বাসচাপায় প্রাণ গেল তরুণ ক্রিকেটারের

বাসচাপায় প্রাণ গেল তরুণ ক্রিকেটারের

নিরব খানের মামা ডিআরইউর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমার ভাগনে নিরব কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের প্রথম বিভাগের ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিল। তেজগাঁও থানা পুলিশ তার উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

রাজধানীর ফার্মগেটে বাসচাপায় এক তরুণ ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে থাকা আরও একজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ক্রিকেটারের নাম নিরব খান শহীদ। আর আহত যুবকের নাম নবীন।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু পরিবহন নামের একটি বাস ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে বাইকে থাকা দুজনকে চাপা দেয়। তাদের আমরা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক নিরবকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আহত সঙ্গী নবীনকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি জানান, নিরবের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালের মর্গে রাখা হয়েছে। সকালে ময়নাতদন্ত হবে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক।নিরবের ভাই থানায় আছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

নিরব খানের মামা ডিআরইউর সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমার ভাগনে নিরব কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের প্রথম বিভাগের খেলোয়াড় ছিল। তেজগাঁও থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারতীয় ঋণের প্রকল্পে অর্থ ছাড় সহজ চান রেলমন্ত্রী

ভারতীয় ঋণের প্রকল্পে অর্থ ছাড় সহজ চান রেলমন্ত্রী

রেল ভবনে সোমবার বঙ্গবন্ধু সেতু-বগুড়া রেললাইন প্রকল্পে পরামর্শক সেবাবিষয়ক চুক্তি সই হয়। ছবি: নিউজবাংলা

রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‌‘আমাদের যে প্রজেক্টগুলো এলওসির অর্থায়নে হচ্ছে সেগুলো যাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে আরও দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।’

ইন্ডিয়ান লাইন অফ ক্রেডিট (এলওসি) বা ভারতীয় ঋণের প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড়সহ যাবতীয় বিষয় আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

রেল ভবনে সোমবার বঙ্গবন্ধু সেতু-বগুড়া রেললাইন প্রকল্পে পরামর্শক সেবাবিষয়ক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‌‘আমাদের যে প্রজেক্টগুলো এলওসির অর্থায়নে হচ্ছে, সেগুলো যাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে আরও দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। কিছু বিষয়ে দেরি হয়। উভয় সরকারের আপত্তি থাকে। সেগুলো যাতে দ্রুত করা, আরেকটু সহজীকরণ করা যায়।

‘এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এবং অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে আর একটু সচেতন করা যায় কি না, সেগুলো তারা ভেবে দেখবেন।’‌‌‌‌

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পগুলো যাতে ঠিক সময়ে শেষ হয় এবং মানসম্মত হয়, সে বিষয়েও সহযোগিতা চাচ্ছি। আজকে যে প্রকল্পে চুক্তি হয়েছে, কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান যেন সময়মতো কাজ শেষ করে, সচেতন হয়, সে আহ্বান জানাচ্ছি।’

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে বগুড়া পর্যন্ত সরাসরি রেললাইন নির্মাণ করছে সরকার। এতে এ রুটের দূরত্ব ১৮৭ কিলোমিটার থেকে কমে ৭৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে।

‘কনস্ট্রাকশন অফ ডুয়েলগেজ রেলওয়ে লাইন ফ্রম বগুড়া টু শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন, সিরাজগঞ্জ অফ বাংলাদেশ রেলওয়ে’ নামের ভারতীয় ঋণের এ প্রকল্পে পরামর্শক সেবাবিষয়ক চুক্তি সই হয়েছে।

চুক্তির আওতায় ভারতের রাইট লিমিটেড ও আরভি অ্যাসোসিয়েটস আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসালট্যান্ট লিমিটেড যৌথভাবে এ প্রকল্পে পরামর্শ সেবা দেবে।

সংস্থা দুটির সঙ্গে ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার পরামর্শক চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এ বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, ‘ইন্ডিয়া আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। এই প্রকল্পের মতো অন্যান্য প্রকল্পেও তারা বাংলাদেশকে সাহায্য করবে বলে আমি আশা করছি।

‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়া থেকে ঢাকার দূরত্ব এবং সময় অনেক কমে যাবে।’

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘বাংলাদেশের পুরুলিয়া নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশনের সুযোগ রয়েছে। ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস, ক্যাটারিং সার্ভিস, কার্গো সার্ভিস সবকিছু আধুনিক হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের রেল নেটওয়ার্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমরা পরস্পর এই খাতের উন্নয়নে অনেক দূর কাজ করতে পারি।

‘প্রকল্প বাস্তবায়ন ক্যাপাসিটি বিল্ডিং থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের যেকোনো প্রকল্পের কাজ করতে ভারত আগ্রহী এবং যথাসময়ে শেষ করার বিষয়ে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায় ভারত।’

প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ভারতের তৃতীয় এলওসির আওতায় এতে ভারত সরকার ৩ হাজার ১৪৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ দেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের নভেম্বরে বগুড়া সফরে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে বগুড়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের নির্দেশ দেন।

বর্তমানে বগুড়া এবং রংপুরের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ আছে। কিন্তু বগুড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান ডুয়েল গেজ লাইনটি কাহালু সান্তাহার-আব্দুলপুর-ঈশ্বরদী বাইপাস-জামতৈল-শহীদ এম মনসুর আলী রুটে প্রায় ১৮৭ কিমি দীর্ঘ। তাই সরকার শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন থেকে বগুড়া রায়পুর-রায়গঞ্জ-শেরপুর-রানিরহাট রুটে সরাসরি রেল সংযোগ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়‌।

এতে বগুড়া স্টেশন থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের মধ্যকার রুটের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। এ ছাড়াও রানিরহাট স্টেশন থেকে কাহালু স্টেশনের মধ্যে রুটে ১১.৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হবে।

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে সরাসরি এ রেল যোগাযোগের ফলে প্রায় ১১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পথ এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ভ্রমণের সময় কমবে। এ রুটের মাধ্যমে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

শেয়ার করুন

সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হাইকোর্ট

সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হাইকোর্ট

অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। আর চড়া সুদে ঋণদানকারী স্থানীয় মহাজনদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চড়া সুদ কারবারি ও অননুমোদিত ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এসব কারবারি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রণয়নে বিশেষ কমিটি গঠন করতে বলেছে আদালত।

সারা দেশে চড়া সুদে ঋণদাতা মহাজনদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেয়।

অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

তদন্তকালে কোনো অননুমোদিত বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক সেগুলো বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে আদালত।

আর চড়া সুদে ঋণদানকারী স্থানীয় মহাজনদের তালিকা দিতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক।

গত ২২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার আদেশের জন্য দিন রাখে হাইকোর্ট।

‘চড়া সুদে ঋণের জালে কৃষকেরা’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক রিটটি করেন। রিটে মহাজনদের উচ্চহারে অনানুষ্ঠানিক ঋণ প্রদান নিষিদ্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়।

শেয়ার করুন

দুর্নীতি মামলায় বিদেশ যাওয়া যাবে কি না জানাবে আপিল বিভাগ

দুর্নীতি মামলায় বিদেশ যাওয়া যাবে কি না জানাবে আপিল বিভাগ

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আদেশে বলেছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করবে আদালত। পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতির মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আপিলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আপিল বিভাগ। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আদেশে বলেছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করবে আদালত। পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদক নয়, সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষ জজ আদালত-হাইকোর্টের এমন অভিমত দিয়ে দেয়া রায় এবং আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে পাঁচটি আবেদন করেছিল দুদক।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই আবেদনগুলোর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি রায়ের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এ ছাড়া ছিলেন আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, মুরাদ রেজা, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আরশাদুর রউফ ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

দেশ ত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একাধিক বেঞ্চ রায় ও আদেশ দেয়। ওইসব আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।

এরমধ্যে একটিতে দুদকের দেয়া নিষেধাজ্ঞার চিঠি অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। অভিমতে আদালত বলে, সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদক নয়, সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষ জজ আদালত।

হাইকোর্ট বলেছে, ‘বিদেশ যাবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

হাইকোর্টের এসব আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।

শেয়ার করুন

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলোতে সময় লাগবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলোচনার পর পণ্য পরিবহনে কর্মবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় শুক্রবার রাতে বৈঠক শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম। ১০ দফা দাবিতে সোম ও মঙ্গলবার এ কর্মবিরতি পালনের কথা ছিল।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়, সেগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেগুলোতে সময় লাগবে সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। শ্রমিকদের গাড়ি চালাতে নির্দেশ দিয়েছি।’

দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সার্ভিস চার্জ উনারাই নির্ধারণ করেছেন। যেটা নির্ধারিত জায়গায় আদায় করা হবে। জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ফাঁকা জায়গায় গাড়িগুলো রাখবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়।’

সড়ক দুর্ঘটনায় চালক-সহকারীদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ইচ্ছে কারও উপরে যদি গাড়ি চালিয়ে দেয়, তাহলে অবশ্যই ৩০২ ধারায় যাবে। তাদের দাবি ছিল, পুলিশ যেন সঠিকভাবে ইনকয়ারি করে কনভার্ট করে।’

এর আগে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ১৫ দফা দাবির পর বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে পণ্য পরিবহনে মালিক শ্রমিকদের সংগঠনটি। দাবি মানতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেয় তারা।

বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি, প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ১০ দফা দাবি হলো:

০১ (ক). ট্রাকচালক লিটন ও আবু তালেব প্রামাণিকসহ সকল সড়ক পরিবহন শ্রমিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

(খ). সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারার মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তদন্ত না করে ৩০২ ধারায় মামলা করা যাবে না।

০২. ড্রাইভিং লাইসেন্সের জটিলতা নিরসন করে লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।

০৩. পণ্য পরিবহনের সময় মালামাল চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে জরুরি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

০৪. বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার করে জরিমানা ছাড়া গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দিতে হবে।

০৫. সড়ক-মহসড়কে কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি বা মাসিক মাসোহারা বন্ধ করতে হবে।

০৬. মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা ব্যয় বা সার্ভিস চার্জ আদায় করার সুযোগ দিতে হবে।

০৭. বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করার উদ্যোগ বাতিল করতে হবে।

০৮ (ক). সড়ক-মহাসড়কের পাশে এবং প্রত্যেক জেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ট্রাক ও বাস টার্মিনাল নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে হবে।

(খ). চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক গত ৩০ মে ও ২৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পণ্যবাহী গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের সময় ড্রাইভারদের ডাটাবেজ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

০৯. স্থানীয় সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টার্মিনাল ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ চাঁদা ও টোল আদায় বন্ধ করতে হবে।

১০. দেশে সড়ক মহাসড়কগুলো শুধুমাত্র হাইওয়ে পুলিশের অধীনে তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে কাগজপত্র চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওসমান আলী বলেন, ‘তারা আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে আমাদের আগেই ধর্মঘট ডেকে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য পাতানো ধর্মঘট করেছে। এ ব্যাপারে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে সকল মালিক-শ্রমিকদের তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহবান জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মো. রুস্তম আলী খান, সদস্যসচিব মো. তাজুল ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

পার্কটির পাশে প‍্যাগলার স্কোয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লন্ডনের কেডফোর্ডে রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা নেসা। ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে এক ব্যক্তি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সাবিনার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি স্কুল শিক্ষক সাবিনা নেসার হত্যার ঘটনায় রোববার আরও এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।

৩৬ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ইস্ট সাস্যাক্স থেকে বিকেল ৩টার দিকে আটক করে স্কর্টল্যান্ড ইয়ার্ড।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের এক পার্ক থেকে ২৮ বছর বয়সী সাবিনা নেসার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসিসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে এক ব্যক্তি পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লতা-পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সাবিনার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

কে এই সাবিনা নেসা

দক্ষিণ লন্ডনের কেডফোর্ডে রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবিনাকে দেখা যায় কালো গ্রাজুয়েশন গাউন পরে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিতে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১
রোশে গ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন সাবিনা নেসা। ছবি: সংগৃহীত

এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণী পড়াশোনা করেছেন গ্রিনিচ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিসা উইলিয়ামস জানান সাবিনা ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক।

হত্যার বিষয়ে কী বলছে পুলিশ

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলা হয়েছে, সাবিনা নেসাকে ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে হত্যা করা হয়েছিল। মৃতদেহটি ঝোপঝাড়-ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে রাখে হত্যাকারী।

পরদিন বিকেলে পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তির নজরে আসার আগ পর্যন্ত সেটি সেখানেই পড়ে ছিল।

তদন্তে বলা হয়, সাবিনা শুক্রবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে পার্কের ভেতর দিয়ে পায়ে হেঁটে খুব কাছের একটি পাবে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে সাবিনাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করে পুলিশ। এতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় সেই সন্ধ্যায় পার্কের পাশের ফুটপাত দিয়ে একজন ‘রহস্যময়’ ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে। তার মাথায় চুল নেই। হাতে কিছু একটা নিয়ে দ্রুত পার্কের পাশের প্যাগলার স্কোয়ার দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে মাথায় হুড টেনে দিতে দেখা যায়।

এর আগে, সন্দেহভাজন আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

নিরাপত্তা শঙ্কায় নারীরা

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই স্কুল শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের পর ফের যুক্তরাজ্যজুড়ে নারীর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে।

চলতি বছর মার্চে লন্ডনে আরেকটি পার্ক থেকে একইরকমভাবে সারা এভারার্ড নামের এক শ্বেতাঙ্গ নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের দুটি হত্যাকাণ্ডে লন্ডনজুড়ে নারীদের মধ্যে নিরাপত্তাবিষয়ক উৎকণ্ঠা বেড়ে গেছে।

সাবিনা হত্যাকাণ্ড লন্ডনের মতো একটি শহরে নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

সাবিনার প্রতিবেশী ও কিডব্রুকের বাসিন্দা আলিয়া ইসায়েভা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এখানকার বাসিন্দারা ওই পাবে (দ্য ডিপট বার) নিয়মিত যান, কাছের এই পাবটিতে যেতে আমাদের সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় লাগে। সাবিনা না হয়ে আমরা যে কেউ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারতাম। এমন হত্যাকাণ্ড যে কোনো জায়গায়, যে কোন নারীর সঙ্গে ঘটতে পারে।’

আলিয়া আরও জানান, সপ্তাহে অন্তত একবার ওই পার্কটিতে তিনি নিজেও একা একা যান, যেখানে সেদিন সাবিনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

স্মরণসভা

সাবিনা নেসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিডব্রুকসহ আশপাশের বাসিন্দাদের শঙ্কিত ও স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

সপ্তাহজুড়ে হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই শিক্ষককে স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ।

পার্কটির পাশে প‍্যাগলার স্কোয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ।

মোমবাতি জ্বালিয়ে সাবিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাবিনা হত্যাকাণ্ডে আটক আরও ১

হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই শিক্ষককে স্মরণ করেছেন হাজারো মানুষ।

এই সমাবেশে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবিনার বোন জেবিনা ইয়াসমিন ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড আমাদের গোটা পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। কোন শব্দ আর ভাষায় আমরা আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবো না। আর যেন কোনো পরিবারের সদস্যকে এরকম নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন টেন ডাইনিং স্ট্রিটের বাইরে সাবিনা নেসার স্মরণে জ্বালানো হয় একটি মোমবাতি।

সাবিনার মৃতদেহের ময়নাতদন্তের বিষয়ে এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পুলিশ।

১৯৯৩ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন সাবিনা নেসা। তারা তিন বোন যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা।

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

২০০২ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম জানান, রোববার বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

প্রায় দুই দশক আগে সাতক্ষীরায় সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

পলাতক আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনককে রোববার বেলা ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম।

তিনি জানান, বিকেলে মিরপুর এক শ ফিট এলাকা থেকে তারিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে যান।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারিকুজ্জামান ওরফে কনক। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কপথে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সে সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

ঘটনার ১৯ বছর পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার একটি আদালত ৫০ জনকে নানা মেয়াদে সাজা দেয়।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনকে দেয়া হয় ১০ বছরের কারাদণ্ড। একই সাজা পাওয়া বাকি দুজন হলেন মো. আরিফুর রহমান ওরফে রঞ্জু ও রিপন। এরা দুই জনই পলাতক।

পলাতক আসামি যুবদল নেতা আব্দুল কাদের বাচ্চুকে দেয়া হয়েছে ৯ বছরের কারাদণ্ড। বাকি ৪৬ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বহরে হামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব

সেদিন ৩৪ আসামির উপস্থিতিতে রায় দেয়া হয়। তাদেরকে সেদিনই কারাগারে পাঠানো হয়।

বাকি ১৬ জনের মধ্যে আছেন আব্দুল কাদের বাচ্চু, মফিজুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, খালেদ মঞ্জুর রোমেল, ইয়াছিন আলী, রবিউল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, আব্দুর রব, সঞ্জু মিয়া, নাজমুল হোসেন, জাবিদ রায়হান লাকী, কনক, মাহাফুজুর রহমান।

মামলার বিচারে চক্কর

হামলার পর এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৭৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে যান। তবে তাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করেন তিনি।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটি আটকে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়।

২০১৫ সালের ১৭ মে হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে সাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম।

এই মামলাটির শুনানি থামাতে হাইকোর্টে একের পর এক আবেদন করেছেন আসামিরা।

একটি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সেই রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর সে রুলের শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করে হাইকোর্ট।

গত ৮ অক্টোবর মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

সবশেষ আবেদন হয় আসামি রাকিবুর রহমানের পক্ষ থেকে। ঘটনার সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন দাবি করে এই মামলায় বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে গত ২৪ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ হলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।

শেয়ার করুন

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

পিবিআই সফল হলো, পুলিশের অন্যরা কেন ব্যর্থ?

ঈগল পরিবহনে টিকেট কেটে শম্পা বেগমের মৃতদেহভর্তি ট্রাঙ্কটি তারই কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তুলে দেন বাসের লকারে। ছবি: নিউজবাংলা

এক অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহের পরিচয় উদঘাটনে নেমে পিবিআই যেখানে সফল হয়েছে, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল?

গাবতলীতে বাসে এক পরিত্যক্ত ট্রাংকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ। তার পরিচয় বের করাই তদন্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চার বছর ধরে তদন্ত চালিয়েও থানা পুলিশ ও সিআইডি বের করতে পারেনি তরুণীর পরিচয়।

পুলিশের আরেকটি বিভাগ পিবিআই দায়িত্ব পেয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে শুধু তরুণীর পরিচয়ই উদঘাটন করেনি, হত্যাকারীকেও গ্রেপ্তার করেছে।

প্রশ্ন হলো, এটি কি পুলিশের সাফল্যের নাকি ব্যর্থতার কাহিনি? পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) যেখানে সফল হলো, থানা পুলিশ ও সিআইডি ব্যর্থ হলো কেন? পুলিশের তদন্তের পদ্ধতি কি তারা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেনি? তাদের দায়িত্ব পালনে কি গাফিলতি ছিল?

সিআইডি বলছে, অজ্ঞাত তরুণীর ট্রাঙ্কবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় উদঘাটনে যে যে স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়া অনুসরণীয়, তার সবকটি ধাপই তারা অনুসরণ করেছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে পিবিআই।

থানা পুলিশ বলছে, তারাও চেষ্টা করেছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা ও অন্যান্য কিছু কারণে তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। পরিচয় না পাওয়ায় আসামিকেও বের করা সম্ভব হয়নি।

ছয় বছর আগে যা ঘটেছিল

২০১৫ সালের ৩ মে বিকেলে ঈগল পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারে একটি ট্রাংক থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে দারুসসালাম থানা পুলিশ। বাসটি এসেছে চট্টগ্রাম থেকে। ট্রাংকটিও সেখান থেকে আসা।

ট্রাংকটি ওইদিন সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের এ কে খান মোড়ে এক ব্যক্তি তুলে দিয়েছিলেন ওই বাসে। ওই ব্যক্তি একটি টিকিট কেটে বলেছিলেন, পরবর্তী স্টপজে এক নারী যাত্রী উঠবেন। ওই নারী যাত্রী এই ট্রাংকসহ ঢাকা যাবেন। কিন্তু পরের স্টপেজে কোনো যাত্রী ওঠেনি। মালিকবিহীন অবস্থায় ট্রাংকটি এসে পৌঁছায় গাবতলীতে।

ট্রাংকটি অনেক ভারি হওয়ায় সন্দেহ হয় হেলপার ও অন্যদের। তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে তরুণীর মরদেহ পায়। তাৎক্ষণিক ওই মরদেহের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত লাশ হিসেবে তা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে সেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করে।

দারুসসালাম থানার এসআই জাহানুর আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা থানা পুলিশই তদন্ত করে। তদন্তে করতে গিয়ে তারা কী কী করেছিল, কোন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা এখনকার দারুস সালাম থানা জানাতে পারেনি।

তারা বলছে, অনেক আগের ঘটনা। তখনকার দায়িত্বশীলরা এখন অন্যত্র বদলি হয়েছেন। এ কারণে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।

এ মামলার তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি ঢাকা মেট্রোর পশ্চিম বিভাগ। তারা চার বছর ধরে তদন্ত করে।

সিআইডি অপরাধ তদন্তে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বিভাগ। তারা অজ্ঞাত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক টিমের সহায়তায় ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। সে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। সেখান থেকে কিছু পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের যে এলাকা থেকে ট্রাংকটি বাসে উঠিয়ে দেয়া হয়, সেই এলাকার বিভিন্ন থানায় ওই সময়ে দায়ের হওয়া নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিগুলোর খোঁজ করেছে সিআইডি। সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। নিহত তরুণীর ছবি ওই এলাকার বাসিন্দাদের দেখানো হয়। কেউ ছবি দেখে তরুণীকে চিনতে পারেনি।

তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে সিআইডির নিজস্ব সাময়িকীতে ছবিসহ পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল পদ্ধতি দুটোই প্রয়োগ করে তরুণীর পরিচয় এবং তার হত্যাকারীকে বের করার চেষ্টা করা হয় বলে সিআইডির পক্ষ থেকে নিউজবাংলাকে জানানো হয়। দীর্ঘ সময়েও কোনো অগ্রগতি করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় তারা।

সিআইডি পারেনি, পিবিআই পেরেছে – এমনটা মানতে নারাজ সিআইডি ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেটা অন্য সংস্থা পারেনি, কিন্তু সিআইডি উদঘাটন করেছে। পরিচয় শনাক্তে আমরা ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল দুই পদ্ধতিতেই চেষ্টা করেছি, সিআইডি সেটা করে থাকে।’

যেভাবে সফল হলো পিবিআই

আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এটির শীর্ষ কর্মকর্তা ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় মামলাটি তদারকি করেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। আর মামলাটি তদন্ত করেন পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান।

চার বছরের বেশি সময় আগের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তিনি কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, তা নিয়ে রোববার কথা হয় বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে। তারা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং জড়িত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারে তাদের নানা কৌশল অবলম্বনের কথা জানিয়েছেন।

সিআইডি যে পথে হেঁটে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে, সেই একই পথে পিবিআইও হেঁটেছে। তবে ‘সময় ও ধৈর্য্য’ নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধান চালানোয় সফলতা এসেছে বলে মনে করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ জিডিতেই আটকে ছিল জট

ঢাকায় অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার হয় ২০১৫ সালের ৩ মে। সাধারণত কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে যে এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, সেই এলাকার থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। আর এই নিখোঁজ ডায়েরিটা নিখোঁজ হওয়ার পর কাছাকাছি সময়েই হয়ে থাকে। কিন্তু এই তরুণী নিখোঁজ হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে ১০ জুলাই পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়।

এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই বাধে বিপত্তি। থানা পুলিশ ও সিআইডি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি খুঁজেছে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী এক মাসের বেশি সময়ের ব্যাপ্তিতে। তাতে কিছু পাওয়া যায়নি।

কিন্তু পিবিআই এক মাসের ব্যাপ্তিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা আরও বড় সময়ের ব্যাপ্তির সব নিখোঁজ জিডি সংগ্রহ করেছে। বিচক্ষণতার সঙ্গে সময় নিয়ে জিডিগুলো সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানান মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে গিয়ে ৭ দিন সেখানে অবস্থান করে আশপাশের ১৪টি থানার জিডি সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ শুরু করি। বাকি থানাগুলো জিডি পরবর্তী সময়ে সংগ্রহের টার্গেট ছিল। ১৪ থানার জিডিগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিখোঁজের ডায়েরি পাওয়া যায়।’

আশরাফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ওই সময়ে যেগুলো মিসিং ডায়েরি পেয়েছিলাম, সেখান থেকে প্রথম দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, যাদের নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি হয়েছিল, তাদের পাওয়া গেছে। তৃতীয় জিডিটির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, তরুণীটি এখনও নিখোঁজই রয়েছে। গাবতলীতে ‍উদ্ধার হওয়া তরুণীর সঙ্গে নিখোঁজ তরুণীর বর্ণনা মিলে যায়।

‘তখনই আমরা জানতে পারি, উদ্ধার হওয়ার তরুণীর নাম শম্পা বেগম। এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যায় জড়িত কে বা কারা তা তদন্ত করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করি।’

মামলাটির তদারকি কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শম্পা নিখোঁজের বিষয়টি তার পরিবার জানতে পারে হত্যাকাণ্ডের একদিন পর। শম্পার পরিবারকে আসামী স্বপন জানান যে, শম্পা খুলনা যাওয়ার জন্য বাসে রওনা হয়েছে। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও শম্পা আর পৌঁছায়নি। খুলনায় না যাওয়ায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। আত্মীয়-স্বজন ও নানান জায়গায় খোঁজার পর শম্পার ভগ্নিপতি চট্টগ্রামে এসে পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাধারণত অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের কয়েক দিনের মধ্যে হওয়া জিডিগুলো খুঁজে দেখা হয়। আমরা কাছাকাছি সময়ের জিডিগুলো বের করার পাশাপাশি এক মাসের বেশি সময় পর কোনো মিসিং জিডি হয়েছে কিনা তাও খুঁজে দেখেছি। আমরা বিস্তৃত সময় ধরে হওয়া জিডিগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে সফল হয়েছি।’

শম্পার পরিচয় শনাক্তের পর আসামি গ্রেপ্তারেও যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান পিবিআই-এর এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আসামি স্বপনকে শম্পার পরিবার মেয়ের স্বামী হিসেবে জানত। শম্পা তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন, স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু মূলত তারা বিয়ে করেননি। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে স্বপনের ঠিকানা চাইলে শম্পার পরিবার তা যথাযথভাবে দিতে পারেনি। কারণ তাদের কাছে তা ছিল না। আমরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে আসামির স্থায়ী ঠিকানা পাই। কিন্তু ওই ঠিকানায় আসামি স্বপন থাকতেন না। থাকতেন কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায়। সেখান থেকে তাকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই আমরা। স্বপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।’

কেন শম্পাকে হত্যা

স্বপনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শম্পাকে চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর গ্রিনভিউ এলাকার একটি বাসায় ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২ মে গভীর রাতে তাকে হত্যা করেন স্বপন।

২০১৩ সালে খুলনা নৌঘাঁটিতে ল্যান্স করপোরাল (মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট) হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বপন। শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। শম্পার মা চিকিৎসা করাতে গেলে স্বপনের সঙ্গে শম্পার পরিচয় হয়।

পিবিআই জানায়, এই পরিচয়ের সূত্রে দুজনের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক সময় স্বপনে বিয়ের জন্য চাপ দেন শম্পা। স্বপন আগে থেকে বিবাহিত ছিলেন এবং তার সংসারে এক সন্তান ছিল, যা তিনি শম্পার কাছে গোপন করেন। বিয়ের চাপ দেয়ায় স্বপন খুলনা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে চলে আসেন।

এরপর শম্পাও চট্টগ্রামে আসেন। চট্টগ্রামে এক ফুফুর বাসায় কিছু দিন থাকেন শম্পা। এরপর ফয়েজ লেক এলাকায় একটি হোটেলে কিছুদিন অবস্থান করেন তিনি। পরবর্তীতে পাহাড়তলীর উত্তর গ্রিনভিউ আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় সাবলেট নিয়ে এক সঙ্গে থাকা শুরু করেন দুজন। তখন শম্পা তার পরিবারকে জানান স্বপনকে তিনি বিয়ে করেছেন, যদিও তারা বিয়ে করেননি।

এভাবে তারা ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের ২ মে পর্যন্ত একত্রে বসবাস করছিলেন। এক সময় শম্পা বিয়ের জন্য রেজাউল করিম স্বপনকে চাপ দেন। এ নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়।

এরই এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শম্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বপন। মরদেহ গোপন করার জন্য শম্পার মরদেহ একটি ট্রাংকে ঢুকিয়ে ঈগল পরিবহনের একটি বাসে তুলে দেন তিনি এবং কৌশলে শম্পার বাবাকে জানান, শম্পাকে খুলনার বাসে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে শম্পা তার বাবার বাড়িতে না পৌঁছলে বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ১০ জুন পাহাড়তলী থানায় জিডি করা করেন।

এদিকে জিডি করার পাশাপাশি নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান চেয়ে স্বপনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম নৌ বাহিনীর অফিস এবং সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় অভিযোগ করেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই দফা অভিযোগ করেও মেয়ের সন্ধান পাইনি। তবে দ্বিতীয়বার অভিযোগের পর স্বপনের পদের অবনতি করা হয়। কিন্তু আমার মেয়েকে আর পাইনি। ২০১৯ সালে স্বপনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে আমার মেয়ের সন্ধান দিতে পারেনি কেউ। পিবিআই ২২ সেপ্টেম্বর আমার বাড়িতে গেলে আমার মেয়ের বিষয়ে প্রথম কোনো খবর পাই।’

শেয়ার করুন