ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব কমেনি দাবি রাজ্জাকের

ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব কমেনি দাবি রাজ্জাকের

সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি

টাইগারদের সাবেক স্পিনার রাজ্জাকের মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতির যে পর্যায়ে আছে, সেখানে জাতীয় দলে খুব বেশি শূন্যস্থান নেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার দিয়ে পূরণ করার মতো।

চলতি মাসের মাঝামাঝি শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় লিগের (এনসিএল) নতুন মৌসুম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটাররা বাদে অন্যরা অংশ নেবেন আসন্ন এই টুর্নামেন্টে।

সব কিছু ঠিক থাকলে এনসিএলে ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ওয়ানডে ও টেস্ট দলের আরও বেশ কজন খেলবেন। আর সেটির জন্য শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ইনডোরে শুরু হয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট।

শনিবার প্রথম দিনের টেস্টে অংশ নেন নাসির হোসেন, আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।

জাতীয় দল নির্বাচনে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স মূল্যায়িত হয় না- এমন অভিযোগ প্রায়ই শুনতে হয় বিসিবির নির্বাচকদের। তুষার ইমরান, ফরহাদ রেজাদের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমাররা উপেক্ষিত থেকে গেছেন বছরের পর বছর।

বিষয়টি এ ভাবে দেখতে নারাজ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাক। বিসিবির বর্তমান নির্বাচক রাজ্জাক মনে করেন, প্রতি মৌসুমে একটু একটু করে উন্নতি হচ্ছে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রধান টুর্নামেন্টের।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘কেউ এটা মনে করে থাকলে ভুল হবে। আমাদের পারফরম্যান্স দেখাই হয় এই ২-৩টি খেলায়। এনসিএল, বিসিএল, ডিপিএল আর এখন বিপিএল। এখানে যারা পারফর্ম করে সাধারণত তারাই থাকে। তার পরও সন্দেহ থাকার কথা না। এমন কিছু হতে পারে- কিছু খেলোয়াড় থাকে, যারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই শুধু খেলছে। তুষার ইমরানের কথা ধরুন, ভালো খেলছে, কিন্তু এখন কি ওকে নেওয়া সম্ভব? এসব অভিযোগ থাকবে। এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’

টাইগারদের সফল এই সাবেক স্পিনারের মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নতির যে পর্যায়ে আছে, সেখানে জাতীয় দলে খুব বেশি শূন্যস্থান নেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার দিয়ে পূরণ করার মতো।

রাজ্জাক আরও বলেন, ‘মূল ব্যাপার হলো যাদের নিয়ে জাতীয় দল চিন্তা করছি, তাদের ঠিক প্রক্রিয়ায় নিতে পারছি কি না। আমরা চাই সব খেলোয়াড় টুর্নামেন্টগুলো খেলুক। বেশি খেললে নিজের কাছেও পরিষ্কার থাকবে। জাতীয় দলে কিছু জায়গা থাকে একদম পাকাপোক্ত। ঐ জায়গায় কাউকে আসতে হলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আসতে হবে। এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।’



তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই কিছু না কিছুতে উন্নতি হচ্ছে। আগে বেশি ড্র হতো। এখন প্রায় ম্যাচেই ফলাফল বের হয়। তার মানে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। প্রত্যেক খেলোয়াড় চায় ১০০ রান করতে, ৫ উইকেট পেতে। এটা উন্নতির লক্ষণ। আগে ১ থেকে-২ জন ছিল। এখন ১১ জনের সঙ্গে বাইরের ওরাও ভালো করতে চায়। ২০০-৩০০ করা, ৫-৬ উইকেট পাওয়ার সাহস হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এ লাল সবুজ আমরা চাইনি: মাশরাফি

এ লাল সবুজ আমরা চাইনি: মাশরাফি

ছবি: নিউজবাংলা

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাশরাফি লেখেন, ‘কাল দুইটা হার দেখেছি, একটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, যেটায় কষ্ট পেয়েছি। আর একটি পুরো বাংলাদেশের, যা হৃদয় ভেঙে চুরমার করেছে। এ লাল সবুজ তো আমরা চাইনি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের রেশ ধরে ধর্মীয় সহিংসতার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের কয়েকটি এলাকায়।

নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, ও কুমিল্লার মন্দিরে হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা গ্রামে রোববার গ্রামের উত্তরপাড়ার অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়; আগুন দেয়া হয়ে।

একইসঙ্গে রোববার রাতে আইসিসির সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে হারে যায় বাংলাদেশ।

দুটি ঘটনাই দাগ কেটেছে দেশের মানুষের মনে। বাদ যাননি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাও। দুটি ‘হারে’ হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানালেন সাবেক এই অধিনায়ক।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘কাল দুইটা হার দেখেছি, একটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, যেটায় কষ্ট পেয়েছি। আর একটি পুরো বাংলাদেশের, যা হৃদয় ভেঙে চুরমার করেছে। এ লাল সবুজ তো আমরা চাইনি। কত কত স্বপ্ন, কত কষ্টার্জিত জীবন যুদ্ধ এক নিমিষেই শেষ। আল্লাহ আপনি আমাদের হেদায়েত দিন।’

বাছাইপর্বে শুরুটা ভালো না হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে টাইগারদের সামনে। মঙ্গলবার ওমানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে মাহমুদুল্লাহর দল।

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ক্যামফারের ডাবল হ্যাটট্রিক

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ক্যামফারের ডাবল হ্যাটট্রিক

আইরিশ পেইসার কার্টিস ক্যামফার। ছবি: এএফপি

নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসের দশম ওভারে চার বলে চার উইকেট নিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনন্য এ রেকর্ড গড়েন ক্যামফার।

বিশ্বকাপ মানেই ক্রিকেটারদের কাছে রেকর্ডের ঝুলি খুলে বসা এক আসর। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচ থেকেই রেকর্ডবুকে চলছে নাম লেখানোর হিড়িক।

ওমানের প্রথম ম্যাচেই ১০ উইকেটের জয়, সাকিব আল হাসানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে নাম লেখানো ছিল প্রথম দিনের ঘটনা।

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় দিনে তৃতীয় ম্যাচে এসেও হল রেকর্ড। এবারে রেকর্ডটি গড়লেন আইরিশ পেইসার কার্টিস ক্যামফার।

নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসের দশম ওভারে চার বলে চার উইকেট নিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনন্য এক কীর্তি গড়লেন তিনি।

ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে নিজের নাম রেকর্ডবুকে উঠিয়েছেন ক্যামফার। একাই ধসিয়ে দিয়েছেন ডাচদের ব্যাটিং লাইন আপ।

১০ম ওভারের দ্বিতীয় বলে এ পেইসার উইকেটের পেছনে নেইল রকের তালুবন্দি করে ফেরান কলিন অ্যাকারম্যানকে। পরের বলেই এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন রায়ান টেন ডেসকাটে।

ওভারের চতুর্থ বলে স্কট এডওয়ার্ডকে সাঁজঘরে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। সেখানে থামেননি এ পেইসার। পরের বলে ফন ডার মারউইকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ডাবল হ্যাটট্রিক।

আর এর সুবাদেই টানা চার বলে চার উইকেট শিকার হয়ে যায় তার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাবল হ্যাট্রিক করা প্রথম বোলার হিসেবে নাম তোলেন রেকর্ডবুকে।

২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা চার বলে চার উইকেট নেন। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও চার বলে চার উইকেট নিয়েছিলেন মালিঙ্গা।

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

ডেলিভারিম্যান থেকে বাংলাদেশ বধের নায়ক

ডেলিভারিম্যান থেকে বাংলাদেশ বধের নায়ক

বাংলাদেশের বিপক্ষে উইকেট নিয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রিস গ্রিভস। ছবি: এএফপি

স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার জানালেন গ্রিভসের উঠে আসার গল্পটা। স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের কোনো চুক্তি নেই। কিছুদিন আগেও অ্যামাজন ডটকমের ডেলিভারি ড্রাইভারের কাজ করতেন তিনি।

ক্রিস গ্রিভসের গল্পটা বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চের জন্য যেন উপযুক্ত। জিরো থেকে হিরো হওয়ার জন্য বিশ্বকাপের চেয়ে বড় মঞ্চ আর কী হতে পারে! নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর নায়ক এই অলরাউন্ডার বিশ্বকাপের এক মাস আগেই স্কটল্যান্ড জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন না।

বিশ্বকাপের আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এক ম্যাচে চার উইকেট পাওয়ায় তার দিকে নজর পড়ে স্কটিশ নির্বাচকদের।

বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচে দেখালেন ব্যাট ও বলের ভেলকি। তাতেই বাংলাদেশের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশ কুপোকাত।

ব্যাট হাতে ২৮ বলে ৪৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন গ্রিভস।

স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক কাইল কোয়েটজার জানালেন গ্রিভসের উঠে আসার গল্পটা। স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের কোনো চুক্তি নেই। কিছুদিন আগেও অ্যামাজন ডটকমের ডেলিভারি ড্রাইভারের কাজ করতেন তিনি।

কোয়েটজার বলেন, ‘ওর জন্য অসাধারণ একটা দিন ছিল। কিন্তু আমরা অবাক হইনি। জানতাম যে তার এমন কিছু করার সামর্থ্য আছে। আমি গ্রিভসকে নিয়ে গর্বিত।

‘সে অ্যামাজনের হয়ে পার্সেল ডেলিভারির কাজ করত খুব বেশি দিন হয়নি। আর এখন ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছে।’

শুধু গ্রিভসই নন, স্কটল্যান্ড একাদশে মার্ক ওয়াটের মতো আরও খেলোয়াড় রয়েছেন যাদের কোনো পেশাদার চুক্তি নেই। অধিনায়ক কোয়েটজারের প্রশংসা ঝরেছে তার দলের প্রত্যেক সদস্যের জন্য।

তিনি বলেন, ‘তারা খুব একটা পরিচিত খেলোয়াড় নন। এ পর্যন্ত আসতে তাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। গ্রিভসের কোনো চুক্তি নেই। অত্যন্ত পরিশ্রমের পর সে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। এক মাস আগেই তার এই ম্যাচে খেলার কোনো সুযোগই ছিল না।

‘এ থেকে প্রমাণ হয় যে অ্যাসোসিয়েট ক্রিকেটেও দারুণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে যাদের আসলে একটা মঞ্চ দরকার নিজের প্রতিভা দেখানোর জন্য।’

সহযোগী দেশগুলোকে আরও সুযোগ দিতে আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছেন কোয়েটজার। স্কটল্যান্ডের মতো দেশগুলোর আরও সুযোগ দরকার মনে করেন স্কটিশ অধিনায়ক।

তিনি বলেন, ‘এত বড় মঞ্চ আমাদের মতো সহযোগী দেশগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ড, নেপাল বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো যখন ভালো খেলে ও কোনো ম্যাচ জেতে তখন সেটা তাদের দেশের ক্রিকেটের প্রসারকে আরও সাহায্য করে।’

বাংলাদেশকে হারানোয় গ্রুপ-বি থেকে চূড়ান্ত পর্বে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে স্কটল্যান্ড। মঙ্গলবার পাপুয়া নিউ গিনিকে হারাতে পারলে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হবে তাদের।

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

একই ভুলের খেসারত দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

একই ভুলের খেসারত দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও হতাশ করেন সৌম্য সরকার। ছবি: এএফপি

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে আবার ব্যর্থতা। লিটন-সৌম্য সাঁজঘরে ফেরেন দ্রুত। মিডল-অর্ডারে মুশফিকের ৩৮ ছাড়া বড় কোনো স্কোর আসেনি কারও ব্যাট থেকে। তার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচটা হেরে। ম্যাচ শেষে এই ভুলগুলোর কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। মূলপর্বে যাওয়া এখন কঠিন হয়ে গেল টাইগারদের জন্য। তবে আইসিসির অফিশিয়াল প্রস্তুতি পর্ব ও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ বিবেচনায় নিলে নিজেদের একই রকম ভুলের খেসারত দিতে দেখা গেছে রাসেল ডমিঙ্গো বাহিনীকে।

ঘরের মাঠে সফল দুটি সিরিজ জয়ের স্বস্তি নিয়ে ওমানে যায় বাংলাদেশ। আবহাওয়ার ও উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ‍দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ একাদশ।

আইসিসির অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। দুটিতেই হার। পরে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার। টানা তিন হারের ম্যাচে প্রায় একই প্যাটার্নে ভুল করে গেছে বাংলাদেশ।

ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটির ভাঙন, মিডল-অর্ডারের ব্যর্থতা এবং বোলিংয়ে মাঝপথে খেই হারানো। প্রায় একই ধাঁচে তিন ম্যাচ জেতার সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে শুরু করা যাক। টস জিতে ব্যাটিংয়ে সাত উইকেটে ১৪৭ রানের সংগ্রহ তোলে বাংলাদেশ। মিডল-অর্ডারে মুশফিকুর রহিম, আফিফ, সোহান ও শামীম চারজন ফেরেন অল্প রানে।

তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ রান আসে সোহানের ব্যাট থেকে। পুঁজি বড় করতে পারেনি বাংলাদেশ।

বোলিংয়ে এসে শেষে খেই হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। লঙ্কানরা অল্প পুঁজিতে যখন ছয় উইকেট হারিয়ে দিশেহারা, তখন বাংলাদেশের বোলিং অধপতনে ম্যাচটা বাগিয়ে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ।

একই ভুলের খেসারত দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ
স্কটল্যান্ড ম্যাচে মুশফিক ছাড়া কারও ব্যাটে জ্বলে ওঠেনি সেভাবে। ছবি: এএফপি

একই দৃশ্য দেখা যায় আয়ারল্যান্ড ম্যাচেও। তিন উইকেটে দলীয়ভাবে ১৭৭ রান তোলে দলটি। ৭৮ রানে তিন উইকেট নেয়ার পর আর একটি উইকেটও আদায় করা সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের।

বড় লক্ষ্যের সামনে আর ওপেনিংয়ে ব্যর্থতা। নাইম ও লিটন ফেরেন দলীয় চার রানের মাথায়। আর মিডল-অর্ডারেও গড়বড় সঙ্গী। মুশফিক ফেরেন চার রানে। আফিফ ১৭, শামীম ১ আর মেহেদী ফেরেন ৯ রানে। হেরে বাস্তবতাও দেখল টাইগাররা।

প্রস্তুতি পর্বে দুই ম্যাচ হেরে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে বাংলাদেশের। তবে প্রস্তুতির এই দুই হার বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে আশ্বাস দেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একই ভুলের পুনরাবৃত্তিতে সে আশায় গুড়েবালি।

৫৩ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে স্কটল্যান্ড যখন খাবি খাচ্ছে, তখন টাইগারদের বোলিং ধারাবাহিকতার অভাবের সুযোগ নিয়ে আয়ারল্যান্ড টার্গেট নিয়ে যায় ১৪১ রানে।

একই ভুলের খেসারত দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ
হতাশার দিনে একটু প্রশান্তি। ১০৮ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট এখন তার। ছবি: এএফপি

খুব একটা বড় টার্গেট নয়, প্রস্তুতি ম্যাচে অন্তত এই রান করে গেছে একই রকম পিচে। ওপেনিং জুটিতে আবারও ব্যর্থতা। লিটন-সৌম্য সাঁজঘরে ফেরেন দ্রুত। মিডল-অর্ডারে মুশফিকের ৩৮ ছাড়া বড় কোনো স্কোর আসেনি কারও ব্যাট থেকে।

তার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচটা হেরে। ম্যাচ শেষে এই ভুলগুলোর কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারে আমরা রান করতে পারিনি। মিডলে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। যেটা আমি বললাম যে উইকেট ভালো ছিল, কিন্তু আমরা সেটি কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের ভুল বেশি ছিল আজকে।’

ভুলগুলো শোধরানোর এক দিন সময় পাচ্ছে ডমিঙ্গো বাহিনী। আগামীকাল মঙ্গলবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আয়োজক ওমানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াই টাইগারদের। এই ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে।

ক্রিকেটের শর্টার ফরম্যাটে টাই হওয়ার ঘটনা হাতে গোনা। আর হেরে গেলে সোজা ঢাকার পথ ধরতে হবে রিয়াদদের। ওমান ম্যাচে এই ভুলগুলো মাথায় রেখে নামার আশ্বাস রিয়াদের, ‘পরের ম্যাচে আমাদের এগুলো মাথায় রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

মুশফিকের উইকেটকে টার্নিং পয়েন্ট বললেন অধিনায়ক

মুশফিকের উইকেটকে টার্নিং পয়েন্ট বললেন অধিনায়ক

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে মুশফিকুর রহিম। ছবি: এএফপি

সাকিবের পরই মুশফিকের বিলিয়ে দিয়ে আসা উইকেটকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে মানছেন জাতীয় দলের দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন তিনি।

প্রস্তুতি ম্যাচে টানা দুই পরাজয়ের ধারা থেকে বাংলাদেশ বাছাই পর্বেও বের হতে পারেনি। বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ছয় রানে হেরেছে টাইগাররা।

স্কটিশদের দেয়া ১৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দুর্দান্ত ৪৭ রানের এক জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন মুশফিকুর রহিম।

বড় শট খেলতে গিয়ে সাকিব মাঠ ছাড়লেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন মুশি। খেলছিলেনও দুর্দান্ত। কিন্তু ক্রিস গ্রিভসের বল স্কুপ করতে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুশি। তার এই ফিরে যাবার পরই অস্ত যাওয়া শুরু করে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন।

সাকিবের পরই মুশফিকের বিলিয়ে দিয়ে আসা উইকেটটিকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে মানছেন জাতীয় দলের দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন তিনি।

মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় মুশফিকের উইকেটটা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল। মুশি আজকে ভালো খেলছিল। একজন সেট ব্যাটসম্যানের উইকেটে থাকাটা খুবই জরুরি।’

পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনারকে হারানোর পর অনেকটা ধীরগতিতে ব্যাট করেন সাকিব ও মুশফিক। তাতে বাংলাদেশ জয়ের পথে থাকলেও, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি দল, এমনটা মনে করছেন মাহমুদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারে আমরা রান করতে পারিনি। আমরা চাচ্ছিলাম প্রথম পাওয়ার প্লে যেন ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি। ১৪০ তাড়া করতে ভালো একটা শুরু প্রয়োজন।

‘মুশফিক-সাকিব কিছুটা রিকভারিও করেছিল। কিন্তু মিডলে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। যেটা আমি বললাম যে উইকেট ভালো ছিল, কিন্তু আমরা সেটি কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের ভুল বেশি ছিল আজকে।’

বাংলাদেশের বড় শক্তি স্পিনের বিপক্ষে সহজাত দক্ষতা। তবে আজকে স্পিনারদের কাছেই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন ব্যাটসম্যানরা। সেটি চোখ এড়ায়নি অধিনায়কেরও।

মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘একটা পরিকল্পনা ছিল স্পিনারদের বেশি আক্রমণ করার। তাদের ওভারে যদি রান হতো তাহলে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারতাম। মাঝখানে কয়েকটি উইকেট হারিয়েছি। বড় ওভারগুলো আমরা কাজে লাগাতে পারিনি, যার কারণে রান রেট বেড়ে গেছে। পরের ম্যাচে আমাদের সেগুলো মাথায় রাখতে হবে।’

১৯ অক্টোবর ওমানের বিপক্ষে বাছাই পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

স্কটল্যান্ডের সঙ্গেও পেরে উঠল না বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ডের সঙ্গেও পেরে উঠল না বাংলাদেশ

ছবি: টুইটার

আইসিসির সহযোগী সদস্য স্কটল্যান্ডের কাছে ৬ রানে হেরে গেছে মাহমদুল্লাহর দল। ১৪১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেটে ১৩৪ রানের বেশি করতে পারেনি সাকিব-মুশফিকরা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলার আগে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে তারা জেতে শুধু ওমানের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের বিপক্ষে হারকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যদের।

প্রস্তুতি ম্যাচের পরাজয়ের সেই ধারা লিটন-সৌম্যরা অব্যাহত রেখেছেন বাছাইপর্বেও। বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ছয় রানে হারতে হয়েছে টাইগারদের।

র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে আট ধাপ নিচের দল স্কটল্যান্ড। র‍্যাঙ্কিংয়ের বেশ নিচে থাকা দলটির বিপক্ষে ক্রিকেটের শর্টার ফরম্যাটে দুইবারের দেখায় দুইবার হারল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

দুই দলের প্রথম দেখায় বাংলাদেশ পেয়েছিল ৩৪ রানে হারের স্বাদ। ফল বদলায়নি দ্বিতীয় দেখাতেও। শুধু বদলেছে হারের ব্যবধান। দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটিশদের কাছে ছয় রানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দল।

স্কটিশদের করা ১৪০ রানের জবাবে ৭ উইকেটের খরচায় ১৩৪ রানে থামে বাংলাদেশের রানের চাকা।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বরাবরের মতো বাংলাদেশ শুরুতে হারায় সৌম্য সরকার ও লিটন দাসকে। দুই জনই উপহার দেন পাঁচ রানের ইনিংস।

১৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম তৃতীয় উইকেটে সামাল দিয়েছেন বাংলাদেশকে। গড়েন ৪৭ রানের জুটি।

জয়ের স্বপ্ন দেখানো এই জুটি ভাঙ্গেন ক্রিস গ্রিভস। ক্যালাম ম্যাকলয়েডের তালুবন্দি করে সাকিবকে ফেরান ২০ রানে। সতীর্থের বিদায় যেন মানতে পারছিলেন না মুশফিক। গ্রিভসকে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে।

সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ২০ আর মুশফিক ফেরেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে।

সাকিব-মুশফিক ফিরলেও আশা জিইয়ে রাখেন দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার ২৩ রানে বিদায়ের পর পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

শেষদিকে রোমাঞ্চ সৃষ্টি করেন মাহেদি হাসান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৫ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। ১৭ রানের বেশি নিতে পারেননি মাহেদী হাসান।

দুটি বাউন্ডার ও একটু ছক্কা হাঁকালেও জয়ের জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেটে ১৩৪ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। হার মানতে হয় ছয় রানে।

এর আগে, মাসকাটের এল এমিরাত স্টেডিয়ামে আগে টসে জিতে স্কটল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট করতে নেমে টাইগার স্পিন বিষে নীল হলেও সেটি সামলে নিয়ে বাংলাদেশের সামনে ১৪১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায় স্কটিশরা।

৫৩ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলা স্কটল্যান্ড লোয়ার মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় নয় উইকেটে ১৪০ রানের সংগ্রহ গড়ে।

সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন গ্রিভস। ম্যাচসেরাও হয়েছেন এ অলরাউন্ডার। ১৯ অক্টোবর ওমানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন

৯০ মাইলের ওপরে তাসকিন!

৯০ মাইলের ওপরে তাসকিন!

তাসকিন আহমেদ। ছবি: এএফপি

শুরু থেকে দারুণ গতি ধরে রেখে স্কটিশ ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন তাসকিন। নিজের প্রথম ওভারে টানা দুটি ডেলিভারি করেন তিনি ঘণ্টায় ১৪৮ কিমি গতিতে। মাইলের হিসেব করলে যা ৯২ মাইলের কাছাকাছি।

লম্বা সময় ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। লড়াই শেষে ফিরেছেন ক্রিকেটে। জাতীয় দলের জন্য নিজেকে দারুণভাবে প্রস্তুত করেছেন তাসকিন আহমেদ।

কড়া লকডাউনে সব যখন আটকে আছে, সে সময় নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে তাসকিন ছিলেন বেশ তৎপর। একাই চালিয়ে গেছেন ফিটনেস ধরে রাখার অনুশীলন। ফলে ইনজুরি থেকে ক্রিকেটে ফিরেছেন দুর্বার হয়ে।

বরাবর দ্রুত গতির বোলার হিসেবে পরিচিতি পেলেও যথার্থ লাইন লেংথের অভাবে ভুগেছেন প্রায় সাত বছরের ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেকে প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেন তাসকিন। নিজের সেরা গতিতে ফেরার আভাস দেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে।

শুরু থেকে দারুণ গতি ধরে রেখে স্কটিশ ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন তাসকিন। নিজের প্রথম ওভারে টানা দুটি ডেলিভারি করেন তিনি ঘণ্টায় ১৪৮ কিমি গতিতে। মাইলের হিসেব করলে যা ৯২ মাইলের কাছাকাছি।

জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত এটিই তার সর্বোচ্চ গতির ডেলিভারি। এটি কোনো বাংলাদেশি বোলারের সর্বোচ্চ গতির ডেলিভারি নয়।

সর্বোচ্চ গতির ডেলিভারিটি এসেছে মাশরাফি মোর্ত্তজার কাছ থেকে। ১৪৯ কিমি গতিতে বল ছুড়েছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। ২০০১ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে এই ডেলিভারিটি এসেছিল ম্যাশের হাত দিয়ে। তবে সেটির আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই।

এছাড়াও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে জাতীয় দলের আরেক পেইসার রুবেল হোসেন ছুঁড়েছিলেন ১৪৭.৯ কিমি গতির ডেলিভারি।

আরও পড়ুন:
মুমিনুলদের বিপক্ষে লড়াই করে হার আকবরদের
সাকিব-ফিজ থেকে উইকেটের ধারণা নেবেন নাসুম
সব দলকে একই পাল্লায় মাপেন সৌম্য

শেয়ার করুন