দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের

দড়ি লাফে জোড়া বিশ্বরেকর্ড ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেলের

গিনেস বুকের সনদপত্র হাতে রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড দড়ি লাফে আগের বিশ্বরেকর্ড ছিল ১৪৪ বার লাফানোর। সেটি ভেঙে গড়েছেন ১৪৫ বার লাফানোর রেকর্ড। আর ১ মিনিটে এক পায়ে ২৫৬ বার লাফানোর বিশ্বরেকর্ড ভেঙে গড়েছেন ২৫৮ বার।

দড়ি লাফের খেলায় দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন রাসেল ইসলাম। তার এমন কীর্তিতে দেশের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াবিদরা।

প্রশংসায় ভাসছেন ঠাকুরগাঁও জেলার ১৮ বছরের এই তরুণ। এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে লোকজন দেখতে আসছে রাসেলকে।

সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সিরজাপাড়া গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে রাসেল। তিনি শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

গিনেস বুকে নাম ওঠানো রাসেলকে দেখতে ছুটে আসছে আশপাশের অনেক মানুষ। শুধু এলাকাবাসী নয়, বিভিন্ন উপজেলা থেকেও লোকজন তাকে অভিনন্দন জানাতে আসছে।

কীর্তি গড়ার পেছনের গল্পটা নিউজবাংলাকে বলেন রাসেল, ‘স্কুলজীবন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল দড়ি লাফে বিশ্বরেকর্ড করার। তাই ২০১৭ সাল থেকে শুরু করি দড়ি লাফের চর্চা। বাসার আশপাশে বিভিন্ন সড়কের ধারে যখন যেখানে সময় পেতাম সেখানেই দড়ি লাফের চর্চা করতাম।

‘অবশেষে আমার স্বপ্ন পরিপূর্ণ মনে হলো, ২০১৯ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করি। দড়ি লাফের ওপর দুটি বিষয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করি। একটি ৩০ সেকেন্ডের, অন্যটি ১ মিনিটের। দুটিতেই নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছি আমি।’

এক পায়ে ৩০ সেকেন্ড দড়ি লাফে আগের বিশ্ব রেকর্ড ছিল ১৪৪ বার লাফানোর। সেটি ভেঙে গড়েছেন ১৪৫ বার লাফানোর রেকর্ড। আর ১ মিনিটে এক পায়ে ২৫৬ বার লাফানোর বিশ্বরেকর্ড ভেঙে গড়েছেন ২৫৮ বার।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদপত্র হাতে পান রাসেল।

রাসেলের চাচা ফজলু হক বলেন, ‘রাসেলের কারণে দেশবাসী আমাদের গ্রামের নাম জানতে পারছে। সকাল থেকে অনেকেই আসছে তার বাসায়। রাস্তাঘাটে অনেকেই বলছেন, বিশ্বরেকর্ড করেছে রাসেল, তার বাসা কোনটা? এটা শুনতেই অনেক ভালো লাগছে। আমার ভাতিজা জেলার ও গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’

রাসেলের বাবা বজলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে একটি দড়ি নিয়ে লাফাত। তাকে বলতাম, এসব করে কী হবে। সে আমাকে বলত, আব্বা আমি একদিন এই খেলা দিয়েই তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করব। আজ সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সত্যি তার এই উপহার আমরা কখনও ভুলব না।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মাসুদুর রহমান বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল আমাদের গর্ব। শুধু আমাদের না, গোটা জেলার গর্ব। সে নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে দুটা বিশ্ব রেকর্ড গড়ছে। আমরা সব সময় রাসেলকে সহযোগী করছি। উৎসাহ দিছি। রাসেল আমাদের গর্ব।’

রহিমানপুর ইউপির চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, ‘কাল থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার কাছে ফোন আসছে, সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছে। রাসেলের বাড়ি আমার ইউনিয়নে হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার সামনে আর সাফল্য কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

রংপুরে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই পিয়ারুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় থানা থেকে বন্ধু রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পেয়ারুল ইসলামকে নিয়ে গিয়েছিলেন মুন্না। শ্বশুরবাড়ি রংপুরের বাহার কাচনা তেলিপাড়ায় যখন পৌঁছান তখন রাত ১১টা।

মূল সড়কের কাছেই বাড়িটি। সেখানে যাওয়ার রাস্তায় তখন মাদকসেবন করছিলেন পারভেজ রহমানসহ কয়েকজন। সেই দৃশ্য দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে যান এএসআই পেয়ারুল; মুন্না যান শ্বশুরবাড়ি।

বাড়িতে না ঢুকে দরজা থেকেই স্ত্রী মনিকার কাছে টাকা চান মুন্না। এর একটু পরই তিনি পেয়ারুলের চিৎকার শোনেন, ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’।

তখনই সবাই দৌড়ে এসে দেখেন পেয়ারুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

রংপুরে মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ারুল ইসলাম নিহতের ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছেন মুন্নার শাশুড়ি লাইলি বেগম। প্রত্যক্ষদর্শী এবং পেয়ারুলের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেন তিনি।

লাইনী বেগম বলেন, ‘পেয়ারুল আমার জামাই মুন্নার বন্ধু। নিয়মিত ওঠা-বসা, যায়-আসে, খাই-দাই করে। ওই দিন পেয়ারুল ছিল থানায়। মুন্না তখন বলছিল, টাকা লাগবে, আমি শ্বশুর বাড়ি যাব। পরে থানাত পেয়ারুল শুদ্ধে খাওয়া-দাওয়া করছে। পরে আমার জামাই আর পেয়ারুল এক সাথে আসছে।

‘পেয়ারুল বাসায় না ঢুকি ওখানে (বাড়ির কাছে) কয়টা চ্যাংড়া (ছেলে) গাঞ্জা খাইতেছে ওখানে দাঁড়াইচে। ততক্ষণ আমার জামাই আমার কাছে আসছে, বাসায় ঢোকে নাই। ওই সময় ওই ছেলেটার (গ্রেপ্তার পারভেজ) সাথে কথা কাটাকাটি হইচে।’

পেয়ারুলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় পেয়ারুল ওই ছেলেটাক কইছে, তুমি এখানে কী করো..। কেন বসি আছ, নেশা খাও কেন, এই নিয়ে কথা কাটাকাটি হইচে। এরপর পেয়ারুল ধরছে আরকি ছেলেটাকে। মানে কোমড়ের বেল্ট ধরছে, ওকে চেক করবে যে তার কাছে আরও কিছু আছে নাকি।’

‘ছেলেটা কইছিল ছাড়ি দেন। পেয়ারুল যে ছাড়ি দেয় না, তখন পেয়ারুল চর-থাপ্পর মারছে আর কইছে এই বয়সে নেশাটেশা করো। বেয়াদপ ছেলে, এইলে কথা কইছে।’

লাইলি বেগম আরও বলেন, ‘পেয়ারুল ভালো করি ধরছে তো...। এই সময় মোবাইল বের করার কথা কয়া ছেলেচা চাকু বের করে মারি দিচে। পালাবার চেষ্টা করছে তয় পারে নাই।

‘আমার জামাই তখন আমার বাড়ির সামনে দাঁড়ায়ে আছে। বেটিক ডাকে টাকা চাইতেছে... তখনই পেয়ারুল কইছে ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’। এ্যাই (মুন্না) ফির দৌড়ি গেইচে। হামার বেটি ফির দৌড়ি যায়া দেখে পেয়ারুলের গাতও (শরীর) রক্ত, হামার জামাইয়ের গাতও রক্ত।

লাইলী বেগম জানান, পোশাকের কারণে তার বুঝতে পারেননি পেয়ারুল কতটা আহত। পরে বাসায় নেয়ার পর পেয়ারুল গামছা দিয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাতের স্থানটি বেঁধে নেন। এরপর পুলিশ আসার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পুলিশ পেয়ারুলকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

ঘটনার একই বর্ণনা দেন তেলিপাড়া গ্রামের আলফাজ আলী। তিনি বলেন, ‘ওমরা (লাইলি) যা কইছে ওইলে ঘটনাই হয়।’

হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওকত আলী সরকার জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। পেয়ারুল সাদা পোশাকে সেই অভিযানেই ছিলেন। অভিযানে যাওয়ার আগে থানায় আবশ্যকীয় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন (অপরাধ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি পুলিশের উপর কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ নয়। তাৎক্ষণিক একটা পরিস্থিতির কারণে সে (আসামি) হয়তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য বা পুলিশের কাছ থেকে পালানোর জন্য কাজটা করেছে। যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আমরা থ্রেট মনে করছি না।’

পুলিশের এই শীর্ষকর্তা আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা শোকাহত ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনোবল ভেঙে যায়নি। কারণ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত পেশাদার। আমরা সব সময় চ্যালেঞ্জিং কাজ করছি।’

এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পেয়ারুল ২০১১ সালে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে এএসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় যোগ দেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়।

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর। ছবি: নিউজবাংলা।

প্রতিমা শিল্পী ভারত পাল বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার কাছে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখা। প্রতিমা তৈরি আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। মনের আবেগ আর ভালোবাসা দিয়েই কাজটি করি।’

‘বুঝতে শেখার পরই প্রতিমার সঙ্গে পথ চলা শুরু। হাতেখড়ি বাবার হাতে। ১০ বছর বয়স থেকেই প্রতিমা তৈরি করি। নিখুঁতভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিমা তৈরি করতেন বাবা। যখন প্রতিমা বানানো শেখাতেন মনোযোগ দিয়ে শুনতাম ও দেখতাম। নিজেও এখন এরকম বানাতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাশড়া গ্রামের ভারত পাল।

৫০ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করছেন প্রতিমা। শিল্পীর ছোঁয়ায় তৈরি করছেন দেবী দুর্গাকে।

কয়েক দিন বাদেই আসছেন দেবী। তাই বেশ ব্যস্ত ভারত। দুর্গার পাশাপাশি চলছে লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজ।

১১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিন দেখা যায়, কোনো মণ্ডপে হচ্ছে কাঠামো তৈরি আবার কোথাও হচ্ছে মাটির কাজ। শিল্পীরা দেড় মাস আগে থেকেই শুরু করেন প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর

প্রতিমা শিল্পী ভারত পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরি আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। মনের আবেগ আর ভালোবাসা দিয়েই কাজটি করি।

‘৫০ বছর থেকে প্রতিমার সঙ্গে কাটছে জীবন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।’

এ বছর প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দামটাও আগের চেয়ে বেশি বলে জানান ভারত পাল।

রাশড়া গ্রামের যাদব পাল জানান, ভারত ছোট থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করছে। বাসাইল ছাড়াও পাশের উপজেলা সখীপুরে প্রতিমা তৈরিতে ভারতের সুনাম রয়েছে।

উপজেলার জিকাতলী পাড়া গ্রামের শীতল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে কাকার প্রতিমা তৈরি দেখতে যেতাম। যতই দেখতাম কাকার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। কী অসাধারণ, নিখুঁত কারুকাজ।’

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর


বাসাইল উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সুনীল রায় স্বপন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার কারণে আমরা বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় প্রকোপ কিছুটা কমায় পূজার আয়োজন ও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।

‘রাত-দিন কারিগররা পরিশ্রম করছেন। গত বছর ৪২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর ৫৬টি মণ্ডপে পূজা হবে।’

এবার সরকারি সরকারি নির্দেশনায় কিছুটা ছাড় দেয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ীই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

স্থানীয় লোকজন জানান, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় পাহাড় থেকে নামার সময় দুটি ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কায় সাতজন আহত হয়েছেন।

জেলা সদরের প্রবেশমুখে ২০ নম্বর জিরোমাইলসংলগ্ন আলুটিলা পাহাড়ের রাস্তায় রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ট্রাক্টরচালক মইনুল হোসেন, ট্রাক্টরের শ্রমিক বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মো. শাহাদাত, আবদুর রহিম, মো. করিম ও সুজন। বাদশা ও রমজানের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

স্থানীয় লোকজন জানান, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। তবে চালককে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রবেশমুখের মোড়টি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সময়ই এখানে দুর্ঘটনা হয়। ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে আসায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

সহায়তার টাকায় ঘুরে দাঁড়াতে চান বুধোই-রাজিয়া দম্পতি

সহায়তার টাকায় ঘুরে দাঁড়াতে চান বুধোই-রাজিয়া দম্পতি

রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল চন্দন জানান, এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছ থেকে রাজিয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ৫ হাজার টাকা দেন। নাম, পরিচয় প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। এমন মহানুভবতার জন্য সবার পক্ষ থেকে সৌমিত্র তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বুধোই মণ্ডল আর রাজিয়া বেগমের টানাটানির সংসার। স্বামী অন্যের ভ্যান ভাড়া নিয়ে চালান।

দুই ছেলের একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত, আরেকজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আরও একটি ছেলে ছিল তাদের যে মারা গেছে কিডনি রোগে।

অন্যের বাড়িতে কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে রাজিয়া কিনেছিলেন একটি ছাগল। স্বপ্ন ছিল ছাগল পালনের মাধ্যমে সংসারের অভাব কিছুটা কমাবেন।

সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল রাজবাড়ীর বালিয়াকন্দির ৫০ বছর বয়সী রাজিয়ার। শনিবার তার ছাগলটি বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজবাড়ী শহরের এক ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন তাদের পাশে। নাম, পরিচয় গোপন রেখে ভ্যানচালক বুধোই মণ্ডল ও তার স্ত্রীর জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন ৫ হাজার টাকা।

রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে রোববার দুপুরে তাদের হাতে এই টাকা তুলে দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল চন্দন।

সৌমিত্র নিউজবাংলাকে জানান, ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছ থেকে রাজিয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ৫ হাজার টাকা দেন। নাম, পরিচয় প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। এমন মহানুভবতার জন্য সবার পক্ষ থেকে সৌমিত্র তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে কেঁদে ফেলেন ওই দম্পতি।

বুধোই জানান, দুই ছেলেকে নিয়ে খুবই কষ্টে তাদের দিন যায়। এ অবস্থায় শনিবার একমাত্র ছাগলটা অসুস্থ হয়ে পড়লে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নেয়া হয়।

শনিবার অফিস ছুটির দিন হওয়ায় একজন ডাক্তারকে ফোন দিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন। ডাক্তার আসতে আসতে তার ছাগলটি মারা যায়।

তিনি জানান, এই টাকা তাদের আবার ভরসা জুগিয়েছে। দ্রুতই তারা ছাগল কিনবেন। যে ব্যক্তি এভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

‘অধিক যাত্রীতে’ ট্রেনে নিরাপত্তায় হযবরল

‘অধিক যাত্রীতে’ ট্রেনে নিরাপত্তায় হযবরল

নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত যাত্রী উঠছে ট্রেনে। ছবি: নিউজবাংলা।

ময়মনসিংহ রেল কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা নিয়ে তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ট্রেনের যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বগিতে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে পড়ে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বাধা দিলেও তারা মানে না। অরক্ষিত সেই ছাদেই অনেকে ছিনতাইয়ের শিকার হয়।

জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদে আঘাতে দুই যাত্রীর মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। উঠে আসছে ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেল কর্তৃপক্ষের নানা ব্যর্থতার কথা।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ শহর পার হওয়ার পর ছাদে ওই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

ছিনতাইকারীদের মারধরে ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের। রেল পুলিশ প্রথমে ছিনতাইয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে রেল সেতুতে আঘাতের প্রসঙ্গ আনলেও পরে জানিয়েছে, দুষ্কৃতকারীদের আঘাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

‘অধিক যাত্রীতে’ ট্রেনে নিরাপত্তায় হযবরল


এ মৃত্যুর পর ময়মনসিংহ এলাকায় ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। জেলার বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ এলাকায় ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ রেল কর্তৃপক্ষ। এখানে ছিনতাই ও পকেটমারির মতো ঘটনা অহরহই হয়।

ময়মনসিংহ রেল কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা নিয়ে তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ট্রেনের যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে লোকাল ট্রেনগুলোর বগিতে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না।

বগিতে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী ছাদে উঠে পড়ে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বাধা দিলেও তারা মানেন না। লাফিয়ে ওঠে ছাদে। অরক্ষিত সেই ছাদেই অনেকে ছিনতাইয়ের শিকার হন।

‘অধিক যাত্রীতে’ ট্রেনে নিরাপত্তায় হযবরল


বৃহস্পতিবারের মৃত্যুই অবশ্য এ রেলপথে প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নেত্রকোণা থেকে আসা হাওর এক্সপ্রেস থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশ। ওই সময় এক ছিনতাইকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহের গৌরীপুর স্টেশন থেকে শম্ভুগঞ্জ স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে ছিনতাইয়ের ওই ঘটনাটি ঘটেছিল।

নিয়মিত ট্রেনে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, ছিনতাইয়ের সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই শুধু নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তবে ট্রেনে ছিনতাই ও চুরি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামার পর পকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে দৌড়ের ঘটনা ঘটে হরহামেশাই।

‘জন-উদ্যোগ’ ময়মনসিংহের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম চুন্নু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার প্রক্রিয়াটা বন্ধ করা প্রয়োজন। আর যদি সেটা না হয়, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমরা ট্রেনে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে চাই না।’

‘অধিক যাত্রীতে’ ট্রেনে নিরাপত্তায় হযবরল


যাত্রীদের আইন মানাতে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেশি। ট্রেনগুলোতে যাত্রী হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বিশেষ করে লোকাল ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।

‘রেলওয়ের কর্মকর্তারা বাধা দিলেও কেউ মানে না। ফলে অরক্ষিত ছাদে মাঝেমধ্যেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।’

তিনি জানান, ট্রেনের ছাদে ওঠার ব্যবস্থা পরিকল্পনা বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। যাতে কোনো যাত্রী ছাদে উঠতে না পারে। মৃত্যুর ঝুঁকি ছাদেই সবচেয়ে বেশি থাকে।

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাহমিদা খাতুন বলে, ‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পরে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

স্কুলের পোশাক পরে বিষণ্ণ মুখে বিদ্যালয়ের সামনে বসে আছে রিমন। আটসাট জামাটি বলে দিচ্ছে এটি বেশ পুরোনো।

রিমনের এখন থাকার কথা কলেজে। এবার এসএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় সে আর কলেজে উঠতে পারেনি। করোনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় তাকে আসতে হয়েছে স্কুলে।

মাগুরা শিবরামপুর স্কুলের রিমনের মতো প্রায় সব হাইস্কুল পর্যায়ে এই চিত্র উঠে এসেছে। করোনার কারণে এসএসসি পিছিয়ে যাওয়ায় বিমর্ষ পরীক্ষার্থীরা।

রিমন বিশ্বাস বলে, ‘আমার আগের ব্যাচ অটোপাসে এখন কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। কদিন পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবে। অথচ আমরা অটোপাস পাইনি, আবার এসএসসি পরীক্ষাটাও সময়মতো পেলাম না। স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এখানে আসতে হলো হাজিরা দিতে। আমরা প্রস্তুতি ক্লাস পাচ্ছি। তবু মনের ভেতরে কলেজের ওঠার ইচ্ছা ভর করে আছে।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্য নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হবে। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে মাগুরার হাইস্কুল পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলো। তবে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই ব্যবধান নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অর্পিতা জানায়, স্কুলে গেলেও পড়ায় মন বসছে না। বছরের শুরুতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিল। সেই পরীক্ষাটা বছর শেষের দিকেও না হওয়ায় সে হতাশ।

অর্পিতা বলে, ‘যেখানে এতদিনে আমাদের কলেজে পড়ার করার কথা, নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করার কথা, সেখানে আমরা স্কুলেই পড়ে আছি। এটা খুবই বিব্রতকর।’

ফাহমিদা খাতুন নামে আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের কলেজে যাওয়ার কথা এখন থেকে তিন মাস আগে। অন্তত শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ধরলে এটাই সময়। কলেজে এখন প্রথম বর্ষ নামে কোনো বিভাগ নাই। কারণ আমরাই এই প্রথম বর্ষ।

‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পড়ে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে


মাগুরা সরকারি মডেল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিরব বলে, ‘এসএসসি পরীক্ষা সময় মতো না নেয়ায় আমাদের বয়সের সময় তো আর থেমে নেই। আমার বন্ধুরা দেখেন সবাই বড় হয়ে গেছে। আমাদের আর স্কুলের মতো আচার-আচরণ নেই। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা কলেজে যেতে চাই। ঠিক সময় পরীক্ষা এবার না হলে স্কুল ছেড়ে দেব ভাবছি।’

শিক্ষাবর্ষের এই জটে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা শিক্ষকদেরও।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের বয়স অনুসারে ক্লাসে পড়াশোনা নিয়ে কিছুটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যেমন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কলেজে যাবার কথা আগেই। হয়তো সামনেই পরীক্ষা। এরপর ফল বের হয়ে কলেজে যেতে সামনের বছর হয়ে যেতে পারে। তখন আবার আর একটি এসএসসি ব্যাচ আমরা পেয়ে যাব। এভাবে কলেজে গিয়েও একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোর্য়াদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার এসএসসি ব্যাচ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবু আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

‘প্রাণঘাতী করোনা থেকে বেঁচে থাকাটাই আসলে আমাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে। সেখানে শিক্ষা জীবনে একটু পরিবির্তন মেনে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন

আঙিনায় খেলতে থাকা দুই বোনের নিথর দেহ পুকুরে

আঙিনায় খেলতে থাকা দুই বোনের নিথর দেহ পুকুরে

হবিগঞ্জে পানিতে ডুবে মারা গেছে মাহী ও তিশা নামের দুই বোন। ছবি: সংগৃহীত

মৃত আট বছরের মাহী ও ছয় বছরের তিশা উপজেলার বামৈ পশ্চিম গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার মেয়ে। পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাড়ির আঙিনায় খেলছিল দুই শিশু মাহী ও তিশা। একপর্যায়ে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় রোববার দুপুরের দিকে ঘটে এই প্রাণহানির ঘটনা।

মৃত আট বছরের মাহী ও ছয় বছরের তিশা উপজেলার বামৈ পশ্চিম গ্রামের উজ্জ্বল মিয়ার মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম।

তিনি জানান, পরিবারের লোকজন ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি সাইদুল জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
গিনেস ওয়ার্ল্ড বুকে নিজের ১৬তম রেকর্ড কনকের

শেয়ার করুন