× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

খেলা
A joyous procession for the victory of the girls
hear-news
player
print-icon

বাংলাদেশের সাফ জয়ে শেরপুরে আনন্দ মিছিল

বাংলাদেশের-সাফ-জয়ে-শেরপুরে-আনন্দ-মিছিল
বিজয় মিছিলে যোগ দেয়া রকিবুল হাসান পাপুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা এবার দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। আমাদের মেয়েরা সাফ জয় করে প্রমাণ করেছে, আমরাই সেরা।’

বাংলাদেশের জন্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করে এনেছে নারী ফুটবল দল। এই জয়ে শেরপুরে বিজয় মিছিল করেছে একদল তরুণ।

পৌরশহরের খোয়ারপাড় শাপলা চত্ত্বরে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জড়ো হন খোয়ারপাড় শাপলা চত্ত্বর স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করেন তারা।

এ সংগঠনের সদস্য তাজউদ্দিন দিপু বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা দারুণ খেলেছে। আমরা চাই সব ধরনের খেলায় জয় আনুক দেশের খেলোয়াড়রা। আর প্রতিটা জায়গায় আমাদের সাফল্য এনে দিক। খেলার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নেয়া যায়।’

বিজয় মিছিলে যোগ দেয়া রকিবুল হাসান পাপুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা এবার দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। আমাদের মেয়েরা সাফ জয় করে প্রমাণ করেছে, আমরাই সেরা।’

‘আমাদের মেয়েদের জয় মানে আমাদের জয়। আমরা এ জয়ের জন্য আজ আনন্দ মিছিল করছি’- মিছিলে হই-হুল্লোড়ে মেতে ওঠা মাহিম মিয়া এভাবেই জানালেন নিজের অনুভূতি।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নতুন চ্যাম্পিয়ন পেয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দেখা পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

আরও পড়ুন:
‘আমার মেয়েকে যারা বাঁকা চোখে দেখত, তারা সম্মান দিচ্ছে’
সাবিনা-কৃষ্ণার জয়ে মুশফিকের ‘আলহামদুলিল্লাহ’
সাবিনাদের জয়ের আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন জাহানারা-সাকিবরাও
সাফ শিরোপা: ছেলেদের থেকে এগিয়ে মেয়েরা
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

খেলা
After Mahsa in Iran now the symbol of rebellion is Hadith Najafi

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাদিস নাজাফি তার খোলা চুল ঝুঁটি বেধে বিক্ষোভে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। ওই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়টি গুলিতে এক নারী প্রাণ হারান। নিহত নারীকে হাদিস দাবি করে পোস্ট করা ভিডিও চলমান প্রতিবাদের মাত্রাকে আরও তীব্র করেছে।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে কঠোর পোশাকবিধি নিয়ে ইরানি নারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে । ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত অর্ধশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করলেও প্রতিবাদের ঢেউ দেশটির অন্তত ৮০টি শহরে এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিদিনই প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারী-শিশুও রয়েছে।

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ

মাহসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নতুন করে আরও একটি নাম প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি ২০ বছরের তরুণী হাদিস নাজাফি।

কারাজ শহরে ২১ সেপ্টেম্বর ওই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া ছয়টি গুলিতে প্রাণ হারান এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ওই নারীর নাম হাদিস নাজাফি বলে দাবি করা হয়। তবে সোমবার বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে নিহত নারী হাদিস নাজাফি নন।

হাদিস একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছেন বলেও টুইটে জানায় বিবিসি ফার্সি। বার্তায় হাদিস বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে নিহত ওই নারী নই। তবে আমি নারীদের জন্য, মাহসাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
মাহসা আমিনির (বাঁয়ে) পর এবার ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন হাদিস নাজাফি

এর আগে রোববার সাংবাদিক এবং নারী অধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদ একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে দেখা যায় হাদিস তার খোলা চুল ঝুঁটি বেধে বিক্ষোভে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসিহ আলিনেজাদের দাবি ছিল, এর পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়টি গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় আজারবাইজান প্রদেশের হাদিস নাজাফির ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। #MahsaAmini হ্যাশট্যাগের পাশাপাশি #HadisNajafi হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ইরানের নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থন জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

ইরানের সাংবাদিক ফারজাদ সেফিকারানকে উদ্ধৃত করে আল আরাবিয়া জানায়, বিক্ষোভে নিহত নারীর মুখ, ঘাড় এবং বুকে গুলি লেগেছিল। স্থানীয় ঘায়েম হাসপাতালে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনেও নিহত নারীর নাম ‘হাদিস নাজাফি’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে খোলা চুল বেঁধে নিয়েছিলেন হাদিস নাজাফি (মাঝে)

ওই নারীকে রোববার দাফন করা হয়েছে। তার কবরের পাশে স্বজনদের আহাজারির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে টুইটারে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসেবে বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক জন সদস্যও আছেন। তবে ইরান সরকারের দাবি, বিক্ষোভের ১১ দিনে পুলিশ সদস্যসহ প্রাণ গেছে ৪১ জনের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিক্ষোভকে আরও উসকে দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন রেখেছে দেশটির সরকার।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার পরিচালক হেবা মোরায়েফ বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে মানুয়ের ওপর কর্তৃপক্ষের আগ্রাসন কতটা নির্মম ও ক্রমবর্ধমান- সেটি মৃতের উদ্বেগজনক সংখ্যা থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।‘

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

হিজাব আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চলতি বছরের ৫ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে ‘সঠিক নিয়মে’ পোশাকবিধি অনুসরণ না করা নারীদের সরকারি সব অফিস, ব্যাংক এবং গণপরিবহনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত জুলাইয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #no2hijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা ১২ জুলাই সরকার ঘোষিত জাতীয় হিজাব ও সতীত্ব দিবসে প্রকাশ্যে তাদের বোরকা ও হিজাব সরানোর ভিডিও পোস্ট করেন।

ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা

সে সময় খোলা মাথায় কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন ইরানি তরুণী মেলিকা কারাগোজলু। এ কারণে সম্প্রতি কারাগোজলুকে ৩ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ইরানের আদালত।

আরও পড়ুন:
মাহসা আমিনির ২৩তম জন্মদিনে কবরে ফুল আর কেক
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬

মন্তব্য

খেলা
Irani 2 sisters heartwarming moments in freedom of dress

পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’

পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’ ‘বেলা চাও’-এর ফার্সি সংস্করণ গাইছেন বেহিন ও সামিন বোলোরি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি দুই বোনের গাওয়া একটি গান ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়। উনিশ শতকের ইতালীয় ভাষায় রচিত বিপ্লবী লোকগান ‘বেলা চাও’- এর ফার্সি সংস্করণ ছুঁয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষকে। মাহসা যেদিন মারা যান, সেই ১৬ সেপ্টেম্বরেই ইনস্টাগ্রামে গানটি আপলোড করেন ইরানি তরুণী বেহিন বোলোরি ও তার ছোট বোন সামিন বোলোরি।

পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানজুড়ে চলছে অভূতপূর্ব বিক্ষোভ। ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন ইরানের মেয়েরা। তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে শামিল হচ্ছেন পুরুষরাও।

যে পোশাক বিধি অমান্যের অভিযোগে ২২ বছরের আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়, তার প্রতিবাদে এখন প্রকাশ্যে হিজাব পুড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। অনেকে কেটে ফেলছেন নিজের চুল। কট্টর শাসনের অধীন ইরানে এমন বিক্ষোভ নাড়া দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।

দেশের বাইরে থেকে ইরানের নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েও বিক্ষোভ চলছে। এথেন্স, বার্লিন, ব্রাসেলস, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, সান্তিয়াগো, স্টকহোম, হেগ, টরন্টো, ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিভিন্ন শহরে চলছে প্রতিবাদ।

এর মধ্যেই ইরানি দুই বোনের গাওয়া একটি গান ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়। উনিশ শতকের ইতালীয় ভাষায় রচিত বিপ্লবী লোকগান ‘বেলা চাও’- এর ফার্সি সংস্করণ ছুঁয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষকে। মাহসা যেদিন মারা যান, সেই ১৬ সেপ্টেম্বরেই ইনস্টাগ্রামে গানটি আপলোড করেন ইরানি তরুণী বেহিন বোলোরি ও তার ছোট বোন সামিন বোলোরি।

গানটিতে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথা রয়েছে। প্রবল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একজন বিপ্লবীদের প্রতি তাকে সঙ্গী করার আহ্বান জানান। তার আকাঙ্ক্ষা দখলবাজ শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়েই মৃত্যু হবে, এরপর সহযোদ্ধারা তাকে শায়িত করবেন ফুলে ঢাকা কোনো পাহাড়ে।

ভাইরাল গানের ভিডিওটি ইরানি শিল্পী বেহিন বোলোরি #bellaciao হ্যাশট্যাগে নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন। শিরোনামে প্রতিবাদে শামিল না হওয়া ইরানিদের প্রতি বিদ্রূপাত্মক ভাষায় তিনি লেখেন, ‘ইউ আর নট অ্যাওয়ে আনটিল টুমরো... (ভোর না হওয়া পর্যন্ত তোমরা জাগবে না)।’

ভিডিওতে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে ২৮ বছরের বেহিন বোলোরি ও ২১ বছরের বোন সামিন বোলোরিকে ফার্সি ভাষায় ‘বেলা চাও’ গানটি গাইতে দেখা যায়। সোমবার পর্যন্ত ৪২ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। মন্তব্যে ইরানি নারীর পোশাকের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

ইরানের রাশত শহরে বেহিন বোলোরির জন্ম ১৯৯৪ সালের ২৬ জুলাই। থিয়েটার কস্টিউম ডিজাইনে ডিগ্রিধারী বেহিন একজন পেশাদার পপ গায়িকা। পাঁচ বছর ধরে ছোট বোন সামিন বোলোরির সঙ্গে ডুয়েট গাইছেন তিনি।

নিউজবাংলার পাঠকের জন্য গানটির ইংরেজি সংস্করণের বাংলা অনুবাদ দেয়া হলো

একদিন ভোরে ঘুম ভেঙে দেখি,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও! (বিদায় হে সুন্দর)

একদিন ভোরে ঘুম ভেঙে দেখি

দখলবাজেরা আসছে ছুটে।

হে দেশপ্রেমী আমাকেও নিয়ে যাও,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

হে দেশপ্রেমী আমাকেও নিয়ে যাও,

ওদিকে মৃত্যু আসছে ধেয়ে।

যদি মরে যাই দেশপ্রেমী হয়ে,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

যদি মরে যাই দেশপ্রেমী হয়ে,

তবে তোমারি হাতে হবে আমার সমাধি।

আমাকে শুইয়ে দিও পাহাড়ে,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

আমাকে শুইয়ে দিও পাহাড়ে,

দারুণ সুন্দর কোনো ফুলেল ছায়ায়।

পাশ দিয়ে যাওয়া পথিক তাকাবে,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

পাশ দিয়ে যাওয়া পথিক তাকাবে,

বলবে, ‘কী দারুণ ফুল।‘

এই ফুল দেশপ্রেমিকের,

ওহ বেলা চাও, বেলা চাও, বেলা চাও, চাও, চাও

এই ফুল দেশপ্রেমিকের,

স্বাধীনতার জন্য যারা দিয়েছে প্রাণ।

আরও পড়ুন:
উত্তাল ইরানের এক শহর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতছাড়া
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল

মন্তব্য

খেলা
Saudi women in leadership of top organization of space researchers

মহাকাশ গবেষকদের শীর্ষ সংগঠনে নেতৃত্বের সারিতে সৌদি নারী

মহাকাশ গবেষকদের শীর্ষ সংগঠনে নেতৃত্বের সারিতে সৌদি নারী আইএএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সৌদি নারী মিশাল আশেমিমরি। ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ প্রকৌশলী আশেমিমরি প্রথম সৌদি নারী, যিনি আইএএফ-এর মতো প্রভাবশালী সংস্থায় মর্যাদাপূর্ণ এই দায়িত্ব পেলেন।

মহাকাশ গবেষকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যশনাল অ্যাস্ট্রোনটিকাল ফেডারেশনের (আইএএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সৌদি নারী মিশাল আশেমিমরি

মহাকাশ প্রকৌশলী আশেমিমরি প্রথম সৌদি নারী, যিনি আইএএফ-এর মতো প্রভাবশালী সংস্থায় মর্যাদাপূর্ণ এই দায়িত্ব পেলেন।

সৌদি স্পেস কমিশনের (এসএসসি) রোববার এ তথ্য জানায়

এসএসসির এক টুইটে বলা হয়, আশেমিমরি আইএএফে সৌদি আরবের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল, বিশ্বব্যাপী মহাকাশ গবেষণা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা, আইএএফ-এর কৌশলগত দিকনির্দেশনা উন্নয়নে অবদান রাখা এবং ফেডারেশনে সৌদি আরবের অবস্থানকে সুসংহত করা।

আইএএফ- এর গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার পর আশেমিমরি এক টুইটে লেখেন, ‘আইএএফ-এর অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। মহাকাশ গবেষণা জোরদারের জন্য অন্য ভাইস প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আমি উন্মুখ।’

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, আইএএফএ মোট ১২ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছেন। তারা ফেডারেশনের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ তৈরি, সভা তদারকি এবং সংগঠনের সাধারণ অধিবেশনের জন্য এজেন্ডা নির্ধারণ করেন।

এই ফেডারেশনে সারা বিশ্বের চারশরও বেশি সদস্য আছেন, যাদের অনেকেই শীর্ষস্থানীয় স্পেস এজেন্সি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।

আরও পড়ুন:
সাফজয়ীদের চুরির ক্ষতিপূরণ দিল বাফুফে
সাফজয়ীদের সংবর্ধনা, কোটি টাকা দেবে সেনাবাহিনী
ট্রফি উঁচিয়ে নিজ শহরে সাবিনা
খেলোয়াড়দের বাড়ির ছাদ তৈরির আহ্বান শিরিনের
সাফজয়ী আঁখির বাড়িতে পুলিশ: এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

মন্তব্য

খেলা
Iranian Oscar Jayeer calls on the world to stand by the protesters

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর  সাইপ্রাসে ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন ইরানের বিশিষ্টজনরা। এবার এই বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকেও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কার জয়ী ইরানি পরিচালক আসঘার ফারহাদি।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুইবারের অস্কার বিজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক আসঘার ফারহাদি।

রোববার ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

এই সময় চলমান আন্দোলনে পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেয়া প্রগতিশীল ও সাহসী নারীদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।

ফারহাদি বলেন, ‘তারা এমন সাধারণ, অথচ মৌলিক অধিকার খুঁজছে যেগুলো রাষ্ট্র তাদের দিতে প্রত্যাখ্যান করেছে।

‘এই সমাজ, বিশেষ করে নারীরা, এই সময়ে এসে কঠোর ও বেদনাদায়ক পথ অতিক্রম করেছে এবং তারা স্পষ্টভাবেই একটি গন্তব্যে পৌঁছেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি, তারা ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী।

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
দুইবারের অস্কার জয়ী ইরানি পরিচালক আসঘার ফারহাদি

‘তারা যেভাবে রাস্তায় মিছিল করেছে, আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি । সব বর্বরতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারের দাবিতে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি।’

বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সারা বিশ্বের সব শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, বুদ্ধিজীবী, নাগরিক অধিকার কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি, যারা মানবিক মর্যাদা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং তারা যাতে ইরানের শক্তিশালী ও সাহসী নারী-পুরুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে।’

মূলত জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিতি রয়েছে আসঘার ফারহাদির। ২০১১ সালে ‘এ সেপারেশন’ এবং ২০১৬ সালে ‘দ্য সেলসম্যান’ চলচ্চিত্রের জন্য বিদেশি ভাষা ক্যাটাগরিতে দুইবার অস্কার (অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড) জেতেন তিনি।

আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি । সব বর্বরতাকে উপেক্ষা করে তাদের নিজেদের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারের দাবিতে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আমি গভীরভাবে সম্মান করি।

এদিকে ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর ২২ বছরের মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান।

তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।

নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
এ সেপারেশন ও দ্য সেলসম্যান চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পেয়েছিলেন আসঘার ফারহাদি

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তাল ইরান। ইরানের বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষও চলছে।

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ৫০
ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা

মন্তব্য

খেলা
Anti Hijabs Get Appropriate Answer Iranian President

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট ১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে গোটা ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এবারের প্রতিবাদটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ইস্যুতে নয়, বিস্ফোরণটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত লিঙ্গভিত্তিক পোশাক কোডের প্রতিক্রিয়ায়।

ইরানে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে যে অস্থিরতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। অতি রক্ষণশীল এই প্রেসিডেন্ট হিজাববিরোধী আন্দোলনকে ‘দাঙ্গা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, যারা দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

বিক্ষোভে মাশহাদ শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের পরিবারের সঙ্গে শনিবার ফোনালাপে এ কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

ইরান সরকারের হিসাবে, হিজাববিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত ৪১ জন। নিহতদের বেশির ভাগ বিক্ষোভকারী, কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

১৬ সেপ্টেম্বর মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদে কয়েক শ বিক্ষোভকারী, সংস্কারপন্থি এবং সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিক্ষোভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৭০টি শহর ও গ্রামে।

বিক্ষোভ দমাতে সরাসরি গুলি ছুড়ছে নিরাপত্তা বাহিনী, জেরা করা হচ্ছে মানবাধিকারকর্মীদের। অন্যদিকে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর মারছে বিক্ষোভকারীরা, সরকারি ভবন এবং গাড়িতেও আগুন দিচ্ছে তারা। ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দিচ্ছে বিক্ষুব্ধরা।

তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। এবারের প্রতিবাদটা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ইস্যুতে নয়, বিস্ফোরণটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরোপিত লিঙ্গভিত্তিক পোশাক কোডের প্রতিক্রিয়ায়।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সঠিকভাবে হিজাব করেননি তিনি।

পুলিশ হেফাজতে মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, একসময় চলে যান কোমায়। হাসপাতালে ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়েছে।

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

কিছু ইরানি নারী বিক্ষোভকারী তখন থেকে সমাবেশে নিজেদের হিজাব খুলে ফেলছে, অনেকে নিজের চুল কেটে ফেলছেন, কেউ কেউ নারীর স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

‘ক্ষোভ এবং আশা’

মানবাধিকারের দাবিতে চলা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয়া প্রগতিশীল এবং সাহসী নারীদের সমর্থনে ইরানের অনেক পুরুষ রাস্তায় নেমেছেন। ইরানের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা আসগর ফারহাদিও নাম লিখিয়েছেন এই তালিকায়।

ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে রাস্তায় মিছিল করেছে, আমি তাদের মুখে ক্ষোভ ও আশা দেখেছি।

‘তাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম এবং ভাগ্য বেছে নিতে সাহসে আমি মুগ্ধ। সম্মান জানাই তাদের।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ব্যাপকহারে শেয়ার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোলা চুলের এক তরুণীর সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তির পর তাকে মাটিতে চেপে ধরেছে দাঙ্গা পুলিশ। পরে অন্য নারীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

এমন পরিস্থিতে পুরানো নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করতে শুরু করেছে ফেসবুক, টুইটার, টিকটক এবং টেলিগ্রাম। তারা ওয়েব মনিটর নেটব্লকসের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং স্কাইপ পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। সীমিত করে দিয়েছে ইন্টারনেট সেবা।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

এই অবস্থায় আরও রক্তপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে ইরান সরকারকে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

দেশের বাইরে থেকে ইরানের নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েও বিক্ষোভ চলছে। অ্যাথেন্স, বার্লিন, ব্রাসেলস, ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, সান্তিয়াগো, স্টকহোম, দ্য হেগ, টরন্টো এবং ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে চলছে প্রতিবাদ।

‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’

ইরান দেশটি চালান ৮৩ বছর বয়স্ক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। মূলত পরমাণু কর্মসূচি কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছে। আছে অর্থনৈতিক নানা নিষেধাজ্ঞা। ইরানের এই পরিস্থিতির জন্য বরাবরই ‘বিদেশি চক্রান্ত’কে দায়ী করছে দেশটির সরকার৷

হিজাব এবং রক্ষণশীল মূল্যবোধের পক্ষে বড় সমাবেশেরও আয়োজন করেছে ইরান সরকার। তেহরানের এঙ্গেলাব (বিপ্লব) স্কোয়ারে রোববার আরেকটি সরকারপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার বড় সমাবেশ করেন হিজাবপন্থিরা।

বাধ্যতামূলক পোষাক কোড প্রত্যাহার এবং নৈতিকতা পুলিশের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের প্রধান সংস্কারবাদী দল- ইউনিয়ন অফ ইসলামিক ইরান পিপলস পার্টি। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমোদন’ এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ইরানে তাদের নিজস্ব উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা।

অসলোভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস নিরাপত্তা বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বাদেই কমপক্ষে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বিক্ষোভে। অনেকের মরদেহ গোপনে দাফন করতে তাদের পরিবারকে জোর করা হয়েছে বলেও জানাচ্ছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

হিজাববিরোধীরা সমুচিত জবাব পাবে: ইরানি প্রেসিডেন্ট
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও আমিনির মৃত্যুর কারণ জানায়নি। তবে তার পরিবার বলছে, মাথায় আঘাতের কারণেই আমিনির মৃত্যু হয়েছে।

আমিনিকে মারধর করা হয়নি… এ কথা শুরু থেকেই জোর গলায় দাবি করে আছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ওয়াহিদি। তিনি বলেছেন, ‘এ ঘটনায় সিদ্ধান্তকে পৌঁছাতে অবশ্যই মেডিক্যাল পরীক্ষকের চূড়ান্ত মতামতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে মৃত বেড়ে ২৬
হিজাবে রাজি হননি সিএনএনের আমানপোর, ইরানি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার বাতিল
ইরানি সেনারা জনতার পক্ষ নিন: সাবেক ফুটবল তারকা
নারীর পোশাকের স্বাধীনতার বিক্ষোভে ইরানে নিহত ১৭
ইরান বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৮, বাইডেনের সংহতি

মন্তব্য

খেলা
Italys far right Giorgia Meloni is running for prime minister

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন ইতালির জনগণ। পূর্বাভাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইতালির ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে উগ্র ডানপন্থি সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন দেশটির ৫ কোটি ১০ লাখ ভোটার, যাদের ২৬ লাখ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে আছেন ৪৭ লাখ ভোটার।

জর্জিয়া মেলোনি ইতালির উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য দুটি ডানপন্থি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি।

প্রেসিডেন্ট সার্জিও ম্যাটারেলা সকালে সিসিলিয়ান রাজধানী পালেরমোয় নিজের ভোট দেন। মেলোনি ও বাম নেতা এনরিকো লেটা ভোট দিয়েছেন রোমে। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ভোট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারেন উগ্র ডানপন্থি মেলোনি ও সালভিনি জোট।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি
চেম্বার এবং সিনেটের জন্য ভোট দিতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত সময় পাবেন ভোটাররা

জর্জিয়া মেলোনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন। তিনি চাইছেন নিজের ফ্যাসিবাদের তকমা দূর করতে। যদিও নির্বাচনি প্রচারে ফ্যাসিস্ট স্লোগান দিতে দেখা গেছে ৪৫ বছরের মেলোনিকে। এ ছাড়া অভিবাসন বন্ধে লিবিয়ায় নৌ অবরোধের পক্ষে তার অবস্থান।

এক মাস আগেও, ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনি জোটের। জনমত জরিপে মেলোনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এখন মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এনরিকো লেটা।

ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে উগ্র ডানপন্থি মেলোনি

সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)

দুই কক্ষের পার্লামেন্ট ইতালির; চেম্বার এবং সিনেট। নতুন নিয়মে দুই কক্ষের আকার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। চেম্বারের এখন ৪০০ আসন এবং সিনেট ২০০টি। এতে জোট সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জোট ৪০ শতাংশ ভোট পেলে পার্লামেন্টের ৬০ শতাংশ আসন তাদের পক্ষে যাবে।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা অনিশ্চিত। কারণ এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মেলোনি এবং তার সহযোগীরা এ ধারায় পরিবর্তন চান। তারা পার্লামেন্টে নির্বাচিত নিরপেক্ষ ব্যক্তির চেয়ে সরাসরি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চাইছে।

মন্তব্য

খেলা
Hijab supporters are on the streets of Iran

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা তেহরানে হিজাবপন্থী সমাবেশে ইরানিরা জাতীয় পতাকা নেড়ে বিক্ষোভ করছে। ছবি: এএফপি
মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে হিজাবপন্থিরা। ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘কোরআনের অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত’- স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে তাদের মিছিল।

পুলিশ হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। প্রতিবাদের সপ্তম দিনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৫০টি শহর ও গ্রামে। তাদের দমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে বিক্ষোভ হয়ে উঠেছে সহিংস, বাড়ছে প্রাণহানি।

বল প্রয়োগ করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে এবার পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে দেশটির সরকার। ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে শুক্রবার বিক্ষোভ করে হিজাবপন্থিরা। মিছিল থেকে তারা ‘দাঙ্গাকারীদের’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আহ্বান জানায়।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের সেনা’ হিসেবে অবিহিত করছে হিজাবপন্থিরা। তাদের বিক্ষোভটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে।

‘ইসরায়েল নিপাত যাক’, ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘কোরআনের অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত’- স্লোগানে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর প্রদক্ষিণ করে সরকারপন্থিদের মিছিল।

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে ধরা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সঠিকভাবে হিজাব করেননি তিনি।

পুলিশ হেফাজতে মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, একসময় চলে যান কোমায়। হাসপাতালে ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়েছে।

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর শুক্রবার প্রথম সরকারের তরফ থেকে বিক্ষোভকারীদের কঠিন বার্তা দিয়েছে সেনাবাহিনী। বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা শত্রুদের মোকাবিলা করবে।

‘ইসলামি শাসনকে দুর্বল করার এই মরিয়া কর্মকাণ্ড শত্রুদের অশুভ কৌশলের অংশ।’

সামরিক বাহিনী বলছে, অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত মানুষদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে শত্রুদের চক্রান্তগুলো নস্যাৎ করা হবে।

হিজাববিরোধীদের সতর্ক করেছেন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী মাহমুদ আলাভি। তিনি বলছেন, ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং বিপ্লবের মহান অর্জনকে ধূলিসাৎ করার স্বপ্ন কখনই বাস্তবায়িত হবে না।’

২০১৯ সালে গ্যাসোলিনের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের পর এটাই সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রয়টার্স বলছে, ওই বিক্ষোভে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ।

সাম্প্রতিক অস্থিরতায় রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের পুলিশ স্টেশন এবং যানবাহনে আগুন দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবারই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮৮ জন।

ইরানের রাস্তায় এবার হিজাবপন্থিরা
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন হিজাববিরোধীরা

উত্তাল পরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেটের গতিও কমিয়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি বড় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার কারণে লাখ লাখ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তেহরান ও দক্ষিণ ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাতে পারলেও কোনো ছবি পাঠাতে পারছেন না। ইনস্টাগ্রাম পুরোপুরি বন্ধ।

ইন্টারনেট সেবা নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটিতে ইন্টারনেটে হস্তক্ষেপ নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৯ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়েও প্রায় সপ্তাহখানেক ইন্টারনেট বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ৭ মার্চ নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। দেশটির ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য।

এই পোশাকবিধি অনুযায়ী নারীদের জনসমক্ষে চুল সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে হয় এবং লম্বা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। আর বিষয়টি নিশ্চিতের দায়িত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা- নৈতিকতা পুলিশের ওপর।

আরও পড়ুন:
ইরানে বন্ধ ইনস্টাগ্রাম, ছবি যাচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপে
ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার আন্দোলন কি নতুন কিছু
ইরানে বোনের পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রাণ দিচ্ছেন ভাই
ইরানজুড়ে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবি, বিক্ষোভে নিহত ৭
হিজাব ছাড়া ভিডিও দেয়ায় ইরানি তরুণীর পৌনে ৪ বছরের জেল

মন্তব্য

p
উপরে