× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
Rohit Kohli in Dhaka after seven years
google_news print-icon

সাত বছর পর ঢাকায় রোহিত-কোহলিরা

সাত-বছর-পর-ঢাকায়-রোহিত-কোহলিরা
বিমানবন্দরে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ছবি: বিসিবি
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত।

সাত বছর পর দুই ফরম্যাটের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ভারতের জাতীয় দল। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন রোহিত, কোহলিরা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত।

এর আগে, ২০১৫ সালে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসে ভারত। সেই সিরিজ ২-১ এ জিতেছিল বাংলাদেশ।

৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। একই ভেন্যুতে ৭ ডিসেম্বর গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।

এরপর ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। ১৪ ডিসেম্বর একই ভেন্যুতে হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর হোম অফ ক্রিকেট মিরপুরে ২২ ডিসেম্বর গড়াবে শেষ টেস্টটি।

ভারতের ওয়ানডে দল: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, ভিরাট কোহলি, রজত পাতিদার, শ্রেয়াস আইয়ার, রাহুল ত্রিপাঠী, রিশাভ পান্ট, ঈশান কিশান, রভিন্দ্র জাদেজা, আক্সার প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দুল ঠাকুর, মোহাম্মদ শামি, মোহাম্মদ সিরাজ, দিপক চাহার, ইয়াশ দায়াল।

টেস্ট দল: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), শুভমন গিল, চেতেশ্বর পুজারা, ভিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, রিশাভ পান্ট, কেএস ভরত, রভিচন্দ্রন অশ্বিন, রভিন্দ্র জাদেজা, অক্সার প্যাটেল, কুলদিপ ইয়াদভ, শার্দুল ঠাকুর, মোহাম্মদ শামি, মোহাম্মদ সিরাজ, উমেশ ইয়াদভ।

আরও পড়ুন:
ম্যাকয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ক্লিন সুইপ ভারতের
শেষ ম্যাচের জয়ে সিরিজ ভারতের
ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল ভারত
শেষ দিনের রোমাঞ্চের সঙ্গে ইতিহাস গড়ার পথে ইংল্যান্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
Gautam Gambhir wants to quit BJP

বিজেপি ছাড়তে চান গৌতম গম্ভীর

বিজেপি ছাড়তে চান গৌতম গম্ভীর ভারতের লোকসভা সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ওপেনার ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীর। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ভারতে জাতীয় নির্বাচন তথা লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার মাত্র মাসখানেক আগে রাজনীতিতে সরে যাওয়ার এই ঘোষণা দিলেন গৌতম গম্ভীর। এই ঘোষণা তার ভক্ত তো বটেই বিশ্লেষকদেরও অবাক করেছে।

ক্রিকেটে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন লোকসভা সদস্য ও ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ওপেনার ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক টুইটে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার দল বিজেপি থেকে অব্যাহতি চেয়েও আবেদন করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে ভারতে জাতীয় নির্বাচন তথা লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার মাত্র মাসখানেক আগে রাজনীতিতে সরে যাওয়ার এই ঘোষণা দিলেন গৌতম গম্ভীর। এই ঘোষণা তার ভক্ত তো বটেই বিশ্লেষকদেরও অবাক করেছে।

গম্ভীর তার এক্স স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমি পার্টি সভাপতি জেপি নাড্ডাকে আমার রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। যাতে আমি আমার ক্রিকেটের প্রতি যে কমিটমেন্টগুলো আছে তাতে মনোনিবেশ করতে পারি। আমাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই বিজেপি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রথম তালিকা প্রকাশ করবে। এই তালিকায় ১০০ জনেরও বেশি নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা থাকবেন।

দলটি দিন কয়েক আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ম্যারাথন বৈঠক করেছে কয়েক দফা। এর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে। রাত ১১টায় শুরু হয়ে সেই বৈঠক শেষ হয় রাত ৪টায়। এর আগে গৌতম গম্ভীর ২০১৯ সালের মার্চে বিজেপিতে যোগ দেন।

আরও পড়ুন:
এবার মোদির সফরের নোটে ‘ভারত’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক
ইন্ডিয়া না জিতলে পুরো দেশ হবে মণিপুর, হরিয়ানা: স্টালিন
‘জিতেগা ভারত’ স্লোগানে বিজেপি হটাতে চায় ‘ইন্ডিয়া’

মন্তব্য

খেলা
Many congratulations to the new champion Barisal

অনেক অভিনন্দন নতুন চ্যাম্পিয়ন বরিশালকে

অনেক অভিনন্দন নতুন চ্যাম্পিয়ন বরিশালকে
উত্তাপ ছড়ানো ফাইনালে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পুড়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কুমিল্লার লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ। ভালো শুরুর পরও ইনিংস লম্বা করতে পারেনি কোনো ব্যাটার। অনেকটা উইকেট বিলিয়ে এসেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। শেষদিকে এসে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও।

প্রায় দেড় মাসের ক্রিকেট মহাযজ্ঞ। গ্রুপ পর্বের কঠিন সমীকরণ, এলিমিনেটর এরপর কোয়ালিফায়ার; ফাইনালটা তাই সহজ ছিল না বরিশালের জন্য। তবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থেকেই পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে এসেছিল কুমিল্লা। আর কুমিল্লার পরিসংখ্যান ছিল আরও ভয়ঙ্কর।
চারবারের ফাইনাল খেলায়, প্রতিবারই তারা ঘরে তুলেছে ট্রফি। তবে সেসব পরিসংখ্যানকে পাত্তাই দেয়নি তামিমরা। প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের আশা পূরণ করল বরিশালবাসীর। প্রথমবারের মতো ট্রফি ছুঁয়ে দেখল মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

উত্তাপ ছড়ানো ফাইনালে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পুড়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কুমিল্লার লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ। ভালো শুরুর পরও ইনিংস লম্বা করতে পারেনি কোনো ব্যাটার। অনেকটা উইকেট বিলিয়ে এসেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। শেষদিকে এসে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে চার বারের চ্যাম্পিয়নরা। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় তারা। জেমস ফুলার আর কেইল মায়ার্সের স্লোয়ারে বোকা বনে গেছেন কুমিল্লার টপঅর্ডার। শুরুর ৩ উইকেটই এ দুইজনের। কৃতিত্ব আছে বরিশালের ফিল্ডারদেরও। তারাও সুযোগ দেননি কুমিল্লার ব্যাটারদের। জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে ম্যাচের আধিপত্য নেয় বরিশালের ম্যাককয়। ম্যাচে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেহেদী মিরাজের রান আউট। দুর্দান্ত সরাসরি থ্রো থেকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন মঈন আলিকে।

কুমিল্লার জন্য কিছুটা ভরসার প্রতীক হয়েছিলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। কিন্তু সাইফুদ্দিনকে উইকেট বিলিয়ে আসেন তিনি। শেষদিকে আশা দেখাচ্ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। উইকেটে নেমে ঝড় তোলেন তিনি। ১৯তম ওভারে ফুলারকে ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে ২১ রান নেন তিনি। শেষ বলে ১ রান নিয়ে প্রান্ত পরিবর্তন করে স্ট্রাইকে থাকেন তিনি। কিন্তু শেষ ওভারে সাইফুদ্দিনের দুর্দান্ত বলে কোনো বাউন্ডারিই হাঁকাতে পারেননি তিনি। এই ওভারে কিপ্টে বোলিংয়ে বরিশালের লক্ষ্যকে বড় হতে দেননি সাইফুদ্দিন।

অধিনায়ক তামিম ইকবালও বেশ অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলির পুরোটাই ঢেলে দিয়েছেন এই ম্যাচে। ম্যাচের অবস্থা দেখে পরিবর্তন এনেছেন বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে। যেটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে কুমিল্লাকে অল্প রানে বেঁধে রাখতে।

জবাবটা বেশ ভালোভাবেই দিয়েছে বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর মেহেদী হাসান মিরাজ। বরিশালকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন তারা। দুজনে মিলে ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথ দেখিয়েছেন। রান সংগ্রাহকের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তামিম। ২৬ বল থেকে খেলেছেন ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ এবং দুর্দান্ত ইনিংস। সমান ৩ চার আর ৩ ছক্কায় সাজিয়েছেন নিজের ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলেন সাবলীল ২৬ বল থেকে করেছেন ২৯ রান। এক ওভারের ব্যবধানে এ দুই ব্যাটার ফিরে গেলে সুযোগ তৈরি করতে পারত কুমিল্লাও। কিন্তু হাফ চান্সকে পূর্ণতা দিতে না পারায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।

৩০ বল থেকে ৪৬ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে রেখে যান কেইল মায়ার্স। আর বন্দরে নোঙর ফেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর ডেভিড মিলার। মাঝখানে ১৩ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। মিলারের চারে ৬ উইকেটের জয়ে প্রথম শিরোপা ছুঁয়ে দেখল বরিশাল।
বরিশালের এই জয়ে বড় অবদান ছিল ট্রাম্প কার্ড কেইল মায়ার্সের। ৩০ বল থেকে খেলেছেন ৪৬ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। যেটি শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে বরিশালকে। বল হাতেও তিনি ছিলেন বরিশালের ভরসার প্রতীক। ৪ ওভারে ২৬ রান খরচে শিকার করেছিলেন ১ উইকেট। মায়ার্সের ওই উইকেটই মোমেন্টাম এনে দিয়েছিল বরিশালের। যে কারণে ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনিই।

দুর্দান্ত একটা আসর পার করলেন তামিম ইকবাল। সামনে থেকে পথ দেখিয়েছে বরিশালকে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ, এলিমিনেটর ম্যাচ আর ফাইনালে তার ব্যাট হেসেছে, সুখের হাসি। আসের সর্বোচ্চ ৪৯২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাই নিজের ব্যক্তিগত ঝুলিতে ভরেছেন দুটি পুরস্কার। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পাশাপাশি হয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ও।

নিষ্প্রভ ঢাকার দুর্দান্ত শরিফুল ইসলাম। গ্রুপ পর্বে ঢাকা বাদ পড়লেও ২২ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন আসরের সেরা উইকেট শিকারি। সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার গেছে ঢাকার ওপেনার নাঈম শেখের ঝুলিতে।

আরও পড়ুন:
ইবিতে খেলা নিয়ে সংঘর্ষ, তদন্তে কমিটি
অদম্যকে দমিয়ে জয়ের স্পর্ধা দেখানোর ছাড়পত্র দরকার
ব্যাটিংয়ে ভারত

মন্তব্য

খেলা
Barisal is the champion for the first time

প্রথমবারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন বরিশাল

প্রথমবারের মতো বিপিএল চ্যাম্পিয়ন বরিশাল
শুরুতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ১৯ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বরিশাল। ৩৯ রান করেছেন তামিম।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরচুন বরিশাল।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার দশম আসরের ফাইনাল খেলায় এ জয় পায় দলটি। দলের মতো অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তামিম ইকবালও।

শুরুতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ১৯ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বরিশাল। ৩৯ রান করেছেন তামিম।

রাজধানীর বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আরও পড়ুন:
ফাটাফাটি লড়াই হবে ফাইনাল মহারথে
দ্য গ্রেট ওয়াল মুশফিকের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল
শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি

মন্তব্য

খেলা
The fierce battle will be in the final Maharatha

ফাটাফাটি লড়াই হবে ফাইনাল মহারথে

ফাটাফাটি লড়াই হবে ফাইনাল মহারথে
ফাইনালে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, ট্রফি উঠবে নতুন কোনো অধিনায়কের হাতেই, যারা এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয় করেননি।

বহু আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনাল মহারণ মাঠে গড়াবে আজ শুক্রবার। দেশের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের জ্বরে তাই কাঁপছে পুরো দেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও বইছে ভিন্ন আমেজ। ভিন্ন সাজে সাজছে হোম অব ক্রিকেট।

ফাইনালে পঞ্চম ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাফিসা কামালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্যদিকে এর আগে তিনবার ফাইনালে গেলেও ট্রফিখরা কাটেনি বরিশালের। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। তারকায় ভরপুর কুমিল্লা-বরিশাল দুই দলই। তাই লড়াইটাও হবে ধুন্ধুমার। যেটার আভাস দিয়েছেন ফাইনালের আগে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে আসা দুই দলের সহ-অধিনায়ক; মেহেদী হাসান মিরাজ আর জাকের আলি অনিক।

মজার বিষয় হলো, এই দুই দলই ফাইনালে এসেছে একটি দলকেই হারিয়ে। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরকে হারায় কুমিল্লা আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারায় বরিশাল। আর এই দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিল রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপ।

বিপিএলের নবম আসরেও ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফরচুন বরিশাল আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেবার বরিশালকে নেতৃত্ব দিয়েছিল সাকিব আল হাসান। পরিবর্তন ছিল বরিশালের বেশকিছু খেলোয়াড়েরও। আর কুমিল্লাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল ইমরুল কায়েস। ফাইনালের জমজমাট লড়াইয়ে ১ রানের হার পুড়িয়েছিল সাকিবের নেতৃত্বে খেলা বরিশালকে। এবার নিশ্চয়ই সেই প্রতিশোধ নিতে চাইবেন তামিম ইকবালরা।

এবার চলুন দুই দলের ফাইনালে খেলার পরিসংখ্যানে একটু নজর দেওয়া যাক। বিপিএলে ৬ বার অংশ নিয়ে ৪ বারই ফাইনাল খেলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং প্রতিবারই পেয়েছে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ। অর্থাৎ ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য কুমিল্লা। অন্যদিকে সব মিলিয়ে ৩ বার ফাইনাল খেলেছে বরিশাল। কিন্তু একবারও ছুঁয়ে দেখা হয়নি ট্রফি। তবে অন্যান্য আসরের তুলনায় এবার বেশ শক্তিশালী তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাদের নিয়ে গড়া বরিশাল।

দুই দলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকবে দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। তবে দুই দলেই এমন কিছু পারফর্মার রয়েছেন, যারা হতে পারেন এক্সফ্যাক্টর, ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচের মোড়। সে ক্ষেত্রে বরিশালের তালিকায় থাকবে কেইল মায়ার্স, ডেভিড মিলার, জেমস ফুলার আর সাইফুদ্দিনের নাম। গ্রুপ পর্ব এলিমিনেটর ম্যাচে ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন তারা। বিশেষ করে কেইল মায়ার্স আর সাইফুদ্দিন। দুজনই আছেন সেরা ছন্দে।

অন্যদিকে কুমিল্লার তালিকায় রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, মঈন আলি, আলিস ইসলাম, তৌহিদ হৃদয় কিংবা জাকের আলি। আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে খুব বেশি বলার কিছু নেই। তার শক্তিমত্তার কথা সবারই জানা। বিশেষ করে ২০১৯-২০২০ ফাইনালের কথা মনে থাকার কথা সবারই। সেবার পুরো টুর্নামেন্টে গড়পড়তা পারফরম্যান্স করা রাসেল জ্বলে উঠেছিলেন সেমিফাইনাল আর ফাইনালে। একাই জিতিয়েছিলেন রাজশাহীকে। তৌহিদ হৃদয় ব্যাটিং সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ইতোমধ্যেই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।

ফাইনালে কুমিল্লার বড় শক্তির জায়গা হবে তাদের অলরাউন্ডাররা। বিশেষ করে সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল আর মঈন আলি। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব মাতানো এই তারকারা যেমন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে, তেমনি ভয়ংকর বোলিংয়ে। আর মিরপুরের উইকেট তো সুনীল নারিনের জন্য স্বর্গরাজ্য। রাসেলের স্লোয়ারও বেশ কার্যকরী মিরপুরের পিচে।

তরুণ ক্রিকেটাররাও কুমিল্লার জন্য দারুণ কিছু করতে পারেন। সেখানে থাকবে শেষ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া অনূর্ধ্ব দলের খেলোয়াড় বর্ষণ, জাকের আলি অনিক, মুশফিক হাসানদের নাম।

অন্যদিকে বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তাদের ব্যাটিং লাইনআপ এবং অভিজ্ঞতা। সর্বশেষ ম্যাচে বরিশাল ৯ জনের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে খেলেছে। কুমিল্লার চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে বরিশালের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা। যে দলে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ডেভিড মিলারদের মতো খেলোয়াড়; সেখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার কোনো কথাই নেই। যেটা বড় ম্যাচে এগিয়ে রাখবে বরিশালকে।

ফাইনালে বাড়তি দায়িত্ব থাকবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুরর রহিমের। সেই প্রথম আসর থেকে বিপিএলে নিয়মিত এ দুই ক্রিকেটার। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে তারা। কিন্তু দলীয় সাফল্যের ঝুলি এখনো শূন্য তাদের। সবগুলো আসর খেলেও কেউই পাননি ট্রফির ছোঁয়া। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই মহীরুহ এবার খেলছেন একই দলে। একসঙ্গেই তাই দুজনের সামনে সুযোগ শিরোপার তিয়াস মেটানোর। সেটা করতে তাই নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেবেন তারা।

সবশেষে ফাইনালে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, ট্রফি উঠবে নতুন কোনো অধিনায়কের হাতেই, যারা এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয় করেননি।

মন্তব্য

খেলা
The Great Wall Mushfiqurs devastating batting led Barisal to the final

দ্য গ্রেট ওয়াল মুশফিকের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল

দ্য গ্রেট ওয়াল মুশফিকের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচের মাধ্যমেই শেষ হলো সাকিব-তামিম লড়াই। তবে শেষ দিনে সফল ছিলেন না দু’জনের কেউই। ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ১ রান। আর তামিম করেছেন ১০ রান। বল হাতেও উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। এমন মহারণের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শক মনে। এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল দুই দলের দুই তারকার জন্য। বরিশালের তামিম ইকবাল আর রংপুরের সাকিব আল হাসান।

এই ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কিন্তু রংপুরকে নিয়ে যে ভয়টা ছিল, ব্যাটিংয়ে নামার পর সেটারই যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি আঁকলেন। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১৮ রান তুলতেই রংপুর হারিয়েছে ৩ উইকেট। যে তালিকায় নাম ছিল ইনফর্ম সাকিব আল হাসানেরও। ব্যর্থদের তালিকায় নাম ছিল নিকোলাস পোরানেরও।

রংপুরের ব্যাটিং লাইনে বুধবারও আশা দেখিয়েছিলেন জিমি নিশাম। কিন্তু সেটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। ২২ বল থেকে ২৮ রান করেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। এরপর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। সবাই ছিলেন আসা-যাওয়ার মধ্যে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল রংপুরের শেষ দুই ম্যাচে।

তবে এ দিন বিশ্বস্ত সৈনিকের মতো রংপুরকে রক্ষা করেন শামীম পাটোয়ারী। তাণ্ডব চালাতে থাকেন বরিশালের বোলারদের ওপর। মাত্র ২০ বল থেকে তুলে নেন অর্ধশতক। যেটি এবারের আসরের যৌথভাবে দ্রুততম অর্ধশতক। ১৯তম ওভারে ২ চার আর ৩ ছক্কায় শামীম সংগ্রহ করেন ২৬ রান। অন্তত লড়াই করতে হলে যে ইনিংস খেলা প্রয়োজন ছিল কোনো একজনের, সেটি খেলেন শামীম।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বরিশালের যে দুজন বোলারের ওপর আশা ছিল, তারা উভয়েই সেটা পূরণ করেছেন। শুরুতেই কিপটে বোলিংয়ে চেপে ধরেন কেইল মায়ার্স। পরের ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সাকিব আর মাহেদীকে ফিরিয়ে শুরু করেন ধ্বংসলীলা। এরপর রনি তালুকদারকে ফিরিয়ে সেই ধ্বংসলীলায় যোগ দেন মায়ার্সও। এই দুইজন মিলেই ভেঙে দেন রংপুরের কোমর।

এরপর রংপুরের ঢেউয়ের সাগরে তুফান তোলেন জেমস ফুলার। শুরুটা করেন জিমি নিশামকে দিয়ে আর শেষ করেন রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে দিয়ে। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তার শিকার ৩ উইকেট। তবে বরিশালের সেই ডেথ ওভারের সমস্যা এদিনও ভুগিয়েছে তাদের। শেষ ৪ ওভারেই তারা খরচ করেছে ৬০ রান। বেশি খরুচে ছিলেন ওবেদ ম্যাককয়।

গত ২ ম্যাচে রান পাওয়া তামিমের ব্যাট ছিল এদিন নিশ্চুপ। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মিরাজও কিছুই করতে পারেননি। ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকারও। ছোট একটি ঝড় তুলে ফারুকীর বলে মাহেদী হাসান আর রনি তালুকদারের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে গেছেন কেইল মায়ার্স। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেট কামড়ে পড়ে ছিলেন তিনি। দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। তার ৪৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করেই রংপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বরিশাল দ্বিতীয় দল হিসেবে চলে গেল ফাইনালে।

মুশফিকুর রহিম ‘মি. ডিপেন্ডেবল’! কেন মুশফিককে এ নামে ডাকা হয়, সেটা তিনি প্রমাণ করলেন রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। মাঝারি রানের লক্ষ্য তাড়ায়ও খুব একটা ভালো শুরু করতে পারেনি বরিশাল। যখন দায়িত্ব নিতে পারেনি বাকিরা, তখন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে সে দায়িত্বটা নেয়ার প্রয়োজন ছিল মুশফিকুর রহিম অথবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সেটিই করেছেন মুশফিক। গুরুত্ব বুঝিয়েছেন অভিজ্ঞতার।

এই ম্যাচের মাধ্যমেই শেষ হলো সাকিব-তামিম লড়াই। তবে শেষ দিনে সফল ছিলেন না সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালের কেউই। ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ১ রান। আর তামিম করেছেন ১০ রান। বল হাতেও উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব। ছিলেন খরুচেও। ১ ওভার ৩ বলে দিয়েছেন ১৭ রান।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামকে উড়িয়ে কোয়ালিফায়ারে বরিশাল
তামিম যে ব্যাটিং সাম্রাজ্যের নেতা আবার প্রমাণ করলেন
খুলনার স্বপ্ন ভেঙে প্লে-অফে বরিশাল
প্লে-অফে যেতে বরিশালকে ১৪১ রানের লক্ষ্য দিল কুমিল্লা
অন্ধকারে ঢাকা-খুলনা, স্ববিক্রমে লড়াই করেছেন শরিফুল-বিজয়রা

মন্তব্য

খেলা
Collection of Rangpur 149 in Shamims last storm

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি শামীমের ঝড়ো ফিফটির কল্যাণে লড়াকু সংগ্রহ পেয়েছে রংপুর। ছবি: বিসিবি
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাইফউদ্দিনের জোড়া উইকেটে শুরু হয় রংপুরের ব্যাটারদের ক্রিজে যাওয়া-আসা। শেষের দিকে শামীমের ঝড়ো ফিফটিতে ১৪৯ রানে থামে তাদের ইনিংস।

বিপিএলের চলতি আসরের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৪৯ রান করেছে রংপুর রাইডার্স। ফলে ফাইনালে উঠতে নির্ধারিত বিশ ওভারে এ লক্ষ্য টপকাতে হবে বরিশাল ভিক্টোরিয়ান্সকে।

বুধবার টস জিতে শুরুতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এদিন শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেটের পতনে একসময় মনে হচ্ছিল, ১০০ পেরোতে পারবে না রংপুর। তবে শেষ দিকে শামীম হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দেড়শ’র দ্বারপ্রান্তে গিয়ে থামে টিম রাইডার্স।

প্রথম ইনিংসে কাইল মেয়ার্সের প্রথম ওভারে ৭ রান নিলেও দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেটের দেখা পান সাইফউদ্দিন।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সাইফউদ্দিনের ফুলার লেংথ ডেলিভারিটি অফ-স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাট চালান রংপুরের ওপেনার শেখ মাহেদী। বলটি লেগ সাইড দিয়ে ক্লিন করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি। শুরুতে বলটি ধরার আগে মাটি ছুঁয়েছে বলে মনে হলেও রিপ্লেতে আউট হয়ে গেছেন দেখা যায়। ফলে পাঁচ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয় তরুণ এ বাংলাদেশি ব্যাটারকে।

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি
জোড়া উইকেট পেয়ে সাইফউদ্দিনের উল্লাস। ছবি: ফরচুন বরিশাল

ওভারের শেষ বলে আবারও উইকেটের দেখা পান সাইফউদ্দিন। এবার তার শিকার সাকিব আল হাসান। মাহেদীর মতো একইভাবে মুশফিকের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরতে হয় চার বলে এক রান করা সাকিবকে।

ইনিংসের পঞ্চম ও নিজের তৃতীয় ওভারে সাফল্যের দেখা পান কাইল মেয়ার্সও। ওভারের চতু্র্থ বলে আরেক ওপেনার রনি তালুকদারকে মাঠছাড়া করেন তিনি। চাপ কমাতে মেয়ার্সের মিডল লেংথ ডেলিভারিটি উড়িয়ে মেরেছিলেন রনি, কিন্তু মারে জোর না থাকায় ডিপ-মিড উইকেটে ডেভিড মিলারের তালুবন্দি হন তিনি। ফিরে যাওয়ার আগে ১২ বল মোকাবিলা করে ৮ রান করেন তিনি।

পাওয়ার প্লের আগেই মাত্র ১৮ রান তুলতে গিয়ে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। এখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন দুই বিদেশি রাইডার জিমি নিশাম ও নিকোলাস পুরান।

নিশাম রানের চাকা সচল রাখলেও ধীরে খেলে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন পুরান। তবে কিছুক্ষণ পরই ধৈর্যহারা হয়ে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। নবম ওভারের শেষ বলে ১২ বলে রান করা পুরানকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। পরের ওভারের প্রথম বলেই টপ এজ হয়ে আউট হয়ে যান জিমি নিশাম। জেমস ফুলারের শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে ক্রস ব্যাট চালিয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে যান নিশাম। ২২ বলে নিশাম চারটি চারের সাহায্যে ২৮ রান করে ফিরলে ৪৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় রংপুর।

শামীমের শেষের ঝড়ে রংপুরের লড়াকু পুঁজি
উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন নিকোলাস পুরান ও জিমি নিশাম। ছবি: ফরচুন বরিশাল

সেখান থেকে মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান উইকেটের রক্তক্ষরণ ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ১৫.২ ওভারে জেমস ফুলারের বাউন্সারে ব্যাট চালিয়ে টপ এজ হয়ে সাজঘরে ফেরেন নবী (১২)। দুই বল পরেই বোল্ড হয়ে যান সোহান (১৪)।

শেষের দিকে শামীম হোসেন ও আবু হায়দার রনি ইনিংস বড় করার চেষ্টা করলে ১৪৯ রান তুলতে সমর্থ হয় রংপুর। মাত্র ২৪ বলে পাঁচটি করে চার ও ছক্কায় শামীমের ৫৯ রানের ইনিংসটিই লড়াকু সংগ্রহ দিয়েছে রংপুরকে। অন্যপ্রান্তে ৯ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন রনি।

বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন জেমস ফুলার। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুটি এবং কাইল মেয়ার্স ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি করে উইকেটের দেখা।

ফাইনালে পৌঁছাতে হলে কুমিল্লাকে করতে হবে ১৫০ রান।

মন্তব্য

খেলা
Shakib Tamims epic writing day

সাকিব-তামিমের মহাকাব্য রচনার দিন!

সাকিব-তামিমের মহাকাব্য রচনার দিন!
সবমিলিয়ে কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। দুই দলের শেষ লড়াইয়ের মতো দর্শকরাও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবে এই ম্যাচের দিকে সাকিব-তামিমের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখার জন্য।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ মাঠে গড়াচ্ছে বুধবার। সেখানে মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। আরেকটু স্পষ্ট করলে তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে দশম আসরের ফাইনালের দ্বিতীয় দল।

যে জিতবে সে-ই ফাইনাল খেলবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে। হেরে যাওয়া দল বাড়ি যাবে বিদায়ের বিউগল শুনতে শুনতে। তাই দুই দলের জন্যই বিপিএলের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ এটি। অন্যদিকে এই ম্যাচে যে জিতবে, সাকিব-তামিম কথিত দ্বৈরথে সে-ই তো ‘চ্যাম্পিয়ন’!

গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা তামিম ইকবালকে আউট করলেন সাকিব। এরপরই হাত মুষ্টিবদ্ধ কনুই ঝাঁকি দিয়ে উদযাপন করলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা। ব্যাটিংয়ে নেমেই চড়াও হতে থাকেন সাকিব। মেহেদী মিরাজকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার প্রীতমের কাছে। এবার ক্যামেরা তামিম ইকবালের দিকে, সাকিবের সেই উদযাপন ফিরিয়ে দিলেন তিনি।

সে ম্যাচে শেষ ওভারের তৃতীয় বলে এক উইকেটের জয় পেয়েছিল রংপুর। জমজমাট সেই ম্যাচের আলোচনা ছাপিয়ে, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সাকিব-তামিমের উদযাপন।

বুধবার আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন সাকিব-তামিম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আরেকবার দেখা যাবে সাকিব-তামিমের এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

এখন প্রশ্ন হলো- শক্তির বিচারে কে কতটা এগিয়ে? এখানে অবশ্য একক আধিপত্য দেয়ার সুযোগ নেই কাউকে। কারণ দুই দলই নিজেদের সেরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে।

তবে শেষ দুই ম্যাচে হেরে কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকারই কথা রংপুর রাইডার্সের। রংপুরের আরেকটি চিন্তার কারণ হতে পারে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। শেষ দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিলেন রংপুরের অধিকাংশ ব্যাটার। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তো শঙ্কা জেগেছিল স্বল্প রানে অলআউট হওয়ার। জিমি নিশামের কল্যাণে সেটা হয়নি। তাই এই ম্যাচের আগে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে বেশ মনোযোগী হতে হবে।

অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়ে মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিতে আছে বরিশাল। বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তামিম ইকবালের বড় ইনিংস খেলা আর কেইল মায়ার্সের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। সাইফুদ্দিনের দুর্দান্ত বোলিং বাড়তি পাওয়া বরিশালের জন্য।

শেষ দুই ম্যাচেই তামিম ইকবাল দারুণ দুটি ইনিংস খেলেছেন। তুলে নিয়েছেন দুটি অর্ধশতক। বরিশালের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তামিমের ব্যাটের। মানে বেশ ইফেক্টিভ ছিল তামিমের ইনিংস দুটি। যেটি পুরো টুর্নামেন্টেই খুব একটা দেখা যায়নি। রংপুরের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চাইবে তামিম এবং বরিশাল।

অন্যদিকে বিপিএলের মাঝপথ থেকেই আগুনে ব্যাট করছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রত্যেক ম্যাচেই সাকিবের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫০-এর উপরে। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচেই হাসেনি সাকিবের ব্যাট। পায়নি রানের দেখা। তাই এ ম্যাচে সাকিবের ওপর থাকবে বাড়তি চাপ। তবে এমন চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা আছে সাকিবের।

সাকিব-তামিমের লড়াইয়ে অবশ্য বাড়তি চোখ থাকবে বরিশালের ডেভিড মিলার আর রংপুরের নিকোলাস পুরানের দিকে। একই তুলনায় নাম আসতে পারে রংপুরের জিমি নিশাম আর বরিশালের কেইল মায়ার্স। দেশিদের মধ্যে চোখ থাকবে বরিশালের মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাইফুদ্দিন, মেহেদী মিরাজ। আর রংপুরের শেখ মাহেদী আর নুরুল হাসান সোহানের দিকে।

সবমিলিয়ে কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। দুই দলের শেষ লড়াইয়ের মতো দর্শকরাও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবে এই ম্যাচের দিকে সাকিব-তামিমের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখার জন্য।

অবশ্য এই ম্যাচে মাঠে নামবে আরও দুই পাণ্ডব মাহমুউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুর রহিম। তাই দেশের ক্রিকেট এদিন বিভক্ত হয়ে যাবে দুই দলে। তবে ভালো খেলেই ফাইনালে যেতে হবে হয় সাকিবকে অথবা তামিমকে।

আরও পড়ুন:
খুলনার স্বপ্ন ভেঙে প্লে-অফে বরিশাল
প্লে-অফে যেতে বরিশালকে ১৪১ রানের লক্ষ্য দিল কুমিল্লা
অন্ধকারে ঢাকা-খুলনা, স্ববিক্রমে লড়াই করেছেন শরিফুল-বিজয়রা
আন্দ্রে রাসেলের রণহুঙ্কারে উড়ে গেল রংপুর
উত্তেজনার পারদে জ্বালানি ঢেলে শেষ ওভারে রংপুরের জয়

মন্তব্য

p
উপরে