নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে

player
নারী ফুটবলাররা বেতনভুক্ত, পুরুষ খেলছে বিনা বেতনে

বাফুফের বেতন কাঠামোর আওতায় নারী ফুটবলাররা থাকলেও নেই জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়রা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

বাফুফে কর্তাদের আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে পুরুষ ফুটবলারদের বেতন কাঠামোর পরিকল্পনা। তবে আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশাবাদী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।

সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ নারী ফুটবলে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পর উচ্ছ্বাস এখন দেশজুড়ে। তবে এর সঙ্গে নারী খেলোয়াড়দের সীমিত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে এসেছে আলোচনায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নারী ফুটবলারদের মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার তথ্য দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, পুরুষ ফুটবলারদের তুলনায় ব্যাপক বেতন বৈষম্যের শিকার নারী খেলোয়াড়েরা।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাফুফের বেতন কাঠামোর আওতায় কেবল নারী ফুটবলাররাই আছেন, জাতীয় দলের পুরুষ খেলোয়াড়দের কোনো বেতন নেই। তবে ক্লাব ফুটবলে নারীদের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান পুরুষ খেলোয়াড়রা।

এ বছর কাঠামোতে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া বাফুফের ফান্ডে সমস্যা আছে। আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ ফুটবলাররা বেতন কাঠামোর মধ্যে আসবে বলে আশা করছি।

২০১৯ সাল থেকে বেতন কাঠামোর আওতাভুক্ত হোন দেশের নারী ফুটবলাররা। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাবিনা-কৃষ্ণা-মারিয়াসহ ৩৬ ফুটবলারকে বেতনের আওতায় নিয়ে আসে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নারী খেলোয়াড়দের বেতনের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এখন পর্যন্ত এ কাঠামোর আওতাভুক্ত হয়নি পুরুষ ফুটবল।

জাতীয় দলে খেলার জন্য জামাল ভূঁইয়াদের কোনো বেতন দেয়া হয় না। ক্যাম্পে থাকাকালীন নামমাত্র খরচ আর ম্যাচ ফি পেয়ে থাকেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা।

পুরুষ ফুটবলারদের আয়ের একমাত্র উৎস ক্লাব ফুটবল। ক্লাবের চুক্তি অনুসারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন ফুটবলাররা।

চলতি বছরের গত জুনে অবশ্য পুরুষ ফুটবলারদের বেতন কাঠামোয় আনার বিষয়ে আশ্বাস দেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

ঘরোয়া ফুটবলের পাঁচ খেলোয়াড় বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ, ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান, আবাহনীর ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন, ফরোয়ার্ড সাদ উদ্দিন এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামকে ডেকে বাফুফে ভবনে বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন বাফুফে সভাপতি।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার সময় কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ৩০ জন ফুটবলারকে তিনটি গ্রেড-এর আওতায় এনে বেতন দেয়ার পরিকল্পনা করছে বাফুফে।

জাতীয় দলের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ তৈরি করতেই এমন চিন্তা করা হচ্ছে উল্লেখ করে বাফুফে সভাপতি সে সময় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘শুনেছি খেলোয়াড়েরা পা বাঁচিয়ে খেলে। জানি না সত্য নাকি মিথ্যা। এ জন্য চিন্তা করলাম এটা করলে হয়তো ভালো হবে।’

তবে এর ছয় মাস পরও কর্তাদের আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে পুরুষ ফুটবলারদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা।

আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশাবাদী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ।

তিনি বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা বিশেষ প্রক্রিয়া। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বলেছি। তিনি আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক। তবে সময় লাগবে একটু। এ বছর কাঠামোতে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া বাফুফের ফান্ডে সমস্যা আছে। আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ ফুটবলাররা বেতন কাঠামোর মধ্যে আসবে বলে আশা করছি।’

অন্যদিকে, নারী খেলোয়াড়রা বেতনভুক্ত হলেও ক্লাবে পর্যায়ে অনেক কম পারিশ্রমিক পান সাবিনা-কৃষ্ণারা। সর্বোচ্চ ৩-৪ লাখ টাকা, যেখানে তপু-জামালরা অর্ধকোটির উপরে আয় করেন।

ক্লাব পর্যায়ে এমন পার্থক্য কেন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর জুবায়ের নিপু।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্লাবে মেয়েদের বেতন কম পাওয়ার কারণ মেয়েদের ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতার অভাব। টুর্নামেন্টে যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে তত বেশি বেতন বাড়বে। তপু-জামালদের মতোও বেতন হতে পারে যদি সে রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টুর্নামেন্ট হয়।’

নারী ফুটবলারদের আবাসিক ক্যাম্পে রেখে বছর জুড়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি বেতনের আওতায় আনার বিষয়টিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে সাবেক এ বাফুফে কর্মকর্তা বলেন, ‘মেয়েদেরকে ক্যাম্পে রেখে বাফুফে সারা বছর যেভাবে ট্রেনিং দিচ্ছে এটা প্রশংসার দাবিদার। তবে, পরিচর্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে মেয়েদের। সঙ্গে বেতনও বাড়ানো যেতে পারে। তারা শিরোপা এনে দিচ্ছে।’

খেলোয়াড়রা শুধু গর্বের জায়গা থেকে জাতীয় দলে খেলে যায়, কিন্তু তারা কোনো বেতন পায় না। তাদের যদি বেতনের আওতাভুক্ত করা যায় তাহলে খেলার প্রতি আত্মনিবেদন ও গুরুত্ব আরও বাড়বে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, বাফুফে কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়

পুরুষ ফুটবলারদের ফেডারেশন থেকে বেতন কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা পক্ষে মত দিয়েছেন নিপু।

তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা শুধু গর্বের জায়গা থেকে জাতীয় দলে খেলে যায়, কিন্তু তারা কোনো বেতন পায় না। তাদের যদি বেতনের আওতাভুক্ত করা যায় তাহলে খেলার প্রতি আত্মনিবেদন ও গুরুত্ব আরও বাড়বে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, বাফুফে কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়।

‘এক্ষেত্রে সরকারও এগিয়ে আসতে পারে। অথবা বাফুফে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সমন্বয় করতে পারে বিষয়টা নিয়ে। বেশি না, খেলোয়াড়দের ১৫-২০ হাজার টাকা দিলেও আরও ইতিবাচকতা আনা সম্ভব।’

বেতন কাঠামোর মধ্যে জাতীয় দলের ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন জাতীয় দলের গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেতন কাঠামো থাকলে এটা অবশ্যই একটা খেলোয়াড়ের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়াবে। খেলোয়াড়দের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়বে। সবাই ভালো করার চেষ্টা করবে, যা খেলোয়াড়দের উৎসাহ বাড়িয়ে দেবে।’

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৩ বছরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন পাঁচজন উপাচার্য। এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্য নিয়োগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

তারা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পরামর্শও দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

২০০৯ সালে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করেন ২০১২ সালে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেনও পদ ছাড়তে বাধ্য হন ২০১৪ সালে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদ ২০১৯ সালে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক একই বছর পদত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসাতে পারছে না বলেই উপাচার্যদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

তার মতে, ‘আচার্য মানেই হচ্ছেন প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী। উপাচার্যরা তার সমগোত্রীয়। তাই উপাচার্য নিয়োগ যাচ্ছেতাইভাবে হতে পারে না।’

এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। এ রীতি আমাদের পাশের দেশ ভারতেই আছে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে যোগ্য ব্যক্তিরা সঠিক জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

একই ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পদের মোহে অনেকেই উপাচার্য পদে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সুখকর নয়। এ জন্য উপাচার্য নিয়োগপ্রক্রিয়া খুব স্বচ্ছ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা দেখে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে।

উপাচার্য হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের মেয়াদ একবারের বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও মনে করছেন অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তা না হলে যারা উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে ব্যর্থ হন তারা বিভিন্ন ঘটনায় ইন্ধন জোগান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কারণে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযোগ ওঠে। এর মূলে রয়েছে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। এগুলো ক্ষতি করেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে।’

তার মতে, ‘বিভিন্ন কারণে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতি। এ ছাড়া বড় বড় কাজের টেন্ডার তো রয়েছেই। কারও (উপাচার্য) বিরুদ্ধে সত্যিকার অর্থে অভিযোগ উঠলে ইউজিসি দেশের গণমান্য শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটা প্যানেল করতে পারে। সেই প্যানেল অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।’

উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ উঠতেই পারে। তবে সব অভিযোগ সত্য নয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুটি গুরুতর। একটি হচ্ছে নৈতিক স্খলন, আরেকটি দুর্নীতি। এর একটিও যদি কারও বিরুদ্ধে ওঠে, অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে তা তদন্ত করতে হবে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি করে থাকে। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের দেয়াল লিখন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে কিন্তু ফরিদের (শাবি উপাচার্য) বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন বা আর্থিক দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। অদক্ষতা বা অযোগ্যতা সেগুলো অন্য বিষয়। তারপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার অন্যতম কারণ আঞ্চলিকতা বলে মনে করছেন সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান (এন আই খান)।

তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকাল ছেলেমেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে। নিয়োগ পেয়েই তারা একটি বলয় সৃষ্টি করে। আমেরিকায় কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনি পাস করবেন সেখানে প্রথমে শিক্ষক হওয়া যায় না। প্রথমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হবে। এরপর সেখানে শিক্ষকতায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে সেখানে নিয়োগের সুযোগ পাবে। এ জন্য আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন ভারসাম্য থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন এই সাবেক শিক্ষাসচিব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে আছে, প্রশাসনে যারা থাকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ন্যায়-অন্যায় যা-ই হোক তাদের সরিয়ে দিতে হবে। এটাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যারা উপাচার্য তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাই পদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন কলুষিত না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
ড. জাফর ইকবালের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন শাবি শিক্ষার্থীরা

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করছেন, কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নৈতিক অবস্থান থেকে সে বিষয়ে তার নিজেরই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়-কাঠামোর মধ্যেই এর সমাধান আছে। যেমন, সিনেট ও সিন্ডিকেট। এ দুটোতেই সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। তাই উপাচার্যরা যখন দেখবেন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এসেছে, তখন তিনি নৈতিক অবস্থান থেকে সেখানে আর সভাপতিত্ব করবেন না।

‘তা যদি তিনি না করেন তাহলে উচিত ইউজিসিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ যাওয়া। এটাই নিয়ম ও বিধিবিধান। এ ছাড়া উপাচার্য স্বপ্রণোদিত হয়েও ইউজিসিকে তদন্তের অনুরোধ করতে পারেন।’

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমি মনে করি নৈতিক অবস্থান থেকে উপাচার্যদের উচিত তার বিষয়ে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইউজিসি গঠন করেছিলেন যাতে শিক্ষকদের ওপর অন্যরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করতে পারে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন শিক্ষকদের স্বশাসনের ওপর।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্ক হতে সরকারকে পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ জন্য আমি মনে করি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও সতর্ক হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

নিজেই রোগী রংপুর মেডিক্যাল

নিজেই রোগী রংপুর মেডিক্যাল

প্রায় অর্ধশত বছর আগের ওয়্যারিং করা বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে চলছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম। পুরোনো এই সংযোগগুলোর জন্য এখন অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা। নষ্ট হতে চলেছে দামি দামি যন্ত্রপাতিও।

ধারণক্ষমতার চেয়ে ভারী যন্ত্র আর প্রয়োজনের অতিরিক্ত এসি ব্যবহার করায় লোড নিতে পারছে না রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েক দশকের পুরোনো বৈদ্যুতিক তারগুলো।

এ কারণে প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ ঘটছে অগ্নিসংযোগ। বিকল হয়ে পড়ে আছে বহু মূল্যবান বেশ কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামও।

সর্বশেষ গত এক মাসে দুই দফা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে হাসপালটিতে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুতের সংযোগ সংস্কারে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অর্থ চাইলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাচ্ছে না হাসপাতালটি। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৯৭৬ সালে ৫০০ শয্যার চারতলাবিশিষ্ট রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। সে সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য হাসপাতালটিতে যে ওয়্যারিং করা হয়েছিল তা দিয়েই এখনও চলছে। যদিও এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

বেড়েছে রোগীর চাপও। এ কারণে ৫০০ থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে হাসপাতালটি। চারতলা থেকে হয়েছে পাঁচতলা ভবন। বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি রোগী সেখানে ভর্তি থাকছেন প্রতিদিন।

এসব কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধি পেলেও সংযোগের ওয়্যারিং আছে সেই আগের মতোই।

হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে গত তিন বছরে হাসপাতালটিতে ছোট-বড় অন্তত ১০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে গাইনি ওয়ার্ডের পেছনের একটি সংযোগ থেকে।

সর্বশেষ গত শনিবার মধ্যরাতে হাসপাতালের নিচতলায় পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে বিদ্যুতের মেইন ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডে অগ্নিসংযোগ ঘটে।

সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে এই হাসপাতালে গণপূর্ত বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই তিন শর বেশি কক্ষে এসি চলে। এসব এসির ৯০ শতাংশই বিভিন্ন সময়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছে।

রংপুর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোছা: রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ভারী ভারী মেশিন বসানো হয়েছে। এসব মেশিন বসাতে গণপূর্তের অনুমোদন ও তাদের মাধ্যমেই স্থাপন করতে হয়। কারণ কোথায় বিদ্যুতের কী সংযোগ রয়েছে তা শুধু গণপূর্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই বলতে পারেন। অনুমোদনহীন সরঞ্জাম স্থাপনের কারণেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অগ্নিসংযোগ ঘটছে।’

নিজেই রোগী রংপুর মেডিক্যাল
পুড়ে যাওয়া বিছানা। ছবি: নিউজবাংলা

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয় ২০১৪ সালে। দুটি মেশিনই এখন অচল। এ ছাড়া আরও ৫টি সাধারণ এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল।

হাসপাতালটির স্লাইস সিটি স্ক্যান, এমআরআই মেশিনসহ আরও অসংখ্য সরঞ্জামও এখন বিকল।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর এবং গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুতের সংযোগ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৩১ টাকার একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সেটি পাস হয়ে আসেনি।

এর আগের দুই অর্থবছরে সংস্কারের জন্য যে অর্থ এসেছিল তা চাহিদার চেয়ে দুই-তৃতীয়াংশই কম।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংস্কার প্রয়োজন। প্রতি বছর কিছু কিছু হয়। কিন্তু যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করব, হাসপাতালের যে বৈদ্যুতিক সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর পুরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটা রিপোর্ট দিতে। একই সঙ্গে কে কয়টি এসি ব্যবহার করছে, তারও একটি হিসাব দিতে। লোডে একটু ভারসাম্য থাকতে পারে, সেটাও তারা বের করবে। এ জন্য তাদের সঙ্গে আমি বসব।’

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

করোনার মধ্যেও এবার ভোটে মরিয়া নির্বাচন কমিশন

করোনার মধ্যেও এবার ভোটে মরিয়া নির্বাচন কমিশন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি আবার উদ্বেগজনক রূপ নিলেও নির্বাচন আয়োজন থেকে পিছু হটছে না নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

২০২১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ১ এপ্রিল সব নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়। এরপর ১০ জুন আবার ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কিছু পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনও পিছিয়েছে করোনার জন্য। এবার কেন সেই পথে যেতে চাইছে না কমিশন, সে প্রশ্ন উঠেছে জোরেশোরেই।

করোনাভাইরাসের অতিবিস্তারের মধ্যে ভোট স্থগিতের নির্দেশ একাধিকবার এসেছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। তবে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে যখন শাটডাউনকালের মতো সংক্রমণ ঘটছে, সংক্রমণের হার প্রায় প্রতিদিনই যখন আগের দিনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সে সময় ভোট স্থগিত করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।

অথচ এই সময়ে দেশে সামাজিক-রাজনৈতিক যে কোনো জমায়েত নিষিদ্ধ। এমনকি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় সর্বোচ্চ ১০০ জনের উপস্থিতির সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, তাও তাদের থাকতে হবে টিকার অথবা করোনা নেগেটিভের সনদ।

এই বিধিনিষেধের মধ্যেও নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জে জমজমাট ভোট শেষ করেছে, এখন আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রচারকে বিপজ্জনক না ভাবলেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড শিক্ষাঙ্গনে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন চালিয়ে যাওয়াকে সমীচীন মনে করছে না। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকাকালে কোনো ভোট হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি শিক্ষাঙ্গনে ক্লাস বন্ধের সময়সীমা আরও বাড়ে, তাহলে নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমাও বাড়বে।

একজন নির্বাচন কমিশনার দাবি করেছেন, গ্রাম এলাকায় ভোটে সেভাবে জমায়েত হয় না, প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান। তাই সেখানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে একজন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এই যুক্তিকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে বলেছেন, বিধিনিষেধের মধ্যে ভোট সংক্রমণ বাড়াবে আরও বেশি।

২০২১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে ১ এপ্রিল সব নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়। এরপর ১০ জুন আবার ভোট স্থগিতের আদেশ দেয়া হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পাশাপাশি বেশ কিছু পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনও পিছিয়েছে করোনার জন্য।

এবার কেন তবে ভোট চালিয়ে যেতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, সে প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে মিলেছে এমন এক তথ্য, যা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল কমিশন। এই অবস্থায় এই ভোট পিছিয়ে গেলে তা নতুন কমিশনকে তদারকি করতে হবে। এ কারণে বর্তমান কমিশন ভোট চালিয়ে নিতে মরিয়া বলে অভিযোগ আছে।

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭৪টি। সব মিলিয়ে ৮ ধাপে ৪ হাজার ১৩৮টি ইউনিয়নে ভোটের ব্যবস্থা করেছে ইসি। এরই মধ্যে ৩ হাজার ৭৭৩টি ইউনিয়নে ভোট শেষ হয়েছে।

ষষ্ঠ ধাপে ৩১ জানুয়ারি ২১৯ ইউপিতে, সপ্তম ধাপে ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮ ইউপিতে এবং অষ্টম ধাপে ১০ ফেব্রুয়ারি ৮ ইউপিতে ভোট হবে।

নির্বাচন কমিশনের যে যুক্তি

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের যে শিডিউল দেয়া আছে, সে হিসাবে যথাসময়ে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিডিউল পরিবর্তন না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আগের শিডিউল মতেই নরমালি কাজ হবে।’

জমায়েত নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিলে জমায়েতকে নির্বাচন কমিশন কেন সমস্যা মনে করছে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনগুলো একেবারে প্রান্তিক পর্যায় বা একেবারে গ্রাম এলাকায় হচ্ছে। এসব গ্রামে নির্বাচন ঘিরে তেমন জনসভাও হয় না, জনসমাগমও হয় না। প্রার্থীরা নিজেরা কয়েকজন মিলেই বাড়ি গিয়ে গিয়ে প্রচারণা চালান। তারপরও যাতে সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় তা ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশনের ভোট স্থগিত করার আগের আদেশের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তবে যদি করোনা পরিস্থিতি খুব বেশি অবনতি হয়, তাহলে অবশ্যই কমিশন তা দেখবে। সে অনুযায়ী প্রোগ্রামে পরিবর্তনও আসতে পারে। তার আগ পর্যন্ত যেভাবে আছে সেভাবেই চলবে।’

করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে বাণিজ্য মেলার মতো আয়োজন চালু রাখা নিয়ে যে সমালোচনা আছে, সেই প্রসঙ্গও টানলেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘জনসভা বা পথসভার দরকার নাই, এমনিতেই যেখানে-সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। বাণিজ্য মেলায় তো নির্বাচন নেই। সেখানে কেন এত মানুষ?’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গত ৪ অক্টোবর নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তবে ৭ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা জাগে, যা গত ২১ জানুয়ারি নিশ্চিত হয়ে যায়।

এখন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যে হারে শনাক্ত দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় শাটডাউন চলাকালে দেখা গেছে। দিনে শনাক্ত এখন ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যদিও মৃত্যুর সংখ্যা এবার তুলনামূলক কম।

এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের

করোনার এমন অতিবিস্তারের মধ্যেও ভোট চালিয়ে যেতে নির্বাচন কমিশন যে যুক্তি দেখিয়েছে, তা মানছেন না দেশসেরা ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম কন্টাডিকটোরি (সাংঘর্ষিক)। একদিকে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে মেলা চলছে, নির্বাচন চলছে, শপিং মল চলছে। সেসব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। করোনার সময় যেভাবে সবকিছু পরিচালনার উচিত ছিল সেভাবে করা হচ্ছে না। এর খেসারত দিতে হবে। সংক্রমণের হার ৩১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। তাই এখনই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আর নির্বাচন করোনা সংক্রমণে কতটা প্রভাব ফেলে তা তো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই দেখা গেছে। টেলিভিশন আর সংবাদমাধ্যমে যা দেখলাম, তাতে তো কেউ তেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। তাই নির্বাচন যেখানেই হোক তা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেবে। ক্ষেত্র নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একযোগে পদত্যাগের হুমকির তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে। এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হলে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগ করবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫০। এর মধ্যে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে তথ্য প্রচার হচ্ছে ফেসবুকে।

এই তথ্যের ভিত্তি কী, তা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি সংবাদমাধ্যম। আর তার পরই এ ধরনের তথ্য শেয়ার শুরু করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

উন্নয়নকর্মী ও কলাম লেখক শরিফুল হাসান তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে শনিবার বিকেলে লিখেছেন, ‘৩৪ জন একযোগে পদত্যাগ করলে এই জাতি খুব খুশি হবে। কিন্তু ৩৪ জন তো দূরের কথা, একজনও পদত্যাগ করবেন না। বরং যেকোনো মূল্যে পদে থাকতে এরা কী করেন, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি। এদের মতো আত্মমর্যাদাহীন খুব কম আছে। মর্যাদা থাকলে এরা নিজেরাই চলে যেতেন!’

একযোগে উপাচার্যদের পদত্যাগের হুমকির তথ্যের উৎস জানতে চাইলে শরিফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক সুপন রায়। এরপর সেই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকম শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সুপন রায়ের স্ট্যাটাস ও আমাদের সময় ডটকমের প্রতিবেদনের পরই এ বিষয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
ফেসবুকে সাংবাদিক সুপন রায়ের স্ট্যাটাস

সাংবাদিক সুপন রায় ফেসবুকে এ স্ট্যাটাসটি দেন বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে। এতে তিনি লেখেন, ‘৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করবেন! প্রচণ্ড অস্বস্তিতে আছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় আজ ৩৪ উপাচার্য একত্রে বসেছেন। বক্তব্য রেখেছেন ২২ জন। সম্মানজনক সমাধান জরুরি।’

সুপন রায়ের এই স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১২টা ২৯ মিনিটে ‘সুপন রায়: ৩৪ উপাচার্য এক হয়ে বললেন, দরকার হলে একযোগে পদত্যাগ করব!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমাদের সময় ডটকম। এই প্রতিবেদনে সুপন রায়ের স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য এতে নেই।

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
সুপন রায়ের স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে আমাদের সময় ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদন

এর পরই বিষয়টি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমধ্যমে। সংবাদকর্মী মুকিমুল আহসান হিমেল ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘৩৪ জন ফরিদ নাকি এক হয়েছিলেন ভার্চুয়ালি। ঐতিহাসিক এই ফরিদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত- পদত্যাগ করতে হলে ৩৪ জন উপাচার্য একসাথেই করবেন। সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা ফরিদের তরে!’

কাজল দাস নামে একজন লিখেছেন, ‘কত বড় কালপ্রিটরা এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় চালায় দেখেন। ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেছেন, সাস্টের ভিসির পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। দরকার হলে তারা একযোগে পদত্যাগ করবেন। কীভাবে এরা ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছেন, একবার ভাবেন। দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এখন আন্দোলনে নামা উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাল, ডাল কিংবা গার্মেন্টস মালিকদের সিন্ডিকেইটবাজির বিষয় নয়। এইসব মাফিয়া ভিসির হাত থেকে ক্যাম্পাস সুরক্ষা করতে গণজোয়ারের বিকল্প নেই।’

রাজু নুরুল নামে একজন লিখেছেন, ‘শাহজালালের ভিসিকে পদত্যাগ করতে হলে নাকি ৩৪ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি একযোগে পদত্যাগ করবেন। এটা শোনার পর থেকে আমি শুধু নিলুফার ইয়াসমিনের গাওয়া সেই গানটাই বারবার শুনছি- এত সুখ সইবো কেমন করে...’

একযোগে পদত্যাগ করছেন ৩৪ উপাচার্য?
৩৪ উপাচার্যের একযোগে পদত্যাগের গুজব ছড়িয়েছে ফেসবুকে

তবে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দাবি, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা অবস্থান তারা নেননি।

উপাচার্যদের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ৩৪ জন উপাচার্য একযোগে পদত্যাগের হুমকি বা এ বিষয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।’

ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ গুজব, মিথ্যা ও বানোয়াট।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মুনাজ আহমেদ নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই বৈঠকে ছিলাম। তবে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমানও ছিলেন ওই বৈঠকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল কি পরশু বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের একটি সভা হয়েছিল। তবে আমি মিটিংয়ের একদম শেষে জয়েন করেছি।’

৩৪ উপাচার্যের পদত্যাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু শুনিনি। সবার শেষে জয়েন করাতে অনেকের বক্তব্যও শুনতে পাইনি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি কোনো মিটিংয়ে ছিলাম না। এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি জানি না। বৈঠকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হলে তো আমাকে জানানো হতো।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সভার আমন্ত্রণ পেয়েছি। তবে অসুস্থ থাকায় উপস্থিত ছিলাম না।’

সংবাদিক সুপন রায় কোন উৎস থেকে এমন তথ্য পেলেন তা জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নির্মাণক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে। ১০ বছরে শুধু নির্মাণ খাতে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

অনেক দুর্ঘটনা, মৃত্যু- তারপরও নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র। বকেয়া বেতন কিংবা শ্রম-অধিকার প্রশ্নে এখনও বঞ্চিত শ্রমিক। নিশ্চিত হচ্ছে না ন্যূনতম জীবনমান। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত নির্মাণশিল্প। গত ১০ বছরে এই খাতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি এই তিন খাতে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকরা অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি এসব দুর্ঘটনা থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ ও ভবনের নিচের পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

মালিকদের অবহেলা, শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব এবং শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং এ আইনের দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১০২ জন

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল এই ১০ বছরে নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

২০২১ সালে নির্মাণ খাতে ১৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন।

এর আগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্মাণ খাতে ২০১১ সালে ১১১ জন, ২০১২ সালে ১১৩ জন, ২০১৩ সালে ৯৫ জন, ২০১৪ সালে ১০২ জন, ২০১৫ সালে ৬১ জন, ২০১৬ সালে ৮৫ জন এবং ২০১৭ সালে ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৪৫ জন শ্রমিক। এরপর ১৫৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ খাতে ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোডে কর্মকালীন একজন শ্রমিকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। ২০১৪ সালের জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কাজের সময় কাজের শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজে চশমা পরিধান করতে হবে। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে।

ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর কোনোটিই বাস্তবে দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার কারণ

বিলস বলছে, নির্মাণকাজে ভালো সিঁড়ির অভাব ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা, কর্মক্ষেত্রে নেট না থাকা অথবা নাজুক নেটের ব্যবহার, কপিকলের ব্যবস্থা না থাকা, হেলমেট, গ্লাভসের ব্যবস্থা না করা, খালি পায়ে কাজ করা, অসাবধানতা ও অসচেতনভাবে আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ, প্রচণ্ড রোদে কাজ করা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বিশ্রাম কম; দুর্বল মাচা, দেয়াল বা মাটি চাপা পড়া, ঝুলন্ত অবস্থায় কাজের সময় বেল্ট ব্যবহার না করা, ভালো জুতা বা বুট ব্যবহার না করা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া ওপর থেকে পড়ে শ্রমিকের অঙ্গহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মাটিচাপা পড়ে, মাটি বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, চোখে আঘাত লাগা বা অন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত পাওয়া, হাত-পা কেটে বা ভেঙে যাওয়া ও আবদ্ধ গ্যাসেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকারীর। শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না।

আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর একাধিক নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গামবুট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্টসহ নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণ সেক্টরে ৩৭ লক্ষাধিক পেশাজীবী জড়িত। শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইনে মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘শিল্প স্বাস্থ্য সেফটি কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এই কমিটি নেই। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পক্ষকে চাপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ বলেন, নির্মাণ খাতের বড় বড় ফার্ম কিছুটা নীতিমালা মেনে চলে। কিন্তু ছোট কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনগুলো এই নীতিমালা মানতে চায় না। এ জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিদর্শনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করবে। না হলে এসব ঘটনা এড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

সড়কে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি এখন বাইকের কারণে

সড়কে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি এখন বাইকের কারণে

এখন সড়ক দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটে বাইকের কারণে। ফাইল ছবি

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে ১ হাজার ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৯৪৫ জন। ২০২১ সালে দুর্ঘটনা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৮টি, মৃত্যু বেড়ে হয় ২ হাজার ২১৪ জনে। এ বছর সড়কে মৃত্যুর ৪০ শতাংশই ছিলেন বাইকার।

মঙ্গলবার গভীর রাত। রাজধানীর হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারানো সময়ের আলো পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাবীব রহমানের আঘাত ছিল মুখমণ্ডলে। মাথায় ছিল হেলমেট, তবে মুখ ছিল খোলা।

যে হেলমেটটি হাবীব ব্যবহার করেন, সেটি পরিচিত ‘হাফ ফেস’ নামে। এর মুখের সামনে কোনো আচ্ছাদন থাকে না, থাকে একটি প্লাস্টিকের পাতলা আবরণ, যা মূলত বাতাস থেকে চোখকে রক্ষা করে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, হাবীবের মুখমণ্ডল ছিল থেঁতলানো, চোয়াল বিচ্ছিন্ন, নাক ও মুখ থেকে রক্ত ঝরেছে। এ ছাড়া শরীরের বাকি অংশ স্বাভাবিক।

অর্থাৎ ‘ফুল ফেস’ হেলমেট থাকলে হাবীবের দুর্ঘটনাটি প্রাণঘাতী নাও হতে পারত। তার মুখের আঘাতটি হয়তো হেলমেটের সামনের অংশ প্রতিহত করতে পারত।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনের তথ্য বলছে, বাইক দুর্ঘটনায় এমন মৃত্যু হয় দিনে গড়ে ছয়টি। এখন দেশে যত মানুষ সড়কে মারা যান, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় বাইক আরোহীদেরই।

সড়কে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি এখন বাইকের কারণে
দেশের মহাসড়কগুলোতে এখন মোটরসাইকেলের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। ফাইল ছবি

কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে এই মৃত্যু। ২০১৯ সালে সারা বছরে এক হাজারের কম মৃত্যু রেকর্ড হলেও সদ্য সমাপ্ত ২০২১ সালে তা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

ভয় জাগানিয়া পরিসংখ্যান

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে ১ হাজার ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৯৪৫ জন।

পরের বছর দুর্ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৮১টি, এসব দুর্ঘটনায় নিহত হন ১ হাজার ৪৬৩ জন।

২০২১ সালে দুর্ঘটনা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৮টি, মৃত্যু বেড়ে হয় ২ হাজার ২১৪ জনের।

নিহতের মধ্যে ৭৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী।

এই সংগঠনের তথ্য বলছে, অন্য কোনো বাহনের এত যাত্রী মারা যাননি।

সড়কে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি এখন বাইকের কারণে
দুর্ঘটনার পর রাস্তার পাশে পড়ে আছে বাইক। ফাইল ছবি

২০২১ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৩৭১টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন।

এদের মধ্যে বাইকারদের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে পথচারীদের। এই সংখ্যাটি ১ হাজার ৫২৩।

পরিবহন চালক ও শ্রমিক মারা গেছেন ৭৯৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

বাইক দুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি (৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ) ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। অর্থাৎ যেখানে দুই চাকার বাহনে চেপে মানুষের দূর যাত্রার প্রবণতা বাড়ছে।

৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, ১৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ ঘটেছে গ্রামীণ সড়কে এবং ১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ ঘটেছে শহরের সড়কে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটরসাইকেলের চালকদের বড় অংশ কিশোর ও যুবক। এদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা প্রবল। কিশোর-যুবকরা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজেরা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং অন্যদেরকে আক্রান্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও বাসের ধাক্কা, চাপা ও মুখোমুখি সংঘর্ষে। এসব দ্রুতগতির চালকদের অধিকাংশই অদক্ষ ও অসুস্থ। তাদের বেপরোয়া যানবাহন চালানোর কারণে যারা সাবধানে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন তারাও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহতের ঘটনাও বাড়ছে।’

কী বলছে ট্রাফিক পুলিশ

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট দুর্জয় হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার পরেও অনেকে বাইক কিনছেন। দুই-তিন বছর বাইক চালিয়ে এর পরে লাইসেন্স করেন। এ ছাড়া তরুণ বাইকাররা সিগন্যাল মানেন না। প্রযুক্তির ঘাটতি থাকায় বাইক নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ওভার স্পিডে বাইক টেনে চলে যায়, তাই তাদের ধরা সম্ভব হয় না।’

সড়কে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি এখন বাইকের কারণে
দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রাকের নিচে বাইক। ফাইল ছবি

এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ২০টি ছোট গাড়ি বিক্রি না করে, একটা বড় গাড়ি বিক্রি করতে হবে, যাতে বেশি মানুষ চলাচল করতে পারে। ট্রাফিক আইন জেনে সেটা মানতে হবে। সর্বোপরি মানুষ সচেতন না হলে মৃত্যু কমানো সম্ভব না।’

মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে বাইক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ ২০২০ ও ২০২১ সালের বিভিন্ন মেয়াদে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। তখন শুধু স্বল্প দূরত্ব না, দূরপাল্লার যাত্রায়ও মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এটা কখনোই কাম্য না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে মোটরসাইকেল চালানো আর মহাসড়কে চালানোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে দূরের যাত্রায় এই মোটরসাইকেল ব্যবহারের ফলে দুর্ঘটনা বেড়েছে।’

জাপানে মোটরসাইকেল বেড়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছিল বলে জানান এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ। বলেন, ‘জাপান গত ১০ বছরে সড়ক থেকে প্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল সরিয়ে ফেলেছে বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে। সংখ্যা কমানোর পর তাদের দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু আছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ন্ত্রণের যে পলিসি থাকার কথা, সেখানেও আমরা মনোযোগী হচ্ছি না, রাজস্ব আয়ের কথা বলে অনায়াসে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রেজিস্ট্রেশন দিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’

মোটরসাইকেল নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে ক্রেতার ড্রাইভিং লাইসেন্স যুক্ত করার পরামর্শও দেন তিনি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, যত বাইক সড়কে চলে, তার বেশির ভাগেরই নিবন্ধন নেই।

ওভারস্পিড আর যথাযথ হেলমেট না পরা

হাইওয়ে পুলিশের সিলেট বিভাগের পুলিশ সুপার মো. শহীদ উল্লাহ্‌ নিউজবাংলাকে বলেন, যথাযথ হেলমেট না পরা বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর একটি কারণ।

তিনি বলেন, ‘হেলমেটের ব্যবহার করে না, আবার অনেকে হেলমেট ব্যবহার করলেও ফুল ফেস হেলমেট ব্যবহার করে না। কিন্তু মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত ফুলফেস হেলমেট ব্যবহার করতে হবে।’

সড়কে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি এখন বাইকের কারণে
সড়কের পাশে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাপে চলা বাইকগুলো। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এমনও তথ্য আছে, এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে বাবার কাছ থেকে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে গেছেন। অনেকে তিনজন যাত্রী বহন করেন।

‘লং ড্রাইভে ক্লান্ত অবস্থায় বাইক চালানো দুর্ঘটনার একটা বড় কারণ। উচ্চ সিসির গাড়ির সংখ্যা দেশে বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে অনেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।’

বাইকাররা মহাসড়কে ওভারটেক করার বিধান মানেন না বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। বলেন, ‘ওভারটেক করতে হলে ডান দিক দিয়ে ওভারটেক করতে হবে। বাইকের চালকেরা ওভারটেক করার ক্ষেত্রে ডান-বাম মানেন না। মোটরসাইকেল ছোট গাড়ি হওয়ার পরেও বড় গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওভারটেকিং ও রেসিং করে।’

হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর বিভাগের পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘনবসতি বা জনবহুল এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকাতে কিন্তু হাইওয়ে থাকতে পারে না। বিশ্বে কোথাও দেখবেন না এত ঘনবসতি এলাকায় হাইওয়ে। সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটনের মধ্য দিয়ে হাইওয়ে হতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে আছে।’

‘মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তারুণ্যের একটা বিষয় আছে। এই তারুণ্যের কারণে উচ্চ গতিতে তারা মোটরসাইকেল চালান। এদের বেশির ভাগই ট্রাফিক নিয়ম জানেন না এবং ট্রাফিক ট্রেনিংটা ওভাবে হয় না। একটা লার্নার কার্ড জোগাড় করেই তারা মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

‘পথচারীরাও ট্রাফিক নিয়ম মানেন না। মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হন অনেকে, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না। তাছাড়া ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডার পাসও ওভাবে নাই। যে কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে।’

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে জোর দিতে বলেছে সরকার। ফাইল ছবি

দেশে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে, কিন্তু এটি কতটা বিস্তার লাভ করেছে? এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিল নেই বিএসএমএমইউ-এর গবেষণার। এদিকে আইইডিসিআরও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার চিত্র দিচ্ছে না। 

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশ ভ্রমণ কিংবা যাতায়াত করেননি এমন ব্যক্তির দেহে এ ধরন শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত ৭১ রোগীর নমুনা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জায় (জিআইএসএআইডি) জমা পড়েছে। এদের অর্ধেকের বেশির দেশের বাইরে যাওয়ার ইতিহাস নেই।

পাশাপাশি সংক্রমণ ঢাকার বাইরেও ছড়িয়েছে। সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া আট রোগী চট্টগ্রামের। এর আগে রোববার যশোরে তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

তবে ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে সরকারের কোনো সংস্থা এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গতবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে একাধিক গবেষণা প্রকাশ করে সরকারের সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। এবার এই সংস্থাটিও অনেকটা নীরব।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ওমিক্রন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

ওমিক্রন ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত সোমবার বলেন, ‘জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা গেছে, রাজধানীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রনের উপস্থিতি রয়েছে। এটা শুধু ঢাকায় করা হয়েছে। তবে ঢাকার বাইরেও আমরা মনে করি একই হাল হবে। এ কারণেই করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, সেটির উৎস কী, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আমল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের। আমাদের হাতে এই তথ্য এসেছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে পারব না।’

‍তিনি বলেন, এখনও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য রয়েছে। এ ছাড়া ওমিক্রন ২০ শতাংশ ছড়িয়েছে। গ্রামে এই ধরনের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

গবেষণাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমিক্রনে দৈনিক কতজন আক্রান্ত, কতজন মারা গেলেন, সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। পুরুষ ও নারী কতজন সে তথ্য দেয়াও সম্ভব নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই মুহূর্তে ওমিক্রন নিয়ে না ভেবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

‘কারণ সংক্রমণ আজ ১০ শতাংশ, কাল বেড়ে ১৫ শতাংশ আবার পরশু তা কমে ৫ শতাংশে আসতে পারে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। ডেল্টার ক্ষেত্রেও তাই। এভাবে আলফা, বিটা ধরন এসেছিল, সেটা চলে গেছে, আবার আসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ধরনটি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সুতরাং এই বিষয়গুলোকে এত বেশি গুরুত্ব না দিয়ে ওমিক্রনের উপস্থিতি যে বাংলাদেশে আছে, সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ধরনটি তাড়াতাড়ি ছড়ায়। যত বেশি ছড়াবে, তত বেশি মানুষ আক্রান্ত হবে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রোগী বাড়তে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুও বাড়তে পারে।

‘আরেকটি বিষয় হলো, ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনে মৃত্যুহার কম। কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাদের কো-মরবিডিটি আছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিল হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাতায়াতের ইতিহাস না থাকা এবং ঢাকার বাইরে রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ওমিক্রনের প্রভাবে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই সর্তক হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে, সেখানে দেখা গেছে দেশে শনাক্ত হওয়া ২০ শতাংশ রোগীই বর্তমানে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত।

প্রকাশিত গবষণার প্রধান গবেষক ডা. লায়লা আনজুমান বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মাসে ৯৬টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এখানে ২০ শতাংশ করোনা রোগীর দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই গবেষণাটি ৮ জানুয়ারি শেষ হয়। যেহেতু সংক্রমণ বাড়ছে, ওমিক্রনের বিস্তার বাড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা ভালো। ৮ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার ২০ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ও ৮০ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পরবর্তী মাসে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, জিনোম সিকোয়েন্স অনেক ব্যয়বহুল। একটি জিনোম সিকোয়েন্স করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। যে কারণে সব রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব হয় না। অনেক প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে এই জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন ফল আসতে পারে। এ ছাড়া সময় ও দিনের ব্যবধানে চিত্রের পরিবর্তন হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়তো আইইডিসিআরের একটা সোর্স থেকে এ কথা বলেছেন। এগুলো অনুমাননির্ভর জিনিস। ওমিক্রনে বেশির ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তির মৃদু উপসর্গ বা আপার রেসপেরিটরি ইনফেকশন দেখা দেয়। ফলে বেশিসংখ্যক নমুনা নিয়ে কাজ না করলে সঠিকভাবে বলা কঠিন কোন ধরণটি বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তা ছাড়া জিনোম সিকোয়েন্সিং সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এটা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে রোগী শনাক্তে দৈনিক কতটি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, কতজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সে ব্যাপারে আইইডিসিআর ভালো বলতে পারবে। তবে আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটাকে আপাতত ধরে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শটটা গোল হয়ে যাবে ভাবিনি: আনাই মগিনি
৬ বছরে আটবার শিরোপা উল্লাসে মাতিয়েছে মেয়েরা
সব ম্যাচে ক্লিনশিট, বাংলাদেশের ঝুলিতে ২০ গোল
ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফের শিরোপা জয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন