‘টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত রান করা সহজ নয়’

‘টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত রান করা সহজ নয়’

নিজের ফিফটির পথে ড্রাইভ খেলছেন মুশফিকুর রহিম। ছবি: আইসিসি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলে ৫৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন মুশফিক। দীর্ঘদিন পর রান পাওয়ায় সন্তুষ্ট মুশফিক। তবে জানালেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সব সময় রান করা সহজ বিষয় নয়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ হারলেও টাইগারদের জন্য কয়েকটি ইতিবাচক দিকের একটি ছিল মুশফিকুর রহিমের রানে ফেরা। বিশ্বকাপের মূল পর্বের প্রথম ম্যাচেই ৩৭ বলে ৫৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন মুশফিক।

এটি ছিল শর্টার ফরম্যাটে মুশফিকের ১১ ইনিংসের পর ফিফটি। তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটির সাহায্যে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছাড়ায় ১৭০। দীর্ঘদিন পর রান পাওয়ায় সন্তুষ্ট মুশফিক। তবে জানালেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সব সময় রান করা সহজ বিষয় নয়।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘দেখেন টি-টোয়েন্টিতে তো টানা রান করা সহজ না। টি-টোয়েন্টির বিশ্বে দেখবেন নিয়মিত রান কেউই করতে পারে না। আমরা যারা ৪, ৫, ৬ নম্বরে খেলি এখানে একজন ক্রিকেটার পাবেন না যে নিয়মিত রান করে। এটা হবেই।

‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, একজন ব্যাটসম্যান যেন বড় ইনিংস খেলেন। সব সময় একজনের ওপর ভরসা করা যাবে না। আমরা চেষ্টা করছি একেক দিন যেন একেক জন দাঁড়িয়ে যায়।’

মুশফিকের রানে ফেরার দিন দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে ক্যাচ মিসের সঙ্গে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বোলিং পরিকল্পনাও ছিল তোপের মুখে। মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসানের ওভার পুরো না করিয়ে অধিনায়ক নিজে বল করেন ও আফিফ হোসেনকে দিয়ে বল করান।

তাদের তিন ওভারে আসে ৩৬ রান। আর সাকিব নিজের তিন ওভারে দেন ১৭ রান, নেন দুই উইকেট। মুশফিক অবশ্য সমর্থন দিচ্ছেন অধিনায়ককে। বাংলাদেশের পরিকল্পনায় ছিল সাকিবকে একেবারে শেষ ওভার দেয়ার, জানালেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

তিনি বলেন, ‘উইকেট খুব ভালো ছিল। লেফটিরা সেট ছিল। ইনিংসের শেষটা তো গুরুত্বপূর্ণ। তখন আমরা চেয়েছিলাম সাকিবকে আনব। কারণ শেষদিকে কঠিন সময়টা আসে। আর সাকিব চ্যাম্পিয়ন বোলার। সে এসব মুহূর্তের চাপ সইতে পারবে। তবে হারের জন্য সাকিবকে বোলিংয়ে না আনাটা কারণ না।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর দুই দিন সময় পাচ্ছেন সাকিব-মুশফিকরা। এরপর তাদের মাঠে নামতে হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বুধবার বিকেল ৪টায় আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে নামছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাকলায়েনের নজর কেড়েছেন তাইজুল

সাকলায়েনের নজর কেড়েছেন তাইজুল

আবিদ আলির উইকেট উদযাপন করছেন তাইজুল ইসলাম। ছবি: এএফপি

ফ্ল্যাট উইকেটে তাইজুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে পাকিস্তানি স্পিন গ্রেট সাকলায়েন মুশতাকের। টেস্টের পর ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অকপটে তাইজুলকে নিয়ে প্রশংসা করেন সাবেক এ অফস্পিনার।

চট্টগ্রাম টেস্টের পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসটা শুরুতে পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও একাই সেটি ছিনিয়ে বাংলাদেশের কোর্টে নিয়ে আসেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। স্পিন ঘূর্ণিতে তছনছ করে দেন পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিটকে।

প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। আর ১১৬ রানের খরচায় ৭ উইকেট নিয়ে এর মূল নায়ক তাইজুল ইসলাম।

ফ্ল্যাট উইকেটে তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে পাকিস্তানি স্পিন গ্রেট সাকলায়েন মুশতাকের। টেস্টের পর ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অকপটে তাইজুলকে নিয়ে প্রশংসা করেন সাবেক এ অফস্পিনার।

সাকলায়েন বলেন, ‘তাইজুলকে অনেক ভালো মনে হয়েছে। যে জায়গায় আক্রমণ করেছে সেখানে ব্যাটারদের সুযোগ দেয়নি। আলগা বল তো দূরে থাক সিঙ্গেলও দেয়নি। ওর নিয়ন্ত্রণটা সত্যিই দারুণ মনে হয়েছে।’

প্রশংসার পাশপাশি তাইজুলের বোলিংয়ে উন্নতির জন্য তাকে টোটকাও দিয়েছেন সাবেক এই গ্রেট। ধৈর্য্য রেখে বোলিংয়ের পাশাপাশি ডেলিভারিতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ সাকলায়েনের।

পাকিস্তানি এই গ্রেট বলেন, ‘তার আরেকটু ভ্যারিয়েশন আনতে হবে। সেটা তাকে বাড়তি শক্তি দেবে। বাড়তি ওভারস্পিন তাকে অনেক সহায়তা করতে পারে। তবে তার টেম্পারমেন্ট ও ধৈর্য্য আমার খুব ভালো লেগেছে। নিয়ন্ত্রণটা তাইজুলের মূল শক্তি।’

তাইজুলকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের কণ্ঠেও। ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে তাইজুলের স্পেলকে ধরছেন অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে সংবাদসম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বলব যে ম্যাচে আমাদের ২-৩টা প্রাপ্তির মধ্যে তাইজুলেরটাই সেরা। এমন ফ্ল্যাট পিচে ৭ উইকেট নেওয়া এত সহজ না। ও যে কাজটা করেছে সেটা দুর্দান্ত। গত এক-দেড় বছরে নিজের উন্নতি করতে সে যে কাজ করেছে তা অবশ্যই অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার।’

সাগরিকা টেস্টে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আট উইকেটে হেরেছে ডোমিঙ্গো শিষ্যরা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি মাঠে গড়াবে ৪ ডিসেম্বর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

ফরম্যাট বদলেও ভাগ্য বদলাল না বাংলাদেশের

ফরম্যাট বদলেও ভাগ্য বদলাল না বাংলাদেশের

বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্রাইভ খেলছেন আবিদ আলি। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে আট উইকেটের বড় হার দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিকরা। সেই সুবাদে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

শেরে বাংলা থেকে সাগরিকা। দূরত্বটা প্রায় আড়াই শ কিলোমিটারের। শেরে বাংলায় ব্যর্থতার পর প্রায় আড়াই শ কিলোমিটার দূরে এসে ফরম্যাট বদলে বাংলাদেশ চেয়েছিল হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে।

কিন্তু ফরম্যাট ও ভেন্যু বদলালেও পরাজয় পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে পিছু নেয়া হার লেগে আছে টাইগারদের সঙ্গে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে আট উইকেটের বড় হার দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিকরা। সেই সুবাদে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লিটন-মুশফিকরা লক্ষ্য বেঁধে দেন ২০২ রানের। সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে জয় বাগিয়ে নিয়েছে সফরকারী দল।

চট্টগ্রামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ৩৩০ রানের পুঁজি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও ইনিংসের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। তাইজুলের অসাধারণ বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ২৮৬ রানে অল আউট করে দিয়ে ৪৪ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।

লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ফের বিপর্য়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পেরে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তোলে লিটন-মুশফিকরা। পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনেই উদ্বোধনী জুটিতে ১০৯ রান তোলে পাকিস্তান। জয় থেকে ৯৩ রান দূরে থেকে পঞ্চম দিন শুরু করে বেশ ভালো খেলছিলেন দুই পাক ওপেনার।

একই সঙ্গে ১০ উইকেটে হারের সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের সামনে। সে স্বপ্নে বাধ সাধেন মেহেদি মিরাজ। দিনের শুরুতে স্কোরবোর্ডে ৪২ রান যোগ করতে ফেরান আসাদুল্লাহ শফিককে।

ডানহাতি এই স্পিনারের স্পিন বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়ার আগে তিনি খেলেন ৭৩ রানের এক ঝলমলে ইনিংস।

ছয় ওভার পর তাইজুলের এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন আবিদ আলি।

বাকি কাজটা সারতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বাবর আজম ও আজহার আলিকে। বাবরের ১৩ ও আজহারের ২৪ রানে ভর করে আট উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি মাঠে গড়াবে ৪ ডিসেম্বর। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

তাইজুল ফেরালেন আবিদকে

তাইজুল ফেরালেন আবিদকে

উইকেট উদযাপন করছেন তাইজুল। ছবি: এএফপি

এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ৯১ রানে আবিদকে মাঠছাড়া করেন তাইজুল। চলতি ম্যাচে এটি তার অষ্টম উইকেট।

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় ইনিংসেও একই পথে হাঁটছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলি। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকতে তাকে থামিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। এই ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ।

এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ৯১ রানেই আবিদকে মাঠছাড়া করেন তাইজুল। চলতি ম্যাচে এটি তার অষ্টম উইকেট।

এর আগে জয় থেকে ৯৩ রান দূরে থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। আবিদ আলি ও আসাদুল্লাহ শফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দেখছিল ১০ উইকেটের পরাজয়।

দলীয় ১৫১ রানে আসাদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদি মিরাজ। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

আর চতুর্থ দিন সকালে ৪ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাকি উইকেটে ১১৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। লিড দাঁড় করায় ২০১ রানের।

সে মোতাবেক পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রানের।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

শফিককে ফিরিয়ে মেহেদির প্রথম আঘাত

শফিককে ফিরিয়ে মেহেদির প্রথম আঘাত

মিরাজের উইকেট উদযাপন। ছবি: এএফপি

দলীয় ১৫১ রানে আসাদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙ্গেন মেহেদি মিরাজ। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

সাগরিকা টেস্টের চতুর্থ দিনে চালকের আসনে বসে গিয়েছিল পাকিস্তান। সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে পরাজিত করার।

কিন্ত শেষ দিনের শুরুতে সেই আশায় বাধ সাধলেন মেহেদি হাসান। জয়ের থেকে ৫১ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরান আসাদুল্লাহ শফিককে। আর এর মধ্য দিয়ে লজ্জা কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব হল বাংলাদেশের।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের দেয়া ২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১০৯ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করে পাকিস্তান।

জয় থেকে ৯৩ রান দূরে থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। আবিদ আলি ও আসাদুল্লাহ শফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দেখছিল ১০ উইকেটের পরাজয়।

দলীয় ১৫১ রানে আসাদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙ্গেন মেহেদি মিরাজ। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

এর আগে চতুর্থ দিন সকালে ৪ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাকি উইকেটে ১১৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। লিড দাঁড় করায় ২০১ রানের।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, ‘এখনও সম্ভব’

ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, ‘এখনও সম্ভব’

মেহেদি মিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করছেন রাসেল ডমিঙ্গো। ছবি: এএফপি

টাইগারদের হেড কোচ মনে করেন, এখনও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। তার মতে, সকালের সেশনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরবে।

শেষ দিনে পাকিস্তানের ৯৩ রান দরকার চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে। তাদের ১০ উইকেটই অক্ষত। মাঠের লড়াইয়ে ও জয়ের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ জয়ের থেকে যোজন দূরে থাকলেও টাইগারদের হেড কোচ মনে করেন, এখনও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের।

চট্টগ্রামে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো এমনটা বলেন। তার মতে, সকালের সেশনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরবে।

তিনি বলেন, ‘জিততে হলে বিশেষ কিছু করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমাদের জয়ের সুযোগ আছে এটা বিশ্বাস করেই কাল মাঠে নামতে হবে। প্রথম আধঘণ্টায় এক-দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলে, যেকোনো কিছু সম্ভব।’

টেস্টের দুই ইনিংসেই নতুন বল ও গতির কাছে ধসে গেছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৪০ কিমি গতির শর্ট বল খেলে অভ্যাস নেই টাইগারদের। যার ফল দেখা গেছে মাঠে। শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলিরা বাউন্স আউট করেছেন মুমিনুল-সাইফদের।

দলের এই খামতি এক বাক্যে মেনে নিয়ে কোচ বলেন, ‘নতুন বলে আমরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছি না। নতুন বলে ব্যাট করার সময় চাপে পড়ে যাচ্ছি। উইকেটে টপ অর্ডাররা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না। সাইফ-সাদমানকে আরও অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে এমন ভালো বোলিং লাইনআপ সামাল দিতে।’

দলকে অবশ্য এখনও সমালোচনার মুখে ফেলতে চাচ্ছেন না এই সাউথ আফ্রিকান কোচ। তবে জানালেন ব্যাটিং নিয়ে আক্ষেপটা থেকেই যাচ্ছে।

ডমিঙ্গো বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে ক্রিকেটারদের নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না। তবে আমি মনে করি মোমেন্টাম নিয়ে আলোচনা করতে পারি। যখন চার উইকেট অক্ষত রেখে ১৯৬ রানের লিড নিয়েছিলাম, তখন আরও ৪০-৫০ রান যোগ হলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যেত। আরও একটু বেশি ব্যাটিং করতে পারলে এগিয়ে থাকতে পারতাম।’

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

সাকিবের জন্য অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না বাংলাদেশের

সাকিবের জন্য অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না বাংলাদেশের

অনুশীলনের ফাঁকে সাকিবের সঙ্গে আলোচনায় রাসেল ডমিঙ্গো। ছবি: এএফপি

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানালেন সাকিব সেরে উঠছেন। তার সুস্থতার দিকে পুরো নজর আছে বিসিবির।

পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে অলৌকিক কিছু না হলে পরাজয় মেনে নিয়েই শেষ দিন মাঠ ছাড়তে হবে বাংলাদেশকে। আরও একটা টেস্টে ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং বিভাগ প্রয়োজনের সময় ও চাপে দলের হয়ে লড়াই করতে পারেনি।

এমন সময় বাংলাদেশ ক্যাম্পের মনে বারবার ঘুরেফিরে আসছে সাকিব আল হাসানের কথা। বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটার থাকলে বাংলাদেশের মানসিকতায় যে আমূল পরিবর্তন আসে, তেমনটা আগে বহুবার দেখা গেছে।

বিপর্যয়ের সময়ে আবারও তাই স্মরণে আসছেন সাকিব। তবে হ্যামস্ট্রিং চোট পাওয়া বাংলাদেশের সেরা তারকাকে নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানালেন সাকিব সেরে উঠছেন। তার সুস্থতার দিকে পুরো নজর আছে বিসিবির।

ডমিঙ্গো যোগ করেন, ‘সে (সাকিব) আজকে ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা ট্রেইনার ও ফিজিওর কাছ থেকে তার ফিটনেস পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় আছি।’

তবে বিসিবি সূত্রের মতে, ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্টে সাকিবের খেলার সম্ভাবনা কম। দলের ম্যানেজমেন্টও চাইছে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে সাকিবকে পুরো সুস্থ অবস্থায় খেলাতে।

তেমনটা হলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে লাল বলের খেলায় দেখার অপেক্ষাটা আরেকটু লম্বা হতে পারে ভক্তদের জন্য।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন

টেইল এন্ডের দৃঢ়তায় টেস্ট ড্র করল নিউজিল্যান্ড

টেইল এন্ডের দৃঢ়তায় টেস্ট ড্র করল নিউজিল্যান্ড

জাডেজার করা দিনের শেষ ওভার মোকাবিলা করছেন নিউজিল্যান্ডের আজাজ প্যাটেল। ছবি: টুইটার

পুরো দিনে ৯৪ ওভার খেলা শেষে ম্যাচ ড্র করতে সমর্থ্য হয় নিউজিল্যান্ড। শেষ চার উইকেটে ৩০ ওভার টিকে থাকে সফরকারী দল। ৯ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শেষ করে নিউজিল্যান্ড।

শেষ দিনে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্যটা ছিল পরিষ্কার। পুরো দিন টিকে থাকা। তাদের কাছে ছিল ৯ উইকেট আর সামনে ছিল পুরো তিন সেশন।

প্রতিপক্ষ ছিলেন ভারতের স্পিন ত্রয়ী আক্সার প্যাটেল, রভিন্দ্র জাডেজা ও রভিচন্দ্রন আশউইন। পুরো দিনে ৯৪ ওভার খেলা শেষে ম্যাচ ড্র করতে সমর্থ্য হয় নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে চতুর্থ দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে বোর্ডে চার রান যোগ করে সফরকারী দল।

শেষ দিনে ভারতের স্পিন ত্রয়ীর সামনে জয়টা অসম্ভই ছিল ব্ল্যাকক্যাপদের জন্য। তাই পুরো দিন টিকে থেকে ড্রয়ের লক্ষ্যে খেলতে থাকা তারা।

নাইটওয়াচম্যান উইলিয়াম সমারভিলের সঙ্গে নিয়ে দিন শুরু করে টম লেইথাম গড়েন ৭৬ রানের জুটি। সমারভিল ৩৬ রান করে আউট হন। তবে এ জুটি উইকেটে কাটায় প্রায় ৩০ ওভার।

অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনকে নিয়ে আরেকটি ধীরগতির জুটি গড়েন লেইথাম। হাফ সেঞ্চুরি করে ৫২ রানে আউট হয়ে যান তিনি।

এরপর রস টেইলর, হেনরি নিকোলস ও উইলিয়ামসন ছয় ওভারের মধ্যে ফিরে গেলে চালকের আসনে বসে ভারত।

শেষ চার উইকেটে ৩০ ওভার টিকে থাকে সফরকারী দল। যার মূল কৃতিত্ব টম ব্লান্ডল ও রাচিন রাভিন্দ্রার। ৩০ বলে ৫ রান করেন ব্লান্ডল।

আর রাভিন্দ্রা ৯১ বলে ১৮ করে অপরাজিত থাকেন। শেষ জুটিতে আজাজ প্যাটেলকে নিয়ে ৮ ওভার চার বল টিকে থাকেন তিনি।

প্যাটেল অপরাজিত থাকেন ২৩ বলে ২ রান করে। ৯ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শেষ করে নিউজিল্যান্ড।

ভারতের হয়ে আশউইন ৩টি ও জাডেজা ৪টি উইকেট নিলেও দলের জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট মুম্বাইয়ে। ৩ ডিসেম্বর শুরু হবে এ ম্যাচ।

আরও পড়ুন:
১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের
আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক
ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

শেয়ার করুন