জামাল-তপুর নৈপুণ্যে মালদ্বীপ বধ

জামাল-তপুর নৈপুণ্যে মালদ্বীপ বধ

জামাল ভূঁইয়া ও তপু বর্মণ। ছবি: বাফুফে

শ্রীলঙ্কায় চার জাতি টুর্নামেন্টে মালদ্বীপকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার মুক্তি দিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। ১৮ বছর পর দেশটির বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ।

আঠারো বছর পর মালদ্বীপকে কোনো ফুটবল ম্যাচে হারাল বাংলাদেশ। জয়টি এমন সময় এলো যখন দলে নেই এক ঝাঁক তারকা ফুটবলার। তার ওপর প্রথম ম্যাচে দুর্বল সিশেলসের সঙ্গে ড্র করে সমালোচনার মুখে ছিল টাইগাররা।

দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে যেন সব সমালোচনার জবাব দিল জামাল ভূঁইয়ারা।

শ্রীলঙ্কায় চার জাতি টুর্নামেন্টে মালদ্বীপকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

আলী আশফাকদের বধ করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম আলোর ফুলকিটা দেখিয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। ম্যাচের ১১ মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন এই মিডফিল্ডার। ৩২ মিনিটে ফরোয়ার্ড আইসামের গোলে সমতায় ফেরে মালদ্বীপ।

বাংলাদেশকে স্বস্তিতে ফেরায় তপু বর্মণের গোল। ম্যাচের শেষ দিকে জুয়েল রানা যখন পেনাল্টিটা আদায় করে নিলেন তখন সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি তপু। তার গোলেই নিশ্চিত হয় মালদ্বীপ বধ।

দুর্দান্ত ডিফেন্সে মালদ্বীপের আক্রমণ রুখে দেয়ার পাশাপাশি গোলের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা বগলদাবা করেন তপু।

নিজের করা গোলটা অধিনায়ক জামালের ক্যারিয়ারে বিশেষ হয়ে থাকবে। সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলের দেখা পেলেন তিনি। সেটাও এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে।

এশিয়ান গেমসে জামালের গোলে কাতারকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বে উঠেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

এই জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এক ড্র আর এক জয়ে সর্বোচ্চ চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে মারিও লেমসের বাহিনী।

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

রাহবারের অভিষেকের দিনে সহজ জয় শেখ জামালের

রাহবারের অভিষেকের দিনে সহজ জয় শেখ জামালের

ওটাবেকের গোলের পর শেখ জামালের উল্লাস। ছবি: বাফুফে

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শনিবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে শেখ জামাল। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে দেশের ঘরোয়া ফুটবলে অভিষেক হয়েছে প্রবাসী ফুটবলার রাহবার খানের।

জাতীয় দলের পর এবার দেশের ঘরোয়া ফুটবলে অভিষেক হয়েছে প্রবাসী ফুটবলার রাহবার খানের। অভিষেকেই গোল করিয়েছেন। সহজ জয়ে স্বাধীনতা কাপের মিশন শুরু করেছে তার দল শেখ জামাল।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শনিবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে শেখ জামাল।

রানার আপ হয়ে গত প্রিমিয়ার লিগ শেষ করা শেখ জামাল এ ম্যাচে দাপট নিয়ে খেলেছে। পুরো ম্যাচে মুহূর্মুহূ আক্রমণে বিমান বাহিনীর রক্ষণ ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল।

তবে ম্যাচের আলোটা কিছুটা নিজের করে নেন রাহবার খান। তার অভিষেকটাও হলো রঙ্গীন। প্রথম ম্যাচেই মূল একাদশে খেলেছেন। গায়ে চাপিয়েছেন সাত নম্বর জার্সি।

ধারাবাহিক আক্রমণ সাজিয়ে ম্যাচের ১৬তম মিনিটে ভালিজানব ওটাবেকের গোলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। সলোমন কনফার্মের এগিয়ে দেয়া পাস থেকে ডি-বক্সের বাম প্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান ওটাবেক।

এক গোলের লিড নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫১ মিনিটে এবার সলোমনের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে শেখ জামাল। ওটাবেকের বাড়িয়ে দেয়া বলটা ডি-বক্সের বাম প্রান্ত থেকে দারুণ ভলিতে বল বারের কোনা বরাবর জালে পাঠিয়ে দেন এ নাইজেরিয়ান।

তার তিন মিনিট পরেই রাহবারের অ্যাসিস্ট থেকে সোহানুরের গোলে ব্যবধান মুহূর্তেই ৩-০ করে ফেলে শেখ জামাল। মাঝমাঠের সামনে পাওয়া বলটা যখন ভাসছে তখন চিপ পাসে বলটা এগিয়ে দেন রাহবার। ফাঁকায় পেয়ে একাই টেনে নিয়ে গিয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সোহানুর।

আধিপত্য নিয়ে খেলা শেখ জামালের বিপক্ষে সেভাবে দাঁড়াতেই পারেনি বিমান বাহিনী। তবে একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত একটা গোল করতে করতে যেন করা হয়নি সুমন রেজার। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে তিনজনকে ড্রিবলিং করে বাঁ পায়ে শট নেন সুমন। বল চলে যায় বারের গা ঘেষে।

আর ফেরা হয়নি তাদের। সহজ জয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে শেখ জামাল। এ জয়ে গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে ওঠে গেল ধানমন্ডির জায়ান্টরা। একই পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে শেখ রাসেল।

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

জয় দিয়ে স্বাধীনতা কাপ শুরু শেখ রাসেলের

জয় দিয়ে স্বাধীনতা কাপ শুরু শেখ রাসেলের

উত্তর বারিধারার পোস্টে শেখ রাসেলের আক্রমণ । ছবি: বাফুফে

শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শনিবার বিকালে বারিধারাকে এক গোলে হারিয়েছে স্বাধীনতা কাপের সবশেষ আসরের রানার আপ দল শেখ রাসেল। একমাত্র গোল আসে মান্নাফ রাব্বির পা থেকে।

তিন বছর পর মাঠে গড়াল স্বাধীনতা কাপ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে উত্তর বারিধারাকে হারিয়ে মিশন শুরু করেছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।

শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শনিবার বিকালে বারিধারাকে এক গোলে হারিয়েছে স্বাধীনতা কাপের সবশেষ আসরের রানার আপ দল শেখ রাসেল। একমাত্র গোল আসে মান্নাফ রাব্বির পা থেকে।

উত্তর বারিধারার বিপক্ষে লিগে দুই বার মুখোমুখিতে একবার জিতেছে শেখ রাসেল। আরেকবার জিতেছে বারিধারা।

এবার পরিসংখ্যানকে এগিয়ে নিল শেখ রাসেল।

তিন বিদেশির জায়গায় মাত্র একজন নিয়ে খেলা বারিধারার ওপর শুরু থেকে দাপট নিয়ে খেলে সাইফুল বারী টিটুর বাহিনী। প্রথমার্ধ পর্যন্ত রাসেলকে রুখে দিতে সমর্থ হয় বারিধারা।

এইল্টন মাসাদের পাস থেকে প্রথমার্ধে মান্নাফ রাব্বি সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে পারত দলটি।

জয় দিয়ে স্বাধীনতা কাপ শুরু শেখ রাসেলের
স্বাধীনতা কাপের উদ্বোধন করেন দেশের শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি। ছবি: বাফুফে

দ্বিতীয়ার্ধে টুর্নামেন্টের প্রথম গোলের দেখা মেলে। ৫৮ মিনিটে সেই রাব্বির গোলে অবশেষে ম্যাচে এগিয়ে যায় শেখ রাসেল।

হেমন্ত ভিনসেন্টের চিপে গিনির জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার এসমাইলের লবকে জালে জড়িয়ে নিজের নামের পাশে প্রথম গোল যোগ করেন মান্নাফ রাব্বি।

টুর্নামেন্টের প্রথম গোল আসল তার পা থেকে।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ হাতছাড়া হয় শেখ রাসেলের। জুয়েলের কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল হেড করেন আলতন মাসাডো।

তার হেড গোললাইন থেকে দারুণভাবে বিপদমুক্ত করেন বারিধারার গোলকিপার জোবায়ের।

পিছিয়ে পড়া বারিধারা উল্লেখযোগ্য কোন সুযোগ তৈরি করতে না পারায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শেখ রাসেল। পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-বির পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে টিটুর বাহিনী।

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

কাতার বিশ্বকাপ হারাচ্ছে ইতালি বা পর্তুগালকে

কাতার বিশ্বকাপ হারাচ্ছে ইতালি বা পর্তুগালকে

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ইতালি-পর্তুগাল। ছবি: এএফপি

প্লে-অফের সেমি ফাইনালে পর্তুগাল মুখোমুখি হচ্ছে তুর্কির বিপক্ষে। ইতালি প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নর্থ মেসিডোনিয়াকে। এই দুই প্লে-অফ জয়ীরা মুখোমুখি হবে ফাইনালে। যদি ফেভারিট হিসেবে ইতালি ও পর্তুগালকে জয়ী ধরা হয় তাহলে ফাইনালে একটি দল বিদায় নিবে প্লে-অফ পর্ব থেকে।

শঙ্কাটা বাস্তব হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোর পর্তুগাল। ফলে এই প্লে-অফ একটা তথ্য নিশ্চিত হচ্ছে- এই দুই দলের একটি নিঃসন্দেহে মিস করতে চলেছে কাতার বিশ্বকাপ।

শুক্রবার রাতে চূড়ান্ত হয়েছে ইউরোপের ১২ দলের প্লে-অফ ভাগ্য।

প্লে-অফের সেমি ফাইনালে পর্তুগাল মুখোমুখি হচ্ছে তুরস্কের বিপক্ষে। ইতালি প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নর্থ মেসিডোনিয়াকে।

এই দুই প্লে-অফ জয়ীরা মুখোমুখি হবে ফাইনালে। যদি ফেভারিট হিসেবে ইতালি ও পর্তুগালকে জয়ী ধরা হয় তাহলে ফাইনালে একটি দল বিদায় নিবে প্লে-অফ পর্ব থেকে।

তাদের একটি দলকে পাচ্ছে না কাতার বিশ্বকাপ। গত রাশিয়া বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারেনি ইতালি। এবারও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে ইউরো চ্যাম্পিয়নদের জন্য।

এ ছাড়া প্লে-অফে ৬৪ বছরে প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলার আশায় থাকা ওয়েলস মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২৪ বছরে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার আশায় স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইউক্রেন। এই দুই ম্যাচের জয়ীরা মুখোমুখি হবে প্লে-অফ ফাইনালে।

গত বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়া মুখোমুখি হবে রবার্ট লেওয়ানডোভস্কির দল পোল্যান্ডের বিপক্ষে। আর সুইডেনের প্রতিপক্ষ চেক রিপাবলিক। এই দুই ম্যাচের জয়ীরা মুখোমুখি হবে প্লে-অফ ফাইনালে।

প্লে-অফের ম্যাচগুলো হবে এক লেগের। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের সুযোগ নাই। ৯০ মিনিটেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

আগামী বছরের ২৪ থেকে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে প্লে-অফের ম্যাচগুলো।

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

ম্যারাডোনার চলে যাওয়ার এক বছর

ম্যারাডোনার চলে যাওয়ার এক বছর

নাপোলির জার্সিতে ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফাইল ছবি

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার। নাপোলি তাদের স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে দিয়েছে ম্যারাডোনার নামে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কোপা আমেরিকা জিতে তার নামেই উৎসর্গ করেছে।

ঠিক এক বছর হলো তিনি নেই। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার। গত এক বছরে বদলেছে অনেক কিছুই। ফুটবল বিশ্ব এগিয়েছে তার নিজের গতিতে। শুধু বদলায়নি জীবিত কালের মতো মৃত্যু পরবর্তী সময়েও ম্যারাডোনাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও মাতামাতি।

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো ক্রীড়া বিশ্বে। ফুটবল শুধু নয়- টেনিস, ক্রিকেট, ফরমুল ওয়ান, বাস্কেটবল থেকে শুরু করে রাগবি বিশ্বও শ্রদ্ধা জানিয়েছে ১০ নম্বর জার্সির মহানায়ককে।

ফুটবলের সেরা মেসি-রোনালডো থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকার, সাকিব আল হাসান, লেব্রন জেমস ও লুইস হ্যামিল্টনদের মতো অন্য ক্রীড়ার গ্রেটরাও সম্মান জানিয়েছেন ম্যারাডোনাকে। জানিয়েছেন ম্যারাডোনা তাদের কতটা প্রিয় ছিলেন।

ম্যারাডোনা সবার কাছেই যেন গুরু। চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়নস। সব ক্রীড়াবিদের অনুপ্রেরণা তিনি।

সেটা হওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক। ১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর বুয়েনোস আইরেসের সুবিধাবঞ্চিত ভিয়া ফিয়োরিতায় জন্ম হওয়া ম্যারাডোনার বিশ্বজয়ের গল্পটা রূপকথার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পান। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে হন উপেক্ষিত আর '৮২-এর বিশ্বকাপে পান লাল কার্ড। ১৯৮৬ সালে দেখান নিজের অলৌকিক ফুটবল।

পরে চার বছর ইতালির নাপোলিকে তলানি থেকে টেনে বানিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। বনে গেছেন ফুটবল ঈশ্বর।

নব্বইয়ের দশকটা তার ধ্বংসের গল্প। '৯১-এ মাদকসহ ধরা পড়ে ইতালি ছাড়েন। '৯৪ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড গ্রহণের দায়ে বহিষ্কৃত হন।

আর ২০০১ সালে অতিরিক্ত মাদকসেবনে চলে যান মৃত্যুর দুয়ারে। এত কিছুরই পরও ফুরায়নি ম্যারাডোনা ম্যাজিক।

তার অবসরের দশক পরও রোনালদিনিয়ো, বাজ্জো, জোলারা এক বাক্যে ম্যারাডোনাকেই আদর্শ মেনে নেন।

অনেকের চোখে প্রতিভায় ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যাওয়া লিওনেল মেসি তাকে মেনে নিয়েছেন সেরা হিসেবে। গ্যারি লিনেকার, জোসে মরিনিয়োসহ একের পর এক ফুটবল পণ্ডিতের কাছে ম্যারাডোনাই হয়ে ওঠেন ফুটবলের শেষ কথা।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে জেতা ম্যারাডোনা কামব্যাক করেন রাজার মতোই। হেড কোচ হিসেবে দলকে নিয়ে যান ২০১০ বিশ্বকাপে। শুরু করেন পুরোদস্তুর কোচিং ক্যারিয়ার। নাইট অফ দ্য টেন নামে জনপ্রিয় এক টকশোর সঞ্চালক হিসেবে জিতে নেন সবার মন।

সবকিছু ঠিকঠাকই যাচ্ছিল। শুধু ঠিক ছিল না তার স্বাস্থ্য। বছরের পর বছর মাদক ও ফুটবলের ধকল সইতে পারছিল না তার দেহ।

অবশেষে সবার আশঙ্কাকে সত্যি করে গত বছর পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুর পরও তাকে নিয়ে থামেনি ভক্তদের উন্মাদনা।

তার সমাধি পুলিশি পাহারায় রাখতে হয়েছে, যেন কেউ খুঁড়ে না ফেলে। নাপোলি তাদের স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে দিয়েছে ম্যারাডোনার নামে।

সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে চলছে সম্পত্তি নিয়ে কাড়াকাড়ি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কোপা আমেরিকা জিতে তার নামেই উৎসর্গ করেছে।

সব মিলিয়ে নিজের যাপিত জীবনের মতো মৃত্যুর পরও বর্ণময় হয়ে আছেন ম্যারাডোনা ও ভক্তদের আশা চিরকাল তেমনটাই থাকবেন।

শেষ করা যেতে পারে বুয়েনোস আইরেসের একটি দেয়াল লিখনের কথা দিয়ে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এক ভক্ত তার স্মৃতিতে লেখেন, ‘ম্যারাডোনা আপনি আপনার জীবন নিয়ে কী করেছেন সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার জীবন কীভাবে আপনি পাল্টে দিয়েছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কলিনদ্রেস এবার আবাহনীতে

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কলিনদ্রেস এবার আবাহনীতে

আবাহনীর জার্সিতে ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ফুটবল একেবারে নতুন নয় কলিনদ্রেসের জন্য। এর আগে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দুই মৌসুমে খেলেছেন তিনি। কিংসের জার্সিতে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলে ২৬ গোলের পাশাপাশি করিয়েছেন ১৪ গোল।

কোস্টারিকার জার্সিতে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস আবারও ফিরেছেন বাংলাদেশে। এবার দেশের শীর্ষস্থানীয় দল ঢাকা আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন এ ফরোয়ার্ড।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান কলিনদ্রেস। ক্লাবে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সেরে ফেলেন তিনি।

বাংলাদেশের ফুটবল একেবারে নতুন নয় কলিনদ্রেসের জন্য। এর আগে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দুই মৌসুমে খেলেছেন তিনি। কিংসের জার্সিতে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলে ২৬ গোলের পাশাপাশি করিয়েছেন ১৪ গোল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি কিংসকে শিরোপা উপহার দেন কোস্টারিকার এ ফুটবলার। লিগ, ফেডারেশন ও স্বাধীনতা কাপ জিতেছেন একটি করে।

গত বছরের জুনে তাকে ছেড়ে দেয় কিংস। ক্লাবটির সঙ্গে বেতন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ফিরে গিয়ে নিজ দেশেই শীর্ষ লিগে খেলেন দোপোর্তিভো সাপ্রিসার হয়ে।

এবার ঢাকা আবাহনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন কলিনদ্রেস। ফিরেছেন কিংসের প্রতিদ্বন্দ্বী দলটিতে।

তার আগমনের খবরে ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়। নতুন অবতারে কেমন করবেন কলিনদ্রেস, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল সমর্থকরা।

কলিনদ্রেস এবার আবাহনীতে পাচ্ছেন চীনের শীর্ষ লিগে খেলা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডরিয়েলটন গোমেজ ও আরেক ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল আগুস্তো ও এশিয়ান কোটায় যোগ দেয়া ইরানি মিলাদ শেখ সোলেইমানিকে।

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউটে সিটি, লিভারপুল ও রিয়াল

গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউটে সিটি, লিভারপুল ও রিয়াল

পিএসজির বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর বার্নার্দো সিলভা ও গাব্রিয়েল জেসুসের উদযাপন। ছবি: টুইটার

নিজ মাঠে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ২-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল আর মলডোভার ক্লাব শেরিফ তিরাসপোলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের তিন জায়ান্ট।

নিজ মাঠে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ২-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল আর মলডোভার ক্লাব শেরিফ তিরাসপোলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রাতের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি ছিল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে। পেপ গার্দিওলার সিটির মাঠে খেলতে নামে লিওনেল মেসির পিএসজি।

দুই দল উপহার দেয় উপভোগ্য ফুটবল, কিন্তু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কেউই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করে বসেন কিলিয়ান এমবাপে। উৎস ছিলেন মেসি। ৫০ মিনিটে আন্দের এরেরার সঙ্গে ওয়ান-টু করে বক্সের কিনারায় বলের দখল নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তার শট ডিফেন্ডারের গায়ে বাধা পেয়ে ফিরে এলে তা পেয়ে যান এমবাপে। প্রথম সুযোগে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ফ্রেঞ্চ সুপারস্টার।

এক গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর পিএসজিকে চেপে ধরে সিটি। আক্রমণের তোড় সামলাতে পারেনি পিএসজির ডিফেন্স।

ফলে দ্রুত দুই গোল বের করে নেয় স্বাগতিক ফল। ৬৩ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাহিম স্টার্লিং।

এর ১২ মিনিট পর ম্যাচে লিড নিয়ে নেয় সিটি। ডান দিক থেকে দ্রুত গতিতে উঠে আসা ইলকায় গুন্দোয়ান বল ছাড়েন রিয়াদ মাহরেজের উদ্দেশে।

মাহরেজ ক্রস করেন বক্সে থাকা বার্নার্দো সিলভাকে। সিলভা নিজে গোল না করে বল বাড়িয়ে দেন গাব্রিয়েল জেসুসের দিকে।

জেসুস দলের হয়ে জয়সূচক গোল করতে কোনো ভুল করেননি।

বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে সিটি। এ জয়ে ৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এ-গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউটে পৌঁছাল সিটি।

সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট পাওয়া পিএসজিও পৌঁছেছে নক আউটে।

গ্রুপ-বি থেকে লিভারপুল ৫ ম্যাচের সবটিতে জয় নিয়ে নক আউট নিশ্চিত করেছে। তাদের ঝুলিতে ১৫ পয়েন্ট। এই গ্রুপে বাকি তিন দল পোর্তো, মিলান ও আতলেতিকো মাদ্রিদ।

তিন দলেরই নক আউটে যাওয়ার সুযোগ আছে। পোর্তোর পয়েন্ট ৫, আতলেতিকো ও মিলানের পয়েন্ট ৪।

গ্রুপ-সি থেকে নক আউটে খেলবে আয়াক্স আমস্টার্ডাম ও স্পোর্টিং লিসবন। গ্রুপ-ডি থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলান।

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস রেকর্ড

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস রেকর্ড

সংগ্রহের ১২৩০ ফুটবলের মাঝে মেক্সিকান তরুণ রদ্রিগো রোমেরো। ছবি: সংগৃহীত

রদ্রিগো বলেন, ‘ভাগ্য নিজ থেকে ধরা দেয় না। আপনাকে খুঁজে নিতে হবে। মন স্থির করতে হবে। স্বপ্ন পূরণে লড়াই করতে হবে। তবেই আপনি সফল হবেন।’

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড ভাঙলেন মেক্সিকোর এক ফুটবল ভক্ত।

পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের পুয়েব্লা শহরের ওই তরুণের নাম রদ্রিগো রোমেরো।

তিনি বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে ফুটবল সংগ্রহ শুরু করি। সেবার বিশ্বকাপের খেলা দেখতে জার্মানি গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই প্রথম ফুটবলটি কিনি। তবে সেটি সংগ্রহের জন্য নয়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার জন্য।

‘এরপর মেক্সিকোর বিভিন্ন দোকান ঘুরে ফুটবল কেনা শুরু করি। একপর্যায়ে অনলাইনে বিষয়টি শেয়ার করি। সেখানে কিছু গ্রুপ ফুটবল সংগ্রহে আমাকে সাহায্য করে।’

ফুটবল সংগ্রহে রদ্রিগোর রেকর্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার ফার্নান্দো ফুগলিনির ৮৬১ ধরনের ফুটবল সংগ্রহের রেকর্ড ভেঙেছেন রদ্রিগো।

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস রেকর্ড

এই বিশ্বরেকর্ড দেখে অন্যরা উৎসাহী হবেন বলে মনে করেন রদ্রিগো। তিনি বলেন, ‘প্রবল ইচ্ছা থাকলে যেকোনো অর্জন সম্ভব। নিজেরটা নিজেরই করে নিতে হয়। আমি ভাগ্যবান...আমি পেরেছি।

‘ভাগ্য নিজ থেকে ধরা দেয় না। আপনাকে খুঁজে নিতে হবে। মন স্থির করতে হবে। স্বপ্ন পূরণে লড়াই করতে হবে। তবেই আপনি সফল হবেন।’

আরও পড়ুন:
১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারাল বাংলাদেশ
র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০ ছুঁইছুঁই দলের কাছে হোঁচট বাংলাদেশের
নবাবকে বেঞ্চে রেখে মূল একাদশ নামাচ্ছে বাংলাদেশ
মানসিক চাপে ফুটবলাররা, শিডিউল বিভ্রাটে কোচ
নতুন আশায় সেশেলস মিশনে নামছে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন