বিশ্বকাপ না জেতা দুই বড় দলের লড়াই

বিশ্বকাপ না জেতা দুই বড় দলের লড়াই

কুইন্টন ডি কককে আউট করার পর উচ্ছ্বসিত মিচেল স্টার্ক। ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত ২১ বার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকা। অজিদের জয় ১৩টি ও প্রোটিয়াদের জয় ৮টি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মঞ্চে একবারই মুখোমুখি হয় দুই দল। শ্রীলঙ্কায় ২০১২ সালের আসরের ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে হারায় সাউথ আফ্রিকাকে।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেটেও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। স্টিভ ওয়াহ ও রিকি পন্টিংয়ের অধীনে ক্রিকেটের দুই ফরম্যাটে প্রায় অপরাজেয় হয়ে উঠেছিল অজিরা।

যে ট্রফিটি তাদের এখনও নাগালের বাইরে সেটি হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ছয়টি আসরের কোনোটি জেতা তো দূরে থাক, ফাইনালেও উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। সে হতাশা দূর করতে এবারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অ্যারন ফিঞ্চের দল।

দলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রয়েছে একগাদা ম্যাচ উইনার। অধিনায়ক ফিঞ্চ, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিনসরা একাই ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিতে সক্ষম।

তারপরও ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাদের রেকর্ড সাধারণ মানের। বিশ্বকাপের আগে সেটিকে দেখাচ্ছে আরও ম্লান।

টানা পাঁচটি সিরিজ হেরে বিশ্বমঞ্চে নামছে ফিঞ্চের দল। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হার।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে অজিরা চিন্তিত অভিজ্ঞ ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে। এ বছর কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেননি তিনি।

সবশেষ খেলা ২৩টি টি-টোয়েন্টিতে মাত্র তিনটি হাফ সেঞ্চুরি আছে ৩৫ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যানের। তারপরও দলের সমর্থন পাচ্ছেন ওয়ার্নার।

অধিনায়ক ফিঞ্চ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। আমার সন্দেহ নেই সে প্রথম ম্যাচেই ভালো করবে ও সেটা বাকি টুর্নামেন্টে ধরে রাখবে।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকা আছে দারুণ ছন্দে। শেষ ১০ ম্যাচের ৯টিতে জিতেছে প্রোটিয়ারা।

২০২১ সালের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। টেম্বা বাভুমার দল মুখিয়ে আছে সাউথ আফ্রিকাকে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম কোনো আইসিসি ইভেন্টে সাফল্য এনে দিতে।

এবারের টুর্নামেন্টের আগে শিরোপার প্রত্যাশা অনেক জানালেন অধিনায়ক বাভুমা। দর্শক ও সংবাদমাধ্যমের প্রত্যাশাটাও মনে করিয়ে দিলেন সবাইকে।

প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে মিডিয়ায় আমরা বেশ আক্রমণের শিকার হয়েছি। তবে সেসব ভুলে আমরা যেমনটা খেলছি, তেমনটা আমাদের খেলে যেতে হবে।’

টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত ২১ বার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকা। অজিদের জয় ১৩টি ও প্রোটিয়াদের জয় ৮টি।

২০২০ সালে ফেব্রুয়ারিতে সাউথ আফ্রিকার মাটিতে সবশেষ তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মঞ্চে একবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। শ্রীলঙ্কায় ২০১২ সালের আসরের ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে হারায় সাউথ আফ্রিকাকে।

সম্ভাব্য একাদশ

অস্ট্রেলিয়া: অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, ম্যাথিউ ওয়েড, অ্যাস্টন এইগার, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জ্যাম্পা ও প্যাট কামিনস।

সাউথ আফ্রিকা: কুইন্টিন ডি কক, টেম্বা বাভুমা, এইডেন মারক্রাম, রাসি ফন ডার ডুসেন, ডেভিড মিলার, হেনরিখ ক্লাসেন, উইয়ান মালডার, কাগিসো রাবাডা, কেশভ মহারাজ, আনরিখ নরটিয়া ও তাবরেইজ শামসি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হারের পরও উইকেটের প্রশংসায় মুমিনুল

হারের পরও উইকেটের প্রশংসায় মুমিনুল

হারের পর দলকে নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন মুমিনুল হক। ছবি: এএফপি

দলের পেইসার ও ব্যাটাররা এ উইকেটে ব্যর্থ হলেও উইকেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অধিনায়ক মুমিনুল হক। এমন উইকেট নিয়মিত চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম টেস্টের শুরু থেকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হয় বাংলাদেশকে। যা বজায় ছিল দ্বিতীয় ইনিংসেও। একমাত্র লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম ছাড়া হাসেনি কারও ব্যাট। পুরো উল্টো চিত্র পাকিস্তান শিবিরে। উইকেট আগলে ব্যাটিং করে গেছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা।

অপরদিকে সাগরিকার ফ্ল্যাট উইকেটে প্রথম ইনিংস থেকে তাণ্ডব চালান শাহিন-হাসান আলিরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ১৬টি উইকেট গেছে পাকিস্তানি পেইসারদের ঝুলিতে।

বাংলাদেশের বোলারদের বলার মতো অর্জন তাইজুলের সাত উইকেট। পেইসাররা ছিলেন এই উইকেটে ছন্নছাড়া।

দলের পেইসার ও ব্যাটাররা এ উইকেটে ব্যর্থ হলেও উইকেটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অধিনায়ক মুমিনুল হক। এমন উইকেট নিয়মিত চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘এরকম উইকেট আমার পছন্দ। পুরোপুরি ফ্ল্যাট উইকেট ছিল। ব্যাটারদের জন্য সহায়ক ও পেইস বোলারদের জন্য কঠিন ছিল। তার মানে উইকেট ভালো ছিলো।’

মুমিনুলের দাবি অনুযায়ী উইকেটে ভাল করার কথা ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। সেই সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার করে খেলার কথা ছিল রাহি-এদাবতদের।

বাংলাদেশের দুই পেইসারের পারফরম্যান্স বিবেচনায় দেখা যায় দুই ইনিংসে এবাদত দুটি উইকেট ঝুলিতে পুরলেও শূন্যহাতে থাকতে হয়েছে রাহিকে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

সাকলায়েনের নজর কেড়েছেন তাইজুল

সাকলায়েনের নজর কেড়েছেন তাইজুল

আবিদ আলির উইকেট উদযাপন করছেন তাইজুল ইসলাম। ছবি: এএফপি

ফ্ল্যাট উইকেটে তাইজুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে পাকিস্তানি স্পিন গ্রেট সাকলায়েন মুশতাকের। টেস্টের পর ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অকপটে তাইজুলকে নিয়ে প্রশংসা করেন সাবেক এ অফস্পিনার।

চট্টগ্রাম টেস্টের পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসটা শুরুতে পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও একাই সেটি ছিনিয়ে বাংলাদেশের কোর্টে নিয়ে আসেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। স্পিন ঘূর্ণিতে তছনছ করে দেন পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিটকে।

প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। আর ১১৬ রানের খরচায় ৭ উইকেট নিয়ে এর মূল নায়ক তাইজুল ইসলাম।

ফ্ল্যাট উইকেটে তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে পাকিস্তানি স্পিন গ্রেট সাকলায়েন মুশতাকের। টেস্টের পর ব্রডকাস্টারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অকপটে তাইজুলকে নিয়ে প্রশংসা করেন সাবেক এ অফস্পিনার।

সাকলায়েন বলেন, ‘তাইজুলকে অনেক ভালো মনে হয়েছে। যে জায়গায় আক্রমণ করেছে সেখানে ব্যাটারদের সুযোগ দেয়নি। আলগা বল তো দূরে থাক, সিঙ্গেলও দেয়নি। ওর নিয়ন্ত্রণটা সত্যিই দারুণ মনে হয়েছে।’

প্রশংসার পাশপাশি তাইজুলের বোলিংয়ে উন্নতির জন্য তাকে টোটকাও দিয়েছেন সাবেক এই গ্রেট। ধৈর্য রেখে বোলিংয়ের পাশাপাশি ডেলিভারিতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ সাকলায়েনের।

পাকিস্তানি এই গ্রেট বলেন, ‘তার আরেকটু ভ্যারিয়েশন আনতে হবে। সেটা তাকে বাড়তি শক্তি দেবে। বাড়তি ওভারস্পিন তাকে অনেক সহায়তা করতে পারে। তবে তার টেম্পারমেন্ট ও ধৈর্য আমার খুব ভালো লেগেছে। নিয়ন্ত্রণটা তাইজুলের মূল শক্তি।’

তাইজুলকে নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের কণ্ঠেও। ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে তাইজুলের স্পেলকে ধরছেন অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বলব যে ম্যাচে আমাদের ২-৩টা প্রাপ্তির মধ্যে তাইজুলেরটাই সেরা। এমন ফ্ল্যাট পিচে ৭ উইকেট নেয়া এত সহজ না। ও যে কাজটা করেছে সেটা দুর্দান্ত। গত এক-দেড় বছরে নিজের উন্নতি করতে সে যে কাজ করেছে তা অবশ্যই অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার।’

সাগরিকা টেস্টে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আট উইকেটে হেরেছে ডোমিঙ্গো শিষ্যরা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি মাঠে গড়াবে ৪ ডিসেম্বর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

ঢাকা টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে সাকিব

ঢাকা টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে সাকিব

বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে সাকিব আল হাসান। ছবি: এএফপি

সাকিবকেসহ ২০ জনের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা টেস্টের দল ঘোষণা করে বোর্ড।

টানা হারে জর্জরিত বাংলাদেশ ক্রিকেট যাচ্ছে সংকটের মধ্য দিয়ে। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে হার।

এমন সময়ে সুখবর। দলে ফিরেছেন ক্রাইসিস ম্যান সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে মাঠে দেখা যাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে।

সাকিবকেসহ ২০ জনের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা টেস্টের দল ঘোষণা করে বোর্ড।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সে ইনজুরি তাকে ছিটকে দিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে।

চোট থেকে সেরে না ওঠায় পাকিস্তানের বিপক্ষের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলেননি সাকিব। একই কারণে বিসিবির মেডিক্যাল বোর্ডের কাছ থেকে সবুজ সংকেত মেলেনি চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে।

চোট কাটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরছেন তিনি। মঙ্গলবার ফিটনেস টেস্টে উতরে যাওয়ায় বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার খেলার সুযোগ পাচ্ছেন ঢাকা টেস্টে।

দলে সাকিবের সঙ্গে ফিরেছেন দুই পেইসার তাসকিন আহমেদ ও খালেদ আহমেদ । আর প্রথমুবার ডাকা হয়েছে তরুণ ওপেনার নাঈম শেখকে।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান, নাজমুল শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, ইয়াসির রাব্বি, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদি মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ, নাইম হাসান, মাহমুদুল হাসান, রেজাউর রহমান, খালেদ মাহমুদ, শহিদুল ইসলাম ও নাঈম শেখ।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

ফরম্যাট বদলেও ভাগ্য বদলাল না বাংলাদেশের

ফরম্যাট বদলেও ভাগ্য বদলাল না বাংলাদেশের

বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্রাইভ খেলছেন আবিদ আলি। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে আট উইকেটের বড় হার দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিকরা। সেই সুবাদে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

শেরে বাংলা থেকে সাগরিকা। দূরত্বটা প্রায় আড়াই শ কিলোমিটারের। শেরে বাংলায় ব্যর্থতার পর প্রায় আড়াই শ কিলোমিটার দূরে এসে ফরম্যাট বদলে বাংলাদেশ চেয়েছিল হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে।

কিন্তু ফরম্যাট ও ভেন্যু বদলালেও পরাজয় পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে পিছু নেয়া হার লেগে আছে টাইগারদের সঙ্গে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে আট উইকেটের বড় হার দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছে স্বাগতিকরা। সেই সুবাদে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লিটন-মুশফিকরা লক্ষ্য বেঁধে দেন ২০২ রানের। সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে জয় বাগিয়ে নিয়েছে সফরকারী দল।

চট্টগ্রামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ৩৩০ রানের পুঁজি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলেও ইনিংসের শেষ দিকে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। তাইজুলের অসাধারণ বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ২৮৬ রানে অল আউট করে দিয়ে ৪৪ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।

লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ফের বিপর্য়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পেরে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান তোলে লিটন-মুশফিকরা। পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনেই উদ্বোধনী জুটিতে ১০৯ রান তোলে পাকিস্তান। জয় থেকে ৯৩ রান দূরে থেকে পঞ্চম দিন শুরু করে বেশ ভালো খেলছিলেন দুই পাক ওপেনার।

একই সঙ্গে ১০ উইকেটে হারের সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের সামনে। সে স্বপ্নে বাধ সাধেন মেহেদি মিরাজ। দিনের শুরুতে স্কোরবোর্ডে ৪২ রান যোগ করতে ফেরান আসাদুল্লাহ শফিককে।

ডানহাতি এই স্পিনারের স্পিন বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়ার আগে তিনি খেলেন ৭৩ রানের এক ঝলমলে ইনিংস।

ছয় ওভার পর তাইজুলের এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন আবিদ আলি।

বাকি কাজটা সারতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বাবর আজম ও আজহার আলিকে। বাবরের ১৩ ও আজহারের ২৪ রানে ভর করে আট উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি মাঠে গড়াবে ৪ ডিসেম্বর। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

তাইজুল ফেরালেন আবিদকে

তাইজুল ফেরালেন আবিদকে

উইকেট উদযাপন করছেন তাইজুল। ছবি: এএফপি

এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ৯১ রানে আবিদকে মাঠছাড়া করেন তাইজুল। চলতি ম্যাচে এটি তার অষ্টম উইকেট।

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় ইনিংসেও একই পথে হাঁটছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার আবিদ আলি। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৯ রান দূরে থাকতে তাকে থামিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। এই ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ।

এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ৯১ রানেই আবিদকে মাঠছাড়া করেন তাইজুল। চলতি ম্যাচে এটি তার অষ্টম উইকেট।

এর আগে জয় থেকে ৯৩ রান দূরে থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। আবিদ আলি ও আসাদুল্লাহ শফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দেখছিল ১০ উইকেটের পরাজয়।

দলীয় ১৫১ রানে আসাদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদি মিরাজ। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

আর চতুর্থ দিন সকালে ৪ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাকি উইকেটে ১১৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। লিড দাঁড় করায় ২০১ রানের।

সে মোতাবেক পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রানের।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

শফিককে ফিরিয়ে মেহেদির প্রথম আঘাত

শফিককে ফিরিয়ে মেহেদির প্রথম আঘাত

মিরাজের উইকেট উদযাপন। ছবি: এএফপি

দলীয় ১৫১ রানে আসাদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙ্গেন মেহেদি মিরাজ। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

সাগরিকা টেস্টের চতুর্থ দিনে চালকের আসনে বসে গিয়েছিল পাকিস্তান। সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে পরাজিত করার।

কিন্ত শেষ দিনের শুরুতে সেই আশায় বাধ সাধলেন মেহেদি হাসান। জয়ের থেকে ৫১ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরান আসাদুল্লাহ শফিককে। আর এর মধ্য দিয়ে লজ্জা কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব হল বাংলাদেশের।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের দেয়া ২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১০৯ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করে পাকিস্তান।

জয় থেকে ৯৩ রান দূরে থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে সফরকারীরা। আবিদ আলি ও আসাদুল্লাহ শফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দেখছিল ১০ উইকেটের পরাজয়।

দলীয় ১৫১ রানে আসাদুল্লাহ শফিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙ্গেন মেহেদি মিরাজ। মাঠ ছাড়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

এর আগে চতুর্থ দিন সকালে ৪ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাকি উইকেটে ১১৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। লিড দাঁড় করায় ২০১ রানের।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন

ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, ‘এখনও সম্ভব’

ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, ‘এখনও সম্ভব’

মেহেদি মিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করছেন রাসেল ডমিঙ্গো। ছবি: এএফপি

টাইগারদের হেড কোচ মনে করেন, এখনও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। তার মতে, সকালের সেশনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরবে।

শেষ দিনে পাকিস্তানের ৯৩ রান দরকার চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে। তাদের ১০ উইকেটই অক্ষত। মাঠের লড়াইয়ে ও জয়ের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ জয়ের থেকে যোজন দূরে থাকলেও টাইগারদের হেড কোচ মনে করেন, এখনও ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের।

চট্টগ্রামে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো এমনটা বলেন। তার মতে, সকালের সেশনে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরবে।

তিনি বলেন, ‘জিততে হলে বিশেষ কিছু করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমাদের জয়ের সুযোগ আছে এটা বিশ্বাস করেই কাল মাঠে নামতে হবে। প্রথম আধঘণ্টায় এক-দুটি উইকেট তুলে নিতে পারলে, যেকোনো কিছু সম্ভব।’

টেস্টের দুই ইনিংসেই নতুন বল ও গতির কাছে ধসে গেছে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৪০ কিমি গতির শর্ট বল খেলে অভ্যাস নেই টাইগারদের। যার ফল দেখা গেছে মাঠে। শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলিরা বাউন্স আউট করেছেন মুমিনুল-সাইফদের।

দলের এই খামতি এক বাক্যে মেনে নিয়ে কোচ বলেন, ‘নতুন বলে আমরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছি না। নতুন বলে ব্যাট করার সময় চাপে পড়ে যাচ্ছি। উইকেটে টপ অর্ডাররা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে না। সাইফ-সাদমানকে আরও অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে এমন ভালো বোলিং লাইনআপ সামাল দিতে।’

দলকে অবশ্য এখনও সমালোচনার মুখে ফেলতে চাচ্ছেন না এই সাউথ আফ্রিকান কোচ। তবে জানালেন ব্যাটিং নিয়ে আক্ষেপটা থেকেই যাচ্ছে।

ডমিঙ্গো বলেন, ‘মিডিয়ার সামনে ক্রিকেটারদের নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না। তবে আমি মনে করি মোমেন্টাম নিয়ে আলোচনা করতে পারি। যখন চার উইকেট অক্ষত রেখে ১৯৬ রানের লিড নিয়েছিলাম, তখন আরও ৪০-৫০ রান যোগ হলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যেত। আরও একটু বেশি ব্যাটিং করতে পারলে এগিয়ে থাকতে পারতাম।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের বিপক্ষে নেই লঙ্কান ‘রহস্য স্পিনার’
‘ভুল ঠিক করে নেয়ার সময় বেশি নেই’
ডাচদের ৪৪ রানে গুটিয়ে মূলপর্বে শ্রীলঙ্কা

শেয়ার করুন