পিছিয়ে পড়েও বড় জয় সিটিজেনদের

পিছিয়ে পড়েও বড় জয় সিটিজেনদের

ওয়াইকম্বের বিপক্ষে ম্যান সিটির গোল উদযাপন। ছবি: এএফপি

শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও সেই ধাক্কা কাটিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ৬টি গোল পুরে দিয়ে মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলা শীষ্যরা।

লিগ কাপের তৃতীয় ম্যাচে তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ওয়াইকম্ব ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও সেই ধাক্কা কাটিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ৬টি গোল পুরে দিয়ে মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলা শীষ্যরা।

ঘরের মাঠে ম্যাচের ২২ মিনিটের মাথায় পিছিয়ে পরে সিটিজেনরা। ব্রেন্ডন হানলান দুর্দান্ত এক গোলে লিড এনে দেন সফরকারীদের।

কিন্তু এরপর সিটির সামনে আর দাঁড়াতেই পারেনি ওয়াইকম্ব। ২৯ মিনিটেই দলকে সমতায় ফেরান কেভিন ডি ব্রুইনি। আর এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় সিটিজেনদের গোল উৎসব।

ম্যাচের ৪৩ তম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন রিয়াদ মাহরেজ। প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধানটা ৩-১ হয় ফিল ফোডেনের কল্যাণে।

দ্বিতীয়ার্ধে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় ওয়াইকম্ব। কিন্তু স্বাগতিকদের আক্রমণের তোপে ব্যর্থ হয় তাদের সেই প্রচেষ্টা। ৭১ মিনিটের সময় ফেরান টরেস গোল ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ৪-১।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ওয়াইকম্বের জালের ঠিকানা ফের খুঁজে নেন রিয়াদ। সবশেষ ৮৮ মিনিটে সফরকারীদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন কোল পালমার। আর সেই সুবাদে ৬-১ এর বড় ব্যবধানে জয় পায় সিটিজেনরা।

পুরো ম্যাচজুড়ে ওয়াইকম্বের পোস্টে ২৬টি আক্রমণ চালায় ম্যান সিটি। যেখানে ১৪টি শট ছিল অন টার্গেটে। অপরদিকে ১২ বার আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ৪ বার পোস্টে বল নিতে সক্ষম হন সফরকারী দলের ফুটবলাররা।

এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে নরউইক সিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। অলরেডদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন তাকুমি মিনামিনো, বাকি গোলটি আসে ডিভক অরিগির কল্যাণে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ আছে ইউসুফের

সিনিয়র দলে খেলার সুযোগ আছে ইউসুফের

ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র দলে খেলার দারুণ সুযোগ অপেক্ষা করছে ইংলিশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি এ ফুটবলারের জন্য। এএফসি অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান কাপে ভালো খেললে জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পাবেন ইউসুফ।

শ্রীলঙ্কার চার জাতি টুর্নামেন্ট সামনে রেখে জাতীয় দলে সুযোগ পেতে পারেন ইউসুফ জুলকারনাইন হক। সিনিয়র দলে খেলার দারুণ সুযোগ অপেক্ষা করছে ইংলিশ বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি এ ফুটবলারের জন্য।

এএফসি অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান কাপে ভালো খেললে জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পাবেন ইউসুফ।

লঙ্কান সফরের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার দুপুরে। জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ মারিও লেমসের দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন কাতারের শীর্ষ লিগে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী ফুটবলার ওবাইদুর রহমান নবাব।

নবাব ছাড়াও ইংল্যান্ডে খেলা প্রাবসী ফুটবলার ইউসুফের সম্ভাবনা দেখছেন লেমস। ইউসুফসহ অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়া অন্যান্য ফুটবলারদেরও সম্ভাবনা রয়েছে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার।

টুর্নামেন্টটি নজরে থাকবে পর্তুগিজ কোচের। এ বিষয়ে লেমস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সম্ভাবনাময় অনেকে আছে। উজবেকিস্তানের তিন ম্যাচের দিকেও আমার খেয়াল থাকবে।’

টুর্নামেন্ট শেষ করে জাতীয় দলে যোগ দেবেন উজবেকিস্তানে যাওয়া সিনিয়র দলের ফুটবলাররা।

সোমবার বিকাল পাঁচটায় রাজধানীর এক হোটেলে রিপোর্টিংয়ের সময় রাখা হয়েছে জাতীয় ফুটবলারদের।

শেয়ার করুন

লেমসের প্রাথমিক দলে চমক নবাব

লেমসের প্রাথমিক দলে চমক নবাব

ফাইল ছবি

দলে সবচেয়ে বড় চমক ওবাইদুর রহমান নবাবের অন্তর্ভুক্তি। জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন কাতার প্রবাসী এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার।

শ্রীলঙ্কায় চার জাতি ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সদ্য সমাপ্ত সাফের সবাই আছেন দলে। দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়া দলের জাতীয় দলের সিনিয়র সদস্যরা।

দলে সবচেয়ে বড় চমক ওবাইদুর রহমান নবাবের অন্তর্ভুক্তি। জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন কাতার প্রবাসী এ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার।

সোমবার দুপুরে স্কোয়াড ঘোষণা করে বাফুফে। সাফের স্কোয়াডের বাইরে নতুন করে দলে ডাকা হয়েছে মাসুক মিয়া জনি, সুশান্ত ত্রিপুরা, ইয়াসিন খান, মেহেদী হাসান, রয়েল ও ডিফেন্ডার আতিকুজ্জামানকে।

জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ মারিও লেমস রোববার ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য তালিকা দিয়েছেন বাফুফেকে।

লেমসের দলে প্রথমবার ডাক পেয়েছেন কিংসের ফরোয়ার্ড নবাব। দলে থাকলেও ভিসা জটিলতার সমস্যা খেলা অনিশ্চিত তারিক কাজীর। আর এলিটা কিংসলে এখনও ফিফা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় তাকে দলভুক্ত করা যায়নি।

জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াড

গোলকিপার: আশরাফুল রানা, আনিসুর রহমান জিকো, শহীদুল আলম সোহেল।

ডিফেন্ডার: বিশ্বনাথ ঘোষ, তারিক কাজী, তপু বর্মন, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত, রেজাউল করিম, টুটুল হোসেন বাদশা, সুশান্ত ত্রিপুরা, ইয়াসিন খান, মেহেদী হাসান রয়েল ও আতিকুজ্জামান।

মিডফিল্ডার: জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিন, রাকিব হোসেন, আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মাসুক মিয়া জনি।

ফরোয়ার্ড: বিপলু আহমেদ, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সুমন রেজা, মতিন মিয়া, জুয়েল রানা ও ওবাইদুর রহমান নবাব।

শেয়ার করুন

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ মেসির প্রথম ‘ল্য ক্লাসিক’

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ মেসির প্রথম ‘ল্য ক্লাসিক’

মার্শেইয়ের জেঙ্গিজ উন্দারের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে লিওনেল মেসি। ছবি: টুইটার

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও ঘটন-অঘটনের কমতি ছিল না মার্শেই-পিএসজি ম্যাচে। গোল বাতিল, লাল কার্ড থেকে শুরু করে মাঠে দর্শকের গণ্ডগোল সবই দেখেছে ৯০ মিনিটের এ লড়াই।

নিজের ঝলমলে ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচের অংশ হয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, এল ক্লাসিকো বিশ্বের সব বড় ম্যাচে নাম লিখিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর।

রোববার রাতে তার অভিষেক হলো আরেকটি বিখ্যাত ম্যাচে। নতুন ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে মার্শেইর বিপক্ষে মেসি খেললেন ফরাসি ফুটবলের খ্যাতনামা ‘ল্য ক্লাসিক’।

গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও ঘটন-অঘটনের কমতি ছিল না হাই ভোল্টেজ ম্যাচে। গোল বাতিল, লাল কার্ড থেকে শুরু করে মাঠে দর্শকের গণ্ডগোল সবই দেখেছে ৯০ মিনিটের এ লড়াই।

মার্শেইর মাঠ দ্য ভেলোড্রোমে শুরু হয় গোল বাতিল দিয়ে। ১৪ মিনিটে মার্শেইর বক্সে নেইমার বল বাড়ান কিলিয়ান এমবাপের উদ্দেশে।

এমবাপে বল ধরার আগেই মার্শেই ডিফেন্ডার লুয়ান পেরেস তা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন। স্বাগতিকদের আত্মঘাতী গোলের আনন্দে মাতে পিএসজি।

তবে নেইমারের অফসাইডের কারণে যখন গোল বাতিল করে দেন রেফারি তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে মার্শেই।

মিনিট পাঁচেক পর একই রকম নাটক হয় অন্যপ্রান্তে। মার্শেই মিডফিল্ডার বুবাকার কামারা খুঁজে নেন পল লিরোলাকে। লিরোলা বক্সে থাকা আরকাদিউস মিলিককে পাস দিলে, বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার শটে জালে জড়ান তিনি।

এবারও লিরোলার অফসাইডের কারণে মিলিকের গোল বাতিল করে দেন রেফারি।

লিওনেল মেসি সুযোগ পান এরপর। বাম প্রান্ত দিয়ে করা আনহেল দি মারিয়ার চিপ মার্শেই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে।

ফিরতি বলে দারুণ হেড করেন মেসি। কাছ থেকে অসাধারণ দক্ষতায় তা ফিরিয়ে দিয়ে স্বাগতিকদের নিরাপদে রাখেন গোলকিপার পাউ লোপেস।

এর মিনিটখানেক পর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে মাঠের সীমানার কাছাকাছি চলে আসেন মার্শেইর একদল সমর্থক। নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় কয়েক মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ।

বিরতির আগে দুঃসংবাদ পায় পিএসজি। মার্কো ভেরাত্তি চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে চলে যান। তার বদলি হিসেবে নামেন ইদ্রিসা গেয়ে।

ভেরাত্তি মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ও প্লে-মেকিংয়ের পুরো দায়িত্ব চাপে লিওনেল মেসির কাঁধে। সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি নিজেও গোলে আক্রমণ চালান ছয়বারের ব্যালন ডরজয়ী এ তারকা।

তবে পিএসজির জন্য ছিল দুর্ভাগ্য। জেঙ্গিজ উন্দারকে ফাউল করায় ৫৭ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাদের রাইট ব্যাক আচরাফ হাকিমি।

বাকি প্রায় ৩৫ মিনিট পিএসজিকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে। ফলে তাদের আক্রমণের ধার যায় কমে। পিএসজি কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এক পয়েন্ট নিয়ে প্যারিসে ফেরার পরিকল্পনা করেন।

মার্শেই পিএসজির রক্ষণাত্মক খেলার ধাঁচের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। মার্শেইর হয়ে কনরাড ডে লা ফুয়েন্টে ও ভালেঁতি রজে কাছাকাছি গিয়েছিলেন গোলের। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

শেষদিকে নেইমারকে তুলে নিলেও গোলের আশায় মেসিকে মাঠে রাখেন পচেত্তিনো। কিন্তু ফ্রেঞ্চ লিগে পিএসজির হয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যর্থ হন বিশ্বসেরা এ তারকা।

ফলে গোলশূন্য অবস্থাতে শেষ হয় ম্যাচ। ড্রয়ের পর নিরাপদ দূরত্বে শীর্ষে থাকল পিএসজি। ১১ ম্যাচে তাদের ঝুলিতে আছে ২৮ পয়েন্ট।

দুইয়ে থাকা লঁসের সংগ্রহ সমান ম্যাচে ২১। ১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে নিস। আর ১১ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে অবস্থান মার্শেইর।

শেয়ার করুন

সালাহর হ্যাটট্রিকে ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারাল লিভারপুল

সালাহর হ্যাটট্রিকে ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারাল লিভারপুল

হ্যাটট্রিকের পর মোহামেদ সালাহর উদযাপন। ছবি: টুইটার

সালাহর জাদুতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিভারপুল। ইউনাইটেডের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সালাহর তিন গোলের সঙ্গে স্কোর করেছেন নাবি কিটা ও দিয়োগো জোতা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) বিগ ম্যাচের আগে মোহামেদ সালাহ জানান, ব্যলন ডর জয়ের স্বপ্ন তার। মেসি, রোনালডোর পর নিজেকে বিশ্বসেরা ফুটবলার হিসেবে দেখতে চান তিনি।

তেমনটা ভাবার কারণও আছে। এবারের মৌসুমে দারুণ ছন্দে আছেন এই মিশরীয়। টানা নয় ম্যাচে গোল পেয়েছেন তিনি। আর ইউনাইটেডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলের বড় জয়ের নায়ক বনে গেলেন সালাহ।

সালাহর জাদুতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিভারপুল। ইউনাইটেডের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সালাহর তিন গোলের সঙ্গে স্কোর করেছেন নাবি কিটা ও দিয়োগো জোতা।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইউনাইটেডকে নাস্তানাবুদকে করতে থাকে লিভারপুল। ১৫ মিনিটে দুই গোলের লিড নিয়ে নেয় সফরকারী দল।

পাঁচ মিনিটের সময় কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দলকে লিড এনে দেন কিটা। অ্যাসিস্ট ছিল সালাহর। দশ মিনিটের মধ্যে লিড দ্বিগুন করে লিভারপুল।

ইউনাইটেডের রক্ষণভাগে লুক শ ও হ্যারি ম্যাগুয়ারের ভুলে বল পেয়ে যান কিটা। তিনি বল বাড়ান ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আরনল্ডকে।

আরনল্ড সিক্স ইয়ার্ড বক্সে খুঁজে নেন জোতাকে। কাছ থেকে গোল করতে ভুল করেননি এই পর্তুগিজ।

দ্রুত দুই গোল হজম করে হতচকিত হয়ে পড়ে ইউনাইটেড। লিভারপুল সে সুযোগে চেপে ধরে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।

বিরতির আগে তিন নম্বর গোলের দেখা পেয়ে যায় সফরকারীরা। জোতার শট ইউনাইটেড গোলকিপার ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বল পেয়ে যান কিটা।

তার বাড়ানো বলে বক্সে থাকা সালাহ নিজের প্রথম গোল পান ম্যাচের। মিনিট সাতেক পর আবারও জোতা-সালাহ কম্বিনেশনে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় লিভারপুল।

এবারে অ্যাসিস্ট ছিল জোতার আর গোলদাতা ছিলেন সালাহ। ৪-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় লিভারপুল।

দ্বিতীয়ার্ধে বিপদ আরও বাড়ে স্বাগতিক দলের। জর্ডান হেন্ডারসনের বাড়ানো বল থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সালাহ।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে স্কোরলাইন দাঁড়ায় লিভারপুলের পক্ষে ৫-০। খারাপ হতে থাকা ম্যাচ আরও খারাপ হয়ে যায় ইউনাইটেডের।

৬০ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন পল পগবা। ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউনাইটেড।

বাকি সময়ে ঘরের দল আতঙ্ক নিয়ে কাটালেও লিভারপুল খুব একটা গোল করায় আগ্রহ দেখায়নি। ম্যাচভাগ্য নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় নিজেদের স্ট্যামিনা বাঁচানোতে জোর দেন খেলোয়াড়রা।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালডোসহ স্বাগতিক তারকাদের বাজে পারফরম্যান্সে ম্যাচে আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ইউনাইটেড। শেষ আধঘণ্টায় আর গোলও করেনি লিভারপুল।

৫-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এ জয়ে টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এলো লিভারপুল। ইউনাইটেড আছে সাত নম্বরে।

শেয়ার করুন

মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতল রিয়াল মাদ্রিদ

মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতল রিয়াল মাদ্রিদ

বার্সেলোনার বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর উচ্ছসিত ডাভিড আলাবা। ছবি: টুইটার

প্রথমার্ধে আলাবার করা গোলের সঙ্গে ইনজুরি টাইমে লুকাস ভাসকেসের গোলে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারায় রিয়াল। বার্সেলোনার হয়ে শেষ মুহূর্তে এক গোল শোধ করেন আগুয়েরো। এ জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেল রিয়াল মাদ্রিদ।

এ বছরই চুক্তির মেয়াদ শেষে বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ডাভিড আলাবা। বায়ার্নে থাকার সময়ে বিখ্যাত ৮-২ গোলে বার্সেলোনাকে হারানোর ম্যাচে তিনি ছিলেন। আর রিয়ালের জার্সিতে প্রথম এল ক্লাসিকোতেও বার্সাকে হারানোর অন্যতম নায়ক হয়ে থাকলেন এই ফুল ব্যাক।

প্রথমার্ধে তার করা গোলের সঙ্গে ইনজুরি টাইমে লুকাস ভাসকেসের গোলে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারায় রিয়াল। বার্সেলোনার হয়ে শেষ মুহূর্তে এক গোল শোধ করেন আগুয়েরো। এ জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেল রিয়াল মাদ্রিদ।

বার্সেলোনার মাঠ কাম্প ন্যুয়ে শুরু থেকে সমানে সমান লড়াই করে দুই দল। প্রথম সুযোগ পায় অতিথিরা।

২৪ মিনিটের সময় বার্সা গোলকিপার মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগানকে লাইন থেকে টেনে বের করার পরও গোলের দেখা পাননি ভিনিসিয়াস জুনিয়র। টের স্টেগানকে বারদুয়েক কাটিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন এ ব্রাজিলিয়ান।

দুই মিনিট পর মাঠের অন্যপ্রান্তে সুযোগ পায় বার্সেলোনা। মেম্ফিস ডিপায় বক্সে বল বাড়ালে সেটি পেয়ে যান আনসু ফাতি। নিজে শট না নিয়ে বল ছাড়েন সার্জিনিয়ো ডেস্টের উদ্দেশে।

রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার থিবো কোঁতোয়াকে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি ডেস্ট।

সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দেয় বার্সেলোনা মিনিট সাতেক পর। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বার্সা বক্সের কাছে বল পেয়ে যান আলাবা। বাম পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে নেন এ অস্ট্রিয়ান।

দুর্দান্ত ওই গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মতো আক্রমণ রচনা করতে পারেনি বার্সেলোনা। ডিপায়, ফাতিরা রিয়ালের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেননি।

রিয়ালও আক্রমণ রচনার চেয়ে গোল রক্ষা করায় বেশি মনোযোগী ছিল। তবে ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষে লুকাস ভাসকেস দলের পক্ষে স্কোরলাইন ২-০ করে দেন আর নিশ্চিত করেন বার্সেলোনার পরাজয়।

এরপর ৯৮ মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে বদলি হিসেবে নামা সার্হিও আগুয়েরো গোল করলেও সেটিতে ম্যাচভাগ্য পাল্টায়নি। ২-১ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

হারের ফলে নয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আটে থাকল কাতালান ক্লাবটি। শিরোপা লড়াইয়ে ফিরতে হলে ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে রোনাল্ড কুমানের দলকে।

শেয়ার করুন

খেলা নিয়ে জুয়া: আইন চান ব্যারিস্টার সুমন

খেলা নিয়ে জুয়া: আইন চান ব্যারিস্টার সুমন

ব্যারিস্টার সুমন। ছবি: নিউজবাংলা

জুয়াড়ি ও ফিক্সারদের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ক্রিমিনাল অফেন্সে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুযোগ চান এই আইনজীবী।

দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াজগতের বিভিন্ন অসংগতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। প্রায় সময়ই তাকে দেখা যায় ক্রীড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে।

তার ধারাবাহিকতায় এবারে জুয়াড়ি ও ফিক্সারদের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠিয়েছেন তিনি। ক্রিমিনাল অফেন্সে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুযোগ চান এই আইনজীবী।

নিউজবাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুমন বলেন, ‘এই যে ফুটবলে যে জুয়া খেলা হয় বা ম্যাচ ফিক্সিং হয়, বা যে কোনো খেলাতে, এগুলা আসলে ক্রিমিনাল অফেন্স। ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু এগুলো যখন ফুটবল ফেডারেশন বা ক্রিকেটের অ্যাসোশিয়েশনের অধীনে বিচার করা হয়, তখন এগুলোকে ক্রিমিনাল অফেন্সে বিচার করা হয় না। এদেরকে সিভিল পানিশমেন্ট দেয়া হয়।’

উপযুক্ত আইন না থাকায় অনেকেই এর সুবিধা নিয়ে নিজের পকেট ভরছেন দাবি সুমনের। তিনি বলেন, ‘আপনি ফুটবলের নাম দিয়ে ১ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করবেন, জুয়া খেলবেন, মানি লন্ডারিং করবেন; এদের বিরুদ্ধে যদি ক্রিমিনাল কোনো ব্যবস্থা না নেন বা কেউ যদি মামলা না করে, তাহলে সে মনে করবে কী যে আমি ফুটবল না খেললাম, ব্যান থাকলাম কিন্তু এক হাজার কোটি টাকা তো বানিয়ে ফেলতে পারলাম।’

এ সব অপরাধীকে কেন ফৌজদারি মামলার আওতায় না হবে না সেটি তিনি কোর্টের মাধ্যমে জানতে চাইবেন বলে জানান নিউজবাংলাকে। একই সঙ্গে নতুন আইন প্রয়োগ করে বর্তমান আইন সংশোধনের পদক্ষেপও নিতে চান।

তিনি বলেন, ‘এগুলা তো আপডেটেড অফেন্স, আমাদের সিস্টেমটা এখনও ডেভেলপ হয়নি। আমরা সিস্টেমের ডেভেলপ করতে চাই। আইন শুরু করতে চাই সংসদের মাধ্যমে। যারা এ ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে না সেটি জানতে চাই কোর্টের মাধ্যমে।’

শেয়ার করুন

অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি

অন্যরকম অভিষেকের অপেক্ষায় মেসি

মার্শেইয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনুশীলনে লিওনেল মেসি। ছবি: টুইটার

বিশ্বকাপ, কোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, এল ক্লাসিকো বিশ্বের সব বড় ম্যাচে নাম লিখিয়েছেন মেসি। রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তার অভিষেক হচ্ছে ফ্রেঞ্চ ফুটবলের ধ্রুপদি ম্যাচ ‘ল্য ক্লাসিক’-এ।

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যাওয়ার পর থেকে ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হচ্ছে লিওনেল মেসির। বার্সেলোনায় ছিলেন দলের সেরা তারকা। পিএসজিতে নেইমার, এমবাপেদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হচ্ছে তারকাখ্যাতি। গোল করার ক্ষেত্রেও এমবাপের সঙ্গে টক্কর দিতে হচ্ছে ছয়বারের ব্যলন ডর জয়ীকে।

তারপরও ধীরে ধীরে পিএসজিকে নিজের ঘর বানিয়ে নিয়েছেন মেসি। প্যারিসিয়ানরা তাকে কেন্দ্র করেই সাজাচ্ছে নিজেদের কৌশল। ফ্রান্সে যাওয়ার পর নতুন এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে মেসির। রাতে তিনি নামছেন ফ্রেঞ্চ ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে।

ক্যারিয়ারে বড় ম্যাচ কম খেলেননি মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, এল ক্লাসিকো বিশ্বের সব বড় ম্যাচে নাম লিখিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তার অভিষেক হচ্ছে ফ্রেঞ্চ ফুটবলের ধ্রুপদি ম্যাচ ‘ল্য ক্লাসিক’-এ।

মার্শেইয়ের মাঠে খেলতে যাচ্ছে পিএসজি। রিয়াল-বার্সা, লিভারপুল-ম্যানইউ ও বায়ার্ন-ডর্টমুন্ডের ম্যাচের মতোই ভক্তদের উত্তেজনা চরমে পৌঁছে এই দুই দলের লড়াই নিয়ে। মেসি যোগ হওয়ায় এবারের 'ক্লাসিক' পাচ্ছে বাড়তি মাত্রা।

পিএসজির হয়ে ম্যাচে ফিরছেন নেইমার। অর্থাৎ পুরো শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে লিগের শীর্ষে থাকা পিএসজি।

১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। লিগে তারা হেরেছে মাত্র এক ম্যাচ।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক কোচ হোর্হে সাম্পাওলি এখন মার্শেইর দায়িত্বে। যিনি মেসিদের দায়িত্বে ছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা এখনও ভোলেননি ভক্তরা।

মার্শেই দলে মেসি-এমবাপের মতো বিশ্বসেরা না থাকলেও রয়েছেন দিমিত্রি পায়েত ও ম্যাথিউ গুয়েন্দোজির মতো ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞরা। সঙ্গে নিজের স্টেডিয়ামে দর্শকদের সমর্থন তো থাকছেই।

সবমিলিয়ে পিএসজি-মার্শেই হতে পারে বছরের অন্যতম সেরা লড়াই। দুই দলের সবশেষ ম্যাচে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে মার্শেই জিতেছিল ১-০ গোলে।

শেয়ার করুন