্ষণের গুড লেংথ ডেলিভারিটি পুল করতে গেলে টপ-এজ হয়ে যায়। উইকেটের পেছন থেকে দৌড়ে এসে ক্যাচ নিয়ে ভুল করেননি লিটন দাস।

পঞ্চম ওভারে সাকিবকে ফেরার আন্দ্রে রাসেল। ওভারের চতুর্থ বলে রাসেলের আউটসাউড অফে করা শর্ট ডেলিভারিটি পুল করতে গিয়ে টপ-এজ হয়ে যায়। ফাইন লেগে থাকা বর্ষণ ক্যাচটি ধরলে ২৭ রানে তিন উইকেট হারায় রংপুর।

এরপর দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মাহেদী হাসান ও জিমি নিশাম। চতুর্থ উইকেটে স্কোরবোর্ড ৩৯ রান যোগ করে বিদায় নেন মাহেদী। নবম ওভারে সুনীল নারাইনের চার বলে মাত্র দুই রান নিয়ে শেষ বলে বাউন্ডারি মারার চেষ্টায় ছিলেন মাহেদী, কিন্তু তা করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। আবারও টপ-এজ, আর এর শিকার হয়ে শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ১৭ বলে ২২ রান করা মাহেদী।

এরপর নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়েন নিশাম। মাত্র চার ওভারে স্কোরবোর্ডে ৩৮ রান তোলে এই জুটি। ১৩তম ওভারে মুশফিক হাসানের প্রথম দুই বলে দুটি চার মেরে স্ট্রাইক রোটেট করেন নিশাম। পরের দুই বলে যথাক্রমে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে শেষ বলেও ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন পুরান।

সপ্তাম ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ২৪ বল মোকাবিলা করে এক ছক্কা ও চারটি চারের সাহায্যে ৩০ রান করে তিনিও ফিরে যান।

১৯তম ওভারের শেষ বলে সোহান ফিরে গেলে বাকি ছয় বল একাই খেলেন নিশাম। আগে থেকেই খরুচে মুশফিক হাসানের প্রথম দুই বলে দুটি চার মারার পর পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে এক বল পর আবারও উড়িয়ে বল সীমানা ছাড়া করেন নিশাম। তাতে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৬ রানে। সেঞ্চুরি পেতে শেষ বলে একটি চারের প্রয়োজন ছিল তার। তবে ব্যর্থ হয়ে এক রান নিয়ে এতে নিশামের অপরাজিত ৯৭ রানে ১৮৫ রানের পুঁজি পায় রংপুর।

বল হাতে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল। তবে প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়ে চমক দেখান বর্ষণ।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামকে উড়িয়ে কোয়ালিফায়ারে বরিশাল

মন্তব্য

p
উপরে