× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
Brazil Argentina historical duel in Bangladesh
google_news print-icon

বাংলাদেশে ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা’ দ্বৈরথ

লিওনেল মেসি ও নেইমার
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় দুই তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র। ফাইল ছবি
চার বছর পরপর ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশিরা কেমন যেন পাল্টে যায়। বলতে গেলে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় জাতি; একদল ব্রাজিল, অন্যদল আর্জেন্টিনা।

যে কোনো ক্রীড়া দলের চেয়ে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের ভক্ত সংখ্যা বেশি এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে। আর বিশ্বকাপ এলে এই ভক্তি পরিণত হয় উন্মাদনায়। কেন হাজার মাইল দূরের দুটো দেশের ফুটবল দল বাংলাদেশে এতো জনপ্রিয় সেটা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। সেটির অবলম্বনে নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো বিশেষ এ প্রতিবেদন।

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানে বাংলাদেশে বাড়তি উত্তেজনা। ঢাকা থেকে ৯ হাজার ৫০৩ মাইল দূরের রিও ডি জেনেইরো ও ১০ হাজার ৪২০ মাইল দূরের বুয়েনোস আইরেসের উন্মাদনা টের পাওয়া যায় দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট এই দেশটিতে।

বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশ ক্রিকেটপাগল হিসেবে পরিচিত। তবে চার বছর পরপর ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশিরা কেমন যেন পাল্টে যায়। বলতে গেলে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় জাতি; একদল ব্রাজিল, অন্যদল আর্জেন্টিনা। জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্সের ভক্তও কিছু আছে। তবে তারা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মতো নয়।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে তীব্র আবেগ নিয়ে সমর্থন করে আসছে বাংলাদেশিরা। বিশ্বকাপের মৌসুমে এক ধরনের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন দুই দলের সমর্থকরা।

বাসার ছাদে তারা পছন্দের পতাকা ওড়ান, পতাকার আদলে বারান্দা সাজান। চায়ের কাপে চলে তুমুল বিতর্ক। এমন দৃশ্য নেইমার বা মেসিদের দেশেও হয়ত খুব একটা দেখা যায় না। মাঝে-মধ্যে দুই দলের সমর্থকদের ইট-পাথর ছুঁড়তেও দেখা যায়। মজার বিষয় হলো, এসব সমর্থকদের বেশিরভাগই ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার কোনো নাগরিককে কখনও সরাসরি দেখেনই নি।

আকিদ কাদের চৌধুরী একজন ব্রাজিলভক্ত। কাজ করেন টেলিকমিউনিকেশনে, থাকেন ঢাকায়। ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, ‘এটা একটা উন্মাদনা। এক কথায় বলতে গেলে এটি এমন একটি বিষয়, যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়।’

আর্জেন্টিনাভক্ত নোফেল ওয়াহিদের কাছে বিশ্বকাপ একটা ‘বিশাল আয়োজন’। ঢাকার বাসিন্দা নোফেল কাজ করেন ফিন্যান্সে।

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ একটি বড় দেশ, ১৭ কোটি মানুষ। আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল ভক্তদের নিয়ে দেশকে প্রায় দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বিষয়টা আসলে বেশ মজার। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এত দূরে এশিয়ার মাঝামাঝি এক দেশে কেন ফুটবল নিয়ে এতো মাতামাতি? এটা ব্যাখ্যা করা আসলে কঠিন।’

বাংলাদেশে আশির দশকের দিকে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয় বলে একমত আকিদ ও ওয়াহিদ দুজনেই। ৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর সাধারণ বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বচ্ছলতা আসতে শুরু করে। রঙিন টেলিভিশন কিনে মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা শুরু করে।

রঙিন পর্দায় ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ জার্সি আর হালকা নীল জার্সিতে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠেন।

ওয়াহিদ বলেন, ‘আমি একেবারেই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।’

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অফ গড’ ও ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে অখ্যায়িত দুইটি গোল করেন। বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি ম্যারাডোনা ওই আসরে করেন ৫ গোল; সতীর্থদের দিয়ে করান আরও ৫ গোল।

পরের আসরে অর্থাৎ ১৯৯০ বিশ্বকাপের আসর বসে ইতালিতে। সে আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে জার্মানি। বাংলাদেশিদের শৈশবের অমোচনীয় স্মৃতিতে পরিণত হয় দিনটি।

ওই আসরের শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা- ব্রাজিল। আকিদ তখন ১০ বছরের শিশু।

তিনি বলেন, ‘সেদিন বাড়িতে চমৎকার খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। বাবার বন্ধু এবং সহকর্মী মিলিয়ে ৫০ জনকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল।

‘হাজার মাইল দূরে থাকার পরও এই দল দুটি আমার পরিবারকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে, সেটা মেনে নেয়া আমার পক্ষে সহজ ছিল না। আমি আনন্দ, হাসি-কান্না দেখতে পাচ্ছিলাম।’

সে ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার অ্যাসিস্ট থেকে ৮২ মিনিটে গোল করেন ক্লদিও কানিজ্জিয়া।

ম্যাচের পর আকিদের ব্রাজিলভক্ত বাবা মাহবুব তার বন্ধুদের বলেছিলেন, ‘আমরা ভাল খেলেছি... তবে জিতেছেন আপনারা।’

আকিদ বলেন, ‘৩২ বছর আগের দিনটির কথা আমার মনে থাকার কথা না। তারপরও দিনটি আমার স্মৃতিতে গেঁথে আছে। কারণ ১০ বছরের এক শিশু সেদিন তার আত্মীয়দের প্রিয় দলের জন্য বারবার লাফিয়ে উঠতে দেখছিল। এটা কি ভোলা যায়।’

বাংলাদেশে ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা’ দ্বৈরথ
বিশ্বকাপ ঘিরে ঢাকার একটি রাস্তার পাশের দোকান থেকে এক খুদে ভক্ত আর্জেন্টিনার জার্সি কিনছে।

ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি নিয়ে অনেক বিতর্কও আছে। ম্যাচটি ৬ বছরের এক শিশুর (ওয়াহিদ) মনেও ভীষণ দাগ কাটে।

ওয়াহিদ বলেন, “দিনটার কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে। পেনাল্টি স্পষ্টতই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গিয়েছিল। ম্যারাডোনা যখন হেরে যাওয়া অধিনায়ক হিসেবে পদক নিতে মঞ্চে ওঠেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। দৃশ্যটা দেখেছিলাম, তখন আমার চোখ দিয়েও পানি পড়ছিল। মা তখন আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, আর্জেন্টিনা আবার জিতবে’।”

সে দিনটির কথা স্মরণ করে হেসে ওয়াহিদ বলেন, ‘তখন থেকেই অপেক্ষায় আছি।’

একটা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরের তিন বছর সবকিছু যেন সবাই ভুলে যায়। ওয়াহিদ বলেন, ‘আমার মা আর্জেন্টিনার পাঁড় ভক্ত। তবে ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার যে দলটি ঢাকা সফরে এসেছিল, সে দলের মেসি ছাড়া আর কাউকে তিনি চিনতেন না।

‘আমার মনে হয় না ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচটি নিয়ে বেশিরভাগ বাংলাদেশি খুব বেশি জানত। তারপরও আমাদের মধ্যে উন্মাদনার কমতি ছিল না।’

সংঘর্ষের আশঙ্কায় সেবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বড় পর্দায় সে ম্যাচটি দেখানো হয়নি। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের সময় বরিশালের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলা নিয়ে হাতাহাতিতে ১১ জন আহত হয়েছিলেন। ডাইনিং হলে বসে থাকা এক ব্রাজিল ভক্ত ‘হ্যান্ড অফ গড’-কে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন। তা নিয়েই বিপত্তি।

২০১৮ বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম scroll.in- বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের ইঙ্গিত করে একটি খবর ছাপে, যেটির শিরোনাম ছিল- ‘অস্ত্রে শান দেয়া হচ্ছে’।

চলতি বছরের জুনে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে ঢাকার বাইরে সংঘর্ষের খবর প্রকাশ করে ফরাসি বার্তা সংস্থা- এএফপি। এতে অন্তত ৭ জন আহত হন।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে যে বাংলাদেশে সবসময় ঝগড়া-বিবাদ হয়, তা কিন্তু না। প্রিয় দলের খেলা নিয়ে অনেক মজাও হয়।

আকিদ বলেন, ‘২০১৮ বিশ্বকাপের সময় আমি ও কয়েকজন সহকর্মী ব্রাজিলের জার্সি পরে অফিসে গিয়েছি। অফিসের দেয়ালে ব্রাজিলের পতাকা লাগিয়েছি। এক-দুইজন আর্জেন্টিনা সমর্থককে ধরে ছবিও তুলেছি।

‘এই ট্রেন্ডটা শুরু হয় ২০১৪ বিশ্বকাপে। সেবার সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকরা এটা শুরু করেছিলেন। তারা আমাদের সামনে সেভেন আপ কিনে খেত। যা পরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।’

ওয়াহিদ জানান, ‘আমিও এমনটা করেছি।’

বাংলাদেশে ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা’ দ্বৈরথ

বাংলাদেশি এক চিত্রশিল্পী ঢাকার একটি রাস্তায় ম্যুরাল তৈরি করছেন।

এবারের আয়োজক কাতার। বিশ্বকাপ ঘিরে সেই চিরচেনা উন্মাদনাও শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশে। প্রিয় দলের জার্সি বেচা-কেনা হচ্ছে দেদার। অনেকেই নিজেদের বাড়িকে পছন্দের দলের পতাকার আদলে রাঙিয়ে নিচ্ছেন। রাস্তা-ঘাট, যানবাহনেও পড়েছে এসবের প্রভাব। যে কোনো স্টলে বসে চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে হঠাৎ শুনতে পাবেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে ভক্তদের তুমুল আড্ডা।

নতুন প্রজন্মরা অবশ্য এই দুই দল থেকে বেরিয়ে আসছে।

আকিদ বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী ব্রাজিলের পক্ষে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি আর্জেন্টিনার সমর্থক। এসবের মধ্যে আমার ১০ বছরের ছেলে বেলজিয়াম বেছে নিয়েছে।

ওয়াহিদ বলেন, ‘আমার এক কাজিন জার্মানির ভক্ত। জার্মানির ভক্ত হয়ে কী মজা পাবে?’

আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধে ইরানের বিপক্ষে দাপুটে ইংল্যান্ড
আর্জেন্টিনাপ্রীতি ফুটে উঠল অটোরিকশায়
আমি বুলেটপ্রুফ: রোনালডো

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
News of Mbappes salary and bonus being withheld

এমবাপ্পের বেতন-বোনাস আটকে দেয়ার খবর

এমবাপ্পের বেতন-বোনাস আটকে দেয়ার খবর
ফরাসি দৈনিক লে’কিপের খবর, এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হয়নি এমবাপ্পেকে। সেইসঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে যে (চুক্তি সম্পন্ন করার) আনুগত্য বোনাস পাওয়ার কথা ছিল তার, সেটিও পাননি। ফলে আইনজীবীর শরণাপন্ন হয়েছেন আধুনিক ফরাসি ফুটবলের এই ‘পোস্টার বয়’।

‘কিলিয়ান কখনও ফ্রিতে পিএসজি ছাড়বে না’- নাসের আল খেলাইফির এমন ঘোষণার পর রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা শুধু নয়, খোদ এমবাপ্পেও অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিলেন। এরপর মৌসুমের পর মৌসুম গিয়েছে, নিজের কথা রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছেন খেলাইফি। তবে শেষপর্যন্ত এমবাপ্পেকে আটকাতে না পেরে তার বেতন-বোনাস আটকে দিলেন?

অন্তত ফরাসি দৈনিক লে’কিপের খবরে তাই বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়া হয়নি এমবাপ্পেকে। সেইসঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে যে (চুক্তি সম্পন্ন করার) আনুগত্য বোনাস পাওয়ার কথা ছিল তার, সেটিও পাননি। ফলে আইনজীবীর শরণাপন্ন হয়েছেন আধুনিক ফরাসি ফুটবলের এই ‘পোস্টার বয়’।

বেতন ও বোনাস মিলিয়ে এমবাপ্পে পিএসজির কাছে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরো পাবেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ খবর সত্যি হলে ৭ বছর ধরে পিএসজির জার্সি গায়ে ক্লাবটিকে অসংখ্য শিরোপা জেতানো এমবাপ্পের প্যারিস থেকে সুখের বিদায় নেওয়া হচ্ছে না।

মেসি-রোনালদো-পরবর্তী যুগের মহাতারকা হতে চলা এমবাপ্পেকে নিয়ে কম টানাহেঁচড়া করেনি পিএসজি। ক্লাবটির গোয়ার্তুমির জন্য কয়েক বছর ধরে ভুগতে হচ্ছে তাকে। স্বপ্নের ক্লাব রিয়ালে যোগ দিতে চাইলেও বারবার আটকে দেওয়া হয়েছে তার পথ। পিএসজিতে ধরে রাখতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, কাতারের আমিরের মতো উচ্চ পর্যায়ের মানুষেরাও হস্তক্ষেপ করেছেন বলে গুঞ্জন শোনা গেছে।

তবে চলতি মৌসুমে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর তা নতুন করে বাড়াতে চাননি।

গত ১০ মে এক্স-এ একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ভক্তদের জানিয়ে দেন, চলতি মৌসুম শেষেই পিএসজির সঙ্গে শেষ হচ্ছে তার পথচলা।

ফুটবলবিশ্বে গুঞ্জন রটেছে, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তির সব বিষয় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি। আগামী ৫ মৌসুমের জন্য ফুটবলের রাজকীয় সাদা জার্সি গায়ে জড়াতে চলেছেন এমবাপ্পে।

এমনকি তিনি মাদ্রিদে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডে একটি বাড়িও কিনেছেন বলে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাকে মাদ্রিদের সংস্কৃতি ও স্প্যানিশ ভাষা শেখার ব্যাপারে তাকে সাহায্য করছেন সেভিয়ায় ক্যারিয়ারের শেষসময় কাটানো রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি সের্হিয়ো রামোস।

সবকিছু যখন অনুমিতভাবেই চলছে, তখন ফের বাগড়া দিয়েছেন পিএসজি প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফি।

পিএসজির জার্সিতে ৭ মৌসুমে ছয়টি লিগ আঁ শিরোপা, তিনটি ফরাসি কাপসহ আরও অনেক ট্রফি জিতেছেন তিনি। তবে পিএসজির মতো এমবাপ্পের কাছেও অধরা থেকে গেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিটি।

সবশেষ চলতি মৌসুমেও সেমিফাইনালে ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় পিএসজির।

প্যারিসের এ ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩০৮ ম্যাচে ২৫৬ গোল করেছেন এমবাপ্পে। ১০৮টি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার নামের পাশে।

বিদায়ী মৌসুমে পিএসজির জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ৪৪টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। জিতেছেন গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডের ইউরোপীয় সংস্করণে ইউরোপের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

আরও পড়ুন:
হেরে পিএসজির সঙ্গে পথচলা শেষ হলো এমবাপ্পের
পিএসজি ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন এমবাপ্পে

মন্তব্য

খেলা
Xavi sacked by Barcelona coming to Flick

শাভিকে বরখাস্ত করেছে বার্সেলোনা, আসছেন ফ্লিক

শাভিকে বরখাস্ত করেছে বার্সেলোনা, আসছেন ফ্লিক শাভি এর্নান্দেস (বাঁয়ে) ও হান্সি ফ্লিক। কোলাজ: নিউজবাংলা
নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বার্সেলোনার বর্তমান আর্থিক চিত্র তুলে ধরেন শাভি। এতেই নাখোশ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হচ্ছে বলে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর বেরোয়।

গুঞ্জন সত্যি করে অবশেষে শাভি এর্নান্দেসকে বরখাস্ত করল বার্সেলোনা। ফলে আগামী মৌসুমে বার্সেলোনার ডাগআউটে আর দেখা যাবে না ক্লাবটির সাবেক এই অধিনায়ককে।

শুক্রবার শাভিকে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি অফিশিয়াল বিবৃতি দিয়েছে বার্সেলোনা।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘শুক্রবার বার্সা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা কোচ শাভি এর্নান্দেসকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আগামী মৌসুম (২০২৪-২৫) থেকে আর বার্সেলোনার কোচ থাকছেন না।

‘কোচ হিসেবে শাভিকে তার কাজের জন্য, সেইসঙ্গে সাবেক খেলোয়াড় ও দলের অধিনায়ক হিসেবে অনবদ্য ক্যারিয়ারের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তার ভবিষ্যতের সাফল্য কামনা করে বার্সেলোনা।’

ফলে আগামী রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সার ম্যাচটিই হবে শাভির (বার্সা কোচ হিসেবে) শেষ ম্যাচ।

গত জানুয়ারিতে চলতি মৌসুম শেষে বার্সেলোনার দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন শাভি। তবে পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আরও এক মৌসুমের জন্য দায়িত্ব পালনে রাজি করান বার্সা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। সেই শাভিকেে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই বরখাস্ত করা হলো।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ এপ্রিল আরও এক মৌসুম বার্সেলোনায় শাভির থেকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনা মোড় নেয় আলমেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে গত ১৫ মে সংবাদ সম্মেলনের পর।

সেদিন নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বার্সেলোনার বর্তমান আর্থিক চিত্র তুলে ধরেন শাভি।

শাভি বলেন, ‘(ক্লাবের নিবন্ধিত) সদস্যদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, আমরা এমন একটি আর্থিক পরিস্থিতিতে রয়েছি যা ২৫ বছর আগের চেয়ে একেবারেই আলাদা। অন্যান্য ক্লাবের মতো (আর্থিক) অবস্থায় আমরা বর্তমানে নেই। এটা আমি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি আর এর সঙ্গেই আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।

‘আমরা অবশ্যই শিরোপার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই, কিন্তু বার্সায় স্থিতিশীলতা আনতে সময় প্রয়োজন।’

ক্লাবের আর্থিক দুরাবস্থার কথা প্রকাশ্যে খোলাখুলি বলায় শাভির ওপর চটে যায় বার্সেলোনার পরিচালনা পর্ষদের একাংশ। খবর অনুযায়ী, নতুন চুক্তি আলোচনার সময় শাভি পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান খেলোয়াড়দের নিয়েই আগামী মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় শিরোপা অর্জনের মিশনে নামবেন- এমন সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিপরীতে কথা বলায় পরিচালকরা ক্ষেপেন।

এরপর গত কয়েকদিন ধরে পরবর্তী বার্সেলোনা কোচ হিসেবে হান্সি ফ্লিককে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হতে চলেছে।

ট্রান্সফার গুরু ফাব্রিৎসিও রোমানো এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, শাভির সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির জাতীয় দলের সাবেক কোচ হান্স ডিটার (হান্সি) ফ্লিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে চলেছে বার্সেলোনা।

ইতোমধ্যে ফ্লিকের সঙ্গে নাকি মৌখিক চুক্তিও সেরে ফেলেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার ফ্লিকের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করতে লন্ডনে যান ক্লাব কর্তারা। সেখানে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে বলে জানান বার্সেলোনা বিষয়ক স্প্যানিশ সাংবাদিক জেরার্দ রোমেরো।

ফাব্রিৎসিও রোমানো জানিয়েছেন, (বার্সেলোনার কোচ হওয়ার) ফ্লিকের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। বেশ কয়েক মাস থেকে তিনি ক্লাবটির কোচ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।

এদিকে মুন্দো দেপর্তিভোর বার্সেলোনা বিষয়ক সাংবাদিক ফের্নান্দো পলো জানিয়েছেন, সোমবার ফ্লিককে বার্সেলোনার নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হবে।

তিনি জানিয়েছেন, ফ্লিকের সঙ্গে ১ বছরের চুক্তি করতে চলেছে বার্সেলোনা। তবে চাইলে আরও এক বছর কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন তিনি।

উল্লেখ্য, ফ্লিকের তত্ত্বাবধায়নে ২০১৯-২০ মৌসুমে ট্রেবল জেতে বায়ার্ন মিউনিখ। সেবার জার্মানির বর্ষসেরা কোচও হন তিনি। এরপর সেভিয়ার বিপক্ষে উয়েফা সুপার কাপ ও পরবর্তীতে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে বায়ার্নকে প্রথমবারের মতো সেক্সট্রাপল জেতান তিনি।

দুই মৌসুম বায়ার্নের দায়িত্বে থাকাকালে ক্লাবটিকে ৭টি শিরোপা (দুটি বুন্দেসলিগা, একটি করে ডিএফবি পোকাল, সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ) জেতান তিনি। ফ্লিকের আমলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ৭ ম্যাচে হার দেখে বায়ার্ন মিউনিখ।

২০১৯-২০ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম কোনো দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বায়ার্ন মিউনিখ। এমন কীর্তির কারণে ২০২০ সালে ইউরোপের সেরা কোচ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ফ্লিক।

এরপর ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে বায়ার্ন ছাড়ার ঘোষণা দেন ফ্লিক। ইওয়াখিম লোভ জার্মানির জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে অবসরে গেলে লোভের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই জার্মানি বিদায় নিলে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জার্মানির জাতীয় দল থেকে বরখাস্ত হন তিনি। তারপর থেকে বেকার বসে আছেন ৫৯ বছর বয়সী এই জার্মান।

আরও পড়ুন:
নিলামে বিক্রি হলো মেসি-বার্সা চুক্তির সেই বিখ্যাত টিস্যু
দেশে ফের শুরু হচ্ছে বার্সা অ্যাকাডেমির ট্রেনিং ক্যাম্প
বার্সাকে ফাঁকি দিয়ে রিয়ালে ‘তুরস্কের মেসি’
মেসিকে দলে টানতে না পারলেও অন্য খেলোয়াড় কীভাবে কিনছে বার্সা

মন্তব্য

খেলা
Pink card is introduced in Copa

কোপায় চালু হচ্ছে ‘গোলাপি কার্ড’

কোপায় চালু হচ্ছে ‘গোলাপি কার্ড’ কোপা আমেরিকার পরও গোলাপি কার্ডের নিয়ম চালু রাখবে কনমেবল। ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড খেলোয়াড়দের সতর্ক করা ও শাস্তি দিতে ব্যবহার করা হলেও গোলাপি বা পিংক কার্ড ব্যবহার করা হবে খেলোয়াড়দের বাঁচাতে।

হলুদ ও লাল কার্ড ফুটবলে আগে থেকেই প্রচলিত। তবে আগামী জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য কোপা আমেরিকায় দেখা যাবে গোলাপি বা পিংক কার্ড।

কার্ড সাধারণত মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় খেলোয়াড়দের সতর্ক করা ও শাস্তি দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন এই গোলাপি কার্ড ব্যবহার করা হবে খেলোয়াড়দের বাঁচাতে।

মঙ্গলবার অফিশিয়াল বিবৃতিতে কনমেবল জানায়, নিয়মমাফিক পাঁচ ফুটবলার বদল করতে পারলেও কোপা আমেরিকায় বিশেষ পরিস্থিতিতে একজন খেলোয়াড় বেশি বদল করা যাবে। কোনো খেলোয়াড় মাথায় আঘাত পেলে বিশেষ এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এক্ষেত্রে এই কনকাশন বদলির সময় পিংক কার্ড দেখাবেন রেফারি।

তবে শুধু ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নয়, খেলা চলাকালে যেকোনো সময় এই নিয়মে বদলি হতে পারবেন অসুস্থ হয়ে পড়া ফুটবলার।

এই নিয়ম কোপা আমেরিকার পরও কনমেবলের অন্যান্য টুর্নামেন্টে চালু থাকবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে কনমেবল।

এক্ষেত্রে মাথায় আঘাত লেগে অসুস্থ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে রেফারি বা চতুর্থ অফিশিয়ালকে জানাতে হবে। এরপর গোলাপি কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ বদলির ইঙ্গিত দেবেন রেফারি।

তবে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার পর ওই খেলোয়াড় আর মাঠে নামতে কিংবা পেনাল্টি শুটআউটে অংশ নিতে পারবেন না।

২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রে বসতে চলেছে কোপা আমেরিকার আসর। দেশটির ১৪টি শহরের ১৪ ভেন্যুতে এবারের টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ২০ জুন আটালান্টার মার্সিডিস-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কানাডার বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচ দিয়ে আসরের পর্দা উঠবে। আর ১৪ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে এ আসরের পর্দা নামবে।

আরও পড়ুন:
কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল ঘোষণা

মন্তব্য

খেলা
Argentinas initial Copa America squad announced

কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল ঘোষণা

কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল ঘোষণা ছবি: সংগৃহীত
তবে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত এই স্কোয়াড থেকে তিনজন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

বেশ কয়েকটি নতুন মুখ রেখে আসন্ন কোপা আমেরিকার জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২৯ সদস্যের প্রাথমিক এ দলে জায়গা পেয়েছে চারটি নতুন মুখ।

লিওনেল মেসিকে অধিনায়ক করে ঘোষিত এ স্কোয়াডে রয়েছে ফ্রেঞ্চ ক্লাব অলিম্পিক মাশেইয়ের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালেরদি, ইতালির ক্লাব ফিওরেন্তিনার ২৮ বছর বয়সী লুকাস মার্তিনেস কুয়ার্তা, ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের ১৯ বছর বয়সী তরুণ লেফট ব্যাক ভালেন্তিন বার্কো এবং ইতালির আরেক ক্লাব মন্সার তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ভালেন্তিন কারবোনি আর্জেন্টিার হয়ে কোপা আমেরিকার মতো বড় আসরে আর্জেন্টিনার জার্সি পরার সুযোগ পাচ্ছেন।

এছাড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আদর্শ মানা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ উইঙ্গার আলেহান্দ্রো গারনাচোকেও আসন্ন কোপা আমেরিকার প্রাথমিক স্কোয়াডে রেখে দল ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত এই স্কোয়াড থেকে তিনজন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১০ ও ১৫ জুন ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালার বিপক্ষে এই স্কোয়াড নিয়েই খেলবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এরপর চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

আর্জেন্টিনা স্কোয়াড

গোলরক্ষক: ফ্রাঙ্কো আরমানি, জেরোনিমো রুলি, এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

ডিফেন্ডার: : গন্সালো মনতিয়েল, নাহুয়েল মলিনা, লিওনার্দো বালের্দি, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, জার্মান পেস্সেলা, লুকাস মার্তিনেস কুয়ার্তা, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, মার্কোস আকুনিয়া, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, ভালেন্তিন বার্কো।

মিডফিল্ডার: গিদো রদ্রিগেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস মাক-আলেস্তার, রদ্রিগো দে পল, এজেকিয়েল পালাসিওস, এনসো ফেরনান্দেস, জিওভানি লো সেলসো, আনহেল দি মারিয়া, ভালেন্তিন কারবোনি।

ফরওয়ার্ড: লিওনেল মেসি, আনহেল কোরেয়া, আলেহান্দ্রো গারনাচো, নিকোলাস গঞ্জালেস, লাউতারো মার্তিনেস, হুলিয়ান আলভারেস।

আরও পড়ুন:
ইনজুরিতে কোপা শেষ নেইমারের
সে রাতে স্বর্গে হাত রেখেছিলেন মেসি

মন্তব্য

খেলা
Rodri sees the reason for Arsenals failure

আর্সেনালের ব্যর্থতার যে কারণ দেখছেন রদ্রি

আর্সেনালের ব্যর্থতার যে কারণ দেখছেন রদ্রি ম্যাচ শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছেন রদ্রি। ছবি: সংগৃহীত
আর্সেনালের ‘মানসিকতা’কে দুষলেন সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। ম্যাচের পর আর্সেনালের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মৌসুমে আর্সেনাল অসাধারণ খেলেছে। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য ছিল মানসিকতায়।’

৮৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেও মাত্র ২ পয়েন্টের জন্য ম্যানচেস্টার সিটির কাছে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার কষ্টে পুড়ছে আর্সেনালের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ভক্ত-সমর্থক সবাই।

অনেকেই সিটির এই জয়ের পেছনে কাতারি বিনিয়োগ, প্রিমিয়ার লিগের আইন ভঙ্গ ইত্যাদি অনেক অজুহাত দিচ্ছেন। তবে পেপ গার্দিওলার ফুটবলীয় দর্শন ও কৌশলেরই প্রশংসা করছেন বোদ্ধাদের অনেকে। খবর ইউএনবি

এ বিষয়ে গার্দিওলার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হোসে মরিনিয়ো বেশ আগে বলেছিলেন, ম্যান সিটি যে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করছে, বিষয়টিকে আসলে সেভাবে দেখলে হবে না। তারা আসলে বিনিয়োগ করছে। আজকে যেসব তারকা ফুটবলারকে তাদের টিমে খেলতে দেখেন, তাদের আজ-কালকে কেনেনি সিটি। তারা গত ছয়-সাত বছর আগে করা বিনিয়োগের ফসল। এখন তার সুফল পাচ্ছে সিটি।

আর্সেনালকে সবশেষ প্রিমিয়ার লিগ জেতানো সাবেক কোচ আর্সেন ভেঙ্গার বলেছেন, ‘সিটির ওপর আনা ১১৫টি অভিযোগের ব্যাপারে কী হবে আমি জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, পেপ গার্দিওয়লা বিশ্বের সেরা কোচ।

‘বিশ্বের অন্য যেকোনো ম্যানেজারকে সিটির বর্তমান দলের দায়িত্ব দিন, দেখবেন তারা টানা চারটি শিরোপা জিততে পারবে না।’

তবে এসব ছাপিয়ে আর্সেনালের ‘মানসিকতা’কে দুষলেন সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। ম্যাচের পর আর্সেনালের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মৌসুমে আর্সেনাল অসাধারণ খেলেছে। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য ছিল মানসিকতায়।’

গত ৩১ মার্চ ইতিহাদে গানারদের আতিথ্য দেয় সিটি। ওই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ম্যাচে সিটির ৭৩ শতাংশ বল দখলের বিপরীতে আর্সেনালে পায়ে বল ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ সময়। আক্রমণ ও গোল তৈরির চেষ্টা করার পরিবর্তে সেদিন তাদের রক্ষণের দিকেই বেশি মনযোগ দিতে দেখা যায়।

এ বিষয়টিকে উল্লেখ করে রদ্রি বলেন, ‘তারা যখন আমাদের মাঠে এলো, তখন আমাদের হারানোর উদ্দেশ্যে খেলেনি, ড্র করার উদ্দেশ্যেই তারা এসেছিল।’

ওই ম্যাচে ড্র করায় সম্ভাব্য ২ পয়েন্ট হারায় আর্সেনাল, সঙ্গে সিটিও ১ পয়েন্ট অর্জন করে। তাই ওই ম্যাচটির গুরুত্ব মনে করিয়ে দিলেন রদ্রি। ম্যাচটি আর্সেনাল জিততে পারলে সিটির চেয়ে ১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতত মিকেল আর্তেতার দল।

আরও পড়ুন:
ম্যানইউর জয়ের দিনে পয়েন্ট হারাল আর্সেনাল
আর্সেনালের জয়ের দিনে ম্যানসিটির হোঁচট
চেলসির হারের হ্যাটট্রিক, শীর্ষস্থান মজবুত করল আর্সেনাল

মন্তব্য

খেলা
A new history of Manchester City
ইপিএলে টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন

ম্যানচেস্টার সিটির নতুন ইতিহাস

ম্যানচেস্টার সিটির নতুন ইতিহাস গোলের পর ম্যানসিটির ফিল ফোডেন ও সতীর্থদের উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে শিরোপা জয়ের জন্য সিটির দরকার ছিল শুধু একটি জয়ের। অপর শিরোপা প্রত্যাশী আর্সেনালের জয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল ম্যানচেস্টার সিটির ড্র বা হার। আর্সেনাল নিজেদের কাজটি ঠিকমতো করলেও দাপটের সঙ্গেই জয় পেয়ে গেছে সিটি। একইসঙ্গে গড়েছে ইতিহাস।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা চারবার শিরোপা জয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। রোববার ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে পেপ গার্দিওলার দল।

লিগের শেষ ম্যাচে শিরোপা জয়ের জন্য সিটির দরকার ছিল শুধু একটি জয়ের। অপর শিরোপা প্রত্যাশী আর্সেনালের জয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল ম্যানচেস্টার সিটির ড্র বা হার। আর্সেনাল নিজেদের কাজটি ঠিকমতো করলেও দাপটের সঙ্গেই জয় পেয়ে গেছে সিটি। একইসঙ্গে গড়েছে ইতিহাস।

সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দুই মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ফিল ফোডেনের দারুণ এক শটে লিড পায় সিটি।

ম্যাচের ৭ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার দারুণ এক শট প্রতিহত করেন ওয়েস্ট হ্যাম গোলরক্ষক আলফনসো অ্যারিওলা।

তবে ১৮ মিনিটের মাথায় ম্যাচের ব্যবধান ২-০ করেন ফোডেন। সিটির জেরেমি ডকুর ক্রসে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফোডেন।

২৪ মিনিটের সময় ব্যবধান বাড়াতে পারতো সিটি। তবে গোলমুখে আর্লিং হলান্ডের নিশ্চিত গোল মিসের কারণে ব্যবধান আর বাড়েনি।

৩৮ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে যায় ওয়েস্ট হ্যাম। মোহাম্মেদ কুদুসের দারুণ এক শট আটকে দেন সিটি গোলরক্ষক স্টেফান ওর্তেগা। তবে ৪২ মিনিটে কুদুসের নিখুঁত এক বাইসাইকেল শট লক্ষ্যভেদ করলে প্রথমার্ধে ম্যাচের ব্যবধান ২-১ গোলে নেমে আসে।

বিরতির পর ৫৯ মিনিটের মাথায় বের্নার্দো সিলভার বাড়ানো বলে রদ্রির গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিটি।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ওয়েস্ট হ্যাম গোল দিলে তা বাতিল হয় ভিএআরে। এরপর আর কোনো দল সুযোগ তৈরি করতে না পারলে ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে সিটি।

অপর ম্যাচে আর্সেনালের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে শুরু থেকে এভারটনের বিপক্ষে আর্সেনাল বলের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। উল্টো ৩১ মিনিটে এভারটনের ফরোয়ার্ড ডমিনিক কালভার্ট-লুইনের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।

ম্যাচের ৪০ মিনিটে এভারটনের ইদ্রিসা গুয়ের নেয়া ফ্রি-কিক ওয়ালে লেগে জালে জড়ালে পিছিয়ে পড়ে আর্সেনাল। তবে প্রত্যাবর্তন করতেও সময় নেয়নি তারা।

তিন মিনিটের মাথায় তাকেহিরো তোমিয়াসুর গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে আর্সেনাল। এতে প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মিনিটে কাই হাভের্টজের গোলে ২-১ গোলের জয় পায় আর্সেনাল। ম্যাচ জিতলেও সিটির জয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্সেনাল ভক্তদের।

ইপিএল পয়েন্ট টেবিলে নির্ধারিত ৩৮ ম্যাচ শেষে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন সিটি। সিটির থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট কম পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে লিগ শেষ করল আর্সেনাল।

৮২ পয়েন্ট নিয়ে ক্লপের লিভারপুল আছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলা লিগ শেষ করেছে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে। ইপিএলের এই শীর্ষ চার দল খেলবে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে।

৬৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্পট নিশ্চিত করা টটেনহ্যাম খেলবে ইউরোপা লিগে।

এদিকে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্পটে থাকা চেলসি নিশ্চিত করেছে কনফারেন্স লিগের টিকিট।

আরও পড়ুন:
ভুটানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশের মেয়েরা
জয় দিয়ে সাফ শুরু বাংলাদেশের
এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই গেল করপোরেট ফুটসাল কাপ
তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে জমজমাট এশিয়া কাপ করপোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট
নাটক ও বিতর্কের পর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ চ্যাম্পিয়ন

মন্তব্য

খেলা
The famous Messi Barca contract tissue was sold at auction

নিলামে বিক্রি হলো মেসি-বার্সা চুক্তির সেই বিখ্যাত টিস্যু

নিলামে বিক্রি হলো মেসি-বার্সা চুক্তির সেই বিখ্যাত টিস্যু ছবি: সংগৃহীত
শুরুতে পেপারটি বিক্রির পক্ষে ছিলেন না হাগিওলি। সেসময় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, এটি বার্সেলোনার ইতিহাসের অংশ। তাই এটির জায়গা হওয়া উচিৎ ক্লাবটির জাদুঘরে।

২০০০ সালে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন বিশ্ব ফুটবলের সেরা ফুটবলারদের অন্যতম আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। ২১ বছর পর প্রাণের সেই ক্লাব ছেড়ে প্যারিস ঘুরে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা; খেলছেন ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে।

ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়েও যেন হয় না। বারবার ঘুরেফিরে তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় বার্সেলোনার নাম। এবার ক্যারিয়ার শুরুর একেবারে প্রথম ঘটনাটি নিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন মেসি। খবর ইউএনবি

২০০০ সালের ১৮ ডিসেম্বর বার্সেলোনার সঙ্গে যখন চুক্তিবদ্ধ হন, তখন মেসির বয়স মাত্র ১৩। আর্জেন্টিনার এ বিস্ময় বালকের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে কোনোভাবেই তাকে সেদিন হাতছাড়া করতে চাননি ক্লাবটির কর্তাব্যক্তিরা। তাই সঙ্গে সঙ্গে মেসির বাবাকে দিয়ে দেন প্রস্তাব। হোর্গে মেসি ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেদিন বার্সার প্রস্তাবে সায় দেন। আর তড়িঘড়ি করে হাতের কাছে থাকা একটি টিস্যু পেপারের ওপরই চুক্তির প্রাথমিক বিষয়বস্তু লিখে সই করিয়ে নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এরপর ছোট্ট লিওনেলের ক্যাম্প ন্যুতে আসা ও একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টির সঙ্গী হয়েছে পুরো ফুটবল দুনিয়া।

এবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেই টিস্যু পেপারটি। প্রাথমিক ওই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার ও তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ, বিশ্বখ্যাত এজেন্ট হোসে মারিয়া মিঙ্গেলা ও হোরাসিও হাগিওলি। এতদিন হাগিওলির হেফাজতে থাকা সেই টিস্যু পেপারটি এবার নিলামে উঠেছে।

হাগিওলির পক্ষে ঐতিহাসিক এই চুক্তিপত্রটি অনলাইনে নিলামে তোলে লন্ডনের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান বনহ্যামস। এটির প্রাথমিক দাম হাঁকানো হয় ৩ লাখ পাউন্ড। নিলামে ওঠার পর তা ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ পাউন্ডে (১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা প্রায়) বিক্রি হয়েছে।

চুক্তিপত্রে লেখা ছিল, ‘১৪ ডিসেম্বর, ২০০০ খ্রিস্টাব্দ। মেসার্স মিঙ্গেলা ও হোরাসিওর উপস্থিতিতে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাস এই মর্মে সম্মত হয়েছেন যে, তার অধীনে এবং মত নির্বিশেষে ফুটবলার লিওনেল মেসি ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে সই করছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মেসির সঙ্গে আলোচিত অর্থ প্রদানে বাধ্য থাকবে বার্সেলোনা।’

গত মার্চে ন্যাপকিনটির মালিকানা নিয়ে মতভিন্নতা দেখা দেয়। তবে সেসব অভিযোগ পরে নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

এ বিষয়ে বনহ্যামসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যাপকিনের প্রেরক আমাদের কাছে একটি আইনি রায় পাঠিয়েছেন, স্প্যানিশ আইনের অধীনে যা প্রেরককে ন্যাপকিনের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে যে, এই পেপার ন্যাপকিনের মালিকানা নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে এই ন্যাপকিনটির খোঁজে চাউর হয় ফুটবল বিশ্ব। কোথায় আছে মেসির সই করা সেই বিখ্যাত টিস্যু পেপারটি, কিংবা আদৌ সেটি আছে না কি হারিয়ে গেছে- এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না।

তবে সব জল্পনায় জল ঢেলে হাগিওলি জানান, টিস্যু পেপারটি সযত্নে তার কাছেই রয়েছে। ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়া ওই পেপারটির জন্য তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের প্রস্তাবও পেয়েছেন। তবে এখনই তিনি তা প্রকাশ্যে আনতে চান না।

শুরুতে পেপারটি বিক্রির পক্ষে ছিলেন না হাগিওলি। সেসময় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, এটি বার্সেলোনার ইতিহাসের অংশ। তাই এটির জায়গা হওয়া উচিৎ ক্লাবটির জাদুঘরে।

একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে হাগিওলি বলেছিলেন, ‘টিস্যু পেপারটি বার্সেলোনার জাদুঘরেই থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি। এটি ক্লাবটির আধুনিক ইতিহাস বদলে দিয়েছে। মেসির ব্যালন ডি’অরগুলোর পাশেই এটির জায়গা হওয়া উচিৎ।

‘তবে এখনই ওই টিস্যু পেপার আমি জনসম্মুখে আনার পক্ষে নই। অন্তত মেসির অবসর বা ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার পর এটি করা যেতে পারে।’

তবে সময়ের পরিক্রমায় মত পাল্টেছেন হাগিওলি। মেসির বার্সা ছাড়ার পর টিস্যু পেপারটি প্রকাশ্যে আনলেও বার্সেলোনার জাদুঘর সেটির গন্তব্য হয়নি; নিলামে তুলে অর্থ কামিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
দেশে ফের শুরু হচ্ছে বার্সা অ্যাকাডেমির ট্রেনিং ক্যাম্প
সে রাতে স্বর্গে হাত রেখেছিলেন মেসি
মেসির হাতে অষ্টমবারের মতো উঠল ব্যালন ডি’অর

মন্তব্য

p
উপরে