গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ মেসির প্রথম ‘ল্য ক্লাসিক’

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ মেসির প্রথম ‘ল্য ক্লাসিক’

মার্শেইয়ের জেঙ্গিজ উন্দারের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে লিওনেল মেসি। ছবি: টুইটার

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও ঘটন-অঘটনের কমতি ছিল না মার্শেই-পিএসজি ম্যাচে। গোল বাতিল, লাল কার্ড থেকে শুরু করে মাঠে দর্শকের গণ্ডগোল সবই দেখেছে ৯০ মিনিটের এ লড়াই।

নিজের ঝলমলে ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচের অংশ হয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, এল ক্লাসিকো বিশ্বের সব বড় ম্যাচে নাম লিখিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর।

রোববার রাতে তার অভিষেক হলো আরেকটি বিখ্যাত ম্যাচে। নতুন ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে মার্শেইর বিপক্ষে মেসি খেললেন ফরাসি ফুটবলের খ্যাতনামা ‘ল্য ক্লাসিক’।

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও ঘটন-অঘটনের কমতি ছিল না হাই ভোল্টেজ ম্যাচে। গোল বাতিল, লাল কার্ড থেকে শুরু করে মাঠে দর্শকের গণ্ডগোল সবই দেখেছে ৯০ মিনিটের এ লড়াই।

মার্শেইর মাঠ দ্য ভেলোড্রোমে শুরু হয় গোল বাতিল দিয়ে। ১৪ মিনিটে মার্শেইর বক্সে নেইমার বল বাড়ান কিলিয়ান এমবাপের উদ্দেশে।

এমবাপে বল ধরার আগেই মার্শেই ডিফেন্ডার লুয়ান পেরেস তা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন। স্বাগতিকদের আত্মঘাতী গোলের আনন্দে মাতে পিএসজি।

তবে নেইমারের অফসাইডের কারণে যখন গোল বাতিল করে দেন রেফারি তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে মার্শেই।

মিনিট পাঁচেক পর একই রকম নাটক হয় অন্যপ্রান্তে। মার্শেই মিডফিল্ডার বুবাকার কামারা খুঁজে নেন পল লিরোলাকে। লিরোলা বক্সে থাকা আরকাদিউস মিলিককে পাস দিলে, বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার শটে জালে জড়ান তিনি।

এবারও লিরোলার অফসাইডের কারণে মিলিকের গোল বাতিল করে দেন রেফারি।

লিওনেল মেসি সুযোগ পান এরপর। বাম প্রান্ত দিয়ে করা আনহেল দি মারিয়ার চিপ মার্শেই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে।

ফিরতি বলে দারুণ হেড করেন মেসি। কাছ থেকে অসাধারণ দক্ষতায় তা ফিরিয়ে দিয়ে স্বাগতিকদের নিরাপদে রাখেন গোলকিপার পাউ লোপেস।

এর মিনিটখানেক পর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে মাঠের সীমানার কাছাকাছি চলে আসেন মার্শেইর একদল সমর্থক। নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় কয়েক মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ।

বিরতির আগে দুঃসংবাদ পায় পিএসজি। মার্কো ভেরাত্তি চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে চলে যান। তার বদলি হিসেবে নামেন ইদ্রিসা গেয়ে।

ভেরাত্তি মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ও প্লে-মেকিংয়ের পুরো দায়িত্ব চাপে লিওনেল মেসির কাঁধে। সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি নিজেও গোলে আক্রমণ চালান ছয়বারের ব্যালন ডরজয়ী এ তারকা।

তবে পিএসজির জন্য ছিল দুর্ভাগ্য। জেঙ্গিজ উন্দারকে ফাউল করায় ৫৭ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাদের রাইট ব্যাক আচরাফ হাকিমি।

বাকি প্রায় ৩৫ মিনিট পিএসজিকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে। ফলে তাদের আক্রমণের ধার যায় কমে। পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এক পয়েন্ট নিয়ে প্যারিসে ফেরার পরিকল্পনা করেন।

মার্শেই পিএসজির রক্ষণাত্মক খেলার ধাঁচের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। মার্শেইর হয়ে কনরাড ডে লা ফুয়েন্টে ও ভালেঁতি রজে কাছাকাছি গিয়েছিলেন গোলের। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

শেষদিকে নেইমারকে তুলে নিলেও গোলের আশায় মেসিকে মাঠে রাখেন পচেত্তিনো। কিন্তু ফ্রেঞ্চ লিগে পিএসজির হয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যর্থ হন বিশ্বসেরা এ তারকা।

ফলে গোলশূন্য অবস্থাতে শেষ হয় ম্যাচ। ড্রয়ের পর নিরাপদ দূরত্বে শীর্ষে থাকল পিএসজি। ১১ ম্যাচে তাদের ঝুলিতে আছে ২৮ পয়েন্ট।

দুইয়ে থাকা লঁসের সংগ্রহ সমান ম্যাচে ২১। ১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে নিস। আর ১১ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে অবস্থান মার্শেইর।

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ম্যারাডোনার চলে যাওয়ার এক বছর

ম্যারাডোনার চলে যাওয়ার এক বছর

নাপোলির জার্সিতে ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফাইল ছবি

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার। নাপোলি তাদের স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে দিয়েছে ম্যারাডোনার নামে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কোপা আমেরিকা জিতে তার নামেই উৎসর্গ করেছে।

ঠিক এক বছর হলো তিনি নেই। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার। গত এক বছরে বদলেছে অনেক কিছুই। ফুটবল বিশ্ব এগিয়েছে তার নিজের গতিতে। শুধু বদলায়নি জীবিত কালের মতো মৃত্যু পরবর্তী সময়েও ম্যারাডোনাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও মাতামাতি।

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো ক্রীড়া বিশ্বে। ফুটবল শুধু নয়- টেনিস, ক্রিকেট, ফরমুল ওয়ান, বাস্কেটবল থেকে শুরু করে রাগবি বিশ্বও শ্রদ্ধা জানিয়েছে ১০ নম্বর জার্সির মহানায়ককে।

ফুটবলের সেরা মেসি-রোনালডো থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকার, সাকিব আল হাসান, লেব্রন জেমস ও লুইস হ্যামিল্টনদের মতো অন্য ক্রীড়ার গ্রেটরাও সম্মান জানিয়েছেন ম্যারাডোনাকে। জানিয়েছেন ম্যারাডোনা তাদের কতটা প্রিয় ছিলেন।

ম্যারাডোনা সবার কাছেই যেন গুরু। চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়নস। সব ক্রীড়াবিদের অনুপ্রেরণা তিনি।

সেটা হওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক। ১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর বুয়েনোস আইরেসের সুবিধাবঞ্চিত ভিয়া ফিয়োরিতায় জন্ম হওয়া ম্যারাডোনার বিশ্বজয়ের গল্পটা রূপকথার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পান। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে হন উপেক্ষিত আর '৮২-এর বিশ্বকাপে পান লাল কার্ড। ১৯৮৬ সালে দেখান নিজের অলৌকিক ফুটবল।

পরে চার বছর ইতালির নাপোলিকে তলানি থেকে টেনে বানিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। বনে গেছেন ফুটবল ঈশ্বর।

নব্বইয়ের দশকটা তার ধ্বংসের গল্প। '৯১-এ মাদকসহ ধরা পড়ে ইতালি ছাড়েন। '৯৪ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ স্টেরয়েড গ্রহণের দায়ে বহিষ্কৃত হন।

আর ২০০১ সালে অতিরিক্ত মাদকসেবনে চলে যান মৃত্যুর দুয়ারে। এত কিছুরই পরও ফুরায়নি ম্যারাডোনা ম্যাজিক।

তার অবসরের দশক পরও রোনালদিনিয়ো, বাজ্জো, জোলারা এক বাক্যে ম্যারাডোনাকেই আদর্শ মেনে নেন।

অনেকের চোখে প্রতিভায় ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যাওয়া লিওনেল মেসি তাকে মেনে নিয়েছেন সেরা হিসেবে। গ্যারি লিনেকার, জোসে মরিনিয়োসহ একের পর এক ফুটবল পণ্ডিতের কাছে ম্যারাডোনাই হয়ে ওঠেন ফুটবলের শেষ কথা।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে জেতা ম্যারাডোনা কামব্যাক করেন রাজার মতোই। হেড কোচ হিসেবে দলকে নিয়ে যান ২০১০ বিশ্বকাপে। শুরু করেন পুরোদস্তুর কোচিং ক্যারিয়ার। নাইট অফ দ্য টেন নামে জনপ্রিয় এক টকশোর সঞ্চালক হিসেবে জিতে নেন সবার মন।

সবকিছু ঠিকঠাকই যাচ্ছিল। শুধু ঠিক ছিল না তার স্বাস্থ্য। বছরের পর বছর মাদক ও ফুটবলের ধকল সইতে পারছিল না তার দেহ।

অবশেষে সবার আশঙ্কাকে সত্যি করে গত বছর পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। মৃত্যুর পরও তাকে নিয়ে থামেনি ভক্তদের উন্মাদনা।

তার সমাধি পুলিশি পাহারায় রাখতে হয়েছে, যেন কেউ খুঁড়ে না ফেলে। নাপোলি তাদের স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে দিয়েছে ম্যারাডোনার নামে।

সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে চলছে সম্পত্তি নিয়ে কাড়াকাড়ি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কোপা আমেরিকা জিতে তার নামেই উৎসর্গ করেছে।

সব মিলিয়ে নিজের যাপিত জীবনের মতো মৃত্যুর পরও বর্ণময় হয়ে আছেন ম্যারাডোনা ও ভক্তদের আশা চিরকাল তেমনটাই থাকবেন।

শেষ করা যেতে পারে বুয়েনোস আইরেসের একটি দেয়াল লিখনের কথা দিয়ে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এক ভক্ত তার স্মৃতিতে লেখেন, ‘ম্যারাডোনা আপনি আপনার জীবন নিয়ে কী করেছেন সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার জীবন কীভাবে আপনি পাল্টে দিয়েছেন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কলিনদ্রেস এবার আবাহনীতে

রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কলিনদ্রেস এবার আবাহনীতে

আবাহনীর জার্সিতে ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ফুটবল একেবারে নতুন নয় কলিনদ্রেসের জন্য। এর আগে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দুই মৌসুমে খেলেছেন তিনি। কিংসের জার্সিতে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলে ২৬ গোলের পাশাপাশি করিয়েছেন ১৪ গোল।

কোস্টারিকার জার্সিতে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস আবারও ফিরেছেন বাংলাদেশে। এবার দেশের শীর্ষস্থানীয় দল ঢাকা আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন এ ফরোয়ার্ড।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান কলিনদ্রেস। ক্লাবে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সেরে ফেলেন তিনি।

বাংলাদেশের ফুটবল একেবারে নতুন নয় কলিনদ্রেসের জন্য। এর আগে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে দুই মৌসুমে খেলেছেন তিনি। কিংসের জার্সিতে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলে ২৬ গোলের পাশাপাশি করিয়েছেন ১৪ গোল।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি কিংসকে শিরোপা উপহার দেন কোস্টারিকার এ ফুটবলার। লিগ, ফেডারেশন ও স্বাধীনতা কাপ জিতেছেন একটি করে।

গত বছরের জুনে তাকে ছেড়ে দেয় কিংস। ক্লাবটির সঙ্গে বেতন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ফিরে গিয়ে নিজ দেশেই শীর্ষ লিগে খেলেন দোপোর্তিভো সাপ্রিসার হয়ে।

এবার ঢাকা আবাহনীর ডাকে সাড়া দিয়েছেন কলিনদ্রেস। ফিরেছেন কিংসের প্রতিদ্বন্দ্বী দলটিতে।

তার আগমনের খবরে ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়। নতুন অবতারে কেমন করবেন কলিনদ্রেস, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল সমর্থকরা।

কলিনদ্রেস এবার আবাহনীতে পাচ্ছেন চীনের শীর্ষ লিগে খেলা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডরিয়েলটন গোমেজ ও আরেক ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল আগুস্তো ও এশিয়ান কোটায় যোগ দেয়া ইরানি মিলাদ শেখ সোলেইমানিকে।

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউটে সিটি, লিভারপুল ও রিয়াল

গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউটে সিটি, লিভারপুল ও রিয়াল

পিএসজির বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর বার্নার্দো সিলভা ও গাব্রিয়েল জেসুসের উদযাপন। ছবি: টুইটার

নিজ মাঠে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ২-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল আর মলডোভার ক্লাব শেরিফ তিরাসপোলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের তিন জায়ান্ট।

নিজ মাঠে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ২-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল আর মলডোভার ক্লাব শেরিফ তিরাসপোলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রাতের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি ছিল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে। পেপ গার্দিওলার সিটির মাঠে খেলতে নামে লিওনেল মেসির পিএসজি।

দুই দল উপহার দেয় উপভোগ্য ফুটবল, কিন্তু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কেউই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করে বসেন কিলিয়ান এমবাপে। উৎস ছিলেন মেসি। ৫০ মিনিটে আন্দের এরেরার সঙ্গে ওয়ান-টু করে বক্সের কিনারায় বলের দখল নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তার শট ডিফেন্ডারের গায়ে বাধা পেয়ে ফিরে এলে তা পেয়ে যান এমবাপে। প্রথম সুযোগে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ফ্রেঞ্চ সুপারস্টার।

এক গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর পিএসজিকে চেপে ধরে সিটি। আক্রমণের তোড় সামলাতে পারেনি পিএসজির ডিফেন্স।

ফলে দ্রুত দুই গোল বের করে নেয় স্বাগতিক ফল। ৬৩ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান রাহিম স্টার্লিং।

এর ১২ মিনিট পর ম্যাচে লিড নিয়ে নেয় সিটি। ডান দিক থেকে দ্রুত গতিতে উঠে আসা ইলকায় গুন্দোয়ান বল ছাড়েন রিয়াদ মাহরেজের উদ্দেশে।

মাহরেজ ক্রস করেন বক্সে থাকা বার্নার্দো সিলভাকে। সিলভা নিজে গোল না করে বল বাড়িয়ে দেন গাব্রিয়েল জেসুসের দিকে।

জেসুস দলের হয়ে জয়সূচক গোল করতে কোনো ভুল করেননি।

বাকি সময়ে আর গোল না হওয়ায় ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে সিটি। এ জয়ে ৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এ-গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নক আউটে পৌঁছাল সিটি।

সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট পাওয়া পিএসজিও পৌঁছেছে নক আউটে।

গ্রুপ-বি থেকে লিভারপুল ৫ ম্যাচের সবটিতে জয় নিয়ে নক আউট নিশ্চিত করেছে। তাদের ঝুলিতে ১৫ পয়েন্ট। এই গ্রুপে বাকি তিন দল পোর্তো, মিলান ও আতলেতিকো মাদ্রিদ।

তিন দলেরই নক আউটে যাওয়ার সুযোগ আছে। পোর্তোর পয়েন্ট ৫, আতলেতিকো ও মিলানের পয়েন্ট ৪।

গ্রুপ-সি থেকে নক আউটে খেলবে আয়াক্স আমস্টার্ডাম ও স্পোর্টিং লিসবন। গ্রুপ-ডি থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলান।

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস রেকর্ড

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস রেকর্ড

সংগ্রহের ১২৩০ ফুটবলের মাঝে মেক্সিকান তরুণ রদ্রিগো রোমেরো। ছবি: সংগৃহীত

রদ্রিগো বলেন, ‘ভাগ্য নিজ থেকে ধরা দেয় না। আপনাকে খুঁজে নিতে হবে। মন স্থির করতে হবে। স্বপ্ন পূরণে লড়াই করতে হবে। তবেই আপনি সফল হবেন।’

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড ভাঙলেন মেক্সিকোর এক ফুটবল ভক্ত।

পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের পুয়েব্লা শহরের ওই তরুণের নাম রদ্রিগো রোমেরো।

তিনি বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে ফুটবল সংগ্রহ শুরু করি। সেবার বিশ্বকাপের খেলা দেখতে জার্মানি গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই প্রথম ফুটবলটি কিনি। তবে সেটি সংগ্রহের জন্য নয়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার জন্য।

‘এরপর মেক্সিকোর বিভিন্ন দোকান ঘুরে ফুটবল কেনা শুরু করি। একপর্যায়ে অনলাইনে বিষয়টি শেয়ার করি। সেখানে কিছু গ্রুপ ফুটবল সংগ্রহে আমাকে সাহায্য করে।’

ফুটবল সংগ্রহে রদ্রিগোর রেকর্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার ফার্নান্দো ফুগলিনির ৮৬১ ধরনের ফুটবল সংগ্রহের রেকর্ড ভেঙেছেন রদ্রিগো।

এক হাজার ২৩০ ধরনের ফুটবল সংগ্রহ করে গিনেস রেকর্ড

এই বিশ্বরেকর্ড দেখে অন্যরা উৎসাহী হবেন বলে মনে করেন রদ্রিগো। তিনি বলেন, ‘প্রবল ইচ্ছা থাকলে যেকোনো অর্জন সম্ভব। নিজেরটা নিজেরই করে নিতে হয়। আমি ভাগ্যবান...আমি পেরেছি।

‘ভাগ্য নিজ থেকে ধরা দেয় না। আপনাকে খুঁজে নিতে হবে। মন স্থির করতে হবে। স্বপ্ন পূরণে লড়াই করতে হবে। তবেই আপনি সফল হবেন।’

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

ক্রুসিয়ানির অধীনে এবার শিরোপায় নজর সাইফের

ক্রুসিয়ানির অধীনে এবার শিরোপায় নজর সাইফের

অনুশীলনরত সাইফ। ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো ক্রুসিয়ানির অধীনে এবার শিরোপায় নজর রেখেছে দলটি। তরুণ-অভিজ্ঞ মিশেলে নতুন মানের চার বিদেশি নিয়ে কাগজে-কলমে এবার বেশ শক্তিশালী দল সাইফ।

ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম সামনে রেখে সাদা-মাটাভাবে দলবদল কার্যক্রম সারলেও দল গঠনের এবার মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছে সাইফ এসসি। দেশি-বিদেশি দুই বিভাগেই ভালোমানের খেলোয়াড় নিয়ে শক্তিশালী এক দলই গঠন করেছে তারা।

বুধবার বাফুফে ভবনে এসে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন ক্লাব কর্তারা। আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো ক্রুসিয়ানির অধীনে এবার শিরোপায় নজর রেখেছে দলটি।

সাংবাদিকদের এমন কথাই জানান ক্লাব সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন। তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই প্রতিবার দল গড়ি। এবারও ব্যত্যয় হয়নি। তবে গতবারের চেয়ে এবারের দলটা ভালো হয়েছে। দেশি-বিদেশি দুই বিভাগেই ভালোমানের খেলোয়াড় আমরা কালেক্ট করেছি।’

আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ২০২১-২২ মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপ। টুর্নামেন্টে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে সাইফ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফুটবল দল।

আসরটি সামনে রেখে আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো ক্রুসিয়ানির অধীনে বেশ কিছুদিন ধরেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে সাইফ। খেলেছে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচও। স্বাধীনতা কাপে দল এবার ভালো করবে প্রত্যাশা ক্লাবটি সাধারণ সম্পাদকের।

২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে যাত্রা শুরু সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। ওই বছরই প্রথমবারের মতো স্বাধীনতা কাপে অংশ নেয়। তবে আসরে সুবিধা করতে পারিনি। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। তাও কোনো ম্যাচ না হেরেই। ২০১৮-১৯ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে থামে।

এরপর তিন বছর পেরিয়ে গেছে। স্বাধীনতা কাপ আর হয়নি। ২০২১-২২ মৌসুমে গিয়ে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে মর্যাদার স্বাধীনতা কাপ। যেখানে ১৫ দলের একটি সাইফ এসসি।

সাইফে এবার বেশ কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় যুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন- নাসিরুল ইসলাম নাসির, সাদ্দাম হোসেন অ্যানি, মঞ্জুরুর রহমান মানিক, জমির উদ্দিন, নাজমুল ইসলাম রাসেল, কাওসার আলী রাব্বি, মিতুল হোসেন। এর বাইরে জাতীয় দলে খেলা সাইফের নিয়মিত খেলোয়াড় অধিনায়ক জামাল ভূইঁয়া, পাপ্পু হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, রিয়াদুল হাসানরা এবারো দলটিতে থেকে গেছেন।

এ ছাড়া অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণ-সম্ভাবনাময় নিহাত জামান উচ্ছ্বাস, সবুজ হোসেনদের নিয়ে শক্তিশালী এক দল গড়েছে।

বিদেশিদের মধ্যে রুয়ান্ডা জাতীয় দলে খেলা এমিরি বায়েসেঙ্গে এবারের দলবদলে সবচেয়ে আলোচিত নাম। সাইফের জার্সিতে মাঠ মাতাতে থাকছেন তিনি। এছাড়া নাইজেরিয়ান ফন সানডে উদো, নাইজেরিয়ান এমেকা ওগবাগ এবং উজবেকিস্তানের অ্যাসরোর গফুরোভরা তো আছেনই।

দেশি-বিদেশি উভয়ের ওপরই আস্থা রেখে এবার মাঠে নামবে সাইফ এসসি। এ ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের ওপর শতভাগ আস্থা থাকবে। চারজনই এবার নতুন। দেশি খেলোয়াড়দের ওপরও থাকবে। আমাদের দলে জাতীয় দলে খেলা কয়েকজন আছে; স্থানীয় ভালোমানের খেলোয়াড় আছে। নাসির, মানিককে নিয়েছি।

‘প্রত্যেকটা জায়গায় আমরা চেষ্টা করেছি ভালোমানের খেলোয়াড় নেয়ার। গতবার আমাদের দলে যে দুর্বলতা ছিল সেগুলো যাতে না থাকে সেই দিকে নজর ছিল।’

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

ব্ল্যাকমেইল মামলায় বেনজেমার কারাদণ্ড

ব্ল্যাকমেইল মামলায় বেনজেমার কারাদণ্ড

ফ্রান্স জাতীয় দলের অনুশীলনে কারিম বেনজেমা। ছবি: এএফপি

বেনজেমাকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছে ফ্রান্সের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭৫ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। সাবেক সতীর্থ ও ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার মাথিউ ভালবুয়েনাকে ব্ল্যাকমেইল করার কারণে এই শাস্তি পেলেন বেনজেমা।

রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স জাতীয় দলের তারকা স্ট্রাইকার কারিম বেনজেমাকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছে ফ্রান্সের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭৫ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

সাবেক সতীর্থ ও ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার মাথিউ ভালবুয়েনাকে ব্ল্যাকমেইল করার কারণে এই শাস্তি পেলেন বেনজেমা।

২০১৫ সালের শুরুতে ফ্রান্স জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ভালবুয়েনা ও তার বান্ধবীর একটি সেক্সটেপ পান বেনজেমা। পরে ভালবুয়েনাকে ব্ল্যাকমেইল করেন তিনি।

টাকা দেয়া না হলে ওই ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেন ভালবুয়েনাকে। যে কারণে বেনজেমার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলা করেন ভালবুয়েনা।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় রায়ের সময় আদালতে হাজির ছিলেন না বেনজেমা।

তবে ৩৩ বছর বয়সী বেনজেমার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ওই ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর আবারও ২০২১ সালে ফ্রান্সের জাতীয় দলে ডাক পান বেনজেমা। গত ইউরো ২০২০ এ ২৬ জনের জাতীয় দলে এ স্ট্রাইকারকে ডাকেন ফ্রান্সের হেড কোচ দিদিয়ের দেঁশম।

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন

রামোসকে নিয়ে সিটির মাঠে নামছে পিএসজি

রামোসকে নিয়ে সিটির মাঠে নামছে পিএসজি

পিএসজির অনুশীলনে সার্হিও রামোস। ছবি: এএফপি

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পিএসজির হয়ে বুধবার রাতে অভিষেক হতে পারে এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দলে রামোসকে রেখেছেন পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।

নতুন মৌসুমে যে ৫ তারকা খেলোয়াড়কে দলে টেনেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি হইচই হয়েছে লিওনেল মেসিকে নিয়ে।

ছয়বারের ব্যালন ডর জয়ী তারকা নিজের পারফরম্যান্সে জয় করে নিয়েছেন প্যারিসিয়ানদের।

অন্য তিন নতুন তারকা আচরাফ হাকিমি, জিনি উইনাল্ডাম ও জানলুজি ডোন্নারুম্মাও নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছে খেলার। শুধু সার্হিও রামোস এখনও নতুন দলের জার্সি গায়ে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পিএসজির হয়ে বুধবার রাতে অভিষেক হতে পারে এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দলে রামোসকে রেখেছেন পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক চুকিয়ে গত জুলাইয়ে পিএসজিতে যোগ দেন ৩৫ বছরের রামোস। কিন্তু পায়ের ইনজুরির কারণে প্যারিস জায়ান্টদের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।

২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ও চ্যাম্পিয়নস লিগের চারটি শিরোপা জয় করেছেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ-এতে শীর্ষে রয়েছে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করা ম্যানচেস্টার সিটি। এক পয়েন্ট কম নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে পিএসজি।

আরও পড়ুন:
অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি
মেসির প্রথম ‘ল্য ক্ল্যসিক’

শেয়ার করুন