ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শক ফেরাতে কাজ শুরু করবেন মিঠু

ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শক ফেরাতে কাজ শুরু করবেন মিঠু

বিসিবি কার্যালয়ে নতুন নির্বাচিত পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত মিঠু। বিসিবিতে জায়গা করে নেয়ার পর সেদিকটাতেই নজর থাকতে বেশি এমনটাই জানালেন নিউজবাংলাকে। নির্বাচনের পর কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রথম বিস্তারিত আলাপচারিতায় মিঠু কথা বলেছেন ক্লাব ক্রিকেট ছাড়াও ঢাকা ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের নানা দিক নিয়ে।

বিসিবি নতুন পরিচালক পর্ষদের নতুন মুখ ইফতেখার রহমান মিঠু। সাবেক এই ক্রিকেটার ও বর্তমানে ক্রিকেট সংগঠক ঢাকার ক্লাব পাড়ায় পরিচিত নাম প্রায় তিন দশক ধরে। লাইমলাইটে খুব একটা না থাকলেও, প্রথমবার নির্বাচন করে সাফল্যে পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত মিঠু। বিসিবিতে জায়গা করে নেয়ার পর সেদিকটাতেই নজর থাকতে বেশি এমনটাই জানালেন নিউজবাংলাকে। নির্বাচনের পর কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রথম বিস্তারিত আলাপচারিতায় মিঠু কথা বলেছেন ক্লাব ক্রিকেট ছাড়াও ঢাকা ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের নানা দিক নিয়ে। নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রথমবার নির্বাচন করেই সফলতা। নির্বাচনের আগে কি কোনো শঙ্কা ছিল জয় নিয়ে?

নির্বাচনে সবসময়ই ভয় থাকে। দুশ্চিন্তা একটা থাকেই। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি ক্লাবের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে যেহেতু এসেছি আর আমার বন্ধু বান্ধবরা যারা কাউন্সিলর, তারাও বিভিন্ন ক্লাব থেকে এসেছেন। সে দিক থেকে নিজেকে একটু এগিয়ে রেখেছিলাম।

আমি ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে জড়িত অনেক বছর। ১৯৯৫ সাল থেকে নানা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেছি। বোর্ডের পরিচালক না হলেও বোর্ডের কার্যকলাপে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। তাই খুব একটা চ্যালেঞ্জিং লাগছে না। একটাই পরিবর্তন এসেছে। আগে কারো অধীনে ছিলাম, এখন আমি নেতৃত্ব দিচ্ছি।

একজন বোর্ড পরিচালক হিসেবে ক্রিকেটের কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে অগ্রাধিকার পাবে?

আমার প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমি একজন সাবেক ক্রিকেটার। আমরা যারা বোর্ড পরিচালক রয়েছি, আকরাম আছে, সুজন আছে, মাহবুব আছেন সবারই প্রধান লক্ষ্য ক্রিকেটের উন্নতি করা।

যখন ক্রিকেট খেলতাম ৯০-এর দশকে, তখন ক্লাব ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় ছিল। আবাহনী-মোহামেডান ক্রিকেট ম্যাচে তখন ৬০ হাজার লোক হতো। সেই উন্মাদনা এখন আর নেই। ব্যক্তিগতভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি কাজ করে একে আরও জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করব।

সৌরভ গাঙ্গুলির বিসিসিআই থেকে বিসিবির ক্রিকেট উন্নয়নে কতোটা সমর্থন আপনি বন্ধু হিসেবে আশা করেন?

দেখেন সৌরভ আমার ছোটবেলার বন্ধু। সে এখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। তার নিজের কিছু প্রফেশনাল বিষয় আছে। তার বাইরে বন্ধু হিসেবে যতটুকু সাহায্য করতে পারবে লিমিটেশনের ভেতর থেকে সেটাই করবে। আমি মনে করি বন্ধু হিসেবে তার থেকে সেটি আমি আদায় করে নিতে পারব।

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী কাঠামো থেকে কোন বিষয়গুলো আমরা নিজেদের ক্রিকেটে ব্যবহার করতে পারি?

তাদের উপদেশ, তারা যেই পরিকল্পনা করেছে সেগুলো আমরা অনুসরণ করতে পারি।

ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতিতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেট একটা দারুণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতি করতে না পারলে সেটির পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে না। ক্রিকেটের উন্নয়ন করতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতি করতে হবে। তাতে খেলোয়াড়রা বের হয়ে আসতে পারবে। অবকাঠামোর অনেক বেশি উন্নতি করতে হবে। আমাদের খেলার মাঠ কম। তবে ভালো খবর হচ্ছে সভাপতি প্রথম সভাতে বলে দিয়েছেন যে আমাদের খেলার মাঠ তৈরি করতে।

জনপ্রিয়তা ফেরাতে হলে ভালো মাঠে খেলানো, ভালো কোয়ালিটির লোকাল ও বিদেশি প্লেয়ারকে খেলাতে হবে। সবচেয়ে জরুরি যেই বিষয়টা যথার্থ সূচী যদি করা সম্ভব হয়, যেমন ধরুন গরমে (জুন-জুলাইয়ে) খেলা না ফেলে যদি একটা গ্যাপ বের করে বিদেশি ট্যুরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভালো একটা সময় বের করা যায়, তাতে জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না?

বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার যেই ১৫-১৬ জন আছেন তাদের কিন্তু ফুল টাইম কখনও পাওয়া যাবে না। কারণ আইসিসির একটা সূচি রয়েছে। এটা সবসময়ই আমাদের সমস্যা ছিল। এফটিপিতে যদি খেলা কম থাকে তাহলে তাদের অংশগ্রহণ বেশি হয়। বিপিএলে আপনি পান কেন? বিপিএল১৫ দিনের একটা স্লটে খেলা হয়। ডিপিএলের কথা যদি বলেন, সেটি হয় দুই-তিন মাস জুড়ে। তাই স্বভাবতই তিন মাস ধরে আপনি জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়কে পাবেন না।

ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব ফিরিয়ে আনতে আর কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন?

আমরা সবাই চাচ্ছি ঘরোয়া ক্রিকেটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। তার জন্য প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটা হলো সূচি নির্দিষ্ট করতে হবে। জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে যদি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন করা যায়, লোকজন কিছুটা হলেও উৎসাহী হবে। কারণ কেউ জুন-জুলাইয়ের গরমের ভেতর, বৃষ্টির ভেতর বসে খেলা দেখতে চায় না। তাই এটা শীতকালে করতে পারলে প্রিমিয়ার লিগে আগ্রহ চলে আসবে।

সেই সাথে মাঠ বাড়াতে হবে। এরপর ক্রিকেটারদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দেয়া, দলগুলোকে মোটিভেট করা, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ অনেক কিছু আছে। এটা শুধু ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব না, এখানে আন্তরিকতা থাকতে হবে ক্লাব মালিকদেরও। সবাই মিলে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেব কোনটা ভালো হবে ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতিতে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের টিভি সম্প্রচার বাড়ানো সম্ভব কি না?

এটা একটা দুর্দান্ত কথা বলেছেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে বসে, কোচ ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসে আমরা যদি মতবিনিময় করতে পারি তাহলে এমন আরও দুর্দান্ত মত উঠে আসবে। প্রতিদিন যদি কোনো রেডিও বা টিভিতে খেলার কমেন্ট্রি সম্প্রচার হয়, সংবাদমাধ্যমগুলো যদি খেলাগুলোকে আরও বেশি কাভারেজ দেয় তাহলে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবব। একই সঙ্গে আমাদের দেখতে হবে খেলা সম্প্রচারের সম্ভাবনা কেমন। খেলা সম্প্রচার কিন্তু সহজ বিষয় না।

প্রথমে আমরা দুটো ম্যাচ করলাম। আস্তে আস্তে সম্প্রচারের পরিধি বাড়ালাম। শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামটা যখন হয়ে যাবে তখন দুটো স্টেডিয়ামে আমরা ম্যাচ ফেলতে পারব। সুযোগ সুবিধা দিতে পারব। ম্যাচও ব্রডকাস্ট করতে পারব। ঘরোয়া ক্রিকেট ব্রডকাস্ট করতে পারলে সেটির জনপ্রিয়তা অবশ্যই বাড়বে।

আম্পায়ারিং নিয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ লিগে অনেক বিতর্ক হয়। আছে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও, কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

প্রথম দিনের সংবাদসম্মেলনে আমাদের বোর্ড সভাপতি খুব ভালো একটা কথা বলেছেন। কেন চাপ দেয়া হয় আম্পায়ারকে, সেটা বের করতে হবে। চ্যাম্পিয়ন দলসহ চার-পাঁচটা দল ছিল, সেসব ম্যাচে চাপ তৈরি হতো। কারণ তারা রেলিগেশনে চলে গেলে বেশ সিরিয়াস ইস্যু তৈরি হত। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লিগের কোনো কাউন্সিলরশিপ নেই। সব লিগে যখন কাউন্সিলরশিপ চলে যাবে তখন কিন্তু এমনিতেই আম্পায়ারিংয়ে চাপ কমে যাবে।

সেই সঙ্গে আমাদের আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সাবেক খেলোয়াড়রা যত আসবেন, আম্পায়ারিংয়ের মান ততো উন্নত হবে।

আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

এখন আমরা সাত নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে আছি ওয়ানডেতে। আমাদের লক্ষ্য পাঁচ অথবা চারে যাওয়ার। টেস্টে একদম নিচে আছি। সেখান থেকে দুই ধাপ উঠে আসা। টেস্টে দুই ধাপ উন্নতি কিন্তু বিশাল ব্যপার। আমার নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য হচ্ছে ঘরোয়া ক্লাব ক্রিকেট ও লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটের যেন আরও উন্নতি করা যায়।

বাংলাদেশ আগামী ১০ বছরে দুটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায়, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত দিক দিয়ে কতখানি প্রস্তুত বিসিবি?

আমরা ২০১১ বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। ২০১৪ সবগুলো দল নিয়ে সফলভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ করেছি। এরপর এশিয়া কাপ, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি। মোটামুটি ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অবকাঠামোর অনেক পরিবর্তন এসেছে। নতুন যে স্টেডিয়ামটা হবে, যেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে করা হচ্ছে, সেটা হয়ে গেলে অবকাঠামোর আরও উন্নতি হবে।

ঢাকার বাইরে ফতুল্লা ও খুলনার মতো আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

আমাদের জাতীয় দলকে দিয়ে এ সব জায়গায় খেলানো খুব কঠিন। এইসব ভেন্যুতে হোটেলের একটা সমস্যা রয়েছে। পর্যাপ্ত রুম নেই। সিলেটে মোটামুটি আছে। আপনি দেখবেন ঢাকা ও চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক খেলাগুলো হয়। আন্তর্জাতিক খেলায় হোটেলে বেশি কক্ষের প্রয়োজন হয়। টিভি ক্রু থাকে। দুটো দল ও তাদের অতিথিরা থাকেন। প্রধান দুর্বলতাটাই হচ্ছে হোটেল। দ্বিতীয় স্তরে যারা রয়েছে, এ-দল, এইচপি, অনূর্ধ্ব ১৯ তাদের খেলা অবশ্য ওই ভেন্যুগুলোতে দেয়া যায়।

এ সমস্যাগুলো জানি আমরা, তারপরও কেন সেটি সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না?

বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে মেইনটেন্যান্স। করে ফেলা যায় খুব সহজে। এর পরের মেইনটেনেন্সের বিষয়ে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। সেটির উন্নয়ন করে স্টেডিয়ামগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করার বিষয়ে বোর্ডের হয়ে যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের দায়িত্বে আসবেন, তার সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা আসলে দিনে দিনে উন্নতি করছি। এখন আর নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই।

নিয়মিত ক্রিকেটার হান্ট আবার চালু করার কোনো চিন্তা ভাবনা আছে কিনা?

বোর্ডের এরকম একটা পরিকল্পনা আছে। পেইসার হান্টের মতো প্রোগ্রাম আমাদের আগে ছিল। মাঝে সব কিছু নিয়ে এতো ব্যস্ততা, তাতে ওরকম প্রোগ্রামে ভাটা পড়েছে। বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমার পরামর্শ হল, একটা লেগ স্পিনারের ক্যাম্প যদি করা যায় তাহলে সেখান থেকে ক্রিকেটার উঠে আসবে। আমরা যখন ক্রিকেট খেলতাম তখন ক্যাম্প থেকে ক্রিকেটার উঠে আসত। এখন ক্রিকেটের অবস্থা যেমনটা হয়েছে, অনেক কোচের অধীনে থেকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে সব। সেসব ক্যাম্প থেকে সবাই আসে। আমি ব্যক্তিগতভাবে গেম ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব যিনি পাবেন তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের

১০ উইকেটের জয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো পাকিস্তানের

বাবর ও রিজয়ান ম্যাচজয়ী জুটি গড়েন ভারতের বিপক্ষে। ছবি: টুইটার

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর স্বাদ পেল পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে ১০ উইকেটের বড় জয়ে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছেড়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম। ভারতের করা সাত উইকেটে ১৫১ রানের লক্ষ্যকে কোন উইকেট না হারিয়ে ১৩ বল বাকি থাকতে টপকে যায় পাকিস্তান।

২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের কাছে শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ হয় পাকিস্তানের। এরপর গত ১৪ বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয় পায়নি পাকিস্তান।

অবশেষে ১৪ বছর পর ফুরাল অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর স্বাদ পেল পাকিস্তান। ভারতের বিপক্ষে ১০ উইকেটের বড় জয়ের পাশাপাশি ইতিহাস গড়ে মাঠ ছেড়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম।

ভিরাট কোহলিদের দেয়া ১৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ১৩ বল অক্ষত রেখে জয় পায় পাকিস্তান। এ সময় দুই ওপেনারের মধ্যে বাবর আজম ৫২ বলে ৬৮ ও মোহম্মদ রিজওয়ান ৫৫ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

শুরু থেকে ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে অনায়াসে খেলতে থাকেন দুই জন। বুমরাহ, জাডেজা, শামি কেউই কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।

দুবায়ের ব্যাটিং উইকেটে নির্বিঘ্নেই লক্ষ্যে পৌঁছান আজম ও রিজওয়ান। শেষ হয় পাকিস্তানের সাত ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অপেক্ষা।

এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ১০ উইকেটে হেরেছে ভারত ও ১০ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।

শুধু টি-টোয়েন্টিই নয় এর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে একবারও জেতেনি পাকিস্তান। ১৯৯২ বিশ্বকাপ থেকে থেকে হারের ধারাবাহিকতা শুরু।

দুই দল বিশ্ব আসরে প্রথম একে অপরের মোকাবিলা করে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। এরপর ১৯৯৬, ৯৯, ২০০৩, ২০১১, ২০১৫ ও ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০০৭, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ভারতের কাছে হারে পাকিস্তান। অবশেষে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাল্টালো পাশার দান।

যার কৃতিত্ব মূলত পাকিস্তানি বোলারদের। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান দলপতি বাবর আজম।

ম্যাচের চতুর্থ বলে শাহিন শাহ আফ্রিদির ইয়র্কার লেন্থের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে রানের খাতা খোলার আগে ফেরেন রোহিত শর্মা। এক ওভার পর লোকেশ রাহুলের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন এই পেইসার।

আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সুরিয়াকুমার ইয়াদভও ব্যর্থ হন। হাসান আলির দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আউটসাইড এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা দিয়ে আউট হন ১১ রানে।

দলের এমন বিপর্যয়ে এগিয়ে আসেন ভিরাট কোহলি। রিশাভ পান্টকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। গড়েন ৫৩ রানের জুটি। শাদাব খানের কল্যাণে পান্টের বিদায়ে ভাঙ্গে তাদের জুটি। বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হন রভিন্দ্র জাডেজা ও হার্দিক পান্ডিয়াও।

এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান কোহলি। তাকে থামতে হয় ৫৭ রানে। পাক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষতক সাত উইকেটে ১৫১ রানে থামে ভারতের ইনিংস।

পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদি নেন তিনটি উইকেট। দুই উইকেট নেন হাসান আলি। আর একটি করে উইকেট যায় শাদাব খান ও হারিস রউফের ঝুলিতে।

চার ওভার বল করে ৩১ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন শাহিন আফ্রিদি।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক

আমরা ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করিনি: মুশফিক

ক্যাচ মিসের পর মুস্তাফিজের হতাশা। ছবি: আইসিসি

শুধু ক্যাচ ফেলাকে হারের জন্য দায়ী করছেন না অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তার মতে ফিল্ডিং দূর্বলতার সঙ্গে বাজে বোলিংয়ের কারণে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জ দেয় বাংলাদেশ। সেই চ্যালেঞ্জের জবাবে টাইগার বোলারদের খরুচে বোলিং ও মিস ফিল্ডিংয়ের সহায়তায় ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শ্রীলঙ্কা।

আপাতদৃষ্টিতে লিটন দাসের হাতে ভানুকা রাজাপাকসে ও চারিথ আসালাঙ্কা জীবন পাওয়ায় ঘুরে গেছে ম্যাচের মোড়ে। তবে শুধু ক্যাচড্রপকে হারের জন্য দায়ী করছেন না অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।

তার মতে ফিল্ডিং দূর্বলতার সঙ্গে বাজে বোলিংয়ের কারণে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ শেষে সংবাদসম্মেলনে এমনটাই বলেন মুশফিক।

মুশফিক বলেন, ‘আমরা ১৭০ রান করে জেতার অবস্থায় ছিলাম। পরে আমরা সুযোগ নিতে পারিনি। ভাল বোলিং বা ফিল্ডিং করিনি। এটা সত্যি খারাপ লাগে যে, ভাল খেলে হারলে সে ভাল খেলার কোন মানে নেই। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, এই ফরম্যাটে বড় দল বা ছোট দল বলে কিছু নেই। সামনে একই ভাবে আমরা এগোতে চাই।

দল হারলে শুরু হয় ক্রিকেটারদের কড়া সমালোচনা। সেগুলোকে পাত্তা না দিয়ে মুশফিক বলেন, ‘মাঠের বাইরে তো নানা রকম কথা হবেই। ক্রিকেটার হিসেবে ভাল করলে সবাই তালি দিবে আর খারাপ করলে গালি দিবে এটাই নিয়ম। এটা আমার প্রথম বছর না। গত ১৬ বছর ধরে এসব দেখে আসছি।

‘যারা এসব বলে তাদের উচিত নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখা। কারণ তারা তো বাংলাদেশের হয়ে খেলে না। আমরা খেলছি। সবাই ভাল করার চেষ্টা করি। কোনদিন হয় কোনদিন হয় না।’

সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ২৭ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান দলের উদযাপন। ছবি: টুইটার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে ভারতকে ১৫১ রানে আটকে দিয়েছে পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটের খরচায় ১৫১ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোহলিরা।

ক্রিকেটবিশ্বে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ মানে মহারণ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে ভারতকে ১৫১ রানে বেধে দিয়েছে পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটের খরচায় ১৫১ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোহলিরা।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান দলপতি বাবর আজম।

ম্যাচের চতুর্থ বলে শাহিন শাহ আফ্রিদির ইয়র্কার লেন্থের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে রানের খাতা খোলার আগে ফেরেন রোহিত শর্মা। এক ওভার পর লোকেশ রাহুলের অফ স্টাম্প উড়িয়ে মাঠ ছাড়া করেন এই পেইসার।

আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সুরিয়াকুমার ইয়াদভও ব্যর্থ হন। হাসান আলির দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আউটসাইড এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা দিয়ে আউট হন ১১ রানে।

দলের এমন বিপর্যয়ে এগিয়ে আসেন ভিরাট কোহলি। রিশাভ পান্টকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। গড়েন ৫৩ রানের জুটি। শাদাব খানের কল্যাণে পান্টের বিদায়ে ভাঙ্গে তাদের জুটি। বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হন রভিন্দ্র জাডেজা ও হার্দিক পান্ডিয়াও।

এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান কোহলি। তাকে থামতে হয় ৫৭ রানে। পাক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষতক ১৫১ রানে থামে ভারতের ইনিংস।

পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদি নেন তিনটি উইকেট। দুই উইকেট নেন হাসান আলি। আর একটি করে উইকেট যায় শাদাব খান ও হারিস রউফের ঝুলিতে।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

ক্যাচ মিস ও খরুচে বোলিংয়ে হার বাংলাদেশের

ক্যাচ মিস ও খরুচে বোলিংয়ে হার বাংলাদেশের

অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসের পথে শট খেলছেন চারিথ আসালাঙ্কা। ছবি: টুইটার

সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটের হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে মাহমুদুল্লাহর দল। বাংলাদেশের দেয়া ১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাত বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা।

শারজার মাঠে ১৭১ রানের সংগ্রহটা জয়ের জন্য বড় পুঁজি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বোলিংয়ের সময় বোলারদের খরুচে বোলিং, ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের মাশুল বেশ খারাপভাবে দিতে হলো বাংলাদেশকে।

সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটের হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে মাহমুদুল্লাহর দল। বাংলাদেশের দেয়া ১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাত বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা।

বাংলাদেশের দেয়া ১৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দলীয় দুই রানে নাসুমের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন কুশাল পেরেরা।

দ্রুত উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি সামাল দেন পাথুম নিশাঙ্কা ও চারিথ আসালাঙ্কা। বাংলাদেশি বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে চ্যালেঞ্জের জবাব দেয়া শুরু করেন দুই ব্যাটসম্যান।

তাদের ৬৯ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। নবম ওভারের প্রথম বলে পাথুম নিশাঙ্কাকাকে ফিরিয়ে সাকিব বনে যান শর্টার ফরম্যাটের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তিন বল পর বোল্ড করেন আভিস্কা ফার্নান্ডোকে।

ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কান শিবিরে পরের ওভারে আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। টাইমিং মিস করায় পাঁচ রান করে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ফিরতে মোহাম্মদ নাঈমের ক্যাচ হয়ে।

আর এতে ৭১ রানে দুই উইকেট হারানো লঙ্কানরা ৭৯ রানে হারিয়ে বসে চার উইকেট।

ক্যাচ মিস ও খরুচে বোলিংয়ে হার বাংলাদেশের
সতীর্থদের সঙ্গে উইকেট উদযাপন করছেন সাকিব। ছবি: টুইটার

ইনিংসের ১২.৩ ওভারের সময় ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয় ভানুকা রাজপাকসের। আফিফ হোসেনের বল উড়িয়ে মারতে স্কয়্যার লেগে ক্যাচ দেন বিপজ্জনক এই ব্যাটসম্যান।

কিন্তু সহজ ক্যাচ ফেলে দেন লিটন। রাজাপাকসে একবার জীবন পেয়ে ফিফটি তুলে নেন। সেটিই একমাত্র মিস ছিল না।

১৪.৩ ওভারে আবারও আফিফকে মারতে গিয়ে কভারে লিটনের হাতে প্রাণ পান আসালাঙ্কা।

জীবন পেয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন আসালাঙ্কা ও রাজাপাকসে। ৩১ বলে ৫৩ করা রাজাপাকসে ফিরলেও উইকেটে অবিচল থাকেন আসালাঙ্কা।

৪৯ বলে অপরাজিত ৮০ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই লঙ্কান তরুণ। ম্যাচসেরাও হন তিনি।

মাহমুদুল্লাহর বোলিং আক্রমণ বেশ খরুচে ছিল ম্যাচে। অধিনায়ক ও আফিফ মিলে তিন ওভারে দেন ৩৬ রান। সাইফউদ্দিন তিন ওভারে দেন ৩৮ আর নাসুম দুই উইকেট পেলেও ২.৫ ওভারে রান দিয়েছেন ২৯।

ব্যতিক্রম ছিলেন সাকিব। ৩ ওভারে ১৭ রানে দুই উইকেট নিয়ে বরাবরের মতো দুর্দান্ত থাকলেও, দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।

এর আগে শারজা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও লিটন দাস কাজে লাগান প্রথম ছয় ওভার। পাওয়ার প্লেতে এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে স্কোর বোর্ডে এক উইকেটে যুক্ত হয় ৪১ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু থেকে দেখেশুনে খেলেন দুই ওপেনার নাঈম ও লিটন দাস। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলে লাহুরু কুমারার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন লিটন। তার আগে করেন ১৬ বলে ১৬।

এরপর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দলের গতি বাড়িয়ে দেন নাঈম। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে বাংলাদেশ পূর্ণ করে অর্ধশতক। লঙ্কান শিবিরে তখন চলছিল ফিল্ডিং মিসের মহড়া।

অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে চামিকা কারুনারাত্নের বলে লেগ স্টাম্প হারিয়ে ১০ রান করে মাঠ ছাড়েন সাকিব।

ইনিংসের ১৪তম ওভারে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির শিকার হয়ে নিজের উইকেট হারাতে বসেছিলেন নাঈম। তবে লঙ্কান ফিল্ডারদের কল্যাণে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি।

সে ওভারের চতুর্থ বলে চার হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের পাশাপাশি দলীয় স্কোর ১০০ পার করান নাঈম। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থ।

দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার করে মারকুটে ব্যাটিং শুরু করেন মুশফিক-নাঈম। বিনুরা ফার্নান্দোর স্লোয়ারে পরাস্ত হয়ে তার হাতে ক্যাচ তুলে ৫২ বলে ৬২ রান করে ফেরেন নাঈম।

অন্য প্রান্তে অবিচল থাকেন মুশফিক। ৩২ বল খেলে চারটি চার ও দুটি ছয়ের মাধ্যমে তুলে নেন চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অর্ধশতক।

ক্যাচ মিস ও খরুচে বোলিংয়ে হার বাংলাদেশের
ফিফটির পথে ড্রাইভ খেলছেন মুশফিকুর রহিম। ছবি: টুইটার

সাত রান করে আউট হন আফিফ। বাকি কাজটা সারেন মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শ্রীলঙ্কার সামনে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে মাঠ ছাড়েন এই দুজন।

৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ১০*।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট এখন সাকিবের

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট এখন সাকিবের

সতীর্থদের সঙ্গে উইকেট উদযাপন করছেন সাকিব আল হাসান। ছবি: আইসিসি

রোববার বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আর এই ম্যাচে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে পাথুম নিশাঙ্কাকাকে ফিরিয়ে সাকিব বনে যান শর্টার ফরম্যাটের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তিন বল পর বোল্ড করেন আভিস্কা ফার্নান্ডোকে। 

আইসিসির ইভেন্টকে রেকর্ড গড়ার মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছেন সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুই উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড নিজের করে নেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।

বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে আরও একটি রেকর্ডের অংশ হন সাকিব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে সাকিব নাম লেখান সাবেক পাকিস্তানি স্পিনার শাহিদ আফ্রিদির নামের পাশে।

সেই ম্যাচে আর একটি ওভার পেলে হয়তো সাকিব টপকে যেতেন আফ্রিদিকে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই পোস্টার বয়কে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি খুব বেশি সময়।

রোববার বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে পাথুম নিশাঙ্কাকাকে ফিরিয়ে সাকিব বনে যান শর্টার ফরম্যাটের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। তিন বল পর বোল্ড করেন আভিস্কা ফার্নান্ডোকে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আফ্রিদির রেকর্ড ভাঙতে সাকিবের দরকার ছিল ১০টি উইকেট। বাছাইপর্বের তৃতীয় ম্যাচে পিএনজির বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে সাকিব স্পর্শ করেন শাহিদ আফ্রিদির করা ৩৯ উইকেটের রেকর্ড।

বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাকিব টপকে যান লাসিথ মালিঙ্গার নেয়া ১০৭ উইকেটের রেকর্ডকে। বর্তমানে ১১৫ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে রয়েছেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মালিক সাকিব।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

লঙ্কানদের জন্য বাংলাদেশের ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জ

লঙ্কানদের জন্য বাংলাদেশের ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জ

ফিফটির পথে মুশফিকের শট। ছবি: টুইটার

শ্রীলঙ্কাকে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটের খরচায় ১৭১ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটের খরচায় ১৭১ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

আগের ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে ধুঁকলেও, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও লিটন দাস কাজে লাগান প্রথম ছয় ওভার। পাওয়ার প্লেতে এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে স্কোর বোর্ডে এক উইকেটে যুক্ত হয় ৪১ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু থেকে দেখেশুনে খেলেন দুই ওপেনার নাঈম ও লিটন দাস। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলে লাহুরু কুমারার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন লিটন। তার আগে করেন ১৬ বলে ১৬।

এরপর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দলের গতি বাড়িয়ে দেন নাঈম। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে বাংলাদেশ পূর্ণ করে অর্ধশতক। লঙ্কান শিবিরে তখন চলছিল ফিল্ডিং মিসের মহড়া।

অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে চামিকা কারুনারাত্নের বলে লেগ স্টাম্প হারিয়ে ১০ রান করে মাঠ ছাড়েন সাকিব।

ইনিংসের ১৪তম ওভারে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির শিকার হয়ে নিজের উইকেট হারাতে বসেছিলেন নাঈম। তবে লঙ্কান ফিল্ডারদের কল্যাণে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি।

সে ওভারের চতুর্থ বলে চার হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের পাশাপাশি দলীয় স্কোর ১০০ পার করান নাঈম। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে চতুর্থ।

দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার করে মারকুটে ব্যাটিং শুরু করেন মুশফিক-নাঈম। বিনুরা ফার্নান্দোর স্লোয়ারে পরাস্ত হয়ে তার হাতে ক্যাচ তুলে ৫২ বলে ৬২ রান করে ফেরেন নাঈম।

অন্য প্রান্তে অবিচল থাকেন মুশফিক। ৩২ বল খেলে চারটি চার ও দুটি ছয়ের মাধ্যমে তুলে নেন চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম অর্ধশতক।

সাত রান করে আউট হন আফিফ। বাকি কাজটা সারেন মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। শ্রীলঙ্কার সামনে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে মাঠ ছাড়েন এই দুজন।

৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ১০*।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

১১ ইনিংস পর মুশফিকের ফিফটি

১১ ইনিংস পর মুশফিকের ফিফটি

ফিফটির পর মুশফিককে অভিনন্দন জানাচ্ছেন নাঈম শেখ। ছবি: টুইটার

সবশেষ মুশফিক হাফ সেঞ্চুরি করেন ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে। ১১ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পেলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত এই ব্যাটার।

লম্বা সময় ধরে হাসছিল না মুশফিকুর রহিমের ব্যাট। শেষ ১০ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের ইনিংস। মাত্র দুটি ম্যাচে দুই অঙ্কের রান ছুঁতে পারেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

যার ফলে সমালোচনার মুখে পড়েন মুশফিক। অবশেষে সব সমালোচনার জবাব দিলেন ব্যাট হাতে। সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলকে নিয়ে গেলেন বড় সংগ্রহে।

সবশেষ মুশফিক হাফ সেঞ্চুরি করেন ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে। ১১ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পেলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত এই ব্যাটার।

ইনিংসের নবম ওভার থেকে নাঈম শেখের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যেতে থাকেন মুশফিক। নাঈম ৬২ রান করে বিদায় নিলে উইকেটে টিকে থেকে রান করতে থাকেন তিনি।

লাহিরু কুমারার করা ১৯তম ওভারের প্রথম ডেলিভারি মিড অফে ঠেলে এক রান নিয়ে ৩২ বলে মুশফিক পূর্ণ করেন দুর্দান্ত এক অর্ধশতক। অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে।

আরও পড়ুন:
প্রস্তুতি ম্যাচে হার নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান নির্বাচক
শ্রীলঙ্কার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হারল বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ
টসে জিতে লিটনের নেতৃত্বে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
অধিনায়ককে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার সামনে বাংলাদেশ

শেয়ার করুন