× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
Messi is part of the Saudi billion dollar project
hear-news
player
google_news print-icon
দীর্ঘ পাঠ

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি

সৌদি-বিলিয়ন-ডলার-প্রজেক্টের-অংশ-মেসি
সৌদি আরবের পর্যটন শিল্পের প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন মেসি। গ্রাফিক্স: দ্য অ্যাথলেটিক
বিশ্বকাপে গ্রুপ সির প্রথম ম্যাচের আগে সোমবার সন্ধ্যায় দোহায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেসি। মাঠে যে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ দেশটি ছিল তারা, যারা তাদের প্রচারে ব্যবহার করছে মেসির ছবি। কাতারের টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে মেসির সৌদি আরব সফর নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিস্ময়কর জয় পেয়েছে সৌদি আরব। এটি ছিল গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি ছিল মাঠের বাইরে একটি যুদ্ধের পটভূমি, যা আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে চলবে।

সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির মালিকানাধীন স্পোর্টস ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিকের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদের সঙ্গে মেসির গাঁটছড়া ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে শক্তি জোগাবে। আর সে ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারে তার নিজের দেশ আর্জেন্টিনা। প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করা হয়েছে নিউজবাংলার পাঠকের জন্য।

০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এরপর ২০৩০ সালের আয়োজক দেশ ঠিক করতে চলতি বছরের জুনেই বিডিং উন্মুক্ত হয়েছে। আয়োজক দেশের নাম চূড়ান্ত হবে ২০২৪ সালে ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে।

এখন পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও ইউক্রেনের যৌথ উদ্যোগের বিডিং নিশ্চিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতেই দেশ তিনটি এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। তবে আরও দুটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ার কথা।

এর একটি হলো দক্ষিণ আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও চিলির যৌথ উদ্যোগ। অন্যটি সৌদি আরব, মিশর ও গ্রিসের। একাধিক দেশের যৌথ আয়োজক হিসেবে বিডে অংশগ্রহণের ফলে ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ৪৮ দলের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে।

২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিড খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলে মনে করছেন এর কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন। দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি অজস্র প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যারা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ ছাড়া ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। এর ১০০তম বার্ষিকীতে ২০৩০ সালে দক্ষিণ আমেরিকাই হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।’

১৯৩০ সালে স্বাগতিক উরুগুয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের বিষয়টি ২০১৭ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসে, যখন বার্সেলোনার সতীর্থ উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তাদের দেশের পক্ষে প্রচারে যুক্ত হন। দুই দেশের মধ্যে একটি ম্যাচের আগে সুয়ারেজ যে জার্সি পরেন তার সামনে ২০ এবং মেসির জার্সিতে ৩০ সংখ্যাটি লেখা ছিল।

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
দক্ষিণ আমেরিকায় যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রচারে সুয়ারেজ ও মেসি

পরের বছর ফার্নান্দো মারিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার সঙ্গে মেসি যোগ দেবেন এবং সুয়ারেজ তো অবশ্যই। আমরা তাকে (মেসি) আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছি এবং তিনি মনে করেন এটা সম্ভব। তিনি আমাদের সাহায্য করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য বিশ্বকাপের পতাকাবাহী হবেন।’

তবে গত মে মাসে ঘটনার নতুন বাঁক তৈরি হয়। বর্তমানে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবলার সৌদি আরবের প্রচারের দায়িত্ব নিতে একটি আকর্ষণীয় চুক্তিতে সই করেন।

প্রথম কথাটি হলো, চুক্তিটি হয়েছে সৌদির পর্যটন-সংক্রান্ত প্রচারের জন্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিডের প্রসঙ্গ সেখানে নেই।

তবে সৌদি আরবের জাতীয় লক্ষ্যগুলো দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারি ভাষ্যগুলোতে একে ‘সৌদি আরবকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার একটি অনন্য রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের নীলনকশা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিড সৌদি আরবের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রবলভাবে যুক্ত বলে মনে হয় এবং পর্যটনের প্রচার সেই লক্ষ্যটি অর্জনে অনেকভাবে সাহায্য করবে।

অন্য উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল- পিআইএফের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব নিউকাসল ইউনাইটেডকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত, সেই সঙ্গে এলআইভি গলফ ব্রেকওয়ে ট্যুরকে সহায়তাদান। এ ছাড়া ১০ বছরের জন্য ফর্মুলা ওয়ান রেসের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২০১৯ সালে অ্যান্টনি জশুয়া এবং অ্যান্ডি রুইজের হেভিওয়েট বক্সিং আয়োজনের জন্য ৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি।

সৌদিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন ডেনিস হোরাক। তিনি বলেন, ‘বিনোদন ও ক্রীড়ায় এই বিপুল অংশগ্রহণ সৌদির ভিশন ২০৩০-এর একটি বড় অংশ। এলআইভি গলফ (সৌদি আরবের অর্থায়নে) এবং এখন এগুলোর সঙ্গে মেসির মতো তারকাদের উচ্চমূল্যে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা বিষয়টিকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার এবং আরও বৈশ্বিক করার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাপী সৌদির সুনাম বাড়াতে হবে এবং এসবের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের নতুন ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টা করছে।’

মেসির চুক্তির মেয়াদ এবং শর্ত কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ আগে এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো সৌদি পর্যটনের প্রচারে কাজ করার জন্য প্রতিবছর ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আলোচনায় যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছে, মেসির সঙ্গে সৌদির চুক্তিটির আর্থিক মূল্য রোনালদোকে দেয়া প্রস্তাবের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে।

সৌদি এজেন্সিগুলোর তৎপরতার বিভিন্ন উদাহরণ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। যেমন এলআইভি গলফ ট্যুরে টাইগার উডসকে ভেড়াতে ৭০-৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন৷

মেসির প্রতিনিধিরা বলেছেন, গোপনীয়তার শর্তের কারণে তারা চুক্তির পরিসংখ্যানগত দিকগুলো প্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে এ-সংক্রান্ত ই-মেইলের কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার।

মেসি গত মে মাসে লোহিত সাগরের তীরের রিসোর্ট শহর জেদ্দায় ভ্রমণের সময় প্রথমবার তাকে সৌদির পর্যটনদূত হিসেবে প্রচার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেসিকে স্বাগত জানিয়ে সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এক টুইটে লেখেন, ‘সৌদি আরবে এটি তার প্রথম সফর নয় এবং এটি শেষও হবে না।’

পরে ইয়টে সূর্যাস্ত দেখার সময়কার নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন মেসি।

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা ছবিতে লোহিত সাগরের বুকে ইয়টে মেসি

ইনস্টাগ্রামে ছবির শিরোনামে তিনি লেখেন, ‘লোহিত সাগরের বুকে #ভিজিটসৌদি’। ইনস্টাগ্রামে মেসির ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৭ কোটি। পোস্টটিতে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের সহায়ক সংস্থা ভিজিট সৌদির ‘পেইড পার্টনারশিপ’ লেবেল যুক্ত ছিল।

মেসি পরে সৌদির সহকারী পর্যটনমন্ত্রীর প্রিন্সেস হাইফা আল-সৌদের সঙ্গে পুরোনো জেদ্দা সফরে যোগ দেন।

প্রিন্সেস হাইফা পরে টুইটারে লেখেন, ‘এই শহরের অন্তর্নিহিত রূপ, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি তার (মেসি) মুগ্ধতা দেখে আমি আনন্দিত।’

ভিজিট সৌদির ওয়েবসাইটে এখন মেসির একটি ল্যান্ডিং পেজ রয়েছে। এর শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘লিওনেল মেসি চান আপনি নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ-সন্ধানী সত্তাকে উন্মোচন করুন এবং অকল্পনীয় দিকগুলো উদ্ঘাটন করুন।

‘আপনি নতুন বা পুরোনো কিছু আবিষ্কার করতে অথবা শুধু নিজের ভেতরে নতুন কিছু জাগানো- যে উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করুন না কেন, সৌদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে সন্তুষ্টি জোগাবে। তাহলে আর কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন? এখনই আপনার অ্যাডভেঞ্চারের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন।’

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
ভিজিট সৌদির ওয়েবসাইটে মেসির পেজ

সৌদি আরবের প্রচারে মেসির এই অবস্থান ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনে তার নিজের দেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে মেসির সাপোর্ট টিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে পর্যটন প্রচারের চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি কতবার সৌদি সফরে যাবেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তারা এমন একটি দেশের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের চেক নেয়ার বিষয়ে মেসির প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি, যে দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে আছে ভিন্নমতাবলম্বী ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা, নারী অধিকারকর্মী ও এলজিবিটি গোষ্ঠী এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) শাসনের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউন।

মানবাধিকার সংস্থা ইউনিসেফ গত বছর জানায়, প্রতিবেশী ইয়েমেনে সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। মেসি ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফের একজন ‘শুভেচ্ছাদূত’।

মেসির প্রতিনিধিরা ইয়েমেন বিরোধের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, একই সঙ্গে ইউনিসেফও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মেসির অগণিত অংশীদারত্বের মধ্যে একটি হলো ফরাসি চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের হয়ে খেলা, যেখানে তিনি ৩ কোটি ইউরোর বেশি আয় করেন। এটি কাতারের সঙ্গে যুক্ত একটি তহবিলের মালিকানাধীন ক্লাব, যে দেশটির বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মেসি সম্প্রতি ক্রিপ্টো ফ্যান টোকেন ফার্ম সোসিওস-এর প্রচারের জন্য ২ লাখ ডলারের চুক্তি করেছেন, পাশাপাশি তিনি এনএফটিভিত্তিক গেম সোরারেও একজন বিজ্ঞাপনী মুখ। এ ছাড়া তিনি আডিডাস, পেপসি, বাডওয়াইজার, ওরেডু, প্রো অ্যাভ্যুলিউশন সকার, লুই ভ্যুইতন, ইসরায়েলি কোম্পানি ওরক্যাম, দ্য দুবাই এক্সপো-২০২০, তার নিজস্ব শো সার্ক দ্যু সোলেইল এবং চীনা দুগ্ধ কোম্পানি মেংনিউ-এর সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করেছেন।

ফোর্বস ম্যাগাজিন গত মে মাসে যে অনুমান প্রকাশ করে সে অনুযায়ী, গত বছর মেসি ১২ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

সৌদি নাগরিক খালিদ আল-জাবরির বোন সারা এবং ভাই ওমর বর্তমানে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি। খালিদ আল-জাবরির বাবা সৌদি আরবের একজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

দ্য অ্যাথলেটিক-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খালিদ অভিযোগ করেন, তার বাবা ড. সাদ আলজাবরির ওপর চাপ দেয়ার জন্য কারাবন্দি দুই ভাইবোনকে ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদি সরকার।

খালিদ বলছেন, ‘সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান দেশকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং মেসির দূতের ভূমিকা এতে অবদান রাখছে।

‘মেডিক্যাল স্কুলে পড়ার সময় তাকে (মেসি) দেখতে আমরা একসঙ্গে জড়ো হতাম। তিনি বিশ্বে সুপরিচিত এটাই একমাত্র কারণ নয়, দেশের ভেতরেও সবাই তাকে ভালোবাসে। ফুটবলের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ঈশ্বরের ঠিক পরেই। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা (সৌদি সরকার) সেই কেন্দ্রবিন্দুটিতে আঘাত করেছে।’

...

মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরব সফর করেন।

তার ফ্লাইট অবতরণের পর ভক্তদের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। ভিড়ের চাপ সামলাতে ব্যতিব্যস্ত সশস্ত্র রক্ষীদের একজনের বন্দুকের নল ঘটনাক্রমে মেসির মুখের দিকে ঘুরে গিয়েছিল।

তারপর থেকে সম্পর্কটি ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তুর্কি আল-শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি সৌদি জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটানো।

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
২০১২ সালে প্রথম সৌদি সফরে যান মেসি

বিশিষ্ট সৌদি রাজনীতিক ও স্প্যানিশ লা লিগা ফুটবল ক্লাব আলমেরিয়ার মালিক আল-শেখকে ২০২০ সালের মে মাসে অনলাইনে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মেসি।

উপলক্ষটি ছিল সৌদি ফুটবল ক্লাব আল-নাসর এফসির সাবেক সভাপতি সৌদ আল-সুওয়াইলেমের বিপক্ষে একটি চ্যারিটি প্লেস্টেশন ফুটবল ম্যাচে আল-শেখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সৌদি আরবের অভাবী মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। সেখানে মেসি ছাড়াও ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সাবেক ব্রাজিল তারকা কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং রোনালদিনহো, ইতালীয় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চিও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। চার্লি শিনের মতো বিখ্যাত অভিনেতা এবং র‌্যাপার স্নুপ ডগও বার্তা দিয়েছিলেন।

ওপরের ভিডিওতে টেলিভিশন উল্টে ফেলার দৃশ্য দেখলে আল-শেখ একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুর মতো আচরণ করছেন বলে ভ্রম হতে পারে। তবে সৌদি আরবের অনেক পর্যবেক্ষকের মতে তিনি দেশটির অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব।

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদনে খাশোগজি হত্যার অভিযোগ রয়েছে

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী খাশোগজিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে ওই হত্যায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন ছিল।

খাশোগজির মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি সাক্ষাৎকার পরে নিউজউইকে প্রকাশ হয়। সেখানে খাশোগজি বলেন, ‘তুর্কি আল-শেখ এবং সৌদ আল-কাহতানি ছাড়া মোহাম্মদ বিন সালমানের আর কোনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা গুণ্ডা প্রকৃতির। মানুষ তাদের ভয় পায়। তুর্কি আল-শেখ খেলাধুলার দায়িত্বে আছেন। গুজব রয়েছে খেলাধুলার পেছনে ব্যয় এবং তরুণদের এতে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য মিডিয়া অপারেশন এবং প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন সৌদ আল-কাহতানি। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে খাশোগজি হত্যার চক্রান্তে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সৌদি আদালত ২০১৯ সালে তাকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
লিওনেল মেসি

আল-শেখ ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে ধীরে ধীরে তার প্রচণ্ড বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সৌদি স্পোর্টস কমিশন চালানোর দায়িত্ব।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার ক্ষমতা সংহত করতে সৌদি আরবের শত শত ধনী ব্যবসায়ীকে রিটজ-কার্লটন হোটেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিলেন। ওই সময়ে আল-শেখ অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করেন। পরে ঘটনাটিকে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়।

সৌদি স্পোর্টস কমিশন পরিচালনার সময় আল-শেখ ক্রীড়ায় অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি ২০১৯ সালে সৌদিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আয়োজন করেন।

ওই ম্যাচের আগে তার ফুটবল ক্লাব আলমেরিয়া ভেন্যুর টানেলে মেসি ও আল-শেখের আলিঙ্গনের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘দুই সিংহ’।

মেসিও প্রকাশ্যে ৪০তম জন্মদিনে আল-শেখকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াদে তার বাড়িতে ঘুরতে যান।

জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আল-শেখ ২০২২ সালের রিয়াদ সিজনের (একটি বিনোদন উৎসব) বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে মেসির ছবি ব্যবহার করেন। এসব বিলবোর্ড লন্ডন, দুবাই ও নিউকাসলে স্থাপন করা হয়।

পিএসজির জার্সি পরে রিয়াদ সিজনের প্রচার চালানোর একটি ভিডিওতেও দেখা যায় মেসিকে।

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি
মোহাম্মদ বিন সালমান

এটি বিশেষ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পিএসজির সঙ্গে যুক্ত দেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আল-শেখ কাতারের উপর সৌদি অবরোধের কেন্দ্রীয় শক্তির অংশ ছিলেন। এমনকি টুইটারে তিনি বলেছিলেন, কাতার নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া উচিত।

অবশ্য পিএসজির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেসির অন্য কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করায় বাধা নেই। পাশাপাশি গত বছর থেকে সৌদি ও কাতারের সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিন রোববার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দুই পাশে বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে বসতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে অটোয়ার বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ২০১৮ সালে কানাডার রাষ্ট্রদূত হোরাক সৌদি আরব থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি তার মূল্যায়নে সৌদির নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন।

হোরাক বলেন, বিন সালমান সৌদির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা রাজনীতিকদের মনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন। তবে খাশোগজির হত্যা, নারী অধিকার কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গীকে তার শাসনের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়।

আল-শেখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রভাবের কথা শুনেছি। তাকে নিশ্চিতভাবে রাজকীয় ব্যবস্থায় মোহাম্মদ বিন সালমানের অতি ঘনিষ্ঠদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘তিনি (আল-শেখ) অবশ্যই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এবং মেসিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিন সালমান অবশ্যই পছন্দ করবেন। তার (মোহাম্মদ বিন সালমান) চোখে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান উপলব্ধির আরেকটি সুযোগ ঘটাবে এই বিষয়টি। তিনি বুঝবেন সৌদি বিচ্ছিন্ন কোনো মরুরাজ্য নয়।

‘আন্তর্জাতিকভাবে মেসির যে প্রোফাইল রয়েছে, সেটি সৌদিকে স্বাভাবিকতার একটি বৃহত্তর অনুভূতি দেবে। তাই আমি মনে করি এ বিষয়টি ২০৩০ সালে তাদের বিশ্বকাপ বিডের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।’

হোরাক বলেন, ‘খাশোগজি হত্যার কারণে মোহাম্মদ বিন সালমান ব্র্যান্ডটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের ব্র্যান্ডও কলঙ্কিত হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের সেলিব্রিটিদের কাছে যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি করা যাবে এবং সে অনুযায়ী সৌদি আরবের ব্র্যান্ডটিকে আবারও ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব হবে।’

সৌদি কারাগারে বন্দি দুই স্বজনের ভাই খালিদ আল-জাবরি বলেন, ‘মেসির মতো খেলোয়াড়দের একটি দলের অংশ হিসেবে সৌদিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কারণ দেশের শাসকদের নৃশংসতার কারণ দেখিয়ে সৌদি ভক্তদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমার সমস্যা হলো মেসি নিজেকে সৌদি স্পোর্টস ওয়াশিংয়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

‘তিনি নিজেকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

...

বারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি ম্যাচের আগে সোমবার সন্ধ্যায় দোহায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেসি। মাঠে যে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ দেশটি ছিল তারা, যারা তাদের প্রচারে ব্যবহার করছে মেসির ছবি।

কাতারের টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে সৌদি আরবে মেসির সফর নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন।

সেই সংবাদ সম্মেলনে মেসির আগমনকে ওহ, আহা ধ্বনি এবং ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বাগত জানানো হয়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজন করতালি দিচ্ছিলেন।

ব্যস্ত ওই মিডিয়া সেশনে দ্য অ্যাথলেটিক কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পায়নি। মেসি এক ডজনেরও বেশি প্রশ্ন নিয়েছিলেন, তবে তার একটিও সৌদি আরবকে নিয়ে প্রচার চালানো বিষয়ক চুক্তি সংক্রান্ত ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকান বা আরব মিডিয়া থেকে এসব প্রশ্ন করা হয়েছিল।

চলমান বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রোববার সন্ধ্যায় ইনফান্তিনোর পাশে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বসার দৃশ্য সৌদির সামনে আরও একবার আশা জাগিয়ে তুলেছে। এই জুটিকে গত সপ্তাহে জি টোয়েন্টি সম্মেলনে বালিতেও একসঙ্গে দেখা গেছে। এর আগেও তারা একসঙ্গে বক্সিং ম্যাচ দেখেছেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মিশর ও গ্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে সৌদি আরবের বিডকে ফিফা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে বলে রিয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। সৌদিরা ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক দেশ হতেও একটি বিড জমা দিয়েছে, এটিও ভিশন ২০৩০ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ।

বিশিষ্ট আর্জেন্টাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথোপকথনে মেসিকে ঘিরে সমালোচনায় অস্বস্তি মৃদু আকারে হলেও বোঝা যায়।

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে আর্জেন্টিনার আগ্রহের বিপরীতে প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে মেসি সাহায্য করছেন, এটি অদ্ভুত লাগছে কিনা- এমন প্রশ্নে তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এটা ঠিক, তবে… আপনি জানেন না শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে।

‘আপনি নিজ দেশে বিশ্বকাপ দেখতে চান, তবে এ জন্য অনেক কিছু করতে হবে। কারণ, বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া সহজ নয়। টুর্নামেন্টের আয়োজক নির্বাচনের সময় কী ঘটছে আমরা দেখতে পাব। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা আবারও আমাদের দেশে এই আয়োজন দেখতে চাই।’

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন বলেন, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে মেসির এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। তিনি একটি সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছেন। মেসি নিজেই একটি ব্র্যান্ড এবং এটি খুব শক্তিশালী।

‘তিনি সমস্ত ফুটবলের জন্য একটি ব্র্যান্ড, কোনো দেশের নয়। তিনি ২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিডের একটি মৌলিক অংশ হিসেবে থাকবেন।’

তবে একই সঙ্গে মেসিকে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষার একটি মৌলিক অংশ হতেও দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বড় জয়ের দিনেও দুঃসংবাদ পেল ফ্রান্স
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়, সিজদায় সৌদি যুবরাজ
‘আর্জেন্টিনার গোল খাওয়া দেখে নয়, কাকনের মৃত্যু পুরোনো অসুস্থতায়’
আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা রিস্ক: মাশরাফি
ওচোয়ার দক্ষতায় পোল্যান্ডের বিপক্ষে হার এড়াল মেক্সিকো

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
Hazard retires after Belgium disappointment

বেলজিয়ামের হতাশার পর অবসরে অ্যাজার্ড

বেলজিয়ামের হতাশার পর অবসরে অ্যাজার্ড বেলজিয়ামের জার্সিতে ইডেন অ্যাজার্ড। ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপের পর ইউরো বাছাইপর্ব ও নেশনস লিগে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকেলে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন ৩১ বছরের এই তারকা।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে হতাশাজনক বিদায় নিয়েছে বেলজিয়াম। অনেকের চোখে টুর্নামেন্টের ফেভারিট দলটি মাত্র ১ ম্যাচ জয় পেয়েছে।

বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের কেভিন ডি ব্রুইনা, ইডেন অ্যাজার্ড, থিবো কোতোয়া ও ড্রিস মের্টেনসরা আরও একটি বড় টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন সাফল্য ছাড়া।

এ হতাশা থেকেই কি না, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পাঁচ দিন পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের ফরোয়ার্ড ইডেন অ্যাজার্ড।

বিশ্বকাপের পর ইউরো বাছাইপর্ব ও নেশনস লিগে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকেলে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন ৩১ বছরের এই তারকা।

বেলজিয়ামের হয়ে খেলার জন্য নতুনরা তৈরি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘সবাইকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। ২০০৮ সাল থেকে যে আনন্দগুলো আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি তার জন্য কৃতজ্ঞতা। আজ আমি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরের প্রজন্ম তৈরি। সবাইকে খুব মিস করব।’

এতে করে শেষ হলো তার ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০০৮ সালে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ১৭ বছর বয়সে বেলজিয়ামের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় অ্যাজার্ডের।

১৪ বছরে ১২৬টি ম্যাচে অ্যাজার্ডের কাছ থেকে বেলজিয়াম পেয়েছে ৩৩টি গোল ও ৩৬টি অ্যাসিস্ট। জাতীয় দলের হয়ে ৩টি বিশ্বকাপ ও দুটি ইউরো খেলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রামোসের হ্যাটট্রিকে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে শেষ আটে পর্তুগাল
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক রামোসের

মন্তব্য

খেলা
Ronaldo did not participate in the teams celebration

দলের উদযাপনে অংশ নেননি রোনালডো

দলের উদযাপনে অংশ নেননি রোনালডো ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমে ফিরছেন রোনালডো। ছবি: এএফপি
ম্যাচ শেষে দল যখন উদযাপনে ব্যস্ত তখন রোনালডোকে দেখা গেছে দলছুট হয়ে একাকী মাঠ ছাড়তে। দলের সঙ্গে উদযাপন না করেই ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়েন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাতার বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অধিনায়ক ও সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোকে ছাড়াই একাদশ সাজিয়েছিলেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। ধীরগতি ও একমাত্রিক খেলার পাশাপাশি কোচের সঙ্গে বিবাদে জায়গা হারিয়ে ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত ডাগআউটে কাটিয়ে দেয়া লাগে রোনালডোকে।

যদিও তারকা এই ফুটবলারের অভাবটা কাউকে বুঝতেই দেননি জোয়াও ফেলিশ-বার্নার্ডো সিলভা-গনসালো রামোসরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিয়ে বড় জয়টা তারা নিশ্চিত করে ফেলেন ৬৭ মিনিটের ভেতরেই।

রোনালডো যখন মাঠে নামেন ততক্ষণে সুইজারল্যান্ডের জালে ৫টি গোল ঠুকে দিয়েছিলেন পর্তুগিজরা। বিনিময়ে হজম করতে হয়েছিল কেবল এক গোল।

দলের উদযাপনে অংশ নেননি রোনালডো


শেষ পর্যন্ত হেসেখেলেই সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ ব্যবধানে হারানোর মধ্য দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয় পর্তুগিজদের।

বড় ব্যবধানে অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়। আর সে কারণেই চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী ম্যাচের পর মাঠে উল্লাস করে ভক্তদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ফুটবলাররা।

আর স্বভাবতই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে জয়ের নায়ক, তারকা ফুটবলার ও অধিনায়ক।

ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পর্তুগিজ দলপতি রোনালডো। ম্যাচ শেষে দল যখন উদযাপনে ব্যস্ত তখন তাকে দেখা গেল দলছুট হয়ে একাকী মাঠ ছাড়তে। দলের সঙ্গে উদযাপন না করেই ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়েন তিনি।

দলের উদযাপনে অংশ নেননি রোনালডো

ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান উপস্থাপক আদ্রিয়ানো ডেল মন্টি মাঠের একটি ভিডিও পোস্ট করেন যেখানে স্পষ্ট দেখা যায় এ দৃশ্য।

কেন তিনি ছিলেন না দলীয় উদযাপনে সেটি জানা যায়নি এখনও রোনালডো কিংবা দলীয় কোনো সূত্র থেকে। ধারণা করা হচ্ছে দলের ভেতর চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই নিজ থেকেই ধীরে ধীরে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মেসিকে আটকানোর ফর্মুলা জানেন নেদারল্যান্ডসের কোচ
হাজার পেনাল্টি অনুশীলনেও ব্যর্থ স্পেন
কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার প্রতিপক্ষ

মন্তব্য

খেলা
Von Haal knows the formula to stop Messi

মেসিকে আটকানোর ফর্মুলা জানেন নেদারল্যান্ডসের কোচ

মেসিকে আটকানোর ফর্মুলা জানেন নেদারল্যান্ডসের কোচ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অনুশীলনে মেসি। ছবি: এএফপি
ডাচদের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেড কোচ লুই ফন হাল। তার দাবি মেসিকে আটকানোর উপায় জানেন তিনি। 

নিজের শেষ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। প্রতি ম্যাচেই নিজে গোল করার পাশাপাশি অবদান রাখছেন গোল করানোতেও। কাতার বিশ্বকাপের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের অন্য নাম হয়ে দাঁড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন এই ক্ষুদে জাদুকর।

মেসিকে নিয়ে প্রতি ম্যাচের আগেই বিশেষ পরিকল্পনা এঁটে মাঠে নামে প্রতিপক্ষও। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসও এর ব্যতিক্রম নয়। ডাচদের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেড কোচ লুই ফন হাল। তার দাবি মেসিকে আটকানোর উপায় জানেন তিনি।

হাল বলেন, ‘এটাতে কোনো সন্দেহ নেই যে মেসি ভয়ংকর সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়। সে অনেক সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে, নিজেও সুযোগ বানিয়ে নিয়ে গোল করতে পারে। কিন্তু যখন তিনি বল হারিয়ে ফেলেন, তখন তার অংশগ্রহণ কমে যায়। আর এটাই আমাদের জন্য বড় সুযোগ।’

শেষবার দুই দলের দেখাতেও ফন হাল নেদারল্যান্ডসের কোচ ছিলেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ডাচদের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। সেবার মেসিকে আটকে রাখলেও পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ফাইনাল খেলা হয়নি নেদারল্যান্ডসের।

এবারে তেমনটা আর হতে দিতে চান না ফন হাল। শুক্রবার রাত ১টায় শেষ চার নিশ্চিতের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস।

আরও পড়ুন:
হাজার পেনাল্টি অনুশীলনেও ব্যর্থ স্পেন
কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার প্রতিপক্ষ
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক রামোসের
স্পেনকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল মরক্কো

মন্তব্য

খেলা
Spain failed in the practice of a thousand penalty shootouts

হাজার পেনাল্টি অনুশীলনেও ব্যর্থ স্পেন

হাজার পেনাল্টি অনুশীলনেও ব্যর্থ স্পেন রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে হারে স্পেন। ছবি: সংগৃহীত
কাতারে চলমান ফিফা বিশ্বকাপের আগে পেনাল্টি নিয়ে জুজু কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে। টানা এক বছর প্রতি অনুশীলন সেশনের পর বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবলারদের পেনাল্টি শুটআউট করিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তাতেও হয়নি কাজের কাজ।

রাশিয়ায় ২০১৮ সালে রাউন্ড অফ সিক্সটিনের ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছিল স্প্যানিশদের। ২০২০ সালে ইউরোর ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে একইভাবে হারে স্পেন। ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসরেও মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে দলটির।

কাতারে চলমান বিশ্বকাপের আগে পেনাল্টি নিয়ে সেই জুজু কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে। টানা এক বছর প্রতি অনুশীলন সেশনের পর বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবলারদের পেনাল্টি শুটআউট করিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তাতেও হয়নি কাজের কাজ।

বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুটআউট প্রসঙ্গে এনরিকে বলেছিলেন, ‘আমরা নিজেদের কাজটা ভালোই করেছি। এক বছর আগে সবাইকে জানিয়েছি, আমাদের অন্তত ১ হাজার পেনাল্টি প্র্যাকটিস করতে হবে।

‘সেটি আমরা পরিকল্পনামাফিক করেছিও। পেনাল্টিতে নার্ভ ধরে রাখা কষ্ট। আমরা প্রত্যেকবার প্র্যাকটিস শেষ করে পেনাল্টির প্র্যাকটিস করেছি।’

কোচের সে প্রচেষ্টার প্রতিফলন মাঠে দেখাতে পারেননি স্পেনের ফুটবলাররা।

মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে টাইব্রেকারে স্পেনের হয়ে প্রথম শটটি বারে মারেন পাবলো সারবিয়া। দ্বিতীয় শট নেন কার্লস সোলার, কিন্তু সেটি ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক।

সার্জিও বুসকেটসের নেয়া তৃতীয় শটটি থেকেও গোলের দেখা না মেলায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্পেনের।

আরও পড়ুন:
মেসিকে আটকানোর ফর্মুলা জানেন নেদারল্যান্ডসের কোচ
কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার প্রতিপক্ষ

মন্তব্য

খেলা
Who is the opponent in the quarter finals?

কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার প্রতিপক্ষ

কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার প্রতিপক্ষ স্পেনের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৩টি শট ঠেকিয়ে দলকে জেতানো গোলকিপার ইয়াসিন বুনোকে নিয়ে মরক্কোর খেলোয়াড়দের উদযাপন। ছবি: ফিফা
৩২ দল থেকে টুর্নামেন্টে টিকে রয়েছে মাত্র ৮ দল। শুক্রবার শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো। রাউন্ড অফ সিক্সটিনের মতো এ রাউন্ডের প্রতিদিন থাকছে দুটো করে ম্যাচ।

কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হয়ে শেষ ষোলোর লড়াই। ৩২ দল থেকে টুর্নামেন্টে টিকে রয়েছে মাত্র ৮ দল।

শুক্রবার শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো। রাউন্ড অফ সিক্সটিনের মতো এ রাউন্ডেও প্রতিদিন থাকছে দুটো করে ম্যাচ।

প্রথম দিনই নামছে টুর্নামেন্টের ফেভারিট ব্রাজিল। রাত ৯টায় তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।

ওইদিন রাত ১টায় মাঠে নামছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তারা লড়বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

শনিবারের প্রথম ম্যাচে লড়বে স্পেনকে বিদায় করে দেয়া মরক্কো ও ও সুইসদের গুডবাই জানানো পর্তুগাল।

ওইদিন রাত ১টায় হতে যাচ্ছে সম্ভবত এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ব্লকবাস্টার ম্যাচ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স মোকাবিলা করবে উড়ন্ত ইংল্যান্ডকে।

কোয়ার্টার ফাইনালের পর রবি ও সোমবার কোনো খেলা নেই। মঙ্গলবার প্রথম ও বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল।

১৭ ডিসেম্বর শনিবার হবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারনী ম্যাচ আর পরদিন হবে শিরোপা লড়াইয়ের ফাইনাল।


কোয়ার্টার ফাইনাল লাইন আপ

ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া: শুক্রবার রাত ৯টা

আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস: শুক্রবার রাত ১টা

মরক্কো-পর্তুগাল: শনিবার রাত ৯টা

ফ্রান্স-ইংল্যান্ড: শনিবার রাত ১টা

আরও পড়ুন:
রামোসের হ্যাটট্রিকে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে শেষ আটে পর্তুগাল
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক রামোসের
স্পেনকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল মরক্কো

মন্তব্য

খেলা
Portugal in the last eight after beating Switzerland with Ramos hat trick

রামোসের হ্যাটট্রিকে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে শেষ আটে পর্তুগাল

রামোসের হ্যাটট্রিকে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে শেষ আটে পর্তুগাল ম্যাচ জয়ের পর গনসালো রামোসের উচ্ছ্বাস। ছবি: ফিফা
৬-১ গোলের জয়ে পর্তুগালের পক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন গনসালো রামোস। একটি করে গোল এসেছে পেপে, রাফায়েল গুয়েরেরো ও রাফায়েল লিয়াওয়ের কাছ থেকে। সুইজারল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মানুয়েল আকাঞ্জি।

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ আটে শেষ দল হিসেবে যোগ দিয়েছে পর্তুগাল। সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে তারা। পর্তুগালের পক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন গনসালো রামোস। একটি করে গোল এসেছে পেপে, রাফায়েল গুয়েরেরো ও রাফায়েল লিয়াওয়ের কাছ থেকে। সুইজারল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মানুয়েল আকাঞ্জি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে তারা স্কোর করে আরও চার গোল।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অধিনায়ক ও সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোকে ছাড়াই একাদশ সাজান পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। ধীরগতি ও একমাত্রিক খেলার পাশাপাশি কোচের সঙ্গে বিবাদে জায়গা হারান আন্তর্জাতিক ফুটবল রেকর্ড গোল করা রোনালডো।

ম্যাচে অবশ্য রোনালডোর অভাব টের পেতে দেননি জোয়াও ফেলিশ, বার্নার্ডো সিলভারা। রোনালডোকে ফাইনাল থার্ডের বলের জোগান দিতে হবে, এই দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে অনেকটা সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠে পর্তুগালের মাঝমাঠ।

এমনই এক গোছানো আক্রমণ থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান ফেলিশ। তার ক্রসে বক্সে বল রিসিভ করেন রামোস। চমৎকার বডি ডজে মার্কারকে কাটিয়ে শট নিয়ে পরাস্ত করেন সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার ইয়ান সমারকে।

শুধু সৃষ্টিশীলতাতেই নয় ডেড বলেও এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। তেমনই এক পরিস্থিতিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা।

৩৩ মিনিটে ফার্নান্দেসের নেয়া কর্নার কিকে মাথা ছুঁইয়ে আবারও সমারকে ফাঁকি দেন পেপে। ৩৯ বছর ২৮৩ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ নকআউটে সবচেয়ে বয়সী গোলস্কোরার বনে যান অভিজ্ঞ এ ডিফেন্ডার।

সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রি-কিক থেকে। ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া জারদান শাকিরির কিক অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে নির্ভার থাকে পর্তুগাল।

সুইসরা গোলের দেখা না পাওয়ায় ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় পর্তুগাল।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারাল হয়ে ওঠে তারা। ধীরগতির সুইস মিডফিল্ডকে কোনো জায়গা না দিয়ে একের পর এক আক্রমণো রচনা করেন ব্রুনো ফার্নান্দেস-বার্নার্ডো সিলভারা। আর এর সুফল পান রামোস।

৫১ মিনিটে দিয়োগো দালোতের ক্রস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রামোস। আর ম্যাচকে সুইজারল্যান্ডের ধরাছোঁইয়ার বাইরে নিয়ে যান রাফায়েল গুয়েরেরো। তার গোলেই পর্তুগালের পক্ষে স্কোর দাঁড়ায় ৪-০।

এর ৩ মিনিট পর হঠাৎই মানুয়েল আকাঞ্জির গোলে লড়াইয়ে ফেরার আভাস দেয় সুইজারল্যান্ড। ম্যাচে তখনও বাকি ৩০ মিনিটেরও বেশি সময়।

তবে, আশায় পানি ঢেলে দেন রামোস। ৬৭ মিনিটে পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক। এবারও তার বলের জোগানদাতা ছিলেন ফেলিশ।





ওই গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় সুইজারল্যান্ডের বড় হার। আর রামোস ২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম ওঠান রেকর্ডবইয়ে।

৫ গোল খেয়ে হাল ছেড়ে দেয়া সুইজারল্যান্ডকে শেষ ধাক্কা দেন রাফায়েল লিয়াও। ৯২ মিনিটে তার করা গোলেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

রেকর্ড জয়ের উৎসব করার জন্য পর্তুগাল হাতে পাচ্ছে দুই দিন সময়। কারণ শনিবার সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে তাদের নামতে হবে স্পেনকে বিদায় করে দেয়া মরক্কোর বিপক্ষে।

আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধে রোনালডোকে দরকার পড়েনি পর্তুগালের
স্পেনকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল মরক্কো

মন্তব্য

খেলা
Ramos first hat trick of Qatar World Cup

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক রামোসের

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক রামোসের হ্যাটট্রিকের পর রামোসের উচ্ছ্বাস। ছবি: টুইটার
হ্যাটট্রিক এলো এমন একজনের কাছ থেকে যিনি বিশ্ব ফুটবলের বড় কোনো নাম নন। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ গোল করে নিজের নামটা জোরেশোরেই জানান দিলেন গনসালো রামোস।

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকের জন্য অপেক্ষা করতে হলো শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। আর হ্যাটট্রিক এলো এমন একজনের কাছ থেকে যিনি বিশ্ব ফুটবলের বড় কোনো নাম নন। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ গোল করে নিজের নামটা জোরেশোরেই জানান দিলেন গনসালো রামোস।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই বাড়তি চাপ ছিল রামোসের ওপর। কারণ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোকে বেঞ্চে বসিয়ে রামোসের ওপরই গোলস্কোরিংয়ের দায়িত্ব দেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস।

আর গুরু এই দায়িত্ব পেয়ে যেন নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন ২১ বছর বয়সী রামোস। দুই বছর আগে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন পর্তুগালের বিখ্যাত ক্লাব বেনফিকার হয়ে। বিশ্বকাপের দুই মাস আগে সেপ্টেম্বরে প্রথমবার দলে ডাক পান। কিন্তু ইউয়েফা নেশনস লিগে স্পেন ও চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ম্যাচে অভিষেকের সুযোগ পাননি।

পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক হয় বিশ্বকাপের ঠিক আগে। ১৭ নভেম্বর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তার অভিষেক হয়।

আর বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে নেমেই বাজিমাত করলেন। প্রথমার্ধে এক গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করেন এ ফরোয়ার্ড।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭ মিনিটে গোছানো এক দলীয় আক্রমণে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান পর্তুগিজ অ্যাটাকার জোয়াও ফেলিশ। তার ক্রসে বক্সে বল রিসিভ করেন রামোস। চমৎকার বডি ডজে মার্কারকে কাটিয়ে শট নিয়ে পরাস্ত করেন সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার ইয়ান সমারকে।

বিরতির পর ৫১ মিনিটে দিয়োগো দালোতের ক্রস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রামোস। ১৬ মিনিট পর পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

এবারও তার বলের জোগানদাতা ছিলেন ফেলিশ। ওই গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় সুইজারল্যান্ডের বড় হার।

আর রামোস ২০২২ বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম ওঠান রেকর্ডবইয়ে। গত বিশ্বকাপেও প্রথম হ্যাটট্রিক এসেছিল এক পর্তুগিজের পা থেকে।

স্পেনের বিপক্ষে চার বছর আগে গ্রুপ পর্বে হ্যাটট্রিক করেছিলেন, রামোস যার বদলে নেমেছেন সেই রোনালডো।

আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধে রোনালডোকে দরকার পড়েনি পর্তুগালের
স্পেনকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল মরক্কো
কিছু ফুটবলারের চেহারা ঢাকা কেন?

মন্তব্য

p
উপরে