× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
As many awards as Sabina Krishna
hear-news
player
google_news print-icon

যত পুরস্কার সাবিনা-কৃষ্ণাদের

যত-পুরস্কার-সাবিনা-কৃষ্ণাদের
ছাদ খোলা বাসে ট্রফি হাতে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
বিসিবি, তমা গ্রুপ ও এনভয় গ্রুপের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

সাফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে দেশে ফেরার পর থেকে একে পুরস্কারের খবর পাচ্ছেন বাংলাদেশ নারী দলের ফুটবলাররা। বুধবার সকালে সবার আগে পুরস্কারের ঘোষণা আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে। এরপর একে একে তমা গ্রুপ ও এনভয় গ্রুপের পক্ষ থেকেও এসেছে পুরস্কারের ঘোষণা।

নারী দলকে ৫০ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয় বিসিবি। বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা।

এক বার্তায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান নারী ফুটবলারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দারুণ খেলে ও ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করে মেয়েদের দল পুরো দেশকে গর্বিত করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা হিসেবে ও তাদের প্রচেষ্টাকে বাহবা দেয়ার জন্য আমি বিসিবির পক্ষ থেকে পুরো দলকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।’

বাফুফের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে সাবিনা-কৃষ্ণাদের অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক। তিনিও তমা গ্রুপের পক্ষ থেকে নারী দলকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নারী ফুটবল দল বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। তমা গ্রুপ ফুটবল উন্নয়নে থাকে। এরই অংশ হিসেবে নারীদের ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে।’

এরপর দুপুরে বাফুফে কার্যালয়ে আরও ৫০ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেন বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী। এ সময় তিনি বলেন, তার স্ত্রী ও এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান শারমিন সালামের পক্ষ থেকে অর্ধ কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে নারী দলকে।

আরও পড়ুন:
সেরা গোলকিপার রূপনাকে বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
এ জয় বাংলাদেশের সবার: সাবিনা
চ্যাম্পিয়নদের নগর শোভাযাত্রা শেষ হলো বাফুফেতে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
Iranian film stars in solidarity with ongoing protests

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা নাজানিন বোনাইদি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে সমাবেশ হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলসে প্রায় ২০ হাজার মানুষের তেমন এক সমাবেশে ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা নাজানিন বোনাইদি নেতৃত্ব দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইরানি বিক্ষোভকারী নারীদের প্রতি সংহতি। বিশ্বনেতাদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন আরও বেশি কিছু করার।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানালেন ইরানি বংশোদ্ভূত হলিউড তারকা ‘লর্ড অফ দ্য রিং: দ্য রিংস অফ পাওয়ার’-এর অভিনেত্রী ও অ্যাকটিভিস্ট নাজানিন বোনিয়াদি।

লস অ্যাঞ্জেলসে রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী যখন কঠোরভাবে তা দমন করছে উল্লেখ করে বোনিয়াদি ইরানি নারীদের রক্ষা করার জন্য ও ইরানি কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করাতে বিশ্বনেতাদের আরও বেশি কিছু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের অধিকার আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া, আমাদের স্বাধীনতার নাজুক পরিস্থিতি, ইরানে হেফাজতে (নৈতিকতা পুলিশের) মাহসা আমিনির মৃত্যু বা হত্যা আমাদের অনুভূতির সব কিছুর কেন্দ্রে আঘাত করেছে।

‘সুতরাং এটি একটি ছন্দে আঘাত করেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ অনুধাবন করতে পারে যে যদি আপনার কাছ থেকে (অধিকার) কেড়ে নেয়া হয়, তবে কেমন লাগে? বিশেষ করে আমি মনে করি, নারী অধিকার।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার
ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে আয়োজিত এক র‍্যালিতে বক্তব্য রাখছেন নাজানিন বোনাইদি

তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, নারীরাই এখন সামনের সারিতে রয়েছে। তাদের হত্যার শিকার ও কারারুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এরপরও তারা তা (বিক্ষোভ) করছে।

শনিবার বোনিয়াদি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলসে এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। আয়োজকরা জানান, সে বিক্ষোভে ২০ হাজার মানুষ সমর্থন জানাতে আসে।

তবে এ ধরনের বিক্ষোভ শুধু আমেরিকায় নয়, কানাডাসহ ইউরোপের অনেক দেশে হচ্ছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার
অ্যামাজনের সেটে সহশিল্পীর সঙ্গে নাজানিন বোনাইদি

নাজানিন বোনিয়াদির পরিবার ইরানেই থাকত। যখন তার বয়স মাত্র ২০ দিন, তখন তার পরিবার ইরান থেকে পালিয়ে যায়। আমিনির মৃত্যুর পর একজন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে তাকে বেশ সোচ্চার ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা তিনি স্বীকার করে নেন। যদিও চলমান বিক্ষোভ পশ্চিমা ইন্ধনে বলে আবারও দাবি করেছেন তিনি। জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে শত্রুদের নিরাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে ‘সংহতি লর্ড অফ দ্য রিং’ তারকার
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
নাক কেটে, মাথা চূর্ণ করে কিশোরীদের হত্যা করছে ইরানি পুলিশ
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি

মন্তব্য

খেলা
EU MPs shed their hair to demand freedom in Iran

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন  

ইরানে ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’ দাবিতে ইইউ এমপির চুল বিসর্জন

  ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চুল কেটে ফেলছেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভে সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের নারীরা। চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসহ তারকা সংগীতশিল্পীরাও নিজেদের চুল কেটে ইরানি নারীদের সমর্থন দিচ্ছেন।

সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি। ইরাকি বংশোদ্ভূত সুইডিশ এই নারী ইইউ অ্যাসেম্বলিতে বক্তৃতা শেষে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলছেন।

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে অধিবেশনের বৈঠকে বুধবার ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন সাহলানি। তিনি বলেন, ‘ইরান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের ক্রোধ অত্যাচারীদের চেয়ে বেশি হবে। যতক্ষণ না ইরানের নারীরা মুক্ত হবে, আমরা তাদের পাশে থাকব।’

বক্তব্যের শেষদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে নিজের ঝুঁটি কেটে ফেলেন সাহলানি। এ সময় কুর্দি ভাষায় তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি’; যার অর্থ- নারী, জীবন, স্বাধীনতা।

ইরানে নারীদের এমন হিজাব করতে হয়, যেন তাদের চুল দেখা না যায়। কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই পোশাক কোড না মানার দায়ে। তিন দিন পর পুলিশি হেফাজতে মারা যান ২২ বছরের মাহসা।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়। মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন ও ফ্রান্সের নারীরাও। যুক্ত হচ্ছেন তারকা ও রাজনৈতিক নেত্রীরাও।

আরও পড়ুন:
আমেরিকা-ইসরায়েলের নকশায় বিক্ষোভ: খামেনি
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

মন্তব্য

খেলা
Oscar winning actresses next to Iranian women with shaved heads

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা জুলিয়েট বিনোচে (বাঁয়ে) এবং মেরিয়ন কোটিলার্ড। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলমান বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন অস্কারজয়ী জুলিয়েট বিনোচে এবং মেরিয়ন কোটিলার্ডসহ বেশ কয়েকজন তারকা অভিনেত্রী। ইরানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তারা নিজেদের চুল কেটে ফেলেছেন।

ব্রিটিশ অভিনেতা শার্লট র‌্যাম্পলিং, শার্লট গেইনসবার্গ এবং সঙ্গীতশিল্পী জেন বার্কিনও চুল কেটে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের স্ত্রী জুলি গেয়েতও।

হিজাব ইস্যুতে গ্রেপ্তার কুর্দি নারী মাহসা আমিনি ১৬ সেপ্টেম্বর মারা গেলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের জনগণ। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাথার চুল কেটে ইরানি নারীদের পাশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ইরানে।

অনেকেই হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের চুল কেটে ইরান সরকারের চাপিয়ে দেয়া পোশাকের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। #HairForFreedom ট্যাগে প্রতিবাদী এসব ইরানি নারীর প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন তুরস্ক, লেবানন এবং ফ্রান্সের নারীরাও।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও-তে দ্য ইংলিশ পেশেন্ট অভিনেত্রী বিনোচেকে নিজের এক মুঠো চুল কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, তার এই বিসর্জন ‘স্বাধীনতার জন্য’।

soutienfemmesiran নামে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ব্রিটিশ অভিনেত্রী গেইনসবার্গকে দেখা যায়, মা বির্কিনের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি। soutienfemmesiran (সোটিনফেমেসিরান) এর অর্থ- ইরানি নারীর প্রতি সমর্থন।

ভিডিও-র একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, এই নারী, পুরুষরা সমর্থন চাইছে। তাদের সাহস এবং একাগ্রতায় আমরা মুগ্ধ। প্রতিবন্ধকতাগুলো ছেঁটে ফেলে আমরা তাদের সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন:
ইরানে এক দিনেই নিহত ৪১, তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও

মন্তব্য

খেলা
Iran protests killed 150 schoolchildren on the streets

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায় ইরানের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ জানাচ্ছে একদল স্কুলছাত্রী। ছবি: টুইটার
ইরানে মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। এর মধ্যে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান শহরে সবচেয়ে বেশি ৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পর ইরানের স্কুলছাত্রীরাও যোগ দিয়েছে প্রতিবাদে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে বালুচ কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনা ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাহসার মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা অন্তত ৯, প্রতিবাদে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন নারীও প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবাদকারীদের দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ব্লকসহ ইন্টারনেটে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর পরও থামছে না বিক্ষোভ-সহিংসতা।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দাবিতে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পর ইরানের স্কুলছাত্রীরাও যোগ দিয়েছে প্রতিবাদে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায় স্কুলের ভেতরে ছাত্রীরা মাথার হিজাব খুলে ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ছবি পদদলিত করতেও দেখা গেছে। রাস্তার বিক্ষোভেও যোগ দিয়েছে স্কুলছাত্রীরা।


চলমান বিক্ষোভে অংশ নেয়া দুই কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইরানের নৈতিকতা পুলিশের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী সারিনা ইসমাইলজাদেহর মাথায় লাঠির (ব্যাটন) মাথায় আঘাত করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিবাদী গ্রাফিক ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরান বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫৪ জন। এর মধ্যে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের জাহেদান শহরে সবচেয়ে বেশি ৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের চাবাহার শহরের পুলিশ প্রধানের হাতে এক কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদ জানাতে জাহেদানে ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুরু হয় বিক্ষোভ। এতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে বহু মানুষ হতাহত হন। বেলুচ অ্যাক্টিভিস্ট ক্যাম্পেইন সেদিন নিহত ৪১ জনের নাম প্রকাশ করে। তবে পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩-তে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে আইএইচআর।

জাহেদানে বিক্ষোভের সময় সিস্তান-বেলুচিস্তানে ইসলামী বিপ্লবি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান আলী মুসাভিও গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
হিজাব খুলে ইরানি স্কুলছাত্রীদের প্রতিবাদ

আইএইচআর বলছে, গত সোমবার নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে ওই প্রদেশে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও এখনও স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘ইরানে, বিশেষ করে জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এটিসহ ইরানের সম্প্রতি অন্য অপরাধগুলোর তদন্ত করা।’

অসলোভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, ইরানের ১৭টি প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী রয়েছে অন্তত ৯ জন।

চলমান বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অভিহিত করছে সরকার ও হিজাবপন্থিরা। এরই মধ্যে তারাও বিক্ষোভ করেছে এবং সেই বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে ১৫০ ছাড়াল মৃত্যু, স্কুলছাত্রীরাও রাস্তায়
পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকারঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

আরও পড়ুন:
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও
ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়

মন্তব্য

খেলা
The girl recovered the stolen phone alone

ছিনতাই হওয়া ফোন একাই উদ্ধার করলেন তরুণী

ছিনতাই হওয়া ফোন একাই উদ্ধার করলেন তরুণী হারিয়ানা রাজ্যের পালাম বিহারে চেইনশপে বাজার করার পর কার্ডে বিল পরিশোধের সময় তরুণীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেন এক যুবক। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় তরুণী পল্লবী কৌশিকের মাথায় একটি আইডিয়া আসে। ছিনতাই হওয়া মোবাইলটির অবস্থান শনাক্ত করতে চালু করেন তার সঙ্গে থাকা বিশেষ ধরনের ‘স্টপওয়াচটি’। এ সময় মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ ডিভাইসটি থেকে সংকেত আসতে থাকে যে ফোনটি এই এলাকায়ই রয়েছে।

ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন একার চেষ্টায় উদ্ধার করেন ভারতীয় তরুণী পল্লবী কৌশিক।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় হরিয়ানা রাজ্যের পালাম বিহার থানায় সোমবার একটি এফআইআর করা হয়েছে। এখনই গ্রেপ্তার করা যায়নি ছিনতাইকারীকে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি চেইনশপে বাজার করার পর কার্ডে বিল পরিশোধের সময় ওই নারীর মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেন এক যুবক। এ সময় তিনি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে অ্যালার্ম বাজালেও আশপাশের কেউই এগিয়ে আসেননি।

হতাশ না হয়ে একাই ক্ষিপ্তগতিতে ওই যুবককে ধাওয়া করেন ২৮ বছরের ওই তরুণী। প্রায় ২০০ মিটার দৌড়ান তিনি। তবে ধরতে পারেননি ছিনতাইকারীকে।

এ সময় পল্লবীর মাথায় একটি আইডিয়া আসে। ছিনিয়ে নেয়া মোবাইলটির অবস্থান শনাক্ত করতে চালু করেন তার সঙ্গে থাকা বিশেষ ধরনের ‘স্টপওয়াচটি’।

এ সময় মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ ডিভাইসটি থেকে সংকেত আসতে থাকে যে ছিনতাই হওয়া ফোনটি এই এলাকায়ই রয়েছে।

তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা পালাম বিহারের সেক্টর-২৩-সংলগ্ন বিভিন্ন লেনে একাই খোঁজাখুঁজি চালাতে থাকেন।

রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি দেখতে পান একটি থামা মোটরসাইকেলের ওপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মোবাইলটি চালাচ্ছিলেন সেই ছিনতাইকারী।

এ সময় পল্লবী খুব সাবধানে ও লুকিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে যান এবং সজোরে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে মোবাইল ফোনটি তার হাত থেকে ছিটকে পড়ে। ছিনতাইকারী ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই তাকে আরও কয়েকবার সজোরে আঘাত করেন তরুণী। এতে দিগ্বিদিক হয়ে দৌড়ে পালান যুবক।

তরুণী বলেন, ‘ছিনতাইকারী পালিয়ে গেলে সড়কের ওপর পড়ে থাকা আমার ফোনটি নিয়ে বাসায় ফিরে আসি আমি। পরের দিন পালাম বিহার থানায় এফআইআর করি আমি।’

ওদৌগ বিভারের সহকারী পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে পল্লবী কৌশিক যখন তার ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি খুঁজছিলেন তখন ওই ছিনতাইকারী ইউপিআই পিন নম্বর ব্যবহার করে ওই তরুণীর মোবাইল ব্যাংকিং থেকে ৫০ হাজার ৮৬৫ রুপি কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী, পল্লবী কৌশিকের সোমবার রাতের এফআইআরে বিধি-৩৭৯ (চুরি), ৩৭৯-এ (ছিনতাই) এবং ৪২০ (প্রতারণা) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।’

পুলিশকে পল্লবী বলেন, ‘মোবাইলটিতে আমার সহকর্মীরাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফোন নম্বর ছিল। কর্মস্থলের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্যও ছিল সেটিতে। মোবাইল ব্যাংকি সেবা ইউপিআইতে জমা ছিল অনেক রুপি।’

পুলিশ এরই মধ্যে ওই সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। সেই সঙ্গে ওই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে।

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির বদরপুরে এক তরুণী তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। মোবাইল ছাড়াই সেই ছিনতাইকারী পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

ওই এলাকার একটি গোপন ক্যামেরায় (সিসিটিভি) রেকর্ড হয়ে যায় ঘটনাটি। মোবাইল রক্ষায় তরুণীর সাহসিকতার এই ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
ছিনতাইকারীকে যেভাবে রুখে দিলেন তরুণী

মন্তব্য

খেলা
Iranian schoolgirls also in the movement for freedom of dress

পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলনে ইরানের স্কুলছাত্রীরাও

পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলনে ইরানের স্কুলছাত্রীরাও হিজাব খুলে ইরানি ছাত্রীদের প্রতিবাদ। ছবি: টুইটার
ইরানে চলমান বিক্ষোভে শামিল রয়েছে দেশটির স্কুলের ছাত্রীরাও। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ দেয়ার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়ম তুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে তারা। তবে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে দেশটির প্রশাসন। আন্দোলনরত কিশোরীদেরও ছাড় দিচ্ছে না তারা। এরই মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দুই কিশোরীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে হওয়া সহিংস বিক্ষোভে ইরানের হাই স্কুলপড়ুয়া মেয়েরাও অংশগ্রহণ করছে।

টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্কুল হলের ভেতরেই ছাত্রীরা মাথার হিজাব খুলে হাতে নিয়ে ঘুরাচ্ছে। ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ স্লোগান দিচ্ছে।

স্কুলের বাইরেও মেয়েদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ছাত্রীরা বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়ম উঠিয়ে দেয়ার দাবিসংবলিত পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে।

এদিকে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভে অংশ নেয়া দুই কিশোরীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী সারিনা ইসমাইলজাদেহকে লাঠি (ব্যাটন) দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে বিক্ষোভ চলাকালীন নৈতিকতা পুলিশের অফিসাররাই তাকে আঘাত করেন।

আঘাতে তার মাথার খুলি চূর্ণ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মারা যায়।

পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলনে ইরানের স্কুলছাত্রীরাও
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত দুই কিশোরী

আরেক ১৭ বছর বয়সী কিশোরী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়া নিকা শাকরামি নিখোঁজ ছিলেন। শুরুতে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ।

পরে তার মৃতদেহ ফিরিয়ে দিলে দেখা যায় তার নাক কেটে ফেলা হয়েছিল এবং মাথায় ২৯টি আঘাতের চিহ্ন।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি বলেছে, ‘ইরানি কর্তৃপক্ষ জেনেশুনে এমন মানুষদের ক্ষতি বা হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা কয়েক দশকের দমন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছে।’

তবে মাহসার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলনকে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েল ও আমেরিকার চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

একেবারে শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ইরানি নারীরা।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইরানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় অ্যামনেস্টি
নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
ইরান সরকারের রোষানলে সাংবাদিকরাও
ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
বিক্ষোভে ‘উসকানি’: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের মেয়ে গ্রেপ্তার

মন্তব্য

খেলা
Durga did not come the black flag was hanging in the mandap

দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা

দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা
এলাকার এক হিন্দু গৃহবধূ দুই মাস আগে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। সেই ঘটনায় জড়িতদের এত দিনেও চিহ্নিত করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবার দুর্গা পূজা করছেন না এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

শারদীয় দুর্গোৎসব চলছে দেশজুড়ে। তবে সেই উৎসবের লেশমাত্র নেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া কুমারপাড়ায়। প্রতি বছর এলাকার মন্দিরে ধুমধাম করে হয় দেবী আরাধনা। এবার সেই মন্দির নিস্তব্ধ। মন্দিরের সামনে ঝুলছে কালো পতাকা।

এলাকার এক হিন্দু গৃহবধূ দুই মাস আগে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। সে ঘটনায় জড়িতদের এত দিনেও চিহ্নিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর প্রতিবাদে এবার দুর্গা পূজা করছেন না এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

পূজা বর্জনের পাশাপাশি তারা মন্দিরের সামনে টানিয়েছেন শোক প্রতীক কালো পতাকা।

উপজেলার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া কুমারপাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে গত ২৯ জুলাই ওই গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা ১০ বছরের মেয়েকেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে ঘটনার দুই মাস পরেও জড়িতদের চিহ্নিত করা যায়নি।

এলাকার বাসিন্দা অনন্ত কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধর্ষণ-হত্যার বিচার না পাওয়ায় আমরা শারদীয় দুর্গাপূজা বর্জন করে কালো পতাকা উত্তোলন করে শোক পালন করছি। যতদিন ন্যায়বিচার পাব না, ততদিন আমরা এই মণ্ডপে কোনো ধর্মীয় উৎসব করব না। আমরা শোককে শক্তি রূপে নিতে চাই।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি দিয়েছে নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন।

নিহতের কাকা জীতেন্দ্র নাথ রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মাসেও ধর্ষণ ও হত্যার আসামি ধরা না পড়ায় আমরা হতাশ। স্বাধীন দেশেও যদি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার হয় তাহলে আমরা যাব কোথায়?’

খানসামা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, ‘তারা (এলাকাবাসী) তাদের মেয়ে হত্যার প্রতিবাদ করবে এটা স্বাভাবিক। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে অবহিত করার পরেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তারা এমন প্রতিবাদ করেছে। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমি সংহতি প্রকাশ করেছি।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মকবুল হোসেন নিউবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটি কয়েক দিন আগে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় কারও নাম দেয়া হয়নি, অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। আমাদের তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
পাঁচগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী লাল দুর্গা
মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ঘুরছেন পুণ্যার্থীরা, নিরাপত্তায় সন্তোষ
গান্ধীর আদলে অসুর, হিন্দু মহাসভার বিরুদ্ধে এফআইআর
জঙ্গিদের চেয়ে স্মার্ট র‍্যাব: ডিজি
অসুরের বদলে গান্ধী বধ, প্রতিমা ঘিরে বিতর্ক

মন্তব্য

p
উপরে