নারী খেলোয়াড়রা বিশ্বজুড়ে বেতন বৈষম্যের শিকার

player
জেন্ডার

বিভিন্ন দেশে নারী-পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতনে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা

ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবলের মতো জনপ্রিয় বৈশ্বিক খেলাগুলোতে পুরুষ অ্যাথলিটরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা রয়েছে অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের।

সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ নারী ফুটবলে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের আনন্দের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের বেতন বৈষম্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাত থেকেই চলছে আলোচনা।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেই নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র বেতন বৈষম্য রয়েছে।

ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবলের মতো জনপ্রিয় বৈশ্বিক খেলাগুলোতে পুরুষ অ্যাথলিটরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা রয়েছে অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের।

ক্রিকেটের দিকে তাকালে বৈষম্যের পরিষ্কার চিত্র চোখে পড়ে।

২০১৭ সালের সবশেষ বেতন কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এ-প্লাস শ্রেণির পুরুষ ক্রিকেটাররা প্রতি মাসে বিসিবি থেকে বেতন পাচ্ছেন চার লাখ টাকা করে। এ-শ্রেণির ক্রিকেটাররা পান তিন লাখ টাকা। বি-শ্রেণির ক্রিকেটাররা দুই লাখ টাকা। সি-শ্রেণিতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ডি-শ্রেণির ক্রিকেটাররা পান মাসে এক লাখ টাকা করে।

চলতি বছর জুনে সাকিব-তামিমদের মূল বেতন ১০-১২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই হারে বেতন বাড়িয়েছে বোর্ড। তবে বৈষম্যের মাত্রা নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ।

২০ শতাংশ বেতন বাড়ার পরেও এ-ক্যাটাগরিতে নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন এখন ৬০ হাজার টাকা। বি-ক্যাটাগরিতে ৪০ হাজার। সি-ক্যাটাগরিতে ৩০ ও ডি-ক্যাটাগরিতে ২০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন সালমা-জাহানারারা।

নারী ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি ছিল ১০০ ডলার ও টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি ছিল ৭৫ ডলার। এখন ওয়ানডেতে ম্যাচ ফি করা হয়েছে ৩০০ ডলার ও টি-টোয়েন্টিতে করা হয়েছে ১৫০ ডলার।

নারী খেলোয়াড়রা বিশ্বজুড়ে বেতন বৈষম্যের শিকার
সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ নারী ফুটবলে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পর নারী খেলোয়াড়দের বেতন বৈষম্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন অনেকে

ক্রিকেটের অন্যতম দুই পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের বৈষম্য।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বছরে সাড়ে ৭ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পারিশ্রমিক পান বোর্ডের কাছ থেকে। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৬৩ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় তারকা অ্যালিস পেরির বাৎসরিক পারিশ্রমিক তিন লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এ হিসেবে মাসে বাংলাদেশি মুদ্রায় তার বেতন প্রায় ১৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।

সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার একজন চুক্তিবদ্ধ পুরুষ ক্রিকেটার বছরে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় করেন। নারীদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক মাত্র ৬৫ হাজার ডলার।

ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের আয়ের ক্ষেত্রেও আছে প্রবল লিঙ্গবৈষম্য। জফ্রা আর্চার ও বেন স্টোকসের মতো চুক্তিবদ্ধ সেরা ক্রিকেটাররা বোর্ড থেকে বছরে প্রায় সাড়ে নয় লাখ পাউন্ড আয় করেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় মাসে যা প্রায় ৮৬ লাখ টাকা।

তবে গড়পড়তা বছরে আড়াই থেকে তিন লাখ পাউন্ড আয় করেন জাতীয় দলের একজন পুরুষ ক্রিকেটার।

তবে নারীদের ক্ষেত্রে এ অঙ্কটা অনেক কম। ইংল্যান্ডের হিদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের মতো সেরা তারকাদের বছরে বেতন এক লাখ পাউন্ড বা মাসে সাড়ে নয় লাখ টাকা।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানেও রয়েছে তীব্র লিঙ্গ বৈষম্য। ভারতে ভিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের মতো তারকাদের বাৎসরিক বেতন সাত কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় মাসে ৬৬ লাখ টাকা।

আর ভারতীয় নারী দলের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কউর ও তারকা খেলোয়াড় স্মৃতি মান্ধানা বোর্ড থেকে বেতন পান বছরে ৫০ লাখ রুপি বা মাসে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

আরেক পরাশক্তি পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পান পুরুষ দলের অধিনায়ক বাবর আজম। তার বেতন বছরে ১ কোটি ৩২ লাখ পাকিস্তানি রুপি। টাকার অঙ্কে ও মাসের হিসেবে যা প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

সেখানে নিদা দার ও সানা মিরের মতো পাকিস্তানের সেরা নারী ক্রিকেটাররা বেতন পান মাসে ১ লাখ ২০ হাজার পাকিস্তানি রুপি বা প্রায় ৫৮ হাজার টাকা।

চুক্তিবদ্ধ নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা বেতনের বাইরেও টুর্নামেন্ট চলাকালীন ম্যাচ ফি, প্রতিদিন ভাতা পেয়ে থাকেন। এটি নির্ধারিত হয় সিরিজ ও ফরম্যাট অনুযায়ী।

এর বাইরে ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ, মিডিয়া বিজ্ঞাপনে কাজ করার অর্থও যোগ হয় ক্রিকেটারদের আয়ের সঙ্গে। তবে এসব ক্ষেত্রেও নারীর চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে পুরুষ খেলোয়াড়েরা।

ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও রয়েছে বিশ্বব্যাপী বৈষম্য।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) মারিয়া-মোগিনিদের নামমাত্র সম্মানি দিচ্ছে। পুরুষ ফুটবলারদের বাফুফে কোনো বেতন না দিলেও তাদের বড় আয়ের উৎস লিগ ও ক্লাব।

নারীদের লিগে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পান একজন খেলোয়াড়। অন্যদিকে, পুরুষদের লিগ থেকে একজন খেলোয়াড় আয় করেন সর্বোচ্চ ৭০-৮০ লাখ টাকা।

পুরুষদের সমান পারিশ্রমিকের দাবিতে আমেরিকার জাতীয় দলের ২৮ নারী ফুটবলার ২০১৯ সালে আদালতে গিয়েছিলেন

২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয় আমেরিকার পুরুষ জাতীয় দল, আর পরের বছর বিশ্বকাপ জয় করে নারী দল। এরপর নারীরা বর্ধিত ম্যাচ ফির দাবি তোলেন।

তবে গত বছর নারী ফুটবলারদের দাবি খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারক গ্যারি ক্লাউসনারের যুক্তি ছিল, নারীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তারা খেলুক বা না খেলুক বেতন দেয়া হবে। অন্যদিকে, পুরুষদের যদি খেলার জন্য ক্যাম্পে ডাকা হয় এবং তারা ম্যাচে অংশ নেন, তাহলেই কেবল টাকা পান।

ক্লাউসনার বলেন, “বাদীদের বক্তব্য ‘একটি প্রকৃত বিরোধ প্রতিষ্ঠার জন্য অপর্যাপ্ত।”

যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে উচ্চ আদালতে।

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গণমাধ্যম আইনের কিছু দিক নিয়ে সংবাদকর্মীদের আপত্তি

গণমাধ্যম আইনের কিছু দিক নিয়ে সংবাদকর্মীদের আপত্তি

‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০১৮’ আইনটি সংসদের চলতি অধিবেশনে পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর কিছু দিক নিয়ে আপত্তি তুলছেন সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ‘কলাকুশলী’র সংজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়া, সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, আইনটি সম্পর্কে তাদের ভালোভাবে জানানো হয়নি।

সাংবাদিকদের জন্য ‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০১৮’ প্রণয়নের উদ্যোগ চূড়ান্ত করেছে সরকার। জাতীয় সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই এটি বিল আকারে উত্থাপন করতে পারেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তবে প্রস্তাবিত আইনটির কিছু দিক নিয়ে অসন্তোষ জানাচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। অন্যদিকে, সাংবাদিক নেতারা বলছেন, এ আইনের খসড়া সাংবাদিকদের দেখানো হয়নি। সরকারের একক সিদ্ধান্তেই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের অক্টোবরে আইনটির খসড়া প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়। পরের বছরের ১৫ অক্টোবর আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর সেটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। এর তিন বছরেরও বেশি সময় পর আইনটি পাশের জন্য সংসদে তোলা হচ্ছে।

আইনটিতে সাংবাদিকদের বেতন, ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটিসহ বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আইনটি পাস হলে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, রেডিও এবং অনলাইন মিডিয়ায় যারা কাজ করেন তাদের সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে।’

খসড়া অনুযায়ী, আইনটি পাস হলে সংবাদকর্মীরা আর শ্রম আইনের অধীনে থাকবেন না। আইনি কাঠামোতে সাংবাদিকরা ‘গণমাধ্যমকর্মী’ হিসেবে পরিচিত হবেন।

২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে আইনটি নিয়ে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

সেদিন তিনি খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক তুলে বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে কর্মরত পূর্ণকালীন সাংবাদিক, কলাকুশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী বা নিবন্ধিত সংবাদপত্রের মালিকাধীন ছাপাখানা এবং বিভিন্ন বিভাগে নিয়োজিতরা হলেন গণমাধ্যমকর্মী। সম্প্রচারকর্মী হলেন, সম্প্রচার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত গণমাধ্যমের কর্মী।’

তিনি বলেন, ‘প্রযোজক, পাণ্ডুলিপি লেখক, শিল্পী, ডিজাইনার, কার্টুনিস্ট, ক্যামেরাম্যান, অডিও ও ভিডিও এডিটর, চিত্র সম্পাদক, শব্দ ধারণকারী, ক্যামেরা সহকারী, গ্রাফিক্স ডিজাইনারসহ পেশাজীবীরা যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের কলাকুশলী বলা হবে।’

তবে ‘কলাকুশলী’র সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি রয়েছে সংবাদ মাধ্যমে কর্মরতদের। ক্যামেরাপারসনদের সাংবাদিক না বলে ‘কলাকুশলী’ বলার প্রতিবাদে তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ)।

সংগঠনটির সভাপতি শেখ মাহবুব আলম নিউজবাংলাকে বলেন, “আমাদের দাবি, আমাদের ‘চিত্রসাংবাদিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হোক। সেজন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।”

সংসদে খসড়া আইনটি বিল আকারে উত্থাপনের আগেই এটি সংশোধনের দাবি জানান টিসিএ সভাপতি মাহবুব।

নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন ও ভিডিও জার্নালিস্টদের সংগঠন টিসিএর সাবেক নেতা আহসান সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংবাদিকতায় রিপোর্টারদের পাশাপাশি চিত্রগ্রাহকদেরও সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু খসড়া আইনে কলাকুশলী বলে আমাদের বিচ্ছিন্ন করাটা দুঃখজনক।’

ভিডিও চিত্র সম্পাদনকারীদের সাংবাদিক না বলে কলাকুশলী বলায় ক্ষোভ জানান ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র ভিডিও এডিটর রিফাত আনোয়ার লোপা।

তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ভিডিও এডিটিং ছাড়া রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। একটি রিপোর্টে সিকোয়েন্স অনুযায়ী কোন ছবিটির পর কোন ছবি বসবে সেই সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ সময় ভিডিও এডিটরদের নিতে হয়। ফলে এডিটরদের সেখানে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’

টেলিভিশন সাংবাদিকতা শুধু তথ্য ও ছবি যোগাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে চিত্র সম্পাদনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভিডিও এডিটরদের অবশ্যই সাংবাদিক বলা উচিত।’

সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, আইনটি সম্পর্কে তাদের ভালোভাবে জানানো হয়নি, মতামতও নেয়া হয়নি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যম আইনের যে খসড়া করা হয়েছে আমরা সেটা সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নই।

‘সাংবাদিক সমাজে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সমুন্নত রাখার যে দাবি আমাদের রয়েছে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের পেনশনের আওতায় আনা জরুরি।’

সাংবাদিকদের জন্য বছরে দুটি গ্র্যাচুইটির বদলে এখন চারটি করার দাবি উঠেছে বলেও জানান তিনি। সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে প্রত্যেক সংবাদ কর্মী যেন বেতন পান সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আইনটি প্রণয়নের আগে সাংবাদিকদের সব ধরনের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান এই সাংবাদিক নেতা।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আইন করা হচ্ছে, কিন্তু তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।’

আইনটি সংসদে পাসের আগে সংসদীয় কমিটি যেন অংশীজনের বিভিন্ন মতামত বিবেচনা নেয় সেই আহ্বানও জানান মনজুরুল আহসান বুলবুল।

গণমাধ্যম আইনে সংবাদকর্মীদের অধিকার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে আমাদের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। যেমন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। সেখানেও গণমাধ্যমে যারা নেতৃত্বে আছেন, তাদের মতামত নেয়া হয়েছিল, কিন্তু সে মতামতগুলো রাখা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ কোনো দলের সমর্থক গণমাধ্যম নেতাদের মতামত নিলে হবে না। সব পক্ষের লোকজনের মতামত নিতে হবে।’

সংবাদমাধ্যমের সবার সঙ্গে আলোচনা করে আইন করার পক্ষে মত দিচ্ছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব।

তিনি বলেন, ‘যাদের জন্য আইনটা করা তাদের নিয়ে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে এটা করতে হবে। তা না হলে আইনটা সফল হবে না।’

অর্থনৈতিক সংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি শারমীন রিনভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যম আইন নিয়ে অনেক দিন ধরে কথা হচ্ছে। কিন্তু আইনটি পুরোপুরি পাস করার আগে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। কোনো ধরনের আলোচনা না করে আইনটি সংসদে পাস হলে এটা সাংবাদিকদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

সংসদে কবে উঠছে

জাতীয় সংসদের শীতকালিন অধিবেশন শুরু হয়েছে রোববার। দুই কর্মদিবসের পর রোববার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংসদ সচিবালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন, বুধবার পর্যন্ত ‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন, ২০১৮’-এর খসড়া বিল আকারে সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখায় জমা হয়নি।

তবে চলমান অধিবেশনে এটি বিল আকারে উত্থাপনের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। আর সেটি হলে যে কোনো সময় এটি আইন শাখায় জমা পড়তে পারে বলেও জানান সংসদ সচিবালয়ের ওই কর্মকর্তা।

যা থাকছে গণমাধ্যমকর্মী আইনে

চাকরির এক বছর পর প্রভিডেন্ট ফান্ড

আইনের খসড়া অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করতে হবে। বর্তমানে নিয়োগের দুই বছর পর ভবিষ্যৎ তহবিলে মাসিক চাঁদা দেয়ার সুযোগ থাকলেও, নতুন আইনে তা এক বছর পরেই করার বিধান রাখা হচ্ছে।

সর্বনিম্ন ৮ ও সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অর্থ এই তহবিলে জমা রাখা যাবে। আগে ৭ শতাংশ অর্থ জমা রাখা যেত। মালিককে সমহারে টাকা রাখতে হবে।

সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৩৬

নতুন আইনে সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪৮ থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা করা হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কাজ করালে ওভারটাইম পাবেন সাংবাদিকরা।

ছুটিতে যত সুবিধা

১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে। অর্জিত ছুটি ৬০ দিনের বদলে ১০০ দিন। ১১ দিনে একদিন করে জমা হবে।

প্রত্যেক সংবাদকর্মী চাকরির ১৮ ভাগের এক ভাগ সময় অসুস্থতাজনিত ছুটি পাবেন। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে।

সংবাদকর্মীরা এককালীন বা একাধিকবার সর্বোচ্চ ১০ দিন উৎসব ছুটি ভোগ করতে পারবেন। নারীরা সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থাৎ ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। বর্তমানে আট সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পান নারী কর্মীরা।

খসড়া আইন অনুযায়ী সংবাদকর্মীরা তিন বছর পরপর পূর্ণ বেতনসহ শ্রান্তি বিনোদন ছুটি পাবেন। তারা বিধিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা পাবেন।

পাওনা আদায়ে করা যাবে মামলা

সংবাদ প্রতিষ্ঠান থেকে বকেয়া পাওনা আদায়ে কর্মী বা তার লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, মৃত কর্মীর ক্ষেত্রে তার পরিবারের কোনো সদস্য যথোপযুক্ত আদালতে মামলা করতে পারবেন।

খসড়ায় আইনে সংবাদকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তবে এটি বিধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

আইন ভাঙলে জরিমানা পাঁচ লাখ টাকা

এই আইনের কোনো ধারা বা আইনের অধীনে প্রণীত বিধি লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠান মালিককে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। জরিমানা আদায় না হলে জেল দিতে পারবে আদালত।

এ ছাড়া আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়াসহ যে কোনো পর্যায়ে সরকারের দেয়া যে কোনো সুযোগ-সুবিধা স্থগিত বা বন্ধ করে দিতে পারবে সরকার।

চাকরিবিধি পরিদর্শনে কমিটি

আইনে পরিদর্শন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিদর্শন কমিটির সদস্যরা পরিদর্শক হিসেবে গণ্য হবেন। পরিদর্শন কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে, প্রত্যেক সংবাদ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরিবিধি থাকবে, যা এই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংবাদ প্রতিষ্ঠানে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে প্রচলতি আইন অনুসরণ করে নীতিমালা প্রণয়ন করে অভিযোগ নিরসন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে।

সংবাদকর্মীদের জন্য প্রজ্ঞাপন দিয়ে সরকার ওয়েজবোর্ড গঠন করবে। ওয়েজবোর্ডের সিদ্ধান্ত সব সংবাদমাধ্যম মালিককে পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

রামপালে সরঞ্জাম পড়ে আছে, লোক নেই সংযোজনের

রামপালে সরঞ্জাম পড়ে আছে, লোক নেই সংযোজনের

সরঞ্জাম সংযোজন না করতে পারায় চালু করা যাচ্ছে না রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফাইল ছবি

বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ জন্য তিনি চলমান করোনা মহামারির পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন। বলেছেন, বিদেশি কর্মীরা করোনার কারণে আসতে পারছেন না।

বারবার উৎপাদনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও তা রাখতে পারছে না বহুল আলোচিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড।

প্রথম দফায় উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় প্রথম ইউনিটের কমিশনিং তারিখ ঠিক হয় ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং চূড়ান্ত করা হয় ২৬ মার্চ। কিন্তু এ দফায়ও সেই লক্ষ্যের কাছে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশের এই যৌথ কোম্পানি।

এখন প্রকল্পের মূল ঠিকাদার ভারতীয় কোম্পানি ভেল আগামী ২৬ মার্চ প্রথম ইউনিটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এদিকে বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ জন্য তিনি চলমান করোনা মহামারির পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাজী আফসার উদ্দীন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংকট হয়ে গেছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির জন্য। লোক ঠিকমতো আসতে পারছে না বা লোক যখন যাচ্ছে তখন তাদের নিজস্ব শিডিউল মতো আসতে দেয়া হচ্ছে না। তারা যখন আসতে চাচ্ছে, তখন তাদের সময়মতো ভারত থেকে আসতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু ভারত নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে আছে স্পেন, পোল্যান্ড, জার্মানি। সেখান থেকেও বিশেষজ্ঞরা সময়মতো আসছেন না। জার্মানি থেকে লোকবল যা আসার কথা ছিল, তা আসছে না।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট কমিশনিংয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। এ জন্য গত আগস্ট থেকে প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু লোকবল ঠিকমতো আসতে পারেনি। বাংলাদেশ ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছিল। কিন্তু বিভিন্ন দেশ তাদের কর্মীদের ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘এগুলো তো বিশেষজ্ঞদের কাজ। এগুলো আমাদের স্থানীয় লোক দিয়ে করা যায় না। আমাদের লোক হয়তো তাদের হেল্পার হিসেবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু কাজের সময় বিদেশি এই বিশেষজ্ঞদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘সরঞ্জাম আসছে। কিন্তু তা লোকবলের অভাবে সংযোজন করা যাচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো কোভিড-১৯। এখন যখন আমরা সব গুছিয়ে নিয়েছি, তখন আবার এই ওমিক্রন ঝামেলাটা শুরু হলো।

‘ভারতীয়দের ক্ষেত্রে আমরা যখনই আমাদের হাইকশিনকে বলেছি, তখনই তারা ভিসা করে রেখেছে। কিন্তু ওদের ওখানে এন্ট্রি হচ্ছে না। আমরা চিঠি লিখেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, ভারতের সাব কোম্পানিগুলো তাদের মূল কোম্পানি ভেলকে সহায়তা করছে না। এই নিয়ে ভেলের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব লেগে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আবার দেখা যাচ্ছে, আমরা আসতে বলছি ১৮ জনকে। তারা আসছে চারজন। আমরা বললাম, বাকিরা কোথায়? তারা বলল, আসবে। পরের সপ্তাহে এলো আরও পাঁচজন। পরের সপ্তাহে হয়তো এলো আরও চারজন। বাকিরা এলো না। এই যে আসা-না আসা, এটাই হলো মহাসংকট।’

তিনি বলেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো। ফলে এখানে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের আসতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপকরণ, যেমন- এফজিডি ও চিমনি এবং কোল লোডার ও শিপ আনলোডার এসে পৌঁছেছে। তেল সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান যমুনার সঙ্গে চুক্তি করে তেল এনে মজুদ করা হয়েছে। কেননা কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র কমিশনিং করতে তেল ও কয়লা দুটিই লাগে। এসব উপকরণ বসিয়ে রাখা হয়েছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারি-কাটাখালী ও কৈর্গদাশকাঠী এলাকায় ১ হাজার ৮৩৪ একর জমির ওপরে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি করে বাংলাদেশ ও ভারত।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে এই কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সমঝোতাও সই হয়। দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিপিডিবি ও এনটিপিসি যৌথ কোম্পানি গঠন করে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পায়।

২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় ২০১৬ সালের ১২ জুলাই। ইক্যুইটি বিনিয়োগ সমানভাগে ধরে মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট রামপাল বাস্তবায়নে গঠন করা হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।

১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল। বাস্তবায়নকারী কোম্পানি বিআইএফপিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, কাজ শুরুর তারিখ থেকে ৪১ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে হবে। সে হিসাবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষম হয়ে ওঠার কথা ছিল।

বিদ্যুৎ খাতের সরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও রামপাল প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রামপালের কাজ চলছে। তবে কয়লার বিষয়টি এখনও সুরাহা ওভাবে হয়নি। আশা করছি, ওটা হয়ে যাবে। আমরা আগেই ঠিক করে রেখেছি ইন্দোনেশিয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়া থেকে আমরা কয়লা নেব। আমাদের লক্ষ্য ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট শুরু করা। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মূল কাজ শেষ করতে দেরি হলেও ভূমি উন্নয়নকাজ, সীমানা প্রাচীর ও স্লোপ প্রোটেকশন কাজ, মূল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফেসিং কাজ, নির্মাণকাজের বিদ্যুৎলাইন, নির্মাণকাজের পানিসহ বেশ কিছু কাজের পুরোটাই শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি ইউনিট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে একটি ইউনিটের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারে যৌথ বিনিয়োগে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) যৌথ কোম্পানি গঠন করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

রাজশাহী মেডিক্যালে তেলাপোকার ‘রাজত্ব’

রাজশাহী মেডিক্যালে তেলাপোকার 
‘রাজত্ব’

তেলাপোকার উৎপাতে অতিষ্ঠ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড। ছবি: সংগৃহীত

এই সমস্যার কথা স্বীকার করে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তেলাপোকা নিয়ে আমরা বেকায়দায় আছি। বলতে পারেন ব্যর্থই হয়েছি।’

সব জায়গায় তেলাপোকার দৌড়াদৌড়ি। প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীটি এমন রাজত্ব গেড়ে বসেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডে; কাজে আসছে না তেলাপোকা তাড়ানোর কোনো উপায়। অসহায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বেডে বেডে ঘুরছে তেলাপোকা, কখনও কখনও উঠে যাচ্ছে রোগীর গায়েও। হেঁটে বেড়াচ্ছে খাবারের মধ্যেও। তিতিবিরক্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা। কোনোভাবেই ভাঙা যাচ্ছে না তেলাপোকার ঘরবসতি।

তেলাপোকা তাড়ানো নিয়ে ব্যর্থতার সুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কণ্ঠে। তারা বলছে, তেলাপোকা তাড়ানোর সব উপায় ব্যর্থ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায়ই আছেন তারা।

এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত উত্তরাঞ্চলের সব থেকে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এর মধ্যে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তেলাপোকার উৎপাত। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়েছে এগুলো। তেলাপোকা নিয়েই থাকতে হচ্ছে রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

রাজশাহী মেডিক্যালে তেলাপোকার 
‘রাজত্ব’
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডে তেলাপোকার এমন উৎপাত নিত্য দিনের চিত্র

এখানকার কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, রোগীর বিছানার নিচের দিকে বাসা বেঁধেছে অগণিত তেলাপোকা। কোনোটি বড়, কোনোটি সদ্য ফোটা বাচ্চা। এগুলো বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাসপাতালজুড়ে।

১০ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেল রোগীর বেশ কয়েকজন স্বজন তেলাপোকা তাড়াতে ব্যস্ত। এগুলো এখানকার মেঝে ও দেয়ালে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, খাবার রাখার র‌্যাকে খেলে বেড়াচ্ছে, রোগীর খাবারের বাটি, থালাতেও হেঁটে বেড়াচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, ভয়ংকর এক পরিস্থিতি এখানে। তেলাপোকা যেন আতঙ্ক তৈরি করে দিয়েছে রোগীদের মধ্যে।

ঐ ওয়ার্ডে জসিম উদ্দিন নামের এক রোগীর স্বজন বললেন, ‘আমরা পোকার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ। রোগী ও রোগীর স্বজন সবাই ভয়ের মধ্যে আছি। কোনো খাবার রাখা যাচ্ছে না। রোগীর শরীরের ওপরেও হেঁটে বেড়াচ্ছে। পা বেয়ে শরীরে উঠে যাচ্ছে।

‘ছোট ছোট বাচ্চা এখানকার রোগী। তাদের কানে বা নাকে ঢুকে যায় কি না- এটা নিয়ে সব সময়ই ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শত শত বাচ্চা রোগী আছে, তাদের কানে বা নাকে-মুখে প্রবেশ করলে কী বিপদ হতে পারে একবার ভেবে দেখেন।’

মেডিসিন ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এমনিতেই এই হাসপাতালের সেবা নিয়ে মানুষের মুখে নানা অভিযোগ শুনি। এখানে এসে তেলাপোকার উৎপাত দেখতে পাচ্ছি। চরম বিরক্তিকর। কোনো খাবার রাখা যাচ্ছে না। অনেকটা অরুচিকর বিষয়। সব থেকে ভয়ের বিষয় এগুলো যেকোনো সময় নাকে-মুখে ঢুকে যেতে পারে।’

রাজশাহী মেডিক্যালে তেলাপোকার 
‘রাজত্ব’

এই সমস্যার কথা স্বীকার করে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তেলাপোকা নিয়ে আমরা বেকায়দায় আছি। বলতে পারেন ব্যর্থই হয়েছি।’

তেলাপোকার উৎপাত নিয়ে তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখতে পারার কারণেই এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে রোগীর যে চাপ, ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকেন রোগী বা তাদের স্বজনরা। ওয়ার্ডগুলো ঠিকভাবে পরিষ্কার করাও যায় না। এসব কারণেই এই সমস্যাটা বেশি হয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘যারা তেলাপোকা মারে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা এসে দেখে গেছেন। তারা এক একটি ওয়ার্ড ঠিক করতে ৬-৭ লাখ টাকা করে চেয়েছিল। আমরা সেটাও দিতে চেয়েছি।

‘তারা বলছেন, যেদিন যে ওয়ার্ডে কাজ করবেন সেদিন ওই ওয়ার্ড ফাঁকা রাখতে হবে। এটা আসলে আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের এখানে এমনিতেই জায়গার অভাব। ওয়ার্ড বন্ধ করে কাজ করানো যাবে না। আবার রোগী রেখেও এগুলো মারার ওষুধ দেয়া যাবে না। এখন দেখি বিকল্প কিছু করা যায় কি না।’

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

যে কারণে আইভী বারবার

যে কারণে আইভী বারবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিন বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সেলিনা হায়াৎ আইভীকেই কেন বারবার বেছে নেয় নারায়ণগঞ্জবাসী? সেটা কী মেয়র হিসেবে তার পারফরম্যান্স, নাকি শামীম ওসমান বিরোধিতা?

উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততা—এই তিন গুণ দিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জবাসীর মন জয়ের পাশাপাশি আস্থা অর্জনে সফল হয়েছেন বলে মনে করেন নগরের বিশিষ্টজনরা।

তারই ধারাবাহিকতায় এই হ্যাটট্রিক জয় এসেছে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে আইভী ভোটযুদ্ধে পাস করলেও এই জয় নৌকার নয় বলে অভিমত তাদের।

রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট। সেই ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে উড়িয়ে দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নেন আইভী। ব্যবধান ছিল ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোট। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট না হলে এই ব্যবধান আরও বড় হতে পারত বলেও বিজয়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন মেয়র আইভী।

আইভীর পথটি অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। তার কারণ নারায়ণগঞ্জের ভোটের সমীকরণ। এখানকার হিসাব-নিকাশ দেশের আর ১০টি এলাকার চেয়ে ভিন্ন। এই জেলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আর সেই বিরোধ হয়ে ওঠে নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয়।

২০১৬ সালে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি এলে আওয়ামী লীগ আস্থা রাখেন আইভীর ওপর। সেই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে ৭৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান আইভী।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা দেয়ার পর প্রথম নির্বাচন হয় ২০১১ সালে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও দলের সমর্থন বঞ্চিত হন আইভী। কিন্তু তৎকালীন পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের মাঠে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হয়ে ওঠে প্রকাশ্য। নির্বাচনে কী হবে না হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাখো ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে পরাস্ত করে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আইভী।

এমনকি তার আগে যে পৌরসভা ছিল, তারও নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়নি আইভীকে। ওই সময়ের জেলা বিএনপির সহসভাপতি নূর ইসলামকে হারিয়ে পৌরসভার নেতৃত্ব নেন তিনি।

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘সব কটি নির্বাচন ছিল চ্যালেঞ্জিং। এটিও তার চেয়ে কম নয়। একেকটার ধরন একেক রকম। আমি এত চ্যালেঞ্জের কথা বলতে চাই না। নির্বাচন মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা-প্রতিযোগিতা।’

কোন জাদুমন্ত্রে তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছেন, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশ্নটি রাখা হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে।

মৃদু হেসে নবনির্বাচিত এই মেয়র বলেন, ‘আমার যত কিছু হয়েছে বা অতীতেও যে বিজয় হয়েছে, সব কিছুর মূলে কিন্তু আমার জনশক্তি, জনস্রোত এবং জনসমর্থন। জনসমর্থন যদি না থাকত, তাহলে আমি নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না।’

কেন এই জনসমর্থন তার ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন নৌকা প্রতীকের এই বিজয়ী।

আইভী বলেন, ‘এটা সত্যি যে, জনগণের যে আস্থা আমার প্রতি, তার কারণ মানুষকে কখনও মিথ্যে বলিনি, কখনও অযথা আশ্বাস দিইনি। আমি গতানুগতিকের বাইরে গিয়ে যে আপনাদের সঙ্গে মিশেছি, কাজ করেছি, যেটা পেরেছি সেটা করেছি, যেটা পারিনি সেটা বলিনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিঃস্বার্থভাবে মানুষকে ভালোবেসেছি, মানুষ প্রতিবারই আমাকে প্রতিদান দিয়েছে।’

আইভীর এই সাফল্যকে উন্নয়ন, সাহসিকতা ও সততার মেলবন্ধন মনে করে নারায়ণগঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘এটা খুব সহজ জিনিস। প্রথমত তার কাজ, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দিনে তিনি মানুষের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন। এটি উন্নয়ন বলি বা অন্য যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করি। এটা নগরবাসীর কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সাফল্যের দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ধীমান সাহা বলছেন, সেলিনা হায়াৎ আইভীর সততার কথা।

তিনি বলেন, ‘এসব কাজের পেছনে তার সততা ছিল। একটা মানুষ শতভাগ সৎ হয় না। তিনি ৯৯ পার্সেন্ট সৎ ছিলেন। এটা নগরবাসী দেখেছে। তার কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা ছিল, সততা ছিল। সততার পাশাপাশি জবাবদিহিও ছিল।

‘আমরা দেখেছি, মেয়র আইভীর পেছনে প্রতিপক্ষের অন্তত ১০০টা ক্যামেরা লাগানো ছিল। এখানে আমি আক্ষরিক ক্যামেরার কথা বলছি না, দৃষ্টিকে বুঝিয়েছি। এত কিছুর পরও তিনি তার কাজটি করে গেছেন। তাই সততা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে আমার কিছু বলার আছে বলে মনে হয় না।’

আইভীর ‘সাহস’ তাকে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়েছে বলেও মত তার।

ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘কোনো একটি কাজ করতে গিয়ে যদি একটা বিল্ডিং ভাঙতে হয় বা কারও একটু ক্ষতি হয়ে যায়, তারপরও দশজনের কল্যাণের জন্য কাজটা তিনি করেছেন। এই সাহসটা অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির মধ্যে দেখা যায় না।’

নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের প্রসঙ্গ টেনে ধীমান সাহা বলেন, ‘সাহস দুই ধরনের। একটি হচ্ছে কাজ করার সাহস। আরেকটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের একটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার যে সাহস। সৎ থেকে, কাজ করে, শুভ শক্তির সঙ্গে থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা। অশুভ শক্তি প্রতিটা জেলায়ই আছে। প্রতিটা জেলায়ই একাধিক অশুভ শক্তি থাকে। পাশাপাশি শুভ শক্তিও থাকে। শুভ শক্তিদের যে সম্মিলন, অশুভ শক্তিকে পরাভূত করার যে সাহস, লড়াই করার যে সাহস, তা আইভীর মধ্যে আছে।’

আর তাই আইভী জনমানুষের হৃদয়ে আছে জানিয়ে ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘গতকাল এর প্রতিফলন আমরা দেখেছি, মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে।’

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল করিম দীপু মনে করেন উন্নয়ন, সন্ত্রাস বিরোধিতা আর তরুণদের কাছে টানতে পারার ক্ষমতার দিক বিবেচনায় নিলে, অন্য যে কোনো প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তিনি বলেন, ‘এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে মানুষ উন্নয়ন চায়। এখানে উন্নয়নের জয় হয়েছে। উনি দৃশ্যমান উন্নয়ন অনেক করেছেন, আমরা দেখেছি।’

দীপু বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতায় সন্ত্রাসবিরোধী যে অবস্থান, সেটা একটা ব্যাপার। তিনি একজন ভিশনারি মেয়র। ছোট করে হলেও ভবিষ্যতে কী কী করবেন তার ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে ছিল সবুজবান্ধব নগরী গড়া, যেটাকে আমরা বলছি গ্রিন কনসেপ্ট।’

গ্রিন কনসেপ্টই তরুণদের কাছে টানার কৌশল বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বয়স্ক ভোটার, তারা এতটা বুঝি না। আমরা হয়তো গ্রিন কনসেপ্ট মানে গাছ লাগানো বুঝি। কিন্তু যারা তরুণ ভোটার, তাদের জন্য বিষয়টা জরুরি। তারা এই বিষয়গুলো আমলে নিয়েছে বলে আমি মনে করি।’

আইভীর পারিবারিক পরিচয়কেও বড় করে দেখছেন দীপু। তিনি বলেন, ‘তার পরিবারের ভক্ত যারা আছেন, তারা সংখ্যায় বিশাল, যারা ওনার বাইরে যাবে না।’

বন্দরকে মূল শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে শীতলক্ষ্যা নদীতে সেতু তৈরি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি। অন্তত নির্বাচনের মাঠে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তার গুরুত্ব বোঝা গেছে।

জাহিদুল করিম দীপু বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলা থেকে একটা দাবি ছিল কদম রসুল ব্রিজ। তিনি এর ব্যাপারে বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্রিজটির কাজের উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন।’

এ ছাড়া সামাজিক বাস্তবতায় নারীদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তার পাস করাকে নৌকার বিজয় বলতে নারাজ তিনি। বলেন, ‘সাংস্কৃতিক জোট একটা লিফলেট করেছে, যেখানে কোনো মার্কা নেই। বর্তমান যে অবস্থা, সেখানে বিভিন্ন কারণে মানুষের নৌকা প্রতীকের প্রতি অনীহা আছে। কিন্তু আইভী এর ঊর্ধ্বে। লিফলেটেও বলা হয়েছে, আইভীকে সর্বস্তরের মানুষ ভোট দিবে এবং সেভাবেই আইভীর জয় হবে।’

নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘মানুষ আইভীকে ভোট দিয়েছে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তার সাহসিকতা ও গত ১০ বছরে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন সে জন্য।’

সব গুণ বাদ রেখে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করাকে এগিয়ে রাখলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, ‘যেটা দৃশ্যমান দেখি, যেটা অনুভব করি, সেটা হলো কাজ। নিজের কর্মক্ষেত্র দিয়েই তো মানুষের পরিচয়। কাজই তাকে আর সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। সিটি করপোরেশন বলি, ইউনিয়ন পরিষদ সবখানেই তো পাবলিক ফাংশন। মানুষ আসলে কাজ দিয়েই মূল্যায়ন করে।’

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

স্থানসংকুলান না হওয়ায় রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের প্রায় ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ রাখা হয়েছে গুদামঘরে। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের সবচেয়ে পুরোনো এ জাদুঘরে প্রায় ১৯ হাজারের মতো প্রত্ননিদর্শন আছে। অথচ জায়গার অভাবে প্রদর্শন করা হয় ১১০০ থেকে ১২০০ নিদর্শন। মূল্যবান প্রাচীন পুথির পাণ্ডুলিপি নষ্ট হচ্ছে সংরক্ষণের সুযোগের অভাবে।

রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের বেশির ভাগ প্রত্ননিদর্শন জায়গার অভাবে প্রদর্শন করা যাচ্ছে না। যেগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে না, সেগুলো গুদামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে দিনে দিনে এগুলো নষ্ট হচ্ছে।

প্রস্তর ও ধাতব প্রত্নভাস্কর্য, টেরাকোটা, মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি, ধাতবসামগ্রী এবং শিলালিপি মিলে প্রায় ১৯ হাজারের মতো প্রত্ননিদর্শন রয়েছে এখানে। এর মধ্যে মাত্র ১১০০ থেকে ১২০০ নিদর্শন প্রদর্শিত হয়। স্থানসংকুলান না হওয়ায় প্রায় ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ রাখা হয়েছে গুদামঘরে। প্রদর্শিত হচ্ছে মাত্র ৬ ভাগ।

এ জাদুঘরে রয়েছে অনেক প্রাচীন পুথি, যা রাখা হয়েছে একটি ঘরে। সেটি প্রদর্শনের জন্য নয়। যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে এগুলো এখন নষ্টের পথে। এগুলোর ডিজিটাল কপি নেই জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে হাজার বছরের পুরোনো পুথিগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর দেশের প্রাচীনতম সংগ্রহশালা। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত। বাংলার প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভাস্কর্যের শ্রেষ্ঠ সংরক্ষণাগার এ জাদুঘরের সূচনা ঘটে ১৯১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। দুই বাংলার ইতিহাসে এ সমিতিই প্রথম জাদুঘর কার্যক্রম শুরু করে। ১৯১৪ সালে এই সমিতিকে ‘১৮৬০ সালের ভারতীয় সমিতি আইন’ অনুযায়ী নিবন্ধন করা হয়।

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!
অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা নানা পাণ্ডুলিপি। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের তিন কৃতি সন্তান দীঘাপতিয়ার রাজবংশজাত দয়ারামপুরের জমিদার প্রত্ন অনুরাগী শরৎকুমার রায়, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং খ্যাতনামা নৃতত্ত্ব ও শিক্ষাবিদ রমাপ্রসাদ চন্দ্রের উদ্যোগে এই অনুসন্ধান সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বরেন্দ্র অঞ্চল এবং বাংলার ইতিহাস, শিল্প, সাহিত্য, ধর্ম, সমাজ প্রভৃতি বিষয়ে প্রামাণ্য তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য শরৎকুমার রায়ের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পুরাতত্ত্বের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে তিনি এই জাদুঘর ভবনের নির্মাণের খরচ জোগান।

১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলার তখনকার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল। নির্মাণ শেষে ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর এর দ্বার উন্মোচন করেন লর্ড রোনান্ডসে। এরপর জাদুঘর ও সমিতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ১৯৩৭ সালের ৬ নভেম্বর আধাসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতে থাকে এটি। ১৯৪৭ সালের পরে জাদুঘরটি রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকিয়ে রাখা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা থেকে উন্নয়ন ঘটাতে ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রায় পনের শ বছরের প্রাচীন প্রস্তর ও ধাতব প্রত্ন নিদর্শন, খ্রিষ্টপূর্ব এবং মুসলিম ও প্রাক-মুসলিম যুগের বিভিন্ন শ্রেণির মুদ্রা, হাজার বছরের প্রাচীন পুথি সাহিত্যের পাণ্ডুলিপি নিয়ে সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক এই জাদুঘর। এখানে ধাতব প্রত্নভাস্কর্য, টেরাকোটা, মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি, ধাতবসামগ্রী এবং শিলালিপি মিলে প্রায় ১৯ হাজারের মতো প্রত্ননিদর্শন রয়েছে।

টেরাকোটা পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্য ও মিশ্র ধাতুতে নির্মিত মুদ্রা আছে সাড়ে ছয় হাজারের মতো। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগের রৌপ্যমুদ্রাও আছে এখানে। মিউজিয়ামে আছে প্রাচীন পুথি সাহিত্যের পাণ্ডুলিপি, যার অধিকাংশ সংস্কৃত ও আদি বাংলা ভাষায় রচিত। এর মধ্যে সংস্কৃত পুথি আছে ৩ হাজার ৯০০ আর বাংলা পুথি ১৭০০। সবচেয়ে বেশি আলোচিত তালপাতায় লেখা ও রঙিন চিত্রকর্ম শোভিত ত্রয়োদশ শতকের দুটি অষ্ট সাহস্রিকা প্রজ্ঞা পারমিতা পাণ্ডুলিপি, যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

স্থানসংকুলান না হওয়ায় ১৯ হাজার নিদর্শনের মধ্যে প্রদর্শনের জন্য জাদুঘরের ১১টি গ্যালারিতে প্রায় ১২০০ প্রত্ননিদর্শন রাখা হয়েছে। বাকিগুলো জাদুঘরের পাঁচটি গুদামঘরে। ফলে প্রাচীন এই নিদর্শনগুলো দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। আবার বদ্ধ ঘরে রাখার ফলে নিদর্শনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। মূল্যবান এই মিউজিয়াম রক্ষায় রয়েছে নিরাপত্তারও ঘাটতি। লাঠি হাতে কোটি টাকার সম্পদ পাহারা দেন এখানকার আনসার সদস্যরা। নেই কোনো সিসিক্যামেরা।

জাদুঘর ঘুরে দেখা যায়, ভেতরের বারান্দায় অনেক প্রত্নভাস্কর্য ফেলে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি মূর্তি ভাঙা। পুথি রাখার কক্ষ ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ২৮টি সেলফে এসব নিদর্শন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। কোনো কোনোটি এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ২৮ নং সেলফের একটি তালপাতার পুথি খুলে দেখা যায় সেটিতে ঘুণ ধরে গেছে। প্রতিটি পাতার প্রান্তে ফুটো।

এদিকে এসব প্রত্ননিদর্শন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন ইতিহাসবিদরা। তাদের দাবি এগুলো অন্তত একটি করে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ দরকার।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘জাদুঘরে আমাদের অনেক নিদর্শন আছে। এগুলো কোনো কোনোটি বিশ্বজুড়ে বিরল পুথি। তালপাতার ও অন্যান্য কাগজের উপকরণ হওয়ায় এগুলো এখন নষ্টের পথে। তবে এগুলোকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেখাতে হবে। এগুলো প্রদর্শনের জন্য দিতে হবে। পাশাপাশি এগুলোকে এখনই সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল কপি প্রয়োজন।’

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক অধ্যাপক আলী রেজা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘সব প্রত্ননিদর্শন স্টোর রুম থেকে বের করে ডিসপ্লের জন্য একটা মাস্টারপ্ল্যান দেয়া হয়েছে। এ জন্য মূল ভবনের বাইরে ফাঁকা জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ বা মূল ভবনের পেছনে পরিচালকের বাসভবনের ওপরে বহুতল ভবন নির্মাণ করার জন্য মাপামাপি করা হয়েছে। দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন হবে। তখন সবগুলোই আমরা উপস্থাপন করতে পারব।’

বরেন্দ্র জাদুঘরের ৯৪ ভাগ প্রত্নসম্পদ গুদামে!

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জিনিসেরই একটি মেয়াদকাল আছে। আমাদের এখানের পুথিগুলো নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য আমরা একটি ডিজিটাল স্ক্যানার চেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটি দিলে এগুলোকে আমরা সংরক্ষণ করব।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘আমরা জানি দীর্ঘদিন ধরে এটি উপেক্ষিত অবস্থায় আছে। আমরা এটিকে নিয়ে পরিকল্পনা করছি। সম্প্রতি জাদুঘরের উন্নয়ন নিয়ে সভাও করেছি। এখানকার প্রত্ননিদর্শনগুলো সংরক্ষণ থেকে শুরু করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার কাজ শুরু হবে। সেই সঙ্গে জাদুঘরের আধুনিকায়নেরও কাজ হবে।’

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত

নির্বাচন ঘিরে কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নে মাঠে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে নামে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষের চিত্র ছিল দেশের অন্যান্য জেলার মতোই। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়নি এমন ইউপিগুলোতে ছিল তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কয়েকটি জেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখায় সংঘাত-সংঘর্ষ কম হয়েছে।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি এমন অনেক জেলায়ও নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। তৃণমূলে দলের নামে সংঘাতে কয়েকটি ইউনিয়নে প্রাণহানিও ঘটেছে। হামলা-মামলার মুখে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে প্রথম থেকে পঞ্চম দফা পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনের সার্বিক বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তৃণমূলে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন চান না অধিকাংশ দলীয় নেতা-কর্মীই। তবে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দিলে দল শক্তিশালী হবে- এমন দাবিও রয়েছে।

মাদারীপুরের তিনটি আসনেই দুই যুগের বেশি সময় ধরে একক আধিপত্য আওয়ামী লীগের। তারপরও এবার স্থানীয় নির্বাচনে সদর, রাজৈর ও শিবচর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এর বাইরে কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১২ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৯টি ইউনিয়নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তিনটি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা।

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, প্রথম দফা ইউপি নির্বাচনে শিবচর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে কাউকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। সেখানে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতিতে নির্বাচন হয়। উন্মুক্ত প্রার্থিতা থাকায় আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে বিশ্বাসীরাই মূলত এসব ইউনিয়নে জয়ী হন। আর নৌকা প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে তেমন সংঘাত-সংঘর্ষও ঘটেনি।

দ্বিতীয় ধাপে কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়। ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে’ অযোগ্য লোককে নৌকার মাঝি করায় সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কালকিনির চর দৌলতখান (সিডিখান) ইউনিয়নে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. চান মিয়া সিকদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। ভুরঘাটা-মোল্লারহাট সড়কের বটতলা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টির ঘটনাও ঘটে।

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
ভোটের প্রচারকালে দফায় দফায় সংঘর্ষে মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের প্রচারকালে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় শিকারমঙ্গল, সিডিখান, আলীনগর, ডাসার, কয়ারিয়াসহ প্রায় সব কটি ইউনিয়নে। গত ২৮ অক্টোবর আলীনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন সর্দারের বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ১০টি মোটরবাইক, একটি প্রাইভেট কারসহ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে।

তবে সাহিদ পারভেজের দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনই বরং নৌকা প্রতীক ভেঙেছেন। এর আগে শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিরাজুল হক মৃধার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল আলম মালের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুরসহ অন্তত ২০ জনকে আহত করেন।

ডাসার উপজেলায় গত ২ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুজ কাজী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম ভাসাই শিকদার ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর চার সমর্থকসহ এক নারী সাংবাদিক আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

৬ নভেম্বর কালকিনির কয়ারিয়া ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাকির হোসেন জমাদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল হাসান নুর মোহাম্মদ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণসহ ৫০ মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ১২ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

এ ছাড়া ১০ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে সিডিখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী চান মিয়া শিকদার ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলন মিয়ার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আটজন। তাদের মধ্যে আলমগীর হোসেন প্যাদা নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় মামলা ও আটকের সংখ্যাও কম না। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া একই উপজেলার কয়ারিয়া, শিকারমঙ্গল, লক্ষ্মীপুর, ডাসার উপজেলার গোপালপুর, বালীগ্রাম, ডাসারসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টাহামলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় কালকিনি ও ডাসার থানায় ২০টির বেশি মামলা হয়।

তবে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে সদর, রাজৈর, শিবচর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় তেমন সংঘাত হয়নি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক বেশি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়নি। পরাজয় হয়েছে মনোনয়ন বাণিজ্যের। যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে নৌকা কিনে এনেছেন। এ কারণে জনগণ মনোনয়ন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে তাদের রায় দিয়েছেন। আর মনোনয়ন উন্মুক্ত থাকা ইউপিগুলোতে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরাও সবাই আওয়ামী লীগ করেন। এসব ইউপিতে হামলা-মামলার ঘটনাও কম ঘটেছে।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী না হওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে নৌকার পরাজয় হতো না। যেখানে অযোগ্য প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, সেখানে সংঘর্ষের ঘটনাও বেশি ঘটেছে। আমি মনে করি দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। এখানে অধিকাংশ মানুষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে মাদারীপুরের কয়েকটি উপজেলায় নৌকা প্রতীক না দেয়ার অনুরোধ করেছিলাম। তাই এসব স্থানে নৌকা না দেয়ায় বিনা রক্তপাতে নির্বাচন হয়েছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করব।’

ইউপি নির্বাচন: প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কমেছে উত্তাপ-সংঘাত
নির্বাচনে গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের পাশের জেলা শরীয়তপুরেও ৬৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪২টিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচন হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন হয়েছে শরীয়তপুর সদরের ৯ ইউপিতে। এ নয়টি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে কয়েকজন নির্বাচিত হন। তবে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলা-মামলার ঘটনা বেশি ঘটে। এর মধ্যে চিতলিয়া ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। দলীয় প্রার্থীর কর্মীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয় এসব ইউনিয়ন। পরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে আ‌ওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নবিহীন নির্বাচন হয়।

শরীয়তপুর নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, তৃতীয় ধাপে গোসাইরহাট উপজেলার ৭, চতুর্থ ধাপে ডামুড্যা উপজেলার ৭ ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১২ এবং পঞ্চম ধাপে নড়িয়ার ১৫ ও জাজিরার একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ছাড়া নির্বাচন শেষ হয়। এসব নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলি ও মারামারির ঘটনা ঘটলেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেনি।

আওয়ামী লীগের বাতিঘর খ্যাত গোপালগঞ্জ জেলায় ৬৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর উপজেলার ১৫টিতে উন্মুক্তভাবে নির্বাচন হয়েছে। অন্যগুলোর মধ্যে কোটালীপাড়ায় ৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একটি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি। বাকি ৫০টিতে দলীয় প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব এলাকা আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা কম ঘটেছে।

তবে নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়নি এমন ইউনিয়নগুলোর চেয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট হওয়া ইউপিগুলোতে নির্বাচনি উত্তাপ বেশি ছিল।

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

উপহার পাওয়া পাতিলটি কুড়িগ্রাম সদরের একটি গ্রামে বসিয়েছে বিদ্যানন্দ। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যানন্দের হেড অফ কমিউনিকেশন সালমান খান ইয়াসিন নিউজবাংলাকে জানান, ১২ ফুট ব্যাস ও ৬ ফুট গভীর এ পাত্রে একবারে ১০ হাজার মানুষের খাবার রান্না সম্ভব। ২০ বছর আগে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি পাতিলটি ডুববে না। বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রয়োজনে এটি ভাসিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য কোথাও নেয়া যাবে।

মানুষকে খাইয়ে আনন্দ পেতেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী ও সাধক সৈয়দ এস এম জাহিদুল হক। বিশাল এক পাতিলে রান্না হতো সে খাবার। দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের বছর ২০২০ সালে সংক্রমণে জাহিদুলের মৃত্যুর পর সে আয়োজনে ভাটা পড়ে। এতে পাতিলটিও অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। এমন বাস্তবতায় বিশাল পাত্রটি কাউকে উপহার দেয়ার চিন্তা করেন জাহিদুলের তিন সন্তান।

এত বড় পাতিল কাদের দরকার হবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনার পর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দের কথা মাথায় আসে তাদের। সে ভাবনা থেকেই বিদ্যানন্দের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জানুয়ারি পাতিলটি এক টাকায় আহার করানো সংগঠনকে উপহার দেয়া হয়।

পাতিলটির বিশেষত্ব

বিদ্যানন্দের হেড অফ কমিউনিকেশন সালমান খান ইয়াসিন নিউজবাংলাকে জানান, ১২ ফুট ব্যাস ও ৬ ফুট গভীর এ পাত্রে একবারে ১০ হাজার মানুষের খাবার রান্না সম্ভব। ২০ বছর আগে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি পাতিলটি ডুববে না। বন্যাদুর্গত এলাকায় প্রয়োজনে এটি ভাসিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য কোথাও নেয়া যাবে।

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

রান্না শুরু কবে

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চরসুভরকুটি গ্রামে এরই মধ্যে পাতিলটি বসানো হয়েছে। শিগগিরই এতে রান্না শুরু হবে।

বিদ্যানন্দের কর্মকর্তা সালমান জানান, সংগঠনটির আগে থেকে বড় একটা পাতিল ছিল। তাতে সাড়ে তিন হাজার মানুষের রান্না করা যেত। আরও বড় পাতিল পাওয়ায় এখন তিন গুণের বেশি মানুষকে খাওয়ানো যাবে।

তিনি আরও জানান, আগের পাতিলের মতো এটিতেও গ্যাসে রান্না হবে। একসঙ্গে বেশি মানুষের খাবার আয়োজনের সুবিধা থাকায় এর মাধ্যমে জনবল ও খরচ কমে আসবে বিদ্যানন্দের।

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

পাতিলে কি নিয়মিত রান্না হবে

এ বিষয়ে বিদ্যানন্দের হেড অফ কমিউনিকেশন সালমান খান জানান, বর্তমানে ছয় বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিদ্যানন্দের কিচেনে রান্না হয়। দিনে গড়ে তিন হাজার মানুষ এক টাকার এসব খাবার খান। এ কারণে রোজই এত বড় পাতিল ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, তবে যেকোনো উৎসব বা বিশেষ মুহূর্তের আয়োজনে এমন পাতিলের প্রয়োজন হবে। সে সময় এটি ব্যবহার করা হবে।

উপহারের পাতিলে ১০ হাজার মানুষের রান্না

তিনি আরও জানান, বিদ্যানন্দ দুই ঈদ, দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা কিংবা বড়দিনের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবে ৫ হাজারের বেশি মানুষের খাবারের আয়োজন করে। এর বাইরে বন্যার মতো প্রাকৃতিক ‍দুর্যোগে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের খাবার রান্না করা হয়। এমন মুহূর্তগুলোতে উপহারের পাতিলটি ব্যবহার করা হবে, তবে প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটি ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
আবার এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল খেলাপি ঋণ
ওয়ালটন-ক্র্যাব ক্রীড়া উৎসবে শুটিংয়ে তৃতীয় নিউজবাংলার রাফসান
ঋণখেলাপি মামলায় বাগদাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
‘এক্স জেন্ডার’ পাসপোর্ট চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শীৎকারের ভালো-মন্দ

শেয়ার করুন