খেলোয়াড়দের কোটি টাকা সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর

খেলোয়াড়দের কোটি টাকা সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। সহায়তা প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত ফুটবলার বাদল রায়। তার স্ত্রী মাধুরী রায়ের হাতে ফ্ল্যাট ও ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

দেশের খেলোয়াড়দের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এক কোটি টাকারও বেশি অনুদান দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এক কোটি দশ লাখ টাকার চেক, সঞ্চয়পত্র ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

সহায়তা প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত ফুটবলার বাদল রায়। তার স্ত্রী মাধুরী রায়ের হাতে ফ্ল্যাট ও ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। আমার জানা নেই, বিশ্বের আর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো এতোটা ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ কি না।

‘প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন। ক্রিকেট, আর্চারি, শুটিং, হকি, দাবা, সুইমিং ও ফুটবলসহ সকল খেলায় আমাদের খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক সাফল্য নিয়ে আসছেন।’

যুব বিশ্বকাপজয় সহ দেশের কিছু অর্জন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। আমরা ধারাবাহিক ভাবে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করছি। এসএ গেমসে রেকর্ড সংখ্যক স্বর্ণ পদক অর্জন করেছি।

‘আমাদের আর্চার রোমান সানা টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানেও তিনি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। স্পেশাল অলিম্পিকেও আমরা ভালো করেছি।’

সাফল্যের ধারাবাহিকতাতে এই আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুখে দুঃখে সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে থাকেন। ক্রীড়ার উন্নয়নে বা যে কোনো খেলোয়াড় বা সংগঠকের কোনো সমস্যাতে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।’

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফিদের কাছে ‘হাইব্রিড নর্ম’সহ দুই প্রস্তাব বাংলাদেশের

ফিদের কাছে ‘হাইব্রিড নর্ম’সহ দুই প্রস্তাব বাংলাদেশের

‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

ফিদের কাছে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন নিয়মে রেটিং অর্জনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশনের কাছে দুটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন নিয়মে নর্ম অর্জনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্রা্যান্ড মাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এমনটা জানান বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

প্রস্তাবগুলো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘করোনার এই সময়ে দাবাড়ুরা আসতে পারেন না। ওরা বায়ো বাবলে থাকবে। আমাদের দাবাড়ুরা নিজেদের সঙ্গে খেলার পাশাপাশি ওদের সঙ্গে অনলাইনে খেলবে। নর্ম অর্জন করতে পারবে। সিসিটিভি থাকবে পর্যবেক্ষণের জন্য। লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারব।’

অনলাইন হাইব্রিড টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে রেটিং বাড়ানো সম্ভব বলে জানান বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা ফিদেকে প্রস্তাব করেছি। অনলাইন হাইব্রিড টুর্নামেন্টের মাধ্যমে কীভাবে নর্ম অর্জন করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন নিয়ম করতে। আমরা নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করেছি। আমরা মূলত ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এবং সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করেছি।

‘হাইব্রিড টুর্নামেন্ট করে যাতে নর্ম অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে তাগিদ দিয়েছি।’

বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে ফিদে সাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।

বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেনেছি, ফিদে আমাদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েছে। এটা যদি অনুমোদন পায় তাহলে দাবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

এ সময় চলতি বছরে প্রথমবারের মতো স্কুল ও জেলা পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘আমরা দাবাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। তাই এ বছর স্কুল ও জেলা পর্যায়ে প্রথমবার দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে যাচ্ছি।’

এই দুই টুর্নামেন্ট থেকে পাইপলাইন শক্তিশালী হবে বলে উল্লেখ করেন সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের এই সভাপতি। এই বছর প্রথমবারের মতো নারী দাবা লিগ শুরু করেছে ফেডারেশন এমনটা জানান সভাপতি।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

দাবার বোর্ডে ঘুঁটির চাল দিয়ে ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হয়েছে।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এ আয়োজন। তবে বিভিন্ন রাউন্ডের খেলা রোববারই শুরু হয়েছে বিজয়নগরের হোটেল ৭১-এ।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত ৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন মহীয়সী নারীর নামে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরে আমরা অনেক গর্বিত ও আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলার উন্নয়ন সহায়তা জোগাড় করতে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে প্যারিসে জবাবদিহি করতে হতো। অথচ এখন সেই বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে, সুদানকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে। আমরা এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশের ৪৫ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস কর‍ত। আর এখন সেটি ৯ ভাগের নিচে। করোনা মহামারি না এলে দারিদ্র্যসীমা এতদিনে হয়তো আরও নিচে নামত।’

চলতি বছর থেকে জেলা ও স্কুল পর্যায়ে দাবা টুর্নামেন্ট শুরুর ঘোষণা দেন দাবা ফেডারেশনের সভাপতি।

এ ছাড়া শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে অক্টোবরে আরও একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘আজ যে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন আমরা করতে যাচ্ছি সেটি একজন অনন্য নেতার নামে। শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, পৃথিবীর সর্বত্র তাকে মানবতার জননী ও একজন শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক চিন্তাবিদ হিসেবে মানুষ শ্রদ্ধা করে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে অনন্য এক নেতার কয়েক দশকের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আমাদের গণতন্ত্র, উন্নয়ন, জীবনমান, সমৃদ্ধ অর্থনীতি- সবকিছুই অর্জন সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘সুন্দর মন মানুষের মর্যাদার পক্ষে কথা বলে। যে কারণে আমাদের গত বছরের দাবার আসর এতটা সাফল্য পেয়েছিল। অংশগ্রহণকারী, আয়োজক, সাংবাদিক ও স্টেকহোল্ডাররা জন্মদিন উদযাপনের এই টুর্নামেন্টের অংশ হতে পারাকে সত্যিকারের সম্মানের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

“কারণ এই উদযাপন বাধ্যবাধকতা নয় বরং এটি ‘মানবতার জননীর’ প্রতি শ্রদ্ধা থেকে করা হয়েছে।”

আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম টুর্নামেন্ট আয়োজনে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়াসহ সব ধরনের সহায়তা দেয়ায় চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ এ আরাফাত ক্রীড়া ও শিল্পের বিকাশে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তা দেয়ায় চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন করছেন অতিথিরা

বক্তব্য শেষে দাবার বোর্ডে ঘুঁটির চাল দিয়ে এবং ফিতা কেটে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হয়েছিল জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট। ওই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। সে ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে এবারের টুর্নামেন্ট।

এর আগে গত শুক্রবার টুর্নামেন্টের বিস্তারিত জানাতে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজকেরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শোয়েব রিয়াজ আলম।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। বিদেশি খেলোয়াড়রা হচ্ছেন: গ্র্যান্ডমাস্টার দীপ দাস গুপ্ত (ভারত), এহসান ঘাইম মাগামি (ইরান), মাসোউদ মোসাদেগপোর (ইরান), ভাদিম মালাখাটকো (বেলজিয়াম), অড্রে সুমেটস (ইউক্রেন), জুভারেভ আলেক্সান্ডার (ইউক্রেন) ও আলেক্সেই কিসলিনসি (চেক রিপাবলিক)।

আন্তর্জাতিক, ফিদে ও ক্যান্ডিডেট মাস্টারেরা হলেন শেখ মোহাম্মদ নুবাইর শাহ (ভারত), আবদিহাপার আসিলবেক (কিরগিজস্তান), মাহমুদ লোদি (পাকিস্তান), অরোক ঘোষ (ভারত), কোস্তোভ চ্যাটার্জি (ভারত), চক্রবর্তী রেড্ডি মেরেড্ডি (ভারত), মিত্রভা গুহ (ভারত), মোকশকুমার অমিতকুমার দোশি (ভারত), নিলাশ সাহা (ভারত), সামেদ সেকুয়ার সেটি (ভারত), সায়ন্তন দাস (ভারত), সোমক পালিত (ভারত), শ্রীজিত পাল (ভারত), শুভায়ন কুণ্ডু (ভারত), সংকল্প গুপ্ত (ভারত), সংকেত চক্রবর্তী (ভারত), সৌরথ বিশ্বাস (ভারত), অরপিতা মুখার্জি (ডব্লিউআইএম, ভারত), লিয়ানাগে রানিদু দিলশান (সিএম, শ্রীলঙ্কা), সাসিথ নিপুন পিউমান্থা (এফএম, শ্রীলঙ্কা) এবং রুপেশ জসওয়াল (এফএম, নেপাল)।

দেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেন রাজীব; তিন আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সফিয়ান শাকিল, মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, দুই নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদ ও শারমীন সুলতানা শিরিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার, নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ও নারী আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় মোট নগদ ১৫ হাজার আমেরিকান ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

এর মধ্যে মূল পুরস্কার থাকবে ১৩ হাজার ডলার (চ্যাম্পিয়ন ৪০০০, রানার-আপ ২৫০০, তৃতীয় ১৫০০, চতুর্থ ১০০০, পঞ্চম ১০০০, ষষ্ঠ ১০০০, সপ্তম ১০০০, অষ্টম ১০০০ ডলার)।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দুই হাজার আমেরিকান ডলার (প্রথম ৭০০, দ্বিতীয় ৫০০, তৃতীয় ৪০০, চতুর্থ ২০০ এবং পঞ্চমকে ২০০ ডলার) পুরস্কার দেয়া হবে।

বনানীর হোটেল শেরাটনে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হবে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

এ বছরই শুরু জেলা ও স্কুল দাবা টুর্নামেন্ট

এ বছরই শুরু জেলা ও স্কুল দাবা টুর্নামেন্ট

জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্রা্যান্ড মাস্টার্স দাবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

জেলা পর্যায়ে ও স্কুল পর্যায়ের টুর্নামেন্ট থেকে পাইপলাইন শক্তিশালী হবে বলে উল্লেখ করেন সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিল ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি।

চলতি বছর প্রথমবারের মতো স্কুল ও জেলা পর্যায়ে দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্রা্যান্ড মাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দাবা ফেডারেশনের সভাপতি ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দাবাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। তাই এ বছর স্কুল ও জেলা পর্যায়ে প্রথমবার দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে যাচ্ছি।’

জেলা পর্যায়ে ও স্কুল পর্যায়ের টুর্নামেন্ট থেকে পাইপলাইন শক্তিশালী হবে বলে উল্লেখ করেন সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিল ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘এই দুটি টুর্নামেন্ট থেকে পাইপলাইন শক্তিশালী হবে। খেলোয়াড় বের হবে নতুন নতুন। তারা ঘরোয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিযোগিতা করবে।’

দেশের দাবাড়ুরা যাতে বেশি রেটিং অর্জন করতে পারেন সেজন্য বেশি করে নর্ম টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন।

জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্রা্যান্ড মাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার দাবা ফেডারেশন ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।

৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার, নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ও নারী আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় ১৫ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

এর মধ্যে মূল পুরস্কার থাকবে ১৩ হাজার ডলার (চ্যাম্পিয়ন চার হাজার, রানার-আপ আড়াই হাজার, তৃতীয় দেড় হাজার, চতুর্থ এক হাজার, পঞ্চম এক হাজার, ষষ্ঠ এক হাজার, সপ্তম এক হাজার ও অষ্টম এক হাজার ডলার)।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দুই হাজার ডলার (প্রথম ৭০০ ডলার, দ্বিতীয় ৫০০, তৃতীয় ৪০০, চতুর্থ ২০০, পঞ্চম ২০০ ডলার) পুরস্কার দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে প্যাকিয়াও

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে প্যাকিয়াও

বক্সিং রিংয়ে ম্যানি প্যাকিয়াও। ছবি: এএফপি

দুতের্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও এর আগে প্যাকিয়াও দুতের্তের বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্যকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ ও সমকামীদের ‘পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট’ মন্তব্যের প্রতি সমর্থন ছিল প্যাকিয়াওর।

ফিলিপিনের বক্সিং সুপারস্টার ম্যানি প্যাকিয়াও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন তিনি।

নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে প্যাকিয়াও বলেন, ‘এখনই সময়। নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জে এগিয়ে আসতে আমরা প্রস্তুত।’

ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে বর্তমানে একজন সিনেটর আট ডিভিশনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন প্যাকিয়াও।

২০১০ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন প্যাকিয়াও। তারপর থেকেই দেশটির সর্বোচ্চ পদে এই জনপ্রিয় বক্সারকে দেখার দাবি ভক্ত সমর্থকদের।

৪২ বছর বয়সী প্যাকিয়াওর বিশ্বজুড়ে ভক্ত রয়েছে। একেবারে সাদামাটা অবস্থা থেকে উঠে এসে তার সর্বকালের অন্যতম সেরা, সফল ও ধনী বক্সারে পরিণত হওয়ার গল্প ফিলিপাইনের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

দুতের্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও এর আগে প্যাকিয়াও দুতের্তের বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্যকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ ও সমকামীদের ‘পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট’ মন্তব্যের প্রতি সমর্থন ছিল প্যাকিয়াওর।

দুতের্তের দলেরই বিদ্রোহী অংশের গড়া পিডিপি লাবান দলের হয়ে প্রার্থিতা ঘোষণার পর প্যাকিয়াও জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

পার্লামেন্টে নিজের প্রার্থিতা নিয়ে ‘প্যাকম্যান’ নামে খ্যাত এই বক্সার বলেন, ‘যারা জানতে চায় আমার যোগ্যতা কী, তাদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা, কখনও ক্ষুধার্ত থেকেছেন? কখনও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যখন আপনার কাছে কোনো খাবার নেই? প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে বা খাবারের দোকানের ফেলে দেয়া খাবারের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে?

‘আপনাদের সামনে আজ যে ম্যানি প্যাকিয়াও, সে দরিদ্র অবস্থা থেকেই উঠে এসেছে।’

বক্সিং রিংয়ে ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৬২টি জেতা প্যাকিয়াওর রাজনীতির মাঠে লড়াইটা সহজ হবে না বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনে প্যাকিয়াওর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ডাভাও শহরের বর্তমান মেয়র ও প্রেসিডেন্ট দুতের্তের মেয়ে সারাহ দুতের্তে-কারপিও। সাম্প্রতিক এক জরিপে প্যাকিয়াওয়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন সারাহ দুতের্তে।

২০২২ সালের নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার শেষ দিন ৮ অক্টোবর।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

জিয়া-রাজীবের জয়ের দিনে নাসিরের চমক

জিয়া-রাজীবের জয়ের দিনে নাসিরের চমক

জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টারস দাবার প্রথম রাউন্ডে স্বদেশি স্বর্ণাভো চৌধুরীর বিপক্ষে খেলছেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রথম রাউন্ডে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার দীপ সেন গুপ্তকে হারিয়ে দেন বাংলাদেশের ফিদে মাস্টার নাসির আহমেদ। রাজীব স্বদেশি আন্তর্জাতিক মাস্টার দেলোয়ার হোসেনকে হারান। স্বদেশি স্বর্ণাভো চৌধুরীকে হারান গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান।

জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টারস দাবা টুর্নামেন্টের শুরুর দিনটা ভালো গেছে বাংলাদেশের। প্রথম রাউন্ডে জয় পেয়েছেন দুই দেশি গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও এনামুল হোসেন রাজীব।

তবে প্রথমদিন চমক দেখান বাংলাদেশের ফিদে মাস্টার নাসির আহমেদ। ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টার দীপ সেন গুপ্তকে হারিয়ে দেন নাসির।

আন্তর্জাতিক এ আয়োজনের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ ছিল রোববার। ফিদে মাস্টার নাসির সাদা ঘুঁটি নিয়ে ভারতের দীপ সেনের বিপক্ষে ইংলিশ ওপেনিং পদ্ধতিতে খেলা শুরু করেন ও পরবর্তীতে অ্যান্টি কাতালান ডিফেন্স ধারার খেলায় ৯০ চালের মাথায় জয়ী হন।

একই দিন জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও এনামুল হোসেন রাজীব। রাজীব স্বদেশি আন্তর্জাতিক মাস্টার দেলোয়ার হোসেনকে হারান। স্বদেশি প্রতিপক্ষ পান জিয়াউর রহমানও। প্রথম রাউন্ডে স্বর্ণাভো চৌধুরীকে হারাতে বেগ পেতে হয়নি এই গ্র্যান্ডমাস্টারের। জয় পান আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমানও। নারী ক্যান্ডিডেট মাস্টার নোশিন আঞ্জুমকে হারান এই উঠতি তারকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে সোমবার। তবে বিভিন্ন রাউন্ডের খেলা রোববার থেকেই শুরু হয়েছে বিজয়নগরের হোটেল ৭১-এ।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত নয় দিনের এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা করছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের।

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।

৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার, নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ও নারী আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় ১৫ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা উদ্বোধন সোমবার

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা উদ্বোধন সোমবার

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে মোট ১৫ হাজার ডলার দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে সোমবার। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত ৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা করছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের। তবে বিভিন্ন রাউন্ডের খেলা রোববার থেকেই শুরু হয়েছে বিজয়নগরের হোটেল ৭১-এ।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি তরফদার রুহুল আমিন, ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম এবং ফেডারেশনের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হয়েছিল জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট। ওই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। সে ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এবারের টুর্নামেন্টের।

টুর্নামেন্টের বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার দুপুরে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজকেরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শোয়েব রিয়াজ আলম।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা উদ্বোধন সোমবার
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা’ টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা



সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, “আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত। টুর্নামেন্টটির নামকরণ এমন একজন নেতার নামে, যিনি নিজে একজন শান্তির প্রতীক, যিনি দেশের ও মানুষের উন্নতির জন্য তার পুরো জীবন আবেগ ও নিষ্ঠা নিয়ে পরিশ্রম করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো বিশ্বকে তার ‘মানবতার নেতৃত্ব’ দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন ও অসীম মমতায় আমাদের সবাইকে উৎসাহিত করেছেন নিজের দেশ ও জনগণের সেবা করার জন্য।”

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।

বিদেশি খেলোয়াড়রা হচ্ছেন গ্র্যান্ডমাস্টার দীপ দাস গুপ্ত (ভারত), এহসান ঘাইম মাগামি (ইরান), মাসোউদ মোসাদেগপোর (ইরান), ভাদিম মালাখাটকো (বেলজিয়াম), অড্রে সুমেটস (ইউক্রেন), জুভারেভ আলেক্সান্ডার (ইউক্রেন) ও আলেক্সেই কিসলিনসি (চেক রিপাবলিক)।

আন্তর্জাতিক, ফিদে ও ক্যান্ডিডেট মাস্টারেরা হলেন শেখ মোহাম্মদ নুবাইর শাহ (ভারত), আবদিহাপার আসিলবেক (কিরগিজস্তান), মাহমুদ লোদি (পাকিস্তান), অরোক ঘোষ (ভারত), কোস্তোভ চ্যাটার্জি (ভারত), চক্রবর্তী রেড্ডি মেরেড্ডি (ভারত), মিত্রভা গুহ (ভারত), মোকশকুমার অমিতকুমার (ভারত), নিলাশ সাহা (ভারত), সামেদ সেকুয়ার সেটি (ভারত), সায়ন্তন দাস (ভারত), সোমক পালিত (ভারত), শ্রীজিত পাল (ভারত), শুভায়ন কুন্ডু (ভারত), সংকল্প গুপ্ত (ভারত), সংকেত চক্রবর্তী (ভারত), সৌরথ বিশ্বাস (ভারত), অরপিতা মুখার্জি (ডব্লিউআইএম, ভারত), লিয়ানাগে রানিদু দিলশান (সিএম, শ্রীলঙ্কা), সাসিথ নিপুন পিউমান্থা (এফএম, শ্রীলঙ্কা) এবং রুপেশ জসওয়াল (এফএম, নেপাল)।

দেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন নিয়াজ মোর্শেদ, জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেন রাজীব। তিন আন্তর্জাতিক মাস্টার হলেন আবু সুফিয়ান শাকিল, মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান। দুই নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদ ও শারমীন সুলতানা শিরিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার, নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ও নারী আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় ১৫ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

এর মধ্যে মূল পুরস্কার থাকবে ১৩ হাজার ডলার (চ্যাম্পিয়ন চার হাজার, রানার-আপ আড়াই হাজার, তৃতীয় দেড় হাজার, চতুর্থ এক হাজার, পঞ্চম এক হাজার, ষষ্ঠ এক হাজার, সপ্তম এক হাজার ও অষ্টম এক হাজার ডলার)।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দুই হাজার ডলার (প্রথম ৭০০ ডলার, দ্বিতীয় ৫০০, তৃতীয় ৪০০, চতুর্থ ২০০, পঞ্চম ২০০ ডলার) পুরস্কার দেয়া হবে।

বনানীর হোটেল শেরাটনে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হবে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন

সাংগঠনিক দক্ষতায় ভরসা নিয়াজের

সাংগঠনিক দক্ষতায় ভরসা নিয়াজের

‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড মাস্টার্স দাবা’র উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

নিয়াজ মোর্শেদ জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে আসতে হয়েছে দাবা ফেডারেশনকে। সেগুলো মোটামুটি কাটিয়ে ভালো অবস্থানে আসার ঠিক প্রাক্কালেই দেশে আঘাত হানে করোনা। 

২০০৮ সালে দাবায় নতুন গ্র্যান্ডমাস্টারের (জিএম) দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। সে বছর জিএম হিসেবে আবির্ভাব হয় এনামুল হোসেন রাজিবের। এরপর কেটে গেছে ১২টি বছর। লম্বা এ সময়ে নতুন কোনো জিএমের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেনি দেশ।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসে কেন এই দীর্ঘ বিরতি? কী এমন সংকট যার কারণে এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জিএমের সঙ্গে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেনি দাবা ফেডারেশন? উত্তরটা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম জিএম নিয়াজ মোর্শেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক দাবাড়ুদের নিয়ে টুর্নামেন্ট ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্রান্ডমাস্টার্স দাবা’। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ও এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নিয়াজ।

তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে আসতে হয়েছে দাবা ফেডারেশনকে। সেগুলো মোটামুটি কাটিয়ে ভালো অবস্থানে আসার ঠিক প্রাক্কালেই দেশে আঘাত হানে করোনা।

নিয়াজ বলেন, ‘আমাদের যেই গ্যাপটা পড়ে গেছে, সেটা কিন্তু এক-দুই বছরের না; বহু বছরের। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই আমাদের সাংগঠনিক দিকটা দুর্বল ছিল। এটা কিন্তু একদিনে আপনি কভার করতে পারবেন না। তবে এখন অবস্থা বদলাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ফেডারেশনে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের মতো বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা আসছেন। আমি আশাবাদী তারা আসায় আবার দাবার হারানো ঐতিহ্যটা ফিরে আসবে।

‘আমাদের একটা ভালো সংগঠন আছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যখন আমরা আমাদের ল্যাকিংসগুলো গুছিয়ে আনা শুরু করেছিলাম, তখনই আঘাত হানে কোভিড।’

বাংলাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার জানান, দাবার উন্নয়নে ফেডারেশনের লক্ষ্য ছিল প্রতিভাবান দাবাড়ুদের দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলিয়ে অবস্থার উন্নতি করা। কিন্তু চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটি সম্ভব নয়। এ কারণে দেশেই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে সেই ঘাটতি পূরণে বদ্ধপরিকর ফেডারেশনের কর্তারা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল যারা প্রতিভাবান, যাদের গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার সুযোগ আছে, তাদের আমরা বাইরে নিয়ে খেলাব। যেহেতু বাইরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই এখন আমরা চেষ্টা করব দেশে একটার পর একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আমাদের নিজেদের খেলোয়াড়দের প্রতিষ্ঠিত করার। যদিও এটা একটু ব্যয়বহুল, তারপরও আমরা আশাবাদী যেই গ্যাপটা পড়েছে, সেটা আমরা মেটাতে সক্ষম হব।’

২০ সেপ্টেম্বর হোটেল লা মেরিডিয়ানে পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টটির। ৯ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হবে হোটেল ৭১-এ। বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন জিএম, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও ৩ জন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ক্রীড়াবিদের পাশে সরকার

শেয়ার করুন